📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবুল ইয়াসারের ঘটনা

📄 আবুল ইয়াসারের ঘটনা


ইবন ইসহাক আবুল ইয়াসার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, আল্লাহ্র শপথ! এক সন্ধ্যায় খায়বারে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় জনৈক ইয়াহুদীর ছাগলের পাল দুর্গের দিকে যাওয়ার পথে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে পড়িল। এই সময় আমরা ইয়াহুদীদিগকে অবরোধ করিয়া রাখিয়াছিলাম। ছাগলগুলিকে দেখিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই ছাগলগুলি হইতে কে আমাদিগকে আহার করাইবে। আবুল ইয়াসার বলেনঃ আমি বলিলাম, আমি পারিব, হে আল্লাহ্র রাসূল! রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে ইহা বাস্তবায়নের আদশ দিলেন। অতঃপর আমি উট পাখির মত দ্রুতবেগে ছুটিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে দৌঁড়াইতে দেখিয়া বলিলেন, اللهم أمتعنا به (হে আল্লাহ! আমাদিগকে তাহার দ্বারা উপকৃত কর)। আবুল ইয়াসার বলেন, এমন সময় আমি ছাগলগুলির নাগাল পাই যখন পালের প্রথম ছাগল দুর্গের ভিতর ঢুকিয়া পড়িয়াছিল। আমি পালের পিছনের দুইটি ছাগল ধরিয়া বগলদাবা করিয়া এমনভাবে দৌঁড়াইয়া চলিয়া আসিলাম যেন আমার কাছে কিছুই নাই। ছাগল দুইটি আনিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতে পেশ করিলাম। লোকজন তাহা যবেহ করিল এবং সবাই মিলিয়া তাহা ভক্ষণ করিলাম। আবুল ইয়াসার রাসূলুল্লাহ (স)-এর বদরী সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষে ইন্তেকাল করেন (৫৫ হি.)। পরবর্তীতে তিনি এই ঘটনা বর্ণনাকালে কাঁদিতেন (আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, পৃ. ২৩১)।

ইবন ইসহাক আবুল ইয়াসার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, আল্লাহ্র শপথ! এক সন্ধ্যায় খায়বারে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় জনৈক ইয়াহুদীর ছাগলের পাল দুর্গের দিকে যাওয়ার পথে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে পড়িল। এই সময় আমরা ইয়াহুদীদিগকে অবরোধ করিয়া রাখিয়াছিলাম। ছাগলগুলিকে দেখিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই ছাগলগুলি হইতে কে আমাদিগকে আহার করাইবে। আবুল ইয়াসার বলেনঃ আমি বলিলাম, আমি পারিব, হে আল্লাহ্র রাসূল! রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে ইহা বাস্তবায়নের আদশ দিলেন। অতঃপর আমি উট পাখির মত দ্রুতবেগে ছুটিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে দৌঁড়াইতে দেখিয়া বলিলেন, اللهم أمتعنا به (হে আল্লাহ! আমাদিগকে তাহার দ্বারা উপকৃত কর)। আবুল ইয়াসার বলেন, এমন সময় আমি ছাগলগুলির নাগাল পাই যখন পালের প্রথম ছাগল দুর্গের ভিতর ঢুকিয়া পড়িয়াছিল। আমি পালের পিছনের দুইটি ছাগল ধরিয়া বগলদাবা করিয়া এমনভাবে দৌঁড়াইয়া চলিয়া আসিলাম যেন আমার কাছে কিছুই নাই। ছাগল দুইটি আনিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতে পেশ করিলাম। লোকজন তাহা যবেহ করিল এবং সবাই মিলিয়া তাহা ভক্ষণ করিলাম। আবুল ইয়াসার রাসূলুল্লাহ (স)-এর বদরী সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষে ইন্তেকাল করেন (৫৫ হি.)। পরবর্তীতে তিনি এই ঘটনা বর্ণনাকালে কাঁদিতেন (আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, পৃ. ২৩১)।

ইবন ইসহাক আবুল ইয়াসার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, আল্লাহ্র শপথ! এক সন্ধ্যায় খায়বারে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় জনৈক ইয়াহুদীর ছাগলের পাল দুর্গের দিকে যাওয়ার পথে রাসূলুল্লাহ (س)-এর সামনে পড়িল। এই সময় আমরা ইয়াহুদীদিগকে অবরোধ করিয়া রাখিয়াছিলাম। ছাগলগুলিকে দেখিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই ছাগলগুলি হইতে কে আমাদিগকে আহার করাইবে। আবুল ইয়াসার বলেনঃ আমি বলিলাম, আমি পারিব, হে আল্লাহ্র রাসূল! রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে ইহা বাস্তবায়নের আদশ দিলেন। অতঃপর আমি উট পাখির মত দ্রুতবেগে ছুটিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে দৌঁড়াইতে দেখিয়া বলিলেন, اللهم أمتعنا به (হে আল্লাহ! আমাদিগকে তাহার দ্বারা উপকৃত কর)। আবুল ইয়াসার বলেন, এমন সময় আমি ছাগলগুলির নাগাল পাই যখন পালের প্রথম ছাগল দুর্গের ভিতর ঢুকিয়া পড়িয়াছিল। আমি পালের পিছনের দুইটি ছাগল ধরিয়া বগলদাবা করিয়া এমনভাবে দৌঁড়াইয়া চলিয়া আসিলাম যেন আমার কাছে কিছুই নাই। ছাগল দুইটি আনিয়া রাসূলুল্লাহ (س)-এর খেদমতে পেশ করিলাম। লোকজন তাহা যবেহ করিল এবং সবাই মিলিয়া তাহা ভক্ষণ করিলাম। আবুল ইয়াসার রাসূলুল্লাহ (স)-এর বদরী সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষে ইন্তেকাল করেন (৫৫ হি.)। পরবর্তীতে তিনি এই ঘটনা বর্ণনাকালে কাঁদিতেন (আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, পৃ. ২৩১)।

ইবন ইসহাক আবুল ইয়াসার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, আল্লাহ্র শপথ! এক সন্ধ্যায় খায়বারে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় জনৈক ইয়াহুদীর ছাগলের পাল দুর্গের দিকে যাওয়ার পথে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে পড়িল। এই সময় আমরা ইয়াহুদীদিগকে অবরোধ করিয়া রাখিয়াছিলাম। ছাগলগুলিকে দেখিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই ছাগলগুলি হইতে কে আমাদিগকে আহার করাইবে। আবুল ইয়াসার বলেনঃ আমি বলিলাম, আমি পারিব, হে আল্লাহ্র রাসূল! রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে ইহা বাস্তবায়নের আদশ দিলেন। অতঃপর আমি উট পাখির মত দ্রুতবেগে ছুটিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে দৌঁড়াইতে দেখিয়া বলিলেন, اللهم أمتعنا به (হে আল্লাহ! আমাদিগকে তাহার দ্বারা উপকৃত কর)। আবুল ইয়াসার বলেন, এমন সময় আমি ছাগলগুলির নাগাল পাই যখন পালের প্রথম ছাগল দুর্গের ভিতর ঢুকিয়া পড়িয়াছিল। আমি পালের পিছনের দুইটি ছাগল ধরিয়া বগলদাবা করিয়া এমনভাবে দৌঁড়াইয়া চলিয়া আসিলাম যেন আমার কাছে কিছুই নাই। ছাগল দুইটি আনিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতে পেশ করিলাম। লোকজন তাহা যবেহ করিল এবং সবাই মিলিয়া তাহা ভক্ষণ করিলাম। আবুল ইয়াসার রাসূলুল্লাহ (স)-এর বদরী সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষে ইন্তেকাল করেন (৫৫ হি.)। পরবর্তীতে তিনি এই ঘটনা বর্ণনাকালে কাঁদিতেন (আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, পৃ. ২৩১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খায়বার বিজয় ও কতিপয় ফিকহী বিধান

