📄 খায়বার যুদ্ধে মহিলাদের অংশগ্রহণ
ইবন ইসহাক বলেন, খায়বার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত কিছু সংখ্যক মহিলাও অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে গনীমতের সম্পদ হইতে কিছু দান করিয়াছিলেন, পূর্ণ অংশ দান করেন নাই।
বানু গিফারের জনৈকা মহিলা বলেন, আমি বানু গিফারের কতিপয় মহিলাসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর খায়বার যাত্রাকালে তাহার দরবারে গিয়া উপস্থিত হইলাম এবং বলিলাম, হে আল্লাহ্ রাসূল! আমরা মনস্থ করিয়াছি যে, এই সফরে আমরা আপনার সঙ্গী হইব এবং আমরা যুদ্ধাহতদের পরিচর্যা করিব এবং মুসলিম সৈন্যদিগকে যথাসম্ভব সাহায্য করিব। তিনি বলিলেন, عَلَى بركة الله (আল্লাহ বরকত দিন)। এই কথার দ্বারা তিনি তাহাদিগকে অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। ঐ গিফারী মহিলা বলেন, সেই মতে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সংগে সফরে বাহির হইলাম। আমি তখন অল্প বয়স্কা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে তাঁহার সহ-আরোহী করিয়া তাঁহার হাওদার গাঠরীর উপর বসাইয়া লইলেন। উক্ত গিফারী মহিলা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার জয় করার পর আমাদিগকে গনীমতের সম্পদ হইতে পুরস্কৃত করিলেন। আমার গলায় যে হারটি দেখিতে পাইতেছেন, ইহা তিনি সেদিন আমাকে দিয়াছিলেন। আল্লাহ্র শপথ! ইহা আমি কখনও আমার গলা হইতে সরাইব না। বর্ণনাকারী বলেন, সত্যি সত্যি ইহা আমৃত্য তাহার গলায়ই ছিল। তিনি মৃত্যুকালে ওসিয়াত করিয়া গিয়াছিলেন যে, এই হারটি যেন কবরে তাহার সহিত দেওয়া হয় (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৩৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, খায়বার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত কিছু সংখ্যক মহিলাও অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে গনীমতের সম্পদ হইতে কিছু দান করিয়াছিলেন, পূর্ণ অংশ দান করেন নাই।
বানু গিফারের জনৈকা মহিলা বলেন, আমি বানু গিফারের কতিপয় মহিলাসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর খায়বার যাত্রাকালে তাহার দরবারে গিয়া উপস্থিত হইলাম এবং বলিলাম, হে আল্লাহ্ রাসূল! আমরা মনস্থ করিয়াছি যে, এই সফরে আমরা আপনার সঙ্গী হইব এবং আমরা যুদ্ধাহতদের পরিচর্যা করিব এবং মুসলিম সৈন্যদিগকে যথাসাধ্য সাহায্য করিব। তিনি বলিলেন, عَلَى بركة الله (আল্লাহ বরকত দিন)। এই কথার দ্বারা তিনি তাহাদিগকে অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। ঐ গিফারী মহিলা বলেন, সেই মতে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সংগে সফরে বাহির হইলাম। আমি তখন অল্প বয়স্কা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে তাঁহার সহ-আরোহী করিয়া তাঁহার হাওদার গাঠরীর উপর বসাইয়া লইলেন। উক্ত গিফারী মহিলা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার জয় করার পর আমাদিগকে গনীমতের সম্পদ হইতে পুরস্কৃত করিলেন। আমার গলায় যে হারটি দেখিতে পাইতেছেন, ইহা তিনি সেদিন আমাকে দিয়াছিলেন। আল্লাহ্র শপথ! ইহা আমি কখনও আমার গলা হইতে সরাইব না। বর্ণনাকারী বলেন, সত্যি সত্যি ইহা আমৃত্য তাহার গলায়ই ছিল। তিনি মৃত্যুকালে ওসিয়াত করিয়া গিয়াছিলেন যে, এই হারটি যেন কবরে তাহার সহিত দেওয়া হয় (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৩৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, খায়বার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত কিছু সংখ্যক মহিলাও অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে গনীমতের সম্পদ হইতে কিছু দান করিয়াছিলেন, পূর্ণ অংশ দান করেন নাই।
বানু গিফারের জনৈকা মহিলা বলেন, আমি বানু গিফারের কতিপয় মহিলাসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর খায়বার যাত্রাকালে তাহার দরবারে গিয়া উপস্থিত হইলাম এবং বলিলাম, হে আল্লাহ্ রাসূল! আমরা মনস্থ করিয়াছি যে, এই সফরে আমরা আপনার সঙ্গী হইব এবং আমরা যুদ্ধাহতদের পরিচর্যা করিব এবং মুসলিম সৈন্যদিগকে যথাসাধ্য সাহায্য করিব। তিনি বলিলেন, عَلَى بركة الله (আল্লাহ বরকত দিন)। এই কথার দ্বারা তিনি তাহাদিগকে অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। ঐ গিফারী মহিলা বলেন, সেই মতে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সংগে সফরে বাহির হইলাম। আমি তখন অল্প বয়স্কা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে তাঁহার সহ-আরোহী করিয়া তাঁহার হাওদার গাঠরীর উপর বসাইয়া লইলেন। উক্ত গিফারী মহিলা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার জয় করার পর আমাদিগকে গনীমতের সম্পদ হইতে পুরস্কৃত করিলেন। আমার গলায় যে হারটি দেখিতে পাইতেছেন, ইহা তিনি সেদিন আমাকে দিয়াছিলেন। আল্লাহ্র শপথ! ইহা আমি কখনও আমার গলা হইতে সরাইব না। বর্ণনাকারী বলেন, সত্যি সত্যি ইহা আমৃত্য তাহার গলায়ই ছিল। তিনি মৃত্যুকালে ওসিয়াত করিয়া গিয়াছিলেন যে, এই হারটি যেন কবরে তাহার সহিত দেওয়া হয় (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৩৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, খায়বার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত কিছু সংখ্যক মহিলাও অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে গনীমতের সম্পদ হইতে কিছু দান করিয়াছিলেন, পূর্ণ অংশ দান করেন নাই।
