📄 সাফিয়্যা নামের কারণ
উম্মত জননী আইশা (রা) বলেন, كَانَتْ صَفَيَّةُ مِنَ الصَّفَى "সাফিয়্যা (রা) ছিলেন সাফী অংশের অন্তর্ভুক্ত” (আবু দাউদ, ২খ., পৃ.৭৩)।
ইব্ন আওন বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইব্ন সীরীনকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধে শরীক না হইলেও তাঁহার জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করা হইত। সাফী হইল 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) পৃথক করিবার পূর্বে তাঁহার জন্য যেই অংশ গ্রহণ করা হইত" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
وَعَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِي قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ سَهُمْ يُدْعَى الصَّفِيُّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ امَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسَا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الخُمس (ابو داود كتاب الخراج باب ما جاء في سهم الصفى ).
"আমের আশ-শা'বী (র) বলেন, রাসূলূল্লাহ (স)-এর জন্য একটি অংশ ছিল যাহাকে 'সাফী' বলিয়া অভিহিত করা হইত। 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি নিজ পছন্দ মত যাহা গ্রহণ করিতেন- তাহা গোলাম অথবা বাঁদী কিংবা ঘোড়া যাহাই হউক"।
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا غَدًا كَانَ لَهُ سَهْمُ صَافٍ يَأْخُذُهُ مِنْ حَيْثُ شَاءَ فَكَانَتْ صَفِيَّةٌ مِنْ ذَلِكَ السَّهْمِ وَكَانَ إِذَا لَمْ يَغْزُو ضُرِبَ لَهُ بِسَهْمِهِ وَلَمْ يُخَيَّرُ.
"কাতাদা (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতেন তখন তাঁহার জন্য "সাফী'র এক অংশ থাকিত। তিনি যেখান হইতে ইচ্ছা তাহা গ্রহণ করিতেন। এইরূপ অংশেরই অধীনে ছিলেন সাফিয়্যা (রা)। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করিলেও তাঁহার জন্য তাঁহার অংশ পৃথক করা হইত, অন্য কিছু গ্রহণের অধিকার থাকিত না" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
এই হাদীছ তিনটি দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিশেষ অংশ। ইহাও বুঝা যাইতেছে যে, 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং ইতিপূর্বে যেই কথা বলা হইয়াছে যে, সাফিয়্যা (রা) দিহয়া কালবী (রা)-এর ভাগে পড়েন নাই, বরং তিনি তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদেশ পাইয়া স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইবন হাজার উপরিউক্ত হাদীছগুলি বর্ণনা করিয়া বলেন, কেহ কেহ বালিয়াছেন, সাফিয়্যা (রা)-কে বন্দী করিবার পূর্বে তাঁহার নাম ছিল যয়নব। অতঃপর তিনি সাফী-র মধ্যে গণ্য হইবার পর তাঁহার নাম হইল সাফিয়্যা (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
উম্মত জননী আইশা (রা) বলেন, كَانَتْ صَفَيَّةُ مِنَ الصَّفَى "সাফিয়্যা (রা) ছিলেন সাফী অংশের অন্তর্ভুক্ত” (আবু দাউদ, ২খ., পৃ.৭৩)।
ইব্ন আওন বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইব্ন সীরীনকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধে শরীক না হইলেও তাঁহার জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করা হইত। সাফী হইল 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) পৃথক করিবার পূর্বে তাঁহার জন্য যেই অংশ গ্রহণ করা হইত" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
وَعَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِي قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ سَهُمْ يُدْعَى الصَّفِيُّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ امَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسَا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الخُمس (ابو داود كتاب الخراج باب ما جاء في سهم الصفى ).
"আমের আশ-শা'বী (র) বলেন, রাসূলূল্লাহ (স)-এর জন্য একটি অংশ ছিল যাহাকে 'সাফী' বলিয়া অভিহিত করা হইত। 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি নিজ পছন্দ মত যাহা গ্রহণ করিতেন- তাহা গোলাম অথবা বাঁদী কিংবা ঘোড়া যাহাই হউক"।
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا غَدًا كَانَ لَهُ سَهْمُ صَافٍ يَأْخُذُهُ مِنْ حَيْثُ شَاءَ فَكَانَتْ صَفِيَّةٌ مِنْ ذَلِكَ السَّهْمِ وَكَانَ إِذَا لَمْ يَغْزُو ضُرِبَ لَهُ بِسَهْمِهِ وَلَمْ يُخَيَّرُ.
"কাতাদা (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতেন তখন তাঁহার জন্য "সাফী'র এক অংশ থাকিত। তিনি যেখান হইতে ইচ্ছা তাহা গ্রহণ করিতেন। এইরূপ অংশেরই অধীনে ছিলেন সাফিয়্যা (রা)। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করিলেও তাঁহার জন্য তাঁহার অংশ পৃথক করা হইত, অন্য কিছু গ্রহণের অধিকার থাকিত না" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
এই হাদীছ তিনটি দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিশেষ অংশ। ইহাও বুঝা যাইতেছে যে, 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং ইতিপূর্বে যেই কথা বলা হইয়াছে যে, সাফিয়্যা (রা) দিহয়া কালবী (রা)-এর ভাগে পড়েন নাই, বরং তিনি তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদেশ পাইয়া স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইবন হাজার উপরিউক্ত হাদীছগুলি বর্ণনা করিয়া বলেন, কেহ কেহ বালিয়াছেন, সাফিয়্যা (রা)-কে বন্দী করিবার পূর্বে তাঁহার নাম ছিল যয়নব। অতঃপর তিনি সাফী-র মধ্যে গণ্য হইবার পর তাঁহার নাম হইল সাফিয়্যা (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
উম্মত জননী আইশা (রা) বলেন, كَانَتْ صَفَيَّةُ مِنَ الصَّفَى "সাফিয়্যা (রা) ছিলেন সাফী অংশের অন্তর্ভুক্ত” (আবু দাউদ, ২খ., পৃ.৭৩)।
ইব্ন আওন বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইব্ن সীরীনকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধে শরীক না হইলেও তাঁহার জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করা হইত। সাফী হইল 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) পৃথক করিবার পূর্বে তাঁহার জন্য যেই অংশ গ্রহণ করা হইত" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
وَعَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِي قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ سَهُمْ يُدْعَى الصَّفِيُّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ امَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسَا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الخُمس (ابو داود كتاب الخراج باب ما جاء في سهم الصفى ).
"আমের আশ-শা'বী (র) বলেন, রাসূলূল্লাহ (স)-এর জন্য একটি অংশ ছিল যাহাকে 'সাফী' বলিয়া অভিহিত করা হইত। 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি নিজ পছন্দ মত যাহা গ্রহণ করিতেন- তাহা গোলাম অথবা বাঁদী কিংবা ঘোড়া যাহাই হউক"।
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا غَدًا كَانَ لَهُ سَهْمُ صَافٍ يَأْخُذُهُ مِنْ حَيْثُ شَاءَ فَكَانَتْ صَفِيَّةٌ مِنْ ذَلِكَ السَّهْمِ وَكَانَ إِذَا لَمْ يَغْزُو ضُرِبَ لَهُ بِسَهْمِهِ وَلَمْ يُخَيَّرُ.
