📄 সাফিয়্যা (রা)
কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়কেরই দুর্গ ছিল কামূস। ইয়াহুদীগণ যখন এই দুর্গ হইতে পলায়ন করে এবং দুর্গ বিজিত হয় তখন যাহারা বন্দী হইয়াছিল তাহাদের মধ্যে সাফিয়্যা বিন্ত হুয়ায় ইব্ন আখতাব এবং তাহার দুইজন চাচাতো ভগ্নিও ছিল। ইব্ন ইসহাক উল্লেখ করিয়াছেন যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইব্ন রাবী' ইব্ন আবিল হুকায়কের স্বল্পবয়সী ও সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী। প্রথমে তিনি দিহয়া ইব্ন খালীফা আল-কালবী (রা)-এর ভাগে দাসী হিসাবে বণ্টিত হইয়াছিলেন। কিন্তু তাহার সামাজিক মর্যাদার বিবেচনায় সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, সাফিয়্যা বিশিষ্ট সরদার তনয়া এবং অতিশয় পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারিনী। দিহয়া কালবীর নিকট তাহাকে রাখা সমীচীন নয়। তিনি আপনারই যোগ্য। এই কারণে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দিহয়া কালবীর নিকট হইতে ক্রয় করিয়া লইলেন। তাহার ভগ্নীদেরকে তাহার হাতে সোপর্দ করিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৩)।
মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বলেন, খায়বারের বন্দীদের মধ্যে সাফিয়্যা (রা)-ও ছিলেন। দিহয়া কালবী (রা) একজন দাসী দানের আবেদন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে নিজ পসন্দে একজন গ্রহণ করিবার অনুমতি দান করিলেন। তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে পছন্দ করিলেন। ইহাতে সাহাবীগণ বলিলেন, সাফিয়্যা নাঘীর ও কুরায়যা গোত্র দুইটির অধিপতির সম্ভ্রান্ত কন্যা। হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি ব্যতীত অন্য কেহই তাহার উপযুক্ত নয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) দিহয়া (রা)-কে অন্য দাসী দিয়া সাফিয়্যা (রা)-কে দাসত্বমুক্ত করেন। অতঃপর তাঁহাকে বিবাহ করেন (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৯)। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও আল্লামা সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী কর্তৃক রচিত সীরাতুন্নবীর (১খ., ২৮৩) বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যার বিনিময়ে দিহয়া (রা)-কে সাতজন দাসী দিলেন। এই সকল রিওয়াত পরস্পরবিরোধী। এক সূত্রে এইরূপ বর্ণিত আছে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ قَدِمْنَا خَيْبَرَ فَلَمَّا فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ الْحِصْنَ ذُكِرَ لَهُ جَمَالُ صَفِيَّةَ بنْتَ حُيَى ابْنِ أَخْطَبَ وَقَدْ قُتِلَ وَكَانَتْ عَرُوسًا فَاصْطَفَاهَا النَّبِيُّ ﷺ لِنَفْسِهِ فَخَرَجَ بِهَا حَتَّى بَلَغْنَا سَدَّ الصَّهْبَاءِ حَلَّتْ فَتَبَنَى بِهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ثُمَّ صُنِعَ حَيْسًا فِي نَطْعَ صَغِيرَة
ثُمَّ قَالَ لِي أَذِنْ مَنْ حَوْلَكَ فَكَانَتْ تِلْكَ وَلِيْمَةً عَلَى صَفِيَّةَ ثُمَّ خَرَجْنَا الْمَدِينَةَ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ يحوى لَهَا وَرَاءَهُ بِعَبَاءَةٍ ثُمَّ يَجْلِسُ عِنْدَ بَعِيرِهِ فَيَضَعُ رَكْبَتَهُ وَتَضَعُ صَفِيَّةُ رِجْلَهَا على ركبته حتى تركب.
“আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমরা খায়বারে আগমন করিলাম। অতঃপর মহান আল্লাহ যখন দুর্গের বিজয় দান করিলেন তখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে সাফিয়্যা বিন্ত হুয়াই ইব্ন আখতাবের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করা হইল। তাঁহার প্রাক্তন স্বামী (কিনানা) নিহত হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা) ছিলেন নব বিবাহিতা। অতঃপর তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স) নিজের জন্য মনোনীত করিলেন। ইহার পর তাঁহাকে লইয়া রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা করিলেন। আমরা যখন আস-সাহ্'বার দোরগোড়ায় উপনীত হইলাম তখন সাফিয়্যা (রা) হায়েয হইতে পবিত্রতা অর্জন করিলেন। ফলে এখানেই রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সহিত বাসরঘর করিলেন। ইহার পর ছোট একটি চামড়ার পাত্রে হায়স (ক্ষীর) তৈরী করা হইল। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলিলেনঃ তোমার আশেপাশের লোকদিগকে দাওয়াত দাও। ইহাই ছিল সাফিয়্যা (রা)-এর ওয়ালীমা। অতঃপর আমরা মদীনা অভিমুখে রওয়ানা করিলাম। পথিমধ্যে দেখিতে পাইলাম, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার পিছন দিয়া সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য একটি চাদর দ্বারা পর্দা করিয়াছেন। পরে তাঁহার উটের নিকট তিনি বসিয়া নিজ হাঁটু মেলিয়া রাখিলেন এবং সাফিয়্যা (রা) নিজ পা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাঁটুতে রাখিয়া সওয়ার হইলেন” (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাওয়াতি খায়বার, ২খ., ৬০৬)।