বানু গিফারের জনৈকা মহিলা বলেন, আমি বানু গিফারের কতিপয় মহিলাসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর খায়বার যাত্রাকালে তাহার দরবারে গিয়া উপস্থিত হইলাম এবং বলিলাম, হে আল্লাহ্ রাসূল! আমরা মনস্থ করিয়াছি যে, এই সফরে আমরা আপনার সঙ্গী হইব এবং আমরা যুদ্ধাহতদের পরিচর্যা করিব এবং মুসলিম সৈন্যদিগকে যথাসাধ্য সাহায্য করিব। তিনি বলিলেন, عَلَى بركة الله (আল্লাহ বরকত দিন)। এই কথার দ্বারা তিনি তাহাদিগকে অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। ঐ গিফারী মহিলা বলেন, সেই মতে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সংগে সফরে বাহির হইলাম। আমি তখন অল্প বয়স্কা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে তাঁহার সহ-আরোহী করিয়া তাঁহার হাওদার গাঠরীর উপর বসাইয়া লইলেন। উক্ত গিফারী মহিলা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার জয় করার পর আমাদিগকে গনীমতের সম্পদ হইতে পুরস্কৃত করিলেন। আমার গলায় যে হারটি দেখিতে পাইতেছেন, ইহা তিনি সেদিন আমাকে দিয়াছিলেন। আল্লাহ্র শপথ! ইহা আমি কখনও আমার গলা হইতে সরাইব না। বর্ণনাকারী বলেন, সত্যি সত্যি ইহা আমৃত্য তাহার গলায়ই ছিল। তিনি মৃত্যুকালে ওসিয়াত করিয়া গিয়াছিলেন যে, এই হারটি যেন কবরে তাহার সহিত দেওয়া হয় (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৩৬)।
📄 খায়বারের শহীদগণ
ইবন ইসহাকের মতে কুরায়শ, বানু উমাইয়্যা, ইব্ন আব্দ শাম্স ও তাহাদের মিত্রদের মধ্য হইতে রাবী'আ ইব্ন আকছাম, ইব্ন সাখবারা, ছাকীফ ইব্ন আমর ও রিফা'আ ইন্ন মাসরূহ; বানু আসাদ ইব্ন আবদুল উযযা হইতে আবদুল্লাহ ইবনুল-হুবায়ব, ইব্ন হিশাম বলেন, ইন্ন উহায়ব ইন্ন সুহায়ম ইব্ন গায়বা, বানু সা'দ ইব্ন লায়ছ গোত্রের লোক, বানু আসাদ গোত্রের মিত্র এবং তাহাদের ভাগিনা। আনসার গোত্রের বানূ সালামা হইতে : বিশ্ব ইবনুল বারাআ ইন্ন মা'রূর। রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রদত্ত বিষযুক্ত বকরীর গোশত ভক্ষণ করিয়া তিনি ইন্তিকাল করিয়াছিলেন এবং ফুদায়ল ইব্ নু'মান।
বানু যুরায়ক হইতে মাস'উদ ইবন সা'দ ইব্ন কায়স ইন্ন খালদা ইব্ন আমির ইন্ন যুরায়ক। আওস গোত্রের বানু আবদিল আশহাল হইতে মাহমূদ ইবন মাসলামা ইন্ন খালিদ ইব্ন আদী। বানু আমর ইব্ন আওফ হইতে আবূ সিয়াহ ইব্ন ছাবিত ইবনুন নুমান ইব্ উমায়্যা, আল-হারিছ ইবন হাতিব, উরওয়া ইন্ন মুররা ইব্ন সুরাকা, আওস ইবনুল কাইদ, আনীফ ইব্ন হাবীব, ছাবিত ইব্ন আছিলা ও তালহা ইব্ন ইয়াহয়া ইন্ন সুলায়ল ইন্ন দামরা।
বানূ গিফার হইতে উমরা ইন্ন উকবা; তাঁহাকে তীর নিক্ষেপে শহীদ করা হয়। আসলাম গোত্র হইতে 'আমের ইবনুল আকওয়া' ও আল-আসওয়াদ আর-রাঈ; তাহার নাম ছিল আসলাম। ইব্ন হিশামের মতে আসওয়াদ রাঈ খায়বারের অধিবাসী ছিলেন। ইন্ন শিহাব যুহরী খায়বারের আরও যেই সকল শহীদের নাম উল্লেখ করিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন বানু যুহরা হইতে মাসউদ ইবন রাবীআ; তিনি প্রকৃতপক্ষে আল-কারা গোত্রের মিত্র ছিলেন। আনসারদের বানূ আমর ইব্ন আওফ গোত্র হইতে আওস ইন্ন কাতাদা (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৩৭-২৩৮)।
ইবন ইসহাকের মতে কুরায়শ, বানু উমাইয়্যা, ইব্ন আব্দ শাম্স ও তাহাদের মিত্রদের মধ্য হইতে রাবী'আ ইব্ন আকছাম, ইব্ন সাখবারা, ছাকীফ ইব্ন আমর ও রিফা'আ ইন্ন মাসরূহ; বানু আসাদ ইব্ন আবদুল উযযা হইতে আবদুল্লাহ ইবনুল-হুবায়ব, ইব্ন হিশাম বলেন, ইন্ন উহায়ব ইন্ন সুহায়ম ইব্ন গায়বা, বানু সা'দ ইব্ন লায়ছ গোত্রের লোক, বানু আসাদ গোত্রের মিত্র এবং তাহাদের ভাগিনা। আনসার গোত্রের বানূ সালামা হইতে : বিশ্ব ইবনুল বারাআ ইন্ন মা'রূর। রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রদত্ত বিষযুক্ত বকরীর গোশত ভক্ষণ করিয়া তিনি ইন্তিকাল করিয়াছিলেন এবং ফুদায়ল ইব্ নু'মান।
বানু যুরায়ক হইতে মাস'উদ ইবন সা'দ ইব্ন কায়স ইন্ন খালদা ইব্ন আমির ইন্ন যুরায়ক। আওস গোত্রের বানু আবদিল আশহাল হইতে মাহমূদ ইবন মাসলামা ইন্ন খালিদ ইব্ন আদী। বানু আমর ইব্ন আওফ হইতে আবূ সিয়াহ ইব্ন ছাবিত ইবনুন নুমান ইব্ উমায়্যা, আল-হারিছ ইবন হাতিব, উরওয়া ইন্ন মুররা ইব্ন সুরাকা, আওস ইবনুল কাইদ, আনীফ ইব্ন হাবীব, ছাবিত ইব্ন আছিলা ও তালহা ইব্ন ইয়াহয়া ইন্ন সুলায়ল ইন্ন দামরা।
বানূ গিফার হইতে উমরা ইন্ন উকবা; তাঁহাকে তীর নিক্ষেপে শহীদ করা হয়। আসলাম গোত্র হইতে 'আমের ইবনুল আকওয়া' ও আল-আসওয়াদ আর-রাঈ; তাহার নাম ছিল আসলাম। ইব্ন হিশামের মতে আসওয়াদ রাঈ খায়বারের অধিবাসী ছিলেন। ইন্ন শিহাব যুহরী খায়বারের আরও যেই সকল শহীদের নাম উল্লেখ করিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন বানু যুহরা হইতে মাসউদ ইবন রাবীআ; তিনি প্রকৃতপক্ষে আল-কারা গোত্রের মিত্র ছিলেন। আনসারদের বানূ আমর ইব্ন আওফ গোত্র হইতে আওস ইন্ন কাতাদা (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৩৭-২৩৮)।
ইবন ইসহাকের মতে কুরায়শ, বানু উমাইয়্যা, ইব্ন আব্দ শাম্স ও তাহাদের মিত্রদের মধ্য হইতে রাবী'আ ইব্ন আকছাম, ইব্ন সাখবারা, ছাকীফ ইব্ন আমর ও রিফা'আ ইন্ন মাসরূহ; বানু আসাদ ইব্ন আবদুল উযযা হইতে আবদুল্লাহ ইবনুল-হুবায়ব, ইব্ন হিশাম বলেন, ইন্ন উহায়ব ইন্ন সুহায়ম ইব্ন গায়বা, বানু সা'দ ইব্ন লায়ছ গোত্রের লোক, বানু আসাদ গোত্রের মিত্র এবং তাহাদের ভাগিনা। আনসার গোত্রের বানূ সালামা হইতে : বিশ্ব ইবনুল বারাআ ইন্ন মা'রূর। রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রদত্ত বিষযুক্ত বকরীর গোশত ভক্ষণ করিয়া তিনি ইন্তিকাল করিয়াছিলেন এবং ফুদায়ল ইব্ নু'মান।
বানু যুরায়ক হইতে মাস'উদ ইবন সা'দ ইব্ন কায়স ইন্ন খালদা ইব্ন আমির ইন্ন যুরায়ক। আওস গোত্রের বানু আবদিল আশহাল হইতে মাহমূদ ইবন মাসলামা ইন্ন খালিদ ইব্ন আদী। বানু আমর ইব্ন আওফ হইতে আবূ সিয়াহ ইব্ন ছাবিত ইবনুন নুমান ইব্ উমায়্যা, আল-হারিছ ইবন হাতিব, উরওয়া ইন্ন মুররা ইব্ন সুরাকা, আওস ইবনুল কাইদ, আনীফ ইব্ন হাবীব, ছাবিত ইব্ন আছিলা ও তালহা ইব্ন ইয়াহয়া ইন্ন সুলায়ল ইন্ন দামরা।
বানূ গিফার হইতে উমরা ইন্ন উকবা; তাঁহাকে তীর নিক্ষেপে শহীদ করা হয়। আসলাম গোত্র হইতে 'আমের ইবনুল আকওয়া' ও আল-আসওয়াদ আর-রাঈ; তাহার নাম ছিল আসলাম। ইব্ন হিশামের মতে আসওয়াদ রাঈ খায়বারের অধিবাসী ছিলেন। ইন্ন শিহাব যুহরী খায়বারের আরও যেই সকল শহীদের নাম উল্লেখ করিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন বানু যুহরা হইতে মাসউদ ইবন রাবীআ; তিনি প্রকৃতপক্ষে আল-কারা গোত্রের মিত্র ছিলেন। আনসারদের বানূ আমর ইব্ন আওফ গোত্র হইতে আওস ইন্ন কাতাদা (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৩৭-২৩৮)।