"কাতাদা (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতেন তখন তাঁহার জন্য "সাফী'র এক অংশ থাকিত। তিনি যেখান হইতে ইচ্ছা তাহা গ্রহণ করিতেন। এইরূপ অংশেরই অধীনে ছিলেন সাফিয়্যা (রা)। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করিলেও তাঁহার জন্য তাঁহার অংশ পৃথক করা হইত, অন্য কিছু গ্রহণের অধিকার থাকিত না" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
এই হাদীছ তিনটি দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (س.)-এর বিশেষ অংশ। ইহাও বুঝা যাইতেছে যে, 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং ইতিপূর্বে যেই কথা বলা হইয়াছে যে, সাফিয়্যা (রা) দিহয়া কালবী (রা)-এর ভাগে পড়েন নাই, বরং তিনি তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদেশ পাইয়া স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইবন হাজার উপরিউক্ত হাদীছগুলি বর্ণনা করিয়া বলেন, কেহ কেহ বালিয়াছেন, সাফিয়্যা (রা)-কে বন্দী করিবার পূর্বে তাঁহার নাম ছিল যয়নব। অতঃপর তিনি সাফী-র মধ্যে গণ্য হইবার পর তাঁহার নাম হইল সাফিয়্যা (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
উম্মত জননী আইশা (রা) বলেন, كَانَتْ صَفَيَّةُ مِنَ الصَّفَى "সাফিয়্যা (রা) ছিলেন সাফী অংশের অন্তর্ভুক্ত” (আবু দাউদ, ২খ., পৃ.৭৩)।
ইব্ন আওন বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইব্ন সীরীনকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধে শরীক না হইলেও তাঁহার জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করা হইত। সাফী হইল 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) পৃথক করিবার পূর্বে তাঁহার জন্য যেই অংশ গ্রহণ করা হইত" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
وَعَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِي قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ سَهُمْ يُدْعَى الصَّفِيُّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ امَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسَا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الخُمس (ابو داود كتاب الخراج باب ما جاء في سهم الصفى ).
"আমের আশ-শা'বী (র) বলেন, রাসূলূল্লাহ (স)-এর জন্য একটি অংশ ছিল যাহাকে 'সাফী' বলিয়া অভিহিত করা হইত। 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি নিজ পছন্দ মত যাহা গ্রহণ করিতেন- তাহা গোলাম অথবা বাঁদী কিংবা ঘোড়া যাহাই হউক"।
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا غَدًا كَانَ لَهُ سَهْمُ صَافٍ يَأْخُذُهُ مِنْ حَيْثُ شَاءَ فَكَانَتْ صَفِيَّةُ مِنْ ذَلِكَ السَّهْمِ وَكَانَ إِذَا لَمْ يَغْزُو ضُرِبَ لَهُ بِسَهْمِهِ وَلَمْ يُخَيَّرُ.
"কাতাদা (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতেন তখন তাঁহার জন্য "সাফী'র এক অংশ থাকিত। তিনি যেখান হইতে ইচ্ছা তাহা গ্রহণ করিতেন। এইরূপ অংশেরই অধীনে ছিলেন সাফিয়্যা (রা)। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করিলেও তাঁহার জন্য তাঁহার অংশ পৃথক করা হইত, অন্য কিছু গ্রহণের অধিকার থাকিত না" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
এই হাদীছ তিনটি দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিশেষ অংশ। ইহাও বুঝা যাইতেছে যে, 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং ইতিপূর্বে যেই কথা বলা হইয়াছে যে, সাফিয়্যা (রা) দিহয়া কালবী (রা)-এর ভাগে পড়েন নাই, বরং তিনি তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদেশ পাইয়া স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইবন হাজার উপরিউক্ত হাদীছগুলি বর্ণনা করিয়া বলেন, কেহ কেহ বালিয়াছেন, সাফিয়্যা (রা)-কে বন্দী করিবার পূর্বে তাঁহার নাম ছিল যয়নব। অতঃপর তিনি সাফী-র মধ্যে গণ্য হইবার পর তাঁহার নাম হইল সাফিয়্যা (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
📄 কুল্লা দুর্গ
এই দুর্গটিও ছিল অতিশয় সুরক্ষিত এবং ইহা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কুল্লা শব্দের অর্থ হইল পাহাড়ের চূড়া। দুর্গটি পরবর্তীতে যুবায়র দুর্গ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। কারণ দুর্গটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের সময় যুবায়র (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল বলিয়া ইহাকে এই নামে ডাকা হইত। একাধারে তিন দিন পর্যন্ত দুর্গ অবরোধ করিয়া রাখা হয়, কিন্তু দুর্গের পতন ঘটানো সম্ভব হয় নাই। ইতেমধ্যে একজন ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি এক মাস যুদ্ধ করিয়া দুর্গের পতন ঘটাইতে সক্ষম হইবেন না। অবশ্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা আছে যাহার মাধ্যমে আপনি তাহাদিগকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করিতে সক্ষম হইবেন। পাহাড়ের নিম্নদেশে পানির একটি ঝর্ণা আছে, উহা হইতে রাত্রিকালে এই দুর্গবাসীরা পানি সংগ্রহ করিয়া থাকে। ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দিলেই তাহারা নিরুপায় হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যূষে গমন করিয়া ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দেন। ইহার ফলে দুর্গবাসীরা দুর্গাভ্যন্তর হইতে বাধ্য হইয়া বাহির হয় এবং তাহাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে দশজন ইয়াহুদী নিহত হয় এবং কতিপয় মুসলিম শহীদ হন। অতঃপর দুর্গ বিজিত হয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৪; সীরাতে মুহসিমি কাইনাত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪)।
এই দুর্গটিও ছিল অতিশয় সুরক্ষিত এবং ইহা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কুল্লা শব্দের অর্থ হইল পাহাড়ের চূড়া। দুর্গটি পরবর্তীতে যুবায়র দুর্গ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। কারণ দুর্গটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের সময় যুবায়র (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল বলিয়া ইহাকে এই নামে ডাকা হইত। একাধারে তিন দিন পর্যন্ত দুর্গ অবরোধ করিয়া রাখা হয়, কিন্তু দুর্গের পতন ঘটানো সম্ভব হয় নাই। ইতেমধ্যে একজন ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি এক মাস যুদ্ধ করিয়া দুর্গের পতন ঘটাইতে সক্ষম হইবেন না। অবশ্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা আছে যাহার মাধ্যমে আপনি তাহাদিগকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করিতে সক্ষম হইবেন। পাহাড়ের নিম্নদেশে পানির একটি ঝর্ণা আছে, উহা হইতে রাত্রিকালে এই দুর্গবাসীরা পানি সংগ্রহ করিয়া থাকে। ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দিলেই তাহারা নিরুপায় হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যূষে গমন করিয়া ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দেন। ইহার ফলে দুর্গবাসীরা দুর্গাভ্যন্তর হইতে বাধ্য হইয়া বাহির হয় এবং তাহাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে দশজন ইয়াহুদী নিহত হয় এবং কতিপয় মুসলিম শহীদ হন। অতঃপর দুর্গ বিজিত হয় (আসাহহুস-সিয়ার, পৃ. ১৯৪; সীরাতে মুহসিমি কাইনাত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪)।