📄 খায়বার বিজয় ও কতিপয় ফিকহী বিধান


খায়বার যুদ্ধ হইতে কতিপয় ফিকহী বিধান উদ্ভূত হইয়াছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল:
১। মুখাবারা (বর্গা প্রথা): এই যুদ্ধে অনেক ভূখণ্ড বিজিত হইয়াছিল। এই সকল জমি খায়বারবাসীদিগকে ফসলের ভাগের উপর চাষাবাদ করিতে দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে ফসল উৎপাদনের জন্য বীজ সরবরাহ করিয়াছিলেন বলিয়া কোন রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে বীজ এবং শ্রম খায়বারবাসিগণই প্রদান করিয়াছিল এবং ভূমি ছিল মুসলমানগণের। ইহা দ্বারা বুঝা গেল যে, বর্গা প্রথায় ভূমির মালিকের বীজ সরবরাহ করা জরুরী নয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৪)।
২। ইবন ইসহাক মাকতুল সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধের সময় চারিটি বিষয় নিষিদ্ধ করা হয়। প্রথমত, অন্তঃসত্তা যুদ্ধবন্দী মহিলাদের সাথে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত সহবাস করা নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়ত, গৃহপালিত গাধার গোস্ত ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ। তৃতীয়ত, হিংস্র জন্তুর গোস্ত খাওয়া যাইবে না। চতুর্থত, গনীমতের সম্পদ বণ্টিত হইবার পূর্বে বিক্রয় করা যাইবে না।
৩। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আছে, জুবায়র ইবন মুত'ইম (রা) বলেন, আমি এবং উছমান ইব্‌ন আফফান (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া বলিলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল' আপনি খায়বারের 'খুমুস' অর্থাৎ রক্ষিত এক-পঞ্চমাংশ হইতে বানুল মুত্তালিবকে অংশ দান করিলেন এবং আমাদিগকে দিলেন না। প্রকৃতপক্ষে আপনার সহিত আমাদিগের ও তাহাদিগের একই সম্পর্ক। রাসূলুল্লাহ (স) উত্তরে বলিলেন, বানু হাশিম ও বানুল মুত্তালিব একই মর্যাদার অধিকারী। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, বানু হাশিম ও বানু আবদিল মুত্তালিব সমমর্যাদার অধিকারী। তাহারা আমাদিগকে জাহিলিয়্যা ও ইসলামী যুগে বিচ্ছিন্ন করে নাই। এই কারণে রাসূলুল্লাহ (স) বানু আব্দ শাম্স ও বানু নাওফালকে কিছুই দেন নাই।
ইমাম শাফি'ঈ (র) বলিয়াছেন, বানু মুত্তালিবও বানু হাশিমের সহিত গিরিসংকটে (الشعب) প্রবেশ করিয়াছিল। ইহারা তাহাদিগের সহায়তাকারী ছিলঃ ইসলামী যুগেও, জাহিলিয়্যা যুগেও। ইব্‌ন কাছীর বলেন, আবূ তালিব বানু আব্দ শাম্স ও বানু নাওফালকে নিম্নোক্ত কবিতার মাধ্যমে ভর্ৎসনা করিয়াছিলেন:
جَزَى اللَّهُ عَنَّا عَبْدَ شَمْسٍ وَنَوْفَلاً + عُقُوبَةَ شَرِّ عَاجِلا غَيْرَ أَجِلٍ.
"আল্লাহ আমাদিগের পক্ষ হইতে 'আব্দ শামস ও নাওফালকে তাহাদিগের অপকর্মের প্রতিদান দান করুন অনতিবিলম্বে অতি শীঘ্রই” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., ২০১-২০২)।
৪। ইতোপূর্বে জানা গিয়াছে যে, এই যুদ্ধের জন্য রাসূলুল্লাহ (স) মুহাররাম মাসে অর্থাৎ সপ্তম হিজরীর প্রথমদিকে যাত্রা করিয়াছিলেন। ইহা হইতে জানা গেল যে, নিষিদ্ধ মাসসমূহে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া নিষিদ্ধ নয়। সকলেই এই কথায় একমত যে, যদি কাফিরদিগের পক্ষ হইতে প্রথমে যুদ্ধের সূচনা হয় তাহা হইলে নিষিদ্ধ মাস হইলে মুসলিমদিগের জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া বৈধ। মতবিরোধ শুধু এই বিষয়ে যে, নিষিদ্ধ মাসসমূহে মুসলিমগণের যুদ্ধের সূচনা করা বৈধ কিনা? চারি ইমামের মতানুসারে ইহা বৈধ; পূর্বে নিষিদ্ধ ছিল। এখন তাহা রহিত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু ইমাম আতা প্রমুখ ফিকহবিদগণ বলেন, নিষিদ্ধ হওয়ার এই বিধান রহিত হয় নাই। এই মাসসমূহে যুদ্ধ করা হারাম। তবে অধিকাংশ উলামা যেই খায়বার হইতে নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধের বৈধতার যেই দলীল উপস্থাপন করেন তাহা এই কারণে যথার্থ নহে যে, যদিও রাসূলুল্লাহ (স) মুহাররাম মাসের শেষাংশে রওয়ানা করিয়াছিলেন কিন্তু যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছিল সফর মাসে। অবশ্য তাইফের অবরোধের ঘটনা দ্বারা দলীল গ্রহণ করা সঠিক। কারণ তাইফ অবরোধ বিশ দিনেড় ঊর্ধ্বে ছিল এবং শেষ কয়েক দিন যুল-কা'দা মাসের দিবস (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।
এই ব্যাপারে ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়‍্যা বলেন, নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ বৈধ হইবার দলীল খায়বার হইতে বায়'আতুর রিদওয়ান শক্তিশালী। কারণ ইহা যুল-কা'দাতে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কিন্তু বায়'আতুর রিদওয়ানও প্রকৃত দলীল হইতে পারে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (স) যখন উছমান (রা)-এর নিহত হইবার সংবাদ পাইয়াছিলেন তখন তিনি এই বায়'আত গ্রহণ করিয়াছিলেন। অতঃপর আল-জাওযিয়্যা বলেন, খায়বার ও বায়আতুর রিদওয়ান এই দুইটি অভিযান হইতে তাইফ অবরোধের ঘটনা অত্যন্ত শক্তিশালী। কারণ তায়েফে যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) শাওয়াল মাসে বাহির হইয়াছিলেন এবং বিশোর্ধ্ব দিবস ইহার অধিবাসিগণকে অবরোধ করিয়া রাখিয়াছিলেন। এই দিনগুলির কিছু অংশ যুল-কা'দা মাসের ছিল। এই দলীলটি শক্তিশালী হইবার কারণ হইল, মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (স) উনিশ দিন সেখানে অবস্থান করিয়াছিলেন। মক্কা বিজয় হইয়াছিল বিশ রামাদান। উনিশ দিন অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ (স) হাওয়াযিনের দিকে শাওওয়াল মাসের বিশ দিন অবশিষ্ট থাকিতে রওয়ানা করিয়াছিলেন। হাওয়াযিন জয় করিয়া ইহার গনীমতসমূহ বণ্টন করিবার পর সেখান হইতে তায়েফে রওয়ানা করিয়াছিলেন। অতঃপর সেখানকার অধিবাসিগণকে বিশের অধিক দিবস অবরোধ করিয়া রাখিয়াছিলেন। ইহা দ্বারা নিশ্চিত প্রতীয়মান হয় যে, অবরোধের কয়েকটি দিবস যুল-কা'দা মাসের দশ দিন। তায়েফ অবরোধ করিয়া রাখিবার পক্ষে যাহারা দৃঢ় মনোভাব পোষণ করিয়াছেন তাহাদিগের ব্যাপারে আক্ষেপ করা ছাড়া উপায় নাই (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৫৭)।
গৃহপালিত গাধার গোস্ত হারাম ঘোষণা ৫। সহীহ সনদ দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) গৃহপালিত গাধা খায়বার দিবসে হারাম ঘোষণা করিয়াছিলেন। তিনি ইহাও ঘোষণা করিয়াছেন যে, এই গাধা অপবিত্র। সাহাবীগণের কাহারও উক্তি ছিল যে, ভারবাহী জন্তু হইবার কারণে ইহা হারাম হইয়াছিল। আবার কেহ বলিয়াছেন, যত্রতত্র অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করিবার কারণে হারাম ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর উক্তি أَنَّهَا رَجْسٌ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তির আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর সহিত কোন দ্বন্দু নাই:
قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طاعم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِزْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
"বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হইয়াছে তাহাতে লোকে যাহা আহার করে তাহার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না মড়া, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এইগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যাহা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে" (৬:১৪৫)।
কারণ উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হইবার সময় ইহাতে বর্ণিত চারিটি জিনিস ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য হারাম ছিল না। আর হারাম বা নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হইতেছিল। সুতরাং গৃহপালিত গাধার নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ইহার পরে নূতনভাবে ঘোষিত হইয়াছিল। ইহার ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তিটি আল-কুরআন যাহা বৈধ ঘোষণা করিয়াছে তাহা রদ করিবার জন্য নয়, আল-কুরআনের ব্যাপকতা (عموم)-কে সংকীর্ণ করিবার জন্য তো নয়ই। সুতরাং নাসিখ-মানসূখের প্রশ্ন এখানে অবান্তর (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিয়াছিলেন, গাধার গোস্ত ফেলিয়া দাও এবং পাত্রটি ভাঙ্গিয়া ফেল। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি আবেদন করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! গোস্ত ফেলিয়া দেওয়া যায় এবং পাত্র ধৌত করা যায়। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আচ্ছা, ধৌত করিয়া লও। প্রথম আদেশ কার্যকরী হইবার পূর্বেই রহিত হইয়া গেল এবং এই কথা অবহিত হওয়া গেল যে, পাত্রের অপবিত্র জিনিস ধৌত করিয়া লইলে পাত্র পবিত্র হইয়া যায় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।
মুত'আ বিবাহ সংক্রান্ত বিধান মুত'আ বিবাহ হইল নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা দিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কোন মহিলাকে বিবাহ করা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। তবে তাহা ছিল একান্ত প্রয়োজনে। যেইভাবে প্রাণ রক্ষার্থে মৃত জন্তু বা শূকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, অনুরূপ আত্মসংযমে একান্ত অপারগতায় তৎকালে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। এই প্রসংগে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করা যাইতে পারে:
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ سَيْفُ اللَّهِ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَجُلٍ جَاءَهُ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَاهُ فِي الْمُتْعَةِ فَأَمَرَهُ بِهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ مَهْلاً قَالَ مَا هِيَ وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتُ فِي عَهْدِ اِمَامِ الْمُتَّقِينَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ إِنَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَام لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا كَالمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ ثُمَّ أَحْكَمَ اللَّهُ الدِّيْنَ وَنَهَى عَنْهَا .
"ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমাকে খালিদ ইবনুল মুহাজির সায়ফুল্লাহ জানাইয়াছেন যে, তিনি জনৈক লোকের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় ঐ লোকটির নিকট অপর একজন লোক আসিয়া মুত'আ সম্পর্কে তাহার অভিমত জানিতে চাহিল। উপবিষ্ট লোকটি তাহাকে উহার অনুমতি দিল। এই সময় ইব্‌ন আবী আমরা আল-আনসারী (রা) তাহাকে বলিলেন, আচ্ছা একটু থাম। লোকটি বলিল, কি হইয়াছে? আল্লাহর শপথ! আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে করিয়াছি। ইব্‌ন আবী আমরা (রা) বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেহ আত্মসংযমে অপারগ হইয়া গেলে তাহার জন্য মুত'আ করার অনুমতি ছিল, যেমনটি অনুমতি ছিল মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ করার। অতঃপর আল্লাহ দীনকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিলেন এবং মুত'আকে নিষিদ্ধ করিলেন" (সহীহ মুসলিম, নিকাহ, বাব ৩, নং ৩৪২৯/২৭)।
কায়স বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন মাস'উদ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি: আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতাম। আমাদের সঙ্গে স্ত্রীলোক থাকিত না। একদা আমরা বলিলাম, আমরা কি নির্বীর্য হইয়া যাইব না? রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে নির্বীর্য হইতে নিষেধ করিলেন। অতঃপর আমাদিগকে বস্ত্রের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রা) পাঠ করিলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য যে সকল পবিত্র জিনিস আল্লাহ হালাল করিয়াছেন সেইগুলিকে তোমরা হারাম করিও না। কারণ সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে আল্লাহ ভালবাসেন না" (৫:৮৭ বুখারী, ২খ., ৭৫৯; মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
উক্ত হাদীছে নির্বীর্য হইবার আবেদনও প্রমাণ করে মুত'আ একান্ত অপারগ অবস্থায় বৈধ ছিল।
জাবির ইবন আবদিল্লাহ ও সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) বলেন, قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا مُنَادِى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ أَذِنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَمْتِعُوا يَعْنِي مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَانَا فَأَذِنَ لَنَا فِي المتعة.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন ঘোষক আমাদের নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তোমাদের জন্য মহিলাদের সহিত মুত'আ বিবাহের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের মধ্যে আসিয়া আমাদিগকে মুত'আর অনুমতি প্রদান করিলেন” (মুসলিম, ২খ., ৪৫০)।
জাবির ও সালামা (রা)-এর বর্ণনায় যদিও এই কথার উল্লেখ নাই যে, কোন পটভূমিতে মুত'আর অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল, বলা বাহুল্য তাহাও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ বিশদ রিওয়ায়াতসমূহে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। অবশ্য পরবর্তী কালে মুت'আ বিবাহের এই অনুমতি প্রত্যাহার করিয়া লওয়া এবং বিদ'আতী রাফেযীগণ (শী'আ) ব্যতীত ইসলামের অনুসারী সকলেই এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আইন গ্রন্থ হিদায়া-র গ্রন্থকার ইমাম মালিক (র) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহকে জায়েজ মনে করিতেন। কিন্তু ইমাম মালিক (র)-এর দিকে এইরূপ কথার সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ ভুল। হিদায়ার ভাষ্যকার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার ভাষায় বলিয়াছেন যে, হিদায়া গ্রন্থকার এই ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাটের শিকার হইয়াছেন। কিছু কিছু লোক দাবি করেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) শেষ জীবন পর্যন্ত মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করিতেন। প্রকৃত পক্ষে এই দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইমাম তিরমিযী তাঁহার সুনান গ্রন্থে মুত'আ অধ্যায়ে যেই দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দ্বিতীয় হাদীছটি স্বয়ং ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي أَوَّلِ الإِسْلَامِ حَتَّى إِذَا نَزَلَتِ الْآيَةُ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكُلُّ فَرْجِ سِوَاهُمَا فَهُوَ حَرَامٌ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুত'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল। তবে তাহা আল-কুরআনের আয়াত "একমাত্র তোমাদিগের স্ত্রী ও বাঁদীগণ ব্যতীত” (২৩ঃ ৬) অবতীর্ণ হইবার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, শরী'আতসম্মত স্ত্রী ও বাঁদীগণ ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ হারাম"।
তবে একথা সমর্থনযোগ্য যে, ইবন 'আব্বাস (রা) তাঁহার জীবনের কিছুকাল পর্যন্ত মুত'আ বিবাহকে বৈধ মনে করিতেন। অতঃপর 'আলী (রা)-এর বুঝানোতে এবং আল-কুরআনের আয়াত إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ সম্পর্কে অবগত হইয়া তিনি তাঁহার মত প্রত্যাহার করিয়াছেন। 'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) ইবন 'আব্বাস (রা)-কে বুঝাইয়াছেন বলিয়া মুসলিমের নিম্নোক্ত রিওয়ায়তে পাওয়া যায় :
عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَلِيْنُ فِي مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ مَهْلاً يَا ابْنَ عَبَّاسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ.
"আলী (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন্ন 'আব্বাস (রা) সম্পর্কে শুনিতে পাইলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহ সম্পর্কে নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। 'আলী (রা) বলিলেন, হে আব্বাস পুত্র! এই মনোভাব পরিহার কর। কারণ রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে মুত'আ ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন" (মুসলিম, ১খ., ৪৫২)।
মুফতী শফী (র) বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলেন, শী'আগণ 'আলী (রা)-এর সহিত ভালবাসা ও তাঁহার অনুসারী হইবার দাবি করা সত্ত্বেও আশ্চর্য ব্যাপার হইল যে, তাহারা মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করে। কিন্তু এই মাসআলায় 'আলী (রা) যে তাহাদিগের মতের বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন, এই সম্পর্কে তাহারা কি অবহিত নহে (মাআরিফুল কুরআন, ২খ., ৫ম অংশ, পৃ. ১৮)!

