📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গৃহপালিত গাধার গোস্ত হারাম ঘোষণা

📄 গৃহপালিত গাধার গোস্ত হারাম ঘোষণা


৫। সহীহ সনদ দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) গৃহপালিত গাধা খায়বার দিবসে হারাম ঘোষণা করিয়াছিলেন। তিনি ইহাও ঘোষণা করিয়াছেন যে, এই গাধা অপবিত্র। সাহাবীগণের কাহারও উক্তি ছিল যে, ভারবাহী জন্তু হইবার কারণে ইহা হারাম হইয়াছিল। আবার কেহ বলিয়াছেন, যত্রতত্র অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করিবার কারণে হারাম ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর উক্তি أَنَّهَا رَجْسٌ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তির আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর সহিত কোন দ্বন্দু নাই:
قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طاعم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِزْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
"বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হইয়াছে তাহাতে লোকে যাহা আহার করে তাহার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না মড়া, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এইগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যাহা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে" (৬:১৪৫)।
কারণ উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হইবার সময় ইহাতে বর্ণিত চারিটি জিনিস ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য হারাম ছিল না। আর হারাম বা নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হইতেছিল। সুতরাং গৃহপালিত গাধার নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ইহার পরে নূতনভাবে ঘোষিত হইয়াছিল। ইহার ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তিটি আল-কুরআন যাহা বৈধ ঘোষণা করিয়াছে তাহা রদ করিবার জন্য নয়, আল-কুরআনের ব্যাপকতা (عموم)-কে সংকীর্ণ করিবার জন্য তো নয়ই। সুতরাং নাসিখ-মানসূখের প্রশ্ন এখানে অবান্তর (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিয়াছিলেন, গাধার গোস্ত ফেলিয়া দাও এবং পাত্রটি ভাঙ্গিয়া ফেল। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি আবেদন করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! গোস্ত ফেলিয়া দেওয়া যায় এবং পাত্র ধৌত করা যায়। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আচ্ছা, ধৌত করিয়া লও। প্রথম আদেশ কার্যকরী হইবার পূর্বেই রহিত হইয়া গেল এবং এই কথা অবহিত হওয়া গেল যে, পাত্রের অপবিত্র জিনিস ধৌত করিয়া লইলে পাত্র পবিত্র হইয়া যায় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।

৫। সহীহ সনদ দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) গৃহপালিত গাধা খায়বার দিবসে হারাম ঘোষণা করিয়াছিলেন। তিনি ইহাও ঘোষণা করিয়াছেন যে, এই গাধা অপবিত্র। সাহাবীগণের কাহারও উক্তি ছিল যে, ভারবাহী জন্তু হইবার কারণে ইহা হারাম হইয়াছিল। আবার কেহ বলিয়াছেন, যত্রতত্র অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করিবার কারণে হারাম ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর উক্তি أَنَّهَا رَجْسٌ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তির আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর সহিত কোন দ্বন্দু নাই:
قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طاعم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِزْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
"বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হইয়াছে তাহাতে লোকে যাহা আহার করে তাহার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না মড়া, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এইগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যাহা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে" (৬:১৪৫)।
কারণ উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হইবার সময় ইহাতে বর্ণিত চারিটি জিনিস ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য হারাম ছিল না। আর হারাম বা নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হইতেছিল। সুতরাং গৃহপালিত গাধার নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ইহার পরে নূতনভাবে ঘোষিত হইয়াছিল। ইহার ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তিটি আল-কুরআন যাহা বৈধ ঘোষণা করিয়াছে তাহা রদ করিবার জন্য নয়, আল-কুরআনের ব্যাপকতা (عموم)-কে সংকীর্ণ করিবার জন্য তো নয়ই। সুতরাং নাসিখ-মানসূখের প্রশ্ন এখানে অবান্তর (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিয়াছিলেন, গাধার গোস্ত ফেলিয়া দাও এবং পাত্রটি ভাঙ্গিয়া ফেল। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি আবেদন করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! গোস্ত ফেলিয়া দেওয়া যায় এবং পাত্র ধৌত করা যায়। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আচ্ছা, ধৌত করিয়া লও। প্রথম আদেশ কার্যকরী হইবার পূর্বেই রহিত হইয়া গেল এবং এই কথা অবহিত হওয়া গেল যে, পাত্রের অপবিত্র জিনিস ধৌত করিয়া লইলে পাত্র পবিত্র হইয়া যায় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।

৫। সহীহ সনদ দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ (س) গৃহপালিত গাধা খায়বার দিবসে হারাম ঘোষণা করিয়াছিলেন। তিনি ইহাও ঘোষণা করিয়াছেন যে, এই গাধা অপবিত্র। সাহাবীগণের কাহারও উক্তি ছিল যে, ভারবাহী জন্তু হইবার কারণে ইহা হারাম হইয়াছিল। আবার কেহ বলিয়াছেন, যত্রতত্র অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করিবার কারণে হারাম ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (س)-এর উক্তি أَنَّهَا رَجْسٌ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (س)-এর এই উক্তির আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর সহিত কোন দ্বন্দু নাই:
قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طاعم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِزْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
"বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হইয়াছে তাহাতে লোকে যাহা আহার করে তাহার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না মড়া, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এইগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যাহা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে" (৬:১৪৫)।
কারণ উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হইবার সময় ইহাতে বর্ণিত চারিটি জিনিস ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য হারাম ছিল না। আর হারাম বা নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হইতেছিল। সুতরাং গৃহপালিত গাধার নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ইহার পরে নূতনভাবে ঘোষিত হইয়াছিল। ইহার ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (س)-এর এই উক্তিটি আল-কুরআন যাহা বৈধ ঘোষণা করিয়াছে তাহা রদ করিবার জন্য নয়, আল-কুরআনের ব্যাপকতা (عموم)-কে সংকীর্ণ করিবার জন্য তো নয়ই। সুতরাং নাসিখ-মানসূখের প্রশ্ন এখানে অবান্তর (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (س) আদেশ করিয়াছিলেন, গাধার গোস্ত ফেলিয়া দাও এবং পাত্রটি ভাঙ্গিয়া ফেল। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি আবেদন করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! গোست ফেলিয়া দেওয়া যায় এবং পাত্র ধৌত করা যায়। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, আচ্ছা, ধৌত করিয়া লও। প্রথম আদেশ কার্যকরী হইবার পূর্বেই রহিত হইয়া গেল এবং এই কথা অবহিত হওয়া গেল যে, পাত্রের অপবিত্র জিনিস ধৌত করিয়া লইলে পাত্র পবিত্র হইয়া যায় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।

৫। সহীহ সনদ দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) গৃহপালিত গাধা খায়বার দিবসে হারাম ঘোষণা করিয়াছিলেন। তিনি ইহাও ঘোষণা করিয়াছেন যে, এই গাধা অপবিত্র। সাহাবীগণের কাহারও উক্তি ছিল যে, ভারবাহী জন্তু হইবার কারণে ইহা হারাম হইয়াছিল। আবার কেহ বলিয়াছেন, যত্রতত্র অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করিবার কারণে হারাম ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর উক্তি أَنَّهَا رَجْسٌ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তির আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর সহিত কোন দ্বন্দু নাই:
قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طاعم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِزْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
"বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হইয়াছে তাহাতে লোকে যাহা আহার করে তাহার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না মড়া, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এইগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যাহা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে" (৬:১৪৫)।
কারণ উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হইবার সময় ইহাতে বর্ণিত চারিটি জিনিস ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য হারাম ছিল না। আর হারাম বা নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হইতেছিল। সুতরাং গৃহপালিত গাধার নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ইহার পরে নূতনভাবে ঘোষিত হইয়াছিল। ইহার ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তিটি আল-কুরআন যাহা বৈধ ঘোষণা করিয়াছে তাহা রদ করিবার জন্য নয়, আল-কুরআনের ব্যাপকতা (عموم)-কে সংকীর্ণ করিবার জন্য তো নয়ই। সুতরাং নাসিখ-মানসূখের প্রশ্ন এখানে অবান্তর (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিয়াছিলেন, গাধার গোস্ত ফেলিয়া দাও এবং পাত্রটি ভাঙ্গিয়া ফেল। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি আবেদন করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! গোস্ত ফেলিয়া দেওয়া যায় এবং পাত্র ধৌত করা যায়। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আচ্ছা, ধৌত করিয়া লও। প্রথম আদেশ কার্যকরী হইবার পূর্বেই রহিত হইয়া গেল এবং এই কথা অবহিত হওয়া গেল যে, পাত্রের অপবিত্র জিনিস ধৌত করিয়া লইলে পাত্র পবিত্র হইয়া যায় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুত'আ বিবাহ সংক্রান্ত বিধান