বুখারীর এক রিওয়ায়াত নিম্নরূপঃ
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ اللهِ عَزَا خَيْبَرَ فَصَلَّيْنَا عِنْدَهَا صَلوةَ الْغَدَاةِ بِغَلَس فَرَكِبَ النَّبِيِّ ﷺ وَرَكِبَ أَبُو طَلْحَةَ وَأَنَا رَدِيفُ أَبِي طَلْحَةَ فَأَجْرِى نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فِي زُقَاقِ خَيْبَرَ وَأَنَّ رَكْبَتَى لَتَمَسُ فَخِذَ نَبِيُّ اللَّهِ اللهِ ثُمَّ حَسَرَ الإِزارِ عَنْ فَخِذِهِ حَتَّى أَنِّي أَنْظُرُ إِلى بِيَاضِ فَخِذِ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا دَخَلَ الْقَرْيَةَ قَالَ اللهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ قَالَهَا ثَلثًا قَالَ وَخَرَجَ الْقَوْمُ إِلى أَعْمَالِهِمْ فَقَالُوا مُحَمَّدٌ قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا وَالْخَمِيسَ يَعْنِيُّ الْجَيْشِ قَالَ فَأَصَبْنَاهَا عَنَوَةً فَجُمِعَ السَّبِيُّ فَجَاءَ دِحْيَةٌ فَقَالَ يَانَبِيُّ اللهِ أَعْطَنِي جَارِيَةً مِنَ السَّبِي فَقَالَ اذْهَبْ فَخُذْ جَارِيَةً فَأَخَذَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حَيَى فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ أَعْطَيْتَ دِحْيَةَ صَفِيَّةَ
بِنْتَ حُيَى سَيِّدَةَ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرَ لَا تَصْلُحُ إِلا لَكَ قَالَ أَدْعُوهُ بِهَا فَجَاءَ بِهَا فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهَا النَّبِيُّ ﷺ قَالَ خُذْ جَارِيَّةً مِنَ السَّبِي غَيْرَهَا قَالَ فَاعْتَقَهَا النَّبِيُّ ﷺ وَتَزَوجَهَا فَقَالَ لَهُ ثَابِتُ يَا أَبَا حَمْزَةً مَا أَصْدَقَهَا قَالَ نَفْسًا اَعْتَقَهَا وَتَزَوجَهَا حَتَّى إِذَا كَانَ بِالطَّرِيقِ.
বুখারীতে ওয়ালীমা সম্পর্কিত একটি বর্ণনায় উল্লেখ আছে:
فَأَصْبَحَ النَّبِيُّ ﷺ عَرُوسًا فَقَالَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلْيَجِيْ بِهِ وَبَسَطَ نِطْعًا فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِئُ بِالتَّمْرِ وَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيُّ بِالسَّمَنِ قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَدْ ذَكَرَ السَّوِيقَ قَالَ فَحَاسُوا حَيْسًا فَكَانَتْ وَلِيْمَةُ رَسُولِ الله ﷺ (صحيح البخاري مجلد ١ : ٤-٥٣ كتاب الصلوة باب ما يذكر في الفخذ).
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) সফররত অবস্থাতেই উম্মু সুলায়ম (রা) সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য রাত্রিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বাসরের ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। সকালে সকলকে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাহার নিকট যাহা আছে তাহা লইয়া আস। তিনি চামড়ার খাঞ্চা বিছাইয়া দিলেন। কেহ লইয়া আসিল শুকনা খেজুর, কেহ আনিল ঘি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় ছাতু আনার কথাও উল্লেখ আছে। সবাই মিলিয়া তাহা দিয়া হায়স (ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করিলেন। ইহাই ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওয়ালীমা” (বুখারী, কিতাবুস সালাত, বাব মা যুযকারু ফি'ল-ফাখিয, ১খ., ৫৩-৫৪)।
সুনানে আবী দাউদের ভাষ্যকার 'আল্লামা মাযিরী বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে ফেরত লইয়া নিজে বিবাহ করিলেন। কারণ:
لِمَا فِيْهِ مِنْ انْتِهَالِهَا مَعَ مَرْتَبَتِهَا وَكَوْنِهَا بِنْتَ سَيِّدِهِمْ
"তিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং ইয়াহূদী নেতার মেয়ে। এইজন্য তাঁহার অন্য কাহারও নিকট থাকা সমীচীন ছিল মা" (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., ২৮৪)।
ইবন হাজার আল-'আসকালানী বলেন, ইবন ইসহাকের মতে সাফিয়্যা (রা)-কে কামূস দুর্গ হইতে বন্দী করা হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইন্ন আবিল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁহার সহিত তাঁহার চাচাতো ভগ্নিকে বন্দী করা হইয়াছিল। ভিন্নমতে তাঁহার স্বামীর চাচাত ভগ্নি বন্দী হইয়াছিল। সুহায়লী বলেন, খায়বারের গনীমত ভাগ করিবার পূর্বে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে সাফিয়্যা (রা)-কে ফেরত লওয়া হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা)-এর পরিবর্তে দিহয়া (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) যাহা দিয়াছিলেন তাহা বিনিময় হিসাবে নয়, অনুগ্রহ হিসাবে (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