খায়বার যুদ্ধ হইতে কতিপয় ফিকহী বিধান উদ্ভূত হইয়াছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল:
১। মুখাবারা (বর্গা প্রথা): এই যুদ্ধে অনেক ভূখণ্ড বিজিত হইয়াছিল। এই সকল জমি খায়বারবাসীদিগকে ফসলের ভাগের উপর চাষাবাদ করিতে দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে ফসল উৎপাদনের জন্য বীজ সরবরাহ করিয়াছিলেন বলিয়া কোন রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে বীজ এবং শ্রম খায়বারবাসিগণই প্রদান করিয়াছিল এবং ভূমি ছিল মুসলমানগণের। ইহা দ্বারা বুঝা গেল যে, বর্গা প্রথায় ভূমির মালিকের বীজ সরবরাহ করা জরুরী নয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৪)।
২। ইবন ইসহাক মাকতুল সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধের সময় চারিটি বিষয় নিষিদ্ধ করা হয়। প্রথমত, অন্তঃসত্তা যুদ্ধবন্দী মহিলাদের সাথে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত সহবাস করা নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়ত, গৃহপালিত গাধার গোস্ত ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ। তৃতীয়ত, হিংস্র জন্তুর গোস্ত খাওয়া যাইবে না। চতুর্থত, গনীমতের সম্পদ বণ্টিত হইবার পূর্বে বিক্রয় করা যাইবে না।