ইবন ইসহাকের মতে কুরায়শ, বানু উমাইয়্যা, ইব্ন আব্দ শাম্স ও তাহাদের মিত্রদের মধ্য হইতে রাবী'আ ইব্ن আকছাম, ইব্ন সাখবারা, ছাকীফ ইব্ن আমর ও রিফা'আ ইন্ন মাসরূহ; বানু আসাদ ইব্ن ابدل উযযা হইতে আবদুল্লাহ ইবনুল-হুবায়ب, ইب্ن হিশাম বলেন, ইন্ন উহায়ب ইন্ন সুহায়م ইب্ن গায়বা, বানু সা'দ ইব্ن লায়ছ গোত্রের লোক, বানু আসাদ গোত্রের মিত্র এবং তাহাদের ভাগিনা। আনসার গোত্রের বানূ সালামা হইতে : বিশ্ব ইবনুল بারাআ ইন্ন মা'রূর। রাসূলুল্লাহ (س)-কে প্রদত্ত বিষযুক্ত بকরীর গোশত ভক্ষণ করিয়া তিনি ইন্তিকাল করিয়াছিলেন এবং ফুদায়ل ইব্ন নু'মান।
বানু যুরায়ক হইতে মাস'উদ ইবন সা'দ ইব্ن কায়س ইন্ন খালদা ইب্ن আমির ইন্ন যুরায়ক। আওস গোত্রের বানু ابدل আশহাল হইতে মাহমূদ ইবন মাসলামা ইন্ন খালিদ ইব্ن আদী। বানু আমর ইب্ن আওف হইতে আবূ সিয়াহ ইب্ن ছাবিত ইবনুন নুমান ইব্ن উমায়্যা, আল-হারিছ ইব্ن হাতিম, উরওয়া ইন্ন মুররা ইব্ن সুরাকা, আওس ইবনুল কাইদ, আনীف ইب্ن হাবীব, ছابিত ইব্ن আছিলা ও তালহা ইব্ن ইয়াহয়া ইন্ন সুলায়ل ইب্ن দামরা।
বানূ গিফার হইতে উমরা ইন্ন উকবা; তাঁহাকে তীর নিক্ষেপে শহীদ করা হয়। আসলাম গোত্র হইতে 'আমের ইবনুল আকওয়া' ও আল-আসওয়াদ আর-রাঈ; তাহার নাম ছিল আসলাম। ইব্ন হিশামের মতে আসওয়াদ راঈ খায়বারের অধিবাসী ছিলেন। ইন্ন শিহাব যুহরী খায়বারের আরও যেই সকল শহীদের নাম উল্লেখ করিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন বানু যুহরা হইতে মাসউদ ইবন রাবীআ; তিনি প্রকৃতপক্ষে আল-কারা গোত্রের মিত্র ছিলেন। আনসারদের বানূ আমর ইব্ن আওف গোত্র হইতে আওس ইন্ন কাতাদা (ইব্ن হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৩৭-২৩৮)।
ইবন ইসহাকের মতে কুরায়শ, বানু উমাইয়্যা, ইব্ন আব্দ শাম্স ও তাহাদের মিত্রদের মধ্য হইতে রাবী'আ ইব্ন আকছাম, ইব্ন সাখবারা, ছাকীফ ইব্ন আমর ও রিফা'আ ইন্ন মাসরূহ; বানু আসাদ ইব্ন আবদুল উযযা হইতে আবদুল্লাহ ইবনুল-হুবায়ব, ইব্ন হিশাম বলেন, ইন্ন উহায়ব ইন্ন সুহায়ম ইব্ন গায়বা, বানু সা'দ ইব্ন লায়ছ গোত্রের লোক, বানু আসাদ গোত্রের মিত্র এবং তাহাদের ভাগিনা। আনসার গোত্রের বানূ সালামা হইতে : বিশ্ব ইবনুল বারাআ ইন্ন মা'রূর। রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রদত্ত বিষযুক্ত বকরীর গোশত ভক্ষণ করিয়া তিনি ইন্তিকাল করিয়াছিলেন এবং ফুদায়ল ইব্ নু'মান।
বানু যুরায়ক হইতে মাস'উদ ইবন সা'দ ইব্ন কায়স ইন্ন খালদা ইব্ন আমির ইন্ন যুরায়ক। আওস গোত্রের বানু আবদিল আশহাল হইতে মাহমূদ ইবন মাসলামা ইন্ন খালিদ ইব্ন আদী। বানু আমর ইব্ন আওফ হইতে আবূ সিয়াহ ইব্ন ছাবিত ইবনুন নুমান ইব্ উমায়্যা, আল-হারিছ ইবন হাতিব, উরওয়া ইন্ন মুররা ইব্ন সুরাকা, আওস ইবনুল কাইদ, আনীফ ইব্ন হাবীব, ছাবিত ইব্ন আছিলা ও তালহা ইব্ন ইয়াহয়া ইন্ন সুলায়ল ইন্ন দামরা।
বানূ গিফার হইতে উমরা ইন্ন উকবা; তাঁহাকে তীর নিক্ষেপে শহীদ করা হয়। আসলাম গোত্র হইতে 'আমের ইবনুল আকওয়া' ও আল-আসওয়াদ আর-রাঈ; তাহার নাম ছিল আসলাম। ইব্ন হিশামের মতে আসওয়াদ রাঈ খায়বারের অধিবাসী ছিলেন। ইন্ন শিহাব যুহরী খায়বারের আরও যেই সকল শহীদের নাম উল্লেখ করিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন বানু যুহরা হইতে মাসউদ ইবন রাবীআ; তিনি প্রকৃতপক্ষে আল-কারা গোত্রের মিত্র ছিলেন। আনসারদের বানূ আমর ইব্ন আওফ গোত্র হইতে আওস ইন্ন কাতাদা (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৩৭-২৩৮)।
📄 খায়বার হইতে প্রত্যাবর্তন ও লায়লাতুত তা'রীস
খায়বার হইতে প্রত্যাবর্তন করিবার পথে রাসূলুল্লাহ (স) ওয়াদিল কুরায় চার দিন অবস্থান করেন, অতঃপর মদীনার উদ্দেশে রওয়ানা হইলেন। পথিমধ্যে শেষ রাত্রিতে এক স্থানে তিনি যাত্রাবিরতি করিলেন এবং বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল! তুমি আমাদিগকে জাগ্রত করিবে। বিলাল (রা) একটি বাহনের হাওদায় হেলান দিয়া ঘুমাইয়া পড়িলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে জাগ্রত করিতে পারেন নাই। তিনি স্বয়ং জাগ্রত ছিলেন না। অন্য কোন সাহাবীও জাগ্রত হন নাই। এমন কি সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত তাঁহারা এইরূপ নিদ্রাচ্ছন্ন রহিলেন। সূর্যের উত্তাপে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিদ্রা ভঙ্গ হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল। তুমি ইহা কি করিলে? বিলাল (রা) বলিলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক, হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনাকে যেই জিনিস আচ্ছন্ন করিয়াছে, আমিও তাহাতে আচ্ছন্ন হইয়াছি। অতঃপর সকলে পদব্রজে ঐ উপত্যকা ত্যাগ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "ইহা শয়তানের উপত্যকা"। এই স্থান অতিক্রম করিবার পর সকলে থামিয়া উযু করিলেন, অতঃপর ফজরের সুন্নাত আদায় করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) বিলাল (রা)-কে ইকামত দানের আদেশ দিলেন এবং সঙ্গী-সাথী সবাইকে লইয়া সালাত আদায় করিলেন। সালাতশেষে লোকদের প্রতি ফিরিয়া বলিলেন, হে লোকসকল! আল্লাহ আমাদের আত্মাসমূহ নিয়ন্ত্রণ করিয়াছিলেন। যদি তিনি চাহিতেন তাহা হইলে এই সময়ের পূর্বেই তাহা ফিরাইয়া দিতে পারিতেন।
فَإِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاةِ أَوْ نَسِيَهَا فَلْيُصَلَّهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيْهَا فِي وَقْتِهَا . "তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি সালাতের সময় নিদ্রাচ্ছন্ন থাকে কিংবা সালাতের কথা ভুলিয়া যায় তাহা হইলে সে তেমনিভাবে এই সালাত আদায় করিবে যেমনটি সে সালাতের ওয়াক্তে স্বাভাবিকভাবে আদায় করিয়া থাকে।"
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) আবু বাক্র (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন: إِنَّ الشَّيْطَانَ أَتَى بِلاَلاً وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلَّى فَأَضْجَعَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُهْدِثُهُ كَمَا يُهْدَأُ الصَّبِيُّ حَتَّى نَامَ.