সাফিয়্যা (রা) মহানবী (স)-এর পরিণীতা হইবার আরও একটি যুক্তি হইল, তিনি পিতা ও স্বামী উভয়ের পক্ষ হইতে রাজকীয় পরিবেশে জীবন যাপনের পর যখন পিতৃহারা ও স্বামীহারা হইয়া চরমভাবে অসহায় হইয়া পড়িলেন, এমতাবস্থায় তাঁহার বংশ মর্যাদা রক্ষার্থে এবং স্বজন হারানোর বেদনা দূর করিতে ইহা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। তিনি বাঁদী হিসাবেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকিতে পারিতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) তাহা করেন নাই। তাঁহার সামাজিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করিয়া তিনি তাঁহাকে আযাদ করিয়া দিলেন। অতঃপর তাঁহাকে নিজ স্ত্রী হিসাবে বরণ করিয়া লইলেন।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে (মিসর, ৩খ., ১৩৮), রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দুইটি জিনিসের যে কোন একটি গ্রহণের অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন: হয় তিনি আযাদ হইয়া নিজ গৃহে চলিয়া যাইবেন অথবা তাঁহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহে আবদ্ধ হইবার পন্থাটি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করিয়াছিলেন। করুণা ও সদ্ব্যবহার ছাড়াও ইহা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হইতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই আচরণের ফলেই আরববাসীদের ইসলামের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাইতেছিল। ইসলাম তাহার শত্রুদিগের পরিবার-পরিজনের সহিতও কতই না উত্তম আচরণ করে (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন-নবী, ১খ., ২৮৪)।
কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়কেরই দুর্গ ছিল কামূস। ইয়াহুদীগণ যখন এই দুর্গ হইতে পলায়ন করে এবং দুর্গ বিজিত হয় তখন যাহারা বন্দী হইয়াছিল তাহাদের মধ্যে সাফিয়্যা বিন্ত হুয়ায় ইব্ন আখতাব এবং তাহার দুইজন চাচাতো ভগ্নিও ছিল। ইব্ন ইসহাক উল্লেখ করিয়াছেন যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইব্ন রাবী' ইব্ন আবিল হুকায়কের স্বল্পবয়সী ও সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী। প্রথমে তিনি দিহয়া ইব্ন খালীফা আল-কালবী (রা)-এর ভাগে দাসী হিসাবে বণ্টিত হইয়াছিলেন। কিন্তু তাহার সামাজিক মর্যাদার বিবেচনায় সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, সাফিয়্যা বিশিষ্ট সরদার তনয়া এবং অতিশয় পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারিনী। দিহয়া কালবীর নিকট তাহাকে রাখা সমীচীন নয়। তিনি আপনারই যোগ্য। এই কারণে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দিহয়া কালবীর নিকট হইতে ক্রয় করিয়া লইলেন। তাহার ভগ্নীদেরকে তাহার হাতে সোপর্দ করিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৩)।
মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বলেন, খায়বারের বন্দীদের মধ্যে সাফিয়্যা (রা)-ও ছিলেন। দিহয়া কালবী (রা) একজন দাসী দানের আবেদন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে নিজ পসন্দে একজন গ্রহণ করিবার অনুমতি দান করিলেন। তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে পছন্দ করিলেন। ইহাতে সাহাবীগণ বলিলেন, সাফিয়্যা নাঘীর ও কুরায়যা গোত্র দুইটির অধিপতির সম্ভ্রান্ত কন্যা। হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি ব্যতীত অন্য কেহই তাহার উপযুক্ত নয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) দিহয়া (রা)-কে অন্য দাসী দিয়া সাফিয়্যা (রা)-কে দাসত্বমুক্ত করেন। অতঃপর তাঁহাকে বিবাহ করেন (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৯)। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও আল্লামা সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী কর্তৃক রচিত সীরাতুন্নবীর (১খ., ২৮৩) বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যার বিনিময়ে দিহয়া (রা)-কে সাতজন দাসী দিলেন। এই সকল রিওয়াত পরস্পরবিরোধী। এক সূত্রে এইরূপ বর্ণিত আছে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ قَدِمْنَا خَيْبَرَ فَلَمَّا فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ الْحِصْنَ ذُكِرَ لَهُ جَمَالُ صَفِيَّةَ بنْتَ حُيَى ابْنِ أَخْطَبَ وَقَدْ قُتِلَ وَكَانَتْ عَرُوسًا فَاصْطَفَاهَا النَّبِيُّ ﷺ لِنَفْسِهِ فَخَرَجَ بِهَا حَتَّى بَلَغْنَا سَدَّ الصَّهْبَاءِ حَلَّتْ فَتَبَنَى بِهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ثُمَّ صُنِعَ حَيْسًا فِي نَطْعَ صَغِيرَة ثُمَّ قَالَ لِي أَذِنْ مَنْ حَوْلَكَ فَكَانَتْ تِلْكَ وَلِيْمَةً عَلَى صَفِيَّةَ ثُمَّ خَرَجْنَا الْمَدِينَةَ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ يحوى لَهَا وَرَاءَهُ بِعَبَاءَةٍ ثُمَّ يَجْلِسُ عِنْدَ بَعِيرِهِ فَيَضَعُ رَكْبَتَهُ وَتَضَعُ صَفِيَّةُ رِجْلَهَا على ركبته حتى تركب.
"আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমরা খায়বারে আগমন করিলাম। অতঃপর মহান আল্লাহ যখন দুর্গের বিজয় দান করিলেন তখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে সাফিয়্যা বিন্ত হুয়াই ইব্ন আখতাবের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করা হইল। তাঁহার প্রাক্তন স্বামী (কিনানা) নিহত হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা) ছিলেন নব বিবাহিতা। অতঃপর তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স) নিজের জন্য মনোনীত করিলেন। ইহার পর তাঁহাকে লইয়া রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা করিলেন। আমরা যখন আস-সাহ্'বার দোরগোড়ায় উপনীত হইলাম তখন সাফিয়্যা (রা) হায়েয হইতে পবিত্রতা অর্জন করিলেন। ফলে এখানেই রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সহিত বাসরঘর করিলেন। ইহার পর ছোট একটি চামড়ার পাত্রে হায়স (ক্ষীর) তৈরী করা হইল। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলিলেনঃ তোমার আশেপাশের লোকদিগকে দাওয়াত দাও। ইহাই ছিল সাফিয়্যা (রা)-এর ওয়ালীমা। অতঃপর আমরা মদীনা অভিমুখে রওয়ানা করিলাম। পথিমধ্যে দেখিতে পাইলাম, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার পিছন দিয়া সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য একটি চাদর দ্বারা পর্দা করিয়াছেন। পরে তাঁহার উটের নিকট তিনি বসিয়া নিজ হাঁটু মেলিয়া রাখিলেন এবং সাফিয়্যা (রা) নিজ পা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাঁটুতে রাখিয়া সওয়ার হইলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাওয়াতি খায়বার, ২খ., ৬০৬)।
বুখারীর এক রিওয়ায়াত নিম্নরূপ:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ اللهِ عَزَا خَيْبَرَ فَصَلَّيْنَا عِنْدَهَا صَلوةَ الْغَدَاةِ بِغَلَس فَرَكِبَ النَّبِيِّ ﷺ وَرَكِبَ أَبُو طَلْحَةَ وَأَنَا رَدِيفُ أَبِي طَلْحَةَ فَأَجْرِى نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فِي زُقَاقِ خَيْبَرَ وَأَنَّ رَكْبَتَى لَتَمَسُ فَخِذَ نَبِيُّ اللهِ اللهِ ثُمَّ حَسَرَ الإِزارِ عَنْ فَخِذِهِ حَتَّى أَنِّي أَنْظُرُ إِلى بِيَاضِ فَخِذِ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا دَخَلَ الْقَرْيَةَ قَالَ اللهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ قَالَهَا ثَلثًا قَالَ وَخَرَجَ الْقَوْمُ إِلى أَعْمَالِهِمْ فَقَالُوا مُحَمَّدٌ قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا وَالْخَمِيسَ يَعْنِيُّ الْجَيْشِ قَالَ فَأَصَبْنَاهَا عَنَوَةً فَجُمِعَ السَّبِيُّ فَجَاءَ دِحْيَةٌ فَقَالَ يَانَبِيُّ اللهِ أَعْطَنِي جَارِيَةً مِنَ السَّبِي فَقَالَ اذْهَبْ فَخُذْ جَارِيَةً فَأَخَذَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حَيَى فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ أَعْطَيْتَ دِحْيَةَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَى سَيِّدَةَ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرَ لَا تَصْلُحُ إِلا لَكَ قَالَ أَدْعُوهُ بِهَا فَجَاءَ بِهَا فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهَا النَّبِيُّ ﷺ قَالَ خُذْ جَارِيَّةً مِنَ السَّبِي غَيْرَهَا قَالَ فَاعْتَقَهَا النَّبِيُّ ﷺ وَتَزَوجَهَا فَقَالَ لَهُ ثَابِتُ يَا أَبَا حَمْزَةً مَا أَصْدَقَهَا قَالَ نَفْسًا اَعْتَقَهَا وَتَزَوجَهَا حَتَّى إِذَا كَانَ بِالطَّرِيقِ.
বুখারীতে ওয়ালীমা সম্পর্কিত একটি বর্ণনায় উল্লেখ আছে:
فَأَصْبَحَ النَّبِيُّ ﷺ عَرُوسًا فَقَالَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلْيَجِيْ بِهِ وَبَسَطَ نِطْعًا فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِئُ بِالتَّمْرِ وَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيُّ بِالسَّمَنِ قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَدْ ذَكَرَ السَّوِيقَ قَالَ فَحَاسُوا حَيْسًا فَكَانَتْ وَلِيْمَةُ رَسُولِ الله ﷺ (صحيح البخاري مجلد ١ : ٤-٥٣ كتاب الصلوة باب ما يذكر في الفخذ).
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) সফররত অবস্থাতেই উম্মু সুলায়ম (রা) সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য রাত্রিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বাসরের ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। সকালে সকলকে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাহার নিকট যাহা আছে তাহা লইয়া আস। তিনি চামড়ার খাঞ্চা বিছাইয়া দিলেন। কেহ লইয়া আসিল শুকনা খেজুর, কেহ আনিল ঘি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় ছাতু আনার কথাও উল্লেখ আছে। সবাই মিলিয়া তাহা দিয়া হায়س (ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করিলেন। ইহাই ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওয়ালীমা” (বুখারী, কিতাবুস সালাত, বাব মা যুযকারু ফি'ল-ফাখিয, ১খ., ৫৩-৫৪)।
সুনানে আবী দাউদের ভাষ্যকার 'আল্লামা মাযিরী বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে ফেরত লইয়া নিজে বিবাহ করিলেন। কারণ:
لِمَا فِيْهِ مِنْ انْتِهَالِهَا مَعَ مَرْتَبَتِهَا وَكَوْنِهَا بِنْتَ سَيِّدِهِمْ
"তিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং ইয়াহূদী নেতার মেয়ে। এইজন্য তাঁহার অন্য কাহারও নিকট থাকা সমীচীন ছিল মা" (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., ২৮৪)।