এই দুর্গটিও ছিল অতিশয় সুরক্ষিত এবং ইহা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কুল্লা শব্দের অর্থ হইল পাহাড়ের চূড়া। দুর্গটি পরবর্তীতে যুবায়র দুর্গ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। কারণ দুর্গটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের সময় যুবায়র (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল বলিয়া ইহাকে এই নামে ডাকা হইত। একাধারে তিন দিন পর্যন্ত দুর্গ অবরোধ করিয়া রাখা হয়, কিন্তু দুর্গের পতন ঘটানো সম্ভব হয় নাই। ইতেমধ্যে একজন ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি এক মাস যুদ্ধ করিয়া দুর্গের পতন ঘটাইতে সক্ষম হইবেন না। অবশ্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা আছে যাহার মাধ্যমে আপনি তাহাদিগকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করিতে সক্ষম হইবেন। পাহাড়ের নিম্নদেশে পানির একটি ঝর্ণা আছে, উহা হইতে রাত্রিকালে এই দুর্গবাসীরা পানি সংগ্রহ করিয়া থাকে। ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দিলেই তাহারা নিরুপায় হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যূষে গমন করিয়া ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দেন। ইহার ফলে দুর্গবাসীরা দুর্গাভ্যন্তর হইতে বাধ্য হইয়া বাহির হয় এবং তাহাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে দশজন ইয়াহুদী নিহত হয় এবং কতিপয় মুসলিম শহীদ হন। অতঃপর দুর্গ বিজিত হয় (আসাহহুস-সিয়ার, পৃ. ১৯৪; সীরাতে মুহসিমি কাইনাত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪)।
এই দুর্গটিও ছিল অতিশয় সুরক্ষিত এবং ইহা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কুল্লা শব্দের অর্থ হইল পাহাড়ের চূড়া। দুর্গটি পরবর্তীতে যুবায়র দুর্গ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। কারণ দুর্গটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের সময় যুবায়র (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল বলিয়া ইহাকে এই নামে ডাকা হইত। একাধারে তিন দিন পর্যন্ত দুর্গ অবরোধ করিয়া রাখা হয়, কিন্তু দুর্গের পতন ঘটানো সম্ভব হয় নাই। ইতেমধ্যে একজন ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি এক মাস যুদ্ধ করিয়া দুর্গের পতন ঘটাইতে সক্ষম হইবেন না। অবশ্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা আছে যাহার মাধ্যমে আপনি তাহাদিগকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করিতে সক্ষম হইবেন। পাহাড়ের নিম্নদেশে পানির একটি ঝর্ণা আছে, উহা হইতে রাত্রিকালে এই দুর্গবাসীরা পানি সংগ্রহ করিয়া থাকে। ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দিলেই তাহারা নিরুপায় হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যূষে গমন করিয়া ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দেন। ইহার ফলে দুর্গবাসীরা দুর্গাভ্যন্তর হইতে বাধ্য হইয়া বাহির হয় এবং তাহাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে দশজন ইয়াহুদী নিহত হয় এবং কতিপয় মুসলিম শহীদ হন। অতঃপর দুর্গ বিজিত হয় (আসাহহুস-সিয়ার, পৃ. ১৯৪; সীরাতে মুহসিমি কাইনাত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪)।
📄 ওয়াতীহ ও সুলালিম দুর্গ
যুবায়র দুর্গ বিজয় লাভের পর রাসূলুল্লাহ (স) অবশিষ্ট দুর্গসমূহ দখলের অভিযান চালাইলেন। সকল দুর্গ তাঁহার হস্তগত হওয়ার পর সর্বশেষে তিনি ওয়াতীহ ও সুলালিমের দিকে অগ্রসর হইলেন। কোন কোন বর্ণনায় আল-কাতীবা-এর কথাও উল্লেখ আছে। ইহার পূর্বে সকল দুর্গ বিজিত হইয়া গিয়াছিল। কেবল এই দুইটি দুর্গ অবশিষ্ট ছিল। সর্বদিক হইতে তাড়া খাইয়া ইয়াহুদীরা এই তিনটি দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল এবং ধন-সম্পদ এই সকল দুর্গে আনিয়া রাখিয়াছিল। চৌদ্দ দিন অবরুদ্ধ থাকিবার পর বাধ্য হইয়া তাহারা সন্ধির আবেদন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা মঞ্জুর করিলেন। ইয়াহুদীগণ সন্ধির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করিবার জন্য কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়ক-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রেরণ করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে এই শর্তে মৃত্যুদণ্ড হইতে নিষ্কৃতি দিলেন যে, তাহারা খায়বার অঞ্চল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতিয়ার ও যুদ্ধাস্ত্র এই স্থানে রাখিয়া যাইবে। কোন জিনিস গোপন করিবে না। যদি এই শর্ত লঙ্ঘন করা হয় তাহা হইলে তাহাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের কোন দায়দায়িত্ব থাকিবে না। ইয়াহুদীগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হইবার পরও নিজেদের অপকর্ম হইতে বিরত থাকিল না।
যুবায়র দুর্গ বিজয় লাভের পর রাসূলুল্লাহ (স) অবশিষ্ট দুর্গসমূহ দখলের অভিযান চালাইলেন। সকল দুর্গ তাঁহার হস্তগত হওয়ার পর সর্বশেষে তিনি ওয়াতীহ ও সুলালিমের দিকে অগ্রসর হইলেন। কোন কোন বর্ণনায় আল-কাতীবা-এর কথাও উল্লেখ আছে। ইহার পূর্বে সকল দুর্গ বিজিত হইয়া গিয়াছিল। কেবল এই দুইটি দুর্গ অবশিষ্ট ছিল। সর্বদিক হইতে তাড়া খাইয়া ইয়াহুদীরা এই তিনটি দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল এবং ধন-সম্পদ এই সকল দুর্গে আনিয়া রাখিয়াছিল। চৌদ্দ দিন অবরুদ্ধ থাকিবার পর বাধ্য হইয়া তাহারা সন্ধির আবেদন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা মঞ্জুর করিলেন। ইয়াহুদীগণ সন্ধির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করিবার জন্য কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়ক-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রেরণ করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে এই শর্তে মৃত্যুদণ্ড হইতে নিষ্কৃতি দিলেন যে, তাহারা খায়বার অঞ্চল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতিয়ার ও যুদ্ধাস্ত্র এই স্থানে রাখিয়া যাইবে। কোন জিনিস গোপন করিবে না। যদি এই শর্ত লঙ্ঘন করা হয় তাহা হইলে তাহাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের কোন দায়দায়িত্ব থাকিবে না। ইয়াহুদীগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হইবার পরও নিজেদের অপকর্ম হইতে বিরত থাকিল না।
যুবায়র দুর্গ বিজয় লাভের পর রাসূলুল্লাহ (স) অবশিষ্ট দুর্গসমূহ দখলের অভিযান চালাইলেন। সকল দুর্গ তাঁহার হস্তগত হওয়ার পর সর্বশেষে তিনি ওয়াতীহ ও সুলালিমের দিকে অগ্রসর হইলেন। কোন কোন বর্ণনায় আল-কাতীবা-এর কথাও উল্লেখ আছে। ইহার পূর্বে সকল দুর্গ বিজিত হইয়া গিয়াছিল। কেবল এই দুইটি দুর্গ অবশিষ্ট ছিল। সর্বদিক হইতে তাড়া খাইয়া ইয়াহুদীরা এই তিনটি দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল এবং ধন-সম্পদ এই সকল দুর্গে আনিয়া রাখিয়াছিল। চৌদ্দ দিন অবরুদ্ধ থাকিবার পর বাধ্য হইয়া তাহারা সন্ধির আবেদন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা মঞ্জুর করিলেন। ইয়াহুদীগণ সন্ধির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করিবার জন্য কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়ক-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রেরণ করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে এই শর্তে মৃত্যুদণ্ড হইতে নিষ্কৃতি দিলেন যে, তাহারা খায়বার অঞ্চল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতিয়ার ও যুদ্ধাস্ত্র এই স্থানে রাখিয়া যাইবে। কোন জিনিস গোপন করিবে না। যদি এই শর্ত লঙ্ঘন করা হয় তাহা হইলে তাহাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের কোন দায়দায়িত্ব থাকিবে না। ইয়াহুদীগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হইবার পরও নিজেদের অপকর্ম হইতে বিরত থাকিল না।
