📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সকল ভূমিই কি বণ্টন করা হইয়াছিল?

📄 সকল ভূমিই কি বণ্টন করা হইয়াছিল?


'আল্লামা আয়নী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের সকল ভূমি বণ্টন করেন নাই, কিছু অংশ বণ্টন করিয়াছিলেন। শুধু আশ-শিক্ক ও আন-নাতা বণ্টন করেন এবং অবশিষ্ট ভূমি বণ্টন করেন নাই। ইহা হইতে জানা যায় যে, বিজিত ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ারভুক্ত। আবূ উবায়দ বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ও খুলাফায়ে রাশিদীন-এর হাদীছসমূহ হইতে বিজিতি ভূমি সম্পর্কে জানা যায় যে, যেই স্থান এবং যেই গোত্রের অধিবাসিগণ মুসলমান হইয়া যায় তাহাদের ভূমি তাহাদিগেরই মালিকানায় থাকে এবং 'উশ্র ব্যতীত তাহাদের আর কিছুই দিতে হয় না। আর যেই ভূমি সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে বিজিত হয় তাহা সন্ধির শর্ত মুতাবিক বণ্টিত হইবে। সন্ধিচুক্তি অনুযায়ী ভূমির যেই খারাজ নির্ধারিত হইবে, ভূমি ভোগকারীদের ইহার অতিরিক্ত আর কিছুই হইবে না।
কিন্তু যেই ভূমি বলপ্রয়োগ এবং বিজয় লাভের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইবনুল মুনযির বলেন, ইমাম শাফি'ঈ ও আবু ছাওরের মতে, শক্তি প্রয়োগ এবং যুদ্ধের ফলে বিজিত ভূমি গনীমতের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হইবে। অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ রাখিয়া অবশিষ্ট চার অংশ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইবে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁহার শিষ্যদ্বয় ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ এবং ইমাম ছাওরী (র) বলেন, এই শ্রেণীভুক্ত ভূমির ব্যাপারে ইমামের এখতিয়ার থাকিবে। তিনি তাহা বণ্টন করিতে পারিবেন এবং অবণ্টিতও রাখিতে পারিবেন কিংবা কিয়দংশ বণ্টন করিবেন এবং কয়দংশ অবণ্টিত রাখিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের অর্ধাংশ বণ্টন করিয়াছিলেন এবং অর্ধাংশ বণ্টন করেন নাই। এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত বানু কুরায়যার সম্পূর্ণ ভূমি বণ্টন করিয়াছিলেন। মক্কা শরীফের ভূমি মোটেই বণ্টন করেন নাই। অথচ এইসব ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল।
শাফি'ঈ মাযহাবের 'উলামা খায়বার বিজয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, যেই অর্দ্ধাংশ ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল তাহা বন্টন করা হয়, আর যেই অর্দ্ধাংশ সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহা বণ্টন করা হয় নাই। কিন্তু সকল রিওয়ায়াত ও চরিতগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, খায়বারে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধে পরাজিত হইয়াই ইয়াহুদীগণ সর্ব অধিকার হারাইয়াছিল। সন্ধিচুক্তিতে ভূমি, বাড়ি-ঘর এবং সম্পদের উপর তাহাদিগের কোন অধিকার স্বীকার করা হয় নাই। শর্ত এই ছিল যে, শুধু শরীরাচ্ছাদন অথবা অন্য বর্ণনানুসারে জন্তুযানে যাহা বহন করা যায় তাহা লইয়া খায়বার ভূমি ইয়াহুদীদের পরিত্যাগ করিতে হইবে। সন্ধি হইলে এই শর্ত আরোপিত হইত না।
ইব্‌ন শিহাব সূত্রে ইমাম মালিক (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বারের কতিপয় অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। আল-কাতীবার বেশীর ভাগ অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। ইমাম মালিক (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, আল-কাতীবা কি? তিনি উত্তরে বলিলেন, ইহা খায়বারেরই একটি স্থানের নাম যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর বৃক্ষ ছিল। এই সন্ধি চুক্তির বিবরণ স্বয়ং ইব্‌ন শিহাব হইতে আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে। ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমার নিকট রিওয়ায়াত পৌঁছিয়াছে যে, যুদ্ধের পর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার বিজিত হয় এবং খায়বারবাসী যাহারা স্বীয় ভূমি পরিত্যাগ করে এবং স্বীয় অধিকার পরিত্যাগ করিতে সম্মত হয় তাহা যুদ্ধের পরেই হইয়াছিল। কিন্তু ইহার পর খায়বারবাসীদের সংগে জমি ভাগে চাষাবাদের বিষয় স্থির হয়। পুনরায় জমি চাষ করিবার জন্য তাহাদিগকেই প্রদান করা হয় এবং বসত বাটিতে থাকিবারও অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধি চুক্তির সংগে ইহার কোন সম্পর্ক ছিল না। তাহারা শুধ শ্রম ব্যয় করিবার অনুমতি লাভ করিয়াছিল, ভূমি কিংবা বসতবাটির উপর তাহাদিগের কোন মালিকানা দাবি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (স) শর্তারোপ করিয়াছিলেন যে, যতক্ষণ ইচ্ছা এই ব্যবস্থা বহাল থাকিবে এবং যখন ইচ্ছা সমুদয় ভূমি তাহাদের নিকট হইতে প্রত্যাহার করা হইবে। সুতরাং এই শর্তের উপর ভিত্তি করিয়া 'উমার (রা) স্বীয় খিলাফতকালে তাহাদের নিকট হইতে ভূমি প্রত্যাহার করেন এবং তাহাদিগকে দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৬-২০০; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৭-১৩৮)।

'আল্লামা আয়নী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের সকল ভূমি বণ্টন করেন নাই, কিছু অংশ বণ্টন করিয়াছিলেন। শুধু আশ-শিক্ক ও আন-নাতা বণ্টন করেন এবং অবশিষ্ট ভূমি বণ্টন করেন নাই। ইহা হইতে জানা যায় যে, বিজিত ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ারভুক্ত। আবূ উবায়ড বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ও খুলাফায়ে রাশিদীন-এর হাদীছসমূহ হইতে বিজিতি ভূমি সম্পর্কে জানা যায় যে, যেই স্থান এবং যেই গোত্রের অধিবাসিগণ মুসলমান হইয়া যায় তাহাদের ভূমি তাহাদিগেরই মালিকানায় থাকে এবং 'উশ্র ব্যতীত তাহাদের আর কিছুই দিতে হয় না। আর যেই ভূমি সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে বিজিত হয় তাহা সন্ধির শর্ত মুতাবিক বণ্টিত হইবে। সন্ধিচুক্তি অনুযায়ী ভূমির যেই খারাজ নির্ধারিত হইবে, ভূমি ভোগকারীদের ইহার অতিরিক্ত আর কিছুই দিতে হইবে না।
কিন্তু যেই ভূমি বলপ্রয়োগ এবং বিজয় লাভের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইবনুল মুনযির বলেন, ইমাম শাফি'ঈ ও আবু ছাওরের মতে, শক্তি প্রয়োগ এবং যুদ্ধের ফলে বিজিত ভূমি গনীমতের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হইবে। অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ রাখিয়া অবশিষ্ট চার অংশ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইবে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁহার শিষ্যদ্বয় ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ এবং ইমাম ছাওরী (র) বলেন, এই শ্রেণীভুক্ত ভূমির ব্যাপারে ইমামের এখতিয়ার থাকিবে। তিনি তাহা বণ্টন করিতে পারিবেন এবং অবণ্টিতও রাখিতে পারিবেন কিংবা কিয়দংশ বণ্টন করিবেন এবং কয়দংশ অবণ্টিত রাখিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের অর্ধাংশ বণ্টন করিয়াছিলেন এবং অর্ধাংশ বণ্টন করেন নাই। এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত বানু কুরায়যার সম্পূর্ণ ভূমি বণ্টন করিয়াছিলেন। মক্কা শরীফের ভূমি মোটেই বণ্টন করেন নাই। অথচ এইসব ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল।
শাফি'ঈ মাযহাবের 'উলামা খায়বার বিজয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, যেই অর্দ্ধাংশ ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল তাহা বন্টন করা হয়, আর যেই অর্দ্ধাংশ সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহা বণ্টন করা হয় নাই। কিন্তু সকল রিওয়ায়াত ও চরিতগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, খায়বারে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধে পরাজিত হইয়াই ইয়াহুদীগণ সর্ব অধিকার হারাইয়াছিল। সন্ধিচুক্তিতে ভূমি, বাড়ি-ঘর এবং সম্পদের উপর তাহাদিগের কোন অধিকার স্বীকার করা হয় নাই। শর্ত এই ছিল যে, শুধু শরীরাচ্ছাদন অথবা অন্য বর্ণনানুসারে জন্তুযানে যাহা বহন করা যায় তাহা লইয়া খায়বার ভূমি ইয়াহুদীদের পরিত্যাগ করিতে হইবে। সন্ধি হইলে এই শর্ত আরোপিত হইত না।
ইব্‌ন শিহাব সূত্রে ইমাম মালিক (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বারের কতিপয় অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। আল-কাতীবার বেশীর ভাগ অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। ইমাম মালিক (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, আল-কাতীবা কি? তিনি উত্তরে বলিলেন, ইহা খায়বারেরই একটি স্থানের নাম যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর বৃক্ষ ছিল। এই সন্ধি চুক্তির বিবরণ স্বয়ং ইব্‌ন শিহাব হইতে আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে। ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমার নিকট রিওয়ায়াত পৌঁছিয়াছে যে, যুদ্ধের পর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার বিজিত হয় এবং খায়বারবাসী যাহারা স্বীয় ভূমি পরিত্যাগ করে এবং স্বীয় অধিকার পরিত্যাগ করিতে সম্মত হয় তাহা যুদ্ধের পরেই হইয়াছিল। কিন্তু ইহার পর খায়বারবাসীদের সংগে জমি ভাগে চাষাবাদের বিষয় স্থির হয়। পুনরায় জমি চাষ করিবার জন্য তাহাদিগকেই প্রদান করা হয় এবং বসত বাটিতে থাকিবারও অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধি চুক্তির সংগে ইহার কোন সম্পর্ক ছিল না। তাহারা শুধ শ্রম ব্যয় করিবার অনুমতি লাভ করিয়াছিল, ভূমি কিংবা বসতবাটির উপর তাহাদিগের কোন মালিকানা দাবি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (স) শর্তারোপ করিয়াছিলেন যে, যতক্ষণ ইচ্ছা এই ব্যবস্থা বহাল থাকিবে এবং যখন ইচ্ছা সমুদয় ভূমি তাহাদের নিকট হইতে প্রত্যাহার করা হইবে। সুতরাং এই শর্তের উপর ভিত্তি করিয়া 'উমার (রা) স্বীয় খিলাফতকালে তাহাদের নিকট হইতে ভূমি প্রত্যাহার করেন এবং তাহাদিগকে দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৬-২০০; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৭-১৩৮)।

'আল্লামা আয়নী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের সকল ভূমি বণ্টন করেন নাই, কিছু অংশ বণ্টন করিয়াছিলেন। শুধু আশ-শিক্ক ও আন-নাতা বণ্টন করেন এবং অবশিষ্ট ভূমি বণ্টন করেন নাই। ইহা হইতে জানা যায় যে, বিজিত ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ারভুক্ত। আবূ উবায়ড বলেন, রাসূলুল্লাহ (س) ও খুলাফায়ে রাশিদীন-এর হাদীছসমূহ হইতে বিজিতি ভূমি সম্পর্কে জানা যায় যে, যেই স্থান এবং যেই গোত্রের অধিবাসিগণ মুসলমান হইয়া যায় তাহাদের ভূমি তাহাদিগেরই মালিকানায় থাকে এবং 'উশ্র ব্যতীত তাহাদের আর কিছুই দিতে হয় না। আর যেই ভূমি সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে বিজিত হয় তাহা সন্ধির শর্ত মুতাবিক বণ্টিত হইবে। সন্ধিচুক্তি অনুযায়ী ভূমির যেই খারাজ নির্ধারিত হইবে, ভূমি ভোগকারীদের ইহার অতিরিক্ত আর কিছুই হইবে না।
কিন্তু যেই ভূমি বলপ্রয়োগ এবং বিজয় লাভের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইবনুল মুনযির বলেন, ইমাম শাফি'ঈ ও আবু ছাওরের মতে, শক্তি প্রয়োগ এবং যুদ্ধের ফলে বিজিত ভূমি গনীমতের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হইবে। অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ রাখিয়া অবশিষ্ট চার অংশ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইবে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁহার শিষ্যদ্বয় ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ এবং ইমাম ছাওরী (র) বলেন, এই শ্রেণীভুক্ত ভূমির ব্যাপারে ইমামের এখতিয়ার থাকিবে। তিনি তাহা বণ্টন করিতে পারিবেন এবং অবণ্টিতও রাখিতে পারিবেন কিংবা কিয়দংশ বণ্টন করিবেন এবং কয়দংশ অবণ্টিত রাখিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের অর্ধাংশ বণ্টন করিয়াছিলেন এবং অর্ধাংশ বণ্টন করেন নাই। এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত বানু কুরায়যার সম্পূর্ণ ভূমি বণ্টন করিয়াছিলেন। মক্কা শরীফের ভূমি মোটেই বণ্টন করেন নাই। অথচ এইসব ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল।
শাফি'ঈ মাযহাবের 'উলামা খায়বার বিজয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, যেই অর্দ্ধাংশ ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল তাহা বন্টন করা হয়, আর যেই অর্দ্ধাংশ সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহা বণ্টন করা হয় নাই। কিন্তু সকল রিওয়ায়াত ও চরিতগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, খায়বারে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধে পরাজিত হইয়াই ইয়াহুদীগণ সর্ব অধিকার হারাইয়াছিল। সন্ধিচুক্তিতে ভূমি, বাড়ি-ঘর এবং সম্পদের উপর তাহাদিগের কোন অধিকার স্বীকার করা হয় নাই। শর্ত এই ছিল যে, শুধু শরীরাচ্ছাদন অথবা অন্য বর্ণনানুসারে জন্তুযানে যাহা বহন করা যায় তাহা লইয়া খায়বার ভূমি ইয়াহুদীদের পরিত্যাগ করিতে হইবে। সন্ধি হইলে এই শর্ত আরোপিত হইত না।
ইব্‌ن শিহাব সূত্রে ইমাম মালিক (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বারের কতিপয় অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। আল-কাতীবার বেশীর ভাগ অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। ইমাম মালিক (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, আল-কাতীবা কি? তিনি উত্তরে বলিলেন, ইহা খায়বারেরই একটি স্থানের নাম যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর বৃক্ষ ছিল। এই সন্ধি চুক্তির বিবরণ স্বয়ং ইব্‌ন শিহাব হইতে আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে। ইব্‌ن শিহাব বলেন, আমার নিকট রিওয়ায়াত পৌঁছিয়াছে যে, যুদ্ধের পর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার বিজিত হয় এবং খায়বারবাসী যাহারা স্বীয় ভূমি পরিত্যাগ করে এবং স্বীয় অধিকার পরিত্যাগ করিতে সম্মত হয় তাহা যুদ্ধের পরেই হইয়াছিল। কিন্তু ইহার পর খায়বারবাসীদের সংগে জমি ভাগে চাষাবাদের বিষয় স্থির হয়। পুনরায় জমি চাষ করিবার জন্য তাহাদিগকেই প্রদান করা হয় এবং বসত বাটিতে থাকিবারও অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধি চুক্তির সংগে ইহার কোন সম্পর্ক ছিল না। তাহারা শুধ শ্রম ব্যয় করিবার অনুমতি লাভ করিয়াছিল, ভূমি কিংবা বসতবাটির উপর তাহাদিগের কোন মালিকানা দাবি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (س) শর্তারোপ করিয়াছিলেন যে, যতক্ষণ ইচ্ছা এই ব্যবস্থা বহাল থাকিবে এবং যখন ইচ্ছা সমুদয় ভূমি তাহাদের নিকট হইতে প্রত্যাহার করা হইবে। সুতরাং এই শর্তের উপর ভিত্তি করিয়া 'উমার (রা) স্বীয় খিলাফতকালে তাহাদের নিকট হইতে ভূমি প্রত্যাহার করেন এবং তাহাদিগকে দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৬-২০০; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৭-১৩৮)।

