📄 ইয়াহুদী নেতা কিনানাকে হত্যা
'আল্লামা সুহায়লী বলেন, কিনানা ইবনুর রাবী'র কাছে বানু নাঘীরের সম্পদের সম্ভার ছিল। তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে তিনি তাহাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। কিনানা এই সম্পর্কে অবগত নয় বলিয়া জানাইল। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক ইয়াহুদী আসিয়া বলিল, আমি কিনানাকে একটি অনাবাদী স্থানে প্রতিদিন ভোরে ঘোরাফিরা করিতে দেখিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে বলিলেন, যদি আমরা ইহা তোমার নিকট পাই তাহা হইলে কি তোমাকে হত্যা করিব? সে বলিল, হাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (স) এই অনাবাদী স্থানটিতে সন্ধান করিবার আদেশ করিলেন। সেখান হইতে কিছু সম্পদ উদ্ধার করা হইল। অতঃপর কিনানাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, অবশিষ্ট সম্পদ কোথায়? সে তাহা হস্তান্তর করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। রাসূলুল্লাহ (স) এই সময় যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর নিকট তাহাকে সোপর্দ করিয়া বলিলেন, এই লোকটির নিকট যাহা রহিয়াছে তাহার সন্ধান লাভ না করা পর্যন্ত তাহাকে শাস্তি প্রদান কর। যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি পাথর দিয়া আঘাত হানিতে লাগিলেন। ইহাতে সে মুমূর্ষু হইয়া পড়িলে রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-এর নিকট হস্তান্তর করিলেন। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) তাহাকে স্বীয় ভাই মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসরূপে হত্যা করিলেন (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩ তারীখু উমাম ওয়াল-মুলুক, ৩খ, পৃ. ৯৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদিগকে বহিষ্কার করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহারা বলিয়াছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাদিগকে অবস্থান করিতে দিন। আমরা এই ভূমিতে কাজ করিব। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক আমাদের আর অর্ধেক আপনাদের। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার স্ত্রীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক যব দিতেন (সুনান আবী দাউদ, ২খ., পৃ. ৭৬, বাব মা জাআ ফী হুকুমি আরদি খায়বার; বাযলুল মাজহুদ, ১৩খ., পৃ. ৩৩৫-৩৩৭)।
মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-এর প্রতিশোধস্বরূপ কিনানাকে হত্যা করিবার জন্য মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-র নিকট সোপর্দ করা সংক্রান্ত বর্ণনার সহিত এই রিওয়ায়াত সাংঘর্ষিক নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশেই কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হইয়াছিল। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী সীরাতুন নবী গ্রন্থে বলেন, "খায়বারের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি ঘটনায় সীরাতবিদগণ একটি ভুল রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। তাহা হইল, রাসূলুল্লাহ (স) প্রথমে ইয়াহুদীগণকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়াছিলেন যে, তাহারা কোন জিনিস লুকাইয়া রাখিবে না। কিন্তু যখন কিনানা সম্পদ সম্ভারের তথ্য দিতে অস্বীকার করিল তখন তিনি তাহাকে যুবায়র (রা)-এর নিকট সোপর্দ করিয়া আদেশ দিলেন যে, কঠোরতা অবলম্বন করিয়া তাহার নিকট হইতে তথ্য উদঘাটন করিতে। কথামত যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি জ্বালাইয়া দাগাইতে লাগিলেন, যাহার দরুন তাহার প্রাণ নিঃশেষ হইবার উপক্রম হইল। অতঃপর তিনি কিনানাকে হত্যা করাইলেন, সকল ইয়াহুদীকে দাস-দাসী বানাইয়া লইলেন। উক্ত রিওয়ায়াতের এইটুকু হইল শুদ্ধ যে, কিনানাকে হত্যা করা হইয়াছে। কিন্তু ইহার কারণ এই ছিল না যে, সে সম্পদরাজির তথ্য দিতে অস্বীকার করিয়াছিল; বরং তাহার কারণ হইল, কিনানা মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। ইহার কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হয়। গ্রন্থকারদ্বয় বলেন, এই রিওয়ায়াতটি তাবারী ও ইন্ন হিশাম ইবন ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু ইন্ন ইসহাক উপরস্থ কোন রাবীর নাম উল্লেখ করেন নাই। মুহাদ্দিছগণ জীবনী গ্রন্থসমূহে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, ইবন ইসহাক ইয়াহূদীগণের নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুদ্ধ সংক্রান্ত ঘটনাপঞ্জী বর্ণনা করিতেন। এই রিওয়ায়াতকেও সেইরূপ মনে করা উচিত। তাহারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, কোন লোককে সম্পদ ভাণ্ডারের তথ্য প্রদান না করায় তাহার বুকে চকমকি দ্বারা আগুন বর্ষণের বিষয়টি রাহমাতুল্লিল আলামীনের মহানুভাবতার সহিত খাপ খায় না। বিষ প্রয়োগকারী ব্যক্তির অপরাধের জন্য যিনি তাহাকে শাস্তি দিলেন না আর কতিপয় মুদ্রার জন্য কোন লোকের বুকে আগুন লাগানোর আদেশ কি তিনি দিতে পারেন? তাহারা আরও বলেন, কিনানা ওয়াদা ভঙ্গ করিয়াছিল, ফলে তাহার নিরাপত্তার শর্ত রহিত হইয়াছিল। সে মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। সেইজন্য তাহাকে কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হয়। তাহারা বলেন, ঘটনার সহিত নিম্নোক্ত বিষয়সমূহও সংযোজিত রহিয়াছে:
(১) কিনানার সহিত তাহার ভাইয়ের কথা যোগ করা হইয়াছে। বাক্স ইব্ন আবদির রহমান সূত্রে বর্ণিত মুত্তাসিল রিওয়ায়াত রহিয়াছে:
(২) আফফান ইব্ন্ন মুসলিম সূত্রে বর্ণিত ইবন সা'দের রিওয়ায়াতে রহিয়াছে: فَضُرِبَ أَعْنَاقُهُمَا وَسَبِي أَهْلَيْهِمَا فَلَمَّا وَجَدَ الْمَالَ الَّذِي غَيْبُوهُ فِي مَسْكِ الْجُمَلِ سَبِي نِسَاءَهُمْ.
"তাহারা উটের চামড়ার থলিতে যেই সম্পদ গোপন করিয়াছিল তাহা পাইয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের স্ত্রীলোকগণকে বন্দী করিয়াছিলেন।"
গ্রন্থকারদ্বয় এই সম্পর্কে বলেন, এই বর্ণনাসমূহকে হাদীছ যাচাইয়ের নীতি অনুসারে বিচার করিলে মূল বিষয়টি পরিষ্কার হইয়া যায়। তাহারা ইহাও বলেন, ইয়াহূদীগণের স্ত্রীলোক ও সন্তানদিগকে গ্রেফতার করিবার কথা তো দূরে থাকুক, সহীহ বুখারীর একটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, কিনানা-র ভাইকেও হত্যা করা হয় নাই। সে উমার (রা)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত জীবিত ছিল। যেমন বুখারীতে আছে:
فَلَمَّا أَجْمَعَ عُمَرُ عَلَى ذلِكَ آتَاهُ أَحَدٌ بَنِي أَبِي الْحُقَيْقِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتُخْرِجُنَا وَقَدْ أَقَرْنَا مُحَمَّدٌ وَعَامَلَنَا عَلَى الأَمْوَالِ.