ইবন হাজার আল-'আসকালানী বলেন, ইবন ইসহাকের মতে সাফিয়্যা (রা)-কে কামূس দুর্গ হইতে বন্দী করা হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইন্ন আবিল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁহার সহিত তাঁহার চাচাতো ভগ্নিকে বন্দী করা হইয়াছিল। ভিন্নমতে তাঁহার স্বামীর চাচাত ভগ্নি বন্দী হইয়াছিল। সুহায়লী বলেন, খায়বারের গনীমত ভাগ করিবার পূর্বে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে সাফিয়্যা (রা)-কে ফেরত লওয়া হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা)-এর পরিবর্তে দিহয়া (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) যাহা দিয়াছিলেন তাহা বিনিময় হিসাবে নয়, অনুগ্রহ হিসাবে (ফাতহুল বারী)।
সাফিয়্যা (রা) মহানবী (স)-এর পরিণীতা হইবার আরও একটি যুক্তি হইল, তিনি পিতা ও স্বামী উভয়ের পক্ষ হইতে রাজকীয় পরিবেশে জীবন যাপনের পর যখন পিতৃহারা ও স্বামীহারা হইয়া চরমভাবে অসহায় হইয়া পড়িলেন, এমতাবস্থায় তাঁহার বংশ মর্যাদা রক্ষার্থে এবং স্বজন হারানোর বেদনা দূর করিতে ইহা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। তিনি বাঁদী হিসাবেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকিতে পারিতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) তাহা করেন নাই। তাঁহার সামাজিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করিয়া তিনি তাঁহাকে আযাদ করিয়া দিলেন। অতঃপর তাঁহাকে নিজ স্ত্রী হিসাবে বরণ করিয়া লইলেন।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে (মিসর, ৩খ., ১৩৮), রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দুইটি জিনিসের যে কোন একটি গ্রহণের অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন: হয় তিনি আযাদ হইয়া নিজ গৃহে চলিয়া যাইবেন অথবা তাঁহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহে আবদ্ধ হইবার পন্থাটি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করিয়াছিলেন। করুণা ও সদ্ব্যবহার ছাড়াও ইহা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হইতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই আচরণের ফলেই আরববাসীদের ইসলামের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাইতেছিল। ইসলাম তাহার শত্রুদিগের পরিবার-পরিজনের সহিতও কতই না উত্তম আচরণ করে (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন-নবী, ১খ., ২৮৪)।
কিনানা ইব্ن আবিল হুকায়কেরই দুর্গ ছিল কামূس। ইয়াহুদীগণ যখন এই দুর্গ হইতে পলায়ন করে এবং দুর্গ বিজিত হয় তখন যাহারা বন্দী হইয়াছিল তাহাদের মধ্যে সাফিয়্যা বিন্ত হুয়ায় ইব্ন আখতাব এবং তাহার দুইজন চাচাতো ভগ্নিও ছিল। ইব্ন ইসহাক উল্লেখ করিয়াছেন যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইব্ন রাবী' ইব্ন আবিল হুকায়কের স্বল্পবয়সী ও সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী। প্রথমে তিনি দিহয়া ইব্ন খালীফা আল-কালবী (রা)-এর ভাগে দাসী হিসাবে বণ্টিত হইয়াছিলেন। কিন্তু তাহার সামাজিক মর্যাদার বিবেচনায় সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, সাফিয়্যা বিশিষ্ট সরদার তনয়া এবং অতিশয় পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারিনী। দিহয়া কালবীর নিকট তাহাকে রাখা সমীচীন নয়। তিনি আপনারই যোগ্য। এই কারণে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দিহয়া কালবীর নিকট হইতে ক্রয় করিয়া লইলেন। তাহার ভগ্নীদেরকে তাহার হাতে সোপর্দ করিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৩)।
মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বলেন, খায়বারের বন্দীদের মধ্যে সাফিয়্যা (রা)-ও ছিলেন। দিহয়া কালবী (রা) একজন দাসী দানের আবেদন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে নিজ পসন্দে একজন গ্রহণ করিবার অনুমতি দান করিলেন। তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে পছন্দ করিলেন। ইহাতে সাহাবীগণ বলিলেন, সাফিয়্যা নাঘীর ও কুরায়যা গোত্র দুইটির অধিপতির সম্ভ্রান্ত কন্যা। হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি ব্যতীত অন্য কেহই তাহার উপযুক্ত নয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) দিহয়া (রা)-কে অন্য দাসী দিয়া সাফিয়্যা (রা)-কে দাসত্বমুক্ত করেন। অতঃপর তাঁহাকে বিবাহ করেন (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৯)। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও আল্লামা সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী কর্তৃক রচিত সীরাতুন্নবীর (১খ., ২৮৩) বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যার বিনিময়ে দিহয়া (রা)-কে সাতজন দাসী দিলেন। এই সকল রিওয়াত পরস্পরবিরোধী। এক সূত্রে এইরূপ বর্ণিত আছে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ قَدِمْنَا خَيْبَرَ فَلَمَّا فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ الْحِصْنَ ذُكِرَ لَهُ جَمَالُ صَفِيَّةَ بنْتَ حُيَى ابْنِ أَخْطَبَ وَقَدْ قُتِلَ وَكَانَتْ عَرُوسًا فَاصْطَفَاهَا النَّبِيُّ ﷺ لِنَفْسِهِ فَخَرَجَ بِهَا حَتَّى بَلَغْنَا سَدَّ الصَّهْبَاءِ حَلَّتْ فَتَبَنَى بِهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ثُمَّ صُنِعَ حَيْسًا فِي نَطْعَ صَغِيرَة ثُمَّ قَالَ لِي أَذِنْ مَنْ حَوْلَكَ فَكَانَتْ تِلْكَ وَلِيْمَةً عَلَى صَفِيَّةَ ثُمَّ خَرَجْنَا الْمَدِينَةَ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ يحوى لَهَا وَرَاءَهُ بِعَبَاءَةٍ ثُمَّ يَجْلِسُ عِنْدَ بَعِيرِهِ فَيَضَعُ رَكْبَتَهُ وَتَضَعُ صَفِيَّةُ رِجْلَهَا على ركبته حتى تركب.