📄 মুত'আ বিবাহ সংক্রান্ত বিধান


মুত'আ বিবাহ হইল নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা দিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কোন মহিলাকে বিবাহ করা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। তবে তাহা ছিল একান্ত প্রয়োজনে। যেইভাবে প্রাণ রক্ষার্থে মৃত জন্তু বা শূকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, অনুরূপ আত্মসংযমে একান্ত অপারগতায় তৎকালে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। এই প্রসংগে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করা যাইতে পারে:
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ سَيْفُ اللَّهِ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَجُلٍ جَاءَهُ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَاهُ فِي الْمُتْعَةِ فَأَمَرَهُ بِهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ مَهْلاً قَالَ مَا هِيَ وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتُ فِي عَهْدِ اِمَامِ الْمُتَّقِينَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ إِنَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَام لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا كَالمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ ثُمَّ أَحْكَمَ اللَّهُ الدِّيْنَ وَنَهَى عَنْهَا .
"ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমাকে খালিদ ইবনুল মুহাজির সায়ফুল্লাহ জানাইয়াছেন যে, তিনি জনৈক লোকের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় ঐ লোকটির নিকট অপর একজন লোক আসিয়া মুত'আ সম্পর্কে তাহার অভিমত জানিতে চাহিল। উপবিষ্ট লোকটি তাহাকে উহার অনুমতি দিল। এই সময় ইব্‌ন আবী আমরা আল-আনসারী (রা) তাহাকে বলিলেন, আচ্ছা একটু থাম। লোকটি বলিল, কি হইয়াছে? আল্লাহর শপথ! আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে করিয়াছি। ইব্‌ন আবী আমরা (রা) বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেহ আত্মসংযমে অপারগ হইয়া গেলে তাহার জন্য মুত'আ করার অনুমতি ছিল, যেমনটি অনুমতি ছিল মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ করার। অতঃপর আল্লাহ দীনকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিলেন এবং মুত'আকে নিষিদ্ধ করিলেন" (সহীহ মুসলিম, নিকাহ, বাব ৩, নং ৩৪২৯/২৭)।
কায়স বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন মাস'উদ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি: আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতাম। আমাদের সঙ্গে স্ত্রীলোক থাকিত না। একদা আমরা বলিলাম, আমরা কি নির্বীর্য হইয়া যাইব না? রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে নির্বীর্য হইতে নিষেধ করিলেন। অতঃপর আমাদিগকে বস্ত্রের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রা) পাঠ করিলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য যে সকল পবিত্র জিনিস আল্লাহ হালাল করিয়াছেন সেইগুলিকে তোমরা হারাম করিও না। কারণ সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে আল্লাহ ভালবাসেন না" (৫:৮৭ বুখারী, ২খ., ৭৫৯; মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
উক্ত হাদীছে নির্বীর্য হইবার আবেদনও প্রমাণ করে মুত'আ একান্ত অপারগ অবস্থায় বৈধ ছিল।
জাবির ইবন আবদিল্লাহ ও সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) বলেন, قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا مُنَادِى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ أَذِنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَمْتِعُوا يَعْنِي مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَانَا فَأَذِنَ لَنَا فِي المتعة.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন ঘোষক আমাদের নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তোমাদের জন্য মহিলাদের সহিত মুত'আ বিবাহের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের মধ্যে আসিয়া আমাদিগকে মুত'আর অনুমতি প্রদান করিলেন” (মুসলিম, ২খ., ৪৫০)।
জাবির ও সালামা (রা)-এর বর্ণনায় যদিও এই কথার উল্লেখ নাই যে, কোন পটভূমিতে মুত'আর অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল, বলা বাহুল্য তাহাও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ বিশদ রিওয়ায়াতসমূহে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। অবশ্য পরবর্তী কালে মুت'আ বিবাহের এই অনুমতি প্রত্যাহার করিয়া লওয়া এবং বিদ'আতী রাফেযীগণ (শী'আ) ব্যতীত ইসলামের অনুসারী সকলেই এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আইন গ্রন্থ হিদায়া-র গ্রন্থকার ইমাম মালিক (র) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহকে জায়েজ মনে করিতেন। কিন্তু ইমাম মালিক (র)-এর দিকে এইরূপ কথার সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ ভুল। হিদায়ার ভাষ্যকার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার ভাষায় বলিয়াছেন যে, হিদায়া গ্রন্থকার এই ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাটের শিকার হইয়াছেন। কিছু কিছু লোক দাবি করেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) শেষ জীবন পর্যন্ত মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করিতেন। প্রকৃত পক্ষে এই দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইমাম তিরমিযী তাঁহার সুনান গ্রন্থে মুত'আ অধ্যায়ে যেই দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দ্বিতীয় হাদীছটি স্বয়ং ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي أَوَّلِ الإِسْلَامِ حَتَّى إِذَا نَزَلَتِ الْآيَةُ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكُلُّ فَرْجِ سِوَاهُمَا فَهُوَ حَرَامٌ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুত'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল। তবে তাহা আল-কুরআনের আয়াত "একমাত্র তোমাদিগের স্ত্রী ও বাঁদীগণ ব্যতীত” (২৩ঃ ৬) অবতীর্ণ হইবার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, শরী'আতসম্মত স্ত্রী ও বাঁদীগণ ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ হারাম"।
তবে একথা সমর্থনযোগ্য যে, ইবন 'আব্বাস (রা) তাঁহার জীবনের কিছুকাল পর্যন্ত মুت'আ বিবাহকে বৈধ মনে করিতেন। অতঃপর 'আলী (রা)-এর বুঝানোতে এবং আল-কুরআনের আয়াত إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ সম্পর্কে অবগত হইয়া তিনি তাঁহার মত প্রত্যাহার করিয়াছেন। 'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) ইবন 'আব্বাস (রা)-কে বুঝাইয়াছেন বলিয়া মুসলিমের নিম্নোক্ত রিওয়ায়তে পাওয়া যায় :
عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَلِيْنُ فِي مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ مَهْلاً يَا ابْنَ عَبَّاسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ.
"আলী (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন্ন 'আব্বাস (রা) সম্পর্কে শুনিতে পাইলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহ সম্পর্কে নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। 'আলী (রা) বলিলেন, হে আব্বাস পুত্র! এই মনোভাব পরিহার কর। কারণ রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে মুت'আ ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন" (মুসলিম, ১খ., ৪৫২)।
মুফতী শফী (র) বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলেন, শী'আগণ 'আলী (রা)-এর সহিত ভালবাসা ও তাঁহার অনুসারী হইবার দাবি করা সত্ত্বেও আশ্চর্য ব্যাপার হইল যে, তাহারা মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করে। কিন্তু এই মাসআলায় 'আলী (রা) যে তাহাদিগের মতের বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন, এই সম্পর্কে তাহারা কি অবহিত নহে (মাআরিফুল কুরআন, ২খ., ৫ম অংশ, পৃ. ১৮)!

মুত'আ বিবাহ হইল নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা দিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কোন মহিলাকে বিবাহ করা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। তবে তাহা ছিল একান্ত প্রয়োজনে। যেইভাবে প্রাণ রক্ষার্থে মৃত জন্তু বা শূকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, অনুরূপ আত্মসংযমে একান্ত অপারগতায় তৎকালে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। এই প্রসংগে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করা যাইতে পারে:
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ سَيْفُ اللَّهِ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَجُلٍ جَاءَهُ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَاهُ فِي الْمُتْعَةِ فَأَمَرَهُ بِهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ مَهْلاً قَالَ مَا هِيَ وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتُ فِي عَهْدِ اِمَامِ الْمُتَّقِينَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ إِنَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَام لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا كَالمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ ثُمَّ أَحْكَمَ اللَّهُ الدِّيْنَ وَنَهَى عَنْهَا .
"ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমাকে খালিদ ইবনুল মুহাজির সায়ফুল্লাহ জানাইয়াছেন যে, তিনি জনৈক লোকের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় ঐ লোকটির নিকট অপর একজন লোক আসিয়া মুত'আ সম্পর্কে তাহার অভিমত জানিতে চাহিল। উপবিষ্ট লোকটি তাহাকে উহার অনুমতি দিল। এই সময় ইব্‌ন আবী আমরা আল-আনসারী (রা) তাহাকে বলিলেন, আচ্ছা একটু থাম। লোকটি বলিল, কি হইয়াছে? আল্লাহর শপথ! আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে করিয়াছি। ইব্‌ন আবী আমরা (রা) বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেহ আত্মসংযমে অপারগ হইয়া গেলে তাহার জন্য মুত'আ করার অনুমতি ছিল, যেমনটি অনুমতি ছিল মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ করার। অতঃপর আল্লাহ দীনকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিলেন এবং মুত'আকে নিষিদ্ধ করিলেন" (সহীহ মুসলিম, নিকাহ, বাব ৩, নং ৩৪২৯/২৭)।
عَنْ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ يَقُولُ كُنَّا نَعْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيْسَ لَنَا نِسَاءً فَقُلْنَا أَلَا نَسْتَخْصِي فَنَهَانَا عَنْ ذلِكَ ثُمَّ رَخَّصَ لَنَا أَنْ تَنْكِحَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ قَرَا عَبْدُ اللَّهِ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.
"কায়স (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন মাস'উদ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি: আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতাম। আমাদের সঙ্গে স্ত্রীলোক থাকিত না। একদা আমরা বলিলাম, আমরা কি নির্বীর্য হইয়া যাইব না? রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে নির্বীর্য হইতে নিষেধ করিলেন। অতঃপর আমাদিগকে বস্ত্রের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রা) পাঠ করিলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য যে সকল পবিত্র জিনিস আল্লাহ হালাল করিয়াছেন সেইগুলিকে তোমরা হারাম করিও না। কারণ সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে আল্লাহ ভালবাসেন না" (৫:৮৭ বুখারী, ২খ., ৭৫৯; মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
উক্ত হাদীছে নির্বীর্য হইবার আবেদনও প্রমাণ করে মুত'আ একান্ত অপারগ অবস্থায় বৈধ ছিল।
জাবির ইবন আবদিল্লাহ ও সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) বলেন: قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا مُنَادِى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ أَذِنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَمْتِعُوا يَعْنِي مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَانَا فَأَذِنَ لَنَا فِي المتعة.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন ঘোষক আমাদের নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তোমাদের জন্য মহিলাদের সহিত মুত'আ বিবাহের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের মধ্যে আসিয়া আমাদিগকে মুত'আর অনুমতি প্রদান করিলেন” (মুসলিম, ২খ., ৪৫০)।
জাবির ও সালামা (রা)-এর বর্ণনায় যদিও এই কথার উল্লেখ নাই যে, কোন পটভূমিতে মুত'আর অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল, বলা বাহুল্য তাহাও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ বিশদ রিওয়ায়াতসমূহে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। অবশ্য পরবর্তী কালে মুত'আ বিবাহের এই অনুমতি প্রত্যাহার করিয়া লওয়া এবং বিদ'আতী রাফেযীগণ (শী'আ) ব্যতীত ইসলামের অনুসারী সকলেই এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আইন গ্রন্থ হিদায়া-র গ্রন্থকার ইমাম মালিক (র) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহকে জায়েজ মনে করিতেন। কিন্তু ইমাম মালিক (র)-এর দিকে এইরূপ কথার সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ ভুল। হিদায়ার ভাষ্যকার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার ভাষায় বলিয়াছেন যে, হিদায়া গ্রন্থকার এই ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাটের শিকার হইয়াছেন। কিছু কিছু লোক দাবি করেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) শেষ জীবন পর্যন্ত মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করিতেন। প্রকৃত পক্ষে এই দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইমাম তিরমিযী তাঁহার সুনান গ্রন্থে মুত'আ অধ্যায়ে যেই দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দ্বিতীয় হাদীছটি স্বয়ং ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي أَوَّلِ الإِسْلَامِ حَتَّى إِذَا نَزَلَتِ الْآيَةُ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكُلُّ فَرْجِ سِوَاهُمَا فَهُوَ حَرَامٌ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুt'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল। তবে তাহা আল-কুরআনের আয়াত "একমাত্র তোমাদিগের স্ত্রী ও বাঁদীগণ ব্যতীত” (২৩ঃ ৬) অবতীর্ণ হইবার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, শরী'আতসম্মত স্ত্রী ও বাঁদীগণ ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ হারাম"।
তবে একথা সমর্থনযোগ্য যে, ইবন 'আব্বাস (রা) তাঁহার জীবনের কিছুকাল পর্যন্ত মুত'আ বিবাহকে বৈধ মনে করিতেন। অতঃপর 'আলী (রা)-এর বুঝানোতে এবং আল-কুরআনের আয়াত إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ সম্পর্কে অবগত হইয়া তিনি তাঁহার মত প্রত্যাহার করিয়াছেন। 'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) ইবন 'আব্বাস (রা)-কে বুঝাইয়াছেন বলিয়া মুসলিমের নিম্নোক্ত রিওয়ায়তে পাওয়া যায় :
عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَلِيْنُ فِي مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ مَهْلاً يَا ابْنَ عَبَّاسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ.
"আলী (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন্ন 'আব্বাস (রা) সম্পর্কে শুনিতে পাইলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহ সম্পর্কে নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। 'আলী (রা) বলিলেন, হে আব্বাস পুত্র! এই মনোভাব পরিহার কর। কারণ রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে মুت'আ ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন" (মুসলিম, দেওবন্দ, ১খ., ৪৫২)।
মুফতী শফী (র) বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলেন, শী'আগণ 'আলী (রা)-এর সহিত ভালবাসা ও তাঁহার অনুসারী হইবার দাবি করা সত্ত্বেও আশ্চর্য ব্যাপার হইল যে, তাহারা মুت'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করে। কিন্তু এই মাসআলায় 'আলী (রা) যে তাহাদিগের মতের বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন, এই সম্পর্কে তাহারা কি অবহিত নহে (মাআরিফুল কুরআন, ২খ., ৫ম অংশ, পৃ. ১৮)!