"বিলালের নিকট শয়তানের আগমন ঘটিয়াছিল। সে দাঁড়াইয়া সালাত আদায় করিতেছিল কিন্তু শয়তান তাহাকে শোয়াইয়া দিয়া শিশুকে যেইভাবে ঘুম পাড়ানো হয় সেইভাবে ঘুম পাড়াইয়াছিল। ইহার ফলে সে ঘুমাইয়া গিয়াছিল।"
তাহার পর বিলাল (রা)-কে ডাকিয়া তাহাকে অনুরূপ বলিলেন, যেমনটি আবূ বাক্র (রা)-কে বলিলেন। কোন কোন বর্ণনায় এই ঘটনাটি হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে। আবার কোন কোন বর্ণনায় তাবুক হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় ঘটনাটি ঘটিয়াছিল বলিয়া উল্লেখ পাওয়া যায়।
ফজরের সালাত হইতে ঘুমাইয়া যাওয়া সংক্রান্ত হাদীছটি 'ইমরান ইবন হুসায়ন (রা) কর্তৃক বর্ণিত হইয়াছে। কিন্তু তিনি ইহা কোন সময় ও কোন যুদ্ধে সংঘটিত হইয়াছিল ইহার উল্লেখ করেন নাই। ইমাম মালিক (র) যায়দ ইব্ন আসলাম সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, ঘটনাটি মক্কার পথে ঘটিয়াছিল। তবে এই রিওয়ায়াতটি মুরসাল।
আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) বলেন, আমরা হুদায়বিয়ায় সন্ধিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আগমন করিতেছিলাম। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিয়াছিলেন, "আমাদিগকে জাগ্রত করিবার দায়িত্ব কে নিবে? বিলাল (রা) বলেন, "আমি"। অতঃপর ঘটনাটি তিনি বিবৃত করিলেন: এই হাদীছের সনদে বিভিন্নতা (إضطراب) পরিলক্ষিত হয়। 'আবদুর রাহমান ইব্ন মাহদী শু'বা সূত্রে, তিনি জামে' ইব্ন শাদ্দাদ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ঐ রাত্রে পাহারাদার ছিলেন 'আবদুল্লাহ্ ইবন মাস'উদ (রা)। কিন্তু গুনদার শু'বা থেকে বর্ণনা করেন যে, পাহারাদার ছিলেন বিলাল (রা) (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪৬, ১৪৭; মাদারিজুন নুবুওয়াত, ২খ., পৃ. ৪৩১)।
খায়বার হইতে প্রত্যাবর্তন করিবার পথে রাসূলুল্লাহ (স) ওয়াদিল কুরায় চার দিন অবস্থান করেন, অতঃপর মদীনার উদ্দেশে রওয়ানা হইলেন। পথিমধ্যে শেষ রাত্রিতে এক স্থানে তিনি যাত্রাবিরতি করিলেন এবং বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল! তুমি আমাদিগকে জাগ্রত করিবে। বিলাল (রা) একটি বাহনের হাওদায় হেলান দিয়া ঘুমাইয়া পড়িলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে জাগ্রত করিতে পারেন নাই। তিনি স্বয়ং জাগ্রত ছিলেন না। অন্য কোন সাহাবীও জাগ্রত হন নাই। এমন কি সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত তাঁহারা এইরূপ নিদ্রাচ্ছন্ন রহিলেন। সূর্যের উত্তাপে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিদ্রা ভঙ্গ হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল। তুমি ইহা কি করিলে? বিলাল (রা) বলিলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক, হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনাকে যেই জিনিস আচ্ছন্ন করিয়াছে, আমিও তাহাতে আচ্ছন্ন হইয়াছি। অতঃপর সকলে পদব্রজে ঐ উপত্যকা ত্যাগ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "ইহা শয়তানের উপত্যকা"। এই স্থান অতিক্রম করিবার পর সকলে থামিয়া উযু করিলেন, অতঃপর ফজরের সুন্নাত আদায় করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) বিলাল (রা)-কে ইকামত দানের আদেশ দিলেন এবং সঙ্গী-সাথী সবাইকে লইয়া সালাত আদায় করিলেন। সালাতশেষে লোকদের প্রতি ফিরিয়া বলিলেন, হে লোকসকল! আল্লাহ আমাদের আত্মাসমূহ নিয়ন্ত্রণ করিয়াছিলেন। যদি তিনি চাহিতেন তাহা হইলে এই সময়ের পূর্বেই তাহা ফিরাইয়া দিতে পারিতেন।
ফَإِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاةِ أَوْ نَسِيَهَا فَلْيُصَلَّهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيْهَا فِي وَقْتِهَا . "তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি সালাতের সময় নিদ্রাচ্ছন্ন থাকে কিংবা সালাতের কথা ভুলিয়া যায় তাহা হইলে সে তেমনিভাবে এই সালাত আদায় করিবে যেমনটি সে সালাতের ওয়াক্তে স্বাভাবিকভাবে আদায় করিয়া থাকে।"
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) আবু বাক্র (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন: إِنَّ الشَّيْطَانَ أَتَى بِلاَلاً وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلَّى فَأَضْجَعَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُهْدِثُهُ كَمَا يُهْدَأُ الصَّبِيُّ حَتَّى نَامَ.
"বিলালের নিকট শয়তানের আগমন ঘটিয়াছিল। সে দাঁড়াইয়া সালাত আদায় করিতেছিল কিন্তু শয়তান তাহাকে শোয়াইয়া দিয়া শিশুকে যেইভাবে ঘুম পাড়ানো হয় সেইভাবে ঘুম পাড়াইয়াছিল। ইহার ফলে সে ঘুমাইয়া গিয়াছিল।"
তাহার পর বিলাল (রা)-কে ডাকিয়া তাহাকে অনুরূপ বলিলেন, যেমনটি আবূ বাক্র (রা)-কে বলিলেন। কোন কোন বর্ণনায় এই ঘটনাটি হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে। আবার কোন কোন বর্ণনায় তাবুক হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় ঘটনাটি ঘটিয়াছিল বলিয়া উল্লেখ পাওয়া যায়।
ফজরের সালাত হইতে ঘুমাইয়া যাওয়া সংক্রান্ত হাদীছটি 'ইমরান ইবন হুসায়ন (রা) কর্তৃক বর্ণিত হইয়াছে। কিন্তু তিনি ইহা কোন সময় ও কোন যুদ্ধে সংঘটিত হইয়াছিল ইহার উল্লেখ করেন নাই। ইমাম মালিক (র) যায়দ ইব্ন আসলাম সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, ঘটনাটি মক্কার পথে ঘটিয়াছিল। তবে এই রিওয়ায়াতটি মুরসাল।
আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) বলেন, আমরা হুদায়বিয়ায় সন্ধিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আগমন করিতেছিলাম। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিয়াছিলেন, "আমাদিগকে জাগ্রত করিবার দায়িত্ব কে নিবে? বিলাল (রা) বলেন, "আমি"। অতঃপর ঘটনাটি তিনি বিবৃত করিলেন: এই হাদীছের সনদে বিভিন্নতা (إضطراب) পরিলক্ষিত হয়। 'আবদুর রাহমান ইব্ن মাহদী শু'বা সূত্রে, তিনি জামে' ইব্ন শাদ্দাদ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ঐ রাত্রে পাহারাদার ছিলেন 'আবদুল্লাহ্ ইবন মাস'উদ (রা)। কিন্তু গুনদার শু'বা থেকে বর্ণনা করেন যে, পাহারাদার ছিলেন বিলাল (রা) (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪৬, ১৪৭; মাদারিজুন নুবুওয়াত, ২খ., পৃ. ৪৩১)।
খায়বার হইতে প্রত্যাবর্তন করিবার পথে রাসূলুল্লাহ (স) ওয়াদিল কুরায় চার দিন অবস্থান করেন, অতঃপর মদীনার উদ্দেশে রওয়ানা হইলেন। পথিমধ্যে শেষ রাত্রিতে এক স্থানে তিনি যাত্রাবিরতি করিলেন এবং বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল! তুমি আমাদিগকে জাগ্রত করিবে। বিলাল (রা) একটি বাহনের হাওদায় হেলান দিয়া ঘুমাইয়া পড়িলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে জাগ্রত করিতে পারেন নাই। তিনি স্বয়ং জাগ্রত ছিলেন না। অন্য কোন সাহাবীও জাগ্রত হন নাই। এমন কি সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত তাঁহারা এইরূপ নিদ্রাচ্ছন্ন রহিলেন। সূর্যের উত্তাপে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিদ্রা ভঙ্গ হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল। তুমি ইহা কি করিলে? বিলাল (রা) বলিলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক, হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনাকে যেই জিনিস আচ্ছন্ন করিয়াছে, আমিও তাহাতে আচ্ছন্ন হইয়াছি। অতঃপর সকলে পদব্রজে ঐ উপত্যকা ত্যাগ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (س) বলিলেন, "ইহা শয়তানের উপত্যকা"। এই স্থান অতিক্রম করিবার পর সকলে থামিয়া উযু করিলেন, অতঃপর ফজরের সুন্নাত আদায় করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (س) বিলাল (را)-কে ইকামত দানের আদেশ দিলেন এবং সঙ্গী-সাথী সবাইকে লইয়া সালাত আদায় করিলেন। সালাতশেষে লোকদের প্রতি ফিরিয়া বলিলেন, হে লোকসকল! আল্লাহ আমাদের আত্মাসমূহ নিয়ন্ত্রণ করিয়াছিলেন। যদি তিনি চাহিতেন তাহা হইলে এই সময়ের পূর্বেই তাহা ফিরাইয়া দিতে পারিতেন।
فَإِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاةِ أَوْ نَسِيَهَا فَلْيُصَلَّهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيْهَا فِي وَقْتِهَا . "তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি সালাতের সময় নিদ্রাচ্ছন্ন থাকে কিংবা সালাতের কথা ভুলিয়া যায় তাহা হইলে সে তেমনিভাবে এই সালাত আদায় করিবে যেমনটি সে সালাতের ওয়াক্তে স্বাভাবিকভাবে আদায় করিয়া থাকে।”
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) আবু বাক্র (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন: إِنَّ الشَّيْطَانَ أَتَى بِلاَلاً وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلَّى فَأَضْجَعَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُهْدِثُهُ كَمَا يُهْدَأُ الصَّبِيُّ حَتَّى نَامَ.