"হুমায়দ বলেন, আমি আনাস (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে তিন রাত অবস্থান করিয়াছিলেন। এই সময় তিনি সাফিয়্যা (রা)-এর সহিত মিলিত হইয়াছিলেন। অতঃপর আমি মুসলমানদেরকে ওয়ালীমা-র জন্য দাওয়াত করিলাম। ওয়ালীমাতে রুটি ও গোশত ছিল না। বিলাল (রা)-কে দস্তরখান বিছানোর আদেশ করা ছাড়া ইহাতে অন্য কিছু ছিল না। আদেশ অনুযায়ী দস্তরখান বিছানোর পর ইহাতে শুকনা খেজুর, পনির ও ঘি ঢালা হইয়াছিল। অতঃপর মুসলমানগণ বলিতে লাগিলেন, তিনি কি উম্মুল মু'মিনীনের একজন, না কি বাঁদী। তাহারা বলিলেন, যদি রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে রাখেন তাহা হইলে তিনি উম্মত জননীগণের একজন, আর যদি তাঁহাকে পর্দার অন্তরালে না ঢাকেন তাহা হইলে তিনি তাঁহার একজন বাঁদী। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা করিলে সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য তাঁহার সওয়ারীর পিছনে বসিবার স্থান ঠিক করিলেন এবং তাঁহার জন্য পর্দা টানাইলেন" (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাওয়া খায়বার, ২খ., ৬০৬)।
বুখারীর এক রিওয়ায়াত নিম্নরূপ:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ اللهِ عَزَا خَيْبَرَ فَصَلَّيْنَا عِنْدَهَا صَلوةَ الْغَدَاةِ بِغَلَس فَرَكِبَ النَّبِيِّ ﷺ وَرَكِبَ أَبُو طَلْحَةَ وَأَنَا رَدِيفُ أَبِي طَلْحَةَ فَأَجْرِى نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فِي زُقَاقِ خَيْبَرَ وَأَنَّ رَكْبَتَى لَتَمَسُ فَخِذَ نَبِيُّ اللهِ اللهِ ثُمَّ حَسَرَ الإِزارِ عَنْ فَخِذِهِ حَتَّى أَنِّي أَنْظُرُ إِلى بِيَاضِ فَخِذِ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا دَخَلَ الْقَرْيَةَ قَالَ اللهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ قَالَهَا ثَلثًا قَالَ وَخَرَجَ الْقَوْمُ إِلى أَعْمَالِهِمْ فَقَالُوا مُحَمَّدٌ قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا وَالْخَمِيسَ يَعْنِيُّ الْجَيْشِ قَالَ فَأَصَبْنَاهَا عَنَوَةً فَجُمِعَ السَّبِيُّ فَجَاءَ دِحْيَةٌ فَقَالَ يَانَبِيُّ اللهِ أَعْطِنِي جَارِيَةً مِنَ السَّبِي فَقَالَ اذْهَبْ فَخُذْ جَارِيَةً فَأَخَذَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حَيَى فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ أَعْطَيْتَ دِحْيَةَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَى سَيِّدَةَ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرَ لَا تَصْلُحُ إِلا لَكَ قَالَ أَدْعُوهُ بِهَا فَجَاءَ بِهَا فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهَا النَّبِيُّ ﷺ قَالَ خُذْ جَارِيَّةً مِنَ السَّبِي غَيْرَهَا قَالَ فَاعْتَقَهَا النَّبِيُّ ﷺ وَتَزَوجَهَا فَقَالَ لَهُ ثَابِتُ يَا أَبَا حَمْزَةً مَا أَصْدَقَهَا قَالَ نَفْسًا اَعْتَقَهَا وَتَزَوجَهَا حَتَّى إِذَا كَانَ بِالطَّرِيقِ.
বুখারীতে ওয়ালীমা সম্পর্কিত একটি বর্ণনায় উল্লেখ আছে:
فَأَصْبَحَ النَّبِيُّ ﷺ عَرُوسًا فَقَالَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلْيَجِيْ بِهِ وَبَسَطَ نِطْعًا فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِئُ بِالتَّمْرِ وَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيُّ بِالسَّمَنِ قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَدْ ذَكَرَ السَّوِيقَ قَالَ فَحَاسُوا حَيْسًا فَكَانَتْ وَلِيْمَةُ رَسُولِ الله ﷺ (صحيح البخاري مجلد ١ : ٤-٥٣ كتاب الصلوة باب ما يذكر في الفخذ).
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (س) সফররত অবস্থাতেই উম্মু সুলায়م (را) সাফিয়্যা (را)-এর জন্য রাত্রিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বাসরের ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। সকালে সকলকে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাহার নিকট যাহা আছে তাহা লইয়া আস। তিনি চামড়ার খাঞ্চা বিছাইয়া দিলেন। কেহ লইয়া আসিল শুকনা খেজুর, কেহ আনিল ঘি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় ছাতু আনার কথাও উল্লেখ আছে। সবাই মিলিয়া তাহা দিয়া হায়س (ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করিলেন। ইহাই ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওয়ালীমা” (বুখারী, কিতাবুস সালাত, বাব মা যুযকারু ফি'ل-ফাখিয, ১খ., ৫৩-৫৪)।
সুনানে আবী দাউদের ভাষ্যকার 'আল্লামা মাযিরী বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে ফেরত লইয়া নিজে বিবাহ করিলেন। কারণ:
لِمَا فِيْهِ مِنْ انْتِهَالِهَا مَعَ مَرْتَبَتِهَا وَكَوْنِهَا بِنْتَ سَيِّدِهِمْ
"তিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং ইয়াহূদী নেতার মেয়ে। এইজন্য তাঁহার অন্য কাহারও নিকট থাকা সমীচীন ছিল মা" (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., ২৮৪)।
ইবন হাজার আল-'আসকালানী বলেন, ইবন ইসহাকের মতে সাফিয়্যা (রা)-কে কামূس দুর্গ হইতে বন্দী করা হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইন্ন আবিল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁহার সহিত তাঁহার চাচাতো ভগ্নিকে বন্দী করা হইয়াছিল। ভিন্নমতে তাঁহার স্বামীর চাচাত ভগ্নি বন্দী হইয়াছিল। সুহায়লী বলেন, খায়বারের গনীমত ভাগ করিবার পূর্বে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে সাফিয়্যা (রা)-কে ফেরত লওয়া হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা)-এর পরিবর্তে দিহয়া (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) যাহা দিয়াছিলেন তাহা বিনিময় হিসাবে নয়, অনুগ্রহ হিসাবে (ফাতহুল বারী)।