মুত'আ বিবাহ হইল নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা দিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কোন মহিলাকে বিবাহ করা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। তবে তাহা ছিল একান্ত প্রয়োজনে। যেইভাবে প্রাণ রক্ষার্থে মৃত জন্তু বা শূকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, অনুরূপ আত্মসংযমে একান্ত অপারগতায় তৎকালে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। এই প্রসংগে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করা যাইতে পারে:
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ سَيْفُ اللَّهِ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَجُلٍ جَاءَهُ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَاهُ فِي الْمُتْعَةِ فَأَمَرَهُ بِهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ مَهْلاً قَالَ مَا هِيَ وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتُ فِي عَهْدِ اِمَامِ الْمُتَّقِينَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ إِنَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَام لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا كَالمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ ثُمَّ أَحْكَمَ اللَّهُ الدِّيْنَ وَنَهَى عَنْهَا .
"ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমাকে খালিদ ইবনুল মুহাজির সায়ফুল্লাহ জানাইয়াছেন যে, তিনি জনৈক লোকের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় ঐ লোকটির নিকট অপর একজন লোক আসিয়া মুত'আ সম্পর্কে তাহার অভিমত জানিতে চাহিল। উপবিষ্ট লোকটি তাহাকে উহার অনুমতি দিল। এই সময় ইব্‌ن আবী আমরা আল-আনসারী (রা) তাহাকে বলিলেন, আচ্ছা একটু থাম। লোকটি বলিল, কি হইয়াছে? আল্লাহর শপথ! আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ (س)-এর যুগে করিয়াছি। ইব্‌ن আবী আমরা (রা) বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেহ আত্মসংযমে অপারগ হইয়া গেলে তাহার জন্য মুত'আ করার অনুমতি ছিল, যেমনটি অনুমতি ছিল মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ করার। অতঃপর আল্লাহ দীনকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিলেন এবং মুت'আকে নিষিদ্ধ করিলেন" (সহীহ মুসলিম, নিকাহ, باب ৩, নং ৩৪২৯/২৭)।
عَنْ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ يَقُولُ كُنَّا نَعْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيْسَ لَنَا نِسَاءً فَقُلْنَا أَلَا نَسْتَخْصِي فَنَهَانَا عَنْ ذلِكَ ثُمَّ رَخَّصَ لَنَا أَنْ تَنْكِحَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ قَرَا عَبْدُ اللَّهِ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.
"কায়س (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন মাস'উদ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি: আমরা রাসূলুল্লাহ (س)-এর সহিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতাম। আমাদের সঙ্গে স্ত্রীলোক থাকিত না। একদা আমরা বলিলাম, আমরা কি নির্বীর্য হইয়া যাইব না? রাসূলুল্লাহ (س) আমাদিগকে নির্বীর্য হইতে নিষেধ করিলেন। অতঃপর আমাদিগকে বস্ত্রের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রা) পাঠ করিলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য যে সকল পবিত্র জিনিস আল্লাহ হালাল করিয়াছেন সেইগুলিকে তোমরা হারাম করিও না। কারণ সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে আল্লাহ ভালবাসেন না" (৫:৮৭ বুখারী, ২খ., ৭৫৯; মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
উক্ত হাদীছে নির্বীর্য হইবার আবেদনও প্রমাণ করে মুত'আ একান্ত অপারগ অবস্থায় বৈধ ছিল।
জাবির ইবন ابদিল্লাহ ও সালামা ইবনুল আকওয়া' (را) বলেন: قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا مُنَادِى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ أَذِنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَمْتِعُوا يَعْنِي مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَانَا فَأَذِنَ لَنَا فِي المتعة.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন ঘোষক আমাদের নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (س) তোমাদের জন্য মহিলাদের সহিত মুত'আ বিবাহের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের মধ্যে আসিয়া আমাদিগকে মুت'আর অনুমতি প্রদান করিলেন” (মুসলিম, ২খ., ৪৫০)।
জাবির ও সালামা (را)-এর বর্ণনায় যদিও এই কথার উল্লেখ নাই যে, কোন পটভূমিতে মুت'আর অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল, বলা বাহুল্য তাহাও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ বিশদ রিওয়ায়াতসমূহে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। অবশ্য পরবর্তী কালে মুت'আ বিবাহের এই অনুমতি প্রত্যাহার করিয়া লওয়া এবং বিদ'আতী রাফেযীগণ (শী'আ) ব্যতীত ইসলামের অনুসারী সকলেই এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আইন গ্রন্থ হিদায়া-র গ্রন্থকার ইমাম মালিক (ر) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহকে জায়েজ মনে করিতেন। কিন্তু ইমাম মালিক (ر)-এর দিকে এইরূপ কথার সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ ভুল। হিদায়ার ভাষ্যকার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার ভাষায় বলিয়াছেন যে, হিদায়া গ্রন্থকার এই ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাটের শিকার হইয়াছেন। কিছু কিছু লোক দাবি করেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) শেষ জীবন পর্যন্ত মুت'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করিতেন। প্রকৃত পক্ষে এই দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইমাম তিরমিযী তাঁহার সুনান গ্রন্থে মুত'আ অধ্যায়ে যেই দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দ্বিতীয় হাদীছটি স্বয়ং ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي أَوَّلِ الإِسْلَامِ حَتَّى إِذَا نَزَلَتِ الْآيَةُ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكُلُّ فَرْجِ سِوَاهُمَا فَهُوَ حَرَامٌ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুt'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল। তবে তাহা আল-কুরআনের আয়াত "একমাত্র তোমাদিগের স্ত্রী ও বাঁদীগণ ব্যতীত” (২৩ঃ ৬) অবতীর্ণ হইবার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর ইব্‌ن আব্বাস (রা) বলেন, শরী'আতসম্মত স্ত্রী ও বাঁদীগণ ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ হারাম"।
তবে একথা সমর্থনযোগ্য যে, ইবন 'আব্বাস (রা) তাঁহার জীবনের কিছুকাল পর্যন্ত মুت'আ বিবাহকে বৈধ মনে করিতেন। অতঃপর 'আলী (রা)-এর বুঝানোতে এবং আল-কুরআনের আয়াত إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ সম্পর্কে অবগত হইয়া তিনি তাঁহার মত প্রত্যাহার করিয়াছেন। 'আলী ইব্‌ن আবী তালিব (রা) ইবন 'আব্বাস (রা)-কে বুঝাইয়াছেন বলিয়া মুসলিমের নিম্নোক্ত রিওয়ায়তে পাওয়া যায় :
عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَلِيْنُ فِي مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ مَهْلاً يَا ابْنَ عَبَّاسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ.
"আলী (را) হইতে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন্ন 'আব্বাস (রা) সম্পর্কে শুনিতে পাইলেন যে, তিনি মুت'আ বিবাহ সম্পর্কে নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। 'আলী (রা) বলিলেন, হে আব্বাস পুত্র! এই মনোভাব পরিহার কর। কারণ রাসূলুল্লাহ (س) খায়বার দিবসে মুت'আ ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন" (মুসলিম, দেওবন্দ, ১খ., ৪৫২)।
মুফতী শফী (র) বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলেন, শী'আগণ 'আলী (রা)-এর সহিত ভালবাসা ও তাঁহার অনুসারী হইবার দাবি করা সত্ত্বেও আশ্চর্য ব্যাপার হইল যে, তাহারা মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করে। কিন্তু এই মাসআলায় 'আলী (রা) যে তাহাদিগের মতের বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন, এই সম্পর্কে তাহারা কি অবহিত নহে (মাআরিফুল কুরআন, ২খ., ৫ম অংশ, পৃ. ১৮)!