'আল্লামা আয়নী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের সকল ভূমি বণ্টন করেন নাই, কিছু অংশ বণ্টন করিয়াছিলেন। শুধু আশ-শিক্ক ও আন-নাতা বণ্টন করেন এবং অবশিষ্ট ভূমি বণ্টন করেন নাই। ইহা হইতে জানা যায় যে, বিজিত ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ারভুক্ত। আবূ উবায়দ বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ও খুলাফায়ে রাশিদীন-এর হাদীছসমূহ হইতে বিজিতি ভূমি সম্পর্কে জানা যায় যে, যেই স্থান এবং যেই গোত্রের অধিবাসিগণ মুসলমান হইয়া যায় তাহাদের ভূমি তাহাদিগেরই মালিকানায় থাকে এবং 'উশ্র ব্যতীত তাহাদের আর কিছুই দিতে হয় না। আর যেই ভূমি সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে বিজিত হয় তাহা সন্ধির শর্ত মুতাবিক বণ্টিত হইবে। সন্ধিচুক্তি অনুযায়ী ভূমির যেই খারাজ নির্ধারিত হইবে, ভূমি ভোগকারীদের ইহার অতিরিক্ত আর কিছুই দিতে হইবে না।
কিন্তু যেই ভূমি বলপ্রয়োগ এবং বিজয় লাভের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইবনুল মুনযির বলেন, ইমাম শাফি'ঈ ও আবু ছাওরের মতে, শক্তি প্রয়োগ এবং যুদ্ধের ফলে বিজিত ভূমি গনীমতের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হইবে। অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ রাখিয়া অবশিষ্ট চার অংশ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইবে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁহার শিষ্যদ্বয় ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ এবং ইমাম ছাওরী (র) বলেন, এই শ্রেণীভুক্ত ভূমির ব্যাপারে ইমামের এখতিয়ার থাকিবে। তিনি তাহা বণ্টন করিতে পারিবেন এবং অবণ্টিতও রাখিতে পারিবেন কিংবা কিয়দংশ বণ্টন করিবেন এবং কয়দংশ অবণ্টিত রাখিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের অর্ধাংশ বণ্টন করিয়াছিলেন এবং অর্ধাংশ বণ্টন করেন নাই। এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত বানু কুরায়যার সম্পূর্ণ ভূমি বণ্টন করিয়াছিলেন। মক্কা শরীফের ভূমি মোটেই বণ্টন করেন নাই। অথচ এইসব ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল।
শাফি'ঈ মাযহাবের 'উলামা খায়বার বিজয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, যেই অর্দ্ধাংশ ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল তাহা বন্টন করা হয়, আর যেই অর্দ্ধাংশ সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহা বণ্টন করা হয় নাই। কিন্তু সকল রিওয়ায়াত ও চরিতগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, খায়বারে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধে পরাজিত হইয়াই ইয়াহুদীগণ সর্ব অধিকার হারাইয়াছিল। সন্ধিচুক্তিতে ভূমি, বাড়ি-ঘর এবং সম্পদের উপর তাহাদিগের কোন অধিকার স্বীকার করা হয় নাই। শর্ত এই ছিল যে, শুধু শরীরাচ্ছাদন অথবা অন্য বর্ণনানুসারে জন্তুযানে যাহা বহন করা যায় তাহা তাহা লইয়া খায়বার ভূমি ইয়াহুদীদের পরিত্যাগ করিতে হইবে। সন্ধি হইলে এই শর্ত আরোপিত হইত না।
ইব্‌ন শিহাব সূত্রে ইমাম মালিক (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বারের কতিপয় অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। আল-কাতীবার বেশীর ভাগ অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। ইমাম মালিক (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, আল-কাতীবা কি? তিনি উত্তরে বলিলেন, ইহা খায়বারেরই একটি স্থানের নাম যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর বৃক্ষ ছিল। এই সন্ধি চুক্তির বিবরণ স্বয়ং ইব্‌ন শিহাব হইতে আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে। ইব্‌ন শিহাব বলেন, আমার নিকট রিওয়ায়াত পৌঁছিয়াছে যে, যুদ্ধের পর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার বিজিত হয় এবং খায়বারবাসী যাহারা স্বীয় ভূমি পরিত্যাগ করে এবং স্বীয় অধিকার পরিত্যাগ করিতে সম্মত হয় তাহা যুদ্ধের পরেই হইয়াছিল। কিন্তু ইহার পর খায়বারবাসীদের সংগে জমি ভাগে চাষাবাদের বিষয় স্থির হয়। পুনরায় জমি চাষ করিবার জন্য তাহাদিগকেই প্রদান করা হয় এবং বসত বাটিতে থাকিবারও অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধি চুক্তির সংগে ইহার কোন সম্পর্ক ছিল না। তাহারা শুধ শ্রম ব্যয় করিবার অনুমতি লাভ করিয়াছিল, ভূমি কিংবা বসতবাটির উপর তাহাদিগের কোন মালিকানা দাবি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (স) শর্তারোপ করিয়াছিলেন যে, যতক্ষণ ইচ্ছা এই ব্যবস্থা বহাল থাকিবে এবং যখন ইচ্ছা সমুদয় ভূমি তাহাদের নিকট হইতে প্রত্যাহার করা হইবে। সুতরাং এই শর্তের উপর ভিত্তি করিয়া 'উমার (রা) স্বীয় খিলাফতকালে তাহাদের নিকট হইতে ভূমি প্রত্যাহার করেন এবং তাহাদিগকে দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৬-২০০; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৭-১৩৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাবশা হইতে তথাকার মুহাজিরগণের প্রত্যাবর্তন

📄 হাবশা হইতে তথাকার মুহাজিরগণের প্রত্যাবর্তন


খায়বার যুদ্ধ চলাকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচাত ভাই জা'ফার ও তাঁহার সঙ্গিগণ এবং আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) আশ'আরী গোত্রের সঙ্গী-সাথীসহ জাহাজে খায়বারে উপনীত হইয়াছিলেন। তাঁহাদের সহিত আসমা বিনত উমায়স (রা)-ও ছিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৮)। আবূ মূসা আশ'আরী (রা) বলেন, যখন আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবুওয়াত লাভের কিংবা তাঁহার হিজরতের সংবাদ পৌঁছিল তখন আমরা ইয়ামানে ছিলাম। আমার হইতে বয়সে বড় আমার দুই ভাই আবূ বুরদা ও আবূ রুহমসহ ৫২ কিংবা ৫৩ ব্যক্তির একটি দল তাঁহার সহিত সাক্ষাতের জন্য নৌকায় আরোহণ করি। আমাদের নৌকাটি ঘটনাক্রমে আমাদেরকে আবিসিনিয়ায় নিয়া পৌছাইল। এই স্থানে জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিবের সহিত আমাদের সাক্ষাত ঘটে। আমরা তথায় তাঁহার সহিত অবস্থান করিয়া পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিবার উদ্দেশ্যে সকলে একসংগে রওয়ানা হই। তখন রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার জয় করিয়াছেন। এখানকার কিছু সংখ্যক লোক আমাদিগকে দেখিয়া বলিতে লাগিলেন, আমরা তোমাদের পূর্বেই হিজরত করিবার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছি। ইহাদের অন্যতম ছিলেন 'উমার (রা) ও আসমা বিন্ত উমায়স (রা) যিনি আমাদিগের সঙ্গে হাবশা হইতে আগমন করিয়াছিলেন। তিনি উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রা)-এর সহিত সাক্ষাৎ করিবার উদ্দেশ্যে তাহার গৃহে প্রবেশ করিলেন। উমার (রা) হাফসা (রা)-এর গৃহে প্রবেশ করিয়া আসমা (রা)-কে তাঁহার নিকট দেখিতে পাইয়া বলিলেন, এই মহিলা কে? হাফসা (রা) বলিলেন, আসমা বিন্ত 'উমায়স। 'উমার (রা) ইহা শুনিয়া বলিলেন:
الْحَبَشِيَّةُ هَذِهِ الْجَرِيَّةُ هَذِهِ. "ইনি কি হাবশায় হিজরতকারিনী? ইনি কি নৌযান আরোহিনী"?
আসমা (রা) বলিলেন, হাঁ, আমি সেই মহিলা। উমার (রা) বলিলেন, আমরা আপনাদের পূর্বেই হিজরত করিয়া ধন্য হইয়াছি। আমরা আপনাদের হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বেশী নৈকট্য লাভকারী। এই কথা শুনিয়া আসমা' (রা) রাগান্বিত হইলেন এবং বলিতে লাগিলেন, "কখনও নয়, আল্লাহ্র শপথ! আপনারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি আপনাদের ক্ষুধার্তকে আহার দিতেন, আপনাদের মধ্যে অজ্ঞ লোকদিগকে উপদেশ দিতেন। আর আমরা ছিলাম দূরবর্তী প্রতিকূল হাবশায়। আমাদের এই হিজরত আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছিল। আল্লাহর শপথ! আমি আপনার এই কথা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উল্লেখ না করা পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করিব না। আমরা কষ্টের মধ্যে পতিত ছিলাম, ভীত সন্ত্রস্ত ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত এই ব্যাপারে আলোচনা করিব। আল্লাহ্র শপথ! আমি কোন মিথ্যা বলিব না, বিকৃত করিব না, বাড়াইয়া বলিব না!
রাসূলুল্লাহ (স) যখন গৃহে আগমন করিলেন তখন আসমা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র নবী। উমার এই এই বলিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তুমি তাহাকে কি বলিয়াছ? তিনি বলিলেন, আমি তাহাকে এই এই বলিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহারা আমার নিকট তোমাদের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য নহে। তাহার ও তাহার সঙ্গীদের আছে একটি হিজরত, আর হে নৌ-আরোহিগণ! তোমাদের আছে দুইটি হিজরত। আসমা (রা) বলেন, আমার নিকট এই হাদীছের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিতে আবূ মূসা ও নৌ-আরোহিগণকে আমার নিকট দলে দলে আসিতে দেখিলাম। তাহাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই কথা এতই আনন্দদায়ক মনে হইয়াছিল যে, পার্থিব জগতে ইহা হইতে আনন্দের এবং উত্তম কিছুই তাহাদের নিকট ছিল না (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬০৭-৬০৮)।
যখন এই নৌবাহিনী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিল তখন তিনি জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব (রা)-এর সঙ্গে মিলিত হইলেন এবং তাঁহার ললাটে চুমা দিলেন। অতঃপর বলিলেনঃ আমরা বলিতে পারি না খায়বার বিজয় না জা'ফারের আগমন আমাদের নিকট অধিকতর আনন্দের বিষয়। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে "দুইটি হিজরতের অধিকারী" আখ্যায়িত করিলেন।
মূসা ইব্‌ন 'উকবা বলেন, বানু ফাযারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাহায্যার্থে খায়বারে আগমন করিয়াছিল, কিন্তু তিনি তাহাদের সাহায্য গ্রহণ করেন নাই। ওয়াকিদী বর্ণনা করিয়াছেন যে, 'উওয়ায়না ইব্‌ন হিস্‌স ফাযারী খায়বার বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমার মিত্রদের নিকট হইতে আপনি যেই সম্পদ পাইয়াছেন, তাহা হইতে আমাকেও অংশ দান করুন। কারণ ইহারা আমার মিত্র হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাহাদিগকে সাহায্য করি নাই। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা মিথ্যাবাদী। তোমরা তো তাহাদের সাহায্যার্থে অগ্রসর হইয়াছিলে। কিন্তু আল্লাহই তোমাদের গতিরোধ করিয়াছেন। এখন তোমাদের জন্য রহিয়াছে যুর-রুকায়বা। জিজ্ঞাসা করা হইল, যুর-রুকায়বা কি? রাসূলুল্লাহ (স) উত্তর দিলেন, ইহা হইতেছে খায়বারের পাহাড় যাহা তোমরা স্বপ্নে দর্শন করিয়াছ।
'উয়ায়না বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করিলে তাঁহার নিকট হারিছ ইব্‌ন আওফ আসিয়া বলিল, মুহাম্মাদ (স) নিশ্চিতভাবে পূর্ব-পশ্চিম সর্বত্র প্রাধান্য বিস্তার করিবেন। আমরা ইয়াহুদীদের নিকট শুনিয়াছি এবং আমরা এই কথার সাক্ষী যে, স্বয়ং আবু রাফে' সাল্লাম ইব্‌ন আবিল হুকায়ক বলিয়াছিলেন, আমরা মুহাম্মাদের প্রতি এই কারণে ঈর্ষাপরায়ণ যে, নবুওয়াত বানু হারূন হইতে চলিয়া গিয়াছে। অন্যথায় তিনিই যে রাসূল ইহাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। অবশ্য ইয়াহুদীগণ আমার এই কথায় কর্ণপাত করিতে রাজি নয়। আমাদেরকে এই ব্যাপারে বড় দুইটি মাশুল দিতে হইবেঃ একটি ইয়াছরিবে এবং অপরটি খায়বারে। হারিছ বলিল, ইহা শুনিয়া আমি সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করিলাম, তিনি কি সারা বিশ্ব জয় করিবেন? উত্তরে সে বলিল, হাঁ। (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০০-২০১)।