সাফিয়্যা (রা) মহানবী (স)-এর পরিণীতা হইবার আরও একটি যুক্তি হইল, তিনি পিতা ও স্বামী উভয়ের পক্ষ হইতে রাজকীয় পরিবেশে জীবন যাপনের পর যখন পিতৃহারা ও স্বামীহারা হইয়া চরমভাবে অসহায় হইয়া পড়িলেন, এমতাবস্থায় তাঁহার বংশ মর্যাদা রক্ষার্থে এবং স্বজন হারানোর বেদনা দূর করিতে ইহা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। তিনি বাঁদী হিসাবেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকিতে পারিতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) তাহা করেন নাই। তাঁহার সামাজিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করিয়া তিনি তাঁহাকে আযাদ করিয়া দিলেন। অতঃপর তাঁহাকে নিজ স্ত্রী হিসাবে বরণ করিয়া লইলেন।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে (মিসর, ৩খ., ১৩৮), রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দুইটি জিনিসের যে কোন একটি গ্রহণের অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন: হয় তিনি আযাদ হইয়া নিজ গৃহে চলিয়া যাইবেন অথবা তাঁহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহে আবদ্ধ হইবার পন্থাটি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করিয়াছিলেন। করুণা ও সদ্ব্যবহার ছাড়াও ইহা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হইতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই আচরণের ফলেই আরববাসীদের ইসলামের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাইতেছিল। ইসলাম তাহার শত্রুদিগের পরিবার-পরিজনের সহিতও কতই না উত্তম আচরণ করে (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন-নবী, ১খ., ২৮৪)।
কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়কেরই দুর্গ ছিল কামূস। ইয়াহুদীগণ যখন এই দুর্গ হইতে পলায়ন করে এবং দুর্গ বিজিত হয় তখন যাহারা বন্দী হইয়াছিল তাহাদের মধ্যে সাফিয়্যা বিন্ত হুয়ায় ইব্ন আখতাব এবং তাহার দুইজন চাচাতো ভগ্নিও ছিল। ইব্ন ইসহাক উল্লেখ করিয়াছেন যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইব্ন রাবী' ইব্ন আবিল হুকায়কের স্বল্পবয়সী ও সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী। প্রথমে তিনি দিহয়া ইব্ন খালীফা আল-কালবী (রা)-এর ভাগে দাসী হিসাবে বণ্টিত হইয়াছিলেন। কিন্তু তাহার সামাজিক মর্যাদার বিবেচনায় সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, সাফিয়্যা বিশিষ্ট সরদার তনয়া এবং অতিশয় পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারিনী। দিহয়া কালবীর নিকট তাহাকে রাখা সমীচীন নয়। তিনি আপনারই যোগ্য। এই কারণে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দিহয়া কালবীর নিকট হইতে ক্রয় করিয়া লইলেন। তাহার ভগ্নীদেরকে তাহার হাতে সোপর্দ করিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৩)।
মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বলেন, খায়বারের বন্দীদের মধ্যে সাফিয়্যা (রা)-ও ছিলেন। দিহয়া কালবী (রা) একজন দাসী দানের আবেদন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে নিজ পসন্দে একজন গ্রহণ করিবার অনুমতি দান করিলেন। তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে পছন্দ করিলেন। ইহাতে সাহাবীগণ বলিলেন, সাফিয়্যা নাঘীর ও কুরায়যা গোত্র দুইটির অধিপতির সম্ভ্রান্ত কন্যা। হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি ব্যতীত অন্য কেহই তাহার উপযুক্ত নয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স) দিহয়া (রা)-কে অন্য দাসী দিয়া সাফিয়্যা (রা)-কে দাসত্বমুক্ত করেন। অতঃপর তাঁহাকে বিবাহ করেন (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৯)। আল্লামা শিবলী নু'মানী ও আল্লামা সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী কর্তৃক রচিত সীরাতুন্নবীর (১খ., ২৮৩) বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যার বিনিময়ে দিহয়া (রা)-কে সাতজন দাসী দিলেন। এই সকল রিওয়াত পরস্পরবিরোধী। এক সূত্রে এইরূপ বর্ণিত আছে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ قَدِمْنَا خَيْبَرَ فَلَمَّا فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ الْحِصْنَ ذُكِرَ لَهُ جَمَالُ صَفِيَّةَ بنْتَ حُيَى ابْنِ أَخْطَبَ وَقَدْ قُتِلَ وَكَانَتْ عَرُوسًا فَاصْطَفَاهَا النَّبِيُّ ﷺ لِنَفْسِهِ فَخَرَجَ بِهَا حَتَّى بَلَغْنَا سَدَّ الصَّهْبَاءِ حَلَّتْ فَتَبَنَى بِهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ثُمَّ صُنِعَ حَيْسًا فِي نَطْعَ صَغِيرَة
"আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমরা খায়বারে আগমন করিলাম। অতঃপর মহান আল্লাহ যখন দুর্গের বিজয় দান করিলেন তখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে সাফিয়্যা বিন্ত হুয়াই ইব্ন আখতাবের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করা হইল। তাঁহার প্রাক্তন স্বামী (কিনানা) নিহত হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা) ছিলেন নব বিবাহিতা। অতঃপর তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স) নিজের জন্য মনোনীত করিলেন। ইহার পর তাঁহাকে লইয়া রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা করিলেন। আমরা যখন আস-সাহ্'বার দোরগোড়ায় উপনীত হইলাম তখন সাফিয়্যা (রা) হায়েয হইতে পবিত্রতা অর্জন করিলেন। ফলে এখানেই রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সহিত বাসরঘর করিলেন। ইহার পর ছোট একটি চামড়ার পাত্রে হায়স (ক্ষীর) তৈরী করা হইল। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলিলেনঃ তোমার আশেপাশের লোকদিগকে দাওয়াত দাও। ইহাই ছিল সাফিয়্যা (রা)-এর ওয়ালীমা। অতঃপর আমরা মদীনা অভিমুখে রওয়ানা করিলাম। পথিমধ্যে দেখিতে পাইলাম, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার পিছন দিয়া সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য একটি চাদর দ্বারা পর্দা করিয়াছেন। পরে তাঁহার উটের নিকট তিনি বসিয়া নিজ হাঁটু মেলিয়া রাখিলেন এবং সাফিয়্যা (রা) নিজ পা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাঁটুতে রাখিয়া সওয়ার হইলেন” (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাওয়াতি খায়বার, ২খ., ৬০৬)।