খায়বার যুদ্ধ হইতে কতিপয় ফিকহী বিধান উদ্ভূত হইয়াছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল:
১। মুখাবারা (বর্গা প্রথা): এই যুদ্ধে অনেক ভূখণ্ড বিজিত হইয়াছিল। এই সকল জমি খায়বারবাসীদিগকে ফসলের ভাগের উপর চাষাবাদ করিতে দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে ফসল উৎপাদনের জন্য বীজ সরবরাহ করিয়াছিলেন বলিয়া কোন রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে বীজ এবং শ্রম খায়বারবাসিগণই প্রদান করিয়াছিল এবং ভূমি ছিল মুসলমানগণের। ইহা দ্বারা বুঝা গেল যে, بর্গা প্রথায় ভূমির মালিকের বীজ সরবরাহ করা জরুরী নয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৪)।
২। ইবন ইসহাক মাকতুল সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধের সময় চারিটি বিষয় নিষিদ্ধ করা হয়। প্রথমত, অন্তঃসত্তা যুদ্ধবন্দী মহিলাদের সাথে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত সহবাস করা নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়ত, গৃহপালিত গাধার গোস্ত ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ। তৃতীয়ত, হিংস্র জন্তুর গোস্ত খাওয়া যাইবে না। চতুর্থত, গনীমতের সম্পদ বণ্টিত হইবার পূর্বে বিক্রয় করা যাইবে না।

খায়বার যুদ্ধ হইতে কতিপয় ফিকহী বিধান উদ্ভূত হইয়াছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল:
১। মুখাবারা (বর্গা প্রথা): এই যুদ্ধে অনেক ভূখণ্ড বিজিত হইয়াছিল। এই সকল জমি খায়বারবাসীদিগকে ফসলের ভাগের উপর চাষাবাদ করিতে দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে ফসল উৎপাদনের জন্য বীজ সরবরাহ করিয়াছিলেন বলিয়া কোন রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে বীজ এবং শ্রম খায়বারবাসিগণই প্রদান করিয়াছিল এবং ভূমি ছিল মুসলমানগণের। ইহা দ্বারা বুঝা গেল যে, বর্গা প্রথায় ভূমির মালিকের বীজ সরবরাহ করা জরুরী নয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৪)।
২। ইবন ইসহাক মাকতুল সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধের সময় চারিটি বিষয় নিষিদ্ধ করা হয়। প্রথমত, অন্তঃসত্তা যুদ্ধবন্দী মহিলাদের সাথে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত সহবাস করা নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়ত, গৃহপালিত গাধার গোস্ত ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ। তৃতীয়ত, হিংস্র জন্তুর গোস্ত খাওয়া যাইবে না। চতুর্থত, গনীমতের সম্পদ বণ্টিত হইবার পূর্বে বিক্রয় করা যাইবে না।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গৃহপালিত গাধার গোস্ত হারাম ঘোষণা

📄 গৃহপালিত গাধার গোস্ত হারাম ঘোষণা


৫। সহীহ সনদ দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) গৃহপালিত গাধা খায়বার দিবসে হারাম ঘোষণা করিয়াছিলেন। তিনি ইহাও ঘোষণা করিয়াছেন যে, এই গাধা অপবিত্র। সাহাবীগণের কাহারও উক্তি ছিল যে, ভারবাহী জন্তু হইবার কারণে ইহা হারাম হইয়াছিল। আবার কেহ বলিয়াছেন, যত্রতত্র অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করিবার কারণে হারাম ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর উক্তি أَنَّهَا رَجْسٌ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তির আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর সহিত কোন দ্বন্দু নাই:
قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طاعم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِزْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
"বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হইয়াছে তাহাতে লোকে যাহা আহার করে তাহার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না মড়া, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এইগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যাহা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে" (৬:১৪৫)।
কারণ উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হইবার সময় ইহাতে বর্ণিত চারিটি জিনিস ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য হারাম ছিল না। আর হারাম বা নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হইতেছিল। সুতরাং গৃহপালিত গাধার নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ইহার পরে নূতনভাবে ঘোষিত হইয়াছিল। ইহার ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তিটি আল-কুরআন যাহা বৈধ ঘোষণা করিয়াছে তাহা রদ করিবার জন্য নয়, আল-কুরআনের ব্যাপকতা (عموم)-কে সংকীর্ণ করিবার জন্য তো নয়ই। সুতরাং নাসিখ-মানসূখের প্রশ্ন এখানে অবান্তর (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিয়াছিলেন, গাধার গোস্ত ফেলিয়া দাও এবং পাত্রটি ভাঙ্গিয়া ফেল। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি আবেদন করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! গোস্ত ফেলিয়া দেওয়া যায় এবং পাত্র ধৌত করা যায়। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আচ্ছা, ধৌত করিয়া লও। প্রথম আদেশ কার্যকরী হইবার পূর্বেই রহিত হইয়া গেল এবং এই কথা অবহিত হওয়া গেল যে, পাত্রের অপবিত্র জিনিস ধৌত করিয়া লইলে পাত্র পবিত্র হইয়া যায় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।

৫। সহীহ সনদ দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) গৃহপালিত গাধা খায়বার দিবসে হারাম ঘোষণা করিয়াছিলেন। তিনি ইহাও ঘোষণা করিয়াছেন যে, এই গাধা অপবিত্র। সাহাবীগণের কাহারও উক্তি ছিল যে, ভারবাহী জন্তু হইবার কারণে ইহা হারাম হইয়াছিল। আবার কেহ বলিয়াছেন, যত্রতত্র অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করিবার কারণে হারাম ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর উক্তি أَنَّهَا رَجْسٌ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তির আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর সহিত কোন দ্বন্দু নাই:
قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طاعم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِزْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
"বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হইয়াছে তাহাতে লোকে যাহা আহার করে তাহার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না মড়া, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এইগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যাহা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে" (৬:১৪৫)।
কারণ উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হইবার সময় ইহাতে বর্ণিত চারিটি জিনিস ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য হারাম ছিল না। আর হারাম বা নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হইতেছিল। সুতরাং গৃহপালিত গাধার নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ইহার পরে নূতনভাবে ঘোষিত হইয়াছিল। ইহার ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তিটি আল-কুরআন যাহা বৈধ ঘোষণা করিয়াছে তাহা রদ করিবার জন্য নয়, আল-কুরআনের ব্যাপকতা (عموم)-কে সংকীর্ণ করিবার জন্য তো নয়ই। সুতরাং নাসিখ-মানসূখের প্রশ্ন এখানে অবান্তর (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিয়াছিলেন, গাধার গোস্ত ফেলিয়া দাও এবং পাত্রটি ভাঙ্গিয়া ফেল। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি আবেদন করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! গোস্ত ফেলিয়া দেওয়া যায় এবং পাত্র ধৌত করা যায়। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আচ্ছা, ধৌত করিয়া লও। প্রথম আদেশ কার্যকরী হইবার পূর্বেই রহিত হইয়া গেল এবং এই কথা অবহিত হওয়া গেল যে, পাত্রের অপবিত্র জিনিস ধৌত করিয়া লইলে পাত্র পবিত্র হইয়া যায় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।

