📄 খায়বারের দুর্গমালা বিজয়ের ধারাবাহিকতা
ইবন কাছীরের বর্ণনানুসারে প্রতীয়মান হয় যে, খায়বারে পর্যাক্রমে প্রথম নাঈম, কামূস সা'ব ইব্ন মু'আয, ওয়াতীহ ও সুলালিম বিজিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৯৩-১৯৬)।
ইবন কাছীরের বর্ণনানুসারে প্রতীয়মান হয় যে, খায়বারে পর্যাক্রমে প্রথম নাঈম, কামূس সা'ব ইব্ন মু'আয, ওয়াতীহ ও সুলালিম বিজিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৯৩-১৯৬)।
ইবন কাছীরের বর্ণনানুসারে প্রতীয়মান হয় যে, খায়বারে পর্যাক্রমে প্রথম নাঈম, কামূس সা'ব ইব্ن মু'আয, ওয়াতীহ ও সুলালিম বিজিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৯৩-১৯৬)।
ইবন কাছীরের বর্ণনানুসারে প্রতীয়মান হয় যে, খায়বারে পর্যাক্রমে প্রথম নাঈম, কামূস সা'ব ইব্ন মু'আয, ওয়াতীহ ও সুলালিম বিজিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৯৩-১৯৬)।
📄 ভূমি চাষাবাদের শর্তে ইয়াহূদীদের খায়বারে অবস্থান অনুমোদন
চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইচ্ছা ছিল ইয়াহুদীদিগকে খায়বার হইতে উচ্ছেদ করা। কিন্তু ইয়াহুদীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রার্থনা করিল, আমাদিগকে এখানে বসবাসের এবং চাষাবাদের অনুমতি দিন। কারণ এই ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ (স) দেখিলেন, সাহাবীদের হাতে সময় নাই যে, তাহারা এখানকার সকল ভূমি স্বহস্তে চাষাবাদ করিতে পারিবে এবং দাসদের সংখ্যাও এই পরিমাণ নাই যে, তাহাদের দ্বারা সব চাষাবাদ করানো যায়। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) এই শর্তে সম্মতি জ্ঞাপন করেন যে, তাহারা চাষাবাদ এবং বৃক্ষের পরিচর্যা করিবে। অতঃপর ফসল ও খেজুর যাহা উৎপন্ন হইবে ইহার অর্ধাংশ তাহারা পাইবে। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থা খায়বারে গৃহীত হয় সেই হেতু ইহার নামকরণ করা হয় খায়বার হইতে 'মুখাবারা' (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।
চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইচ্ছা ছিল ইয়াহুদীদিগকে খায়বার হইতে উচ্ছেদ করা। কিন্তু ইয়াহুদীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রার্থনা করিল, আমাদিগকে এখানে বসবাসের এবং চাষাবাদের অনুমতি দিন। কারণ এই ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ (স) দেখিলেন, সাহাবীদের হাতে সময় নাই যে, তাহারা এখানকার সকল ভূমি স্বহস্তে চাষাবাদ করিতে পারিবে এবং দাসদের সংখ্যাও এই পরিমাণ নাই যে, তাহাদের দ্বারা সব চাষাবাদ করানো যায়। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) এই শর্তে সম্মতি জ্ঞাপন করেন যে, তাহারা চাষাবাদ এবং বৃক্ষের পরিচর্যা করিবে। অতঃপর ফসল ও খেজুর যাহা উৎপন্ন হইবে ইহার অর্ধাংশ তাহারা পাইবে। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থা খায়বারে গৃহীত হয় সেই হেতু ইহার নামকরণ করা হয় খায়বার হইতে 'মুখাবারা' (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।
চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইচ্ছা ছিল ইয়াহুদীদিগকে খায়বার হইতে উচ্ছেদ করা। কিন্তু ইয়াহুদীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রার্থনা করিল, আমাদিগকে এখানে বসবাসের এবং চাষাবাদের অনুমতি দিন। কারণ এই ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ (স) দেখিলেন, সাহাবীদের হাতে সময় নাই যে, তাহারা এখানকার সকল ভূমি স্বহস্তে চাষাবাদ করিতে পারিবে এবং দাসদের সংখ্যাও এই পরিমাণ নাই যে, তাহাদের দ্বারা সব চাষাবাদ করানো যায়। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (س) এই শর্তে সম্মতি জ্ঞাপন করেন যে, তাহারা চাষাবাদ এবং বৃক্ষের পরিচর্যা করিবে। অতঃপর ফসল ও খেজুর যাহা উৎপন্ন হইবে ইহার অর্ধাংশ তাহারা পাইবে। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থা খায়বারে গৃহীত হয় সেই হেতু ইহার নামকরণ করা হয় খায়বার হইতে 'মুখাবারা' (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।
চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইচ্ছা ছিল ইয়াহুদীদিগকে খায়বার হইতে উচ্ছেদ করা। কিন্তু ইয়াহুদীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রার্থনা করিল, আমাদিগকে এখানে বসবাসের এবং চাষাবাদের অনুমতি দিন। কারণ এই ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ (স) দেখিলেন, সাহাবীদের হাতে সময় নাই যে, তাহারা এখানকার সকল ভূমি স্বহস্তে চাষাবাদ করিতে পারিবে এবং দাসদের সংখ্যাও এই পরিমাণ নাই যে, তাহাদের দ্বারা সব চাষাবাদ করানো যায়। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) এই শর্তে সম্মতি জ্ঞাপন করেন যে, তাহারা চাষাবাদ এবং বৃক্ষের পরিচর্যা করিবে। অতঃপর ফসল ও খেজুর যাহা উৎপন্ন হইবে ইহার অর্ধাংশ তাহারা পাইবে। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থা খায়বারে গৃহীত হয় সেই হেতু ইহার নামকরণ করা হয় খায়বার হইতে 'মুখাবারা' (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।
📄 খায়বারের ভূমি বণ্টন
খায়বারের যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে সেখানকার ভূমিই ছিল উল্লেখযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানকার ভূমি বণ্টন করেন নিম্নরূপঃ আবূ দাউদে বুশায়র ইব্ন য়াসার হইতে বর্ণিত আছে যে,. সমুদয় ৩৬ ভাগে বিভক্ত করা হয়। তাহার পর তন্মধ্যে অর্ধাংশ অর্থাৎ আঠার অংশ বণ্টন না করিয়া রাষ্ট্রের মালিকানায় রাখা হয় যাহাতে ইহা হইতে প্রতিনিধি দল ও দূত প্রেরণ এবং অন্যান্য জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন মিটানোর জন্য ব্যয় নির্বাহ করা যায়। অবশিষ্ট আঠার ভাগের প্রত্যেক ভাগকে ১০০ ভাগ করিয়া বণ্টন করা হয় (باب ماجاء في حكم ارض خيبر রাহীমিয়া পাবঃ দেওবন্দ, ২খ., পৃ. ৭৭)। ইব্ন শিহাব বলেন, কেবল হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যেই এই অংশগুলি বণ্টন করা হয়। তাহাদের মধ্যে খায়বারে উপস্থিত অনুপস্থিত সকলকেই ভাগ দেওয়া হয়। সীরাতবিদগণ বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারিগণের মধ্যে কেবল জাবির ইব্ন আবদিল্লাহ (রা) খায়বারে অংশগ্রহণ করেন নাই, কিন্তু তাহাকে ইহার অংশ প্রদান করা হয়। যে অর্ধাংশ রাষ্ট্রের মালিকানায় পৃথক করিয়া রাখা হয় এবং বণ্টন করা হয় নাই তন্মধ্যে কাতিবা, ওয়াতীহ, সুলালিম এবং তৎসংলগ্ন ভূমি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যে অর্ধাংশ বণ্টন করা হয় তন্মধ্যে শাক ও নাতা এবং তৎসংলগ্ন ভূমি অন্তর্ভুক্ত ছিল (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)। বণ্টনযোগ্য আঠারটি অংশ কিভাবে বণ্টিত হয় এই ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে—
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَوْمَ خَيْبَرَ لِلْفَرَسِ سَهْمَيْنِ وَلِلرَّاجِلِ سَهْما . "ইবন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে অশ্বারোহীর জন্য দুই ভাগ ও পদাতিকের জন্য এক ভাগ হিসাবে বণ্টন করিয়াছিলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি খায়বার; মুসলিম, বাবু কায়ফিয়্যাতু কিসমাতিল গানীমাতি বায়নাল হাদিরীন)।
এই হাদীছ সম্পর্কে নাফে' (র)-এর ব্যাখ্যা হইল, যোদ্ধার সহিত যখন অশ্ব থাকিবে তখন তাহার অংশ হইবে তিনটি। অশ্ব না হইলে তাহার জন্য একটি অংশ (বুখারী, প্রাগুক্ত)। চৌদ্দ শত ব্যক্তির মধ্যে চৌদ্দটি অংশ বণ্টন করা হয়। কারণ এক একটি অংশ এক শতটি ছোট অংশে বিভক্ত ছিল। যুদ্ধে দুই শত অশ্ব ছিল। প্রত্যেক অশ্বারোহী দুইটি করিয়া ছোট অংশ লাভ করেন। এইজন্য চারটি বড় অংশ দুই শত অশ্বারোহীর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। এইভাবে আঠার অংশ পূর্ণ হয়। কিন্তু আবূ দাউদে মুজাম্মি' আল-আনসারী (রা) হইতে ইহার বিপরীত একটি বর্ণনা আছে:
قَالَ قُسِمَتْ خَيْبَرُ عَلَى أَهْلِ الْحُدَيْبِيَّةِ فَقَسَمَهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهُمَا وَكَانَ الْجَيْشُ أَلْفًا وَخَمْسَ مِائَةٍ فِيهِمْ ثَلتُ مِائَةٍ فَأَرِسٍ فَأَعْطَى الْفَارِسَ سَهْمَيْنِ وَأَعْطَى الرَّاحِلَ سَهما .