খায়বার যুদ্ধ চলাকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচাত ভাই জা'ফার ও তাঁহার সঙ্গিগণ এবং আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) আশ'আরী গোত্রের সঙ্গী-সাথীসহ জাহাজে খায়বারে উপনীত হইয়াছিলেন। তাঁহাদের সহিত আসমা বিনত উমায়স (রা)-ও ছিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৮)। আবূ মূসা আশ'আরী (রা) বলেন, যখন আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবুওয়াত লাভের কিংবা তাঁহার হিজরতের সংবাদ পৌঁছিল তখন আমরা ইয়ামানে ছিলাম। আমার হইতে বয়সে বড় আমার দুই ভাই আবূ বুরদা ও আবূ রুহমসহ ৫২ কিংবা ৫৩ ব্যক্তির একটি দল তাঁহার সহিত সাক্ষাতের জন্য নৌকায় আরোহণ করি। আমাদের নৌকাটি ঘটনাক্রমে আমাদেরকে আবিসিনিয়ায় নিয়া পৌছাইল। এই স্থানে জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিবের সহিত আমাদের সাক্ষাত ঘটে। আমরা তথায় তাঁহার সহিত অবস্থান করিয়া পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিবার উদ্দেশ্যে সকলে একসংগে রওয়ানা হই। তখন রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার জয় করিয়াছেন। এখানকার কিছু সংখ্যক লোক আমাদিগকে দেখিয়া বলিতে লাগিলেন, আমরা তোমাদের পূর্বেই হিজরত করিবার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছি। ইহাদের অন্যতম ছিলেন 'উমার (রা) ও আসমা বিন্ত উমায়س (را) যিনি আমাদিগের সঙ্গে হাবশা হইতে আগমন করিয়াছিলেন। তিনি উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রা)-এর সহিত সাক্ষাৎ করিবার উদ্দেশ্যে তাহার গৃহে প্রবেশ করিলেন। উমার (রা) হাফসা (রা)-এর গৃহে প্রবেশ করিয়া আসমা (রা)-কে তাঁহার নিকট দেখিতে পাইয়া বলিলেন, এই মহিলা কে? হাফসা (রা) বলিলেন, আসমা বিন্ত 'উমায়স। 'উমার (রা) ইহা শুনিয়া বলিলেন:
الْحَبَشِيَّةُ هَذِهِ الْجَرِيَّةُ هَذِهِ. "ইনি কি হাবশায় হিজরতকারিনী? ইনি কি নৌযান আরোহিনী"?
আসমা (রা) বলিলেন, হাঁ, আমি সেই মহিলা। উমার (রা) বলিলেন, আমরা আপনাদের পূর্বেই হিজরত করিয়া ধন্য হইয়াছি। আমরা আপনাদের হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বেশী নৈকট্য লাভকারী। এই কথা শুনিয়া আসমা' (রা) রাগান্বিত হইলেন এবং বলিতে লাগিলেন, "কখনও নয়, আল্লাহ্র শপথ! আপনারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি আপনাদের ক্ষুধার্তকে আহার দিতেন, আপনাদের মধ্যে অজ্ঞ লোকদিগকে উপদেশ দিতেন। আর আমরা ছিলাম দূরবর্তী প্রতিকূল হাবশায়। আমাদের এই হিজরত আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছিল। আল্লাহর শপথ! আমি আপনার এই কথা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উল্লেখ না করা পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করিব না। আমরা কষ্টের মধ্যে পতিত ছিলাম, ভীত সন্ত্রস্ত ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত এই ব্যাপারে আলোচনা করিব। আল্লাহ্র শপথ! আমি কোন মিথ্যা বলিব না, বিকৃত করিব না, বাড়াইয়া বলিব না!
রাসূলুল্লাহ (স) যখন গৃহে আগমন করিলেন তখন আসমা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র নবী। উমার এই এই বলিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তুমি তাহাকে কি বলিয়াছ? তিনি বলিলেন, আমি তাহাকে এই এই বলিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহারা আমার নিকট তোমাদের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য নহে। তাহার ও তাহার সঙ্গীদের আছে একটি হিজরত, আর হে নৌ-আরোহিগণ! তোমাদের আছে দুইটি হিজরত। আসমা (রা) বলেন, আমার নিকট এই হাদীছের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিতে আবূ মূসা ও নৌ-আরোহিগণকে আমার নিকট দলে দলে আসিতে দেখিলাম। তাহাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই কথা এতই আনন্দদায়ক মনে হইয়াছিল যে, পার্থিব জগতে ইহা হইতে আনন্দের এবং উত্তম কিছুই তাহাদের নিকট ছিল না (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬০৭-৬০৮)।
যখন এই নৌবাহিনী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিল তখন তিনি জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব (রা)-এর সঙ্গে মিলিত হইলেন এবং তাঁহার ললাটে চুমা দিলেন। অতঃপর বলিলেনঃ আমরা বলিতে পারি না খায়বার বিজয় না জা'ফারের আগমন আমাদের নিকট অধিকতর আনন্দের বিষয়। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে "দুইটি হিজরতের অধিকারী" আখ্যায়িত করিলেন।
মূসা ইব্‌ন 'উকবা বলেন, বানু ফাযারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাহায্যার্থে খায়বারে আগমন করিয়াছিল, কিন্তু তিনি তাহাদের সাহায্য গ্রহণ করেন নাই। ওয়াকিদী বর্ণনা করিয়াছেন যে, 'উওয়ায়না ইব্‌ন হিস্‌স ফাযারী খায়বার বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমার মিত্রদের নিকট হইতে আপনি যেই সম্পদ পাইয়াছেন, তাহা হইতে আমাকেও অংশ দান করুন। কারণ ইহারা আমার মিত্র হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাহাদিগকে সাহায্য করি নাই। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা মিথ্যাবাদী। তোমরা তো তাহাদের সাহায্যার্থে অগ্রসর হইয়াছিলে। কিন্তু আল্লাহই তোমাদের গতিরোধ করিয়াছেন। এখন তোমাদের জন্য রহিয়াছে যুর-রুকায়বা। জিজ্ঞাসা করা হইল, যুর-রুকায়বা কি? রাসূলুল্লাহ (স) উত্তর দিলেন, ইহা হইতেছে খায়বারের পাহাড় যাহা তোমরা স্বপ্নে দর্শন করিয়াছ।
'উয়ায়না বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করিলে তাঁহার নিকট হারিছ ইব্‌ন আওফ আসিয়া বলিল, মুহাম্মাদ (স) নিশ্চিতভাবে পূর্ব-পশ্চিম সর্বত্র প্রাধান্য বিস্তার করিবেন। আমরা ইয়াহুদীদের নিকট শুনিয়াছি এবং আমরা এই কথার সাক্ষী যে, স্বয়ং আবু রাফে' সাল্লাম ইব্‌ন আবিল হুকায়ক বলিয়াছিলেন, আমরা মুহাম্মাদের প্রতি এই কারণে ঈর্ষাপরায়ণ যে, নবুওয়াত বানু হারূন হইতে চলিয়া গিয়াছে। অন্যথায় তিনিই যে রাসূল ইহাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। অবশ্য ইয়াহুদীগণ আমার এই কথায় কর্ণপাত করিতে রাজি নয়। আমাদেরকে এই ব্যাপারে বড় দুইটি মাশুল দিতে হইবেঃ একটি ইয়াছরিবে এবং অপরটি খায়বারে। হারিছ বলিল, ইহা শুনিয়া আমি সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করিলাম, তিনি কি সারা বিশ্ব জয় করিবেন? উত্তরে সে বলিল, হাঁ। (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০০-২০১)।

খায়বার যুদ্ধ চলাকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচাত ভাই জা'ফার ও তাঁহার সঙ্গিগণ এবং আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) আশ'আরী গোত্রের সঙ্গী-সাথীসহ জাহাজে খায়বারে উপনীত হইয়াছিলেন। তাঁহাদের সহিত আসমা বিনত উমায়س (রা)-ও ছিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৮)। আবূ মূসা আশ'আরী (রা) বলেন, যখন আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবুওয়াত লাভের কিংবা তাঁহার হিজরতের সংবাদ পৌঁছিল তখন আমরা ইয়ামানে ছিলাম। আমার হইতে বয়সে বড় আমার দুই ভাই আবূ বুরদা ও আবূ রুহমসহ ৫২ কিংবা ৫৩ ব্যক্তির একটি দল তাঁহার সহিত সাক্ষাতের জন্য নৌকায় আরোহণ করি। আমাদের নৌকাটি ঘটনাক্রমে আমাদেরকে আবিসিনিয়ায় নিয়া পৌছাইল। এই স্থানে জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিবের সহিত আমাদের সাক্ষাত ঘটে। আমরা তথায় তাঁহার সহিত অবস্থান করিয়া পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (س)-এর সহিত সাক্ষাত করিবার উদ্দেশ্যে সকলে একসংগে রওয়ানা হই। তখন রাসূলুল্লাহ (س) খায়বার জয় করিয়াছেন। এখানকার কিছু সংখ্যক লোক আমাদিগকে দেখিয়া বলিতে লাগিলেন, আমরা তোমাদের পূর্বেই হিজরত করিবার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছি। ইহাদের অন্যতম ছিলেন 'উমার (রা) ও আসমা بিন্ত উমায়س (را) যিনি আমাদিগের সঙ্গে হাবশা হইতে আগমন করিয়াছিলেন। তিনি উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (را)-এর সহিত সাক্ষাৎ করিবার উদ্দেশ্যে তাহার গৃহে প্রবেশ করিলেন। উমার (را) হাফসা (রা)-এর গৃহে প্রবেশ করিয়া আসমা (রা)-কে তাঁহার নিকট দেখিতে পাইয়া বলিলেন, এই মহিলা কে? হাফসা (را) বলিলেন, আসমা بিন্ত 'উমায়س। 'উমার (را) ইহা শুনিয়া বলিলেন:
الْحَبَشِيَّةُ هَذِهِ الْجَرِيَّةُ هَذِهِ. "ইনি কি হাবশায় হিজরতকারিনী? ইনি কি নৌযান আরোহিনী"?
আসমা (را) বলিলেন, হাঁ, আমি সেই মহিলা। উমার (را) বলিলেন, আমরা আপনাদের পূর্বেই হিজরত করিয়া ধন্য হইয়াছি। আমরা আপনাদের হইতে রাসূলুল্লাহ (س)-এর বেশী নৈকট্য লাভকারী। এই কথা শুনিয়া আসমা' (রা) রাগান্বিত হইলেন এবং বলিতে লাগিলেন, "কখনও নয়, আল্লাহ্র শপথ! আপনারা রাসূলুল্লাহ (س)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি আপনাদের ক্ষুধার্তকে আহার দিতেন, আপনাদের মধ্যে অজ্ঞ লোকদিগকে উপদেশ দিতেন। আর আমরা ছিলাম দূরবর্তী প্রতিকূল হাবশায়। আমাদের এই হিজরত আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছিল। আল্লাহর শপথ! আমি আপনার এই কথা রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট উল্লেখ না করা পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করিব না। আমরা কষ্টের মধ্যে পতিত ছিলাম, ভীত সন্ত্রস্ত ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত এই ব্যাপারে আলোচনা করিব। আল্লাহ্র শপথ! আমি কোন মিথ্যা বলিব না, বিকৃত করিব না, বাড়াইয়া বলিব না!
রাসূলুল্লাহ (س) যখন গৃহে আগমন করিলেন তখন আসমা (را) বলিলেন, হে আল্লাহ্র নবী। উমার এই এই বলিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তুমি তাহাকে কি বলিয়াছ? তিনি বলিলেন, আমি তাহাকে এই এই বলিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহারা আমার নিকট তোমাদের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য নহে। তাহার ও তাহার সঙ্গীদের আছে একটি হিজরত, আর হে নৌ-আরোহিগণ! তোমাদের আছে দুইটি হিজরত। আসমা (রা) বলেন, আমার নিকট এই হাদীছের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিতে আবূ মূসা ও নৌ-আরোহিগণকে আমার নিকট দলে দলে আসিতে দেখিলাম। তাহাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (س)-এর এই কথা এতই আনন্দদায়ক মনে হইয়াছিল যে, পার্থিব জগতে ইহা হইতে আনন্দের এবং উত্তম কিছুই তাহাদের নিকট ছিল না (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬০৭-৬০৮)।
যখন এই নৌবাহিনী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিল তখন তিনি জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব (রা)-এর সঙ্গে মিলিত হইলেন এবং তাঁহার ললাটে চুমা দিলেন। অতঃপর বলিলেনঃ আমরা বলিতে পারি না খায়বার বিজয় না জা'ফারের আগমন আমাদের নিকট অধিকতর আনন্দের বিষয়। রাসূলুল্লাহ (س) তাহাদিগকে "দুইটি হিজরতের অধিকারী" আখ্যায়িত করিলেন।
মূসা ইব্‌ন 'উকবা বলেন, বানু ফাযারা রাসূলুল্লাহ (س)-এর সাহায্যার্থে খায়বারে আগমন করিয়াছিল, কিন্তু তিনি তাহাদের সাহায্য গ্রহণ করেন নাই। ওয়াকিদী বর্ণনা করিয়াছেন যে, 'উওয়ায়نا ইব্‌ن হিস্‌স ফাযারী খায়বার বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমার মিত্রদের নিকট হইতে আপনি যেই সম্পদ পাইয়াছেন, তাহা হইতে আমাকেও অংশ দান করুন। কারণ ইহারা আমার মিত্র হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাহাদিগকে সাহায্য করি নাই। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা মিথ্যাবাদী। তোমরা তো তাহাদের সাহায্যার্থে অগ্রসর হইয়াছিলে। কিন্তু আল্লাহই তোমাদের গতিরোধ করিয়াছেন। এখন তোমাদের জন্য রহিয়াছে যুর-রুকায়বা। জিজ্ঞাসা করা হইল, যুর-রুকায়বা কি? রাসূলুল্লাহ (س) উত্তর দিলেন, ইহা হইতেছে খায়বারের পাহাড় যাহা তোমরা স্বপ্নে দর্শন করিয়াছ।
'উয়ায়نا বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করিলে তাঁহার নিকট হারিছ ইব্‌ن আওف আসিয়া বলিল, মুহাম্মাদ (স) নিশ্চিতভাবে পূর্ব-পশ্চিম সর্বত্র প্রাধান্য বিস্তার করিবেন। আমরা ইয়াহুদীদের নিকট শুনিয়াছি এবং আমরা এই কথার সাক্ষী যে, স্বয়ং আবু রাফে' সাল্লাম ইব্‌ن আবিল হুকায়ক বলিয়াছিলেন, আমরা মুহাম্মাদের প্রতি এই কারণে ঈর্ষাপরায়ণ যে, নবুওয়াত বানু হারূন হইতে চলিয়া গিয়াছে। অন্যথায় তিনিই যে রাসূল ইহাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। অবশ্য ইয়াহুদীগণ আমার এই কথায় কর্ণপাত করিতে রাজি নয়। আমাদেরকে এই ব্যাপারে বড় দুইটি মাশুল দিতে হইবেঃ একটি ইয়াছরিবে এবং অপরটি খায়বারে। হারিছ বলিল, ইহা শুনিয়া আমি সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করিলাম, তিনি কি সারা বিশ্ব জয় করিবেন? উত্তরে সে বলিল, হাঁ। (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০০-২০১)।