৫। সহীহ সনদ দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ (س) গৃহপালিত গাধা খায়বার দিবসে হারাম ঘোষণা করিয়াছিলেন। তিনি ইহাও ঘোষণা করিয়াছেন যে, এই গাধা অপবিত্র। সাহাবীগণের কাহারও উক্তি ছিল যে, ভারবাহী জন্তু হইবার কারণে ইহা হারাম হইয়াছিল। আবার কেহ বলিয়াছেন, যত্রতত্র অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করিবার কারণে হারাম ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (س)-এর উক্তি أَنَّهَا رَجْسٌ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (س)-এর এই উক্তির আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর সহিত কোন দ্বন্দু নাই:
قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طاعم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِزْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
"বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হইয়াছে তাহাতে লোকে যাহা আহার করে তাহার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না মড়া, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এইগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যাহা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে" (৬:১৪৫)।
কারণ উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হইবার সময় ইহাতে বর্ণিত চারিটি জিনিস ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য হারাম ছিল না। আর হারাম বা নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হইতেছিল। সুতরাং গৃহপালিত গাধার নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ইহার পরে নূতনভাবে ঘোষিত হইয়াছিল। ইহার ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (س)-এর এই উক্তিটি আল-কুরআন যাহা বৈধ ঘোষণা করিয়াছে তাহা রদ করিবার জন্য নয়, আল-কুরআনের ব্যাপকতা (عموم)-কে সংকীর্ণ করিবার জন্য তো নয়ই। সুতরাং নাসিখ-মানসূখের প্রশ্ন এখানে অবান্তর (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (س) আদেশ করিয়াছিলেন, গাধার গোস্ত ফেলিয়া দাও এবং পাত্রটি ভাঙ্গিয়া ফেল। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি আবেদন করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! গোست ফেলিয়া দেওয়া যায় এবং পাত্র ধৌত করা যায়। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, আচ্ছা, ধৌত করিয়া লও। প্রথম আদেশ কার্যকরী হইবার পূর্বেই রহিত হইয়া গেল এবং এই কথা অবহিত হওয়া গেল যে, পাত্রের অপবিত্র জিনিস ধৌত করিয়া লইলে পাত্র পবিত্র হইয়া যায় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।

৫। সহীহ সনদ দ্বারা প্রমানিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) গৃহপালিত গাধা খায়বার দিবসে হারাম ঘোষণা করিয়াছিলেন। তিনি ইহাও ঘোষণা করিয়াছেন যে, এই গাধা অপবিত্র। সাহাবীগণের কাহারও উক্তি ছিল যে, ভারবাহী জন্তু হইবার কারণে ইহা হারাম হইয়াছিল। আবার কেহ বলিয়াছেন, যত্রতত্র অপবিত্র জিনিস ভক্ষণ করিবার কারণে হারাম ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর উক্তি أَنَّهَا رَجْسٌ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তির আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর সহিত কোন দ্বন্দু নাই:
قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طاعم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِزْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
"বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হইয়াছে তাহাতে লোকে যাহা আহার করে তাহার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না মড়া, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এইগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যাহা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে" (৬:১৪৫)।
কারণ উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হইবার সময় ইহাতে বর্ণিত চারিটি জিনিস ব্যতীত অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য হারাম ছিল না। আর হারাম বা নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হইতেছিল। সুতরাং গৃহপালিত গাধার নিষিদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি ইহার পরে নূতনভাবে ঘোষিত হইয়াছিল। ইহার ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তিটি আল-কুরআন যাহা বৈধ ঘোষণা করিয়াছে তাহা রদ করিবার জন্য নয়, আল-কুরআনের ব্যাপকতা (عموم)-কে সংকীর্ণ করিবার জন্য তো নয়ই। সুতরাং নাসিখ-মানসূখের প্রশ্ন এখানে অবান্তর (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১৪২)। রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিয়াছিলেন, গাধার গোস্ত ফেলিয়া দাও এবং পাত্রটি ভাঙ্গিয়া ফেল। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি আবেদন করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! গোস্ত ফেলিয়া দেওয়া যায় এবং পাত্র ধৌত করা যায়। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আচ্ছা, ধৌত করিয়া লও। প্রথম আদেশ কার্যকরী হইবার পূর্বেই রহিত হইয়া গেল এবং এই কথা অবহিত হওয়া গেল যে, পাত্রের অপবিত্র জিনিস ধৌত করিয়া লইলে পাত্র পবিত্র হইয়া যায় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুত'আ বিবাহ সংক্রান্ত বিধান

📄 মুত'আ বিবাহ সংক্রান্ত বিধান


মুত'আ বিবাহ হইল নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা দিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কোন মহিলাকে বিবাহ করা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। তবে তাহা ছিল একান্ত প্রয়োজনে। যেইভাবে প্রাণ রক্ষার্থে মৃত জন্তু বা শূকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, অনুরূপ আত্মসংযমে একান্ত অপারগতায় তৎকালে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। এই প্রসংগে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করা যাইতে পারে:
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ سَيْفُ اللَّهِ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَجُلٍ جَاءَهُ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَاهُ فِي الْمُتْعَةِ فَأَمَرَهُ بِهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ مَهْلاً قَالَ مَا هِيَ وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتُ فِي عَهْدِ اِمَامِ الْمُتَّقِينَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ إِنَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَام لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا كَالمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ ثُمَّ أَحْكَمَ اللَّهُ الدِّيْنَ وَنَهَى عَنْهَا .
"ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমাকে খালিদ ইবনুল মুহাজির সায়ফুল্লাহ জানাইয়াছেন যে, তিনি জনৈক লোকের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় ঐ লোকটির নিকট অপর একজন লোক আসিয়া মুত'আ সম্পর্কে তাহার অভিমত জানিতে চাহিল। উপবিষ্ট লোকটি তাহাকে উহার অনুমতি দিল। এই সময় ইব্‌ন আবী আমরা আল-আনসারী (রা) তাহাকে বলিলেন, আচ্ছা একটু থাম। লোকটি বলিল, কি হইয়াছে? আল্লাহর শপথ! আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে করিয়াছি। ইব্‌ন আবী আমরা (রা) বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেহ আত্মসংযমে অপারগ হইয়া গেলে তাহার জন্য মুত'আ করার অনুমতি ছিল, যেমনটি অনুমতি ছিল মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ করার। অতঃপর আল্লাহ দীনকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিলেন এবং মুত'আকে নিষিদ্ধ করিলেন" (সহীহ মুসলিম, নিকাহ, বাব ৩, নং ৩৪২৯/২৭)।
কায়স বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন মাস'উদ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি: আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতাম। আমাদের সঙ্গে স্ত্রীলোক থাকিত না। একদা আমরা বলিলাম, আমরা কি নির্বীর্য হইয়া যাইব না? রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে নির্বীর্য হইতে নিষেধ করিলেন। অতঃপর আমাদিগকে বস্ত্রের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রা) পাঠ করিলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য যে সকল পবিত্র জিনিস আল্লাহ হালাল করিয়াছেন সেইগুলিকে তোমরা হারাম করিও না। কারণ সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে আল্লাহ ভালবাসেন না" (৫:৮৭ বুখারী, ২খ., ৭৫৯; মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
উক্ত হাদীছে নির্বীর্য হইবার আবেদনও প্রমাণ করে মুত'আ একান্ত অপারগ অবস্থায় বৈধ ছিল।
জাবির ইবন আবদিল্লাহ ও সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) বলেন, قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا مُنَادِى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ أَذِنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَمْتِعُوا يَعْنِي مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَانَا فَأَذِنَ لَنَا فِي المتعة.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন ঘোষক আমাদের নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তোমাদের জন্য মহিলাদের সহিত মুত'আ বিবাহের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের মধ্যে আসিয়া আমাদিগকে মুত'আর অনুমতি প্রদান করিলেন” (মুসলিম, ২খ., ৪৫০)।
জাবির ও সালামা (রা)-এর বর্ণনায় যদিও এই কথার উল্লেখ নাই যে, কোন পটভূমিতে মুত'আর অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল, বলা বাহুল্য তাহাও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ বিশদ রিওয়ায়াতসমূহে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। অবশ্য পরবর্তী কালে মুت'আ বিবাহের এই অনুমতি প্রত্যাহার করিয়া লওয়া এবং বিদ'আতী রাফেযীগণ (শী'আ) ব্যতীত ইসলামের অনুসারী সকলেই এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আইন গ্রন্থ হিদায়া-র গ্রন্থকার ইমাম মালিক (র) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহকে জায়েজ মনে করিতেন। কিন্তু ইমাম মালিক (র)-এর দিকে এইরূপ কথার সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ ভুল। হিদায়ার ভাষ্যকার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার ভাষায় বলিয়াছেন যে, হিদায়া গ্রন্থকার এই ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাটের শিকার হইয়াছেন। কিছু কিছু লোক দাবি করেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) শেষ জীবন পর্যন্ত মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করিতেন। প্রকৃত পক্ষে এই দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইমাম তিরমিযী তাঁহার সুনান গ্রন্থে মুত'আ অধ্যায়ে যেই দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দ্বিতীয় হাদীছটি স্বয়ং ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي أَوَّلِ الإِسْلَامِ حَتَّى إِذَا نَزَلَتِ الْآيَةُ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكُلُّ فَرْجِ سِوَاهُمَا فَهُوَ حَرَامٌ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুত'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল। তবে তাহা আল-কুরআনের আয়াত "একমাত্র তোমাদিগের স্ত্রী ও বাঁদীগণ ব্যতীত” (২৩ঃ ৬) অবতীর্ণ হইবার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, শরী'আতসম্মত স্ত্রী ও বাঁদীগণ ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ হারাম"।
তবে একথা সমর্থনযোগ্য যে, ইবন 'আব্বাস (রা) তাঁহার জীবনের কিছুকাল পর্যন্ত মুت'আ বিবাহকে বৈধ মনে করিতেন। অতঃপর 'আলী (রা)-এর বুঝানোতে এবং আল-কুরআনের আয়াত إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ সম্পর্কে অবগত হইয়া তিনি তাঁহার মত প্রত্যাহার করিয়াছেন। 'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) ইবন 'আব্বাস (রা)-কে বুঝাইয়াছেন বলিয়া মুসলিমের নিম্নোক্ত রিওয়ায়তে পাওয়া যায় :
عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَلِيْنُ فِي مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ مَهْلاً يَا ابْنَ عَبَّاسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ.
"আলী (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন্ন 'আব্বাস (রা) সম্পর্কে শুনিতে পাইলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহ সম্পর্কে নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। 'আলী (রা) বলিলেন, হে আব্বাস পুত্র! এই মনোভাব পরিহার কর। কারণ রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে মুت'আ ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন" (মুসলিম, ১খ., ৪৫২)।
মুফতী শফী (র) বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলেন, শী'আগণ 'আলী (রা)-এর সহিত ভালবাসা ও তাঁহার অনুসারী হইবার দাবি করা সত্ত্বেও আশ্চর্য ব্যাপার হইল যে, তাহারা মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করে। কিন্তু এই মাসআলায় 'আলী (রা) যে তাহাদিগের মতের বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন, এই সম্পর্কে তাহারা কি অবহিত নহে (মাআরিফুল কুরআন, ২খ., ৫ম অংশ, পৃ. ১৮)!