(کتاب الخراج مَا جَاء فِي حُكْمِ أَرْضِ خَيْبَرَ )
মুজাম্মি' ইবন হারিছা (রা)-এর বর্ণনায় তিনটি বিষয়ে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, অশ্বারোহীর জন্য ছোট একটি অংশ, দুইটি অংশ নয়। দ্বিতীয়ত, লোকসংখ্যা ছিল পনর শত এবং তৃতীয়ত, অশ্বের সংখ্যা ছিল তিন শত। এই হিসাবে পনরটি বড় অংশ পনর শত লোকের মধ্যে এবং তিন শত অশ্বের মধ্যে তিনটি অংশ। এইভাবে মোট আঠার অংশ পূর্ণ হয়।
ইমাম নাওয়াবী উল্লেখ করেন, অশ্বের অংশের মধ্যে মতপার্থক্য রহিয়াছে। অধিকাংশের মতে অশ্বের জন্য দুই অংশ। ইহাতে যাহারা পদাতিক ছিলেন তাহাদের মাথাপিছু এক অংশ এবং অশ্বারোহীদের জন্য তিন অংশ হইয়া যায়। এক অংশ আরোহীর আর দুই অংশ অশ্বের। ইব্ন আব্বাস (রা), মুজাহিদ, হাসান, ইব্ন সীরীন, উমার ইব্ন আবদিল আযীয, ইমাম মালিক, ইমাম আওযাঈ, সুফ্যান ছাওরী, শাফিঈ, লায়ছ, ইমাম আবূ ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম আহমাদ, ইসহাক, আবু উবায়দ ইব্ন জারীর (র) প্রমুখ এই মত পোষণ করেন। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা (র) বলেন, অশ্বরোহীর জন্য দুই অংশ হইবে, এক অংশ আরোহীর আর এক অংশ তাহার অশ্বের। বলা হয়, ইহার পক্ষে আলী (রা) ও আবূ মূসা আল-আশআরী (রা) ব্যতীত অন্য কাহারও কোন বর্ণনা নাই (নাওয়াবী, হাশিয়া মুসলিম, ২খ., পৃ. ৯২)। ইমাম আবূ হানীফা (র) মুজাম্মি' ইব্ন হারিছা (রা)-এর বর্ণনাকে দলীল হিসাবে পেশ করেন। কিন্তু ইমাম ইব্ন কায়্যিম (র) বলেন, ইমাম শাফি'ঈ (র)-এর মতে মুজাম্মি' ইব্ন হারিছা (রা)-এর অবস্থা পরিজ্ঞাত নয়। দ্বিতীয় দলীল এই যে, আবদুল্লাহ আল-উমারী নাফে' হইতে এবং তিনি ইব্ন উমার (রা) হইতে রিওয়ায়াত করেন যে, অশ্বারোহীর দুই অংশ এবং পদাতিকের এক অংশ। কিন্তু উবায়দুল্লাহ ইবন উমার নাফে' হইতে এবং তিনি ইব্ন উমার হইতে রিওয়ায়াত করেন যে, অশ্বের জন্য দুই অংশ এবং আরোহীর জন্য এক অংশ। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াত দ্বারা পরিষ্কার ভাবে বুঝা যায় যে, অশ্বারোহীর জন্য তিন অংশঃ দুই অংশ অশ্বের জন্য আর এক অংশ আরোহীর জন্য। উবায়দুল্লাহ তদীয় ভ্রাতা হইতে স্মরণশক্তিতে অগ্রণী ছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৯৭)। আবদুল্লাহ ও উবায়দুল্লাহ ভ্রাতৃদ্বয়ের রিওয়ায়াতের এই বিভিন্নতা সম্পর্কে ইমাম শাফি'ঈ (র) বলেন, সম্ভবত নাফে' (র) অশ্বের কথা (فرس) উল্লেখ করিয়াছিলেন এবং ইহাকে আবদুল্লাহ অশ্বারোহী (فارس) জ্ঞান করিয়াছেন। ইহা ছাড়া ওয়াকিদীর কোন কোন বর্ণনায় অশ্বারোহীর দুই অংশের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু সহীহ হাদীছ গ্রন্থের রিওয়ায়াতের মুকাবিলায় ওয়াকিদীর রিওয়ায়াতসমূহের দ্বারা দলীল পেশ করা শুদ্ধ হইতে পারে না।
মুজাম্মি' ইবন হারিছা (র)-এর রিওয়ায়াতে তিন শতটি ঘোড়ার কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু জাবির ইবন 'আবদিল্লাহ, ইবন 'আব্বাস (রা), সালিহ্ ইব্ন কায়সান, বিশর ইবন ইয়াসার এবং সকল সীরাতবিদ বলেন, দুই শত ঘোড়া ছিল। এখন যদি দুই শত ঘোড়ার জন্য বড় চারটি অংশ পৃথক করা হয় তাহা হইলে অবশিষ্ট থাকিবে চৌদ্দ অংশ। এই কারণে সৈন্যসংখ্যা চৌদ্দ শত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অধিকাংশের মতে হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাই ছিল অনুরূপ। কিন্তু যদি লোকসংখ্যা পনর শত হইয়াই থাকে তাহা হইলে সম্ভবত এক শত হইবে দাস-দাসী যাহাদিগকে ভূমির অংশ প্রদান করা হয় নাই। মোটকথা অংশ প্রাপ্তদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দ শত (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত)।
অবশ্য একটি সমস্যা এই যে, খায়বার বিজয়ের প্রাককালে জাহাজ আরোহীগণের আগমন ঘটিয়াছিল। অর্থাৎ ইহারা ছিলেন জা'ফার ও আবূ মূসা আশ'আরী (রা) এবং তাঁহাদের সঙ্গীগণ যাঁহাদের সংখ্যা ছিল শতাধিক। সহীহ বুখারীতে আবূ মূসা (রা) হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে অংশ প্রদান করিয়াছিলেন। এইজন্য উপরে বর্ণিত অংশ বণ্টনের হিসাব যথার্থ হয় নাই। ইহার জওয়াবে বলা হয়, সম্ভবত তাহাদিগকে শুধু অস্থাবর সম্পত্তির অংশ প্রদান করা হইয়াছিল, স্থাবর সম্পত্তির (ভূমির) অংশ প্রদান করা হয় নাই। কারণ ইহা ছিল কেবলমাত্র বায়'আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কার। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তখন আবূ হুরায়রা (রা) সবেমাত্র মদীনায় আগমন করেন এবং সিবা' ইন্ন 'উরফুতা (রা)-এর ইমামতিতে সালাত আদায় করেন। তবে বিজয় শেষে তিনি সেখানে উপনীত হইয়াছিলেন। অনুরূপ কথা আছে আবান (রা) সম্পর্কে। তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স) একটি সারিয়্যাতে প্রেরণ করিয়াছিলেন। তিনিও সেখান হইতে খায়বার আগমন করেন। তিনিও বিজয় লাভের পরে পৌঁছিয়াছিলেন। তাঁহারা দুইজন গনীমতে অংশীদার হইবার কামনা করিয়াছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাদিগকে অংশ দেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত)।
ইবন হিশাম ইবন ইসহাকের উদ্ধৃতি দিয়া বলেন, খায়বারের সম্পদরাশি অর্থাৎ আশ-শিক্ক, আন-নাতা, আল-কাতীবা ভাগ-বণ্টন করা হয়। আশ-শিক্ক ও আন-নাতা দুর্গে মুসলমানদের অংশ ধার্য করা হয়। আল-কাতীবায় আল্লাহ্র নামে "খুমুস” (এক-পঞ্চমাংশ) রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ, তাঁহার নিকটাত্মীয়গণ, ইয়াতীম ও মিসকীনগণের অংশ, নবী সহধর্মিনীগণের ভাতা, রাসূলুল্লাহ (স) ও ফাদাকবাসিদের মধ্যে সন্ধির মাধ্যমরূপে যাহারা কাজ করিয়াছিলেন তাহাদের ভাতা ধার্য হয়। ইহাদিগের মধ্যে মুহায়্যা ইন্ন মাস'উদ (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) ত্রিশ ওয়াসাক যব এবং ত্রিশ ওয়াসার খেজুর দান করিয়াছিলেন। আশ-শিক্ক ও আন-নাতা দুর্গ দুইটিকে ১৮টি ভাগে বিভক্ত করা হয়। তন্মধ্যে আন-নাতায় পাঁচ ভাগ ও আশ-শিক্ক দুর্গে তের ভাগ ছিল। এই আঠার অংশকে মোট আঠার শত অংশে বণ্টন করা হয়। সর্বমোট আঠার শত অংশকে আঠারটি ইউনিটে ভাগ করিয়া দেওয়া হয়। ইউনিটগুলি ছিল নিম্নলিখিত নামেঃ
১। 'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা); ২। যুবায়র ইবনুল 'আওয়াম (রা); ৩। তালহা ইব্ 'উবায়দিল্লাহ (রা); ৪। 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রা); ৫। 'আবদুর রাহমান ইবন 'আওফ (রা); ৬। 'আসিম ইবন 'আদী (রা); ৭। উসায়দ ইবন হুদায়র (রা); ৮। আল-হারিছ ইবনুল খাযরাজ (রা); ৯। না'ঈম (রা); ১০। বানু বায়াদা; ১১। বানু 'উবায়দ; ১২। বানু হারাম; ১৩। 'উবায়দুস সাহাম; ১৪। বানূ সা'ইদা; ১৫। বানূ গিফার ও আসলাম; ১৬। বানু নাজ্জার; ১৭। বানু হারিছা ও ১৮। বানু আওস।
আন-নাতা দুর্গের পাঁচটি ইউনিট ছিল। সর্বপ্রথম খায়বারের যেই ইউনিটটি পৃথক করা হয় তাহা হইল আন-নাতা দুর্গের যুবায়র ইবনুল 'আওয়াম (রা)-এর উপদুর্গ। ইহাতে খায়বারের খুওয়া ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম দুইটি ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে বায়াদা ইউনিট, তৃতীয় পর্যায়ে উসায়দ ইব্ন হুদায়র (রা)-এর ইউনিট, চতুর্থ পর্যায়ে বানু হারিছ ইব্ন খাযরাজের ইউনিট, পঞ্চম পর্যায়ে না'ঈমের ইউনিট। ইহাতে বানু 'আওফ ইব্ন খাযরাজ মুযায়না ও তাহাদিগের অংশীদারগণের ভাগ ছিল। এই স্থানেই মাহমূদ ইব্ন মাসলামা শহীদ হন। ইহার পর আশ-শিক্ক দুর্গ বণ্টনের পালা আসে। ইহা হইতে সর্বপ্রথম 'আসিম ইব্ন আদী (রা)-এর ইউনিট পৃথক করিয়া দেওয়া হয়। তাহারা ছিলেন 'আজলান গোত্রের লোক। রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ছিল তাহাদিগের সাথেই। তারপর পর্যায়ক্রমে 'আবদুর রাহমান ইবন 'আওফের ইউনিট, সা'ইদা, নাজ্জার, 'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা), তালহা ইবন উবায়দিল্লাহ, গিফার ও আসলামের ইউনিট, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর ইউনিট, সালামা ইবন উবায়দ ও বানু হারামের ইউনিটদ্বয়, হারিছার ইউনিট, উবায়দুস সাহ্হামের ইউনিট, আওসের ইউনিট। ইহা আল-লাফীফের ইউনিট। ইহাতে জুহায়না এবং সমস্ত আরব গোত্রসমূহের যাহারা খায়বারে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন তাহাদিগের অংশ ছিল। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) আল-কাতীবা দুর্গ বণ্টনে মনোনিবেশ করেন। ইহা ছিল "খাস" উপত্যকা। এই প্রান্তরটি রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার আত্মীয়-স্বজন, সহধর্মিনীগণ ও অন্যান্য নারী-পুরুষগণের মধ্যে নিম্নরূপে বণ্টন করেন:
১। নবী তনয়া ফাতিমা (রা) ২০০ ওয়াসাক; ২। 'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা) ১০০ ওয়াসাক; ৩। উসামা ইব্ন যায়দ (রা) ২০০ ওয়াসাক ফসল এবং ৫০ ওয়াসাক খেজুর; ৪। উম্মুল মুমিনীন 'আইশা (রা) ২০০ ওয়াসাক; ৫। আবূ বাক্স ইন্ন আবী কুহাফা (রা) ১০০ ওয়াসাক; ৬। 'আকীল ইব্ন আবী তালিব (রা) ১৪০ ওয়াসাক; ৭। বানূ জা'ফর (রা) (জা'ফার পুত্রগণ) ৫০ ওয়াসাক; ৮। রাবী'আ ইবনুল হারিছ (রা) ১০০ ওয়াসাক; ৯। সালত ইন্ন মাখরামা (রা), শুধু সালত-কে ৪০ ওয়াসাক ও তাঁহার দুই পুত্র ১০০ ওয়াসাক; ১০। আবূ নাবকা 'আলকামা ইবনুল মুত্তালিব (রা) ৫০ ওয়াসাক; ১১। রুকানা ইব্ন ইয়াযীদ ৫০ ওয়াসাক; ১২। কায়স ইব্ন মাখরামা ৩০ ওয়াসাক; ১৩। আবুল কাসিম ইব্ন মাখরামা ৪০ ওয়াসাক; ১৪। 'উবায়দা ইবনুল হারিছ (রা)-এর কন্যা ও হুসায়ন ইব্ন হারিছের কন্যা ১০০ ওয়াসাক; ১৫। উবায়দ ইব্ন 'আব্দ ইয়াযীদ (রা)-এর পুত্রগণ ৬০ ওয়াসাক; ১৬। আওস ইব্ন মাখরামার পুত্র ৩০ ওয়াসাক; ১৭। মিসতাহ ইব্ন উছাছা ও ইলয়াসের পুত্র ৫০ ওয়াসাক; ১৮। উমমু রুমায়ছা ৪০ ওয়াসাক; ১৯। না'ঈম ইব্ন হিন্দ ৩০ ওয়াসাক; ২০ বুহায়না বিনুতুল হারিছ ৩০ ওয়াসাক; ২১। 'উজায়র ইব্ন 'আব্দ ইয়াযীদ ৩০ ওয়াসাক; ২২। উম্মুল হাকাম ৩০ ওয়াসাক; ২৩। জামানা বিন্ত আবী তালিব ৩০ ওয়াসাক; ২৪। ইবনুল আরকাম ৫০ ওয়াসাক; ২৫। 'আবদুর রাহমান ইব্ন আবী বাক্স ৪০ ওয়াসাক; ২৬। হামনা বিন্ত জাহ্শ ৩০ ওয়াসাক; ২৭। উন্মু যুবায়র ৪০ ওয়াসাক; ২৮। দাবা'আ বিন্ত যুবায়র ৪০ ওয়াসাক; ২৯। আবূ খুনায়সের পুত্র ৩০ ওয়াসাক; ৩০। উম্মু তালিব ৪০ ওয়াসাক; ৩১। আবূ বুসরা ২০ ওয়াসাক; ৩২। নুমায়লা কালবী ৫০ ওয়াসাক; ৩৩। 'আবদুল্লাহ ইব্ন ওয়াহ্ব ও তাঁহার দুই কন্যা ৯০ ওয়াসাক; ইহা হইতে তাঁহার দুই পুত্রের ৪০ ওয়াসাক; ৩৪। উম্মু হাবীba বিন্ত জাহশ ৩০ ওয়াসাক; ৩৫। লামকু ইব্ন 'আবদা ৩০ ওয়াসাক; ৩৬। উন্মুহাতুল মু'মিনীন ৭০০ ওয়াসাক।
খায়বারের যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে সেখানকার ভূমিই ছিল উল্লেখযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানকার ভূমি বণ্টন করেন নিম্নরূপঃ আবূ দাউদে বুশায়র ইব্ন য়াসার হইতে বর্ণিত আছে যে,. সমুদয় ৩৬ ভাগে বিভক্ত করা হয়। তাহার পর তন্মধ্যে অর্ধাংশ অর্থাৎ আঠার অংশ বণ্টন না করিয়া রাষ্ট্রের মালিকানায় রাখা হয় যাহাতে ইহা হইতে প্রতিনিধি দল ও দূত প্রেরণ এবং অন্যান্য জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন মিটানোর জন্য ব্যয় নির্বাহ করা যায়। অবশিষ্ট আঠার ভাগের প্রত্যেক ভাগকে ১০০ ভাগ করিয়া বণ্টন করা হয় (باب ماجاء في حكم ارض خيبر রাহীমিয়া পাবঃ দেওবন্দ, ২খ., পৃ. ৭৭)। ইব্ন শিহাব বলেন, কেবল হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যেই এই অংশগুলি বণ্টন করা হয়। তাহাদের মধ্যে খায়বারে উপস্থিত অনুপস্থিত সকলকেই ভাগ দেওয়া হয়। সীরাতবিদগণ বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারিগণের মধ্যে কেবল জাবির ইব্ন আবদিল্লাহ (রা) খায়বারে অংশগ্রহণ করেন নাই, কিন্তু তাহাকে ইহার অংশ প্রদান করা হয়। যে অর্ধাংশ রাষ্ট্রের মালিকানায় পৃথক করিয়া রাখা হয় এবং বণ্টন করা হয় নাই তন্মধ্যে কাতিবা, ওয়াতীহ, সুলালিম এবং তৎসংলগ্ন ভূমি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যে অর্ধাংশ বণ্টন করা হয় তন্মধ্যে শাক ও নাতা এবং তৎসংলগ্ন ভূমি অন্তর্ভুক্ত ছিল (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)। বণ্টনযোগ্য আঠারটি অংশ কিভাবে বণ্টিত হয় এই ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে—
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَوْمَ خَيْبَرَ لِلْفَرَسِ سَهْمَيْنِ وَلِلرَّاجِلِ سَهْما .