খায়বার যুদ্ধ চলাকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচাত ভাই জা'ফার ও তাঁহার সঙ্গিগণ এবং আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) আশ'আরী গোত্রের সঙ্গী-সাথীসহ জাহাজে খায়বারে উপনীত হইয়াছিলেন। তাঁহাদের সহিত আসমা বিনত উমায়স (রা)-ও ছিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৮)। আবূ মূসা আশ'আরী (রা) বলেন, যখন আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবুওয়াত লাভের কিংবা তাঁহার হিজরতের সংবাদ পৌঁছিল তখন আমরা ইয়ামানে ছিলাম। আমার হইতে বয়সে বড় আমার দুই ভাই আবূ বুরদা ও আবূ রুহমসহ ৫২ কিংবা ৫৩ ব্যক্তির একটি দল তাঁহার সহিত সাক্ষাতের জন্য নৌকায় আরোহণ করি। আমাদের নৌকাটি ঘটনাক্রমে আমাদেরকে আবিসিনিয়ায় নিয়া পৌছাইল। এই স্থানে জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিবের সহিত আমাদের সাক্ষাত ঘটে। আমরা তথায় তাঁহার সহিত অবস্থান করিয়া পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিবার উদ্দেশ্যে সকলে একসংগে রওয়ানা হই। তখন রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার জয় করিয়াছেন। এখানকার কিছু সংখ্যক লোক আমাদিগকে দেখিয়া বলিতে লাগিলেন, আমরা তোমাদের পূর্বেই হিজরত করিবার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছি। ইহাদের অন্যতম ছিলেন 'উমার (রা) ও আসমা বিন্ত উমায়স (রা) যিনি আমাদিগের সঙ্গে হাবশা হইতে আগমন করিয়াছিলেন। তিনি উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রা)-এর সহিত সাক্ষাৎ করিবার উদ্দেশ্যে তাহার গৃহে প্রবেশ করিলেন। উমার (রা) হাফসা (রা)-এর গৃহে প্রবেশ করিয়া আসমা (রা)-কে তাঁহার নিকট দেখিতে পাইয়া বলিলেন, এই মহিলা কে? হাফসা (রা) বলিলেন, আসমা বিন্ত 'উমায়স। 'উমার (রা) ইহা শুনিয়া বলিলেন:
الْحَبَشِيَّةُ هَذِهِ الْجَرِيَّةُ هَذِهِ. "ইনি কি হাবশায় হিজরতকারিনী? ইনি কি নৌযান আরোহিনী"?
আসমা (রা) বলিলেন, হাঁ, আমি সেই মহিলা। উমার (রা) বলিলেন, আমরা আপনাদের পূর্বেই হিজরত করিয়া ধন্য হইয়াছি। আমরা আপনাদের হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বেশী নৈকট্য লাভকারী। এই কথা শুনিয়া আসমা' (রা) রাগান্বিত হইলেন এবং বলিতে লাগিলেন, "কখনও নয়, আল্লাহ্র শপথ! আপনারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি আপনাদের ক্ষুধার্তকে আহার দিতেন, আপনাদের মধ্যে অজ্ঞ লোকদিগকে উপদেশ দিতেন। আর আমরা ছিলাম দূরবর্তী প্রতিকূল হাবশায়। আমাদের এই হিজরত আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছিল। আল্লাহর শপথ! আমি আপনার এই কথা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উল্লেখ না করা পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করিব না। আমরা কষ্টের মধ্যে পতিত ছিলাম, ভীত সন্ত্রস্ত ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত এই ব্যাপারে আলোচনা করিব। আল্লাহ্র শপথ! আমি কোন মিথ্যা বলিব না, বিকৃত করিব না, বাড়াইয়া বলিব না!
রাসূলুল্লাহ (স) যখন গৃহে আগমন করিলেন তখন আসমা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র নবী। উমার এই এই বলিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তুমি তাহাকে কি বলিয়াছ? তিনি বলিলেন, আমি তাহাকে এই এই বলিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহারা আমার নিকট তোমাদের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য নহে। তাহার ও তাহার সঙ্গীদের আছে একটি হিজরত, আর হে নৌ-আরোহিগণ! তোমাদের আছে দুইটি হিজরত। আসমা (রা) বলেন, আমার নিকট এই হাদীছের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিতে আবূ মূসা ও নৌ-আরোহিগণকে আমার নিকট দলে দলে আসিতে দেখিলাম। তাহাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই কথা এতই আনন্দদায়ক মনে হইয়াছিল যে, পার্থিব জগতে ইহা হইতে আনন্দের এবং উত্তম কিছুই তাহাদের নিকট ছিল না (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬০৭-৬০৮)।
যখন এই নৌবাহিনী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিল তখন তিনি জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব (রা)-এর সঙ্গে মিলিত হইলেন এবং তাঁহার ললাটে চুমা দিলেন। অতঃপর বলিলেনঃ আমরা বলিতে পারি না খায়বার বিজয় না জা'ফারের আগমন আমাদের নিকট অধিকতর আনন্দের বিষয়। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে "দুইটি হিজরতের অধিকারী" আখ্যায়িত করিলেন।
মূসা ইব্‌ন 'উকবা বলেন, বানু ফাযারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাহায্যার্থে খায়বারে আগমন করিয়াছিল, কিন্তু তিনি তাহাদের সাহায্য গ্রহণ করেন নাই। ওয়াকিদী বর্ণনা করিয়াছেন যে, 'উওয়ায়না ইব্‌ন হিস্‌স ফাযারী খায়বার বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমার মিত্রদের নিকট হইতে আপনি যেই সম্পদ পাইয়াছেন, তাহা হইতে আমাকেও অংশ দান করুন। কারণ ইহারা আমার মিত্র হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাহাদিগকে সাহায্য করি নাই। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা মিথ্যাবাদী। তোমরা তো তাহাদের সাহায্যার্থে অগ্রসর হইয়াছিলে। কিন্তু আল্লাহই তোমাদের গতিরোধ করিয়াছেন। এখন তোমাদের জন্য রহিয়াছে যুর-রুকায়বা। জিজ্ঞাসা করা হইল, যুর-রুকায়বা কি? রাসূলুল্লাহ (স) উত্তর দিলেন, ইহা হইতেছে খায়বারের পাহাড় যাহা তোমরা স্বপ্নে দর্শন করিয়াছ।
'উয়ায়না বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করিলে তাঁহার নিকট হারিছ ইব্‌ন আওফ আসিয়া বলিল, মুহাম্মাদ (স) নিশ্চিতভাবে পূর্ব-পশ্চিম সর্বত্র প্রাধান্য বিস্তার করিবেন। আমরা ইয়াহুদীদের নিকট শুনিয়াছি এবং আমরা এই কথার সাক্ষী যে, স্বয়ং আবু রাফে' সাল্লাম ইব্‌ন আবিল হুকায়ক বলিয়াছিলেন, আমরা মুহাম্মাদের প্রতি এই কারণে ঈর্ষাপরায়ণ যে, নবুওয়াত বানু হারূন হইতে চলিয়া গিয়াছে। অন্যথায় তিনিই যে রাসূল ইহাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। অবশ্য ইয়াহুদীগণ আমার এই কথায় কর্ণপাত করিতে রাজি নয়। আমাদেরকে এই ব্যাপারে বড় দুইটি মাশুল দিতে হইবেঃ একটি ইয়াছরিবে এবং অপরটি খায়বারে। হারিছ বলিল, ইহা শুনিয়া আমি সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করিলাম, তিনি কি সারা বিশ্ব জয় করিবেন? উত্তরে সে বলিল, হাঁ। (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০০-২০১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বিষ প্রয়োগের ঘটনা

📄 বিষ প্রয়োগের ঘটনা


যুদ্ধের অবসান হইলে সাল্লাম ইব্‌ন মিশকামের স্ত্রী যয়নব বিন্দুল হারিছ একটি বকরী রান্না করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে উপঢৌকন দিল। ইহাতে সে বিষ মিশ্রিত করিয়াছিল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)। ইবনুল জাওযিয়্যা বলেন, সে একটি বকরী ভূনা করিয়া ইহাতে বিষ মিশ্রিত করিল এবং জিজ্ঞাসা করিল, কোন অংশের গোস্ত তাঁহার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। সাহাবা কিরাম বলিলেন, সামনের রানের গোস্ত। সুতরাং সে সামনের রানের গোশতে অধিক হারে বিষ মিশ্রিত করিল। রাসূলুল্লাহ (স) যখন রানের গোশতে কামড় দিলেন তখন ঐ রানটি অলৌকিকভাবে তাঁহাকে অবহিত করিল যে, তাহাতে বিষ মিশ্রিত। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) গোস্ত খণ্ডটি ফেলিয়া দিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৯)।
ইবন সা'দ তদীয় সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার বিজিত হইবার পর মহানবী (স)-কে বিষমিশ্রিত ভূনা ছাগলের গোস্ত দেয়া হইয়াছিল। ঘটনা অবগতির পর রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিলেন, এই স্থানে যত ইয়াহুদী আছে তাহাদিগকে একত্র কর। সাহাবা কিরাম ইয়াহূদীদিগকে একত্র করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বলিলেন, আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিব, তোমরা কি এই ব্যাপারে আমার নিকট সত্য বলিবে? তাহারা উত্তর দিল, হাঁ, সত্য বলিব, হে আবুল কাসিম! রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের পিতা কে? তাহারা বলিল, আমাদের পিতা হইলেন অমুক। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা মিথ্যা বলিতেছ, তোমাদের পিতা হইলেন অমুক। তাহারা বলিল, আপনি সত্য ও যথার্থ বলিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি আমার নিকট সত্য বলিবে, যদি আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি? তাহারা বলিল, হাঁ, হে আবুল কাসিম! যদি আমরা আপনার নিকট মিথ্যা বলি তাহা হইলে আপনি অবগত হইয়া যাইবেন। যেইভাবে আমাদের পিতার ব্যাপারে অবগত হইয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, জাহান্নামের অধিবাসী কাহারা? তাহারা বলিল, আমরা সেখানে অল্পদিন থাকিব, ইহার পর আপনারা আমাদের উত্তরাধিকারী হইবেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা সেখানে লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হইবে। সেখানে কস্মিন কালেও আমরা তোমাদের উত্তরাধিকারী হইব না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি আমার নিকট সত্য বলিবে, যদি আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। তাহারা বলিল, হে আবুল কাসিম! হাঁ, সত্য বলিব। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কি এই বকরীতে বিষ মিশ্রিত করিয়াছ। তাহারা বলিল, হাঁ। রাসূলুল্লাহ বলিলেন, তোমদিগকে এই কাজে কিসে প্ররোচিত করিল? তাহারা বলিল, আমরা মনে করিয়াছি, যদি আপনি মিথ্যাবাদী হন তাহা হইলে আমরা আপনার হইতে পরিত্রাণ লাভ করিব, আর যদি নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে ইহা আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১১৫-১১৬)।
ইন্ন হিশাম বলেন, বিষ মিশ্রিত রানটি যখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে উপস্থিত করা হয় তখন তিনি ইহা হইতে এক খণ্ড গোশত লইয়া মুখে দিয়া ফেলিয়া দিয়াছিলেন। তাহার সঙ্গে বিশ্ব ইনুল বারাআ ইন্ন মা'রূরও ছিলেন। তিনি ইহা হইতে এক খণ্ড গোশত লইয়া গিলিয়া ফেলিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) গোশত খণ্ড ফেলিয়া দিয়া বলিলেন, এই হাড়টি আমাকে সংবাদ দিতেছে যে, সে বিষযুক্ত। রাসূলুল্লাহ (স) সেই নারীকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলে সে স্বীকারোক্তি করিল। তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, কিসে তোমাকে এইরূপ করিতে প্ররোচিত করিল। উত্তরে সে বলিল? আমার স্বজাতির প্রতি কৃত আপনার আচরণের কথা আপনার নিকট অবিদিত নয়। আমি মনে মনে ভাবিলাম, ইনি যদি রাজা-বাদশাহ হইয়া থাকেন, তবে তাহা হইতে নিষ্কৃতি পাওয়া যাইবে, আর যদি প্রকৃতই নবী হইয়া থাকেন, তাহা হইলে অচিরেই তিনি এই বিষয়ে অবগত হইবেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সেই নারীকে ক্ষমা করিয়া দিয়াছিলেন। তবে বিশ্‌র এক গ্রাস ভক্ষণ করায় বিষক্রিয়ায় তিনি মারা যান।
ইবন ইসহাক বলেন, আমার নিকট মারওয়ান ইব্‌ন উছমান ইব্‌ন সা'ঈদ ইবনুল মু'আল্লা বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর অন্তিম শয্যায় যখন বিশ্‌র বিন্ত আল-বারাআ ইবন মা'রূর (রা)-এর মাতা তাহাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন তখন তিনি তাহাকে বলিয়াছিলেন, হে বিশ্বের মাতা! তোমার বিশ্‌রের সহিত খায়বারে আমি যেই গ্রাসটি মুখে তুলিয়াছিলাম তাহার বিষক্রিয়া এখনও আমি অনুভব করিতেছি। আমার ধমনী ছিঁড়িয়া যাইতেছে বলিয়া মনে হইতেছে (আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৩৩)।
সেই নারীকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে সে বলিল, আমি আপনাকে হত্যা করিবার ইচ্ছা পোষণ করিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমাকে হত্যা করিবার জন্য আল্লাহ তোমাকে ক্ষমতা দিবেন না। স্ত্রীলোকটির উক্তি শুনিয়া সাহাবাগণ বলিলেন, আমরা কি তাহাকে হত্যা করিব না? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, না, হত্যা করি ও না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে ভাল-মন্দ কিছুই বলিলেন না এবং তাহাকে কোন শাস্তিও দিলেন না। স্ত্রীলোকটিকে হত্যা করিবার ব্যাপারে মতবিরোধ রহিয়াছে। ইমাম যুহরী বলেন, স্ত্রীলোকটি ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিল, সেইজন্য তাহাকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছিল। এই সূত্রটি আবদুর রাযযাক মা'মার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর মা'মার বলেন, লোকজন বলিয়া থাকে, তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স) হত্যা করিয়াছিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০)।
দানাপুরী বলেন, বিশ্‌র ইবনুল বারাআ (রা) নিহত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) স্ত্রীলোকটিকে ডাকাইয়া আনিয়া তাহাকে হত্যা করিবার নির্দেশ দিলেন। এই রিওয়ায়তটি আবূ সালামা কর্তৃক বর্ণিত। যুহরী ও আবূ সালামা-এর রিওয়ায়াত দুইটি মুরসাল। তবে এই ব্যাপারে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে একটি মুত্তাসিল রিওয়ায়াত পাওয়া যায় যে, স্ত্রীলোকটিকে প্রথমে রাসূলুল্লাহ (স) মুক্তি দিয়াছিলেন, কিন্তু বিশ্‌র ইনুল বারাআ (রা) নিহত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে হত্যা করিবার নির্দেশ দিয়াছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)।
ইবন কায়্যিম আল-জাওযিয়্যা বলেন, বিষ প্রয়োগকৃত খাবারটি রাসূলুল্লাহ (স) ভক্ষণ করিয়াছিলেন কিনা এই ব্যাপারে মতপার্থক্য রহিয়াছে। তবে অধিকাংশ রিওয়ায়াত প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (স) ইহা হইতে ভক্ষণ করিয়াছিলেন এবং ইহার পর তিনি তিন বৎসর জীবিত ছিলেন। মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থায় তিনি বলিয়াছিলেন, যেই গ্রাসটি আমি খায়বারে ভক্ষণ করিয়াছিলাম ইহার বিষক্রিয়া এখনও আমি অনুভব করিতেছি। ইমাম যুহরী বলেন, সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) শহীদ হিসাবে ইন্তিকাল করেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০)।