মুত'আ বিবাহ হইল নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা দিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কোন মহিলাকে বিবাহ করা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। তবে তাহা ছিল একান্ত প্রয়োজনে। যেইভাবে প্রাণ রক্ষার্থে মৃত জন্তু বা শূকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, অনুরূপ আত্মসংযমে একান্ত অপারগতায় তৎকালে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। এই প্রসংগে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করা যাইতে পারে:
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ سَيْفُ اللَّهِ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَجُلٍ جَاءَهُ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَاهُ فِي الْمُتْعَةِ فَأَمَرَهُ بِهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ مَهْلاً قَالَ مَا هِيَ وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتُ فِي عَهْدِ اِمَامِ الْمُتَّقِينَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ إِنَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَام لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا كَالمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ ثُمَّ أَحْكَمَ اللَّهُ الدِّيْنَ وَنَهَى عَنْهَا .
"ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমাকে খালিদ ইবনুল মুহাজির সায়ফুল্লাহ জানাইয়াছেন যে, তিনি জনৈক লোকের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় ঐ লোকটির নিকট অপর একজন লোক আসিয়া মুত'আ সম্পর্কে তাহার অভিমত জানিতে চাহিল। উপবিষ্ট লোকটি তাহাকে উহার অনুমতি দিল। এই সময় ইব্‌ন আবী আমরা আল-আনসারী (রা) তাহাকে বলিলেন, আচ্ছা একটু থাম। লোকটি বলিল, কি হইয়াছে? আল্লাহর শপথ! আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে করিয়াছি। ইব্‌ন আবী আমরা (রা) বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেহ আত্মসংযমে অপারগ হইয়া গেলে তাহার জন্য মুত'আ করার অনুমতি ছিল, যেমনটি অনুমতি ছিল মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ করার। অতঃপর আল্লাহ দীনকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিলেন এবং মুত'আকে নিষিদ্ধ করিলেন" (সহীহ মুসলিম, নিকাহ, বাব ৩, নং ৩৪২৯/২৭)।
عَنْ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ يَقُولُ كُنَّا نَعْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيْسَ لَنَا نِسَاءً فَقُلْنَا أَلَا نَسْتَخْصِي فَنَهَانَا عَنْ ذلِكَ ثُمَّ رَخَّصَ لَنَا أَنْ تَنْكِحَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ قَرَا عَبْدُ اللَّهِ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.
"কায়স (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন মাস'উদ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি: আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতাম। আমাদের সঙ্গে স্ত্রীলোক থাকিত না। একদা আমরা বলিলাম, আমরা কি নির্বীর্য হইয়া যাইব না? রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে নির্বীর্য হইতে নিষেধ করিলেন। অতঃপর আমাদিগকে বস্ত্রের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রা) পাঠ করিলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য যে সকল পবিত্র জিনিস আল্লাহ হালাল করিয়াছেন সেইগুলিকে তোমরা হারাম করিও না। কারণ সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে আল্লাহ ভালবাসেন না" (৫:৮৭ বুখারী, ২খ., ৭৫৯; মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
উক্ত হাদীছে নির্বীর্য হইবার আবেদনও প্রমাণ করে মুত'আ একান্ত অপারগ অবস্থায় বৈধ ছিল।
জাবির ইবন আবদিল্লাহ ও সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) বলেন: قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا مُنَادِى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ أَذِنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَمْتِعُوا يَعْنِي مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَانَا فَأَذِنَ لَنَا فِي المتعة.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন ঘোষক আমাদের নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তোমাদের জন্য মহিলাদের সহিত মুত'আ বিবাহের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের মধ্যে আসিয়া আমাদিগকে মুত'আর অনুমতি প্রদান করিলেন” (মুসলিম, ২খ., ৪৫০)।
জাবির ও সালামা (রা)-এর বর্ণনায় যদিও এই কথার উল্লেখ নাই যে, কোন পটভূমিতে মুত'আর অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল, বলা বাহুল্য তাহাও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ বিশদ রিওয়ায়াতসমূহে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। অবশ্য পরবর্তী কালে মুত'আ বিবাহের এই অনুমতি প্রত্যাহার করিয়া লওয়া এবং বিদ'আতী রাফেযীগণ (শী'আ) ব্যতীত ইসলামের অনুসারী সকলেই এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আইন গ্রন্থ হিদায়া-র গ্রন্থকার ইমাম মালিক (র) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহকে জায়েজ মনে করিতেন। কিন্তু ইমাম মালিক (র)-এর দিকে এইরূপ কথার সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ ভুল। হিদায়ার ভাষ্যকার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার ভাষায় বলিয়াছেন যে, হিদায়া গ্রন্থকার এই ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাটের শিকার হইয়াছেন। কিছু কিছু লোক দাবি করেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) শেষ জীবন পর্যন্ত মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করিতেন। প্রকৃত পক্ষে এই দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইমাম তিরমিযী তাঁহার সুনান গ্রন্থে মুত'আ অধ্যায়ে যেই দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দ্বিতীয় হাদীছটি স্বয়ং ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي أَوَّلِ الإِسْلَامِ حَتَّى إِذَا نَزَلَتِ الْآيَةُ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكُلُّ فَرْجِ سِوَاهُمَا فَهُوَ حَرَامٌ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুt'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল। তবে তাহা আল-কুরআনের আয়াত "একমাত্র তোমাদিগের স্ত্রী ও বাঁদীগণ ব্যতীত” (২৩ঃ ৬) অবতীর্ণ হইবার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, শরী'আতসম্মত স্ত্রী ও বাঁদীগণ ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ হারাম"।
তবে একথা সমর্থনযোগ্য যে, ইবন 'আব্বাস (রা) তাঁহার জীবনের কিছুকাল পর্যন্ত মুত'আ বিবাহকে বৈধ মনে করিতেন। অতঃপর 'আলী (রা)-এর বুঝানোতে এবং আল-কুরআনের আয়াত إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ সম্পর্কে অবগত হইয়া তিনি তাঁহার মত প্রত্যাহার করিয়াছেন। 'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) ইবন 'আব্বাস (রা)-কে বুঝাইয়াছেন বলিয়া মুসলিমের নিম্নোক্ত রিওয়ায়তে পাওয়া যায় :
عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَلِيْنُ فِي مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ مَهْلاً يَا ابْنَ عَبَّاسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ.
"আলী (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন্ন 'আব্বাস (রা) সম্পর্কে শুনিতে পাইলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহ সম্পর্কে নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। 'আলী (রা) বলিলেন, হে আব্বাস পুত্র! এই মনোভাব পরিহার কর। কারণ রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে মুت'আ ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন" (মুসলিম, দেওবন্দ, ১খ., ৪৫২)।
মুফতী শফী (র) বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলেন, শী'আগণ 'আলী (রা)-এর সহিত ভালবাসা ও তাঁহার অনুসারী হইবার দাবি করা সত্ত্বেও আশ্চর্য ব্যাপার হইল যে, তাহারা মুت'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করে। কিন্তু এই মাসআলায় 'আলী (রা) যে তাহাদিগের মতের বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন, এই সম্পর্কে তাহারা কি অবহিত নহে (মাআরিফুল কুরআন, ২খ., ৫ম অংশ, পৃ. ১৮)!