"ইবন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে অশ্বারোহীর জন্য দুই ভাগ ও পদাতিকের জন্য এক ভাগ হিসাবে বণ্টন করিয়াছিলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি খায়বার; মুসলিম, বাবু কায়ফিয়্যাতু কিসমাতিল গানীমাতি বায়নাল হাদিরীন)।
এই হাদীছ সম্পর্কে নাফে' (র)-এর ব্যাখ্যা হইল, যোদ্ধার সহিত যখন অশ্ব থাকিবে তখন তাহার অংশ হইবে তিনটি। অশ্ব না হইলে তাহার জন্য একটি অংশ (বুখারী, প্রাগুক্ত)। চৌদ্দ শত ব্যক্তির মধ্যে চৌদ্দটি অংশ বণ্টন করা হয়। কারণ এক একটি অংশ এক শতটি ছোট অংশে বিভক্ত ছিল। যুদ্ধে দুই শত অশ্ব ছিল। প্রত্যেক অশ্বারোহী দুইটি করিয়া ছোট অংশ লাভ করেন। এইজন্য চারটি বড় অংশ দুই শত অশ্বারোহীর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। এইভাবে আঠার অংশ পূর্ণ হয়। কিন্তু আবূ দাউদে মুজাম্মি' আল-আনসারী (রা) হইতে ইহার বিপরীত একটি বর্ণনা আছে:
قَالَ قُسِمَتْ خَيْبَرُ عَلَى أَهْلِ الْحُدَيْبِيَّةِ فَقَسَمَهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهُمَا وَكَانَ الْجَيْشُ أَلْفًا وَخَمْسَ مِائَةٍ فِيهِمْ ثَلتُ مِائَةٍ فَارِسٍ فَأَعْطَى الْفَارِسَ سَهْمَيْنِ وَأَعْطَى الرَّاحِلَ سَهما .
(کتاب الخراج مَا جَاء فِي حُكْمِ أَرْضِ خَيْبَرَ )
মুজাম্মি' ইবন হারিছা (রা)-এর বর্ণনায় তিনটি বিষয়ে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, অশ্বারোহীর জন্য ছোট একটি অংশ, দুইটি অংশ নয়। দ্বিতীয়ত, লোকসংখ্যা ছিল পনর শত এবং তৃতীয়ত, অশ্বের সংখ্যা ছিল তিন শত। এই হিসাবে পনরটি বড় অংশ পনর শত লোকের মধ্যে এবং তিন শত অশ্বের মধ্যে তিনটি অংশ। এইভাবে মোট আঠার অংশ পূর্ণ হয়।
ইমাম নাওয়াবী উল্লেখ করেন, অশ্বের অংশের মধ্যে মতপার্থক্য রহিয়াছে। অধিকাংশের মতে অশ্বের জন্য দুই অংশ। ইহাতে যাহারা পদাতিক ছিলেন তাহাদের মাথাপিছু এক অংশ এবং অশ্বারোহীদের জন্য তিন অংশ হইয়া যায়। এক অংশ আরোহীর আর দুই অংশ অশ্বের। ইব্ন আব্বাস (রা), মুজাহিদ, হাসান, ইব্ন সীরীন, উমার ইব্ন আবদিল আযীয, ইমাম মালিক, ইমাম আওযাঈ, সুফ্যান ছাওরী, শাফিঈ, লায়ছ, ইমাম আবূ ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম আহমাদ, ইসহাক, আবু উবায়দ ইব্ন জারীর (র) প্রমুখ এই মত পোষণ করেন। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা (র) বলেন, অশ্বরোহীর জন্য দুই অংশ হইবে, এক অংশ আরোহীর আর এক অংশ তাহার অশ্বের। বলা হয়, ইহার পক্ষে আলী (রা) ও আবূ মূসা আল-আশআরী (রা) ব্যতীত অন্য কাহারও কোন বর্ণনা নাই (নাওয়াবী, হাশিয়া মুসলিম, ২খ., পৃ. ৯২)। ইমাম আবূ হানীফা (র) মুজাম্মি' ইব্ন হারিছা (রা)-এর বর্ণনাকে দলীল হিসাবে পেশ করেন। কিন্তু ইমাম ইব্ন কায়্যিম (র) বলেন, ইমাম শাফি'ঈ (র)-এর মতে মুজাম্মি' ইব্ন হারিছা (রা)-এর অবস্থা পরিজ্ঞাত নয়। দ্বিতীয় দলীল এই যে, আবদুল্লাহ আল-উমারী নাফে' হইতে এবং তিনি ইব্ন উমার (রা) হইতে রিওয়ায়াত করেন যে, অশ্বারোহীর দুই অংশ এবং পদাতিকের এক অংশ। কিন্তু উবায়দুল্লাহ ইবন উমার নাফে' হইতে এবং তিনি ইব্ন উমার হইতে রিওয়ায়াত করেন যে, অশ্বের জন্য দুই অংশ এবং আরোহীর জন্য এক অংশ। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াত দ্বারা পরিষ্কার ভাবে বুঝা যায় যে, অশ্বারোহীর জন্য তিন অংশঃ দুই অংশ অশ্বের জন্য আর এক অংশ আরোহীর জন্য। উবায়দুল্লাহ তদীয় ভ্রাতা হইতে স্মরণশক্তিতে অগ্রণী ছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৯৭)। আবদুল্লাহ ও উবায়দুল্লাহ ভ্রাতৃদ্বয়ের রিওয়ায়াতের এই বিভিন্নতা সম্পর্কে ইমাম শাফি'ঈ (র) বলেন, সম্ভবত নাফে' (র) অশ্বের কথা (فرس) উল্লেখ করিয়াছিলেন এবং ইহাকে আবদুল্লাহ অশ্বারোহী (فارس) জ্ঞান করিয়াছেন। ইহা ছাড়া ওয়াকিদীর কোন কোন বর্ণনায় অশ্বারোহীর দুই অংশের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু সহীহ হাদীছ গ্রন্থের রিওয়ায়াতের মুকাবিলায় ওয়াকিদীর রিওয়ায়াতসমূহের দ্বারা দলীল পেশ করা শুদ্ধ হইতে পারে না।
মুজাম্মি' ইবন হারিছা (র)-এর রিওয়ায়াতে তিন শতটি ঘোড়ার কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু জাবির ইবন 'আবদিল্লাহ, ইবন 'আব্বাস (রা), সালিহ্ ইব্ন কায়সান, বিশর ইবন ইয়াসার এবং সকল সীরাতবিদ বলেন, দুই শত ঘোড়া ছিল। এখন যদি দুই শত ঘোড়ার জন্য বড় চারটি অংশ পৃথক করা হয় তাহা হইলে অবশিষ্ট থাকিবে চৌদ্দ অংশ। এই কারণে সৈন্যসংখ্যা চৌদ্দ শত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অধিকাংশের মতে হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাই ছিল অনুরূপ। কিন্তু যদি লোকসংখ্যা পনর শত হইয়াই থাকে তাহা হইলে সম্ভবত এক শত হইবে দাস-দাসী যাহাদিগকে ভূমির অংশ প্রদান করা হয় নাই। মোটকথা অংশ প্রাপ্তদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দ শত (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত)।
অবশ্য একটি সমস্যা এই যে, খায়বার বিজয়ের প্রাককালে জাহাজ আরোহীগণের আগমন ঘটিয়াছিল। অর্থাৎ ইহারা ছিলেন জা'ফার ও আবূ মূসা আশ'আরী (রা) এবং তাঁহাদের সঙ্গীগণ যাঁহাদের সংখ্যা ছিল শতাধিক। সহীহ বুখারীতে আবূ মূসা (রা) হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে অংশ প্রদান করিয়াছিলেন। এইজন্য উপরে বর্ণিত অংশ বণ্টনের হিসাব যথার্থ হয় নাই। ইহার জওয়াবে বলা হয়, সম্ভবত তাহাদিগকে শুধু অস্থাবর সম্পত্তির অংশ প্রদান করা হইয়াছিল, স্থাবর সম্পত্তির (ভূমির) অংশ প্রদান করা হয় নাই। কারণ ইহা ছিল কেবলমাত্র বায়'আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কার। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তখন আবূ হুরায়রা (রা) সবেমাত্র মদীনায় আগমন করেন এবং সিবা' ইন্ন 'উরফুতা (রা)-এর ইমামতিতে সালাত আদায় করেন। তবে বিজয় শেষে তিনি সেখানে উপনীত হইয়াছিলেন। অনুরূপ কথা আছে আবান (রা) সম্পর্কে। তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স) একটি সারিয়্যাতে প্রেরণ করিয়াছিলেন। তিনিও সেখান হইতে খায়বার আগমন করেন। তিনিও বিজয় লাভের পরে পৌঁছিয়াছিলেন। তাঁহারা দুইজন গনীমতে অংশীদার হইবার কামনা করিয়াছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাদিগকে অংশ দেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত)।