মুত'আ বিবাহ হইল নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা দিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কোন মহিলাকে বিবাহ করা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। তবে তাহা ছিল একান্ত প্রয়োজনে। যেইভাবে প্রাণ রক্ষার্থে মৃত জন্তু বা শূকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, অনুরূপ আত্মসংযমে একান্ত অপারগতায় তৎকালে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। এই প্রসংগে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করা যাইতে পারে:
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ سَيْفُ اللَّهِ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَجُلٍ جَاءَهُ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَاهُ فِي الْمُتْعَةِ فَأَمَرَهُ بِهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ مَهْلاً قَالَ مَا هِيَ وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتُ فِي عَهْدِ اِمَامِ الْمُتَّقِينَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ إِنَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَام لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا كَالمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ ثُمَّ أَحْكَمَ اللَّهُ الدِّينَ وَنَهَى عَنْهَا .
"ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমাকে খালিদ ইবনুল মুহাজির সায়ফুল্লাহ জানাইয়াছেন যে, তিনি জনৈক লোকের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় ঐ লোকটির নিকট অপর একজন লোক আসিয়া মুত'আ সম্পর্কে তাহার অভিমত জানিতে চাহিল। উপবিষ্ট লোকটি তাহাকে উহার অনুমতি দিল। এই সময় ইব্‌ন আবী আমরা আল-আনসারী (রা) তাহাকে বলিলেন, আচ্ছা একটু থাম। লোকটি বলিল, কি হইয়াছে? আল্লাহর শপথ! আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে করিয়াছি। ইব্‌ন আবী আমরা (রা) বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেহ আত্মসংযমে অপারগ হইয়া গেলে তাহার জন্য মুত'আ করার অনুমতি ছিল, যেমনটি অনুমতি ছিল মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ করার। অতঃপর আল্লাহ দীনকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিলেন এবং মুত'আকে নিষিদ্ধ করিলেন" (সহীহ মুসলিম, নিকাহ, বাব ৩, নং ৩৪২৯/২৭)।
عَنْ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ يَقُولُ كُنَّا نَعْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيْسَ لَنَا نِسَاءً فَقُلْنَا أَلَا نَسْتَخْصِي فَنَهَانَا عَنْ ذلِكَ ثُمَّ رَخَّصَ لَنَا أَنْ تَنْكِحَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ قَرَا عَبْدُ اللَّهِ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.
"কায়স (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন মাস'উদ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি: আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতাম। আমাদের সঙ্গে স্ত্রীলোক থাকিত না। একদা আমরা বলিলাম, আমরা কি নির্বীর্য হইয়া যাইব না? রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে নির্বীর্য হইতে নিষেধ করিলেন। অতঃপর আমাদিগকে বস্ত্রের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রা) পাঠ করিলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য যে সকল পবিত্র জিনিস আল্লাহ হালাল করিয়াছেন সেইগুলিকে তোমরা হারাম করিও না। কারণ সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে আল্লাহ ভালবাসেন না" (৫:৮৭ বুখারী, ২খ., ৭৫৯; মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
উক্ত হাদীছে নির্বীর্য হইবার আবেদনও প্রমাণ করে মুত'আ একান্ত অপারগ অবস্থায় বৈধ ছিল।
জাবির ইবন আবদিল্লাহ ও সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) বলেন, قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا مُنَادِى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ أَذِنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَمْتِعُوا يَعْنِي مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَانَا فَأَذِنَ لَنَا فِي المتعة.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন ঘোষক আমাদের নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তোমাদের জন্য মহিলাদের সহিত মুত'আ বিবাহের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের মধ্যে আসিয়া আমাদিগকে মুত'আর অনুমতি প্রদান করিলেন” (মুসলিম, ২খ., ৪৫০)।
জাবির ও সালামা (রা)-এর বর্ণনায় যদিও এই কথার উল্লেখ নাই যে, কোন পটভূমিতে মুত'আর অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল, বলা বাহুল্য তাহাও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ বিশদ রিওয়ায়াতসমূহে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। অবশ্য পরবর্তী কালে মুত'আ বিবাহের এই অনুমতি প্রত্যাহার করিয়া লওয়া এবং বিদ'আতী রাফেযীগণ (শী'আ) ব্যতীত ইসলামের অনুসারী সকলেই এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আইন গ্রন্থ হিদায়া-র গ্রন্থকার ইমাম মালিক (র) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহকে জায়েজ মনে করিতেন। কিন্তু ইমাম মালিক (র)-এর দিকে এইরূপ কথার সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ ভুল। হিদায়ার ভাষ্যকার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার ভাষায় বলিয়াছেন যে, হিদায়া গ্রন্থকার এই ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাটের শিকার হইয়াছেন। কিছু কিছু লোক দাবি করেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) শেষ জীবন পর্যন্ত মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করিতেন। প্রকৃত পক্ষে এই দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইমাম তিরমিযী তাঁহার সুনান গ্রন্থে মুত'আ অধ্যায়ে যেই দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দ্বিতীয় হাদীছটি স্বয়ং ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي أَوَّلِ الإِسْلَامِ حَتَّى إِذَا نَزَلَتِ الْآيَةُ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكُلُّ فَرْجِ سِوَاهُمَا فَهُوَ حَرَامٌ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুt'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল। তবে তাহা আল-কুরআনের আয়াত "একমাত্র তোমাদিগের স্ত্রী ও বাঁদীগণ ব্যতীত” (২৩ঃ ৬) অবতীর্ণ হইবার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, শরী'আতসম্মত স্ত্রী ও বাঁদীগণ ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ হারাম"।
তবে একথা সমর্থনযোগ্য যে, ইবন 'আব্বাস (রা) তাঁহার জীবনের কিছুকাল পর্যন্ত মুত'আ বিবাহকে বৈধ মনে করিতেন। অতঃপর 'আলী (রা)-এর বুঝানোতে এবং আল-কুরআনের আয়াত إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ সম্পর্কে অবগত হইয়া তিনি তাঁহার মত প্রত্যাহার করিয়াছেন। 'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) ইবন 'আব্বাস (রা)-কে বুঝাইয়াছেন বলিয়া মুসলিমের নিম্নোক্ত রিওয়ায়তে পাওয়া যায় :
عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَلِيْنُ فِي مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ مَهْلاً يَا ابْنَ عَبَّاسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ.
"আলী (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন্ন 'আব্বাস (রা) সম্পর্কে শুনিতে পাইলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহ সম্পর্কে নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। 'আলী (রা) বলিলেন, হে আব্বাস পুত্র! এই মনোভাব পরিহার কর। কারণ রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে মুত'আ ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন" (মুসলিম, দেওবন্দ, ১খ., ৪৫২)।
মুফতী শফী (র) বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলেন, শী'আগণ 'আলী (রা)-এর সহিত ভালবাসা ও তাঁহার অনুসারী হইবার দাবি করা সত্ত্বেও আশ্চর্য ব্যাপার হইল যে, তাহারা মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করে। কিন্তু এই মাসআলায় 'আলী (রা) যে তাহাদিগের মতের বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন, এই সম্পর্কে তাহারা কি অবহিত নহে (মাআরিফুল কুরআন, ২খ., ৫ম অংশ, পৃ. ১৮)!