"উমার (রা) যখন এই ব্যাপারে একমত হইয়া গেলেন তখন তাঁহার নিকট হুকায়কের কোন এক ছেলে আসিয়া বলিল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি আমাদিগকে উচ্ছেদ করিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (স) আমাদিগকে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন এবং আমাদেরকে (উৎপাদিত) মালের অংশ প্রদানের চুক্তিতে কৃষিকর্মী হিসাবে এখানে বহাল রাখিয়াছেন।"
তাহারা এই সম্পর্কে বলেন, "ইব্ন হাজার ফাতহুল বারীতে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, এই লোকটি ছিল কিনানার সেই ভাই"।
আবূ দাউদে-বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) সা'য়া-কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, সম্পদ ভাণ্ডার কোথায়? সে বলিয়াছিল, যুদ্ধে ব্যয় হইয়া গিয়াছে। ইহা সত্ত্বেও কেবল কিনানাকে মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হইয়াছিল। কারণ সম্পদ লুকাইবার দায়ে যদি তাহাকে হত্যা করা হইত তাহা হইলে সেই দায়ে আরও অনেকেই দায়ী ছিল (শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ২৮৫-২৮৭)।
'আল্লামা সুহায়লী বলেন, কিনানা ইবনুর রাবী'র কাছে বানু নাঘীরের সম্পদের সম্ভার ছিল। তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে তিনি তাহাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। কিনানা এই সম্পর্কে অবগত নয় বলিয়া জানাইল। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক ইয়াহুদী আসিয়া বলিল, আমি কিনানাকে একটি অনাবাদী স্থানে প্রতিদিন ভোরে ঘোরাফিরা করিতে দেখিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে বলিলেন, যদি আমরা ইহা তোমার নিকট পাই তাহা হইলে কি তোমাকে হত্যা করিব? সে বলিল, হাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (স) এই অনাবাদী স্থানটিতে সন্ধান করিবার আদেশ করিলেন। সেখান হইতে কিছু সম্পদ উদ্ধার করা হইল। অতঃপর কিনানাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, অবশিষ্ট সম্পদ কোথায়? সে তাহা হস্তান্তর করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। রাসূলুল্লাহ (স) এই সময় যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর নিকট তাহাকে সোপর্দ করিয়া বলিলেন, এই লোকটির নিকট যাহা রহিয়াছে তাহার সন্ধান লাভ না করা পর্যন্ত তাহাকে শাস্তি প্রদান কর। যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি পাথর দিয়া আঘাত হানিতে লাগিলেন। ইহাতে সে মুমূর্ষু হইয়া পড়িলে রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-এর নিকট হস্তান্তর করিলেন। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) তাহাকে স্বীয় ভাই মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসরূপে হত্যা করিলেন (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩ তারীখু উমাম ওয়াল-মুলুক, ৩খ, পৃ. ৯৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদিগকে বহিষ্কার করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহারা বলিয়াছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাদিগকে অবস্থান করিতে দিন। আমরা এই ভূমিতে কাজ করিব। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক আমাদের আর অর্ধেক আপনাদের। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার স্ত্রীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক যব দিতেন (সুনান আবী দাউদ, ২খ., পৃ. ৭৬, বাব মা জাআ ফী হুকুমি আরদি খায়বার; বাযলুল মাজহুদ, ১৩খ., পৃ. ৩৩৫-৩৩৭)।
মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-এর প্রতিশোধস্বরূপ কিনানাকে হত্যা করিবার জন্য মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-র নিকট সোপর্দ করা সংক্রান্ত বর্ণনার সহিত এই রিওয়ায়াত সাংঘর্ষিক নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশেই কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হইয়াছিল। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী সীরাতুন নবী গ্রন্থে বলেন, "খায়বারের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি ঘটনায় সীরাতবিদগণ একটি ভুল রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। তাহা হইল, রাসূলুল্লাহ (স) প্রথমে ইয়াহুদীগণকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়াছিলেন যে, তাহারা কোন জিনিস লুকাইয়া রাখিবে না। কিন্তু যখন কিনানা সম্পদ সম্ভারের তথ্য দিতে অস্বীকার করিল তখন তিনি তাহাকে যুবায়র (রা)-এর নিকট সোপর্দ করিয়া আদেশ দিলেন যে, কঠোরতা অবলম্বন করিয়া তাহার নিকট হইতে তথ্য উদঘাটন করিতে। কথামত যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি জ্বালাইয়া দাগাইতে লাগিলেন, যাহার দরুন তাহার প্রাণ নিঃশেষ হইবার উপক্রম হইল। অতঃপর তিনি কিনানাকে হত্যা করাইলেন, সকল ইয়াহুদীকে দাস-দাসী বানাইয়া লইলেন। উক্ত রিওয়ায়াতের এইটুকু হইল শুদ্ধ যে, কিনানাকে হত্যা করা হইয়াছে। কিন্তু ইহার কারণ এই ছিল না যে, সে সম্পদরাজির তথ্য দিতে অস্বীকার করিয়াছিল; বরং তাহার কারণ হইল, কিনানা মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। ইহার কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হয়। গ্রন্থকারদ্বয় বলেন, এই রিওয়ায়াতটি তাবারী ও ইন্ন হিশাম ইবন ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু ইন্ন ইসহাক উপরস্থ কোন রাবীর নাম উল্লেখ করেন নাই। মুহাদ্দিছগণ জীবনী গ্রন্থসমূহে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, ইবন ইসহাক ইয়াহূদীগণের নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুদ্ধ সংক্রান্ত ঘটনাপঞ্জী বর্ণনা করিতেন। এই রিওয়ায়াতকেও সেইরূপ মনে করা উচিত। তাহারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, কোন লোককে সম্পদ ভাণ্ডারের তথ্য প্রদান না করায় তাহার বুকে চকমকি দ্বারা আগুন বর্ষণের বিষয়টি রাহমাতুল্লিল আলামীনের মহানুভাবতার সহিত খাপ খায় না। বিষ প্রয়োগকারী ব্যক্তির অপরাধের জন্য যিনি তাহাকে শাস্তি দিলেন না আর কতিপয় মুদ্রার জন্য কোন লোকের বুকে আগুন লাগানোর আদেশ কি তিনি দিতে পারেন? তাহারা আরও বলেন, কিনানা ওয়াদা ভঙ্গ করিয়াছিল, ফলে তাহার নিরাপত্তার শর্ত রহিত হইয়াছিল। সে মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। সেইজন্য তাহাকে কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হয়। তাহারা বলেন, ঘটনার সহিত নিম্নোক্ত বিষয়সমূহও সংযোজিত রহিয়াছে:
(১) কিনানার সহিত তাহার ভাইয়ের কথা যোগ করা হইয়াছে। বাক্স ইব্ন আবদির রহমান সূত্রে বর্ণিত মুত্তাসিল রিওয়ায়াত রহিয়াছে:
(২) আফফান ইব্ন্ন মুসলিম সূত্রে বর্ণিত ইবন সা'দের রিওয়ায়াতে রহিয়াছে: فَضُرِبَ أَعْنَاقُهُمَا وَسَبِي أَهْلَيْهِمَا فَلَمَّا وَجَدَ الْمَالَ الَّذِي غَيْبُوهُ فِي مَسْكِ الْجُمَلِ سَبِي نِسَاءَهُمْ.
"তাহারা উটের চামড়ার থলিতে যেই সম্পদ গোপন করিয়াছিল তাহা পাইয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের স্ত্রীলোকগণকে বন্দী করিয়াছিলেন।"
গ্রন্থকারদ্বয় এই সম্পর্কে বলেন, এই বর্ণনাসমূহকে হাদীছ যাচাইয়ের নীতি অনুসারে বিচার করিলে মূল বিষয়টি পরিষ্কার হইয়া যায়। তাহারা ইহাও বলেন, ইয়াহূদীগণের স্ত্রীলোক ও সন্তানদিগকে গ্রেফতার করিবার কথা তো দূরে থাকুক, সহীহ বুখারীর একটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, কিনানা-র ভাইকেও হত্যা করা হয় নাই। সে উমার (রা)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত জীবিত ছিল। যেমন বুখারীতে আছে:
فَلَمَّا أَجْمَعَ عُمَرُ عَلَى ذلِكَ آتَاهُ أَحَدٌ بَنِي أَبِي الْحُقَيْقِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتُخْرِجُنَا وَقَدْ أَقَرْنَا مُحَمَّدٌ وَعَامَلَنَا عَلَى الأَمْوَالِ.