যুবায়র দুর্গ বিজয় লাভের পর রাসূলুল্লাহ (স) অবশিষ্ট দুর্গসমূহ দখলের অভিযান চালাইলেন। সকল দুর্গ তাঁহার হস্তগত হওয়ার পর সর্বশেষে তিনি ওয়াতীহ ও সুলালিমের দিকে অগ্রসর হইলেন। কোন কোন বর্ণনায় আল-কাতীবা-এর কথাও উল্লেখ আছে। ইহার পূর্বে সকল দুর্গ বিজিত হইয়া গিয়াছিল। কেবল এই দুইটি দুর্গ অবশিষ্ট ছিল। সর্বদিক হইতে তাড়া খাইয়া ইয়াহুদীরা এই তিনটি দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল এবং ধন-সম্পদ এই সকল দুর্গে আনিয়া রাখিয়াছিল। চৌদ্দ দিন অবরুদ্ধ থাকিবার পর বাধ্য হইয়া তাহারা সন্ধির আবেদন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা মঞ্জুর করিলেন। ইয়াহুদীগণ সন্ধির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করিবার জন্য কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়ক-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রেরণ করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে এই শর্তে মৃত্যুদণ্ড হইতে নিষ্কৃতি দিলেন যে, তাহারা খায়বার অঞ্চল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতিয়ার ও যুদ্ধাস্ত্র এই স্থানে রাখিয়া যাইবে। কোন জিনিস গোপন করিবে না। যদি এই শর্ত লঙ্ঘন করা হয় তাহা হইলে তাহাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের কোন দায়দায়িত্ব থাকিবে না। ইয়াহুদীগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হইবার পরও নিজেদের অপকর্ম হইতে বিরত থাকিল না।
📄 ইয়াহুদী নেতা কিনানাকে হত্যা
'আল্লামা সুহায়লী বলেন, কিনানা ইবনুর রাবী'র কাছে বানু নাঘীরের সম্পদের সম্ভার ছিল। তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে তিনি তাহাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। কিনানা এই সম্পর্কে অবগত নয় বলিয়া জানাইল। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক ইয়াহুদী আসিয়া বলিল, আমি কিনানাকে একটি অনাবাদী স্থানে প্রতিদিন ভোরে ঘোরাফিরা করিতে দেখিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে বলিলেন, যদি আমরা ইহা তোমার নিকট পাই তাহা হইলে কি তোমাকে হত্যা করিব? সে বলিল, হাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (স) এই অনাবাদী স্থানটিতে সন্ধান করিবার আদেশ করিলেন। সেখান হইতে কিছু সম্পদ উদ্ধার করা হইল। অতঃপর কিনানাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, অবশিষ্ট সম্পদ কোথায়? সে তাহা হস্তান্তর করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। রাসূলুল্লাহ (স) এই সময় যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর নিকট তাহাকে সোপর্দ করিয়া বলিলেন, এই লোকটির নিকট যাহা রহিয়াছে তাহার সন্ধান লাভ না করা পর্যন্ত তাহাকে শাস্তি প্রদান কর। যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি পাথর দিয়া আঘাত হানিতে লাগিলেন। ইহাতে সে মুমূর্ষু হইয়া পড়িলে রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-এর নিকট হস্তান্তর করিলেন। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) তাহাকে স্বীয় ভাই মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসরূপে হত্যা করিলেন (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩ তারীখু উমাম ওয়াল-মুলুক, ৩খ, পৃ. ৯৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদিগকে বহিষ্কার করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহারা বলিয়াছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাদিগকে অবস্থান করিতে দিন। আমরা এই ভূমিতে কাজ করিব। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক আমাদের আর অর্ধেক আপনাদের। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার স্ত্রীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক যব দিতেন (সুনান আবী দাউদ, ২খ., পৃ. ৭৬, বাব মা জাআ ফী হুকুমি আরদি খায়বার; বাযলুল মাজহুদ, ১৩খ., পৃ. ৩৩৫-৩৩৭)।
মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-এর প্রতিশোধস্বরূপ কিনানাকে হত্যা করিবার জন্য মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-র নিকট সোপর্দ করা সংক্রান্ত বর্ণনার সহিত এই রিওয়ায়াত সাংঘর্ষিক নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশেই কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হইয়াছিল। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী সীরাতুন নবী গ্রন্থে বলেন, "খায়বারের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি ঘটনায় সীরাতবিদগণ একটি ভুল রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। তাহা হইল, রাসূলুল্লাহ (স) প্রথমে ইয়াহুদীগণকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়াছিলেন যে, তাহারা কোন জিনিস লুকাইয়া রাখিবে না। কিন্তু যখন কিনানা সম্পদ সম্ভারের তথ্য দিতে অস্বীকার করিল তখন তিনি তাহাকে যুবায়র (রা)-এর নিকট সোপর্দ করিয়া আদেশ দিলেন যে, কঠোরতা অবলম্বন করিয়া তাহার নিকট হইতে তথ্য উদঘাটন করিতে। কথামত যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি জ্বালাইয়া দাগাইতে লাগিলেন, যাহার দরুন তাহার প্রাণ নিঃশেষ হইবার উপক্রম হইল। অতঃপর তিনি কিনানাকে হত্যা করাইলেন, সকল ইয়াহুদীকে দাস-দাসী বানাইয়া লইলেন। উক্ত রিওয়ায়াতের এইটুকু হইল শুদ্ধ যে, কিনানাকে হত্যা করা হইয়াছে। কিন্তু ইহার কারণ এই ছিল না যে, সে সম্পদরাজির তথ্য দিতে অস্বীকার করিয়াছিল; বরং তাহার কারণ হইল, কিনানা মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। ইহার কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হয়। গ্রন্থকারদ্বয় বলেন, এই রিওয়ায়াতটি তাবারী ও ইন্ন হিশাম ইবন ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু ইন্ন ইসহাক উপরস্থ কোন রাবীর নাম উল্লেখ করেন নাই। মুহাদ্দিছগণ জীবনী গ্রন্থসমূহে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, ইবন ইসহাক ইয়াহূদীগণের নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুদ্ধ সংক্রান্ত ঘটনাপঞ্জী বর্ণনা করিতেন। এই রিওয়ায়াতকেও সেইরূপ মনে করা উচিত। তাহারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, কোন লোককে সম্পদ ভাণ্ডারের তথ্য প্রদান না করায় তাহার বুকে চকমকি দ্বারা আগুন বর্ষণের বিষয়টি রাহমাতুল্লিল আলামীনের মহানুভাবতার সহিত খাপ খায় না। বিষ প্রয়োগকারী ব্যক্তির অপরাধের জন্য যিনি তাহাকে শাস্তি দিলেন না আর কতিপয় মুদ্রার জন্য কোন লোকের বুকে আগুন লাগানোর আদেশ কি তিনি দিতে পারেন? তাহারা আরও বলেন, কিনানা ওয়াদা ভঙ্গ করিয়াছিল, ফলে তাহার নিরাপত্তার শর্ত রহিত হইয়াছিল। সে মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। সেইজন্য তাহাকে কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হয়। তাহারা বলেন, ঘটনার সহিত নিম্নোক্ত বিষয়সমূহও সংযোজিত রহিয়াছে:
(১) কিনানার সহিত তাহার ভাইয়ের কথা যোগ করা হইয়াছে। বাক্স ইব্ন আবদির রহমান সূত্রে বর্ণিত মুত্তাসিল রিওয়ায়াত রহিয়াছে:
(২) আফফান ইব্ন্ন মুসলিম সূত্রে বর্ণিত ইবন সা'দের রিওয়ায়াতে রহিয়াছে: فَضُرِبَ أَعْنَاقُهُمَا وَسَبِي أَهْلَيْهِمَا فَلَمَّا وَجَدَ الْمَالَ الَّذِي غَيْبُوهُ فِي مَسْكِ الْجُمَلِ سَبِي نِسَاءَهُمْ.