ইবন হিশাম ইবন ইসহাকের উদ্ধৃতি দিয়া বলেন, খায়বারের সম্পদরাশি অর্থাৎ আশ-শিক্ক, আন-নাতা, আল-কাতীবা ভাগ-বণ্টন করা হয়। আশ-শিক্ক ও আন-নাতা দুর্গে মুসলমানদের অংশ ধার্য করা হয়। আল-কাতীবায় আল্লাহ্র নামে "খুমুস” (এক-পঞ্চমাংশ) রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ, তাঁহার নিকটাত্মীয়গণ, ইয়াতীম ও মিসকীনগণের অংশ, নবী সহধর্মিনীগণের ভাতা, রাসূলুল্লাহ (স) ও ফাদাকবাসিদের মধ্যে সন্ধির মাধ্যমরূপে যাহারা কাজ করিয়াছিলেন তাহাদের ভাতা ধার্য হয়। ইহাদিগের মধ্যে মুহায়্যা ইন্ন মাস'উদ (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) ত্রিশ ওয়াসাক যব এবং ত্রিশ ওয়াসার খেজুর দান করিয়াছিলেন। আশ-শিক্ক ও আন-নাতা দুর্গ দুইটিকে ১৮টি ভাগে বিভক্ত করা হয়। তন্মধ্যে আন-নাতায় পাঁচ ভাগ ও আশ-শিক্ক দুর্গে তের ভাগ ছিল। এই আঠার অংশকে মোট আঠার শত অংশে বণ্টন করা হয়। সর্বমোট আঠার শত অংশকে আঠারটি ইউনিটে ভাগ করিয়া দেওয়া হয়। ইউনিটগুলি ছিল নিম্নলিখিত নামেঃ
১। 'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা); ২। যুবায়র ইবনুল 'আওয়াম (রা); ৩। তালহা ইব্ 'উবায়দিল্লাহ (রা); ৪। 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রা); ৫। 'আবদুর রাহমান ইবন 'আওফ (রা); ৬। 'আসিম ইবন 'আদী (রা); ৭। উসায়দ ইবন হুদায়র (রা); ৮। আল-হারিছ ইবনুল খাযরাজ (রা); ৯। না'ঈম (রা); ১০। বানু বায়াদা; ১১। বানু 'উবায়দ; ১২। বানু হারাম; ১৩। 'উবায়দুস সাহাম; ১৪। বানূ সা'ইদা; ১৫। বানূ গিফার ও আসলাম; ১৬। বানু নাজ্জার; ১৭। বানু হারিছা ও ১৮। বানু আওস।
আন-নাতা দুর্গের পাঁচটি ইউনিট ছিল। সর্বপ্রথম খায়বারের যেই ইউনিটটি পৃথক করা হয় তাহা হইল আন-নাতা দুর্গের যুবায়র ইবনুল 'আওয়াম (রা)-এর উপদুর্গ। ইহাতে খায়বারের খুওয়া ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম দুইটি ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে বায়াদা ইউনিট, তৃতীয় পর্যায়ে উসায়দ ইব্ন হুদায়র (রা)-এর ইউনিট, চতুর্থ পর্যায়ে বানু হারিছ ইব্ন খাযরাজের ইউনিট, পঞ্চম পর্যায়ে না'ঈমের ইউনিট। ইহাতে বানু 'আওফ ইব্ন খাযরাজ মুযায়না ও তাহাদিগের অংশীদারগণের ভাগ ছিল। এই স্থানেই মাহমূদ ইব্ন মাসলামা শহীদ হন। ইহার পর আশ-শিক্ক দুর্গ বণ্টনের পালা আসে। ইহা হইতে সর্বপ্রথম 'আসিম ইব্ন আদী (রা)-এর ইউনিট পৃথক করিয়া দেওয়া হয়। তাহারা ছিলেন 'আজলান গোত্রের লোক। রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ছিল তাহাদিগের সাথেই। তারপর পর্যায়ক্রমে 'আবদুর রাহমান ইবন 'আওফের ইউনিট, সা'ইদা, নাজ্জার, 'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা), তালহা ইবন উবায়দিল্লাহ, গিফার ও আসলামের ইউনিট, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর ইউনিট, সালামা ইবন উবায়দ ও বানু হারামের ইউনিটদ্বয়, হারিছার ইউনিট, উবায়দুস সাহ্হামের ইউনিট, আওসের ইউনিট। ইহা আল-লাফীফের ইউনিট। ইহাতে জুহায়না এবং সমস্ত আরব গোত্রসমূহের যাহারা খায়বারে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন তাহাদিগের অংশ ছিল। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) আল-কাতীবা দুর্গ বণ্টনে মনোনিবেশ করেন। ইহা ছিল "খাস" উপত্যকা। এই প্রান্তরটি রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার আত্মীয়-স্বজন, সহধর্মিনীগণ ও অন্যান্য নারী-পুরুষগণের মধ্যে নিম্নরূপে বণ্টন করেন:
১। নবী তনয়া ফাতিমা (রা) ২০০ ওয়াসাক; ২। 'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা) ১০০ ওয়াসাক; ৩। উসামা ইব্ন যায়দ (রা) ২০০ ওয়াসাক ফসল এবং ৫০ ওয়াসাক খেজুর; ৪। উম্মুল মুমিনীন 'আইশা (রা) ২০০ ওয়াসাক; ৫। আবূ বাক্স ইন্ন আবী কুহাফা (রা) ১০০ ওয়াসাক; ৬। 'আকীল ইব্ন আবী তালিব (রা) ১৪০ ওয়াসাক; ৭। বানূ জা'ফর (রা) (জা'ফার পুত্রগণ) ৫০ ওয়াসাক; ৮। রাবী'আ ইবনুল হারিছ (রা) ১০০ ওয়াসাক; ৯। সালত ইন্ন মাখরামা (রা), শুধু সালত-কে ৪০ ওয়াসাক ও তাঁহার দুই পুত্র ১০০ ওয়াসাক; ১০। আবূ নাবকা 'আলকামা ইবনুল মুত্তালিব (রা) ৫০ ওয়াসাক; ১১। রুকানা ইব্ন ইয়াযীদ ৫০ ওয়াসাক; ১২। কায়স ইব্ন মাখরামা ৩০ ওয়াসাক; ১৩। আবুল কাসিম ইব্ন মাখরামা ৪০ ওয়াসাক; ১৪। 'উবায়দা ইবনুল হারিছ (রা)-এর কন্যা ও হুসায়ন ইব্ন হারিছের কন্যা ১০০ ওয়াসাক; ১৫। উবায়দ ইব্ন 'আব্দ ইয়াযীদ (রা)-এর পুত্রগণ ৬০ ওয়াসাক; ১৬। আওস ইব্ন মাখরামার পুত্র ৩০ ওয়াসাক; ১৭। মিসতাহ ইব্ন উছাছা ও ইলয়াসের পুত্র ৫০ ওয়াসাক; ১৮। উমমু রুমায়ছা ৪০ ওয়াসাক; ১৯। না'ঈম ইব্ন হিন্দ ৩০ ওয়াসাক; ২০ বুহায়না বিনুতুল হারিছ ৩০ ওয়াসাক; ২১। 'উজায়র ইব্ন 'আব্দ ইয়াযীদ ৩০ ওয়াসাক; ২২। উম্মুল হাকাম ৩০ ওয়াসাক; ২৩। জামানা বিন্ত আবী তালিব ৩০ ওয়াসাক; ২৪। ইবনুল আরকাম ৫০ ওয়াসাক; ২৫। 'আবদুর রাহমান ইব্ন আবী বাক্স ৪০ ওয়াসাক; ২৬। হামনা বিন্ত জাহ্শ ৩০ ওয়াসাক; ২৭। উন্মু যুবায়র ৪০ ওয়াসাক; ২৮। দাবা'আ বিন্ত যুবায়র ৪০ ওয়াসাক; ২৯। আবূ খুনায়সের পুত্র ৩০ ওয়াসাক; ৩০। উম্মু তালিব ৪০ ওয়াসাক; ৩১। আবূ বুসরা ২০ ওয়াসাক; ৩২। নুমায়লা কালবী ৫০ ওয়াসাক; ৩৩। 'আবদুল্লাহ ইব্ন ওয়াহ্ব ও তাঁহার দুই কন্যা ৯০ ওয়াসাক; ইহা হইতে তাঁহার দুই পুত্রের ৪০ ওয়াসাক; ৩৪। উম্মু হাবীবা বিন্ত জাহশ ৩০ ওয়াসাক; ৩৫। লামকু ইব্ন 'আবদা ৩০ ওয়াসাক; ৩৬। উন্মুহাতুল মু'মিনীন ৭০০ ওয়াসাক।
খায়বারের যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে সেখানকার ভূমিই ছিল উল্লেখযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানকার ভূমি বণ্টন করেন নিম্নরূপঃ আবূ দাউদে বুশায়র ইব্ن য়াসার হইতে বর্ণিত আছে যে,. সমুদয় ৩৬ ভাগে বিভক্ত করা হয়। তাহার পর তন্মধ্যে অর্ধাংশ অর্থাৎ আঠার অংশ বণ্টন না করিয়া রাষ্ট্রের মালিকানায় রাখা হয় যাহাতে ইহা হইতে প্রতিনিধি দল ও দূত প্রেরণ এবং অন্যান্য জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন মিটানোর জন্য ব্যয় নির্বাহ করা যায়। অবশিষ্ট আঠার ভাগের প্রত্যেক ভাগকে ১০০ ভাগ করিয়া বণ্টন করা হয় (باب ماجاء في حكم ارض خيبر রাহীমিয়া পাবঃ দেওবন্দ, ২খ., পৃ. ৭৭)। ইব্ন শিহাব বলেন, কেবল হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যেই এই অংশগুলি বণ্টন করা হয়। তাহাদের মধ্যে খায়বারে উপস্থিত অনুপস্থিত সকলকেই ভাগ দেওয়া হয়। সীরাতবিদগণ বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারিগণের মধ্যে কেবল জাবির ইব্ন আবদিল্লাহ (রা) খায়বারে অংশগ্রহণ করেন নাই, কিন্তু তাহাকে ইহার অংশ প্রদান করা হয়। যে অর্ধাংশ রাষ্ট্রের মালিকানায় পৃথক করিয়া রাখা হয় এবং বণ্টন করা হয় নাই তন্মধ্যে কাতিবা, ওয়াতীহ, সুলালিম এবং তৎসংলগ্ন ভূমি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যে অর্ধাংশ বণ্টন করা হয় তন্মধ্যে শাক ও নাতা এবং তৎসংলগ্ন ভূমি অন্তর্ভুক্ত ছিল (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)। বণ্টনযোগ্য আঠারটি অংশ কিভাবে বণ্টিত হয় এই ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। বুখারী ও মুسলিমে বর্ণিত আছে—
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَوْمَ خَيْبَرَ لِلْفَرَسِ سَهْمَيْنِ وَلِلرَّاجِلِ سَهْما .