যুদ্ধের অবসান হইলে সাল্লাম ইব্‌ন মিশকামের স্ত্রী যয়নব বিন্দুল হারিছ একটি বকরী রান্না করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে উপঢৌকন দিল। ইহাতে সে বিষ মিশ্রিত করিয়াছিল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)। ইবনুল জাওযিয়্যা বলেন, সে একটি বকরী ভূনা করিয়া ইহাতে বিষ মিশ্রিত করিল এবং জিজ্ঞাসা করিল, কোন অংশের গোস্ত তাঁহার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। সাহাবা কিরাম বলিলেন, সামনের রানের গোস্ত। সুতরাং সে সামনের রানের গোশতে অধিক হারে বিষ মিশ্রিত করিল। রাসূলুল্লাহ (স) যখন রানের গোশতে কামড় দিলেন তখন ঐ রানটি অলৌকিকভাবে তাঁহাকে অবহিত করিল যে, তাহাতে বিষ মিশ্রিত। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) গোস্ত খণ্ডটি ফেলিয়া দিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৯)।
ইবন সা'দ তদীয় সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার বিজিত হইবার পর মহানবী (স)-কে বিষমিশ্রিত ভূনা ছাগলের গোস্ত দেয়া হইয়াছিল। ঘটনা অবগতির পর রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিলেন, এই স্থানে যত ইয়াহুদী আছে তাহাদিগকে একত্র কর। সাহাবা কিরাম ইয়াহূদীদিগকে একত্র করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বলিলেন, আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিব, তোমরা কি এই ব্যাপারে আমার নিকট সত্য বলিবে? তাহারা উত্তর দিল, হাঁ, সত্য বলিব, হে আবুল কাসিম! রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের পিতা কে? তাহারা বলিল, আমাদের পিতা হইলেন অমুক। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা মিথ্যা বলিতেছ, তোমাদের পিতা হইলেন অমুক। তাহারা বলিল, আপনি সত্য ও যথার্থ বলিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি আমার নিকট সত্য বলিবে, যদি আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি? তাহারা বলিল, হাঁ, হে আবুল কাসিম! যদি আমরা আপনার নিকট মিথ্যা বলি তাহা হইলে আপনি অবগত হইয়া যাইবেন। যেইভাবে আমাদের পিতার ব্যাপারে অবগত হইয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, জাহান্নামের অধিবাসী কাহারা? তাহারা বলিল, আমরা সেখানে অল্পদিন থাকিব, ইহার পর আপনারা আমাদের উত্তরাধিকারী হইবেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা সেখানে লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হইবে। সেখানে কস্মিন কালেও আমরা তোমাদের উত্তরাধিকারী হইব না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি আমার নিকট সত্য বলিবে, যদি আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। তাহারা বলিল, হে আবুল কাসিম! হাঁ, সত্য বলিব। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কি এই বকরীতে বিষ মিশ্রিত করিয়াছ। তাহারা বলিল, হাঁ। রাসূলুল্লাহ বলিলেন, তোমদিগকে এই কাজে কিসে প্ররোচিত করিল? তাহারা বলিল, আমরা মনে করিয়াছি, যদি আপনি মিথ্যাবাদী হন তাহা হইলে আমরা আপনার হইতে পরিত্রাণ লাভ করিব, আর যদি নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে ইহা আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১১৫-১১৬)।
ইন্ন হিশাম বলেন, বিষ মিশ্রিত রানটি যখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে উপস্থিত করা হয় তখন তিনি ইহা হইতে এক খণ্ড গোশত লইয়া মুখে দিয়া ফেলিয়া দিয়াছিলেন। তাহার সঙ্গে বিশ্ব ইনুল বারাআ ইন্ন মা'রূরও ছিলেন। তিনি ইহা হইতে এক খণ্ড গোশত লইয়া গিলিয়া ফেলিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) গোশত খণ্ড ফেলিয়া দিয়া বলিলেন, এই হাড়টি আমাকে সংবাদ দিতেছে যে, সে বিষযুক্ত। রাসূলুল্লাহ (স) সেই নারীকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলে সে স্বীকারোক্তি করিল। তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, কিসে তোমাকে এইরূপ করিতে প্ররোচিত করিল। উত্তরে সে বলিল? আমার স্বজাতির প্রতি কৃত আপনার আচরণের কথা আপনার নিকট অবিদিত নয়। আমি মনে মনে ভাবিলাম, ইনি যদি রাজা-বাদশাহ হইয়া থাকেন, তবে তাহা হইতে নিষ্কৃতি পাওয়া যাইবে, আর যদি প্রকৃতই নবী হইয়া থাকেন, তাহা হইলে অচিরেই তিনি এই বিষয়ে অবগত হইবেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সেই নারীকে ক্ষমা করিয়া দিয়াছিলেন। তবে বিশ্‌র এক গ্রাস ভক্ষণ করায় বিষক্রিয়ায় তিনি মারা যান।
ইবন ইসহাক বলেন, আমার নিকট মারওয়ান ইব্‌ন উছমান ইব্‌ন সা'ঈদ ইবনুল মু'আল্লা বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর অন্তিম শয্যায় যখন বিশ্‌র বিন্ত আল-বারাআ ইবন মা'রূর (রা)-এর মাতা তাহাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন তখন তিনি তাহাকে বলিয়াছিলেন, হে বিশ্বের মাতা! তোমার বিশ্‌রের সহিত খায়বারে আমি যেই গ্রাসটি মুখে তুলিয়াছিলাম তাহার বিষক্রিয়া এখনও আমি অনুভব করিতেছি। আমার ধমনী ছিঁড়িয়া যাইতেছে বলিয়া মনে হইতেছে (আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৩৩)।
সেই নারীকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে সে বলিল, আমি আপনাকে হত্যা করিবার ইচ্ছা পোষণ করিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমাকে হত্যা করিবার জন্য আল্লাহ তোমাকে ক্ষমতা দিবেন না। স্ত্রীলোকটির উক্তি শুনিয়া সাহাবাগণ বলিলেন, আমরা কি তাহাকে হত্যা করিব না? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, না, হত্যা করি ও না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে ভাল-মন্দ কিছুই বলিলেন না এবং তাহাকে কোন শাস্তিও দিলেন না। স্ত্রীলোকটিকে হত্যা করিবার ব্যাপারে মতবিরোধ রহিয়াছে। ইমাম যুহরী বলেন, স্ত্রীলোকটি ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিল, সেইজন্য তাহাকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছিল। এই সূত্রটি আবদুর রাযযাক মা'মার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর মা'মার বলেন, লোকজন বলিয়া থাকে, তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স) হত্যা করিয়াছিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০)।
দানাপুরী বলেন, বিশ্‌র ইবনুল বারাআ (রা) নিহত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) স্ত্রীলোকটিকে ডাকাইয়া আনিয়া তাহাকে হত্যা করিবার নির্দেশ দিলেন। এই রিওয়ায়তটি আবূ সালামা কর্তৃক বর্ণিত। যুহরী ও আবূ সালামা-এর রিওয়ায়াত দুইটি মুরসাল। তবে এই ব্যাপারে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে একটি মুত্তাসিল রিওয়ায়াত পাওয়া যায় যে, স্ত্রীলোকটিকে প্রথমে রাসূলুল্লাহ (স) মুক্তি দিয়াছিলেন, কিন্তু বিশ্‌র ইনুল বারাআ (রা) নিহত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে হত্যা করিবার নির্দেশ দিয়াছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)।
ইবন কায়্যিম আল-জাওযিয়্যা বলেন, বিষ প্রয়োগকৃত খাবারটি রাসূলুল্লাহ (স) ভক্ষণ করিয়াছিলেন কিনা এই ব্যাপারে মতপার্থক্য রহিয়াছে। তবে অধিকাংশ রিওয়ায়াত প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (স) ইহা হইতে ভক্ষণ করিয়াছিলেন এবং ইহার পর তিনি তিন বৎসর জীবিত ছিলেন। মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থায় তিনি বলিয়াছিলেন, যেই গ্রাসটি আমি খায়বারে ভক্ষণ করিয়াছিলাম ইহার বিষক্রিয়া এখনও আমি অনুভব করিতেছি। ইমাম যুহরী বলেন, সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) শহীদ হিসাবে ইন্তিকাল করেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০)।

যুদ্ধের অবসান হইলে সাল্লাম ইব্‌ন মিশকামের স্ত্রী যয়নব بিন্দুল হারিছ একটি বকরী রান্না করিয়া রাসূলুল্লাহ (س)-কে উপঢৌকন দিল। ইহাতে সে বিষ মিশ্রিত করিয়াছিল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)। ইবনুল জাওযিয়্যা বলেন, সে একটি বকরী ভূনা করিয়া ইহাতে বিষ মিশ্রিত করিল এবং জিজ্ঞাসা করিল, কোন অংশের গোস্ত তাঁহার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। সাহাবা কিরাম বলিলেন, সামনের রানের গোস্ত। সুতরাং সে সামনের রানের গোশতে অধিক হারে বিষ মিশ্রিত করিল। রাসূলুল্লাহ (س) যখন রানের গোশতে কামড় দিলেন তখন ঐ রানটি অলৌকিকভাবে তাঁহাকে অবহিত করিল যে, তাহাতে বিষ মিশ্রিত। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (س) গোস্ত খণ্ডটি ফেলিয়া দিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৯)।
ইবন সা'د তদীয় সূত্রে আবূ হুরায়রা (را) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার বিজিত হইবার পর মহানবী (س)-কে বিষমিশ্রিত ভূনা ছাগলের গোস্ত দেয়া হইয়াছিল। ঘটনা অবগতির পর রাসূলুল্লাহ (س) আদেশ করিলেন, এই স্থানে যত ইয়াহুদী আছে তাহাদিগকে একত্র কর। সাহাবা কিরাম ইয়াহূদীদিগকে একত্র করিলেন। রাসূলুল্লাহ (س) তাহাদিগকে বলিলেন, আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিব, তোমরা কি এই ব্যাপারে আমার নিকট সত্য বলিবে? তাহারা উত্তর দিল, হাঁ, সত্য বলিব, হে আবুল কাসিম! রাসূলুল্লাহ (س) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের পিতা কে? তাহারা বলিল, আমাদের পিতা হইলেন অমুক। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, তোমরা মিথ্যা বলিতেছ, তোমাদের পিতা হইলেন অমুক। তাহারা বলিল, আপনি সত্য ও যথার্থ বলিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি আমার নিকট সত্য বলিবে, যদি আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি? তাহারা বলিল, হাঁ, হে আবুল কাসিম! যদি আমরা আপনার নিকট মিথ্যা বলি তাহা হইলে আপনি অবগত হইয়া যাইবেন। যেইভাবে আমাদের পিতার ব্যাপারে অবগত হইয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (س) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, জাহান্নামের অধিবাসী কাহারা? তাহারা বলিল, আমরা সেখানে অল্পদিন থাকিব, ইহার পর আপনারা আমাদের উত্তরাধিকারী হইবেন। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, তোমরা সেখানে লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হইবে। সেখানে কস্মিন কালেও আমরা তোমাদের উত্তরাধিকারী হইব না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, তোমরা কি আমার নিকট সত্য বলিবে, যদি আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। তাহারা বলিল, হে আবুল কাসিম! হাঁ, সত্য বলিব। রাসূলুল্লাহ (س) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কি এই বকরীতে বিষ মিশ্রিত করিয়াছ। তাহারা বলিল, হাঁ। রাসূলুল্লাহ বলিলেন, তোমদিগকে এই কাজে কিসে প্ররোচিত করিল? তাহারা বলিল, আমরা মনে করিয়াছি, যদি আপনি মিথ্যাবাদী হন তাহা হইলে আমরা আপনার হইতে পরিত্রাণ লাভ করিব, আর যদি নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে ইহা আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১১৫-১১৬)।
ইন্ন হিশাম বলেন, বিষ মিশ্রিত রানটি যখন রাসূলুল্লাহ (س)-এর সামনে উপস্থিত করা হয় তখন তিনি ইহা হইতে এক খণ্ড গোশত লইয়া মুখে দিয়া ফেলিয়া দিয়াছিলেন। তাহার সঙ্গে বিশ্ব ইনুল بারাআ ইন্ন মা'রূরও ছিলেন। তিনি ইহা হইতে এক খণ্ড গোশত লইয়া গিলিয়া ফেলিলেন। রাসূলুল্লাহ (س) গোশত খণ্ড ফেলিয়া দিয়া বলিলেন, এই হাড়টি আমাকে সংবাদ দিতেছে যে, সে বিষযুক্ত। রাসূলুল্লাহ (س) সেই নারীকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলে সে স্বীকারোক্তি করিল। তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, কিসে তোমাকে এইরূপ করিতে প্ররোচিত করিল। উত্তরে সে বলিল? আমার স্বজাতির প্রতি কৃত আপনার আচরণের কথা আপনার নিকট অবিদিত নয়। আমি মনে মনে ভাবিলাম, ইনি যদি রাজা-বাদশাহ হইয়া থাকেন, তবে তাহা হইতে নিষ্কৃতি পাওয়া যাইবে, আর যদি প্রকৃতই নবী হইয়া থাকেন, তাহা হইলে অচিরেই তিনি এই বিষয়ে অবগত হইবেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (س) সেই নারীকে ক্ষমা করিয়া দিয়াছিলেন। তবে বিশ্‌র এক গ্রاس ভক্ষণ করায় বিষক্রিয়ায় তিনি মারা যান।
ইবন ইসহাক বলেন, আমার নিকট মারওয়ান ইব্‌ন উছমান ইব্‌ন সা'ঈd ইবনুল মু'আল্লা বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (س)-এর অন্তিম শয্যায় যখন বিশ্‌র بিন্ত আল-بারাআ ইবন মা'রূর (রা)-এর মাতা তাহাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন তখন তিনি তাহাকে বলিয়াছিলেন, হে বিশ্বের মাতা! তোমার বিশ্‌রের সহিত খায়বারে আমি যেই গ্রাসটি মুখে তুলিয়াছিলাম তাহার বিষক্রিয়া এখনও আমি অনুভব করিতেছি। আমার ধমনী ছিঁড়িয়া যাইতেছে বলিয়া মনে হইতেছে (আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৩৩)।
সেই নারীকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে সে বলিল, আমি আপনাকে হত্যা করিবার ইচ্ছা পোষণ করিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, আমাকে হত্যা করিবার জন্য আল্লাহ তোমাকে ক্ষমতা দিবেন না। স্ত্রীলোকটির উক্তি শুনিয়া সাহাবাগণ বলিলেন, আমরা কি তাহাকে হত্যা করিব না? রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, না, হত্যা করি ও না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে ভাল-মন্দ কিছুই বলিলেন না এবং তাহাকে কোন শাস্তিও দিলেন না। স্ত্রীলোকটিকে হত্যা করিবার ব্যাপারে মতবিরোধ রহিয়াছে। ইমাম যুহরী বলেন, স্ত্রীলোকটি ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিল, সেইজন্য তাহাকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছিল। এই সূত্রটি আবদুর রাযযাক মা'মার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর মা'মার বলেন, লোকজন বলিয়া থাকে, তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স) হত্যা করিয়াছিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০)।
দানাপুরী বলেন, বিশ্‌র ইবনুল بারাআ (را) নিহত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) স্ত্রীলোকটিকে ডাকাইয়া আনিয়া তাহাকে হত্যা করিবার নির্দেশ দিলেন। এই রিওয়ায়তটি আবূ সালামা কর্তৃক বর্ণিত। যুহরী ও আবূ সালামা-এর রিওয়ায়াত দুইটি মুরসাল। তবে এই ব্যাপারে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে একটি মুত্তাসিল রিওয়ায়াত পাওয়া যায় যে, স্ত্রীলোকটিকে প্রথমে রাসূলুল্লাহ (স) মুক্তি দিয়াছিলেন, কিন্তু বিশ্‌ر ইনুল بারাআ (را) নিহত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে হত্যা করিবার নির্দেশ দিয়াছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)।
ইবন কায়্যিম আল-জাওযিয়্যা বলেন, বিষ প্রয়োগকৃত খাবারটি রাসূলুল্লাহ (স) ভক্ষণ করিয়াছিলেন কিনা এই ব্যাপারে মতপার্থক্য রহিয়াছে। তবে অধিকাংশ রিওয়ায়াত প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (س) ইহা হইতে ভক্ষণ করিয়াছিলেন এবং ইহার পর তিনি তিন বৎসর জীবিত ছিলেন। মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থায় তিনি বলিয়াছিলেন, যেই গ্রাসটি আমি খায়বারে ভক্ষণ করিয়াছিলাম ইহার বিষক্রিয়া এখনও আমি অনুভব করিতেছি। ইমাম যুহরী বলেন, সুতরাং রাসূলুল্লাহ (س) শহীদ হিসাবে ইন্তিকাল করেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০)।