"বিলালের নিকট শয়তানের আগমন ঘটিয়াছিল। সে দাঁড়াইয়া সালাত আদায় করিতেছিল কিন্তু শয়তান তাহাকে শোয়াইয়া দিয়া শিশুকে যেইভাবে ঘুম পাড়ানো হয় সেইভাবে ঘুম পাড়াইয়াছিল। ইহার ফলে সে ঘুমাইয়া গিয়াছিল।"
তাহার পর বিলাল (রা)-কে ডাকিয়া তাহাকে অনুরূপ বলিলেন, যেমনটি আবূ বাক্র (রা)-কে বলিলেন। কোন কোন বর্ণনায় এই ঘটনাটি হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে। আবার কোন কোন বর্ণনায় তাবুক হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় ঘটনাটি ঘটিয়াছিল বলিয়া উল্লেখ পাওয়া যায়।
ফজরের সালাত হইতে ঘুমাইয়া যাওয়া সংক্রান্ত হাদীছটি 'ইমরান ইবন হুসায়ন (রা) কর্তৃক বর্ণিত হইয়াছে। কিন্তু তিনি ইহা কোন সময় ও কোন যুদ্ধে সংঘটিত হইয়াছিল ইহার উল্লেখ করেন নাই। ইমাম মালিক (র) যায়দ ইব্ন আসলাম সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, ঘটনাটি মক্কার পথে ঘটিয়াছিল। তবে এই রিওয়ায়াতটি মুরসাল।
আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) বলেন, আমরা হুদায়বিয়ায় সন্ধিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আগমন করিতেছিলাম। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (س) বলিয়াছিলেন, "আমাদিগকে জাগ্রত করিবার দায়িত্ব কে নিবে? বিলাল (را) বলেন, "আমি"। অতঃপর ঘটনাটি তিনি বিবৃত করিলেন: এই হাদীছের সনদে বিভিন্নতা (إضطراب) পরিলক্ষিত হয়। 'আবদুর রাহমান ইব্ন মাহদী শু'বা সূত্রে, তিনি জামে' ইব্ন শাদ্দাদ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ঐ রাত্রে পাহারাদার ছিলেন 'আবদুল্লাহ্ ইবন মাস'উদ (রা)। কিন্তু গুনদার শু'বা থেকে বর্ণনা করেন যে, পাহারাদার ছিলেন বিলাল (রা) (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪৬, ১৪৭; মাদারিজুন নুবুওয়াত, ২খ., পৃ. ৪৩১)।
খায়বার হইতে প্রত্যাবর্তন করিবার পথে রাসূলুল্লাহ (স) ওয়াদিল কুরায় চার দিন অবস্থান করেন, অতঃপর মদীনার উদ্দেশে রওয়ানা হইলেন। পথিমধ্যে শেষ রাত্রিতে এক স্থানে তিনি যাত্রাবিরতি করিলেন এবং বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল! তুমি আমাদিগকে জাগ্রত করিবে। বিলাল (রা) একটি বাহনের হাওদায় হেলান দিয়া ঘুমাইয়া পড়িলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে জাগ্রত করিতে পারেন নাই। তিনি স্বয়ং জাগ্রত ছিলেন না। অন্য কোন সাহাবীও জাগ্রত হন নাই। এমন কি সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত তাঁহারা এইরূপ নিদ্রাচ্ছন্ন রহিলেন। সূর্যের উত্তাপে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিদ্রা ভঙ্গ হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল। তুমি ইহা কি করিলে? বিলাল (রা) বলিলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক, হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনাকে যেই জিনিস আচ্ছন্ন করিয়াছে, আমিও তাহাতে আচ্ছন্ন হইয়াছি। অতঃপর সকলে পদব্রজে ঐ উপত্যকা ত্যাগ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (س) বলিলেন, "ইহা শয়তানের উপত্যকা"। এই স্থান অতিক্রম করিবার পর সকলে থামিয়া উযু করিলেন, অতঃপর ফজরের সুন্নাত আদায় করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (س) বিলাল (রা)-কে ইকামত দানের আদেশ দিলেন এবং সঙ্গী-সাথী সবাইকে লইয়া সালাত আদায় করিলেন। সালাতশেষে লোকদের প্রতি ফিরিয়া বলিলেন, হে লোকসকল! আল্লাহ আমাদের আত্মাসমূহ নিয়ন্ত্রণ করিয়াছিলেন। যদি তিনি চাহিতেন তাহা হইলে এই সময়ের পূর্বেই তাহা ফিরাইয়া দিতে পারিতেন।
فَإِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاةِ أَوْ نَسِيَهَا فَلْيُصَلَّهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيْهَا فِي وَقْتِهَا . "তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি সালাতের সময় নিদ্রাচ্ছন্ন থাকে কিংবা সালাতের কথা ভুলিয়া যায় তাহা হইলে সে তেমনিভাবে এই সালাত আদায় করিবে যেমনটি সে সালাতের ওয়াক্তে স্বাভাবিকভাবে আদায় করিয়া থাকে।”
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (س) আবু বাক্র (را)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন: إِنَّ الشَّيْطَانَ أَتَى بِلاَلاً وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلَّى فَأَضْجَعَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُهْدِثُهُ كَمَا يُهْدَأُ الصَّبِيُّ حَتَّى نَامَ.
"বিলালের নিকট শয়তানের আগমন ঘটিয়াছিল। সে দাঁড়াইয়া সালাত আদায় করিতেছিল কিন্তু শয়তান তাহাকে শোয়াইয়া দিয়া শিশুকে যেইভাবে ঘুম পাড়ানো হয় সেইভাবে ঘুম পাড়াইয়াছিল। ইহার ফলে সে ঘুমাইয়া গিয়াছিল।"
তাহার পর বিলাল (রা)-কে ডাকিয়া তাহাকে অনুরূপ বলিলেন, যেমনটি আবূ বাক্র (را)-কে বলিলেন। কোন কোন বর্ণনায় এই ঘটনাটি হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে। আবার কোন কোন বর্ণনায় তাবুক হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় ঘটনাটি ঘটিয়াছিল বলিয়া উল্লেখ পাওয়া যায়।
ফজরের সালাত হইতে ঘুমাইয়া যাওয়া সংক্রান্ত হাদীছটি 'ইমরান ইবন হুসায়ন (রা) কর্তৃক বর্ণিত হইয়াছে। কিন্তু তিনি ইহা কোন সময় ও কোন যুদ্ধে সংঘটিত হইয়াছিল ইহার উল্লেখ করেন নাই। ইমাম মালিক (র) যায়د ইব্ن আসলাম সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, ঘটনাটি মক্কার পথে ঘটিয়াছিল। তবে এই রিওয়ায়াতটি মুরসাল।
আব্দুল্লাহ ইبن মাস'উদ (রা) বলেন, আমরা হুদায়বিয়ায় সন্ধিকালে রাসূলুল্লাহ (س)-এর সহিত আগমন করিতেছিলাম। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (س) বলিয়াছিলেন, "আমাদিগকে জাগ্রত করিবার দায়িত্ব কে নিবে? বিলাল (রা) বলেন, "আমি"। অতঃপর ঘটনাটি তিনি বিবৃত করিলেন: এই হাদীছের সনদে বিভিন্নতা (إضطراب) পরিলক্ষিত হয়। 'আবদুর রাহমান ইব্ن মাহদী শু'বা সূত্রে, তিনি জামে' ইব্ن শাদ্দاد সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ঐ রাত্রে পাহারাদার ছিলেন 'আবদুল্লাহ্ ইবন মাস'উদ (রা)। কিন্তু গুনদার শু'বা থেকে বর্ণনা করেন যে, পাহারাদার ছিলেন বিলাল (রা) (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪৬, ১৪৭; মাদারিজুন নুবুওয়াত, ২খ., পৃ. ৪৩১)।
খায়বার হইতে প্রত্যাবর্তন করিবার পথে রাসূলুল্লাহ (স) ওয়াদিল কুরায় চার দিন অবস্থান করেন, অতঃপর মদীনার উদ্দেশে রওয়ানা হইলেন। পথিমধ্যে শেষ রাত্রিতে এক স্থানে তিনি যাত্রাবিরতি করিলেন এবং বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল! তুমি আমাদিগকে জাগ্রত করিবে। বিলাল (রা) একটি বাহনের হাওদায় হেলান দিয়া ঘুমাইয়া পড়িলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে জাগ্রত করিতে পারেন নাই। তিনি স্বয়ং জাগ্রত ছিলেন না। অন্য কোন সাহাবীও জাগ্রত হন নাই। এমন কি সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত তাঁহারা এইরূপ নিদ্রাচ্ছন্ন রহিলেন। সূর্যের উত্তাপে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিদ্রা ভঙ্গ হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বিলাল (রা)-কে বলিলেন, হে বিলাল। তুমি ইহা কি করিলে? বিলাল (রা) বলিলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক, হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনাকে যেই জিনিস আচ্ছন্ন করিয়াছে, আমিও তাহাতে আচ্ছন্ন হইয়াছি। অতঃপর সকলে পদব্রজে ঐ উপত্যকা ত্যাগ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "ইহা শয়তানের উপত্যকা"। এই স্থান অতিক্রম করিবার পর সকলে থামিয়া উযু করিলেন, অতঃপর ফজরের সুন্নাত আদায় করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) বিলাল (রা)-কে ইকামত দানের আদেশ দিলেন এবং সঙ্গী-সাথী সবাইকে লইয়া সালাত আদায় করিলেন। সালাতশেষে লোকদের প্রতি ফিরিয়া বলিলেন, হে লোকসকল! আল্লাহ আমাদের আত্মাসমূহ নিয়ন্ত্রণ করিয়াছিলেন। যদি তিনি চাহিতেন তাহা হইলে এই সময়ের পূর্বেই তাহা ফিরাইয়া দিতে পারিতেন।
فَإِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاةِ أَوْ نَسِيَهَا فَلْيُصَلَّهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيْهَا فِي وَقْتِهَا .
"তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি সালাতের সময় নিদ্রাচ্ছন্ন থাকে কিংবা সালাতের কথা ভুলিয়া যায় তাহা হইলে সে তেমনিভাবে এই সালাত আদায় করিবে যেমনটি সে সালাতের ওয়াক্তে স্বাভাবিকভাবে আদায় করিয়া থাকে।"
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) আবু বাক্র (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন: إِنَّ الشَّيْطَانَ أَتَى بِلاَلاً وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلَّى فَأَضْجَعَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُهْدِثُهُ كَمَا يُهْدَأُ الصَّبِيُّ حَتَّى نَامَ.
"বিলালের নিকট শয়তানের আগমন ঘটিয়াছিল। সে দাঁড়াইয়া সালাত আদায় করিতেছিল কিন্তু শয়তান তাহাকে শোয়াইয়া দিয়া শিশুকে যেইভাবে ঘুম পাড়ানো হয় সেইভাবে ঘুম পাড়াইয়াছিল। ইহার ফলে সে ঘুমাইয়া গিয়াছিল।"
তাহার পর বিলাল (রা)-কে ডাকিয়া তাহাকে অনুরূপ বলিলেন, যেমনটি আবূ বাক্র (রা)-কে বলিলেন। কোন কোন বর্ণনায় এই ঘটনাটি হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে। আবার কোন কোন বর্ণনায় তাবুক হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় ঘটনাটি ঘটিয়াছিল বলিয়া উল্লেখ পাওয়া যায়।
ফজরের সালাত হইতে ঘুমাইয়া যাওয়া সংক্রান্ত হাদীছটি 'ইমরান ইবন হুসায়ন (রা) কর্তৃক বর্ণিত হইয়াছে। কিন্তু তিনি ইহা কোন সময় ও কোন যুদ্ধে সংঘটিত হইয়াছিল ইহার উল্লেখ করেন নাই। ইমাম মালিক (র) যায়দ ইব্ন আসলাম সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, ঘটনাটি মক্কার পথে ঘটিয়াছিল। তবে এই রিওয়ায়াতটি মুরসাল।
আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) বলেন, আমরা হুদায়বিয়ায় সন্ধিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আগমন করিতেছিলাম। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিয়াছিলেন, "আমাদিগকে জাগ্রত করিবার দায়িত্ব কে নিবে? বিলাল (রা) বলেন, "আমি"। অতঃপর ঘটনাটি তিনি বিবৃত করিলেন: এই হাদীছের সনদে বিভিন্নতা (إضطراب) পরিলক্ষিত হয়। 'আবদুর রাহমান ইব্ন মাহদী শু'বা সূত্রে, তিনি জামে' ইব্ন শাদ্দাদ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ঐ রাত্রে পাহারাদার ছিলেন 'আবদুল্লাহ্ ইবন মাস'উদ (রা)। কিন্তু গুনদার শু'বা থেকে বর্ণনা করেন যে, পাহারাদার ছিলেন বিলাল (রা) (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪৬, ১৪৭; মাদারিজুন নুবুওয়াত, ২খ., পৃ. ৪৩১)।
📄 খায়বারের ব্যবস্থাপনা
খায়বারের উৎপন্ন দ্রব্যাদির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ইহার বিলি-বণ্টনের জন্য প্রথম বৎসর রাসূলুল্লাহ (স) আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-কে নিযুক্ত করিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদতবরণের পর আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাহল আনসারী (রা)-কে রাসূলুল্লাহ্ (স) এই পদে নিযুক্ত করেন।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবদ্দশায়ই ইয়াহুদীরা তাহাকে গোপনে ও সাক্ষ্য-প্রমাণহীনভাবে হত্যা করে। ফলে তাঁহার দুই চাচাত ভাই হুয়ায়্যাসা ইব্ন মাস'উদ ও মুহায়্যাসা ইবন মাস'উদ এবং 'আবদুল্লাহ্র এক সহোদর আব্দুর রাহমান ইব্ন সাহল তাঁহার রক্তপণের দাবি করিলেন। কিন্তু আততায়ীর কোন সন্ধান না পাওয়ায় রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার নিজের পক্ষ হইতে এক শত উট তাহদিগকে রক্তপণ হিসাবে দিয়াছিলেন। পূর্বেই বলা হইয়াছে যে, খায়বারের অর্ধেক এলাকা যাহার মধ্যে আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম, বাকী অর্ধেকের ভাগ-বাটোয়ারা সম্পর্কে ইন্ন ইসহাক বলেন যে, আল-কাতীবা আশ-শিক্ক এবং আন-নাতা-এর বণ্টন হইয়াছিল। ইহার মধ্যে আল-কাতীবাকে 'খুমুস' (রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর অংশ) নিকটাত্মীয়বর্গ ইয়াতীমকে ও বিধবা এবং মিসকীনদের ভরণ-পোষণ এবং রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সহধর্মিনীগণের জীবিকা নির্বাহ প্রভৃতির জন্য নির্ধারিত করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। তন্মধ্যে ত্রিশ ওয়াসাক খেজুর এবং ত্রিশ ওয়াসাক যব মুহায়্যাসা ইবন মাস'উদ (রা)-এর জন্য নির্ধারিত হয়। কারণ ফাদাকের ব্যাপারে তিনি যোগাযোগ করিয়া ইহার নিষ্পত্তি করিয়াছিলেন। আশশিক্ক ও 'আন-নাতাকে রাসূলুল্লাহ্ (স) আঠারটি অংশে বিভক্ত করিয়াছিলেন। প্রতিটি অংশে এক শতটি ভাগ ছিল। এইভাবে উক্ত দুর্গ দুইটি আঠার শত ভাগে বিভক্ত হয়। পাঁচ শত অংশ আন-না'তা দুর্গে আর তের শত অংশ- আশশিক্ক দুর্গে। মর্যাদা ও প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করিয়া আল-কাতীবা দুর্গকে নবী সহধর্মিনীগণ ও বানুল মুত্তালিব ও অন্যান্যের মধ্যে বণ্টন করা হয়। বানু মুত্তালিব যেহেতু খুবই অভাবী ছিল তাই তাহাদের জন্য একশত ওয়াসাক এবং আশি ওয়াসাক নির্ধারণ করা হয়। রাসূল তনয়া ফাতিমা (রা)-এর জন্য পঁচাশি ওয়াসাক এবং উসামা ইব্ন যায়দ (রা)-এর জন্য চল্লিশ ওয়াসাক, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদের জন্য পনের ওয়াসাক, উম্মু রুমায়ছা-এর জন্য পাঁচ ওয়াসাক। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ্ ওসিয়াত করিয়াছিলেন যে, রাহাবিয়্যীন (ইয়ামানের রাহাওয় গোত্রীয় লোক)-এর জন্য এক শত ওয়াসাক, আদ-দারিয়্যীন গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক, সাবায়্যীনদের জন্য এক শত ওয়াসাক এবং আশ'আরী গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক দেওয়া হয়। আবূ দাউদে আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) স্বীয় সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং দশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন। ইব্ন 'উমার (রা) হইতে আবূ দাউদের অপর একটি বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) খায়বারের খুমুস হিসাব করিয়া পৃথক করিবার পর নির্ধারিত হারে সকলকে অংশ দিতেন এবং “খুমুস” হইতে নবী সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে এক শত ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২১৩, ২১৪)।