"ইবন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে অশ্বারোহীর জন্য দুই ভাগ ও পদাতিকের জন্য এক ভাগ হিসাবে বণ্টন করিয়াছিলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি খায়বার; মুসলিম, বাবু কায়ফিয়্যাতু কিসমাতিল গানীমাতি বায়নাল হাদিরীন)।
এই হাদীছ সম্পর্কে নাফে' (র)-এর ব্যাখ্যা হইল, যোদ্ধার সহিত যখন অশ্ব থাকিবে তখন তাহার অংশ হইবে তিনটি। অশ্ব না হইলে তাহার জন্য একটি অংশ (বুখারী, প্রাগুক্ত)। চৌদ্দ শত ব্যক্তির মধ্যে চৌদ্দটি অংশ বণ্টন করা হয়। কারণ এক একটি অংশ এক শতটি ছোট অংশে বিভক্ত ছিল। যুদ্ধে দুই শত অশ্ব ছিল। প্রত্যেক অশ্বারোহী দুইটি করিয়া ছোট অংশ লাভ করেন। এইজন্য চারটি বড় অংশ দুই শত অশ্বারোহীর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। এইভাবে আঠার অংশ পূর্ণ হয়। কিন্তু আবূ দাউদে মুজাম্মি' আল-আনসারী (রা) হইতে ইহার বিপরীত একটি বর্ণনা আছে:
قَالَ قُسِمَتْ خَيْبَرُ عَلَى أَهْلِ الْحُدَيْبِيَّةِ فَقَسَمَهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهُمَا وَكَانَ الْجَيْشُ أَلْفًا وَخَمْسَ مِائَةٍ فِيهِمْ ثَلتُ مِائَةٍ فَارِسٍ فَأَعْطَى الْفَارِسَ سَهْمَيْنِ وَأَعْطَى الرَّاحِلَ سَهما .
(کتاب الخراج مَا جَاء فِي حُكْمِ أَرْضِ خَيْبَرَ )
মুজাম্মি' ইবন হারিছা (রা)-এর বর্ণনায় তিনটি বিষয়ে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, অশ্বারোহীর জন্য ছোট একটি অংশ, দুইটি অংশ নয়। দ্বিতীয়ত, লোকসংখ্যা ছিল পনর শত এবং তৃতীয়ত, অশ্বের সংখ্যা ছিল তিন শত। এই হিসাবে পনরটি বড় অংশ পনর শত লোকের মধ্যে এবং তিন শত অশ্বের মধ্যে তিনটি অংশ। এইভাবে মোট আঠার অংশ পূর্ণ হয়।
ইমাম নাওয়াবী উল্লেখ করেন, অশ্বের অংশের মধ্যে মতপার্থক্য রহিয়াছে। অধিকাংশের মতে অশ্বের জন্য দুই অংশ। ইহাতে যাহারা পদাতিক ছিলেন তাহাদের মাথাপিছু এক অংশ এবং অশ্বারোহীদের জন্য তিন অংশ হইয়া যায়। এক অংশ আরোহীর আর দুই অংশ অশ্বের। ইব্ন আব্বাস (রা), মুজাহিদ, হাসান, ইব্ন সীরীন, উমার ইব্ন আবদিল আযীয, ইমাম মালিক, ইমাম আওযাঈ, সুফ্যান ছাওরী, শাফিঈ, লায়ছ, ইমাম আবূ ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম আহমাদ, ইসহাক, আবু উবায়দ ইব্ন জারীর (র) প্রমুখ এই মত পোষণ করেন। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা (র) বলেন, অশ্বরোহীর জন্য দুই অংশ হইবে, এক অংশ আরোহীর আর এক অংশ তাহার অশ্বের। বলা হয়, ইহার পক্ষে আলী (রা) ও আবূ মূসা আল-আশআরী (রা) ব্যতীত অন্য কাহারও কোন বর্ণনা নাই (নাওয়াবী, হাশিয়া মুসলিম, ২খ., পৃ. ৯২)। ইমাম আবূ হানীফা (র) মুজাম্মি' ইব্ন হারিছা (রা)-এর বর্ণনাকে দলীল হিসাবে পেশ করেন। কিন্তু ইমাম ইব্ن কায়্যিম (র) বলেন, ইমাম শাফি'ঈ (র)-এর মতে মুজাম্মি' ইব্ন হারিছা (রা)-এর অবস্থা পরিজ্ঞাত নয়। দ্বিতীয় দলীল এই যে, আবদুল্লাহ আল-উমারী নাফে' হইতে এবং তিনি ইব্ن উমার (রা) হইতে রিওয়ায়াত করেন যে, অশ্বারোহীর দুই অংশ এবং পদাতিকের এক অংশ। কিন্তু উবায়দুল্লাহ ইবন উমার নাফে' হইতে এবং তিনি ইব্ن উমার হইতে রিওয়ায়াত করেন যে, অশ্বের জন্য দুই অংশ এবং আরোহীর জন্য এক অংশ। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াত দ্বারা পরিষ্কার ভাবে বুঝা যায় যে, অশ্বারোহীর জন্য তিন অংশঃ দুই অংশ অশ্বের জন্য আর এক অংশ আরোহীর জন্য। উবায়দুল্লাহ তদীয় ভ্রাতা হইতে স্মরণশক্তিতে অগ্রণী ছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৯৭)। আবদুল্লাহ ও উবায়দুল্লাহ ভ্রাতৃদ্বয়ের রিওয়ায়াতের এই বিভিন্নতা সম্পর্কে ইমাম শাফি'ঈ (র) বলেন, সম্ভবত নাফে' (র) অশ্বের কথা (فرس) উল্লেখ করিয়াছিলেন এবং ইহাকে আবদুল্লাহ অশ্বারোহী (فارس) জ্ঞান করিয়াছেন। ইহা ছাড়া ওয়াকিদীর কোন কোন বর্ণনায় অশ্বারোহীর দুই অংশের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু সহীহ হাদীছ গ্রন্থের রিওয়ায়াতের মুকাবিলায় ওয়াকিদীর রিওয়ায়াতসমূহের দ্বারা দলীল পেশ করা শুদ্ধ হইতে পারে না।
মুজাম্মি' ইবন হারিছা (র)-এর রিওয়ায়াতে তিন শতটি ঘোড়ার কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু জাবির ইবন 'আবদিল্লাহ, ইবন 'আব্বাস (রা), সালিহ্ ইব্ن কায়সান, বিশর ইবন ইয়াসার এবং সকল সীরাতবিদ বলেন, দুই শত ঘোড়া ছিল। এখন যদি দুই শত ঘোড়ার জন্য বড় চারটি অংশ পৃথক করা হয় তাহা হইলে অবশিষ্ট থাকিবে চৌদ্দ অংশ। এই কারণে সৈন্যসংখ্যা চৌদ্দ শত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অধিকাংশের মতে হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাই ছিল অনুরূপ। কিন্তু যদি লোকসংখ্যা পনর শত হইয়াই থাকে তাহা হইলে সম্ভবত এক শত হইবে দাস-দাসী যাহাদিগকে ভূমির অংশ প্রদান করা হয় নাই। মোটকথা অংশ প্রাপ্তদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দ শত (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত)।
অবশ্য একটি সমস্যা এই যে, খায়বার বিজয়ের প্রাককালে জাহাজ আরোহীগণের আগমন ঘটিয়াছিল। অর্থাৎ ইহারা ছিলেন জা'ফার ও আবূ মূসা আশ'আরী (রা) এবং তাঁহাদের সঙ্গীগণ যাঁহাদের সংখ্যা ছিল শতাধিক। সহীহ বুখারীতে আবূ মূসা (রা) হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে অংশ প্রদান করিয়াছিলেন। এইজন্য উপরে বর্ণিত অংশ বণ্টনের হিসাব যথার্থ হয় নাই। ইহার জওয়াবে বলা হয়, সম্ভবত তাহাদিগকে শুধু অস্থাবর সম্পত্তির অংশ প্রদান করা হইয়াছিল, স্থাবর সম্পত্তির (ভূমির) অংশ প্রদান করা হয় নাই। কারণ ইহা ছিল কেবলমাত্র বায়'আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কার। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ (س) যখন খায়বারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তখন আবূ হুরায়রা (রা) সবেমাত্র মদীনায় আগমন করেন এবং সিবা' ইন্ন 'উরফুতা (রা)-এর ইমামতিতে সালাত আদায় করেন। তবে বিজয় শেষে তিনি সেখানে উপনীত হইয়াছিলেন। অনুরূপ কথা আছে আবান (রা) সম্পর্কে। তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (س) একটি সারিয়্যাতে প্রেরণ করিয়াছিলেন। তিনিও সেখান হইতে খায়বার আগমন করেন। তিনিও বিজয় লাভের পরে পৌঁছিয়াছিলেন। তাঁহারা দুইজন গনীমতে অংশীদার হইবার কামনা করিয়াছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (س) তাঁহাদিগকে অংশ দেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত)।
ইবন হিশাম ইবন ইসহাকের উদ্ধৃতি দিয়া বলেন, খায়বারের সম্পদরাশি অর্থাৎ আশ-শিক্ক, আন-নাতা, আল-কাতীবা ভাগ-বণ্টন করা হয়। আশ-শিক্ক ও আন-নাতা দুর্গে মুসলমানদের অংশ ধার্য করা হয়। আল-কাতীবায় আল্লাহ্র নামে "খুমুস” (এক-পঞ্চমাংশ) রাসূলুল্লাহ (س)-এর অংশ, তাঁহার নিকটাত্মীয়গণ, ইয়াতীম ও মিসকীনগণের অংশ, নবী সহধর্মিনীগণের ভাতা, রাসূলুল্লাহ (স) ও ফাদাকবাসিদের মধ্যে সন্ধির মাধ্যমরূপে যাহারা কাজ করিয়াছিলেন তাহাদের ভাতা ধার্য হয়। ইহাদিগের মধ্যে মুহায়্যা ইন্ন মাস'উদ (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) ত্রিশ ওয়াসাক যব এবং ত্রিশ ওয়াসার খেজুর দান করিয়াছিলেন। আশ-শিক্ক ও আন-নাতা দুর্গ দুইটিকে ১৮টি ভাগে বিভক্ত করা হয়। তন্মধ্যে আন-নাতায় পাঁচ ভাগ ও আশ-শিক্ক দুর্গে তের ভাগ ছিল। এই আঠার অংশকে মোট আঠার শত অংশে বণ্টন করা হয়। সর্বমোট আঠার শত অংশকে আঠারটি ইউনিটে ভাগ করিয়া দেওয়া হয়। ইউনিটগুলি ছিল নিম্নলিখিত নামেঃ
১। 'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা); ২। যুবায়র ইবনুল 'আওয়াম (রা); ৩। তালহা ইব্ 'উবায়দিল্লাহ (রা); ৪। 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রা); ৫। 'আবদুর রাহমান ইবন 'আওف (রা); ৬। 'আসিম ইবন 'আদী (রা); ৭। উসায়د ইবন হুদায়ر (রা); ৮। আল-হারিছ ইবনুল খাযরাজ (রা); ৯। না'ঈম (রা); ১০। বানু বায়াদা; ১১। বানু 'উবায়د; ১২। বানু হারাম; ১৩। 'উবায়দুস সাহাম; ১৪। বানূ সা'ইদা; ১৫। বানূ গিফার ও আসলাম; ১৬। বানু নাজ্জার; ১৭। বানু হারিছা ও ১৮। বানু আওس।
আন-নাতা দুর্গের পাঁচটি ইউনিট ছিল। সর্বপ্রথম খায়বারের যেই ইউনিটটি পৃথক করা হয় তাহা হইল আন-নাতা দুর্গের যুবায়র ইবনুল 'আওয়াম (রা)-এর উপদুর্গ। ইহাতে খায়বারের খুওয়া ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম দুইটি ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে বায়াদা ইউনিট, তৃতীয় পর্যায়ে উসায়د ইব্ن হুদায়ر (রা)-এর ইউনিট, চতুর্থ পর্যায়ে বানু হারিছ ইব্ن খাযরাজের ইউনিট, পঞ্চম পর্যায়ে না'ঈমের ইউনিট। ইহাতে বানু 'আওف ইب্ن খাযরাজ মুযায়نا ও তাহাদিগের অংশীদারগণের ভাগ ছিল। এই স্থানেই মাহমূদ ইব্ن মাসলামা শহীদ হন। ইহার পর আশ-শিক্ক দুর্গ বণ্টনের পালা আসে। ইহা হইতে সর্বপ্রথম 'আসিম ইب্ن আদী (রা)-এর ইউনিট পৃথক করিয়া দেওয়া হয়। তাহারা ছিলেন 'আজলান গোত্রের লোক। রাসূলুল্লাহ (س)-এর অংশ ছিল তাহাদিগের সাথেই। তারপর পর্যায়ক্রমে 'আবদুর রাহমান ইب্ن 'আওف (را)-এর ইউনিট, সা'ইদা, নাজ্জার, 'আলী ইب্ن আবী তালিব (را), তালহা ইব্ن উবায়دিল্লাহ, গিফার ও আসলামের ইউনিট, উমার ইب্ن খাত্তাব (را)-এর ইউনিট, সালামা ইب্ن উবায়د ও বানু হারামের ইউনিটদ্বয়, হারিছার ইউনিট, উবায়دوس সাহামের ইউনিট, আওসের ইউনিট। ইহা আল-লাফীফের ইউনিট। ইহাতে জুহায়نا এবং সমস্ত আরব গোত্রসমূহের যাহারা খায়বারে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন তাহাদিগের অংশ ছিল। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (س) আল-কাতীবা দুর্গ বণ্টনে মনোনিবেশ করেন। ইহা ছিল "খাস" উপত্যকা। এই প্রান্তরটি রাসূলুল্লাহ (س) তাঁহার আত্মীয়-স্বজন, সহধর্মিনীগণ ও অন্যান্য নারী-পুরুষগণের মধ্যে নিম্নরূপে বণ্টন করেন:
১। নবী তনয়া ফাতিমা (রা) ২০০ ওয়াসাক; ২। 'আলী ইব্ن আবী তালিব (را) ১০০ ওয়াসাক; ৩। উসামা ইب্ن যায়د (را) ২০০ ওয়াসাক ফসল এবং ৫০ ওয়াসাক খেজুর; ৪। উম্মুল মুমিনীন 'আইশা (را) ২০০ ওয়াসাক; ৫। আবূ বাক্স ইন্ন আবী কুহাফা (را) ১০০ ওয়াসাক; ৬। 'আকীল ইب্ن আবী তালিব (را) ১৪০ ওয়াসাক; ৭। বানূ জা'ফর (را) (জা'ফার পুত্রগণ) ৫০ ওয়াসাক; ৮। রাবী'আ ইবনুল হারিছ (را) ১০০ ওয়াসাক; ৯। সালت ইন্ন মাখরামা (را), শুধু সালت-কে ৪০ ওয়াসাক ও তাঁহার দুই পুত্র ১০০ ওয়াসাক; ১০। আবূ নাবকা 'আলকামা ইবনুল মুত্তালিব (রা) ৫০ ওয়াসাক; ১১। রুকানা ইب্ن ইয়াযید ৫০ ওয়াসাক; ১২। কায়س ইب্ن মাখরামা ৩০ ওয়াসাক; ১৩। আবুল কাসিম ইব্ن মাখরামা ৪০ ওয়াসাক; ১৪। 'উবায়دا ইবনুল হারিছ (রা)-এর কন্যা ও হুসায়ন ইب্ن হারিছের কন্যা ১০০ ওয়াসাক; ১৫। উবায়د ইب্ن 'আব্দ ইয়াযید (রা)-এর পুত্রগণ ৬০ ওয়াসাক; ১৬। আওس ইب্ن মাখরামার পুত্র ৩০ ওয়াসাক; ১৭। মিসতাহ ইব্ن উছাছা ও ইলয়াসের পুত্র ৫০ ওয়াসাক; ১৮। উমमु রুমায়ছা ৪০ ওয়াসাক; ১৯। না'ঈم ইب্ن হিন্দ ৩০ ওয়াসাক; ২০ বুহায়نا বিনুতুল হারিছ ৩০ ওয়াসাক; ২১। 'উজায়ر ইب্ن 'আব্দ ইয়াযید ৩০ ওয়াসাক; ২২। উম্মুল হাকাম ৩০ ওয়াসাক; ২৩। জামানা বিন্ত আবী তালিব ৩০ ওয়াসাক; ২৪। ইবনুল আরকাম ৫০ ওয়াসাক; ২৫। 'আবদুর রাহমান ইব্ن আবী বাক্স ৪০ ওয়াসাক; ২৬। হামনা বিন্ত জাহ্শ ৩০ ওয়াসাক; ২৭। উন্মু যুবায়ر ৪০ ওয়াসাক; ২৮। দাবা'আ بিন্ত যুবায়ر ৪০ ওয়াসাক; ২৯। আবূ খুনায়সের পুত্র ৩০ ওয়াসাক; ৩০। উম্মু তালিব ৪০ ওয়াসাক; ৩১। আবূ বুসرا ২০ ওয়াসাক; ৩২। নুমায়লা কালবী ৫০ ওয়াসাক; ৩৩। 'আবদুল্লাহ ইب্ن ওয়াহ্ব ও তাঁহার দুই কন্যা ৯০ ওয়াসাক; ইহা হইতে তাঁহার দুই পুত্রের ৪০ ওয়াসাক; ৩৪। উম্মু হাবীবা বিন্ত জাহশ ৩০ ওয়াসাক; ৩৫। লামকু ইب্ن 'আবদা ৩০ ওয়াসাক; ৩৬। উন্মুহাতুল মু'মিনীন ৭০০ ওয়াসাক।
খায়বারের যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে সেখানকার ভূমিই ছিল উল্লেখযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানকার ভূমি বণ্টন করেন নিম্নরূপঃ আবূ দাউদে বুশায়র ইব্ন য়াসার হইতে বর্ণিত আছে যে,. সমুদয় ৩৬ ভাগে বিভক্ত করা হয়। তাহার পর তন্মধ্যে অর্ধাংশ অর্থাৎ আঠার অংশ বণ্টন না করিয়া রাষ্ট্রের মালিকানায় রাখা হয় যাহাতে ইহা হইতে প্রতিনিধি দল ও দূত প্রেরণ এবং অন্যান্য জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন মিটানোর জন্য ব্যয় নির্বাহ করা যায়। অবশিষ্ট আঠার ভাগের প্রত্যেক ভাগকে ১০০ ভাগ করিয়া বণ্টন করা হয় (باب ماجاء في حكم ارض خيبر রাহীমিয়া পাবঃ দেওবন্দ, ২খ., পৃ. ৭৭)। ইব্ন শিহাব বলেন, কেবল হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যেই এই অংশগুলি বণ্টন করা হয়। তাহাদের মধ্যে খায়বারে উপস্থিত অনুপস্থিত সকলকেই ভাগ দেওয়া হয়। সীরাতবিদগণ বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারিগণের মধ্যে কেবল জাবির ইব্ন আবদিল্লাহ (রা) খায়বারে অংশগ্রহণ করেন নাই, কিন্তু তাহাকে ইহার অংশ প্রদান করা হয়। যে অর্ধাংশ রাষ্ট্রের মালিকানায় পৃথক করিয়া রাখা হয় এবং বণ্টন করা হয় নাই তন্মধ্যে কাতিবা, ওয়াতীহ, সুলালিম এবং তৎসংলগ্ন ভূমি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যে অর্ধাংশ বণ্টন করা হয় তন্মধ্যে শাক ও নাতা এবং তৎসংলগ্ন ভূমি অন্তর্ভুক্ত ছিল (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)। বণ্টনযোগ্য আঠারটি অংশ কিভাবে বণ্টিত হয় এই ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে—
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَوْمَ خَيْبَرَ لِلْفَرَسِ سَهْمَيْنِ وَلِلرَّاجِلِ سَهْما .
"ইবন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার দিবসে অশ্বারোহীর জন্য দুই ভাগ ও পদাতিকের জন্য এক ভাগ হিসাবে বণ্টন করিয়াছিলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি খায়বার; মুসলিম, বাবু কায়ফিয়্যাতু কিসমাতিল গানীমাতি বায়নাল হাদিরীন)।
এই হাদীছ সম্পর্কে নাফে' (র)-এর ব্যাখ্যা হইল, যোদ্ধার সহিত যখন অশ্ব থাকিবে তখন তাহার অংশ হইবে তিনটি। অশ্ব না হইলে তাহার জন্য একটি অংশ (বুখারী, প্রাগুক্ত)। চৌদ্দ শত ব্যক্তির মধ্যে চৌদ্দটি অংশ বণ্টন করা হয়। কারণ এক একটি অংশ এক শতটি ছোট অংশে বিভক্ত ছিল। যুদ্ধে দুই শত অশ্ব ছিল। প্রত্যেক অশ্বারোহী দুইটি করিয়া ছোট অংশ লাভ করেন। এইজন্য চারটি বড় অংশ দুই শত অশ্বারোহীর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। এইভাবে আঠার অংশ পূর্ণ হয়। কিন্তু আবূ দাউদে মুজাম্মি' আল-আনসারী (রা) হইতে ইহার বিপরীত একটি বর্ণনা আছে:
قَالَ قُسِمَتْ خَيْبَرُ عَلَى أَهْلِ الْحُدَيْبِيَّةِ فَقَسَمَهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهُمَا وَكَانَ الْجَيْشُ أَلْفًا وَخَمْسَ مِائَةٍ فِيهِمْ ثَلتُ مِائَةٍ فَارِسٍ فَأَعْطَى الْفَارِسَ سَهْمَيْنِ وَأَعْطَى الرَّاحِلَ سَهما .
(کتاب الخراج مَا جَاء فِي حُكْمِ أَرْضِ خَيْبَرَ )
মুজাম্মি' ইবন হারিছা (রা)-এর বর্ণনায় তিনটি বিষয়ে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, অশ্বারোহীর জন্য ছোট একটি অংশ, দুইটি অংশ নয়। দ্বিতীয়ত, লোকসংখ্যা ছিল পনর শত এবং তৃতীয়ত, অশ্বের সংখ্যা ছিল তিন শত। এই হিসাবে পনরটি বড় অংশ পনর শত লোকের মধ্যে এবং তিন শত অশ্বের মধ্যে তিনটি অংশ। এইভাবে মোট আঠার অংশ পূর্ণ হয়।
ইমাম নাওয়াবী উল্লেখ করেন, অশ্বের অংশের মধ্যে মতপার্থক্য রহিয়াছে। অধিকাংশের মতে অশ্বের জন্য দুই অংশ। ইহাতে যাহারা পদাতিক ছিলেন তাহাদের মাথাপিছু এক অংশ এবং অশ্বারোহীদের জন্য তিন অংশ হইয়া যায়। এক অংশ আরোহীর আর দুই অংশ অশ্বের। ইব্ন আব্বাস (রা), মুজাহিদ, হাসান, ইব্ন সীরীন, উমার ইব্ন আবদিল আযীয, ইমাম মালিক, ইমাম আওযাঈ, সুফ্যান ছাওরী, শাফিঈ, লায়ছ, ইমাম আবূ ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম আহমাদ, ইসহাক, আবু উবায়দ ইব্ন জারীর (র) প্রমুখ এই মত পোষণ করেন। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা (র) বলেন, অশ্বরোহীর জন্য দুই অংশ হইবে, এক অংশ আরোহীর আর এক অংশ তাহার অশ্বের। বলা হয়, ইহার পক্ষে আলী (রা) ও আবূ মূসা আল-আশআরী (রা) ব্যতীত অন্য কাহারও কোন বর্ণনা নাই (নাওয়াবী, হাশিয়া মুসলিম, ২খ., পৃ. ৯২)। ইমাম আবূ হানীফা (র) মুজাম্মি' ইব্ন হারিছা (রা)-এর বর্ণনাকে দলীল হিসাবে পেশ করেন। কিন্তু ইমাম ইব্ন কায়্যিম (র) বলেন, ইমাম শাফি'ঈ (র)-এর মতে মুজাম্মি' ইব্ন হারিছা (রা)-এর অবস্থা পরিজ্ঞাত নয়। দ্বিতীয় দলীল এই যে, আবদুল্লাহ আল-উমারী নাফে' হইতে এবং তিনি ইব্ন উমার (রা) হইতে রিওয়ায়াত করেন যে, অশ্বারোহীর দুই অংশ এবং পদাতিকের এক অংশ। কিন্তু উবায়দুল্লাহ ইবন উমার নাফে' হইতে এবং তিনি ইব্ন উমার হইতে রিওয়ায়াত করেন যে, অশ্বের জন্য দুই অংশ এবং আরোহীর জন্য এক অংশ। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াত দ্বারা পরিষ্কার ভাবে বুঝা যায় যে, অশ্বারোহীর জন্য তিন অংশঃ দুই অংশ অশ্বের জন্য আর এক অংশ আরোহীর জন্য। উবায়দুল্লাহ তদীয় ভ্রাতা হইতে স্মরণশক্তিতে অগ্রণী ছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৯৭)। আবদুল্লাহ ও উবায়দুল্লাহ ভ্রাতৃদ্বয়ের রিওয়ায়াতের এই বিভিন্নতা সম্পর্কে ইমাম শাফি'ঈ (র) বলেন, সম্ভবত নাফে' (র) অশ্বের কথা (فرس) উল্লেখ করিয়াছিলেন এবং ইহাকে আবদুল্লাহ অশ্বারোহী (فارس) জ্ঞান করিয়াছেন। ইহা ছাড়া ওয়াকিদীর কোন কোন বর্ণনায় অশ্বারোহীর দুই অংশের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু সহীহ হাদীছ গ্রন্থের রিওয়ায়াতের মুকাবিলায় ওয়াকিদীর রিওয়ায়াতসমূহের দ্বারা দলীল পেশ করা শুদ্ধ হইতে পারে না।
মুজাম্মি' ইবন হারিছা (র)-এর রিওয়ায়াতে তিন শতটি ঘোড়ার কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু জাবির ইবন 'আবদিল্লাহ, ইবন 'আব্বাস (রা), সালিহ্ ইব্ন কায়সান, বিশর ইবন ইয়াসার এবং সকল সীরাতবিদ বলেন, দুই শত ঘোড়া ছিল। এখন যদি দুই শত ঘোড়ার জন্য বড় চারটি অংশ পৃথক করা হয় তাহা হইলে অবশিষ্ট থাকিবে চৌদ্দ অংশ। এই কারণে সৈন্যসংখ্যা চৌদ্দ শত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অধিকাংশের মতে হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাই ছিল অনুরূপ। কিন্তু যদি লোকসংখ্যা পনর শত হইয়াই থাকে তাহা হইলে সম্ভবত এক শত হইবে দাস-দাসী যাহাদিগকে ভূমির অংশ প্রদান করা হয় নাই। মোটকথা অংশ প্রাপ্তদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দ শত (আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত)।
📄 সকল ভূমিই কি বণ্টন করা হইয়াছিল?