যুদ্ধের অবসান হইলে সাল্লাম ইব্‌ন মিশকামের স্ত্রী যয়নব বিন্দুল হারিছ একটি বকরী রান্না করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে উপঢৌকন দিল। ইহাতে সে বিষ মিশ্রিত করিয়াছিল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)। ইবনুল জাওযিয়্যা বলেন, সে একটি বকরী ভূনা করিয়া ইহাতে বিষ মিশ্রিত করিল এবং জিজ্ঞাসা করিল, কোন অংশের গোস্ত তাঁহার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। সাহাবা কিরাম বলিলেন, সামনের রানের গোস্ত। সুতরাং সে সামনের রানের গোশতে অধিক হারে বিষ মিশ্রিত করিল। রাসূলুল্লাহ (স) যখন রানের গোশতে কামড় দিলেন তখন ঐ রানটি অলৌকিকভাবে তাঁহাকে অবহিত করিল যে, তাহাতে বিষ মিশ্রিত। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) গোস্ত খণ্ডটি ফেলিয়া দিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৯)।
ইবন সা'দ তদীয় সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার বিজিত হইবার পর মহানবী (স)-কে বিষমিশ্রিত ভূনা ছাগলের গোস্ত দেয়া হইয়াছিল। ঘটনা অবগতির পর রাসূলুল্লাহ (স) আদেশ করিলেন, এই স্থানে যত ইয়াহুদী আছে তাহাদিগকে একত্র কর। সাহাবা কিরাম ইয়াহূদীদিগকে একত্র করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বলিলেন, আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিব, তোমরা কি এই ব্যাপারে আমার নিকট সত্য বলিবে? তাহারা উত্তর দিল, হাঁ, সত্য বলিব, হে আবুল কাসিম! রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের পিতা কে? তাহারা বলিল, আমাদের পিতা হইলেন অমুক। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা মিথ্যা বলিতেছ, তোমাদের পিতা হইলেন অমুক। তাহারা বলিল, আপনি সত্য ও যথার্থ বলিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি আমার নিকট সত্য বলিবে, যদি আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি? তাহারা বলিল, হাঁ, হে আবুল কাসিম! যদি আমরা আপনার নিকট মিথ্যা বলি তাহা হইলে আপনি অবগত হইয়া যাইবেন। যেইভাবে আমাদের পিতার ব্যাপারে অবগত হইয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, জাহান্নামের অধিবাসী কাহারা? তাহারা বলিল, আমরা সেখানে অল্পদিন থাকিব, ইহার পর আপনারা আমাদের উত্তরাধিকারী হইবেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা সেখানে লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হইবে। সেখানে কস্মিন কালেও আমরা তোমাদের উত্তরাধিকারী হইব না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি আমার নিকট সত্য বলিবে, যদি আমি তোমাদিগকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। তাহারা বলিল, হে আবুল কাসিম! হাঁ, সত্য বলিব। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কি এই বকরীতে বিষ মিশ্রিত করিয়াছ। তাহারা বলিল, হাঁ। রাসূলুল্লাহ বলিলেন, তোমদিগকে এই কাজে কিসে প্ররোচিত করিল? তাহারা বলিল, আমরা মনে করিয়াছি, যদি আপনি মিথ্যাবাদী হন তাহা হইলে আমরা আপনার হইতে পরিত্রাণ লাভ করিব, আর যদি নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে ইহা আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১১৫-১১৬)।
ইন্ন হিশাম বলেন, বিষ মিশ্রিত রানটি যখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে উপস্থিত করা হয় তখন তিনি ইহা হইতে এক খণ্ড গোশত লইয়া মুখে দিয়া ফেলিয়া দিয়াছিলেন। তাহার সঙ্গে বিশ্ব ইনুল বারাআ ইন্ন মা'রূরও ছিলেন। তিনি ইহা হইতে এক খণ্ড গোশত লইয়া গিলিয়া ফেলিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) গোশত খণ্ড ফেলিয়া দিয়া বলিলেন, এই হাড়টি আমাকে সংবাদ দিতেছে যে, সে বিষযুক্ত। রাসূলুল্লাহ (স) সেই নারীকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলে সে স্বীকারোক্তি করিল। তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, কিসে তোমাকে এইরূপ করিতে প্ররোচিত করিল। উত্তরে সে বলিল? আমার স্বজাতির প্রতি কৃত আপনার আচরণের কথা আপনার নিকট অবিদিত নয়। আমি মনে মনে ভাবিলাম, ইনি যদি রাজা-বাদশাহ হইয়া থাকেন, তবে তাহা হইতে নিষ্কৃতি পাওয়া যাইবে, আর যদি প্রকৃতই নবী হইয়া থাকেন, তাহা হইলে অচিরেই তিনি এই বিষয়ে অবগত হইবেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সেই নারীকে ক্ষমা করিয়া দিয়াছিলেন। তবে বিশ্‌র এক গ্রাস ভক্ষণ করায় বিষক্রিয়ায় তিনি মারা যান।
ইবন ইসহাক বলেন, আমার নিকট মারওয়ান ইব্‌ন উছমান ইব্‌ন সা'ঈদ ইবনুল মু'আল্লা বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর অন্তিম শয্যায় যখন বিশ্‌র বিন্ত আল-বারাআ ইবন মা'রূর (রা)-এর মাতা তাহাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন তখন তিনি তাহাকে বলিয়াছিলেন, হে বিশ্বের মাতা! তোমার বিশ্‌রের সহিত খায়বারে আমি যেই গ্রাসটি মুখে তুলিয়াছিলাম তাহার বিষক্রিয়া এখনও আমি অনুভব করিতেছি। আমার ধমনী ছিঁড়িয়া যাইতেছে বলিয়া মনে হইতেছে (আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৩৩)।
সেই নারীকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে সে বলিল, আমি আপনাকে হত্যা করিবার ইচ্ছা পোষণ করিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমাকে হত্যা করিবার জন্য আল্লাহ তোমাকে ক্ষমতা দিবেন না। স্ত্রীলোকটির উক্তি শুনিয়া সাহাবাগণ বলিলেন, আমরা কি তাহাকে হত্যা করিব না? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, না, হত্যা করি ও না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে ভাল-মন্দ কিছুই বলিলেন না এবং তাহাকে কোন শাস্তিও দিলেন না। স্ত্রীলোকটিকে হত্যা করিবার ব্যাপারে মতবিরোধ রহিয়াছে। ইমাম যুহরী বলেন, স্ত্রীলোকটি ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিল, সেইজন্য তাহাকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছিল। এই সূত্রটি আবদুর রাযযাক মা'মার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। অতঃপর মা'মার বলেন, লোকজন বলিয়া থাকে, তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স) হত্যা করিয়াছিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০)।
দানাপুরী বলেন, বিশ্‌র ইবনুল বারাআ (রা) নিহত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) স্ত্রীলোকটিকে ডাকাইয়া আনিয়া তাহাকে হত্যা করিবার নির্দেশ দিলেন। এই রিওয়ায়তটি আবূ সালামা কর্তৃক বর্ণিত। যুহরী ও আবূ সালামা-এর রিওয়ায়াত দুইটি মুরসাল। তবে এই ব্যাপারে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে একটি মুত্তাসিল রিওয়ায়াত পাওয়া যায় যে, স্ত্রীলোকটিকে প্রথমে রাসূলুল্লাহ (স) মুক্তি দিয়াছিলেন, কিন্তু বিশ্‌র ইনুল বারাআ (রা) নিহত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে হত্যা করিবার নির্দেশ দিয়াছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)।
ইবন কায়্যিম আল-জাওযিয়্যা বলেন, বিষ প্রয়োগকৃত খাবারটি রাসূলুল্লাহ (স) ভক্ষণ করিয়াছিলেন কিনা এই ব্যাপারে মতপার্থক্য রহিয়াছে। তবে অধিকাংশ রিওয়ায়াত প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (স) ইহা হইতে ভক্ষণ করিয়াছিলেন এবং ইহার পর তিনি তিন বৎসর জীবিত ছিলেন। মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থায় তিনি বলিয়াছিলেন, যেই গ্রাসটি আমি খায়বারে ভক্ষণ করিয়াছিলাম ইহার বিষক্রিয়া এখনও আমি অনুভব করিতেছি। ইমাম যুহরী বলেন, সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) শহীদ হিসাবে ইন্তিকাল করেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাজ্জাজ ইব্‌ন 'ইলাতের ঘটনা

📄 হাজ্জাজ ইব্‌ন 'ইলাতের ঘটনা


হাজ্জাজ ইব্‌ন 'ইলাত আস-সুলামী ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং খায়বার বিজয়ে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহার স্ত্রী ছিলেন উম্মু শায়বা বিন্ত আবী তালহা যিনি বানু 'আবদিদ দার গোত্রের মহিলা ছিলেন। হাজ্জাজ ইব্‌ন ইলাত একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন এবং বানূ সুলায়ম গোত্রের ভূগর্ভস্থ খনিজ দ্রব্যসমূহের মালিক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারে বিজয় লাভ করিয়াছিলেন তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিলেন, আমার স্বর্ণরাজি এবং সকল সম্পদ মক্কায় আমার স্ত্রীর নিকট রহিয়াছে। যদি সে আমার ইসলাম গ্রহণ করার কথা শ্রবণ করে তাহা হইলে তাহার নিকট হইতে কিছুই পাওয়া যাইবে না। যদি আপনি অনুমতি দান করেন তাহা হইলে খায়বার বিজয়ের সংবাদ পৌছিবার পূর্বেই আমি যেভাবেই হউক দ্রুত আমার স্ত্রীর নিকট পৌঁছিয়া আমার সম্পদ লইয়া আসিব।
রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে অনুমতি প্রদান করিলে তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতিতে মক্কায় পৌছিয়া স্বীয় স্ত্রীকে বলিলেন, আমার যেই মালামাল তোমার নিকট আছে তাহা কাহাকেও বলিও না। শীঘ্র ইহা আমাকে বাহির করিয়া দাও। খায়বারে মুহাম্মাদ ও তাঁহার বাহিনী পরাজয় বরণ করিয়াছে এবং মুহাম্মাদ নিজেও বন্দী হইয়াছেন। তাঁহার সঙ্গী-সাথিগণ ছত্রভঙ্গ হইয়া গিয়াছে। আমি তাহাদের পরিত্যক্ত সম্পদরাজি খরিদ করিতে চাই। খায়বারবাসিগণ মুহাম্মাদ (স)-কে মক্কাবাসীর হাতে অর্পণ করিবে যাহাতে তাহারা তাঁহাকে হত্যা করিয়া তাহাদের লোক হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করিতে পারে।
এই সংবাদ দ্রুত মক্কায় ছড়াইয়া পড়ে এবং কাফিরগণ অত্যন্ত আনন্দিত হয়। আর মুসলমানগণের মধ্যে নামিয়া আসে বিষাদের কালো ছায়া। রাসূলুল্লাহ (স)-এর পিতৃব্য 'আব্বাস (রা)-এর নিকট যখন এই দুঃসংবাদ পৌঁছে তখন তিনি বিষাদে একেবারে মুষড়াইয়া পড়েন এবং বসা হইতে দাঁড়াইয়া বাহির হইতে উদ্যত হইলেন, কিন্তু মেরুদণ্ড সোজা করিতে পারিলেন না। তখন তিনি তাঁহার কুছাম নামী এক পুত্রকে ডাকিয়া লইলেন। কুছামের চেহারার কিছুটা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত মিল ছিল। কুছামকে সামনে রাখিয়া তিনি নিম্নোক্ত কবিতাটি উচ্চস্বরে আবৃত্তি করিতেছিলেন যাহাতে আল্লাহ্র শত্রুরা তাহাকে ভৎসনা করিতে না পারে।
قُثَمٌ شَبِيهُ ذِي الْأَنْفِ الأَشَمِّ + فَتًى ذِي النَّعَمِ يَزْعَمُ مَنْ زَعَمَ.
"কুছাম হইল সুদর্শন নাসিকাসম্পন্ন এমন এক যুবকের সদৃশ যিনি অগণিত নি'মতপ্রাপ্ত, কেবল সুধীজনই তাহাকে চিনিতে ও বুঝিতে পারিবে” (যাদুল মা'আদ, পৃ. ১৪০)।
'আব্বাস (রা)-এর গৃহের সামনে জনতার ভিড় জমিল। ইহাদের মধ্যে কেহ ছিল মুসলিম, কেহ ছিল মুশরিক, কেহ ছিল আনন্দে আত্মহারা, কেহ ছিল দুঃখ-বিষাদে মৃতপ্রায়। মুসলিমগণ 'আব্বাস (রা)-এর কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া উজ্জীবিত হইতে লাগিল এবং কাফিরগণ ভাবিল, 'আব্বাস (রা)-এর নিকট হয়ত এমন সংবাদ পৌছিয়াছে যাহা তাহাদের নিকট আসে নাই। অতঃপর 'আব্বাস (রা) প্রকৃত ঘটনা অবহিত হইবার জন্য স্বীয় ভৃত্যকে হাজ্জাজ (রা)-এর নিকট প্রেরণ করিলেন। হাজ্জাজ ভৃত্যটিকে বলিলেন, আবুল ফাদল কে আমার সালাম দিয়া বলিবে, আমি এখনই তাঁহার নিকট আসিতেছি। তিনি যেন নির্জন স্থানে একা একা কথা বলার ব্যবস্থা করেন। এই খবর শুনিয়া তিনি নিশ্চয় আনন্দিত হইবেন। ভৃত্যটি আসিয়া 'আব্বাস (রা)-কে সুসংবাদ প্রদান করে। এতদশ্রবণে তিনি আনন্দের অনাতিশয্যে বিষাদের সকল যন্ত্রণা ভুলিয়া যান। তিনি শয্যা হইতে উঠিয়া বসেন এবং ললাটে চুম্বন করিয়া তাহাকে আযাদ করিয়া দেন।
অতঃপর হাজ্জাজ (রা) তাঁহার নিকট আগমন করিয়া নিভৃতে তাঁহাকে প্রকৃত ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি তাঁহার নিকট হইতে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন যে, এই সংবাদ তিন দিনের জন্য কাহারও নিকট প্রকাশ করিবেন না। অতঃপর হাজ্জাজ (রা) বলিলেন, আমি যাহা কিছু বলিয়াছি তাহা সব রাসূলুল্লাহ (স)-এর অনুমতিক্রমেই বলিয়াছি। প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার বিজয় করিয়াছেন এবং ইয়াহুদীদের সম্পত্তি তিনি গনীমত হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি সাফিয়্যা বিন্ত হুয়াই (রা)-কে বিবাহ করিয়াছেন। আমি শুধু আমার সম্পত্তি উদ্ধার করিবার জন্য আসিয়াছিলাম এবং আমার কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে এইরূপ বলিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিলাম। তিনি আমাকে অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। হাজ্জাজ তাঁহার ধন সম্পদ লইয়া চলিয়া গেলেন।
তিনদিন পর আব্বাস (রা) হাজ্জাজের স্ত্রীর (উম্মু শায়বা) নিকট গমন করিয়া বলিলেন, তোমার স্বামী কি করিয়াছে? সে বলিল, তিনি চলিয়া গিয়াছেন। স্ত্রীলোকটি আরও বলিল, হে আবুল ফাদল! আল্লাহ আপনাকে দুঃখ-ভারাক্রান্ত না করুন। আপনার নিকট যেই সংবাদ পৌঁছিয়াছে ইহাতে আমরাও ব্যথিত হইয়াছি। তিনি উত্তরে বলিলেন, হাঁ, আমার নিকট শুভ সংবাদ ব্যতীত অন্য কোন সংবাদ পৌঁছায় নাই। সকল প্রশংসা আল্লাহ্রই, হাজ্জাজ আমাকে এইরূপ সংবাদ প্রদান করিয়াছে। সে আমার নিকট তিন দিন পর্যন্ত বিষয়টি কোন কারণে গোপন রাখার আবেদন করিয়াছিল। ইহাতে মুসলমানগণের সকল দুঃখ-বিষাদ দূর হইয়া গেল। পক্ষান্তরে মুশরিকগণের অন্তরে দুঃখ-বেদনা ছায়াপাত করিল (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)।