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা)-এর উক্তি ও ইহার জওয়াব

📄 জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা)-এর উক্তি ও ইহার জওয়াব


عَنْ عَطَاء قَالَ قَدِمَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ مُعْتَمِرًا فَجِيْنَاهُ فِي مَنَازِلِهِ فَسَالَهُ الْقَوْمُ عَنْ أَشْيَاء ثُمَّ ذَكَرُوا الْمُتْعَةَ فَقَالَ نَعَمْ اسْتَمْتَعْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ. "আতা বলেন, জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা) 'উমরা পালন করিতে আসিলে পর আমরা তাঁহার অবস্থানস্থলে গমন করিলাম। লোকজন তাঁহাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। এক পর্যায় মুত'আ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হইলে তিনি বলিলেন, হাঁ, আমরা রাসূলুল্লাহ (স), আবূ বাক্স ও উমার (রা)-এর যুগে মুত'আ করিতাম” (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
জাবির (রা)-এর এই উক্তি সম্পর্কে আল্লামা নাওয়াবী বলেন, আবূ বাক্স ও 'উমার (রা)-এর যুগে মুت'আ করার কথা বলার কারণ হইল, তাঁহার নিকট মুت'আ ইহার পূর্বে রহিত হইবার কথা পৌঁছে নাই।
أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ كُنَّا نَسْتَمْتِعُ بِالْقَبْضَةِ مِنَ التَّمْرِ وَالدَّقِيقِ الأَيَّامَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَأَبِي بَكْرٍ حَتَّى نَهَى عَنْهُ عُمَرُ فِي شَأْنِ عَمْرِو بن حريث. "আবুষ যুবায়র বলেন, আমি জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমরা এক মুষ্টি শুকনা খেজুর ও ছাতু দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) ও আবূ বাক্স (রা)-এর যুগে কয়েক দিনের জন্য মুত'আ করিতাম। অতঃপর 'উমার (রা) আমর ইবন হুরায়ছের ব্যাপারে তাহা নিষেধ করিলেন" (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
عَنْ أَبِي نَضْرَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَأَتَاهُ أَن فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسِ وَابْنُ الزُّبَيْرِ اخْتَلَفَا فِي الْمُتْعَتَيْنِ فَقَالَ جَابِرٌ فَعَلْنَاهُمَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ ثُمَّ نَهَانَا عَنْهُمَا عُمَرُ فَلَمْ نُعدْ لَهُمَا . "আবূ নাদরা বলেন, আমি জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় একজন আগন্তুক আসিয়া বলিল, ইব্‌ন আব্বাস ও ইবনুয যুবায়র (রা) দুইটি মুت'আ সম্পর্কে (হজ্জ ও মুت'আ) বিতর্ক করিতেছেন। জাবির (রা) ইহা শুনিয়া বলিলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সময়ে এইরূপ করিতাম। অতঃপর উমার (রা) আমাদিগকে নিষেধ করিলেন। ইহার পর আমরা আর তাহা করি নাই” (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
উমার (রা) কর্তৃক নিষিদ্ধ করা সম্পর্কে আল্লামা নাওয়াবী বলেন, উমার (রা)-এর নিকট মুত'আ রহিত হইবার সংবাদ পৌঁছিবার পর তাহা হইতে তিনি নিষেধ করিয়াছিলেন (হাশিয়া মুসলিম, ১খ., ৪৫১)। জাবির (রা)-এর রিওয়ায়াতে বিভিন্নতা রহিয়াছে। ইহা ছাড়া যেখানে রাসূলুল্লাহ (স) হইতে নিষিদ্ধ হইবার কথা বর্ণিত হইয়াছে সেখানে জাবির (রা)-এর কথা দ্বারা আবূ বাক্স ও উমার (রা)-এর যুগ পর্যন্ত মুত'আ চালু থাকিবার কথা মানিয়া লওয়া যায় না। এইজন্য ইমাম নাওয়াবী বলিয়াছেন যে, তিনি অজ্ঞাত থাকিবার কারণেই ইহা বলিয়াছেন।
মুত'আ বিবাহ হারাম হইবার ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহ্র ইজমা' হইলেও কখন তাহা হারাম হইয়াছিল সেই সম্পর্কে বিস্তর মতপার্থক্য রহিয়াছে। কেহ বলেন, খায়বার যুদ্ধের সময়, কেহ বলেন উমরাতুল-কাযার সময়, কেহ বলেন মক্কা বিজয়কালে, আবার কেহ কেহ বলেন, আওতাসের যুদ্ধ চলাকালে মুত'আ হারাম হইয়াছিল। কেহ কেহ বিদায় হজ্জের সময় মুت'আ নিষিদ্ধ ঘোষিত হইয়াছিল বলিয়াও অভিমত প্রকাশ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। এই সম্পর্কে হাদীছ বিশারদ আল-মাযিরী (র) বলেন, এই মতভিন্নতার মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নাই। কারণ এই কথার সম্ভাবনা রহিয়াছে যে, মুت'আ সম্পর্কে একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হইয়াছিল নিষেধাজ্ঞার সুদৃঢ়তা প্রমাণের জন্য কিংবা তাহা ব্যাপকভাবে অবগতির জন্য অথবা তাহা প্রথমবার যাহারা শ্রবণ করেন নাই তাহাদিগকে জানানোর উদ্দেশ্যে। কারণ কিছু সংখ্যক বর্ণনাকারী নিষেধাজ্ঞার কথা এক সময় শুনিয়াছিলেন, অন্যরা তাহা শুনিয়াছেন অন্য সময়। প্রত্যেকে তাহা নিজ নিজ শোনামত বর্ণনা করিয়াছেন এবং যিনি যখন শুনিয়াছেন তিনি তখন তাহা বর্ণনা করিয়াছেন (হাশিয়া মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
খায়বারে নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াত হইল : عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَقُولُ لِابْنِ عَبَّاسٍ نَهَى رَسُولَ اللَّهِ عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ أَكْلِ لُحُوْمِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ.
"আলী (রা)-এর পুত্র মুহাম্মাদ তদীয় পিতা আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)-কে ইন আব্বাস (রা)-কে লক্ষ্য করিয়া বলিতে শুনিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে মহিলাদিগের সহিত মুত'আ বিবাহ করিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং গৃহ পালিত গাধার গোস্ত খাইতেও” (বুখারী, ২খ,. ৭৬৭; মুসলিম ১খ., ৪৫২)।
বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াতে ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর উদ্দেশ্যে আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) এইরূপ বলিয়াছিলেন বলিয়া উল্লেখ থাকিলেও শুধু মুসলিমের অপর একটি রিওয়ায়াতে ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর কথার উল্লেখ নাই। রিওয়ায়াতটি হইল: عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّ رَسُولَ الله الله نَهَى عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ اكْلِ لُحُومِ الْحُمُرُ الإِنْسِيَّةِ وَفِي رِوَايَةٍ نَهَى عَنْ نِكَاحِ الْمُتْعَةِ يَومَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الأهلية.
"আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে মহিলাদিগের সহিত মুত'আ করিতে এবং গৃহপালিত গাধার গোস্ত খাইতে নিষেধ করিয়াছেন” (মুসলিম, ১খ., ৪৫২)।
মক্কা বিজয়কালে নিষিদ্ধ হইবার হাদীছটি আর-রাবী' ইব্‌ন সাবরা হইতে বর্ণিত। ইহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথমদিকে মুত'আর অনুমতি ছিল এবং শেষের দিকে তাহা নিষিদ্ধ হইয়াছে (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)। ইহা ছাড়া সাবরা (রা) হইতে আরও বর্ণিত আছে:
عَنْ سَبْرَةَ الْجُهَنِيِّ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِالْمُتْعَةِ عَامَ الْفَتْحِ حِيْنَ دَخَلْنَا مَكَّةَ ثُمَّ لَمْ نَخْرُجْ مِنْهَا حَتَّى نَهَانَا عَنْهَا .
"সাবরা আল-জুহানী (রা) বলেন, আমাদিগকে রাসূলুল্লাহ (স) মক্কা বিজয়ের বৎসর মুত'আ করিবার অনুমতি দিয়াছিলেন, আমরা যখন মক্কায় প্রবেশ করি। অতঃপর মক্কা হইতে বাহির হইবার পূর্বে তিনি ইহা করিতে আমাদিগকে নিষেধ করিলেন” (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
বিদায় হজ্জের দিন নিষিদ্ধ হইবার দলীল হইল:
أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ مِنْ طَرِيقِ الزَّهْرِى قَالَ كُنَّا عِنْدَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَتَذَاكَرْنَا مُتْعَةَ النِّسَاءِ فَقَالَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ رَبِيعُ بْنِ سَبْرَةَ أَشْهَدُ عَلَى أَبِي أَنَّهُ حَدَّثَ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا فِي حَجَّةِ الْدَاعِ.
"আবূ দাউদ যুহরী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, আমরা উমার ইব্‌ন আবদিল আযীয (র)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। আমরা মহিলাদিগের সহিত মুত'আ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করিতেছিলাম। এই প্রেক্ষিতে রাবী' ইব্‌ন সাবরা (রা) নামীয় এক ব্যক্তি বলিলেন, আমি আমার পিতার নিকট ছিলাম। তিনি বর্ণনা করিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) উহা বিদায় হজ্জে নিষেধ করিয়াছিলেন” (হাশিয়া বুখারী, ২খ., ৭৬৬)।
আওতাস যুদ্ধে নিষিদ্ধ হইবার দলীল:
عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلْمَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَامَ أَوْطَاسِ فِي الْمُتْعَةِ ثَلَاثًا ثُمَّ نَهَى عَنْهَا .
"ইয়াস ইব্‌ন সালামা হইতে তাহার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আওতাসের বৎসর তিন দিনের জন্য মুত'আর অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। ইহার পর তিনি উহা নিষিদ্ধ করিয়াছেন (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
'উমরাতুল কাদায় মুত'আ হালাল হইবার দলীল:
رُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ الْبَصَرِي أَنَّهَا مَا حَلَّتْ قَطُّ إِلَّا فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ.
"হাসান আল-বাসরী (র) হইতে বর্ণিত, মুত'আ উমরাতুল-কাদা ছাড়া অন্য কোন সময় হালাল হয় নাই” (নাওয়াবী, হাশিয়া মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
তাবুক যুদ্ধে মুত'আ নিষিদ্ধ হইবার দলীল:
أَخْرَجَ الإِمَامُ الْحَازَ مِی بِاسْنَادِهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِي يَقُولُ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ إِلى غَزْوَةِ تَبُوكَ حَتَّى إِذَا كُنَّا عِنْدَ الْعَقَبَةِ مِمَّا يَلِيُّ الشَّامِ جِئْنَ نِسَوَّةٌ فَذَكَرْنَا تَمَتَّعْنَ وَهُنَّ يُجِئْنَ فِي رِحَالَنَا أَوْقَالَ يَطْفْنَ فِي رِحَالَنَا فَجَاءَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَنَظَرَ الَيْهِنَّ فَقُمْنَ هُؤُلاءِ النِّسْوَةُ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ نِسْوَةٌ تَمَتَّعْنَا مِنْهُنَّ فَغَضِبَ رَسُولُ اللهِ ﷺ حَتَّى احْمَرَّتْ وَجْنَتَاهُ وَتَغَيَّرَ لَونُهُ وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ وَقَامَ فِينَا خَطِيبًا فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ نَهَى عَنِ الْمُتْعَةِ فَتَوَادَعْنَا يَوْمَئِذٍ الرَّحَالَ وَلَمْ نُعِدْ وَلَا نَعُودُ لَهَا أَبَداً .