'আল্লামা আয়নী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের সকল ভূমি বণ্টন করেন নাই, কিছু অংশ বণ্টন করিয়াছিলেন। শুধু আশ-শিক্ক ও আন-নাতা বণ্টন করেন এবং অবশিষ্ট ভূমি বণ্টন করেন নাই। ইহা হইতে জানা যায় যে, বিজিত ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ারভুক্ত। আবূ উবায়দ বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ও খুলাফায়ে রাশিদীন-এর হাদীছসমূহ হইতে বিজিতি ভূমি সম্পর্কে জানা যায় যে, যেই স্থান এবং যেই গোত্রের অধিবাসিগণ মুসলমান হইয়া যায় তাহাদের ভূমি তাহাদিগেরই মালিকানায় থাকে এবং 'উশ্র ব্যতীত তাহাদের আর কিছুই দিতে হয় না। আর যেই ভূমি সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে বিজিত হয় তাহা সন্ধির শর্ত মুতাবিক বণ্টিত হইবে। সন্ধিচুক্তি অনুযায়ী ভূমির যেই খারাজ নির্ধারিত হইবে, ভূমি ভোগকারীদের ইহার অতিরিক্ত আর কিছুই হইবে না।
কিন্তু যেই ভূমি বলপ্রয়োগ এবং বিজয় লাভের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইবনুল মুনযির বলেন, ইমাম শাফি'ঈ ও আবু ছাওরের মতে, শক্তি প্রয়োগ এবং যুদ্ধের ফলে বিজিত ভূমি গনীমতের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হইবে। অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ রাখিয়া অবশিষ্ট চার অংশ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইবে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁহার শিষ্যদ্বয় ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ এবং ইমাম ছাওরী (র) বলেন, এই শ্রেণীভুক্ত ভূমির ব্যাপারে ইমামের এখতিয়ার থাকিবে। তিনি তাহা বণ্টন করিতে পারিবেন এবং অবণ্টিতও রাখিতে পারিবেন কিংবা কিয়দংশ বণ্টন করিবেন এবং কয়দংশ অবণ্টিত রাখিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের অর্ধাংশ বণ্টন করিয়াছিলেন এবং অর্ধাংশ বণ্টন করেন নাই। এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত বানু কুরায়যার সম্পূর্ণ ভূমি বণ্টন করিয়াছিলেন। মক্কা শরীফের ভূমি মোটেই বণ্টন করেন নাই। অথচ এইসব ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল।
শাফি'ঈ মাযহাবের 'উলামা খায়বার বিজয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, যেই অর্দ্ধাংশ ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল তাহা বন্টন করা হয়, আর যেই অর্দ্ধাংশ সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহা বণ্টন করা হয় নাই। কিন্তু সকল রিওয়ায়াত ও চরিতগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, খায়বারে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধে পরাজিত হইয়াই ইয়াহুদীগণ সর্ব অধিকার হারাইয়াছিল। সন্ধিচুক্তিতে ভূমি, বাড়ি-ঘর এবং সম্পদের উপর তাহাদিগের কোন অধিকার স্বীকার করা হয় নাই। শর্ত এই ছিল যে, শুধু শরীরাচ্ছাদন অথবা অন্য বর্ণনানুসারে জন্তুযানে যাহা বহন করা যায় তাহা লইয়া খায়বার ভূমি ইয়াহুদীদের পরিত্যাগ করিতে হইবে। সন্ধি হইলে এই শর্ত আরোপিত হইত না।
ইব্ন শিহাব সূত্রে ইমাম মালিক (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বারের কতিপয় অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। আল-কাতীবার বেশীর ভাগ অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। ইমাম মালিক (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, আল-কাতীবা কি? তিনি উত্তরে বলিলেন, ইহা খায়বারেরই একটি স্থানের নাম যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর বৃক্ষ ছিল। এই সন্ধি চুক্তির বিবরণ স্বয়ং ইব্ন শিহাব হইতে আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে। ইব্ন শিহাব বলেন, আমার নিকট রিওয়ায়াত পৌঁছিয়াছে যে, যুদ্ধের পর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার বিজিত হয় এবং খায়বারবাসী যাহারা স্বীয় ভূমি পরিত্যাগ করে এবং স্বীয় অধিকার পরিত্যাগ করিতে সম্মত হয় তাহা যুদ্ধের পরেই হইয়াছিল। কিন্তু ইহার পর খায়বারবাসীদের সংগে জমি ভাগে চাষাবাদের বিষয় স্থির হয়। পুনরায় জমি চাষ করিবার জন্য তাহাদিগকেই প্রদান করা হয় এবং বসত বাটিতে থাকিবারও অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধি চুক্তির সংগে ইহার কোন সম্পর্ক ছিল না। তাহারা শুধ শ্রম ব্যয় করিবার অনুমতি লাভ করিয়াছিল, ভূমি কিংবা বসতবাটির উপর তাহাদিগের কোন মালিকানা দাবি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (স) শর্তারোপ করিয়াছিলেন যে, যতক্ষণ ইচ্ছা এই ব্যবস্থা বহাল থাকিবে এবং যখন ইচ্ছা সমুদয় ভূমি তাহাদের নিকট হইতে প্রত্যাহার করা হইবে। সুতরাং এই শর্তের উপর ভিত্তি করিয়া 'উমার (রা) স্বীয় খিলাফতকালে তাহাদের নিকট হইতে ভূমি প্রত্যাহার করেন এবং তাহাদিগকে দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৬-২০০; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৭-১৩৮)।
'আল্লামা আয়নী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের সকল ভূমি বণ্টন করেন নাই, কিছু অংশ বণ্টন করিয়াছিলেন। শুধু আশ-শিক্ক ও আন-নাতা বণ্টন করেন এবং অবশিষ্ট ভূমি বণ্টন করেন নাই। ইহা হইতে জানা যায় যে, বিজিত ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ারভুক্ত। আবূ উবায়ড বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ও খুলাফায়ে রাশিদীন-এর হাদীছসমূহ হইতে বিজিতি ভূমি সম্পর্কে জানা যায় যে, যেই স্থান এবং যেই গোত্রের অধিবাসিগণ মুসলমান হইয়া যায় তাহাদের ভূমি তাহাদিগেরই মালিকানায় থাকে এবং 'উশ্র ব্যতীত তাহাদের আর কিছুই দিতে হয় না। আর যেই ভূমি সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে বিজিত হয় তাহা সন্ধির শর্ত মুতাবিক বণ্টিত হইবে। সন্ধিচুক্তি অনুযায়ী ভূমির যেই খারাজ নির্ধারিত হইবে, ভূমি ভোগকারীদের ইহার অতিরিক্ত আর কিছুই দিতে হইবে না।
কিন্তু যেই ভূমি বলপ্রয়োগ এবং বিজয় লাভের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইবনুল মুনযির বলেন, ইমাম শাফি'ঈ ও আবু ছাওরের মতে, শক্তি প্রয়োগ এবং যুদ্ধের ফলে বিজিত ভূমি গনীমতের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হইবে। অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ রাখিয়া অবশিষ্ট চার অংশ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইবে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁহার শিষ্যদ্বয় ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ এবং ইমাম ছাওরী (র) বলেন, এই শ্রেণীভুক্ত ভূমির ব্যাপারে ইমামের এখতিয়ার থাকিবে। তিনি তাহা বণ্টন করিতে পারিবেন এবং অবণ্টিতও রাখিতে পারিবেন কিংবা কিয়দংশ বণ্টন করিবেন এবং কয়দংশ অবণ্টিত রাখিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের অর্ধাংশ বণ্টন করিয়াছিলেন এবং অর্ধাংশ বণ্টন করেন নাই। এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত বানু কুরায়যার সম্পূর্ণ ভূমি বণ্টন করিয়াছিলেন। মক্কা শরীফের ভূমি মোটেই বণ্টন করেন নাই। অথচ এইসব ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল।
শাফি'ঈ মাযহাবের 'উলামা খায়বার বিজয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, যেই অর্দ্ধাংশ ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল তাহা বন্টন করা হয়, আর যেই অর্দ্ধাংশ সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহা বণ্টন করা হয় নাই। কিন্তু সকল রিওয়ায়াত ও চরিতগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, খায়বারে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধে পরাজিত হইয়াই ইয়াহুদীগণ সর্ব অধিকার হারাইয়াছিল। সন্ধিচুক্তিতে ভূমি, বাড়ি-ঘর এবং সম্পদের উপর তাহাদিগের কোন অধিকার স্বীকার করা হয় নাই। শর্ত এই ছিল যে, শুধু শরীরাচ্ছাদন অথবা অন্য বর্ণনানুসারে জন্তুযানে যাহা বহন করা যায় তাহা লইয়া খায়বার ভূমি ইয়াহুদীদের পরিত্যাগ করিতে হইবে। সন্ধি হইলে এই শর্ত আরোপিত হইত না।
ইব্ন শিহাব সূত্রে ইমাম মালিক (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বারের কতিপয় অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। আল-কাতীবার বেশীর ভাগ অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। ইমাম মালিক (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, আল-কাতীবা কি? তিনি উত্তরে বলিলেন, ইহা খায়বারেরই একটি স্থানের নাম যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর বৃক্ষ ছিল। এই সন্ধি চুক্তির বিবরণ স্বয়ং ইব্ন শিহাব হইতে আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে। ইব্ন শিহাব বলেন, আমার নিকট রিওয়ায়াত পৌঁছিয়াছে যে, যুদ্ধের পর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার বিজিত হয় এবং খায়বারবাসী যাহারা স্বীয় ভূমি পরিত্যাগ করে এবং স্বীয় অধিকার পরিত্যাগ করিতে সম্মত হয় তাহা যুদ্ধের পরেই হইয়াছিল। কিন্তু ইহার পর খায়বারবাসীদের সংগে জমি ভাগে চাষাবাদের বিষয় স্থির হয়। পুনরায় জমি চাষ করিবার জন্য তাহাদিগকেই প্রদান করা হয় এবং বসত বাটিতে থাকিবারও অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধি চুক্তির সংগে ইহার কোন সম্পর্ক ছিল না। তাহারা শুধ শ্রম ব্যয় করিবার অনুমতি লাভ করিয়াছিল, ভূমি কিংবা বসতবাটির উপর তাহাদিগের কোন মালিকানা দাবি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (স) শর্তারোপ করিয়াছিলেন যে, যতক্ষণ ইচ্ছা এই ব্যবস্থা বহাল থাকিবে এবং যখন ইচ্ছা সমুদয় ভূমি তাহাদের নিকট হইতে প্রত্যাহার করা হইবে। সুতরাং এই শর্তের উপর ভিত্তি করিয়া 'উমার (রা) স্বীয় খিলাফতকালে তাহাদের নিকট হইতে ভূমি প্রত্যাহার করেন এবং তাহাদিগকে দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৬-২০০; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৭-১৩৮)।