মুত'আ বিবাহ হইল নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা দিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কোন মহিলাকে বিবাহ করা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। তবে তাহা ছিল একান্ত প্রয়োজনে। যেইভাবে প্রাণ রক্ষার্থে মৃত জন্তু বা শূকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, অনুরূপ আত্মসংযমে একান্ত অপারগতায় তৎকালে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। এই প্রসংগে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করা যাইতে পারে:
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ سَيْفُ اللَّهِ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَجُلٍ جَاءَهُ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَاهُ فِي الْمُتْعَةِ فَأَمَرَهُ بِهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ مَهْلاً قَالَ مَا هِيَ وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتُ فِي عَهْدِ اِمَامِ الْمُتَّقِينَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ إِنَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَام لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا كَالمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ ثُمَّ أَحْكَمَ اللَّهُ الدِّيْنَ وَنَهَى عَنْهَا .
"ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমাকে খালিদ ইবনুল মুহাজির সায়ফুল্লাহ জানাইয়াছেন যে, তিনি জনৈক লোকের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় ঐ লোকটির নিকট অপর একজন লোক আসিয়া মুত'আ সম্পর্কে তাহার অভিমত জানিতে চাহিল। উপবিষ্ট লোকটি তাহাকে উহার অনুমতি দিল। এই সময় ইব্‌ن আবী আমরা আল-আনসারী (রা) তাহাকে বলিলেন, আচ্ছা একটু থাম। লোকটি বলিল, কি হইয়াছে? আল্লাহর শপথ! আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ (س)-এর যুগে করিয়াছি। ইব্‌ن আবী আমরা (রা) বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেহ আত্মসংযমে অপারগ হইয়া গেলে তাহার জন্য মুত'আ করার অনুমতি ছিল, যেমনটি অনুমতি ছিল মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ করার। অতঃপর আল্লাহ দীনকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিলেন এবং মুت'আকে নিষিদ্ধ করিলেন" (সহীহ মুসলিম, নিকাহ, باب ৩, নং ৩৪২৯/২৭)।
عَنْ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ يَقُولُ كُنَّا نَعْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيْسَ لَنَا نِسَاءً فَقُلْنَا أَلَا نَسْتَخْصِي فَنَهَانَا عَنْ ذلِكَ ثُمَّ رَخَّصَ لَنَا أَنْ تَنْكِحَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ قَرَا عَبْدُ اللَّهِ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.
"কায়س (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন মাস'উদ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি: আমরা রাসূলুল্লাহ (س)-এর সহিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতাম। আমাদের সঙ্গে স্ত্রীলোক থাকিত না। একদা আমরা বলিলাম, আমরা কি নির্বীর্য হইয়া যাইব না? রাসূলুল্লাহ (س) আমাদিগকে নির্বীর্য হইতে নিষেধ করিলেন। অতঃপর আমাদিগকে বস্ত্রের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রা) পাঠ করিলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য যে সকল পবিত্র জিনিস আল্লাহ হালাল করিয়াছেন সেইগুলিকে তোমরা হারাম করিও না। কারণ সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে আল্লাহ ভালবাসেন না" (৫:৮৭ বুখারী, ২খ., ৭৫৯; মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
উক্ত হাদীছে নির্বীর্য হইবার আবেদনও প্রমাণ করে মুত'আ একান্ত অপারগ অবস্থায় বৈধ ছিল।
জাবির ইবন ابদিল্লাহ ও সালামা ইবনুল আকওয়া' (را) বলেন: قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا مُنَادِى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ أَذِنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَمْتِعُوا يَعْنِي مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَانَا فَأَذِنَ لَنَا فِي المتعة.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন ঘোষক আমাদের নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (س) তোমাদের জন্য মহিলাদের সহিত মুত'আ বিবাহের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের মধ্যে আসিয়া আমাদিগকে মুت'আর অনুমতি প্রদান করিলেন” (মুসলিম, ২খ., ৪৫০)।
জাবির ও সালামা (را)-এর বর্ণনায় যদিও এই কথার উল্লেখ নাই যে, কোন পটভূমিতে মুت'আর অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল, বলা বাহুল্য তাহাও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ বিশদ রিওয়ায়াতসমূহে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। অবশ্য পরবর্তী কালে মুت'আ বিবাহের এই অনুমতি প্রত্যাহার করিয়া লওয়া এবং বিদ'আতী রাফেযীগণ (শী'আ) ব্যতীত ইসলামের অনুসারী সকলেই এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আইন গ্রন্থ হিদায়া-র গ্রন্থকার ইমাম মালিক (ر) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহকে জায়েজ মনে করিতেন। কিন্তু ইমাম মালিক (ر)-এর দিকে এইরূপ কথার সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ ভুল। হিদায়ার ভাষ্যকার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার ভাষায় বলিয়াছেন যে, হিদায়া গ্রন্থকার এই ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাটের শিকার হইয়াছেন। কিছু কিছু লোক দাবি করেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) শেষ জীবন পর্যন্ত মুت'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করিতেন। প্রকৃত পক্ষে এই দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইমাম তিরমিযী তাঁহার সুনান গ্রন্থে মুত'আ অধ্যায়ে যেই দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দ্বিতীয় হাদীছটি স্বয়ং ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي أَوَّلِ الإِسْلَامِ حَتَّى إِذَا نَزَلَتِ الْآيَةُ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكُلُّ فَرْجِ سِوَاهُمَا فَهُوَ حَرَامٌ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুt'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল। তবে তাহা আল-কুরআনের আয়াত "একমাত্র তোমাদিগের স্ত্রী ও বাঁদীগণ ব্যতীত” (২৩ঃ ৬) অবতীর্ণ হইবার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর ইব্‌ن আব্বাস (রা) বলেন, শরী'আতসম্মত স্ত্রী ও বাঁদীগণ ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ হারাম"।
তবে একথা সমর্থনযোগ্য যে, ইবন 'আব্বাস (রা) তাঁহার জীবনের কিছুকাল পর্যন্ত মুت'আ বিবাহকে বৈধ মনে করিতেন। অতঃপর 'আলী (রা)-এর বুঝানোতে এবং আল-কুরআনের আয়াত إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ সম্পর্কে অবগত হইয়া তিনি তাঁহার মত প্রত্যাহার করিয়াছেন। 'আলী ইব্‌ن আবী তালিব (রা) ইবন 'আব্বাস (রা)-কে বুঝাইয়াছেন বলিয়া মুসলিমের নিম্নোক্ত রিওয়ায়তে পাওয়া যায় :
عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَلِيْنُ فِي مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ مَهْلاً يَا ابْنَ عَبَّاسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ.
"আলী (را) হইতে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন্ন 'আব্বাস (রা) সম্পর্কে শুনিতে পাইলেন যে, তিনি মুت'আ বিবাহ সম্পর্কে নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। 'আলী (রা) বলিলেন, হে আব্বাস পুত্র! এই মনোভাব পরিহার কর। কারণ রাসূলুল্লাহ (س) খায়বার দিবসে মুت'আ ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন" (মুসলিম, দেওবন্দ, ১খ., ৪৫২)।
মুফতী শফী (র) বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলেন, শী'আগণ 'আলী (রা)-এর সহিত ভালবাসা ও তাঁহার অনুসারী হইবার দাবি করা সত্ত্বেও আশ্চর্য ব্যাপার হইল যে, তাহারা মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করে। কিন্তু এই মাসআলায় 'আলী (রা) যে তাহাদিগের মতের বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন, এই সম্পর্কে তাহারা কি অবহিত নহে (মাআরিফুল কুরআন, ২খ., ৫ম অংশ, পৃ. ১৮)!