"ইমাম আল-হাযিমী তাঁহার সূত্রে জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ আল-আনসারী (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত তাবুক যুদ্ধে রওয়ানা করিলাম। আমরা যখন সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী গিরিপথে উপনীত হইলাম তখন কিছু সংখ্যক স্ত্রীলোক আগমন করিল। আমরা আলোচনা করিলাম যে, এই সকল স্ত্রীলোক মুت'আ করিবে। ইহারা আমাদের তাঁবুর আশেপাশে ঘোরাফেরা করিতেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের নিকট আসিয়া এই স্ত্রীলোকদিগের দিকে তাকাইলেন। ইহারা উঠিয়া দাঁড়াইল। আমরা আরয করিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই সকল নারীর সহিত আমরা মুت'আ করিয়াছি। ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুবারক গণ্ডদ্বয় রক্তিমাভ হইয়া গেল এবং তাঁহার চেহারা বিবর্ণ হইয়া গেল। তিনি অধিক রাগান্বিত হইয়া গেলেন। অতঃপর আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দাঁড়াইয়া আল্লাহ্র প্রশংসা করিলেন, ইহার পর মুت'আ করিতে নিষেধ করিলেন। ঐদিন হইতে আমরা মুত'আ করিবার তাঁবুসমূহ পরিহার করিলাম। সেই দিকে আর কোন দিন ফিরিয়া যাই নাই এবং আর কখনও যাইব না" (ইদরীস কানধলাবী, হাশিয়া সীরাতিল মুসতাফা, ২খ., পৃ. ১২৭)।
অনুরূপ আবদুল্লাহ তাহার পিতা মুহাম্মাদ হইতে তিনি নিজ পিতা 'আলী (রা) হইতে তাবুক যুদ্ধে মুت'আ হারাম হওয়া সংক্রান্ত একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। এসম্পর্কে নাওয়াবী বলেন, ইহা একটি ভুল তথ্য, অন্য কেহ এই বর্ণনা স্বীকার করেন নাই (হাশিয়া মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
পরস্পর বিরোধী এই রিওয়ায়াতসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ব্যাপারে হাদীছবেত্তাগণ নিজস্ব দৃষ্টিকোণ হইতে বিস্তর আলোচনা করিয়াছেন। আল-মাযিরীর কথা পূর্বেই উল্লেখ করা হইয়াছে যে, তিনি এই সকল বর্ণনার বিভিন্নতাকে পরস্পর বিরোধী মনে করেন না; বরং তিনি বলিয়াছেন, সময় সময় এই নিষিদ্ধের ঘোষণা মুত'আ বিবাহের অবৈধতাকে সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে ও সর্বত্র ইহা প্রসারের উদ্দেশ্যে ছিল।
কাযী ইয়াদ বলেন, একদল সাহাবী বিভিন্ন সময় মুت'আ বৈধ হইবার হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। তাহা হইতে আবদুল্লাহ ইবন মাস'ঊদ, আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'আব্বাস, জাবির, সালামা ইবনুল আকওয়া ও সাবরা ইন্ন মা'বাদ আল-জুহানী (রা)-এর রিওয়ায়াত ইমাম মুসলিম বর্ণনা করিয়াছেন। ইবন উমার (রা)-এর হাদীছ হইতে জানা যায়, তিনি বলিয়াছেন, নেহায়েত প্রয়োজনের সময় যেইভাবে মৃতপ্রাণী ভক্ষণ করা বৈধ হয় সেই প্রকার প্রয়োজনের মুহূর্তে মুت'আ করিবার অনুমতি ছিল। ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। পরস্পর বিরোধী হাদীছের সমাধানকল্পে কাযী ইয়াদ আরও বলেন, সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) হইতে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, মুت'আ আওতাস যুদ্ধে বৈধ ছিল। অপরদিকে সাবরা ইন্ন মা'বাদ আল-জুহানী (রা)-এর রিওয়ায়াতে আছে যে, মুت'আ মক্কা বিজয় দিবসে হালাল ছিল। এই দুইটি একই ঘটনা। অতঃপর তাহা এই সময়ই হারাম ঘোষিত হয়। 'আলী (রা)-এর বিওয়ায়াতে আসিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) মুت'আ খায়বারে নিষিদ্ধ করিয়াছিলেন। ইহা মক্কা বিজয়ের পূর্বেকার ঘটনা। আবূ দাউদের হাদীছে আসিয়াছে যাহা রাবী' কর্তৃক তাহার পিতা সাবরা (রা) হইতে বর্ণিত, মুত'আর নিষেধাজ্ঞা বিদায় হজ্জে ঘোষিত হইয়াছিল। আবূ দাউদ এই রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করিবার পর বলেন, এই ব্যাপারে যত হাদীছ বর্ণিত হইয়াছে সেইগুলির মধ্যে ইহা সর্বাধিক শুদ্ধ। সাবরা (রা) হইতে এরূপ বর্ণিত আছে যে, বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স) উহা চূড়ান্তাভাবে হারাম ঘোষণা করিয়াছেন। ইহা ছিল পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞার পুনরাবৃত্তি। কারণ দিনটি ছিল মহামিলনের দিন যাহাতে উপস্থিত লোকজন অনুপস্থিতদের নিকট বার্তা পৌছাইয়া দেয়। দীন পরিপূর্ণতা লাভের ঘোষণা বিদায় হজ্জে দেওয়া হইয়াছিল। খায়বার দিবসে মুত'আ নিষিদ্ধ হইবার হাদীছটি সহীহ। ইহাতে দ্বিমতের কিছুই নাই। সুতরাং উমরাতুল কাদা, মক্কাবিজয় দিবস ও আওতাসের যুদ্ধের দিনের নিষেধাজ্ঞা হইল ইহার পুনরাবৃত্তিমাত্র। এই ক্ষেত্রে 'আলী (রা) হইতে সুফ্যান ইব্‌ন উয়ায়না-র রিয়ায়াতটি উল্লেখ করা যায়:
(۱) إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ حَرَّمَ لُحُومَ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَحَرَّمَ مُتْعَةَ النِّسَاءِ. (۲) حَرَّمَ مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَحَرَّمَ لُحُومَ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ يَوْمَ خَيْبَرَ.
এই সম্পর্কে অনেকে বলিয়াছেন, বর্ণনাটিতে মুত'আ ও গৃহপালিত গাধার গোশতের মধ্যে ছেদ রহিয়াছে। ইহার অর্থ হইল মুত'আ-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হইয়াছে, তবে তাহা কোন সময় ইহার উল্লেখ করা হয় নাই। পক্ষান্তরে গৃহপালিত গাধার গোস্ত খায়বারে রাসূলুল্লাহ (স) নিষিদ্ধ করিয়াছেন। ইহা হইতে কেহ কেহ মনে করেন, খায়বার দিবসে গৃহপালিত গাধার গোল্ড বিশেষভাবে নিষিদ্ধ হইয়াছিল। ইহা মুত'আ নিষিদ্ধ হইবার দিন নহে। মুت'আ-র নিষেধাজ্ঞা মক্কায় হইয়াছিল এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খায়বারে। একাধিকবার বৈধ হইবার সম্পর্কে যেই সকল রিওয়ায়াত আছে তাহা সম্পর্কে বলা হয় যে, নিষেধ করিবার পরও নবী কারীম (স) প্রয়োজনের সময় তাহা বৈধ করিয়াছিলেন। খায়বার ও উমরাতুল কাদার পর মক্কা বিজয়ের দিন আবার তাহা বৈধ করা হইয়াছিল। অতঃপর এই দিবসেই চিরকালের জন্য তাহা হারাম ঘোষিত হইয়াছিল। বিদায় হজ্জের দিন তাগিদার্থে এবং ব্যাপক প্রচারের উদ্দেশ্যে আবার তাহা নিষিদ্ধ ঘোষিত হইয়াছিল। এই প্রসংগে ইমাম নাওয়াবী বলেন:
"গ্রহণযোগ্য সঠিক অভিমত হইল, অবৈধ ও বৈধের ঘোষণা দুই দুইবার হইয়াছিল। খায়বারের পূর্বে মুত'আ বৈধ ছিল। অতঃপর খায়বার দিবসেই তাহা হারাম ঘোষিত হয়। আবার মক্কা বিজয়ের সময়ে বৈধ ঘোষিত হয়। এই সময়েই আওতাস যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তিন দিন পর পুনরায় তাহা চিরদিনের জন্য অবৈধ ঘোষিত হয়” (হাশিয়া মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
আল্লামা ইব্‌ন কায়্যিম আল-জাওযিয়্যা দ্বিমত পোষণ করিয়া বলেন, খায়বারে মুت'আ নিষিদ্ধ হয় নাই, মক্কা বিজয় দিবসে তাহা নিষিদ্ধ হইয়াছিল। ইহাই বিশুদ্ধ অভিমত। তিনি বলেন, মুت'আ খায়বারে নিষিদ্ধ হইবার মতানুসারিগণ যখন দেখিতে পাইলেন, রাসূলুল্লাহ (স) মক্কা বিজয় দিবসে ইহার অনুমতি প্রদান করিয়াছেন, তখন তাহারা বলিতে লাগিলেন, মুت'আর আদেশ দুইবার রহিত হইয়াছিল। একবার খায়বারে আর একবার অনুমতি দানের পর মক্কা বিজয় দিবসে। এই অভিমতকে খণ্ডন করিতে ইব্‌ন কায়্যিম ও তাহার অনুগামীরা বলেন, মক্কা বিজয় ছাড়া অন্য কোন সময় মুت'আ-কে নিষিদ্ধ করা হয় নাই। তাঁহারা 'আলী (রা)-এর হাদীছ সম্পর্কে বলেন, ইবন 'আব্বাস (রা) মুত'আ ও গৃহপালিত গাধার গোশত বৈধ মনে করিতেন। তাঁহার এই বিশ্বাসকে দূরীভূত করিবার উদ্দেশ্যে আলী (রা) মুت'আ ও গৃহপালিত গাধার গোশতের কথা একত্রে উল্লেখ করিয়াছেন। প্রকৃতপক্ষে গাধার গোশ্ত খায়বারে নিষিদ্ধ হইয়াছিল এবং মুت'আ নিষিদ্ধ হইবার সময়টি উহ্য রহিয়াছে (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। ইব্‌ن কায়্যিম এই অভিমতের পক্ষে সুফ্য়ান ইব্‌ن উয়ায়না-এর সনদে বর্ণিত 'আলী (রা)-এর হাদীছটি উল্লেখ করেন:
(۱) إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ حَرَّمَ لُحُومَ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَحَرَّمَ مُتْعَةَ النِّسَاءِ. (۲) حَرَّمَ مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَحَرَّمَ لُحُومَ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ يَوْمَ خَيْبَرَ.
অতঃপর ইব্‌ন কায়্যিম বলেন, 'আলী (را)-এর একত্রে উল্লেখ করাতে কিছু সংখ্যক বর্ণনাকারী ভাবিয়াছেন যে, খায়বারে গৃহপালিত গাধার গোশ্ত ও মুت'আ নিষিদ্ধ হইয়াছিল। ফলে তাহারা তাহাদের বর্ণনায় দুইটি জিনিসের নিষিদ্ধ হইবার কথাটি যুক্ত করিয়াছেন। প্রকৃত ঘটনা হইল, খায়বার যুদ্ধের সময় সাহাবায়ে কিরাম ইয়াহুদী মহিলাদিগের সহিত মুت'আয় লিপ্ত হন নাই। এই ব্যাপারে তাঁহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট কোন অনুমতিও প্রার্থনা করেন নাই। এইরূপ কিছু ঘটিয়াছিল বলিয়া কোন রিওয়ায়তও নাই। পক্ষান্তরে মক্কা বিজয়কালে মুت'আ করিবার ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিলেন। তাঁহাদিগকে অনুমতিও প্রদান করা হইয়াছিল। সর্বশেষে নবী (س) তাঁহাদিগকে ইহা হইতে নিষেধ করিয়াছিলেন (যাদুল মাআদ, ২খ., ১৪২)।
আল্লামা ইদরীস কানধলাবী বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মদ ও সূদ প্রথার ন্যায় অনেক জিনিস পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। মুت'আও সেইরূপ একটি বিষয়। জাহিলিয়্যা যুগের প্রথা অনুসারে ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুت'আর প্রচলন ছিল। খায়বারের যুদ্ধ হইতে আরম্ভ করিয়া ক্রমে ক্রমে তাহা নিষিদ্ধ হইতে থাকে। মক্কা বিজয়কালে নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। পরে তাবুক যুদ্ধে তিনি পুনরায় মুت'আ নিষিদ্ধ ঘোষণা করিলেন। অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইহার পর আমরা আর কোন দিন মুত'আ করি নাই (সীরাতুল মুসতাফা, ২খ., পৃ. ১২৬-১২৭)।
'উমার (রা)-এর খিলাফাতকালে মুত'আ হারাম হইবার কথা না জানার কারণে কিছু সংখ্যক লোক মুত'আ বৈধ মনে করিত। উমার ফারূক (রা) তাহা অবগত হইয়া রাগিয়া গেলেন, অতঃপর মিম্বারে দাঁড়াইয়া মুت'আ হারাম হইবার কথা জানাইয়া ভাষণ দিলেন। ঘোষণা করিলেন, এই ভাষণের পর আর কেহ মুت'আ করিলে তাহাকে যেনার দণ্ডে দণ্ডিত করা হইবে। তখন হইতে মুতআ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হইয়া গেল। ইহার উপর এই ব্যাপারে সকল সাহাবীর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয় (প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৮)।