হাজ্জাজ ইব্‌ন 'ইলাত আস-সুলামী ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং খায়বার বিজয়ে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহার স্ত্রী ছিলেন উম্মু শায়বা বিন্ত আবী তালহা যিনি বানু 'আবদিদ দার গোত্রের মহিলা ছিলেন। হাজ্জাজ ইব্‌ন ইলাত একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন এবং বানূ সুলায়ম গোত্রের ভূগর্ভস্থ খনিজ দ্রব্যসমূহের মালিক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারে বিজয় লাভ করিয়াছিলেন তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিলেন, আমার স্বর্ণরাজি এবং সকল সম্পদ মক্কায় আমার স্ত্রীর নিকট রহিয়াছে। যদি সে আমার ইসলাম গ্রহণ করার কথা শ্রবণ করে তাহা হইলে তাহার নিকট হইতে কিছুই পাওয়া যাইবে না। যদি আপনি অনুমতি দান করেন তাহা হইলে খায়বার বিজয়ের সংবাদ পৌছিবার পূর্বেই আমি যেভাবেই হউক দ্রুত আমার স্ত্রীর নিকট পৌঁছিয়া আমার সম্পদ লইয়া আসিব।
রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে অনুমতি প্রদান করিলে তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতিতে মক্কায় পৌছিয়া স্বীয় স্ত্রীকে বলিলেন, আমার যেই মালামাল তোমার নিকট আছে তাহা কাহাকেও বলিও না। শীঘ্র ইহা আমাকে বাহির করিয়া দাও। খায়বারে মুহাম্মাদ ও তাঁহার বাহিনী পরাজয় বরণ করিয়াছে এবং মুহাম্মাদ নিজেও বন্দী হইয়াছেন। তাঁহার সঙ্গী-সাথিগণ ছত্রভঙ্গ হইয়া গিয়াছে। আমি তাহাদের পরিত্যক্ত সম্পদরাজি খরিদ করিতে চাই। খায়বারবাসিগণ মুহাম্মাদ (স)-কে মক্কাবাসীর হাতে অর্পণ করিবে যাহাতে তাহারা তাঁহাকে হত্যা করিয়া তাহাদের লোক হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করিতে পারে।
এই সংবাদ দ্রুত মক্কায় ছড়াইয়া পড়ে এবং কাফিরগণ অত্যন্ত আনন্দিত হয়। আর মুসলমানগণের মধ্যে নামিয়া আসে বিষাদের কালো ছায়া। রাসূলুল্লাহ (স)-এর পিতৃব্য 'আব্বাস (রা)-এর নিকট যখন এই দুঃসংবাদ পৌঁছে তখন তিনি বিষাদে একেবারে মুষড়াইয়া পড়েন এবং বসা হইতে দাঁড়াইয়া বাহির হইতে উদ্যত হইলেন, কিন্তু মেরুদণ্ড সোজা করিতে পারিলেন না। তখন তিনি তাঁহার কুছাম নামী এক পুত্রকে ডাকিয়া লইলেন। কুছামের চেহারার কিছুটা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত মিল ছিল। কুছামকে সামনে রাখিয়া তিনি নিম্নোক্ত কবিতাটি উচ্চস্বরে আবৃত্তি করিতেছিলেন যাহাতে আল্লাহ্র শত্রুরা তাহাকে ভৎসনা করিতে না পারে।
قُثَمٌ شَبِيهُ ذِي الْأَنْفِ الأَشَمِّ + فَتًى ذِي النَّعَمِ يَزْعَمُ مَنْ زَعَمَ.
"কুছাম হইল সুদর্শন নাসিকাসম্পন্ন এমন এক যুবকের সদৃশ যিনি অগণিত নি'মতপ্রাপ্ত, কেবল সুধীজনই তাহাকে চিনিতে ও বুঝিতে পারিবে" (যাদুল মা'আদ, পৃ. ১৪০)।
'আব্বাস (রা)-এর গৃহের সামনে জনতার ভিড় জমিল। ইহাদের মধ্যে কেহ ছিল মুসলিম, কেহ ছিল মুশরিক, কেহ ছিল আনন্দে আত্মহারা, কেহ ছিল দুঃখ-বিষাদে মৃতপ্রায়। মুসলিমগণ 'আব্বাস (রা)-এর কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া উজ্জীবিত হইতে লাগিল এবং কাফিরগণ ভাবিল, 'আব্বাস (রা)-এর নিকট হয়ত এমন সংবাদ পৌছিয়াছে যাহা তাহাদের নিকট আসে নাই। অতঃপর 'আব্বাস (রা) প্রকৃত ঘটনা অবহিত হইবার জন্য স্বীয় ভৃত্যকে হাজ্জাজ (রা)-এর নিকট প্রেরণ করিলেন। হাজ্জাজ ভৃত্যটিকে বলিলেন, আবুল ফাদল কে আমার সালাম দিয়া বলিবে, আমি এখনই তাঁহার নিকট আসিতেছি। তিনি যেন নির্জন স্থানে একা একা কথা বলার ব্যবস্থা করেন। এই খবর শুনিয়া তিনি নিশ্চয় আনন্দিত হইবেন। ভৃত্যটি আসিয়া 'আব্বাস (রা)-কে সুসংবাদ প্রদান করে। এতদশ্রবণে তিনি আনন্দের অনাতিশয্যে বিষাদের সকল যন্ত্রণা ভুলিয়া যান। তিনি শয্যা হইতে উঠিয়া বসেন এবং ললাটে চুম্বন করিয়া তাহাকে আযাদ করিয়া দেন।
অতঃপর হাজ্জাজ (রা) তাঁহার নিকট আগমন করিয়া নিভৃতে তাঁহাকে প্রকৃত ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি তাঁহার নিকট হইতে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন যে, এই সংবাদ তিন দিনের জন্য কাহারও নিকট প্রকাশ করিবেন না। অতঃপর হাজ্জাজ (রা) বলিলেন, আমি যাহা কিছু বলিয়াছি তাহা সব রাসূলুল্লাহ (স)-এর অনুমতিক্রমেই বলিয়াছি। প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার বিজয় করিয়াছেন এবং ইয়াহুদীদের সম্পত্তি তিনি গনীমত হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি সাফিয়্যা বিন্ত হুয়াই (রা)-কে বিবাহ করিয়াছেন। আমি শুধু আমার সম্পত্তি উদ্ধার করিবার জন্য আসিয়াছিলাম এবং আমার কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে এইরূপ বলিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিলাম। তিনি আমাকে অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। হাজ্জাজ তাঁহার ধন সম্পদ লইয়া চলিয়া গেলেন।
তিনদিন পর আব্বাস (রা) হাজ্জাজের স্ত্রীর (উম্মু শায়বা) নিকট গমন করিয়া বলিলেন, তোমার স্বামী কি করিয়াছে? সে বলিল, তিনি চলিয়া গিয়াছেন। স্ত্রীলোকটি আরও বলিল, হে আবুল ফাদল! আল্লাহ আপনাকে দুঃখ-ভারাক্রান্ত না করুন। আপনার নিকট যেই সংবাদ পৌঁছিয়াছে ইহাতে আমরাও ব্যথিত হইয়াছি। তিনি উত্তরে বলিলেন, হাঁ, আল্লাহ আমাকে বেদনাহত না করুন। আল্লাহরই প্রশংসা, আমি যাহা ভালবাসি তাহা ব্যতীত অন্য কিছুই সংঘটিত হয় নাই। আল্লাহ তাঁহার রাসূলকে খায়বারে বিজয় দান করিয়াছেন। সেখানে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা চলিতেছে। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে সাফিয়্যাকে তাঁহার নিজের জন্য মনোনীত করিয়াছেন। যদি তোমার স্বামীর সহিত তোমার কোন প্রয়োজন থাকে তাহা হইলে তুমি তাহার সহিত মিলিত হইয়া যাও। স্ত্রীলোকটি বলিল, আল্লাহ্র শপথ! আমার ধারণা হইতেছে আপনি সত্যবাদী। তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি সত্যবাদী। তোমাকে যাহা বলিতেছি ঘটনা সেইরূপই ঘটিয়াছে। সে বলিল, আপনাকে এই সংবাদ কে প্রদান করিয়াছে? তিনি বলিলেন, তোমাকে যিনি সংবাদ দিয়াছেন তিনি আমাকে সংবাদ প্রদান করিয়াছেন।
আব্বাস (রা) এখান হইতে রওয়ানা করিয়া কুরায়শদের আসরে গমন করিলেন। তাহারা তাঁহাকে দেখিয়া বলিল, আল্লাহ্ শপথ! হে আবুল ফাদল! ইহাই ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সময়। ইহাতে তোমার কল্যাণ সাধিত হইবে। তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ, আমার নিকট শুভ সংবাদ ব্যতীত অন্য কোন সংবাদ পৌঁছায় নাই। সকল প্রশংসা আল্লাহ্রই, হাজ্জাজ আমাকে এইরূপ সংবাদ প্রদান করিয়াছে। সে আমার নিকট তিন দিন পর্যন্ত বিষয়টি কোন কারণে গোপন রাখার আবেদন করিয়াছিল। ইহাতে মুসলমানগণের সকল দুঃখ-বিষাদ দূর হইয়া গেল। পক্ষান্তরে মুশরিকগণের অন্তরে দুঃখ-বেদনা ছায়াপাত করিল (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)।