খায়বারের উৎপন্ন দ্রব্যাদির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ইহার বিলি-বণ্টনের জন্য প্রথম বৎসর রাসূলুল্লাহ (স) আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-কে নিযুক্ত করিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদতবরণের পর আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাহল আনসারী (রা)-কে রাসূলুল্লাহ্ (স) এই পদে নিযুক্ত করেন।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবদ্দশায়ই ইয়াহুদীরা তাহাকে গোপনে ও সাক্ষ্য-প্রমাণহীনভাবে হত্যা করে। ফলে তাঁহার দুই চাচাত ভাই হুয়ায়্যাসা ইব্ন মাস'উদ ও মুহায়্যাসা ইবন মাস'উদ এবং 'আবদুল্লাহ্র এক সহোদর আব্দুর রাহমান ইব্ন সাহল তাঁহার রক্তপণের দাবি করিলেন। কিন্তু আততায়ীর কোন সন্ধান না পাওয়ায় রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার নিজের পক্ষ হইতে এক শত উট তাহদিগকে রক্তপণ হিসাবে দিয়াছিলেন। পূর্বেই বলা হইয়াছে যে, খায়বারের অর্ধেক এলাকা যাহার মধ্যে আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম, বাকী অর্ধেকের ভাগ-বাটোয়ারা সম্পর্কে ইন্ন ইসহাক বলেন যে, আল-কাতীবা আশ-শিক্ক এবং আন-নাতা-এর বণ্টন হইয়াছিল। ইহার মধ্যে আল-কাতীবাকে 'খুমুস' (রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর অংশ) নিকটাত্মীয়বর্গ ইয়াতীমকে ও বিধবা এবং মিসকীনদের ভরণ-পোষণ এবং রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সহধর্মিনীগণের জীবিকা নির্বাহ প্রভৃতির জন্য নির্ধারিত করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। তন্মধ্যে ত্রিশ ওয়াসাক খেজুর এবং ত্রিশ ওয়াসাক যব মুহায়্যাসা ইবন মাস'উদ (রা)-এর জন্য নির্ধারিত হয়। কারণ ফাদাকের ব্যাপারে তিনি যোগাযোগ করিয়া ইহার নিষ্পত্তি করিয়াছিলেন। আশশিক্ক ও 'আন-নাতাকে রাসূলুল্লাহ্ (স) আঠারটি অংশে বিভক্ত করিয়াছিলেন। প্রতিটি অংশে এক শতটি ভাগ ছিল। এইভাবে উক্ত দুর্গ দুইটি আঠার শত ভাগে বিভক্ত হয়। পাঁচ শত অংশ আন-না'তা দুর্গে আর তের শত অংশ- আশশিক্ক দুর্গে। মর্যাদা ও প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করিয়া আল-কাতীবা দুর্গকে নবী সহধর্মিনীগণ ও বানুল মুত্তালিব ও অন্যান্যের মধ্যে বণ্টন করা হয়। বানু মুত্তালিব যেহেতু খুবই অভাবী ছিল তাই তাহাদের জন্য একশত ওয়াসাক এবং আশি ওয়াসাক নির্ধারণ করা হয়। রাসূল তনয়া ফাতিমা (রা)-এর জন্য পঁচাশি ওয়াসাক এবং উসামা ইব্ন যায়দ (রা)-এর জন্য চল্লিশ ওয়াসাক, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদের জন্য পনের ওয়াসাক, উম্মু রুমায়ছা-এর জন্য পাঁচ ওয়াসাক। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ্ ওসিয়াত করিয়াছিলেন যে, রাহাবিয়্যীন (ইয়ামানের রাহাওয় গোত্রীয় লোক)-এর জন্য এক শত ওয়াসাক, আদ-দারিয়্যীন গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক, সাবায়্যীনদের জন্য এক শত ওয়াসাক এবং আশ'আরী গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক দেওয়া হয়। আবূ দাউদে আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (س) স্বীয় সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং দশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন। ইব্ন 'উমার (রা) হইতে আবূ দাউদের অপর একটি বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) খায়বারের খুমুস হিসাব করিয়া পৃথক করিবার পর নির্ধারিত হারে সকলকে অংশ দিতেন এবং “খুমুস” হইতে নবী সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে এক শত ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২১৩, ২১৪)।
খায়বারের উৎপন্ন দ্রব্যাদির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ইহার বিলি-বণ্টনের জন্য প্রথম বৎসর রাসূলুল্লাহ (স) আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-কে নিযুক্ত করিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদতবরণের পর আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাহল আনসারী (রা)-কে রাসূলুল্লাহ্ (স) এই পদে নিযুক্ত করেন।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবদ্দশায়ই ইয়াহুদীরা তাহাকে গোপনে ও সাক্ষ্য-প্রমাণহীনভাবে হত্যা করে। ফলে তাঁহার দুই চাচাত ভাই হুয়ায়্যাসা ইব্ন মাস'উদ ও মুহায়্যাসা ইবন মাস'উদ এবং 'আবদুল্লাহ্র এক সহোদর আব্দুর রাহমান ইব্ন সাহল তাঁহার রক্তপণের দাবি করিলেন। কিন্তু আততায়ীর কোন সন্ধান না পাওয়ায় রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার নিজের পক্ষ হইতে এক শত উট তাহদিগকে রক্তপণ হিসাবে দিয়াছিলেন। পূর্বেই বলা হইয়াছে যে, খায়বারের অর্ধেক এলাকা যাহার মধ্যে আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম, বাকী অর্ধেকের ভাগ-বাটোয়ারা সম্পর্কে ইন্ন ইসহাক বলেন যে, আল-কাতীবা আশ-শিক্ক এবং আন-নাতা-এর বণ্টন হইয়াছিল। ইহার মধ্যে আল-কাতীবাকে 'খুমুস' (রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর অংশ) নিকটাত্মীয়বর্গ ইয়াতীমকে ও বিধবা এবং মিসকীনদের ভরণ-পোষণ এবং রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সহধর্মিনীগণের জীবিকা নির্বাহ প্রভৃতির জন্য নির্ধারিত করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। তন্মধ্যে ত্রিশ ওয়াসাক খেজুর এবং ত্রিশ ওয়াসাক যব মুহায়্যাসা ইবন মাস'উদ (রা)-এর জন্য নির্ধারিত হয়। কারণ ফাদাকের ব্যাপারে তিনি যোগাযোগ করিয়া ইহার নিষ্পত্তি করিয়াছিলেন। আশশিক্ক ও 'আন-নাতাকে রাসূলুল্লাহ্ (س) আঠারটি অংশে বিভক্ত করিয়াছিলেন। প্রতিটি অংশে এক শতটি ভাগ ছিল। এইভাবে উক্ত দুর্গ দুইটি আঠার শত ভাগে বিভক্ত হয়। পাঁচ শত অংশ আন-না'তা দুর্গে আর তের শত অংশ- আশশিক্ক দুর্গে। মর্যাদা ও প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করিয়া আল-কাতীবা দুর্গকে নবী সহধর্মিনীগণ ও বানুল মুত্তালিব ও অন্যান্যের মধ্যে বণ্টন করা হয়। বানু মুত্তালিব যেহেতু খুবই অভাবী ছিল তাই তাহাদের জন্য একশত ওয়াসাক এবং আশি ওয়াসাক নির্ধারণ করা হয়। রাসূল তনয়া ফাতিমা (রা)-এর জন্য পঁচাশি ওয়াসাক এবং উসামা ইব্ন যায়দ (রা)-এর জন্য চল্লিশ ওয়াসাক, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদের জন্য পনের ওয়াসাক, উম্মু রুমায়ছা-এর জন্য পাঁচ ওয়াসাক। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ্ ওসিয়াত করিয়াছিলেন যে, রাহাবিয়্যীন (ইয়ামানের রাহাওয় গোত্রীয় লোক)-এর জন্য এক শত ওয়াসাক, আদ-দারিয়্যীন গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক, সাবায়্যীনদের জন্য এক শত ওয়াসাক এবং আশ'আরী গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক দেওয়া হয়। আবূ দাউদে আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) স্বীয় সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং দশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন। ইব্ন 'উমার (রা) হইতে আবূ দাউদের অপর একটি বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) খায়বারের খুমুস হিসাব করিয়া পৃথক করিবার পর নির্ধারিত হারে সকলকে অংশ দিতেন এবং “খুমুস” হইতে নবী সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে এক শত ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২১৩, ২১৪)।