মুত'আ বিবাহ হইল নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানা দিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কোন মহিলাকে বিবাহ করা (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। তবে তাহা ছিল একান্ত প্রয়োজনে। যেইভাবে প্রাণ রক্ষার্থে মৃত জন্তু বা শূকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, অনুরূপ আত্মসংযমে একান্ত অপারগতায় তৎকালে মুত'আ বিবাহের অনুমতি ছিল। এই প্রসংগে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করা যাইতে পারে:
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ سَيْفُ اللَّهِ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ رَجُلٍ جَاءَهُ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَاهُ فِي الْمُتْعَةِ فَأَمَرَهُ بِهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ مَهْلاً قَالَ مَا هِيَ وَاللَّهِ لَقَدْ فَعَلْتُ فِي عَهْدِ اِمَامِ الْمُتَّقِينَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ إِنَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَام لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا كَالمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ ثُمَّ أَحْكَمَ اللَّهُ الدِّينَ وَنَهَى عَنْهَا .
"ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমাকে খালিদ ইবনুল মুহাজির সায়ফুল্লাহ জানাইয়াছেন যে, তিনি জনৈক লোকের নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় ঐ লোকটির নিকট অপর একজন লোক আসিয়া মুত'আ সম্পর্কে তাহার অভিমত জানিতে চাহিল। উপবিষ্ট লোকটি তাহাকে উহার অনুমতি দিল। এই সময় ইব্‌ন আবী আমরা আল-আনসারী (রা) তাহাকে বলিলেন, আচ্ছা একটু থাম। লোকটি বলিল, কি হইয়াছে? আল্লাহর শপথ! আমরা ইহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে করিয়াছি। ইব্‌ন আবী আমরা (রা) বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কেহ আত্মসংযমে অপারগ হইয়া গেলে তাহার জন্য মুত'আ করার অনুমতি ছিল, যেমনটি অনুমতি ছিল মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ করার। অতঃপর আল্লাহ দীনকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিলেন এবং মুত'আকে নিষিদ্ধ করিলেন" (সহীহ মুসলিম, নিকাহ, বাব ৩, নং ৩৪২৯/২৭)।
عَنْ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ يَقُولُ كُنَّا نَعْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيْسَ لَنَا نِسَاءً فَقُلْنَا أَلَا نَسْتَخْصِي فَنَهَانَا عَنْ ذلِكَ ثُمَّ رَخَّصَ لَنَا أَنْ تَنْكِحَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ قَرَا عَبْدُ اللَّهِ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.
"কায়স (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন মাস'উদ (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি: আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতাম। আমাদের সঙ্গে স্ত্রীলোক থাকিত না। একদা আমরা বলিলাম, আমরা কি নির্বীর্য হইয়া যাইব না? রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে নির্বীর্য হইতে নিষেধ করিলেন। অতঃপর আমাদিগকে বস্ত্রের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রা) পাঠ করিলেনঃ "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য যে সকল পবিত্র জিনিস আল্লাহ হালাল করিয়াছেন সেইগুলিকে তোমরা হারাম করিও না। কারণ সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে আল্লাহ ভালবাসেন না" (৫:৮৭ বুখারী, ২খ., ৭৫৯; মুসলিম, ১খ., ৪৫০)।
উক্ত হাদীছে নির্বীর্য হইবার আবেদনও প্রমাণ করে মুত'আ একান্ত অপারগ অবস্থায় বৈধ ছিল।
জাবির ইবন আবদিল্লাহ ও সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) বলেন, قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا مُنَادِى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ أَذِنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَمْتِعُوا يَعْنِي مُتْعَةَ النِّسَاءِ وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَانَا فَأَذِنَ لَنَا فِي المتعة.
"রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন ঘোষক আমাদের নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তোমাদের জন্য মহিলাদের সহিত মুত'আ বিবাহের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের মধ্যে আসিয়া আমাদিগকে মুত'আর অনুমতি প্রদান করিলেন” (মুসলিম, ২খ., ৪৫০)।
জাবির ও সালামা (রা)-এর বর্ণনায় যদিও এই কথার উল্লেখ নাই যে, কোন পটভূমিতে মুত'আর অনুমতি দেওয়া হইয়াছিল, বলা বাহুল্য তাহাও প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কারণ বিশদ রিওয়ায়াতসমূহে প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। অবশ্য পরবর্তী কালে মুত'আ বিবাহের এই অনুমতি প্রত্যাহার করিয়া লওয়া এবং বিদ'আতী রাফেযীগণ (শী'আ) ব্যতীত ইসলামের অনুসারী সকলেই এই ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০৫)। হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আইন গ্রন্থ হিদায়া-র গ্রন্থকার ইমাম মালিক (র) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহকে জায়েজ মনে করিতেন। কিন্তু ইমাম মালিক (র)-এর দিকে এইরূপ কথার সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ ভুল। হিদায়ার ভাষ্যকার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ পরিষ্কার ভাষায় বলিয়াছেন যে, হিদায়া গ্রন্থকার এই ক্ষেত্রে তথ্যবিভ্রাটের শিকার হইয়াছেন। কিছু কিছু লোক দাবি করেন যে, ইব্‌ন আব্বাস (রা) শেষ জীবন পর্যন্ত মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করিতেন। প্রকৃত পক্ষে এই দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইমাম তিরমিযী তাঁহার সুনান গ্রন্থে মুত'আ অধ্যায়ে যেই দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দ্বিতীয় হাদীছটি স্বয়ং ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّمَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي أَوَّلِ الإِسْلَامِ حَتَّى إِذَا نَزَلَتِ الْآيَةُ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَكُلُّ فَرْجِ سِوَاهُمَا فَهُوَ حَرَامٌ.
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুt'আ ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধ ছিল। তবে তাহা আল-কুরআনের আয়াত "একমাত্র তোমাদিগের স্ত্রী ও বাঁদীগণ ব্যতীত” (২৩ঃ ৬) অবতীর্ণ হইবার পূর্ব পর্যন্ত। অতঃপর ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, শরী'আতসম্মত স্ত্রী ও বাঁদীগণ ছাড়া অন্য সকলের সঙ্গে যৌন-সম্ভোগ হারাম"।
তবে একথা সমর্থনযোগ্য যে, ইবন 'আব্বাস (রা) তাঁহার জীবনের কিছুকাল পর্যন্ত মুত'আ বিবাহকে বৈধ মনে করিতেন। অতঃপর 'আলী (রা)-এর বুঝানোতে এবং আল-কুরআনের আয়াত إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ সম্পর্কে অবগত হইয়া তিনি তাঁহার মত প্রত্যাহার করিয়াছেন। 'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) ইবন 'আব্বাস (রা)-কে বুঝাইয়াছেন বলিয়া মুসলিমের নিম্নোক্ত রিওয়ায়তে পাওয়া যায় :
عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَلِيْنُ فِي مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَ مَهْلاً يَا ابْنَ عَبَّاسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ.
"আলী (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন্ন 'আব্বাস (রা) সম্পর্কে শুনিতে পাইলেন যে, তিনি মুত'আ বিবাহ সম্পর্কে নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। 'আলী (রা) বলিলেন, হে আব্বাস পুত্র! এই মনোভাব পরিহার কর। কারণ রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে মুত'আ ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন" (মুসলিম, দেওবন্দ, ১খ., ৪৫২)।
মুফতী শফী (র) বিস্ময় প্রকাশ করিয়া বলেন, শী'আগণ 'আলী (রা)-এর সহিত ভালবাসা ও তাঁহার অনুসারী হইবার দাবি করা সত্ত্বেও আশ্চর্য ব্যাপার হইল যে, তাহারা মুত'আ বৈধ হইবার অভিমত পোষণ করে। কিন্তু এই মাসআলায় 'আলী (রা) যে তাহাদিগের মতের বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন, এই সম্পর্কে তাহারা কি অবহিত নহে (মাআরিফুল কুরআন, ২খ., ৫ম অংশ, পৃ. ১৮)!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00