"উমার (রা) যখন এই ব্যাপারে একমত হইয়া গেলেন তখন তাঁহার নিকট হুকায়কের কোন এক ছেলে আসিয়া বলিল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি আমাদিগকে উচ্ছেদ করিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (স) আমাদিগকে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন এবং আমাদেরকে (উৎপাদিত) মালের অংশ প্রদানের চুক্তিতে কৃষিকর্মী হিসাবে এখানে বহাল রাখিয়াছেন।"
তাহারা এই সম্পর্কে বলেন, "ইব্ন হাজার ফাতহুল বারীতে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, এই লোকটি ছিল কিনানার সেই ভাই"।
আবূ দাউদে-বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) সা'য়া-কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, সম্পদ ভাণ্ডার কোথায়? সে বলিয়াছিল, যুদ্ধে ব্যয় হইয়া গিয়াছে। ইহা সত্ত্বেও কেবল কিনানাকে মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হইয়াছিল। কারণ সম্পদ লুকাইবার দায়ে যদি তাহাকে হত্যা করা হইত তাহা হইলে সেই দায়ে আরও অনেকেই দায়ী ছিল (শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ২৮৫-২৮৭)।
'আল্লামা সুহায়লী বলেন, কিনানা ইবনুর রাবী'র কাছে বানু নাঘীরের সম্পদের সম্ভার ছিল। তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে তিনি তাহাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। কিনানা এই সম্পর্কে অবগত নয় বলিয়া জানাইল। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক ইয়াহুদী আসিয়া বলিল, আমি কিনানাকে একটি অনাবাদী স্থানে প্রতিদিন ভোরে ঘোরাফিরা করিতে দেখিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে বলিলেন, যদি আমরা ইহা তোমার নিকট পাই তাহা হইলে কি তোমাকে হত্যা করিব? সে বলিল, হাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (স) এই অনাবাদী স্থানটিতে সন্ধান করিবার আদেশ করিলেন। সেখান হইতে কিছু সম্পদ উদ্ধার করা হইল। অতঃপর কিনানাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, অবশিষ্ট সম্পদ কোথায়? সে তাহা হস্তান্তর করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। রাসূলুল্লাহ (স) এই সময় যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর নিকট তাহাকে সোপর্দ করিয়া বলিলেন, এই লোকটির নিকট যাহা রহিয়াছে তাহার সন্ধান লাভ না করা পর্যন্ত তাহাকে শাস্তি প্রদান কর। যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি পাথর দিয়া আঘাত হানিতে লাগিলেন। ইহাতে সে মুমূর্ষু হইয়া পড়িলে রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-এর নিকট হস্তান্তর করিলেন। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) তাহাকে স্বীয় ভাই মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসরূপে হত্যা করিলেন (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩ তারীখু উমাম ওয়াল-মুলুক, ৩খ, পৃ. ৯৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদিগকে বহিষ্কার করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহারা বলিয়াছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাদিগকে অবস্থান করিতে দিন। আমরা এই ভূমিতে কাজ করিব। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক আমাদের আর অর্ধেক আপনাদের। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার স্ত্রীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক যব দিতেন (সুনান আবী দাউদ, ২খ., পৃ. ৭৬, বাব মা জাআ ফী হুকুমি আরদি খায়বার; বাযলুল মাজহুদ, ১৩খ., পৃ. ৩৩৫-৩৩৭)।
মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-এর প্রতিশোধস্বরূপ কিনানাকে হত্যা করিবার জন্য মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-র নিকট সোপর্দ করা সংক্রান্ত বর্ণনার সহিত এই রিওয়ায়াত সাংঘর্ষিক নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশেই কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হইয়াছিল। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী সীরাতুন নবী গ্রন্থে বলেন, "খায়বারের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি ঘটনায় সীরাতবিদগণ একটি ভুল রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। তাহা হইল, রাসূলুল্লাহ (স) প্রথমে ইয়াহুদীগণকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়াছিলেন যে, তাহারা কোন জিনিস লুকাইয়া রাখিবে না। কিন্তু যখন কিনানা সম্পদ সম্ভারের তথ্য দিতে অস্বীকার করিল তখন তিনি তাহাকে যুবায়র (রা)-এর নিকট সোপর্দ করিয়া আদেশ দিলেন যে, কঠোরতা অবলম্বন করিয়া তাহার নিকট হইতে তথ্য উদঘাটন করিতে। কথামত যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি জ্বালাইয়া দাগাইতে লাগিলেন, যাহার দরুন তাহার প্রাণ নিঃশেষ হইবার উপক্রম হইল। অতঃপর তিনি কিনানাকে হত্যা করাইলেন, সকল ইয়াহুদীকে দাস-দাসী বানাইয়া লইলেন। উক্ত রিওয়ায়াতের এইটুকু হইল শুদ্ধ যে, কিনানাকে হত্যা করা হইয়াছে। কিন্তু ইহার কারণ এই ছিল না যে, সে সম্পদরাজির তথ্য দিতে অস্বীকার করিয়াছিল; বরং তাহার কারণ হইল, কিনানা মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। ইহার কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হয়। গ্রন্থকারদ্বয় বলেন, এই রিওয়ায়াতটি তাবারী ও ইন্ন হিশাম ইবন ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু ইন্ন ইসহাক উপরস্থ কোন রাবীর নাম উল্লেখ করেন নাই। মুহাদ্দিছগণ জীবনী গ্রন্থসমূহে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, ইবন ইসহাক ইয়াহূদীগণের নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ (س)-এর যুদ্ধ সংক্রান্ত ঘটনাপঞ্জী বর্ণনা করিতেন। এই রিওয়ায়াতকেও সেইরূপ মনে করা উচিত। তাহারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, কোন লোককে সম্পদ ভাণ্ডারের তথ্য প্রদান না করায় তাহার বুকে চকমকি দ্বারা আগুন বর্ষণের বিষয়টি রাহমাতুল্লিল আলামীনের মহানুভাবতার সহিত খাপ খায় না। বিষ প্রয়োগকারী ব্যক্তির অপরাধের জন্য যিনি তাহাকে শাস্তি দিলেন না আর কতিপয় মুদ্রার জন্য কোন লোকের বুকে আগুন লাগানোর আদেশ কি তিনি দিতে পারেন? তাহারা আরও বলেন, কিনানা ওয়াদা ভঙ্গ করিয়াছিল, ফলে তাহার নিরাপত্তার শর্ত রহিত হইয়াছিল। সে মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (را)-কে হত্যা করিয়াছিল। সেইজন্য তাহাকে কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হয়। তাহারা বলেন, ঘটনার সহিত নিম্নোক্ত বিষয়সমূহও সংযোজিত রহিয়াছে:
(১) কিনানার সহিত তাহার ভাইয়ের কথা যোগ করা হইয়াছে। বাক্স ইব্ন আবদির রহমান সূত্রে বর্ণিত মুত্তাসিল রিওয়ায়াত রহিয়াছে:
(২) আফফান ইব্ন্ন মুসলিম সূত্রে বর্ণিত ইবন সা'দের রিওয়ায়াতে রহিয়াছে: فَضُرِبَ أَعْنَاقُهُمَا وَسَبِي أَهْلَيْهِمَا فَلَمَّا وَجَدَ الْمَالَ الَّذِي غَيْبُوهُ فِي مَسْكِ الْجُمَلِ سَبِي نِسَاءَهُمْ.
"তাহারা উটের চামড়ার থলিতে যেই সম্পদ গোপন করিয়াছিল তাহা পাইয়া রাসূলুল্লাহ (س) তাহাদের স্ত্রীলোকগণকে বন্দী করিয়াছিলেন।"
গ্রন্থকারদ্বয় এই সম্পর্কে বলেন, এই বর্ণনাসমূহকে হাদীছ যাচাইয়ের নীতি অনুসারে বিচার করিলে মূল বিষয়টি পরিষ্কার হইয়া যায়। তাহারা ইহাও বলেন, ইয়াহূদীগণের স্ত্রীলোক ও সন্তানদিগকে গ্রেফতার করিবার কথা তো দূরে থাকুক, সহীহ বুখারীর একটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, কিনানা-র ভাইকেও হত্যা করা হয় নাই। সে উমার (রা)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত জীবিত ছিল। যেমন বুখারীতে আছে:
فَلَمَّا أَجْمَعَ عُمَرُ عَلَى ذلِكَ آتَاهُ أَحَدٌ بَنِي أَبِي الْحُقَيْقِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتُخْرِجُنَا وَقَدْ أَقَرْنَا مُحَمَّدٌ وَعَامِلَنَا عَلَى الأَمْوَالِ.