عَنْ عَطَاء قَالَ قَدِمَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ مُعْتَمِرًا فَجِيْنَاهُ فِي مَنَازِلِهِ فَسَالَهُ الْقَوْمُ عَنْ أَشْيَاء ثُمَّ ذَكَرُوا الْمُتْعَةَ فَقَالَ نَعَمْ اسْتَمْتَعْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ. "আতা বলেন, জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা) 'উমরা পালন করিতে আসিলে পর আমরা তাঁহার অবস্থানস্থলে গমন করিলাম। লোকজন তাঁহাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। এক পর্যায় মুت'আ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হইলে তিনি বলিলেন, হাঁ, আমরা রাসূলুল্লাহ (স), আবূ বাক্স ও উমার (রা)-এর যুগে মুت'আ করিতাম” (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
জাবির (রা)-এর এই উক্তি সম্পর্কে আল্লামা নাওয়াবী বলেন, আবূ বাক্স ও 'উমার (রা)-এর যুগে মুত'আ করার কথা বলার কারণ হইল, তাঁহার নিকট মুت'আ ইহার পূর্বে রহিত হইবার কথা পৌঁছে নাই।
أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ كُنَّا نَسْتَمْتِعُ بِالْقَبْضَةِ مِنَ التَّمْرِ وَالدَّقِيقِ الأَيَّامَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَأَبِي بَكْرٍ حَتَّى نَهَى عَنْهُ عُمَرُ فِي شَأْنِ عَمْرِو بن حريث. "আবুষ যুবায়র বলেন, আমি জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমরা এক মুষ্টি শুকনা খেজুর ও ছাতু দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) ও আবূ বাক্স (রা)-এর যুগে কয়েক দিনের জন্য মুত'আ করিতাম। অতঃপর 'উমার (রা) আমর ইবন হুরায়ছের ব্যাপারে তাহা নিষেধ করিলেন" (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
عَنْ أَبِي نَضْرَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَأَتَاهُ أَن فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسِ وَابْنُ الزُّبَيْرِ اخْتَلَفَا فِي الْمُتْعَتَيْنِ فَقَالَ جَابِرٌ فَعَلْنَاهُمَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ ثُمَّ نَهَانَا عَنْهُمَا عُمَرُ فَلَمْ نُعدْ لَهُمَا . "আবূ নাদরা বলেন, আমি জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় একজন আগন্তুক আসিয়া বলিল, ইব্‌ন আব্বাস ও ইবনুয যুবায়র (রা) দুইটি মুত'আ সম্পর্কে (হজ্জ ও মুত'আ) বিতর্ক করিতেছেন। জাবির (রা) ইহা শুনিয়া বলিলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সময়ে এইরূপ করিতাম। অতঃপর উমার (রা) আমাদিগকে নিষেধ করিলেন। ইহার পর আমরা আর তাহা করিয়া নাই” (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
উমার (রা) কর্তৃক নিষিদ্ধ করা সম্পর্কে আল্লামা নাওয়াবী বলেন, উমার (রা)-এর নিকট মুত'আ রহিত হইবার সংবাদ পৌঁছিবার পর তাহা হইতে তিনি নিষেধ করিয়াছিলেন (হাশিয়া মুসলিম, ১খ., ৪৫১)। জাবির (রা)-এর রিওয়ায়াতে বিভিন্নতা রহিয়াছে। ইহা ছাড়া যেখানে রাসূলুল্লাহ (স) হইতে নিষিদ্ধ হইবার কথা বর্ণিত হইয়াছে সেখানে জাবির (রা)-এর কথা দ্বারা আবূ বাক্স ও উমার (রা)-এর যুগ পর্যন্ত মুত'আ চালু থাকিবার কথা মানিয়া লওয়া যায় না। এইজন্য ইমাম নাওয়াবী বলিয়াছেন যে, তিনি অজ্ঞাত থাকিবার কারণেই ইহা বলিয়াছেন।