"তাহারা উটের চামড়ার থলিতে যেই সম্পদ গোপন করিয়াছিল তাহা পাইয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের স্ত্রীলোকগণকে বন্দী করিয়াছিলেন।"
গ্রন্থকারদ্বয় এই সম্পর্কে বলেন, এই বর্ণনাসমূহকে হাদীছ যাচাইয়ের নীতি অনুসারে বিচার করিলে মূল বিষয়টি পরিষ্কার হইয়া যায়। তাহারা ইহাও বলেন, ইয়াহূদীগণের স্ত্রীলোক ও সন্তানদিগকে গ্রেফতার করিবার কথা তো দূরে থাকুক, সহীহ বুখারীর একটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, কিনানা-র ভাইকেও হত্যা করা হয় নাই। সে উমার (রা)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত জীবিত ছিল। যেমন বুখারীতে আছে:
فَلَمَّا أَجْمَعَ عُمَرُ عَلَى ذلِكَ آتَاهُ أَحَدٌ بَنِي أَبِي الْحُقَيْقِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتُخْرِجُنَا وَقَدْ أَقَرْنَا مُحَمَّدٌ وَعَامَلَنَا عَلَى الأَمْوَالِ.
"উমার (রা) যখন এই ব্যাপারে একমত হইয়া গেলেন তখন তাঁহার নিকট হুকায়কের কোন এক ছেলে আসিয়া বলিল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি আমাদিগকে উচ্ছেদ করিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (স) আমাদিগকে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন এবং আমাদেরকে (উৎপাদিত) মালের অংশ প্রদানের চুক্তিতে কৃষিকর্মী হিসাবে এখানে বহাল রাখিয়াছেন।"
তাহারা এই সম্পর্কে বলেন, "ইব্ন হাজার ফাতহুল বারীতে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, এই লোকটি ছিল কিনানার সেই ভাই"।
আবূ দাউদে-বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) সা'য়া-কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, সম্পদ ভাণ্ডার কোথায়? সে বলিয়াছিল, যুদ্ধে ব্যয় হইয়া গিয়াছে। ইহা সত্ত্বেও কেবল কিনানাকে মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হইয়াছিল। কারণ সম্পদ লুকাইবার দায়ে যদি তাহাকে হত্যা করা হইত তাহা হইলে সেই দায়ে আরও অনেকেই দায়ী ছিল (শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ২৮৫-২৮৭)।
'আল্লামা সুহায়লী বলেন, কিনানা ইবনুর রাবী'র কাছে বানু নাঘীরের সম্পদের সম্ভার ছিল। তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে তিনি তাহাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। কিনানা এই সম্পর্কে অবগত নয় বলিয়া জানাইল। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক ইয়াহুদী আসিয়া বলিল, আমি কিনানাকে একটি অনাবাদী স্থানে প্রতিদিন ভোরে ঘোরাফিরা করিতে দেখিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে বলিলেন, যদি আমরা ইহা তোমার নিকট পাই তাহা হইলে কি তোমাকে হত্যা করিব? সে বলিল, হাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (স) এই অনাবাদী স্থানটিতে সন্ধান করিবার আদেশ করিলেন। সেখান হইতে কিছু সম্পদ উদ্ধার করা হইল। অতঃপর কিনানাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, অবশিষ্ট সম্পদ কোথায়? সে তাহা হস্তান্তর করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। রাসূলুল্লাহ (স) এই সময় যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর নিকট তাহাকে সোপর্দ করিয়া বলিলেন, এই লোকটির নিকট যাহা রহিয়াছে তাহার সন্ধান লাভ না করা পর্যন্ত তাহাকে শাস্তি প্রদান কর। যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি পাথর দিয়া আঘাত হানিতে লাগিলেন। ইহাতে সে মুমূর্ষু হইয়া পড়িলে রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-এর নিকট হস্তান্তর করিলেন। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) তাহাকে স্বীয় ভাই মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসরূপে হত্যা করিলেন (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩ তারীখু উমাম ওয়াল-মুলুক, ৩খ, পৃ. ৯৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদিগকে বহিষ্কার করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহারা বলিয়াছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাদিগকে অবস্থান করিতে দিন। আমরা এই ভূমিতে কাজ করিব। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক আমাদের আর অর্ধেক আপনাদের। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার স্ত্রীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক যব দিতেন (সুনান আবী দাউদ, ২খ., পৃ. ৭৬, বাব মা জাআ ফী হুকুমি আরদি খায়বার; বাযলুল মাজহুদ, ১৩খ., পৃ. ৩৩৫-৩৩৭)।
মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-এর প্রতিশোধস্বরূপ কিনানাকে হত্যা করিবার জন্য মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-র নিকট সোপর্দ করা সংক্রান্ত বর্ণনার সহিত এই রিওয়ায়াত সাংঘর্ষিক নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশেই কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হইয়াছিল। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী সীরাতুন নবী গ্রন্থে বলেন, "খায়বারের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি ঘটনায় সীরাতবিদগণ একটি ভুল রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। তাহা হইল, রাসূলুল্লাহ (স) প্রথমে ইয়াহুদীগণকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়াছিলেন যে, তাহারা কোন জিনিস লুকাইয়া রাখিবে না। কিন্তু যখন কিনানা সম্পদ সম্ভারের তথ্য দিতে অস্বীকার করিল তখন তিনি তাহাকে যুবায়র (রা)-এর নিকট সোপর্দ করিয়া আদেশ দিলেন যে, কঠোরতা অবলম্বন করিয়া তাহার নিকট হইতে তথ্য উদঘাটন করিতে। কথামত যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি জ্বালাইয়া দাগাইতে লাগিলেন, যাহার দরুন তাহার প্রাণ নিঃশেষ হইবার উপক্রম হইল। অতঃপর তিনি কিনানাকে হত্যা করাইলেন, সকল ইয়াহুদীকে দাস-দাসী বানাইয়া লইলেন। উক্ত রিওয়ায়াতের এইটুকু হইল শুদ্ধ যে, কিনানাকে হত্যা করা হইয়াছে। কিন্তু ইহার কারণ এই ছিল না যে, সে সম্পদরাজির তথ্য দিতে অস্বীকার করিয়াছিল; বরং তাহার কারণ হইল, কিনানা মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। ইহার কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হয়। গ্রন্থকারদ্বয় বলেন, এই রিওয়ায়াতটি তাবারী ও ইন্ন হিশাম ইবন ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু ইন্ন ইসহাক উপরস্থ কোন রাবীর নাম উল্লেখ করেন নাই। মুহাদ্দিছগণ জীবনী গ্রন্থসমূহে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, ইবন ইসহাক ইয়াহূদীগণের নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুদ্ধ সংক্রান্ত ঘটনাপঞ্জী বর্ণনা করিতেন। এই রিওয়ায়াতকেও সেইরূপ মনে করা উচিত। তাহারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, কোন লোককে সম্পদ ভাণ্ডারের তথ্য প্রদান না করায় তাহার বুকে চকমকি দ্বারা আগুন বর্ষণের বিষয়টি রাহমাতুল্লিল আলামীনের মহানুভাবতার সহিত খাপ খায় না। বিষ প্রয়োগকারী ব্যক্তির অপরাধের জন্য যিনি তাহাকে শাস্তি দিলেন না আর কতিপয় মুদ্রার জন্য কোন লোকের বুকে আগুন লাগানোর আদেশ কি তিনি দিতে পারেন? তাহারা আরও বলেন, কিনানা ওয়াদা ভঙ্গ করিয়াছিল, ফলে তাহার নিরাপত্তার শর্ত রহিত হইয়াছিল। সে মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। সেইজন্য তাহাকে কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হয়। তাহারা বলেন, ঘটনার সহিত নিম্নোক্ত বিষয়সমূহও সংযোজিত রহিয়াছে:
(১) কিনানার সহিত তাহার ভাইয়ের কথা যোগ করা হইয়াছে। বাক্স ইব্ন আবদির রহমান সূত্রে বর্ণিত মুত্তাসিল রিওয়ায়াত রহিয়াছে:
(২) আফফান ইব্ন্ন মুসলিম সূত্রে বর্ণিত ইবন সা'দের রিওয়ায়াতে রহিয়াছে: فَضُرِبَ أَعْنَاقُهُمَا وَسَبِي أَهْلَيْهِمَا فَلَمَّا وَجَدَ الْمَالَ الَّذِي غَيْبُوهُ فِي مَسْكِ الْجُمَلِ سَبِي نِسَاءَهُمْ.