"উমার (রা) যখন এই ব্যাপারে একমত হইয়া গেলেন তখন তাঁহার নিকট হুকায়কের কোন এক ছেলে আসিয়া বলিল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি আমাদিগকে উচ্ছেদ করিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (স) আমাদিগকে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন এবং আমাদেরকে (উৎপাদিত) মালের অংশ প্রদানের চুক্তিতে কৃষিকর্মী হিসাবে এখানে বহাল রাখিয়াছেন।"
তাহারা এই সম্পর্কে বলেন, "ইব্ন হাজার ফাতহুল বারীতে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, এই লোকটি ছিল কিনানার সেই ভাই"।
আবূ দাউদে-বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (س) সা'য়া-কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, সম্পদ ভাণ্ডার কোথায়? সে বলিয়াছিল, যুদ্ধে ব্যয় হইয়া গিয়াছে। ইহা সত্ত্বেও কেবল কিনানাকে মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হইয়াছিল। কারণ সম্পদ লুকাইবার দায়ে যদি তাহাকে হত্যা করা হইত তাহা হইলে সেই দায়ে আরও অনেকেই দায়ী ছিল (শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ২৮৫-২৮৭)।
'আল্লামা সুহায়লী বলেন, কিনানা ইবনুর রাবী'র কাছে বানু নাঘীরের সম্পদের সম্ভার ছিল। তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে তিনি তাহাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। কিনানা এই সম্পর্কে অবগত নয় বলিয়া জানাইল। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক ইয়াহুদী আসিয়া বলিল, আমি কিনানাকে একটি অনাবাদী স্থানে প্রতিদিন ভোরে ঘোরাফিরা করিতে দেখিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে বলিলেন, যদি আমরা ইহা তোমার নিকট পাই তাহা হইলে কি তোমাকে হত্যা করিব? সে বলিল, হাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (স) এই অনাবাদী স্থানটিতে সন্ধান করিবার আদেশ করিলেন। সেখান হইতে কিছু সম্পদ উদ্ধার করা হইল। অতঃপর কিনানাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, অবশিষ্ট সম্পদ কোথায়? সে তাহা হস্তান্তর করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। রাসূলুল্লাহ (স) এই সময় যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর নিকট তাহাকে সোপর্দ করিয়া বলিলেন, এই লোকটির নিকট যাহা রহিয়াছে তাহার সন্ধান লাভ না করা পর্যন্ত তাহাকে শাস্তি প্রদান কর। যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি পাথর দিয়া আঘাত হানিতে লাগিলেন। ইহাতে সে মুমূর্ষু হইয়া পড়িলে রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-এর নিকট হস্তান্তর করিলেন। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) তাহাকে স্বীয় ভাই মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসরূপে হত্যা করিলেন (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩ তারীখু উমাম ওয়াল-মুলুক, ৩খ, পৃ. ৯৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদিগকে বহিষ্কার করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহারা বলিয়াছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাদিগকে অবস্থান করিতে দিন। আমরা এই ভূমিতে কাজ করিব। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক আমাদের আর অর্ধেক আপনাদের। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার স্ত্রীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক যব দিতেন (সুনান আবী দাউদ, ২খ., পৃ. ৭৬, বাব মা জাআ ফী হুকুমি আরদি খায়বার; বাযলুল মাজহুদ, ১৩খ., পৃ. ৩৩৫-৩৩৭)।
মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-এর প্রতিশোধস্বরূপ কিনানাকে হত্যা করিবার জন্য মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-র নিকট সোপর্দ করা সংক্রান্ত বর্ণনার সহিত এই রিওয়ায়াত সাংঘর্ষিক নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশেই কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হইয়াছিল। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী সীরাতুন নবী গ্রন্থে বলেন, "খায়বারের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি ঘটনায় সীরাতবিদগণ একটি ভুল রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। তাহা হইল, রাসূলুল্লাহ (স) প্রথমে ইয়াহুদীগণকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়াছিলেন যে, তাহারা কোন জিনিস লুকাইয়া রাখিবে না। কিন্তু যখন কিনানা সম্পদ সম্ভারের তথ্য দিতে অস্বীকার করিল তখন তিনি তাহাকে যুবায়র (রা)-এর নিকট সোপর্দ করিয়া আদেশ দিলেন যে, কঠোরতা অবলম্বন করিয়া তাহার নিকট হইতে তথ্য উদঘাটন করিতে। কথামত যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি জ্বালাইয়া দাগাইতে লাগিলেন, যাহার দরুন তাহার প্রাণ নিঃশেষ হইবার উপক্রম হইল। অতঃপর তিনি কিনানাকে হত্যা করাইলেন, সকল ইয়াহুদীকে দাস-দাসী বানাইয়া লইলেন। উক্ত রিওয়ায়াতের এইটুকু হইল শুদ্ধ যে, কিনানাকে হত্যা করা হইয়াছে। কিন্তু ইহার কারণ এই ছিল না যে, সে সম্পদরাজির তথ্য দিতে অস্বীকার করিয়াছিল; বরং তাহার কারণ হইল, কিনানা মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। ইহার কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হয়। গ্রন্থকারদ্বয় বলেন, এই রিওয়ায়াতটি তাবারী ও ইন্ন হিশাম ইবন ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু ইন্ন ইসহাক উপরস্থ কোন রাবীর নাম উল্লেখ করেন নাই। মুহাদ্দিছগণ জীবনী গ্রন্থসমূহে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, ইবন ইসহাক ইয়াহূদীগণের নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুদ্ধ সংক্রান্ত ঘটনাপঞ্জী বর্ণনা করিতেন। এই রিওয়ায়াতকেও সেইরূপ মনে করা উচিত। তাহারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, কোন লোককে সম্পদ ভাণ্ডারের তথ্য প্রদান না করায় তাহার বুকে চকমকি দ্বারা আগুন বর্ষণের বিষয়টি রাহমাতুল্লিল আলামীনের মহানুভাবতার সহিত খাপ খায় না। বিষ প্রয়োগকারী ব্যক্তির অপরাধের জন্য যিনি তাহাকে শাস্তি দিলেন না আর কতিপয় মুদ্রার জন্য কোন লোকের বুকে আগুন লাগানোর আদেশ কি তিনি দিতে পারেন? তাহারা আরও বলেন, কিনানা ওয়াদা ভঙ্গ করিয়াছিল, ফলে তাহার নিরাপত্তার শর্ত রহিত হইয়াছিল। সে মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। সেইজন্য তাহাকে কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হয়। তাহারা বলেন, ঘটনার সহিত নিম্নোক্ত বিষয়সমূহও সংযোজিত রহিয়াছে:
(১) কিনানার সহিত তাহার ভাইয়ের কথা যোগ করা হইয়াছে। বাক্স ইব্ন আবদির রহমান সূত্রে বর্ণিত মুত্তাসিল রিওয়ায়াত রহিয়াছে:
(২) আফফান ইব্ন্ন মুসলিম সূত্রে বর্ণিত ইবন সা'দের রিওয়ায়াতে রহিয়াছে: فَضُرِبَ أَعْنَاقُهُمَا وَسَبِي أَهْلَيْهِمَا فَلَمَّا وَجَدَ الْمَالَ الَّذِي غَيْبُوهُ فِي مَسْكِ الْجُمَلِ سَبِي نِسَاءَهُمْ.
"তাহারা উটের চামড়ার থলিতে যেই সম্পদ গোপন করিয়াছিল তাহা পাইয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের স্ত্রীলোকগণকে বন্দী করিয়াছিলেন।"
গ্রন্থকারদ্বয় এই সম্পর্কে বলেন, এই বর্ণনাসমূহকে হাদীছ যাচাইয়ের নীতি অনুসারে বিচার করিলে মূল বিষয়টি পরিষ্কার হইয়া যায়। তাহারা ইহাও বলেন, ইয়াহূদীগণের স্ত্রীলোক ও সন্তানদিগকে গ্রেফতার করিবার কথা তো দূরে থাকুক, সহীহ বুখারীর একটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, কিনানা-র ভাইকেও হত্যা করা হয় নাই। সে উমার (রা)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত জীবিত ছিল। যেমন বুখারীতে আছে:
فَلَمَّا أَجْمَعَ عُمَرُ عَلَى ذلِكَ آتَاهُ أَحَدٌ بَنِي أَبِي الْحُقَيْقِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتُخْرِجُنَا وَقَدْ أَقَرْنَا مُحَمَّدٌ وَعَامَلَنَا عَلَى الأَمْوَالِ.
"উমার (রা) যখন এই ব্যাপারে একমত হইয়া গেলেন তখন তাঁহার নিকট হুকায়কের কোন এক ছেলে আসিয়া বলিল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি আমাদিগকে উচ্ছেদ করিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (স) আমাদিগকে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন এবং আমাদেরকে (উৎপাদিত) মালের অংশ প্রদানের চুক্তিতে কৃষিকর্মী হিসাবে এখানে বহাল রাখিয়াছেন।"
তাহারা এই সম্পর্কে বলেন, "ইব্ন হাজার ফাতহুল বারীতে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, এই লোকটি ছিল কিনানার সেই ভাই"।
আবূ দাউদে-বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) সা'য়া-কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, সম্পদ ভাণ্ডার কোথায়? সে বলিয়াছিল, যুদ্ধে ব্যয় হইয়া গিয়াছে। ইহা সত্ত্বেও কেবল কিনানাকে মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হইয়াছিল। কারণ সম্পদ লুকাইবার দায়ে যদি তাহাকে হত্যা করা হইত তাহা হইলে সেই দায়ে আরও অনেকেই দায়ী ছিল (শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ২৮৫-২৮৭)।
📄 সাফিয়্যা (রা)-এর স্বপ্ন
সাফিয়্যা (রা)-এর মুখমণ্ডলে একটি নীল দাগ ছিল। ইহার কারণ তিনি নিজেই বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমি একটি স্বপ্ন দেখিয়াছিলাম। আমি দেখিলাম, চাঁদ আমার কোলে। এই স্বপ্ন আমি আমার তৎকালীন স্বামী কিনানাকে অবহিত করিলাম। তিনি আমাকে প্রচণ্ডভাবে চপেটাঘাত করিয়া বলিলেন, তুমি তো মদীনার বাদশাহের প্রতি আসক্ত হইয়া পড়িয়াছ (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩)। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়া সাফিয়্যা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! প্রকৃতপক্ষে আপনার সম্পর্কে আমার কিছুই জানা ছিল না।
তাঁহাকে উম্মাহাতুল মু'মিনীনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফিরিবার সময় আস-সাহ্বা' নামক স্থানে তাঁহাদের বাসর অনুষ্ঠিত হয়। তথায় রাসূলুল্লাহ (স) তিনদিন অবস্থান করেন। সেই রজনীতে কোন পূর্ব-সংকেত ব্যতিরেকে আবূ আয়্যুব আনসারী (রা) সমগ্র রাত পাহারা প্রদান করেন। প্রত্যূষে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে এই অবস্থায় দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কেন এমন করিলে? তিনি জবাব দিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার আশংকা ছিল যে, এই মহিলার পিতা, ভ্রাতা, স্বামী সকলেই এই যুদ্ধে নিহত হইয়াছে। সুতরাং পিছনে সে যে কোন অনিষ্ট না করিয়া বসে। ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) মৃদু হাসিলেন এবং তাহার জন্য দু'আ করিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৩, ১৯৪)।
হযরত সাফিয়্যা (রা)-এর সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহের ওয়ালীমা ও সাফিয়্যার হিজাব (পর্দা) সম্পর্কে বুখারী শরীফে নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণিত হইয়াছে:
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَرْيَمَ قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسًا يَقُولُ أَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَ خَيْبَرَ وَالْمَدِينَةَ ثَلَثَةَ لَيَالٍ يُبَنِّى عَلَيْهَا بِصَفِيَّةَ فَدَعَوْتُ الْمُسْلِمِينَ إِلَى وَلِيْمَتِهِ وَمَا كَانَ فِيهَا مِنْ خُبْزٍ وَلَا لَحْمِ وَمَا كَانَ فِيهَا إِلَّا أَنْ أَمَرَ بلالاً بالأَنْطَاعِ فَبُسِطَتْ فَالْقَى عَلَيْهَا الثَّمَرَ وَالأَقطَ وَالسَّمَنَ فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُهُ قَالُوا إِنْ حَجَبَهَا فَهِيَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ فَإِنْ لَمْ يَحْجُبُهَا فَهِيَ مِمَّا مَلَكَتْ يَمِينُهُ فَلَمَّا ارْتَحَلَ وَطَأَ لَهَا خَلْفَهُ وَمَدَّ الْحِجَابَ.
"হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে তিন রাত অবস্থান করিয়াছিলেন। এই সময় তিনি সাফিয়্যা (রা)-এর সহিত মিলিত হইয়াছিলেন। অতঃপর আমি মুসলমানদেরকে ওয়ালীমা-র জন্য দাওয়াত করিলাম। ওয়ালীমাতে রুটি ও গোশত ছিল না। বিলাল (রা)-কে দস্তরখান বিছানোর আদেশ করা ছাড়া ইহাতে অন্য কিছু ছিল না। আদেশ অনুযায়ী দস্তরখান বিছানোর পর ইহাতে শুকনা খেজুর, পনির ও ঘি ঢালা হইয়াছিল। অতঃপর মুসলমানগণ বলিতে লাগিলেন, তিনি কি উম্মুল মু'মিনীনের একজন, না কি বাঁদী। তাহারা বলিলেন, যদি রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে রাখেন তাহা হইলে তিনি উম্মত জননীগণের একজন, আর যদি তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে না ঢাকেন তাহা হইলে তিনি তাঁহার একজন বাঁদী। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা করিলে সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য তাঁহার সওয়ারীর পিছনে বসিবার স্থান ঠিক করিলেন এবং তাঁহার জন্য পর্দা টানাইলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাওয়া খায়বার, ২খ., পৃ. ৬০৬; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১১৪)।
বুখারীর এক রিওয়ায়াত নিম্নরূপ:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ اللهِ عَزَا خَيْبَرَ فَصَلَّيْنَا عِنْدَهَا صَلوةَ الْغَدَاةِ بِغَلَس فَرَكِبَ النَّبِيِّ ﷺ وَرَكِبَ أَبُو طَلْحَةَ وَأَنَا رَدِيفُ أَبِي طَلْحَةَ فَأَجْرِى نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فِي زُقَاقِ خَيْبَرَ وَأَنَّ رَكْبَتَى لَتَمَسُ فَخِذَ نَبِيُّ اللَّهِ اللهِ ثُمَّ حَسَرَ الإِزارِ عَنْ فَخِذِهِ حَتَّى أَنِّي أَنْظُرُ إِلى بِيَاضِ فَخِذِ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا دَخَلَ الْقَرْيَةَ قَالَ اللهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ قَالَهَا ثَلثًا قَالَ وَخَرَجَ الْقَوْمُ إِلى أَعْمَالِهِمْ فَقَالُوا مُحَمَّدٌ قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا وَالْخَمِيسَ يَعْنِيُّ الْجَيْشِ قَالَ فَأَصَبْنَاهَا عَنَوَةً فَجُمِعَ السَّبِيُّ فَجَاءَ دِحْيَةٌ فَقَالَ يَانَبِيُّ اللهِ أَعْطَنِي جَارِيَةً مِنَ السَّبِي فَقَالَ اذْهَبْ فَخُذْ جَارِيَةً فَأَخَذَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَى فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ أَعْطَيْتَ دِحْيَةَ صَفِيَّةَ
بِنْتَ حُيَى سَيِّدَةَ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرَ لَا تَصْلُحُ إِلا لَكَ قَالَ أَدْعُوهُ بِهَا فَجَاءَ بِهَا فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهَا النَّبِيُّ ﷺ قَالَ خُذْ جَارِيَّةً مِنَ السَّبِي غَيْرَهَا قَالَ فَاعْتَقَهَا النَّبِيُّ ﷺ وَتَزَوجَهَا فَقَالَ لَهُ ثَابِتُ يَا أَبَا حَمْزَةً مَا أَصْدَقَهَا قَالَ نَفْسًا اَعْتَقَهَا وَتَزَوجَهَا حَتَّى إِذَا كَانَ بِالطَّرِيقِ.
বুখারীতে ওয়ালীমা সম্পর্কিত একটি বর্ণনায় উল্লেখ আছে:
فَأَصْبَحَ النَّبِيُّ ﷺ عَرُوسًا فَقَالَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلْيَجِيْ بِهِ وَبَسَطَ نِطْعًا فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِئُ بِالتَّمْرِ وَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيُّ بِالسَّمَنِ قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَدْ ذَكَرَ السَّوِيقَ قَالَ فَحَاسُوا حَيْسًا فَكَانَتْ وَلِيْمَةُ رَسُولِ الله ﷺ (صحيح البخاري مجلد ١ : ٤-٥٣ كتاب الصلوة باب ما يذكر في الفخذ).