عَنْ عَطَاء قَالَ قَدِمَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ مُعْتَمِرًا فَجِيْنَاهُ فِي مَنَازِلِهِ فَسَالَهُ الْقَوْمُ عَنْ أَشْيَاء ثُمَّ ذَكَرُوا الْمُتْعَةَ فَقَالَ نَعَمْ اسْتَمْتَعْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ. "আতা বলেন, জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা) 'উমরা পালন করিতে আসিলে পর আমরা তাঁহার অবস্থানস্থলে গমন করিলাম। লোকজন তাঁহাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। এক পর্যায় মুত'আ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হইলে তিনি বলিলেন, হাঁ, আমরা রাসূলুল্লাহ (স), আবূ বাক্স ও উমার (রা)-এর যুগে মুত'আ করিতাম” (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
জাবির (রা)-এর এই উক্তি সম্পর্কে আল্লামা নাওয়াবী বলেন, আবূ বাক্স ও 'উমার (রা)-এর যুগে মুত'আ করার কথা বলার কারণ হইল, তাঁহার নিকট মুত'আ ইহার পূর্বে রহিত হইবার কথা পৌঁছে নাই।
أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ كُنَّا نَسْتَمْتِعُ بِالْقَبْضَةِ مِنَ التَّمْرِ وَالدَّقِيقِ الأَيَّامَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَأَبِي بَكْرٍ حَتَّى نَهَى عَنْهُ عُمَرُ فِي شَأْنِ عَمْرِو بن حريث. "আবুষ যুবায়র বলেন, আমি জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমরা এক মুষ্টি শুকনা খেজুর ও ছাতু দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) ও আবূ বাক্স (রা)-এর যুগে কয়েক দিনের জন্য মুত'আ করিতাম। অতঃপর 'উমার (রা) আমর ইবন হুরায়ছের ব্যাপারে তাহা নিষেধ করিলেন" (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
عَنْ أَبِي نَضْرَةَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَأَتَاهُ أَن فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسِ وَابْنُ الزُّبَيْرِ اخْتَلَفَا فِي الْمُتْعَتَيْنِ فَقَالَ جَابِرٌ فَعَلْنَاهُمَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ ثُمَّ نَهَانَا عَنْهُمَا عُمَرُ فَلَمْ نُعدْ لَهُمَا . "আবূ নাদরা বলেন, আমি জাবির ইব্‌ন আবদিল্লাহ (রা)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় একজন আগন্তুক আসিয়া বলিল, ইব্‌ন আব্বাস ও ইবনুয যুবায়র (রা) দুইটি মুত'আ সম্পর্কে (হজ্জ ও মুত'আ) বিতর্ক করিতেছেন। জাবির (রা) ইহা শুনিয়া বলিলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সময়ে এইরূপ করিতাম। অতঃপর উমার (রা) আমাদিগকে নিষেধ করিলেন। ইহার পর আমরা আর তাহা করি নাই” (মুসলিম, ১খ., ৪৫১)।
উমার (রা) কর্তৃক নিষিদ্ধ করা সম্পর্কে আল্লামা নাওয়াবী বলেন, উমার (রা)-এর নিকট মুত'আ রহিত হইবার সংবাদ পৌঁছিবার পর তাহা হইতে তিনি নিষেধ করিয়াছিলেন (হাশিয়া মুসলিম, ১খ., ৪৫১)। জাবির (রা)-এর রিওয়ায়াতে বিভিন্নতা রহিয়াছে। ইহা ছাড়া যেখানে রাসূলুল্লাহ (স) হইতে নিষিদ্ধ হইবার কথা বর্ণিত হইয়াছে সেখানে জাবির (রা)-এর কথা দ্বারা আবূ বাক্স ও উমার (রা)-এর যুগ পর্যন্ত মুত'আ চালু থাকিবার কথা মানিয়া লওয়া যায় না। এইজন্য ইমাম নাওয়াবী বলিয়াছেন যে, তিনি অজ্ঞাত থাকিবার কারণেই ইহা বলিয়াছেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইসলামের প্রাথমিক যুগের মুত'আ

📄 ইসলামের প্রাথমিক যুগের মুত'আ


মুত'আ শব্দটি مُتْعَة ক্রিয়ামূল হইতে নির্গত, যাহার অর্থ সামান্য উপকার। তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে যে পরিধেয় বস্ত্র দেওয়া হয় তাহাকেও মুت'আ বলা হয়। কারণ তাহা মাহরের তুলনায় অতি সামান্য। আলোচ্য মুت'আ বিবাহ দুই অর্থে হয়। এক, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাক্ষিগণের সম্মুখে কোন স্ত্রীলোকের সহিত দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। মেয়াদ উত্তীর্ণ হইলে এইরূপ সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়া যায়। তবে বিচ্ছেদ ঘটিবার পর একটি ঋতুস্রাবের অপেক্ষা করিতে হয় যাহাতে স্ত্রীলোকটি সন্তান-সম্ভবা হইয়াছে কিনা তাহার সম্পর্কে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। দুই, কোন লোক কোন মেয়েলোককে বলিল, আমি তোমার সহিত একদিন বা দুইদিন বাস করিব। এই দিনগুলিতে মিলনের বিনিময়ে আমি তোমাকে এই পরিমাণ পারিশ্রমিক দিব।
প্রথম প্রকার মুت'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে জায়েয ছিল। কিন্তু পরবর্তী কালে তাহা চিরদিনের জন্য হারাম হইয়া যায়। দ্বিতীয় প্রকার মুত'আ হইল স্পষ্ট যেনা। ইহা ইসলামে কোন -সময়ই বৈধ ছিল না। অন্যান্য ধর্মেও তাহা বৈধ ছিল না। কারণ সুস্পষ্ট যেনা কোন ধর্মেই স্বীকৃত নয়। প্রথম প্রকার মুত'আয় সাক্ষীর প্রয়োজন ছিল, এমনকি তাহাতে অভিভাবকের অনুমতিও লইতে হইত। বিচ্ছেদ ঘটিবার পর অন্যের সহিত এইরূপ কোন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করিতে একটি হায়েযেরও অপেক্ষা করিতে হইত। এই কারণে ইহাকে স্পষ্ট যেনা বলা যাইত না। অপরদিকে ইহা বিবাহের আওতায়ও পড়ে না বরং ইহা তৃতীয় একটি ব্যবস্থা ছিল। মুت'আ বিবাহের দরুন মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়া যাইত না (সীরাতুল মুস্তাফা, ১২৯)।

মুত'আ শব্দটি مُتْعَة ক্রিয়ামূল হইতে নির্গত, যাহার অর্থ সামান্য উপকার। তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে যে পরিধেয় বস্ত্র দেওয়া হয় তাহাকেও মুত'আ বলা হয়। কারণ তাহা মাহরের তুলনায় অতি সামান্য। আলোচ্য মুত'আ বিবাহ দুই অর্থে হয়। এক, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাক্ষিগণের সম্মুখে কোন স্ত্রীলোকের সহিত দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। মেয়াদ উত্তীর্ণ হইলে এইরূপ সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়া যায়। তবে বিচ্ছেদ ঘটিবার পর একটি ঋতুস্রাবের অপেক্ষা করিতে হয় যাহাতে স্ত্রীলোকটি সন্তান-সম্ভবা হইয়াছে কিনা তাহার সম্পর্কে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। দুই, কোন লোক কোন মেয়েলোককে বলিল, আমি তোমার সহিত একদিন বা দুইদিন বাস করিব। এই দিনগুলিতে মিলনের বিনিময়ে আমি তোমাকে এই পরিমাণ পারিশ্রমিক দিব।
প্রথম প্রকার মুت'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে জায়েয ছিল। কিন্তু পরবর্তী কালে তাহা চিরদিনের জন্য হারাম হইয়া যায়। দ্বিতীয় প্রকার মুত'আ হইল স্পষ্ট যেনা। ইহা ইসলামে কোন -সময়ই বৈধ ছিল না। অন্যান্য ধর্মেও তাহা বৈধ ছিল না। কারণ সুস্পষ্ট যেনা কোন ধর্মেই স্বীকৃত নয়। প্রথম প্রকার মুত'আয় সাক্ষীর প্রয়োজন ছিল, এমনকি তাহাতে অভিভাবকের অনুমতিও লইতে হইত। বিচ্ছেদ ঘটিবার পর অন্যের সহিত এইরূপ কোন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করিতে একটি হায়েযেরও অপেক্ষা করিতে হইত। এই কারণে ইহাকে স্পষ্ট যেনা বলা যাইত না। অপরদিকে ইহা বিবাহের আওতায়ও পড়ে না বরং ইহা তৃতীয় একটি ব্যবস্থা ছিল। মুত'আ বিবাহের দরুন মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়া যাইত না (সীরাতুল মুসতাফা, ১২৯)।

মুত'আ শব্দটি مُتْعَة ক্রিয়ামূল হইতে নির্গত, যাহার অর্থ সামান্য উপকার। তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে যে পরিধেয় বস্ত্র দেওয়া হয় তাহাকেও মুত'আ বলা হয়। কারণ তাহা মাহরের তুলনায় অতি সামান্য। আলোচ্য মুত'আ বিবাহ দুই অর্থে হয়। এক, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাক্ষিগণের সম্মুখে কোন স্ত্রীলোকের সহিত দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। মেয়াদ উত্তীর্ণ হইলে এইরূপ সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়া যায়। তবে বিচ্ছেদ ঘটিবার পর একটি ঋতুস্রাবের অপেক্ষা করিতে হয় যাহাতে স্ত্রীলোকটি সন্তান-সম্ভবা হইয়াছে কিনা তাহার সম্পর্কে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। দুই, কোন লোক কোন মেয়েলোককে বলিল, আমি তোমার সহিত একদিন বা দুইদিন বাস করিব। এই দিনগুলিতে মিলনের বিনিময়ে আমি তোমাকে এই পরিমাণ পারিশ্রমিক দিব।
প্রথম প্রকার মুত'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে জায়েয ছিল। কিন্তু পরবর্তী কালে তাহা চিরদিনের জন্য হারাম হইয়া যায়। দ্বিতীয় প্রকার মুত'আ হইল স্পষ্ট যেনা। ইহা ইসলামে কোন -সময়ই বৈধ ছিল না। অন্যান্য ধর্মেও তাহা বৈধ ছিল না। কারণ সুস্পষ্ট যেনা কোন ধর্মেই স্বীকৃত নয়। প্রথম প্রকার মুত'আয় সাক্ষীর প্রয়োজন ছিল, এমনকি তাহাতে অভিভাবকের অনুমতিও লইতে হইত। বিচ্ছেদ ঘটিবার পর অন্যের সহিত এইরূপ কোন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করিতে একটি হায়েযেরও অপেক্ষা করিতে হইত। এই কারণে ইহাকে স্পষ্ট যেনা বলা যাইত না। অপরদিকে ইহা বিবাহের আওতায়ও পড়ে না বরং ইহা তৃতীয় একটি ব্যবস্থা ছিল। মুত'আ বিবাহের দরুন মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়া যাইত না (সীরাতুল মুস্তাফা, ১২৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00