খায়বারের উৎপন্ন দ্রব্যাদির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ইহার বিলি-বণ্টনের জন্য প্রথম বৎসর রাসূলুল্লাহ (স) আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-কে নিযুক্ত করিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদতবরণের পর আবদুল্লাহ্ ইব্ن সাহল আনসারী (রা)-কে রাসূলুল্লাহ্ (س) এই পদে নিযুক্ত করেন।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবদ্দশায়ই ইয়াহুদীরা তাহাকে গোপনে ও সাক্ষ্য-প্রমাণহীনভাবে হত্যা করে। ফলে তাঁহার দুই চাচাত ভাই হুয়ায়্যাসা ইব্ন মাস'উদ ও মুহায়্যাসা ইবন মাস'উদ এবং 'আবদুল্লাহ্র এক সহোদর আব্দুর রাহমান ইব্ن সাহل তাঁহার রক্তপণের দাবি করিলেন। কিন্তু আততায়ীর কোন সন্ধান না পাওয়ায় রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার নিজের পক্ষ হইতে এক শত উট তাহদিগকে রক্তপণ হিসাবে দিয়াছিলেন। পূর্বেই বলা হইয়াছে যে, খায়বারের অর্ধেক এলাকা যাহার মধ্যে আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম, بাকী অর্ধেকের ভাগ-باটোয়ারা সম্পর্কে ইন্ন ইসহাক বলেন যে, আল-কাতীবা আশ-শিক্ক এবং আন-নাতা-এর বণ্টন হইয়াছিল। ইহার মধ্যে আল-কাতীবাকে 'খুমুস' (রাসূলুল্লাহ্ (س)-এর অংশ) নিকটাত্মীয়বর্গ ইয়াতীমকে ও বিধবা এবং মিসকীনদের ভরণ-পোষণ এবং রাসূলুল্লাহ্ (س)-এর সহধর্মিনীগণের জীবিকা নির্বাহ প্রভৃতির জন্য নির্ধারিত করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। তন্মধ্যে ত্রিশ ওয়াসাক খেজুর এবং ত্রিশ ওয়াসাক যব মুহায়্যাসা ইব্ن মাস'উদ (রা)-এর জন্য নির্ধারিত হয়। কারণ ফাদাকের ব্যাপারে তিনি যোগাযোগ করিয়া ইহার নিষ্পত্তি করিয়াছিলেন। আশশিক্ক ও 'আন-নাতাকে রাসূলুল্লাহ্ (س) আঠারটি অংশে বিভক্ত করিয়াছিলেন। প্রতিটি অংশে এক শতটি ভাগ ছিল। এইভাবে উক্ত দুর্গ দুইটি আঠার শত ভাগে বিভক্ত হয়। পাঁচ শত অংশ আন-نا'তা দুর্গে আর তের শত অংশ- আশশিক্ক দুর্গে। মর্যাদা ও প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করিয়া আল-কাতীبا দুর্গকে নবী সহধর্মিনীগণ ও بانুল মুত্তালিব ও অন্যান্যের মধ্যে বণ্টন করা হয়। বানু মুত্তালিব যেহেতু খুবই অভাবী ছিল তাই তাহাদের জন্য একশত ওয়াসাক এবং আশি ওয়াসাক নির্ধারণ করা হয়। রাসূল তনয়া ফাতিমা (রা)-এর জন্য পঁচাশি ওয়াসাক এবং উসামা ইب্ন যায়د (را)-এর জন্য চল্লিশ ওয়াসাক, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদের জন্য পনের ওয়াসাক, উম্মু রুমায়ছা-এর জন্য পাঁচ ওয়াসাক। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ্ ওসিয়াত করিয়াছিলেন যে, রাহাবিয়্যীন (ইয়ামানের রাহাওয় গোত্রীয় লোক)-এর জন্য এক শত ওয়াসাক, আদ-দারিয়্যীন গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক, সাবায়্যীনদের জন্য এক শত ওয়াসাক এবং আশ'আরী গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক দেওয়া হয়। আবূ দাউদে আবদুল্লাহ্ ইبْن উমার (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (س) স্বীয় সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন। ইব্ন 'উমার (রা) হইতে আবূ দাউদের অপর একটি বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (س) খায়বারের খুমুস হিসাব করিয়া পৃথক করিবার পর নির্ধারিত হারে সকলকে অংশ দিতেন এবং “খুমুস” হইতে নবী সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে এক শত ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২১৩, ২১৪)।
খায়বারের উৎপন্ন দ্রব্যাদির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ইহার বিলি-বণ্টনের জন্য প্রথম বৎসর রাসূলুল্লাহ (স) আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-কে নিযুক্ত করিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদতবরণের পর আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাহল আনসারী (রা)-কে রাসূলুল্লাহ্ (স) এই পদে নিযুক্ত করেন।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবদ্দশায়ই ইয়াহুদীরা তাহাকে গোপনে ও সাক্ষ্য-প্রমাণহীনভাবে হত্যা করে। ফলে তাঁহার দুই চাচাত ভাই হুয়ায়্যাসা ইব্ন মাস'উদ ও মুহায়্যাসা ইবন মাস'উদ এবং 'আবদুল্লাহ্র এক সহোদর আব্দুর রাহমান ইব্ন সাহল তাঁহার রক্তপণের দাবি করিলেন। কিন্তু আততায়ীর কোন সন্ধান না পাওয়ায় রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার নিজের পক্ষ হইতে এক শত উট তাহদিগকে রক্তপণ হিসাবে দিয়াছিলেন। পূর্বেই বলা হইয়াছে যে, খায়বারের অর্ধেক এলাকা যাহার মধ্যে আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম, বাকী অর্ধেকের ভাগ-বাটোয়ারা সম্পর্কে ইন্ন ইসহাক বলেন যে, আল-কাতীবা আশ-শিক্ক এবং আন-নাতা-এর বণ্টন হইয়াছিল। ইহার মধ্যে আল-কাতীবাকে 'খুমুস' (রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর অংশ) নিকটাত্মীয়বর্গ ইয়াতীমকে ও বিধবা এবং মিসকীনদের ভরণ-পোষণ এবং রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সহধর্মিনীগণের জীবিকা নির্বাহ প্রভৃতির জন্য নির্ধারিত করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। তন্মধ্যে ত্রিশ ওয়াসাক খেজুর এবং ত্রিশ ওয়াসাক যব মুহায়্যাসা ইবন মাস'উদ (রা)-এর জন্য নির্ধারিত হয়। কারণ ফাদাকের ব্যাপারে তিনি যোগাযোগ করিয়া ইহার নিষ্পত্তি করিয়াছিলেন। আশশিক্ক ও 'আন-নাতাকে রাসূলুল্লাহ্ (স) আঠারটি অংশে বিভক্ত করিয়াছিলেন। প্রতিটি অংশে এক শতটি ভাগ ছিল। এইভাবে উক্ত দুর্গ দুইটি আঠার শত ভাগে বিভক্ত হয়। পাঁচ শত অংশ আন-না'তা দুর্গে আর তের শত অংশ- আশশিক্ক দুর্গে। মর্যাদা ও প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করিয়া আল-কাতীবা দুর্গকে নবী সহধর্মিনীগণ ও বানুল মুত্তালিব ও অন্যান্যের মধ্যে বণ্টন করা হয়। বানু মুত্তালিব যেহেতু খুবই অভাবী ছিল তাই তাহাদের জন্য একশত ওয়াসাক এবং আশি ওয়াসাক নির্ধারণ করা হয়। রাসূল তনয়া ফাতিমা (রা)-এর জন্য পঁচাশি ওয়াসাক এবং উসামা ইব্ন যায়দ (রা)-এর জন্য চল্লিশ ওয়াসাক, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদের জন্য পনের ওয়াসাক, উম্মু রুমায়ছা-এর জন্য পাঁচ ওয়াসাক। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ্ ওসিয়াত করিয়াছিলেন যে, রাহাবিয়্যীন (ইয়ামানের রাহাওয় গোত্রীয় লোক)-এর জন্য এক শত ওয়াসাক, আদ-দারিয়্যীন গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক, সাবায়্যীনদের জন্য এক শত ওয়াসাক এবং আশ'আরী গোত্রের জন্য এক শত ওয়াসাক দেওয়া হয়। আবূ দাউদে আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) স্বীয় সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং দশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন। ইব্ন 'উমার (রা) হইতে আবূ দাউদের অপর একটি বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) খায়বারের খুমুস হিসাব করিয়া পৃথক করিবার পর নির্ধারিত হারে সকলকে অংশ দিতেন এবং “খুমুস” হইতে নবী সহধর্মিনীগণের প্রত্যেককে এক শত ওয়াসাক করিয়া খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক করিয়া যব দিতেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২১৩, ২১৪)।