"তাহারা উটের চামড়ার থলিতে যেই সম্পদ গোপন করিয়াছিল তাহা পাইয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের স্ত্রীলোকগণকে বন্দী করিয়াছিলেন।"
গ্রন্থকারদ্বয় এই সম্পর্কে বলেন, এই বর্ণনাসমূহকে হাদীছ যাচাইয়ের নীতি অনুসারে বিচার করিলে মূল বিষয়টি পরিষ্কার হইয়া যায়। তাহারা ইহাও বলেন, ইয়াহূদীগণের স্ত্রীলোক ও সন্তানদিগকে গ্রেফতার করিবার কথা তো দূরে থাকুক, সহীহ বুখারীর একটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, কিনানা-র ভাইকেও হত্যা করা হয় নাই। সে উমার (রা)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত জীবিত ছিল। যেমন বুখারীতে আছে:
فَلَمَّا أَجْمَعَ عُمَرُ عَلَى ذلِكَ آتَاهُ أَحَدٌ بَنِي أَبِي الْحُقَيْقِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتُخْرِجُنَا وَقَدْ أَقَرْنَا مُحَمَّدٌ وَعَامَلَنَا عَلَى الأَمْوَالِ.
"উমার (রা) যখন এই ব্যাপারে একমত হইয়া গেলেন তখন তাঁহার নিকট হুকায়কের কোন এক ছেলে আসিয়া বলিল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি আমাদিগকে উচ্ছেদ করিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (স) আমাদিগকে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন এবং আমাদেরকে (উৎপাদিত) মালের অংশ প্রদানের চুক্তিতে কৃষিকর্মী হিসাবে এখানে বহাল রাখিয়াছেন।"
তাহারা এই সম্পর্কে বলেন, "ইব্ন হাজার ফাতহুল বারীতে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, এই লোকটি ছিল কিনানার সেই ভাই"।
আবূ দাউদে-বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) সা'য়া-কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, সম্পদ ভাণ্ডার কোথায়? সে বলিয়াছিল, যুদ্ধে ব্যয় হইয়া গিয়াছে। ইহা সত্ত্বেও কেবল কিনানাকে মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হইয়াছিল। কারণ সম্পদ লুকাইবার দায়ে যদি তাহাকে হত্যা করা হইত তাহা হইলে সেই দায়ে আরও অনেকেই দায়ী ছিল (শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ২৮৫-২৮৭)।
'আল্লামা সুহায়লী বলেন, কিনানা ইবনুর রাবী'র কাছে বানু নাঘীরের সম্পদের সম্ভার ছিল। তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে তিনি তাহাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। কিনানা এই সম্পর্কে অবগত নয় বলিয়া জানাইল। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক ইয়াহুদী আসিয়া বলিল, আমি কিনানাকে একটি অনাবাদী স্থানে প্রতিদিন ভোরে ঘোরাফিরা করিতে দেখিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে বলিলেন, যদি আমরা ইহা তোমার নিকট পাই তাহা হইলে কি তোমাকে হত্যা করিব? সে বলিল, হাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (স) এই অনাবাদী স্থানটিতে সন্ধান করিবার আদেশ করিলেন। সেখান হইতে কিছু সম্পদ উদ্ধার করা হইল। অতঃপর কিনানাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, অবশিষ্ট সম্পদ কোথায়? সে তাহা হস্তান্তর করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। রাসূলুল্লাহ (স) এই সময় যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর নিকট তাহাকে সোপর্দ করিয়া বলিলেন, এই লোকটির নিকট যাহা রহিয়াছে তাহার সন্ধান লাভ না করা পর্যন্ত তাহাকে শাস্তি প্রদান কর। যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি পাথর দিয়া আঘাত হানিতে লাগিলেন। ইহাতে সে মুমূর্ষু হইয়া পড়িলে রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-এর নিকট হস্তান্তর করিলেন। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) তাহাকে স্বীয় ভাই মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসরূপে হত্যা করিলেন (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩ তারীখু উমাম ওয়াল-মুলুক, ৩খ, পৃ. ৯৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদিগকে বহিষ্কার করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহারা বলিয়াছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাদিগকে অবস্থান করিতে দিন। আমরা এই ভূমিতে কাজ করিব। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক আমাদের আর অর্ধেক আপনাদের। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার স্ত্রীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক যব দিতেন (সুনান আবী দাউদ, ২খ., পৃ. ৭৬, বাব মা জাআ ফী হুকুমি আরদি খায়বার; বাযলুল মাজহুদ, ১৩খ., পৃ. ৩৩৫-৩৩৭)।
মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-এর প্রতিশোধস্বরূপ কিনানাকে হত্যা করিবার জন্য মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-র নিকট সোপর্দ করা সংক্রান্ত বর্ণনার সহিত এই রিওয়ায়াত সাংঘর্ষিক নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশেই কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হইয়াছিল। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী সীরাতুন নবী গ্রন্থে বলেন, "খায়বারের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি ঘটনায় সীরাতবিদগণ একটি ভুল রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। তাহা হইল, রাসূলুল্লাহ (স) প্রথমে ইয়াহুদীগণকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়াছিলেন যে, তাহারা কোন জিনিস লুকাইয়া রাখিবে না। কিন্তু যখন কিনানা সম্পদ সম্ভারের তথ্য দিতে অস্বীকার করিল তখন তিনি তাহাকে যুবায়র (রা)-এর নিকট সোপর্দ করিয়া আদেশ দিলেন যে, কঠোরতা অবলম্বন করিয়া তাহার নিকট হইতে তথ্য উদঘাটন করিতে। কথামত যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি জ্বালাইয়া দাগাইতে লাগিলেন, যাহার দরুন তাহার প্রাণ নিঃশেষ হইবার উপক্রম হইল। অতঃপর তিনি কিনানাকে হত্যা করাইলেন, সকল ইয়াহুদীকে দাস-দাসী বানাইয়া লইলেন। উক্ত রিওয়ায়াতের