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) সফররত অবস্থাতেই উম্মু সুলায়ম (রা) সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য রাত্রিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বাসরের ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। সকালে সকলকে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাহার নিকট যাহা আছে তাহা লইয়া আস। তিনি চামড়ার খাঞ্চা বিছাইয়া দিলেন। কেহ লইয়া আসিল শুকনা খেজুর, কেহ আনিল ঘি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় ছাতু আনার কথাও উল্লেখ আছে। সবাই মিলিয়া তাহা দিয়া হায়স (ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করিলেন। ইহাই ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওয়ালীমা” (বুখারী, কিতাবুস সালাত, বাব মা যুযকারু ফি'ল-ফাখিয, ১খ., ৫৩-৫৪)।
সুনানে আবী দাউদের ভাষ্যকার 'আল্লামা মাযিরী বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে ফেরত লইয়া নিজে বিবাহ করিলেন। কারণ:
لِمَا فِيْهِ مِنْ انْتِهَالِهَا مَعَ مَرْتَبَتِهَا وَكَوْنِهَا بِنْتَ سَيِّدِهِمْ
"তিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং ইয়াহূদী নেতার মেয়ে। এইজন্য তাঁহার অন্য কাহারও নিকট থাকা সমীচীন ছিল মা" (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., ২৮৪)।
ইবন হাজার আল-'আসকালানী বলেন, ইবন ইসহাকের মতে সাফিয়্যা (রা)-কে কামূস দুর্গ হইতে বন্দী করা হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইন্ন আবিল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁহার সহিত তাঁহার চাচাতো ভগ্নিকে বন্দী করা হইয়াছিল। ভিন্নমতে তাঁহার স্বামীর চাচাত ভগ্নি বন্দী হইয়াছিল। সুহায়লী বলেন, খায়বারের গনীমত ভাগ করিবার পূর্বে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে সাফিয়্যা (রা)-কে ফেরত লওয়া হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা)-এর পরিবর্তে দিহয়া (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) যাহা দিয়াছিলেন তাহা বিনিময় হিসাবে নয়, অনুগ্রহ হিসাবে (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
সাফিয়্যা (রা) মহানবী (স)-এর পরিণীতা হইবার আরও একটি যুক্তি হইল, তিনি পিতা ও স্বামী উভয়ের পক্ষ হইতে রাজকীয় পরিবেশে জীবন যাপনের পর যখন পিতৃহারা ও স্বামীহারা হইয়া চরমভাবে অসহায় হইয়া পড়িলেন, এমতাবস্থায় তাঁহার বংশ মর্যাদা রক্ষার্থে এবং স্বজন হারানোর বেদনা দূর করিতে ইহা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। তিনি বাঁদী হিসাবেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকিতে পারিতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) তাহা করেন নাই। তাঁহার সামাজিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করিয়া তিনি তাঁহাকে আযাদ করিয়া দিলেন। অতঃপর তাঁহাকে নিজ স্ত্রী হিসাবে বরণ করিয়া লইলেন।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে (মিসর, ৩খ., ১৩৮), রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দুইটি জিনিসের যে কোন একটি গ্রহণের অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন: হয় তিনি আযাদ হইয়া নিজ গৃহে চলিয়া যাইবেন অথবা তাঁহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহে আবদ্ধ হইবার পন্থাটি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করিয়াছিলেন। করুণা ও সদ্ব্যবহার ছাড়াও ইহা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হইতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই আচরণের ফলেই আরববাসীদের ইসলামের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাইতেছিল। ইসলাম তাহার শত্রুদিগের পরিবার-পরিজনের সহিতও কতই না উত্তম আচরণ করে (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন-নবী, ১খ., ২৮৪)।
সাফিয়্যা (রা)-এর মুখমণ্ডলে একটি নীল দাগ ছিল। ইহার কারণ তিনি নিজেই বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমি একটি স্বপ্ন দেখিয়াছিলাম। আমি দেখিলাম, চাঁদ আমার কোলে। এই স্বপ্ন আমি আমার তৎকালীন স্বামী কিনানাকে অবহিত করিলাম। তিনি আমাকে প্রচণ্ডভাবে চপেটাঘাত করিয়া বলিলেন, তুমি তো মদীনার বাদশাহের প্রতি আসক্ত হইয়া পড়িয়াছ (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩)। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়া সাফিয়্যা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! প্রকৃতপক্ষে আপনার সম্পর্কে আমার কিছুই জানা ছিল না।
তাঁহাকে উম্মাহাতুল মু'মিনীনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফিরিবার সময় আস-সাহ্বা' নামক স্থানে তাঁহাদের বাসর অনুষ্ঠিত হয়। তথায় রাসূলুল্লাহ (স) তিনদিন অবস্থান করেন। সেই রজনীতে কোন পূর্ব-সংকেত ব্যতিরেকে আবূ আয়্যুব আনসারী (রা) সমগ্র রাত পাহারা প্রদান করেন। প্রত্যূষে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে এই অবস্থায় দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কেন এমন করিলে? তিনি জবাব দিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার আশংকা ছিল যে, এই মহিলার পিতা, ভ্রাতা, স্বামী সকলেই এই যুদ্ধে নিহত হইয়াছে। সুতরাং পিছনে সে যে কোন অনিষ্ট না করিয়া বসে। ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) মৃদু হাসিলেন এবং তাহার জন্য দু'আ করিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৩, ১৯৪)।
হযরত সাফিয়্যা (রা)-এর সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহের ওয়ালীমা ও সাফিয়্যার হিজাব (পর্দা) সম্পর্কে বুখারী শরীফে নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণিত হইয়াছে:
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَرْيَمَ قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسًا يَقُولُ أَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَ خَيْبَرَ وَالْمَدِينَةَ ثَلثَةَ لَيَالٍ يُبَنِّى عَلَيْهَا بِصَفِيَّةَ فَدَعَوْتُ الْمُسْلِمِينَ إِلَى وَلِيْمَتِهِ وَمَا كَانَ فِيهَا مِنْ خُبْزٍ وَلَا لَحْمِ وَمَا كَانَ فِيهَا إِلَّا أَنْ أَمَرَ بلالاً بالأَنْطَاعِ فَبُسِطَتْ فَالْقَى عَلَيْهَا الثَّمَرَ وَالأَقطَ وَالسَّمَنَ فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُهُ قَالُوا إِنْ حَجَبَهَا فَهِيَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ فَإِنْ لَمْ يَحْجُبُهَا فَهِيَ مِمَّا مَلَكَتْ يَمِينُهُ فَلَمَّا ارْتَحَلَ وَطَأَ لَهَا خَلْفَهُ وَمَدَّ الْحِجَابَ.
"হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে তিন রাত অবস্থান করিয়াছিলেন। এই সময় তিনি সাফিয়্যা (রা)-এর সহিত মিলিত হইয়াছিলেন। অতঃপর আমি মুসলমানদেরকে ওয়ালীমা-র জন্য দাওয়াত করিলাম। ওয়ালীমাতে রুটি ও গোশত ছিল না। বিলাল (রা)-কে দস্তরখান বিছানোর আদেশ করা ছাড়া ইহাতে অন্য কিছু ছিল না। আদেশ অনুযায়ী দস্তরখান বিছানোর পর ইহাতে শুকনা খেজুর, পনির ও ঘি ঢালা হইয়াছিল। অতঃপর মুসলমানগণ বলিতে লাগিলেন, তিনি কি উম্মুল মু'মিনীনের একজন, না কি বাঁদী। তাহারা বলিলেন, যদি রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে রাখেন তাহা হইলে তিনি উম্মত জননীগণের একজন, আর যদি তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে না ঢাকেন তাহা হইলে তিনি তাঁহার একজন বাঁদী। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা করিলে সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য তাঁহার সওয়ারীর পিছনে বসিবার স্থান ঠিক করিলেন এবং তাঁহার জন্য পর্দা টানাইলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাওয়া খায়বার, ২খ., পৃ. ৬০৬; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১১৪)।
সাফিয়্যা (রা)-এর মুখমণ্ডলে একটি নীল দাগ ছিল। ইহার কারণ তিনি নিজেই বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমি একটি স্বপ্ন দেখিয়াছিলাম। আমি দেখিলাম, চাঁদ আমার কোলে। এই স্বপ্ন আমি আমার তৎকালীন স্বামী কিনানাকে অবহিত করিলাম। তিনি আমাকে প্রচণ্ডভাবে চপেটাঘাত করিয়া বলিলেন, তুমি তো মদীনার বাদশাহের প্রতি আসক্ত হইয়া পড়িয়াছ (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩)। রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়া সাফিয়্যা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! প্রকৃতপক্ষে আপনার সম্পর্কে আমার কিছুই জানা ছিল না।
তাঁহাকে উম্মাহাতুল মু'মিনীনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফিরিবার সময় আস-সাহ্বা' নামক স্থানে তাঁহাদের বাসর অনুষ্ঠিত হয়। তথায় রাসূলুল্লাহ (স) তিনদিন অবস্থান করেন। সেই রজনীতে কোন পূর্ব-সংকেত ব্যতিরেকে আবূ আয়্যুব আনসারী (রা) সমগ্র রাত পাহারা প্রদান করেন। প্রত্যূষে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে এই অবস্থায় দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কেন এমন করিলে? তিনি জবাব দিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার আশংকা ছিল যে, এই মহিলার পিতা, ভ্রাতা, স্বামী সকলেই এই যুদ্ধে নিহত হইয়াছে। সুতরাং পিছনে সে যে কোন অনিষ্ট না করিয়া বসে। ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) মৃদু হাসিলেন এবং তাহার জন্য দু'আ করিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৩, ১৯৪)।
হযরত সাফিয়্যা (রা)-এর সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহের ওয়ালীমা ও সাফিয়্যার হিজাব (পর্দা) সম্পর্কে বুখারী শরীফে নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণিত হইয়াছে:
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَرْيَمَ قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسًا يَقُولُ أَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَ خَيْبَرَ وَالْمَدِينَةَ ثَلثَةَ لَيَالٍ يُبَنِّى عَلَيْهَا بِصَفِيَّةَ فَدَعَوْتُ الْمُسْلِمِينَ إِلَى وَلِيْمَتِهِ وَمَا كَانَ فِيهَا مِنْ خُبْزٍ وَلَا لَحْمِ وَمَا كَانَ فِيهَا إِلَّا أَنْ أَمَرَ بلالاً بالأَنْطَاعِ فَبُسِطَتْ فَالْقَى عَلَيْهَا الثَّمَرَ وَالأَقطَ وَالسَّمَنَ فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُهُ قَالُوا إِنْ حَجَبَهَا فَهِيَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ فَإِنْ لَمْ يَحْجُبُهَا فَهِيَ مِمَّا مَلَكَتْ يَمِينُهُ فَلَمَّا ارْتَحَلَ وَطَأَ لَهَا خَلْفَهُ وَمَدَّ الْحِجَابَ.
"হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে তিন রাত অবস্থান করিয়াছিলেন। এই সময় তিনি সাফিয়্যা (রা)-এর সহিত মিলিত হইয়াছিলেন। অতঃপর আমি মুসলমানদেরকে ওয়ালীমা-র জন্য দাওয়াত করিলাম। ওয়ালীমাতে রুটি ও গোশত ছিল না। বিলাল (রা)-কে দস্তরখান বিছানোর আদেশ করা ছাড়া ইহাতে অন্য কিছু ছিল না। আদেশ অনুযায়ী দস্তরখান বিছানোর পর ইহাতে শুকনা খেজুর, পনির ও ঘি ঢালা হইয়াছিল। অতঃপর মুসলমানগণ বলিতে লাগিলেন, তিনি কি উম্মুল মু'মিনীনের একজন, না কি বাঁদী। তাহারা বলিলেন, যদি রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে রাখেন তাহা হইলে তিনি উম্মত জননীগণের একজন, আর যদি তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে না ঢাকেন তাহা হইলে তিনি তাঁহার একজন বাঁদী। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা করিলে সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য তাঁহার সওয়ারীর পিছনে বসিবার স্থান ঠিক করিলেন এবং তাঁহার জন্য পর্দা টানাইলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাওয়া খায়বার, ২খ., ৬০৬)।
বুখারীর এক রিওয়ায়াত নিম্নরূপ:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ اللهِ عَزَا خَيْبَرَ فَصَلَّيْنَا عِنْدَهَا صَلوةَ الْغَدَاةِ بِغَلَس فَرَكِبَ النَّبِيِّ ﷺ وَرَكِبَ أَبُو طَلْحَةَ وَأَنَا رَدِيفُ أَبِي طَلْحَةَ فَأَجْرِى نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فِي زُقَاقِ خَيْبَرَ وَأَنَّ رَكْبَتَى لَتَمَسُ فَخِذَ نَبِيُّ اللهِ اللهِ ثُمَّ حَسَرَ الإِزارِ عَنْ فَخِذِهِ حَتَّى أَنِّي أَنْظُرُ إِلى بِيَاضِ فَخِذِ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا دَخَلَ الْقَرْيَةَ قَالَ اللهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ قَالَهَا ثَلثًا قَالَ وَخَرَجَ الْقَوْمُ إِلى أَعْمَالِهِمْ فَقَالُوا مُحَمَّدٌ قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا وَالْخَمِيسَ يَعْنِيُّ الْجَيْشِ قَالَ فَأَصَبْنَاهَا عَنَوَةً فَجُمِعَ السَّبِيُّ فَجَاءَ دِحْيَةٌ فَقَالَ يَانَبِيُّ اللهِ أَعْطِنِي جَارِيَةً مِنَ السَّبِي فَقَالَ اذْهَبْ فَخُذْ جَارِيَةً فَأَخَذَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حَيَى فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ أَعْطَيْتَ دِحْيَةَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَى سَيِّدَةَ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرَ لَا تَصْلُحُ إِلا لَكَ قَالَ أَدْعُوهُ بِهَا فَجَاءَ بِهَا فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهَا النَّبِيُّ ﷺ قَالَ خُذْ جَارِيَةً مِنَ السَّبِي غَيْرَهَا قَالَ فَاعْتَقَهَا النَّبِيُّ ﷺ وَتَزَوجَهَا فَقَالَ لَهُ ثَابِتُ يَا أَبَا حَمْزَةً مَا أَصْدَقَهَا قَالَ نَفْسًا اَعْتَقَهَا وَتَزَوجَهَا حَتَّى إِذَا كَانَ بِالطَّرِيقِ.
বুখারীতে ওয়ালীমা সম্পর্কিত একটি বর্ণনায় উল্লেখ আছে:
فَأَصْبَحَ النَّبِيُّ ﷺ عَرُوسًا فَقَالَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلْيَجِيْ بِهِ وَبَسَطَ نِطْعًا فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِئُ بِالتَّمْرِ وَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِئُ بِالسَّمَنِ قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَدْ ذَكَرَ السَّوِيقَ قَالَ فَحَاسُوا حَيْسًا فَكَانَتْ وَلِيْمَةُ رَسُولِ الله ﷺ (صحيح البخاري مجلد ١ : ٤-٥٣ كتاب الصلوة باب ما يذكر في الفخذ).
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) সফররত অবস্থাতেই উম্মু সুলায়ম (রা) সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য রাত্রিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বাসরের ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। সকালে সকলকে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাহার নিকট যাহা আছে তাহা লইয়া আস। তিনি চামড়ার খাঞ্চা বিছাইয়া দিলেন। কেহ লইয়া আসিল শুকনা খেজুর, কেহ আনিল ঘি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় ছাতু আনার কথাও উল্লেখ আছে। সবাই মিলিয়া তাহা দিয়া হায়س (ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করিলেন। ইহাই ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওয়ালীমা” (বুখারী, কিতাবুস সালাত, বাব মা যুযকারু ফি'ل-ফাখিয, ১খ., ৫৩-৫৪)।
সুনানে আবী দাউদের ভাষ্যকার 'আল্লামা মাযিরী বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে ফেরত লইয়া নিজে বিবাহ করিলেন। কারণ:
لِمَا فِيْهِ مِنْ انْتِهَالِهَا مَعَ مَرْتَبَتِهَا وَكَوْنِهَا بِنْتَ سَيِّدِهِمْ
"তিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং ইয়াহূদী নেতার মেয়ে। এইজন্য তাঁহার অন্য কাহারও নিকট থাকা সমীচীন ছিল মা" (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., ২৮৪)।
ইবন হাজার আল-'আসকালানী বলেন, ইবন ইসহাকের মতে সাফিয়্যা (রা)-কে কামূس দুর্গ হইতে বন্দী করা হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইন্ন আবিল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁহার সহিত তাঁহার চাচাতো ভগ্নিকে বন্দী করা হইয়াছিল। ভিন্নমতে তাঁহার স্বামীর চাচাত ভগ্নি বন্দী হইয়াছিল। সুহায়লী বলেন, খায়বারের গনীমত ভাগ করিবার পূর্বে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে সাফিয়্যা (রা)-কে ফেরত লওয়া হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা)-এর পরিবর্তে দিহয়া (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) যাহা দিয়াছিলেন তাহা বিনিময় হিসাবে নয়, অনুগ্রহ হিসাবে (ফাতহুল বারী)।
সাফিয়্যা (রা) মহানবী (স)-এর পরিণীতা হইবার আরও একটি যুক্তি হইল, তিনি পিতা ও স্বামী উভয়ের পক্ষ হইতে রাজকীয় পরিবেশে জীবন যাপনের পর যখন পিতৃহারা ও স্বামীহারা হইয়া চরমভাবে অসহায় হইয়া পড়িলেন, এমতাবস্থায় তাঁহার বংশ মর্যাদা রক্ষার্থে এবং স্বজন হারানোর বেদনা দূর করিতে ইহা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। তিনি বাঁদী হিসাবেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকিতে পারিতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) তাহা করেন নাই। তাঁহার সামাজিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করিয়া তিনি তাঁহাকে আযাদ করিয়া দিলেন। অতঃপর তাঁহাকে নিজ স্ত্রী হিসাবে বরণ করিয়া লইলেন।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে (মিসর, ৩খ., ১৩৮), রাসূলুল্লাহ (س) সাফিয়্যা (রা)-কে দুইটি জিনিসের যে কোন একটি গ্রহণের অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন: হয় তিনি আযাদ হইয়া নিজ গৃহে চলিয়া যাইবেন অথবা তাঁহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহে আবদ্ধ হইবার পন্থাটি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করিয়াছিলেন। করুণা ও সদ্ব্যবহার ছাড়াও ইহা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হইতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই আচরণের ফলেই আরববাসীদের ইসলামের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাইতেছিল। ইসলাম তাহার শত্রুদিগের পরিবার-পরিজনের সহিতও কতই না উত্তম আচরণ করে (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন-নবী, ১খ., ২৮৪)।
সাফিয়্যা (রা)-এর মুখমণ্ডলে একটি নীল দাগ ছিল। ইহার কারণ তিনি নিজেই বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমি একটি স্বপ্ন দেখিয়াছিলাম। আমি দেখিলাম, চাঁদ আমার কোলে। এই স্বপ্ন আমি আমার তৎকালীন স্বামী কিনানাকে অবহিত করিলাম। তিনি আমাকে প্রচণ্ডভাবে চপেটাঘাত করিয়া বলিলেন, তুমি তো মদীনার বাদশাহের প্রতি আসক্ত হইয়া পড়িয়াছ (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩)। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়া সাফিয়্যা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! প্রকৃতপক্ষে আপনার সম্পর্কে আমার কিছুই জানা ছিল না।
তাঁহাকে উম্মাহাতুল মু'মিনীনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফিরিবার সময় আস-সাহ্বা' নামক স্থানে তাঁহাদের বাসর অনুষ্ঠিত হয়। তথায় রাসূলুল্লাহ (স) তিনদিন অবস্থান করেন। সেই রজনীতে কোন পূর্ব-সংকেত ব্যতিরেকে আবূ আয়্যুব আনসারী (রা) সমগ্র রাত পাহারা প্রদান করেন। প্রত্যূষে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে এই অবস্থায় দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কেন এমন করিলে? তিনি জবাব দিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার আশংকা ছিল যে, এই মহিলার পিতা, ভ্রাতা, স্বামী সকলেই এই যুদ্ধে নিহত হইয়াছে। সুতরাং পিছনে সে যে কোন অনিষ্ট না করিয়া বসে। ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) মৃদু হাসিলেন এবং তাহার জন্য দু'আ করিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৩, ১৯৪)।
হযরত সাফিয়্যা (রা)-এর সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহের ওয়ালীমা ও সাফিয়্যার হিজাব (পর্দা) সম্পর্কে বুখারী শরীফে নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণিত হইয়াছে:
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَرْيَمَ قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسًا يَقُولُ أَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَ خَيْبَرَ وَالْمَدِينَةَ ثَلَثَةَ لَيَالٍ يُبَنِّى عَلَيْهَا بِصَفِيَّةَ فَدَعَوْتُ الْمُسْلِمِينَ إِلَى وَلِيْمَتِهِ وَمَا كَانَ فِيهَا مِنْ خُبْزٍ وَلَا لَحْمِ وَمَا كَانَ فِيهَا إِلَّا أَنْ أَمَرَ بلالاً بالأَنْطَاعِ فَبُسِطَتْ فَالْقَى عَلَيْهَا الثَّمَرَ وَالأَقطَ وَالسَّمَنَ فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُهُ قَالُوا إِنْ حَجَبَهَا فَهِيَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ فَإِنْ لَمْ يَحْجُبُهَا فَهِيَ مِمَّا مَلَكَتْ يَمِينُهُ فَلَمَّا ارْتَحَلَ وَطَأَ لَهَا خَلْفَهُ وَمَدَّ الْحِجَابَ.
"হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে তিন রাত অবস্থান করিয়াছিলেন। এই সময় তিনি সাফিয়্যা (রা)-এর সহিত মিলিত হইয়াছিলেন। অতঃপর আমি মুসলমানদেরকে ওয়ালীমা-র জন্য দাওয়াত করিলাম। ওয়ালীমাতে রুটি ও গোশত ছিল না। বিলাল (রা)-কে দস্তরখান বিছানোর আদেশ করা ছাড়া ইহাতে অন্য কিছু ছিল না। আদেশ অনুযায়ী দস্তরখান বিছানোর পর ইহাতে শুকনা খেজুর, পনির ও ঘি ঢালা হইয়াছিল। অতঃপর মুসলমানগণ বলিতে লাগিলেন, তিনি কি উম্মুল মু'মিনীনের একজন, না কি বাঁদী। তাহারা বলিলেন, যদি রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে রাখেন তাহা হইলে তিনি উম্মত জননীগণের একজন, আর যদি তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে না ঢাকেন তাহা হইলে তিনি তাঁহার একজন বাঁদী। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা করিলে সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য তাঁহার সওয়ারীর পিছনে বসিবার স্থান ঠিক করিলেন এবং তাঁহার জন্য পর্দা টানাইলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাওয়া খায়বার, ২খ., পৃ. ৬০৬; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১১৪)।
📄 খায়বারের দুর্গমালা বিজয়ের ধারাবাহিকতা
ইবন কাছীরের বর্ণনানুসারে প্রতীয়মান হয় যে, খায়বারে পর্যাক্রমে প্রথম নাঈম, কামূস সা'ব ইব্ন মু'আয, ওয়াতীহ ও সুলালিম বিজিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৯৩-১৯৬)।
ইবন কাছীরের বর্ণনানুসারে প্রতীয়মান হয় যে, খায়বারে পর্যাক্রমে প্রথম নাঈম, কামূس সা'ব ইব্ন মু'আয, ওয়াতীহ ও সুলালিম বিজিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৯৩-১৯৬)।
ইবন কাছীরের বর্ণনানুসারে প্রতীয়মান হয় যে, খায়বারে পর্যাক্রমে প্রথম নাঈম, কামূس সা'ব ইব্ن মু'আয, ওয়াতীহ ও সুলালিম বিজিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৯৩-১৯৬)।
ইবন কাছীরের বর্ণনানুসারে প্রতীয়মান হয় যে, খায়বারে পর্যাক্রমে প্রথম নাঈম, কামূস সা'ব ইব্ন মু'আয, ওয়াতীহ ও সুলালিম বিজিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৯৩-১৯৬)।
📄 ভূমি চাষাবাদের শর্তে ইয়াহূদীদের খায়বারে অবস্থান অনুমোদন
চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইচ্ছা ছিল ইয়াহুদীদিগকে খায়বার হইতে উচ্ছেদ করা। কিন্তু ইয়াহুদীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রার্থনা করিল, আমাদিগকে এখানে বসবাসের এবং চাষাবাদের অনুমতি দিন। কারণ এই ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ (স) দেখিলেন, সাহাবীদের হাতে সময় নাই যে, তাহারা এখানকার সকল ভূমি স্বহস্তে চাষাবাদ করিতে পারিবে এবং দাসদের সংখ্যাও এই পরিমাণ নাই যে, তাহাদের দ্বারা সব চাষাবাদ করানো যায়। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) এই শর্তে সম্মতি জ্ঞাপন করেন যে, তাহারা চাষাবাদ এবং বৃক্ষের পরিচর্যা করিবে। অতঃপর ফসল ও খেজুর যাহা উৎপন্ন হইবে ইহার অর্ধাংশ তাহারা পাইবে। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থা খায়বারে গৃহীত হয় সেই হেতু ইহার নামকরণ করা হয় খায়বার হইতে 'মুখাবারা' (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।
চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইচ্ছা ছিল ইয়াহুদীদিগকে খায়বার হইতে উচ্ছেদ করা। কিন্তু ইয়াহুদীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রার্থনা করিল, আমাদিগকে এখানে বসবাসের এবং চাষাবাদের অনুমতি দিন। কারণ এই ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ (স) দেখিলেন, সাহাবীদের হাতে সময় নাই যে, তাহারা এখানকার সকল ভূমি স্বহস্তে চাষাবাদ করিতে পারিবে এবং দাসদের সংখ্যাও এই পরিমাণ নাই যে, তাহাদের দ্বারা সব চাষাবাদ করানো যায়। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) এই শর্তে সম্মতি জ্ঞাপন করেন যে, তাহারা চাষাবাদ এবং বৃক্ষের পরিচর্যা করিবে। অতঃপর ফসল ও খেজুর যাহা উৎপন্ন হইবে ইহার অর্ধাংশ তাহারা পাইবে। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থা খায়বারে গৃহীত হয় সেই হেতু ইহার নামকরণ করা হয় খায়বার হইতে 'মুখাবারা' (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।
চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইচ্ছা ছিল ইয়াহুদীদিগকে খায়বার হইতে উচ্ছেদ করা। কিন্তু ইয়াহুদীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রার্থনা করিল, আমাদিগকে এখানে বসবাসের এবং চাষাবাদের অনুমতি দিন। কারণ এই ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ (স) দেখিলেন, সাহাবীদের হাতে সময় নাই যে, তাহারা এখানকার সকল ভূমি স্বহস্তে চাষাবাদ করিতে পারিবে এবং দাসদের সংখ্যাও এই পরিমাণ নাই যে, তাহাদের দ্বারা সব চাষাবাদ করানো যায়। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (س) এই শর্তে সম্মতি জ্ঞাপন করেন যে, তাহারা চাষাবাদ এবং বৃক্ষের পরিচর্যা করিবে। অতঃপর ফসল ও খেজুর যাহা উৎপন্ন হইবে ইহার অর্ধাংশ তাহারা পাইবে। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থা খায়বারে গৃহীত হয় সেই হেতু ইহার নামকরণ করা হয় খায়বার হইতে 'মুখাবারা' (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।
চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইচ্ছা ছিল ইয়াহুদীদিগকে খায়বার হইতে উচ্ছেদ করা। কিন্তু ইয়াহুদীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রার্থনা করিল, আমাদিগকে এখানে বসবাসের এবং চাষাবাদের অনুমতি দিন। কারণ এই ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ (স) দেখিলেন, সাহাবীদের হাতে সময় নাই যে, তাহারা এখানকার সকল ভূমি স্বহস্তে চাষাবাদ করিতে পারিবে এবং দাসদের সংখ্যাও এই পরিমাণ নাই যে, তাহাদের দ্বারা সব চাষাবাদ করানো যায়। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) এই শর্তে সম্মতি জ্ঞাপন করেন যে, তাহারা চাষাবাদ এবং বৃক্ষের পরিচর্যা করিবে। অতঃপর ফসল ও খেজুর যাহা উৎপন্ন হইবে ইহার অর্ধাংশ তাহারা পাইবে। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থা খায়বারে গৃহীত হয় সেই হেতু ইহার নামকরণ করা হয় খায়বার হইতে 'মুখাবারা' (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।