হাজ্জাজ ইব্‌ن 'ইলাত আস-সুলামী ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং খায়বার বিজয়ে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহার স্ত্রী ছিলেন উম্মু শায়با بিন্ত আবী তালহা যিনি বানু 'আবদিদ দার গোত্রের মহিলা ছিলেন। হাজ্জাজ ইব্‌ন ইলাত একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন এবং বানূ সুলায়م গোত্রের ভূগর্ভস্থ খনিজ দ্রব্যসমূহের মালিক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারে বিজয় লাভ করিয়াছিলেন তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিলেন, আমার স্বর্ণরাজি এবং সকল সম্পদ মক্কায় আমার স্ত্রীর নিকট রহিয়াছে। যদি সে আমার ইসলাম গ্রহণ করার কথা শ্রবণ করে তাহা হইলে তাহার নিকট হইতে কিছুই পাওয়া যাইবে না। যদি আপনি অনুমতি দান করেন তাহা হইলে খায়বার বিজয়ের সংবাদ পৌছিবার পূর্বেই আমি যেভাবেই হউক দ্রুত আমার স্ত্রীর নিকট পৌঁছিয়া আমার সম্পদ লইয়া আসিব।
রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে অনুমতি প্রদান করিলে তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতিতে মক্কায় পৌছিয়া স্বীয় স্ত্রীকে বলিলেন, আমার যেই মালামাল তোমার নিকট আছে তাহা কাহাকেও বলিও না। শীঘ্র ইহা আমাকে বাহির করিয়া দাও। খায়বারে মুহাম্মাদ ও তাঁহার বাহিনী পরাজয় বরণ করিয়াছে এবং মুহাম্মাদ নিজেও বন্দী হইয়াছেন। তাঁহার সঙ্গী-সাথিগণ ছত্রভঙ্গ হইয়া গিয়াছে। আমি তাহাদের পরিত্যক্ত সম্পদরাজি খরিদ করিতে চাই। খায়বারবাসিগণ মুহাম্মাদ (স)-কে মক্কাবাসীর হাতে অর্পণ করিবে যাহাতে তাহারা তাঁহাকে হত্যা করিয়া তাহাদের লোক হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করিতে পারে।
এই সংবাদ দ্রুত মক্কায় ছড়াইয়া পড়ে এবং কাফিরগণ অত্যন্ত আনন্দিত হয়। আর মুসলমানগণের মধ্যে নামিয়া আসে বিষাদের কালো ছায়া। রাসূলুল্লাহ (স)-এর পিতৃব্য 'আব্বাস (রা)-এর নিকট যখন এই দুঃসংবাদ পৌঁছে তখন তিনি বিষাদে একেবারে মুষড়াইয়া পড়েন এবং بসা হইতে দাঁড়াইয়া বাহির হইতে উদ্যত হইলেন, কিন্তু মেরুদণ্ড সোজা করিতে পারিলেন না। তখন তিনি তাঁহার কুছাম নামী এক পুত্রকে ডাকিয়া লইলেন। কুছামের চেহারার কিছুটা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত মিল ছিল। কুছامকে সামনে রাখিয়া তিনি নিম্নোক্ত কবিতাটি উচ্চস্বরে আবৃত্তি করিতেছিলেন যাহাতে আল্লাহ্র শত্রুরা তাহাকে ভৎসনা করিতে না পারে।
قُثَمٌ شَبِيهُ ذِي الْأَنْفِ الأَشَمِّ + فَتًى ذِي النَّعَمِ يَزْعَمُ مَنْ زَعَمَ.
"কুছام হইল সুদর্শন নাসিকাসম্পন্ন এমন এক যুবকের সদৃশ যিনি অগণিত নি'মতপ্রাপ্ত, কেবল সুধীজনই তাহাকে চিনিতে ও বুঝিতে পারিবে" (যাদুল মা'আদ, পৃ. ১৪۰)।
'আব্বাস (রা)-এর গৃহের সামনে জনতার ভিড় জমিল। ইহাদের মধ্যে কেহ ছিল মুসলিম, কেহ ছিল মুশরিক, কেহ ছিল আনন্দে আত্মহারা, কেহ ছিল দুঃখ-বিষাদে মৃতপ্রায়। মুসলিমগণ 'আব্বাস (রা)-এর কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া উজ্জীবিত হইতে লাগিল এবং কাফিরগণ ভাবিল, 'আব্বাস (রা)-এর নিকট হয়ত এমন সংবাদ পৌছিয়াছে যাহা তাহাদের নিকট আসে নাই। অতঃপর 'আব্বাস (রা) প্রকৃত ঘটনা অবহিত হইবার জন্য স্বীয় ভৃত্যকে হাজ্জাজ (রা)-এর নিকট প্রেরণ করিলেন। হাজ্জাজ ভৃত্যটিকে বলিলেন, আবুল ফাদল কে আমার সালাম দিয়া বলিবে, আমি এখনই তাঁহার নিকট আসিতেছি। তিনি যেন নির্জন স্থানে একা একা কথা বলার ব্যবস্থা করেন। এই খবর শুনিয়া তিনি নিশ্চয় আনন্দিত হইবেন। ভৃত্যটি আসিয়া 'আব্বাস (রা)-কে সুসংবাদ প্রদান করে। এতদশ্রবণে তিনি আনন্দের অনাতিশয্যে বিষাদের সকল যন্ত্রণা ভুলিয়া যান। তিনি শয্যা হইতে উঠিয়া বসেন এবং ললাটে চুম্বন করিয়া তাহাকে আযাদ করিয়া দেন।
অতঃপর হাজ্জাজ (রা) তাঁহার নিকট আগমন করিয়া নিভৃতে তাঁহাকে প্রকৃত ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি তাঁহার নিকট হইতে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন যে, এই সংবাদ তিন দিনের জন্য কাহারও নিকট প্রকাশ করিবেন না। অতঃপর হাজ্জাজ (রা) বলিলেন, আমি যাহা কিছু বলিয়াছি তাহা সব রাসূলুল্লাহ (স)-এর অনুমতিক্রমেই বলিয়াছি। প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার বিজয় করিয়াছেন এবং ইয়াহুদীদের সম্পত্তি তিনি গনীমত হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি সাফিয়্যা بিন্ত হুয়াই (را)-কে বিবাহ করিয়াছেন। আমি শুধু আমার সম্পত্তি উদ্ধার করিবার জন্য আসিয়াছিলাম এবং আমার কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে এইরূপ বলিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিলাম। তিনি আমাকে অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। হাজ্জাজ তাঁহার ধন সম্পদ লইয়া চলিয়া গেলেন।
তিনদিন পর আব্বাস (রা) হাজ্জাজের স্ত্রীর (উম্মু শায়বা) নিকট গমন করিয়া বলিলেন, তোমার স্বামী কি করিয়াছে? সে বলিল, তিনি চলিয়া গিয়াছেন। স্ত্রীলোকটি আরও বলিল, হে আবুল ফাদল! আল্লাহ আপনাকে দুঃখ-ভারাক্রান্ত না করুন। আপনার নিকট যেই সংবাদ পৌঁছিয়াছে ইহাতে আমরাও ব্যথিত হইয়াছি। তিনি উত্তরে বলিলেন, হাঁ, আল্লাহ আমাকে বেদনাহত না করুন। আল্লাহরই প্রশংসা, আমি যাহা ভালবাসি তাহা ব্যতীত অন্য কিছুই সংঘটিত হয় নাই। আল্লাহ তাঁহার রাসূলকে খায়বারে বিজয় দান করিয়াছেন। সেখানে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ভাগ-باটোয়ারা চলিতেছে। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে সাফিয়্যাকে তাঁহার নিজের জন্য মনোনীত করিয়াছেন। যদি তোমার স্বামীর সহিত তোমার কোন প্রয়োজন থাকে তাহা হইলে তুমি তাহার সহিত মিলিত হইয়া যাও। স্ত্রীলোকটি বলিল, আল্লাহ্র শপথ! আমার ধারণা হইতেছে আপনি সত্যবাদী। তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি সত্যবাদী। তোমাকে যাহা বলিতেছি ঘটনা সেইরূপই ঘটিয়াছে। সে বলিল, আপনাকে এই সংবাদ কে প্রদান করিয়াছে? তিনি বলিলেন, তোমাকে যিনি সংবাদ দিয়াছেন তিনি আমাকে সংবাদ প্রদান করিয়াছেন।
আব্বাস (রা) এখান হইতে রওয়ানা করিয়া কুরায়শদের আসরে গমন করিলেন। তাহারা তাঁহাকে দেখিয়া বলিল, আল্লাহ্ শপথ! হে আবুল ফাদল! ইহাই ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সময়। ইহাতে তোমার কল্যাণ সাধিত হইবে। তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ, আমার নিকট শুভ সংবাদ ব্যতীত অন্য কোন সংবাদ পৌঁছায় নাই। সকল প্রশংসা আল্লাহ্রই, হাজ্জাজ আমাকে এইরূপ সংবাদ প্রদান করিয়াছে। সে আমার নিকট তিন দিন পর্যন্ত বিষয়টি কোন কারণে গোপন রাখার আবেদন করিয়াছিল। ইহাতে মুসলমানগণের সকল দুঃখ-বিষাদ দূর হইয়া গেল। পক্ষান্তরে মুশরিকগণের অন্তরে দুঃখ-বেদনা ছায়াপাত করিল (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪۰; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)।

হাজ্জাজ ইব্‌ন 'ইলাত আস-সুলামী ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং খায়বার বিজয়ে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহার স্ত্রী ছিলেন উম্মু শায়বা বিন্ত আবী তালহা যিনি বানু 'আবদিদ দার গোত্রের মহিলা ছিলেন। হাজ্জাজ ইব্‌ন ইলাত একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন এবং বানূ সুলায়ম গোত্রের ভূগর্ভস্থ খনিজ দ্রব্যসমূহের মালিক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারে বিজয় লাভ করিয়াছিলেন তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিলেন, আমার স্বর্ণরাজি এবং সকল সম্পদ মক্কায় আমার স্ত্রীর নিকট রহিয়াছে। যদি সে আমার ইসলাম গ্রহণ করার কথা শ্রবণ করে তাহা হইলে তাহার নিকট হইতে কিছুই পাওয়া যাইবে না। যদি আপনি অনুমতি দান করেন তাহা হইলে খায়বার বিজয়ের সংবাদ পৌছিবার পূর্বেই আমি যেভাবেই হউক দ্রুত আমার স্ত্রীর নিকট পৌঁছিয়া আমার সম্পদ লইয়া আসিব।
রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে অনুমতি প্রদান করিলে তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতিতে মক্কায় পৌছিয়া স্বীয় স্ত্রীকে বলিলেন, আমার যেই মালামাল তোমার নিকট আছে তাহা কাহাকেও বলিও না। শীঘ্র ইহা আমাকে বাহির করিয়া দাও। খায়বারে মুহাম্মাদ ও তাঁহার বাহিনী পরাজয় বরণ করিয়াছে এবং মুহাম্মাদ নিজেও বন্দী হইয়াছেন। তাঁহার সঙ্গী-সাথিগণ ছত্রভঙ্গ হইয়া গিয়াছে। আমি তাহাদের পরিত্যক্ত সম্পদরাজি খরিদ করিতে চাই। খায়বারবাসিগণ মুহাম্মাদ (স)-কে মক্কাবাসীর হাতে অর্পণ করিবে যাহাতে তাহারা তাঁহাকে হত্যা করিয়া তাহাদের লোক হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করিতে পারে।
এই সংবাদ দ্রুত মক্কায় ছড়াইয়া পড়ে এবং কাফিরগণ অত্যন্ত আনন্দিত হয়। আর মুসলমানগণের মধ্যে নামিয়া আসে বিষাদের কালো ছায়া। রাসূলুল্লাহ (স)-এর পিতৃব্য 'আব্বাস (রা)-এর নিকট যখন এই দুঃসংবাদ পৌঁছে তখন তিনি বিষাদে একেবারে মুষড়াইয়া পড়েন এবং বসা হইতে দাঁড়াইয়া বাহির হইতে উদ্যত হইলেন, কিন্তু মেরুদণ্ড সোজা করিতে পারিলেন না। তখন তিনি তাঁহার কুছাম নামী এক পুত্রকে ডাকিয়া লইলেন। কুছামের চেহারার কিছুটা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত মিল ছিল। কুছামকে সামনে রাখিয়া তিনি নিম্নোক্ত কবিতাটি উচ্চস্বরে আবৃত্তি করিতেছিলেন যাহাতে আল্লাহ্র শত্রুরা তাহাকে ভৎসনা করিতে না পারে।
قُثَمٌ شَبِيهُ ذِي الْأَنْفِ الأَشَمِّ + فَتًى ذِي النَّعَمِ يَزْعَمُ مَنْ زَعَمَ.
"কুছাম হইল সুদর্শন নাসিকাসম্পন্ন এমন এক যুবকের সদৃশ যিনি অগণিত নি'মতপ্রাপ্ত, কেবল সুধীজনই তাহাকে চিনিতে ও বুঝিতে পারিবে" (যাদুল মা'আদ, পৃ. ১৪০)।
'আব্বাস (রা)-এর গৃহের সামনে জনতার ভিড় জমিল। ইহাদের মধ্যে কেহ ছিল মুসলিম, কেহ ছিল মুশরিক, কেহ ছিল আনন্দে আত্মহারা, কেহ ছিল দুঃখ-বিষাদে মৃতপ্রায়। মুসলিমগণ 'আব্বাস (রা)-এর কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া উজ্জীবিত হইতে লাগিল এবং কাফিরগণ ভাবিল, 'আব্বাস (রা)-এর নিকট হয়ত এমন সংবাদ পৌছিয়াছে যাহা তাহাদের নিকট আসে নাই। অতঃপর 'আব্বাস (রা) প্রকৃত ঘটনা অবহিত হইবার জন্য স্বীয় ভৃত্যকে হাজ্জাজ (রা)-এর নিকট প্রেরণ করিলেন। হাজ্জাজ ভৃত্যটিকে বলিলেন, আবুল ফাদল কে আমার সালাম দিয়া বলিবে, আমি এখনই তাঁহার নিকট আসিতেছি। তিনি যেন নির্জন স্থানে একা একা কথা বলার ব্যবস্থা করেন। এই খবর শুনিয়া তিনি নিশ্চয় আনন্দিত হইবেন। ভৃত্যটি আসিয়া 'আব্বাস (রা)-কে সুসংবাদ প্রদান করে। এতদশ্রবণে তিনি আনন্দের অনাতিশয্যে বিষাদের সকল যন্ত্রণা ভুলিয়া যান। তিনি শয্যা হইতে উঠিয়া বসেন এবং ললাটে চুম্বন করিয়া তাহাকে আযাদ করিয়া দেন।
অতঃপর হাজ্জাজ (রা) তাঁহার নিকট আগমন করিয়া নিভৃতে তাঁহাকে প্রকৃত ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি তাঁহার নিকট হইতে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন যে, এই সংবাদ তিন দিনের জন্য কাহারও নিকট প্রকাশ করিবেন না। অতঃপর হাজ্জাজ (রা) বলিলেন, আমি যাহা কিছু বলিয়াছি তাহা সব রাসূলুল্লাহ (স)-এর অনুমতিক্রমেই বলিয়াছি। প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার বিজয় করিয়াছেন এবং ইয়াহুদীদের সম্পত্তি তিনি গনীমত হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি সাফিয়্যা বিন্ত হুয়াই (রা)-কে বিবাহ করিয়াছেন। আমি শুধু আমার সম্পত্তি উদ্ধার করিবার জন্য আসিয়াছিলাম এবং আমার কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে এইরূপ বলিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিলাম। তিনি আমাকে অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। হাজ্জাজ তাঁহার ধন সম্পদ লইয়া চলিয়া গেলেন।
তিনদিন পর আব্বাস (রা) হাজ্জাজের স্ত্রীর (উম্মু শায়বা) নিকট গমন করিয়া বলিলেন, তোমার স্বামী কি করিয়াছে? সে বলিল, তিনি চলিয়া গিয়াছেন। স্ত্রীলোকটি আরও বলিল, হে আবুল ফাদল! আল্লাহ আপনাকে দুঃখ-ভারাক্রান্ত না করুন। আপনার নিকট যেই সংবাদ পৌঁছিয়াছে ইহাতে আমরাও ব্যথিত হইয়াছি। তিনি উত্তরে বলিলেন, হাঁ, আল্লাহ আমাকে বেদনাহত না করুন। আল্লাহরই প্রশংসা, আমি যাহা ভালবাসি তাহা ব্যতীত অন্য কিছুই সংঘটিত হয় নাই। আল্লাহ তাঁহার রাসূলকে খায়বারে বিজয় দান করিয়াছেন। সেখানে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা চলিতেছে। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে সাফিয়্যাকে তাঁহার নিজের জন্য মনোনীত করিয়াছেন। যদি তোমার স্বামীর সহিত তোমার কোন প্রয়োজন থাকে তাহা হইলে তুমি তাহার সহিত মিলিত হইয়া যাও। স্ত্রীলোকটি বলিল, আল্লাহ্র শপথ! আমার ধারণা হইতেছে আপনি সত্যবাদী। তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি সত্যবাদী। তোমাকে যাহা বলিতেছি ঘটনা সেইরূপই ঘটিয়াছে। সে বলিল, আপনাকে এই সংবাদ কে প্রদান করিয়াছে? তিনি বলিলেন, তোমাকে যিনি সংবাদ দিয়াছেন তিনি আমাকে সংবাদ প্রদান করিয়াছেন।
আব্বাস (রা) এখান হইতে রওয়ানা করিয়া কুরায়শদের আসরে গমন করিলেন। তাহারা তাঁহাকে দেখিয়া বলিল, আল্লাহ্ শপথ! হে আবুল ফাদল! ইহাই ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সময়। ইহাতে তোমার কল্যাণ সাধিত হইবে। তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ, আমার নিকট শুভ সংবাদ ব্যতীত অন্য কোন সংবাদ পৌঁছায় নাই। সকল প্রশংসা আল্লাহ্রই, হাজ্জাজ আমাকে এইরূপ সংবাদ প্রদান করিয়াছে। সে আমার নিকট তিন দিন পর্যন্ত বিষয়টি কোন কারণে গোপন রাখার আবেদন করিয়াছিল। ইহাতে মুসলমানগণের সকল দুঃখ-বিষাদ দূর হইয়া গেল। পক্ষান্তরে মুশরিকগণের অন্তরে দুঃখ-বেদনা ছায়াপাত করিল (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪০; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২০২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00