এইটুকু হইল শুদ্ধ যে, কিনানাকে হত্যা করা হইয়াছে। কিন্তু ইহার কারণ এই ছিল না যে, সে সম্পদরাজির তথ্য দিতে অস্বীকার করিয়াছিল; বরং তাহার কারণ হইল, কিনানা মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। ইহার কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হয়। গ্রন্থকারদ্বয় বলেন, এই রিওয়ায়াতটি তাবারী ও ইন্ন হিশাম ইবন ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু ইন্ন ইসহাক উপরস্থ কোন রাবীর নাম উল্লেখ করেন নাই। মুহাদ্দিছগণ জীবনী গ্রন্থসমূহে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, ইবন ইসহাক ইয়াহূদীগণের নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ (س)-এর যুদ্ধ সংক্রান্ত ঘটনাপঞ্জী বর্ণনা করিতেন। এই রিওয়ায়াতকেও সেইরূপ মনে করা উচিত। তাহারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, কোন লোককে সম্পদ ভাণ্ডারের তথ্য প্রদান না করায় তাহার বুকে চকমকি দ্বারা আগুন বর্ষণের বিষয়টি রাহমাতুল্লিল আলামীনের মহানুভাবতার সহিত খাপ খায় না। বিষ প্রয়োগকারী ব্যক্তির অপরাধের জন্য যিনি তাহাকে শাস্তি দিলেন না আর কতিপয় মুদ্রার জন্য কোন লোকের বুকে আগুন লাগানোর আদেশ কি তিনি দিতে পারেন? তাহারা আরও বলেন, কিনানা ওয়াদা ভঙ্গ করিয়াছিল, ফলে তাহার নিরাপত্তার শর্ত রহিত হইয়াছিল। সে মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (را)-কে হত্যা করিয়াছিল। সেইজন্য তাহাকে কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হয়। তাহারা বলেন, ঘটনার সহিত নিম্নোক্ত বিষয়সমূহও সংযোজিত রহিয়াছে:
(১) কিনানার সহিত তাহার ভাইয়ের কথা যোগ করা হইয়াছে। বাক্স ইব্ন আবদির রহমান সূত্রে বর্ণিত মুত্তাসিল রিওয়ায়াত রহিয়াছে:
(২) আফফান ইব্ন্ন মুসলিম সূত্রে বর্ণিত ইবন সা'দের রিওয়ায়াতে রহিয়াছে: فَضُرِبَ أَعْنَاقُهُمَا وَسَبِي أَهْلَيْهِمَا فَلَمَّا وَجَدَ الْمَالَ الَّذِي غَيْبُوهُ فِي مَسْكِ الْجُمَلِ سَبِي نِسَاءَهُمْ.
"তাহারা উটের চামড়ার থলিতে যেই সম্পদ গোপন করিয়াছিল তাহা পাইয়া রাসূলুল্লাহ (س) তাহাদের স্ত্রীলোকগণকে বন্দী করিয়াছিলেন।"
গ্রন্থকারদ্বয় এই সম্পর্কে বলেন, এই বর্ণনাসমূহকে হাদীছ যাচাইয়ের নীতি অনুসারে বিচার করিলে মূল বিষয়টি পরিষ্কার হইয়া যায়। তাহারা ইহাও বলেন, ইয়াহূদীগণের স্ত্রীলোক ও সন্তানদিগকে গ্রেফতার করিবার কথা তো দূরে থাকুক, সহীহ বুখারীর একটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, কিনানা-র ভাইকেও হত্যা করা হয় নাই। সে উমার (রা)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত জীবিত ছিল। যেমন বুখারীতে আছে:
فَلَمَّا أَجْمَعَ عُمَرُ عَلَى ذلِكَ آتَاهُ أَحَدٌ بَنِي أَبِي الْحُقَيْقِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتُخْرِجُنَا وَقَدْ أَقَرْنَا مُحَمَّدٌ وَعَامِلَنَا عَلَى الأَمْوَالِ.
"উমার (রা) যখন এই ব্যাপারে একমত হইয়া গেলেন তখন তাঁহার নিকট হুকায়কের কোন এক ছেলে আসিয়া বলিল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি আমাদিগকে উচ্ছেদ করিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (স) আমাদিগকে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন এবং আমাদেরকে (উৎপাদিত) মালের অংশ প্রদানের চুক্তিতে কৃষিকর্মী হিসাবে এখানে বহাল রাখিয়াছেন।"
তাহারা এই সম্পর্কে বলেন, "ইব্ন হাজার ফাতহুল বারীতে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, এই লোকটি ছিল কিনানার সেই ভাই"।
আবূ দাউদে-বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (س) সা'য়া-কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, সম্পদ ভাণ্ডার কোথায়? সে বলিয়াছিল, যুদ্ধে ব্যয় হইয়া গিয়াছে। ইহা সত্ত্বেও কেবল কিনানাকে মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হইয়াছিল। কারণ সম্পদ লুকাইবার দায়ে যদি তাহাকে হত্যা করা হইত তাহা হইলে সেই দায়ে আরও অনেকেই দায়ী ছিল (শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ২৮৫-২৮৭)।
'আল্লামা সুহায়লী বলেন, কিনানা ইবনুর রাবী'র কাছে বানু নাঘীরের সম্পদের সম্ভার ছিল। তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আনা হইলে তিনি তাহাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। কিনানা এই সম্পর্কে অবগত নয় বলিয়া জানাইল। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক ইয়াহুদী আসিয়া বলিল, আমি কিনানাকে একটি অনাবাদী স্থানে প্রতিদিন ভোরে ঘোরাফিরা করিতে দেখিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে বলিলেন, যদি আমরা ইহা তোমার নিকট পাই তাহা হইলে কি তোমাকে হত্যা করিব? সে বলিল, হাঁ, ঠিক আছে। রাসূলুল্লাহ (স) এই অনাবাদী স্থানটিতে সন্ধান করিবার আদেশ করিলেন। সেখান হইতে কিছু সম্পদ উদ্ধার করা হইল। অতঃপর কিনানাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, অবশিষ্ট সম্পদ কোথায়? সে তাহা হস্তান্তর করিতে অস্বীকৃতি জানাইল। রাসূলুল্লাহ (স) এই সময় যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর নিকট তাহাকে সোপর্দ করিয়া বলিলেন, এই লোকটির নিকট যাহা রহিয়াছে তাহার সন্ধান লাভ না করা পর্যন্ত তাহাকে শাস্তি প্রদান কর। যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি পাথর দিয়া আঘাত হানিতে লাগিলেন। ইহাতে সে মুমূর্ষু হইয়া পড়িলে রাসূলুল্লাহ (স) কিনানাকে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-এর নিকট হস্তান্তর করিলেন। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) তাহাকে স্বীয় ভাই মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসরূপে হত্যা করিলেন (আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ৪৩ তারীখু উমাম ওয়াল-মুলুক, ৩খ, পৃ. ৯৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদিগকে বহিষ্কার করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহারা বলিয়াছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাদিগকে অবস্থান করিতে দিন। আমরা এই ভূমিতে কাজ করিব। উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক আমাদের আর অর্ধেক আপনাদের। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার স্ত্রীগণের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক যব দিতেন (সুনান আবী দাউদ, ২খ., পৃ. ৭৬, বাব মা জাআ ফী হুকুমি আরদি খায়বার; বাযলুল মাজহুদ, ১৩খ., পৃ. ৩৩৫-৩৩৭)।
মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-এর প্রতিশোধস্বরূপ কিনানাকে হত্যা করিবার জন্য মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-র নিকট সোপর্দ করা সংক্রান্ত বর্ণনার সহিত এই রিওয়ায়াত সাংঘর্ষিক নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশেই কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হইয়াছিল। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী সীরাতুন নবী গ্রন্থে বলেন, "খায়বারের ঘটনাবলীর মধ্যে একটি ঘটনায় সীরাতবিদগণ একটি ভুল রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। তাহা হইল, রাসূলুল্লাহ (স) প্রথমে ইয়াহুদীগণকে এই শর্তে নিরাপত্তা দিয়াছিলেন যে, তাহারা কোন জিনিস লুকাইয়া রাখিবে না। কিন্তু যখন কিনানা সম্পদ সম্ভারের তথ্য দিতে অস্বীকার করিল তখন তিনি তাহাকে যুবায়র (রা)-এর নিকট সোপর্দ করিয়া আদেশ দিলেন যে, কঠোরতা অবলম্বন করিয়া তাহার নিকট হইতে তথ্য উদঘাটন করিতে। কথামত যুবায়র (রা) তাহার বুকে চকমকি জ্বালাইয়া দাগাইতে লাগিলেন, যাহার দরুন তাহার প্রাণ নিঃশেষ হইবার উপক্রম হইল। অতঃপর তিনি কিনানাকে হত্যা করাইলেন, সকল ইয়াহুদীকে দাস-দাসী বানাইয়া লইলেন। উক্ত রিওয়ায়াতের এইটুকু হইল শুদ্ধ যে, কিনানাকে হত্যা করা হইয়াছে। কিন্তু ইহার কারণ এই ছিল না যে, সে সম্পদরাজির তথ্য দিতে অস্বীকার করিয়াছিল; বরং তাহার কারণ হইল, কিনানা মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। ইহার কিসাসস্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হয়। গ্রন্থকারদ্বয় বলেন, এই রিওয়ায়াতটি তাবারী ও ইন্ন হিশাম ইবন ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু ইন্ন ইসহাক উপরস্থ কোন রাবীর নাম উল্লেখ করেন নাই। মুহাদ্দিছগণ জীবনী গ্রন্থসমূহে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, ইবন ইসহাক ইয়াহূদীগণের নিকট হইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুদ্ধ সংক্রান্ত ঘটনাপঞ্জী বর্ণনা করিতেন। এই রিওয়ায়াতকেও সেইরূপ মনে করা উচিত। তাহারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, কোন লোককে সম্পদ ভাণ্ডারের তথ্য প্রদান না করায় তাহার বুকে চকমকি দ্বারা আগুন বর্ষণের বিষয়টি রাহমাতুল্লিল আলামীনের মহানুভাবতার সহিত খাপ খায় না। বিষ প্রয়োগকারী ব্যক্তির অপরাধের জন্য যিনি তাহাকে শাস্তি দিলেন না আর কতিপয় মুদ্রার জন্য কোন লোকের বুকে আগুন লাগানোর আদেশ কি তিনি দিতে পারেন? তাহারা আরও বলেন, কিনানা ওয়াদা ভঙ্গ করিয়াছিল, ফলে তাহার নিরাপত্তার শর্ত রহিত হইয়াছিল। সে মাহমূদ ইব্ন মাসলামা (রা)-কে হত্যা করিয়াছিল। সেইজন্য তাহাকে কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হয়। তাহারা বলেন, ঘটনার সহিত নিম্নোক্ত বিষয়সমূহও সংযোজিত রহিয়াছে:
(১) কিনানার সহিত তাহার ভাইয়ের কথা যোগ করা হইয়াছে। বাক্স ইব্ন আবদির রহমান সূত্রে বর্ণিত মুত্তাসিল রিওয়ায়াত রহিয়াছে:
(২) আফফান ইব্ন্ন মুসলিম সূত্রে বর্ণিত ইবন সা'দের রিওয়ায়াতে রহিয়াছে: فَضُرِبَ أَعْنَاقُهُمَا وَسَبِي أَهْلَيْهِمَا فَلَمَّا وَجَدَ الْمَالَ الَّذِي غَيْبُوهُ فِي مَسْكِ الْجُمَلِ سَبِي نِسَاءَهُمْ.
"তাহারা উটের চামড়ার থলিতে যেই সম্পদ গোপন করিয়াছিল তাহা পাইয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের স্ত্রীলোকগণকে বন্দী করিয়াছিলেন।"
গ্রন্থকারদ্বয় এই সম্পর্কে বলেন, এই বর্ণনাসমূহকে হাদীছ যাচাইয়ের নীতি অনুসারে বিচার করিলে মূল বিষয়টি পরিষ্কার হইয়া যায়। তাহারা ইহাও বলেন, ইয়াহূদীগণের স্ত্রীলোক ও সন্তানদিগকে গ্রেফতার করিবার কথা তো দূরে থাকুক, সহীহ বুখারীর একটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, কিনানা-র ভাইকেও হত্যা করা হয় নাই। সে উমার (রা)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত জীবিত ছিল। যেমন বুখারীতে আছে:
فَلَمَّا أَجْمَعَ عُمَرُ عَلَى ذلِكَ آتَاهُ أَحَدٌ بَنِي أَبِي الْحُقَيْقِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتُخْرِجُنَا وَقَدْ أَقَرْنَا مُحَمَّدٌ وَعَامَلَنَا عَلَى الأَمْوَالِ.
"উমার (রা) যখন এই ব্যাপারে একমত হইয়া গেলেন তখন তাঁহার নিকট হুকায়কের কোন এক ছেলে আসিয়া বলিল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি কি আমাদিগকে উচ্ছেদ করিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (স) আমাদিগকে থাকিবার অনুমতি দিয়াছেন এবং আমাদেরকে (উৎপাদিত) মালের অংশ প্রদানের চুক্তিতে কৃষিকর্মী হিসাবে এখানে বহাল রাখিয়াছেন।"
তাহারা এই সম্পর্কে বলেন, "ইব্ন হাজার ফাতহুল বারীতে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, এই লোকটি ছিল কিনানার সেই ভাই"।
আবূ দাউদে-বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) সা'য়া-কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, সম্পদ ভাণ্ডার কোথায়? সে বলিয়াছিল, যুদ্ধে ব্যয় হইয়া গিয়াছে। ইহা সত্ত্বেও কেবল কিনানাকে মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর কিসাসস্বরূপ হত্যা করা হইয়াছিল। কারণ সম্পদ লুকাইবার দায়ে যদি তাহাকে হত্যা করা হইত তাহা হইলে সেই দায়ে আরও অনেকেই দায়ী ছিল (শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ২৮৫-২৮৭)।