'আল্লামা আয়নী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের সকল ভূমি বণ্টন করেন নাই, কিছু অংশ বণ্টন করিয়াছিলেন। শুধু আশ-শিক্ক ও আন-নাতা বণ্টন করেন এবং অবশিষ্ট ভূমি বণ্টন করেন নাই। ইহা হইতে জানা যায় যে, বিজিত ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ারভুক্ত। আবূ উবায়ড বলেন, রাসূলুল্লাহ (س) ও খুলাফায়ে রাশিদীন-এর হাদীছসমূহ হইতে বিজিতি ভূমি সম্পর্কে জানা যায় যে, যেই স্থান এবং যেই গোত্রের অধিবাসিগণ মুসলমান হইয়া যায় তাহাদের ভূমি তাহাদিগেরই মালিকানায় থাকে এবং 'উশ্র ব্যতীত তাহাদের আর কিছুই দিতে হয় না। আর যেই ভূমি সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে বিজিত হয় তাহা সন্ধির শর্ত মুতাবিক বণ্টিত হইবে। সন্ধিচুক্তি অনুযায়ী ভূমির যেই খারাজ নির্ধারিত হইবে, ভূমি ভোগকারীদের ইহার অতিরিক্ত আর কিছুই হইবে না।
কিন্তু যেই ভূমি বলপ্রয়োগ এবং বিজয় লাভের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইবনুল মুনযির বলেন, ইমাম শাফি'ঈ ও আবু ছাওরের মতে, শক্তি প্রয়োগ এবং যুদ্ধের ফলে বিজিত ভূমি গনীমতের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হইবে। অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ রাখিয়া অবশিষ্ট চার অংশ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইবে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁহার শিষ্যদ্বয় ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ এবং ইমাম ছাওরী (র) বলেন, এই শ্রেণীভুক্ত ভূমির ব্যাপারে ইমামের এখতিয়ার থাকিবে। তিনি তাহা বণ্টন করিতে পারিবেন এবং অবণ্টিতও রাখিতে পারিবেন কিংবা কিয়দংশ বণ্টন করিবেন এবং কয়দংশ অবণ্টিত রাখিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের অর্ধাংশ বণ্টন করিয়াছিলেন এবং অর্ধাংশ বণ্টন করেন নাই। এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত বানু কুরায়যার সম্পূর্ণ ভূমি বণ্টন করিয়াছিলেন। মক্কা শরীফের ভূমি মোটেই বণ্টন করেন নাই। অথচ এইসব ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল।
শাফি'ঈ মাযহাবের 'উলামা খায়বার বিজয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, যেই অর্দ্ধাংশ ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল তাহা বন্টন করা হয়, আর যেই অর্দ্ধাংশ সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহা বণ্টন করা হয় নাই। কিন্তু সকল রিওয়ায়াত ও চরিতগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, খায়বারে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধে পরাজিত হইয়াই ইয়াহুদীগণ সর্ব অধিকার হারাইয়াছিল। সন্ধিচুক্তিতে ভূমি, বাড়ি-ঘর এবং সম্পদের উপর তাহাদিগের কোন অধিকার স্বীকার করা হয় নাই। শর্ত এই ছিল যে, শুধু শরীরাচ্ছাদন অথবা অন্য বর্ণনানুসারে জন্তুযানে যাহা বহন করা যায় তাহা লইয়া খায়বার ভূমি ইয়াহুদীদের পরিত্যাগ করিতে হইবে। সন্ধি হইলে এই শর্ত আরোপিত হইত না।
ইব্ن শিহাব সূত্রে ইমাম মালিক (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বারের কতিপয় অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। আল-কাতীবার বেশীর ভাগ অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। ইমাম মালিক (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, আল-কাতীবা কি? তিনি উত্তরে বলিলেন, ইহা খায়বারেরই একটি স্থানের নাম যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর বৃক্ষ ছিল। এই সন্ধি চুক্তির বিবরণ স্বয়ং ইব্ন শিহাব হইতে আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে। ইব্ن শিহাব বলেন, আমার নিকট রিওয়ায়াত পৌঁছিয়াছে যে, যুদ্ধের পর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার বিজিত হয় এবং খায়বারবাসী যাহারা স্বীয় ভূমি পরিত্যাগ করে এবং স্বীয় অধিকার পরিত্যাগ করিতে সম্মত হয় তাহা যুদ্ধের পরেই হইয়াছিল। কিন্তু ইহার পর খায়বারবাসীদের সংগে জমি ভাগে চাষাবাদের বিষয় স্থির হয়। পুনরায় জমি চাষ করিবার জন্য তাহাদিগকেই প্রদান করা হয় এবং বসত বাটিতে থাকিবারও অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধি চুক্তির সংগে ইহার কোন সম্পর্ক ছিল না। তাহারা শুধ শ্রম ব্যয় করিবার অনুমতি লাভ করিয়াছিল, ভূমি কিংবা বসতবাটির উপর তাহাদিগের কোন মালিকানা দাবি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (س) শর্তারোপ করিয়াছিলেন যে, যতক্ষণ ইচ্ছা এই ব্যবস্থা বহাল থাকিবে এবং যখন ইচ্ছা সমুদয় ভূমি তাহাদের নিকট হইতে প্রত্যাহার করা হইবে। সুতরাং এই শর্তের উপর ভিত্তি করিয়া 'উমার (রা) স্বীয় খিলাফতকালে তাহাদের নিকট হইতে ভূমি প্রত্যাহার করেন এবং তাহাদিগকে দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৬-২০০; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৭-১৩৮)।
'আল্লামা আয়নী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের সকল ভূমি বণ্টন করেন নাই, কিছু অংশ বণ্টন করিয়াছিলেন। শুধু আশ-শিক্ক ও আন-নাতা বণ্টন করেন এবং অবশিষ্ট ভূমি বণ্টন করেন নাই। ইহা হইতে জানা যায় যে, বিজিত ভূমি সম্পর্কে সিদ্ধান্তও রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ারভুক্ত। আবূ উবায়দ বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ও খুলাফায়ে রাশিদীন-এর হাদীছসমূহ হইতে বিজিতি ভূমি সম্পর্কে জানা যায় যে, যেই স্থান এবং যেই গোত্রের অধিবাসিগণ মুসলমান হইয়া যায় তাহাদের ভূমি তাহাদিগেরই মালিকানায় থাকে এবং 'উশ্র ব্যতীত তাহাদের আর কিছুই দিতে হয় না। আর যেই ভূমি সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে বিজিত হয় তাহা সন্ধির শর্ত মুতাবিক বণ্টিত হইবে। সন্ধিচুক্তি অনুযায়ী ভূমির যেই খারাজ নির্ধারিত হইবে, ভূমি ভোগকারীদের ইহার অতিরিক্ত আর কিছুই দিতে হইবে না।
কিন্তু যেই ভূমি বলপ্রয়োগ এবং বিজয় লাভের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেই সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইবনুল মুনযির বলেন, ইমাম শাফি'ঈ ও আবু ছাওরের মতে, শক্তি প্রয়োগ এবং যুদ্ধের ফলে বিজিত ভূমি গনীমতের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হইবে। অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ রাখিয়া অবশিষ্ট চার অংশ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইবে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁহার শিষ্যদ্বয় ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ এবং ইমাম ছাওরী (র) বলেন, এই শ্রেণীভুক্ত ভূমির ব্যাপারে ইমামের এখতিয়ার থাকিবে। তিনি তাহা বণ্টন করিতে পারিবেন এবং অবণ্টিতও রাখিতে পারিবেন কিংবা কিয়দংশ বণ্টন করিবেন এবং কয়দংশ অবণ্টিত রাখিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের অর্ধাংশ বণ্টন করিয়াছিলেন এবং অর্ধাংশ বণ্টন করেন নাই। এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত বানু কুরায়যার সম্পূর্ণ ভূমি বণ্টন করিয়াছিলেন। মক্কা শরীফের ভূমি মোটেই বণ্টন করেন নাই। অথচ এইসব ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল।
শাফি'ঈ মাযহাবের 'উলামা খায়বার বিজয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, যেই অর্দ্ধাংশ ভূমি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হইয়াছিল তাহা বন্টন করা হয়, আর যেই অর্দ্ধাংশ সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয় তাহা বণ্টন করা হয় নাই। কিন্তু সকল রিওয়ায়াত ও চরিতগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, খায়বারে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধে পরাজিত হইয়াই ইয়াহুদীগণ সর্ব অধিকার হারাইয়াছিল। সন্ধিচুক্তিতে ভূমি, বাড়ি-ঘর এবং সম্পদের উপর তাহাদিগের কোন অধিকার স্বীকার করা হয় নাই। শর্ত এই ছিল যে, শুধু শরীরাচ্ছাদন অথবা অন্য বর্ণনানুসারে জন্তুযানে যাহা বহন করা যায় তাহা তাহা লইয়া খায়বার ভূমি ইয়াহুদীদের পরিত্যাগ করিতে হইবে। সন্ধি হইলে এই শর্ত আরোপিত হইত না।
ইব্ন শিহাব সূত্রে ইমাম মালিক (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বারের কতিপয় অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। আল-কাতীবার বেশীর ভাগ অংশ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়। ইমাম মালিক (র)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, আল-কাতীবা কি? তিনি উত্তরে বলিলেন, ইহা খায়বারেরই একটি স্থানের নাম যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর বৃক্ষ ছিল। এই সন্ধি চুক্তির বিবরণ স্বয়ং ইব্ন শিহাব হইতে আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে। ইব্ন শিহাব বলেন, আমার নিকট রিওয়ায়াত পৌঁছিয়াছে যে, যুদ্ধের পর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার বিজিত হয় এবং খায়বারবাসী যাহারা স্বীয় ভূমি পরিত্যাগ করে এবং স্বীয় অধিকার পরিত্যাগ করিতে সম্মত হয় তাহা যুদ্ধের পরেই হইয়াছিল। কিন্তু ইহার পর খায়বারবাসীদের সংগে জমি ভাগে চাষাবাদের বিষয় স্থির হয়। পুনরায় জমি চাষ করিবার জন্য তাহাদিগকেই প্রদান করা হয় এবং বসত বাটিতে থাকিবারও অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধি চুক্তির সংগে ইহার কোন সম্পর্ক ছিল না। তাহারা শুধ শ্রম ব্যয় করিবার অনুমতি লাভ করিয়াছিল, ভূমি কিংবা বসতবাটির উপর তাহাদিগের কোন মালিকানা দাবি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (স) শর্তারোপ করিয়াছিলেন যে, যতক্ষণ ইচ্ছা এই ব্যবস্থা বহাল থাকিবে এবং যখন ইচ্ছা সমুদয় ভূমি তাহাদের নিকট হইতে প্রত্যাহার করা হইবে। সুতরাং এই শর্তের উপর ভিত্তি করিয়া 'উমার (রা) স্বীয় খিলাফতকালে তাহাদের নিকট হইতে ভূমি প্রত্যাহার করেন এবং তাহাদিগকে দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৬-২০০; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৭-১৩৮)।