বুখারীর এক রিওয়ায়াত নিম্নরূপ:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ اللهِ عَزَا خَيْبَرَ فَصَلَّيْنَا عِنْدَهَا صَلوةَ الْغَدَاةِ بِغَلَس فَرَكِبَ النَّبِيِّ ﷺ وَرَكِبَ أَبُو طَلْحَةَ وَأَنَا رَدِيفُ أَبِي طَلْحَةَ فَأَجْرِى نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فِي زُقَاقِ خَيْبَرَ وَأَنَّ رَكْبَتَى لَتَمَسُ فَخِذَ نَبِيُّ اللهِ اللهِ ثُمَّ حَسَرَ الإِزارِ عَنْ فَخِذِهِ حَتَّى أَنِّي أَنْظُرُ إِلى بِيَاضِ فَخِذِ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا دَخَلَ الْقَرْيَةَ قَالَ اللهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ قَالَهَا ثَلثًا قَالَ وَخَرَجَ الْقَوْمُ إِلى أَعْمَالِهِمْ فَقَالُوا مُحَمَّدٌ قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا وَالْخَمِيسَ يَعْنِيُّ الْجَيْشِ قَالَ فَأَصَبْنَاهَا عَنَوَةً فَجُمِعَ السَّبِيُّ فَجَاءَ دِحْيَةٌ فَقَالَ يَانَبِيُّ اللهِ أَعْطَنِي جَارِيَةً مِنَ السَّبِي فَقَالَ اذْهَبْ فَخُذْ جَارِيَةً فَأَخَذَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَى فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ أَعْطَيْتَ دِحْيَةَ صَفِيَّةَ
বুকখারীতে ওয়ালীমা সম্পর্কিত একটি বর্ণনায় উল্লেখ আছে:
فَأَصْبَحَ النَّبِيُّ ﷺ عَرُوسًا فَقَالَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلْيَجِيْ بِهِ وَبَسَطَ نِطْعًا فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِئُ بِالتَّمْرِ وَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيُّ بِالسَّمَنِ قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَدْ ذَكَرَ السَّوِيقَ قَالَ فَحَاسُوا حَيْسًا فَكَانَتْ وَلِيْمَةً رَسُولِ الله ﷺ (صحيح البخاري مجلد ١ : ٤-٥٣ كتاب الصلوة باب ما يذكر في الفخذ).
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) সফররত অবস্থাতেই উম্মু সুলায়ম (রা) সাফিয়্যা (রা)-এর জন্য রাত্রিকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বাসরের ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। সকালে সকলকে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাহার নিকট যাহা আছে তাহা লইয়া আস। তিনি চামড়ার খাঞ্চা বিছাইয়া দিলেন। কেহ লইয়া আসিল শুকনা খেজুর, কেহ আনিল ঘি। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় ছাতু আনার কথাও উল্লেখ আছে। সবাই মিলিয়া তাহা দিয়া হায়স (ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করিলেন। ইহাই ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওয়ালীমা” (বুখারী, কিতাবুস সালাত, বাব মা যুযকারু ফি'ল-ফাখিয, ১খ., ৫৩-৫৪)।
সুনানে আবী দাউদের ভাষ্যকার 'আল্লামা মাযিরী বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে ফেরত লইয়া নিজে বিবাহ করিলেন। কারণ:
لِمَا فِيْهِ مِنْ انْتِهَالِهَا مَعَ مَرْتَبَتِهَا وَكَوْنِهَا بِنْتَ سَيِّدِهِمْ
"তিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদসম্পন্ন এবং ইয়াহূদী নেতার মেয়ে। এইজন্য তাঁহার অন্য কাহারও নিকট থাকা সমীচীন ছিল মা" (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন নবী, ১খ., ২৮৪)।
ইবন হাজার আল-'আসকালানী বলেন, ইবন ইসহাকের মতে সাফিয়্যা (রা)-কে কামূস দুর্গ হইতে বন্দী করা হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা) ছিলেন কিনানা ইন্ন আবিল হুকায়কের স্ত্রী। তাঁহার সহিত তাঁহার চাচাতো ভগ্নিকে বন্দী করা হইয়াছিল। ভিন্নমতে তাঁহার স্বামীর চাচাত ভগ্নি বন্দী হইয়াছিল। সুহায়লী বলেন, খায়বারের গনীমত ভাগ করিবার পূর্বে দিহয়া (রা)-এর নিকট হইতে সাফিয়্যা (রা)-কে ফেরত লওয়া হইয়াছিল। সাফিয়্যা (রা)-এর পরিবর্তে দিহয়া (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) যাহা দিয়াছিলেন তাহা বিনিময় হিসাবে নয়, অনুগ্রহ হিসাবে (ফাতহুল বারী)।
সাফিয়্যা (রা) মহানবী (স)-এর পরিণীতা হইবার আরও একটি যুক্তি হইল, তিনি পিতা ও স্বামী উভয়ের পক্ষ হইতে রাজকীয় পরিবেশে জীবন যাপনের পর যখন পিতৃহারা ও স্বামীহারা হইয়া চরমভাবে অসহায় হইয়া পড়িলেন, এমতাবস্থায় তাঁহার বংশ মর্যাদা রক্ষার্থে এবং স্বজন হারানোর বেদনা দূর করিতে ইহা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। তিনি বাঁদী হিসাবেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকিতে পারিতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) তাহা করেন নাই। তাঁহার সামাজিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করিয়া তিনি তাঁহাকে আযাদ করিয়া দিলেন। অতঃপর তাঁহাকে নিজ স্ত্রী হিসাবে বরণ করিয়া লইলেন।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে (মিসর, ৩খ., ১৩৮), রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যা (রা)-কে দুইটি জিনিসের যে কোন একটি গ্রহণের অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন: হয় তিনি আযাদ হইয়া নিজ গৃহে চলিয়া যাইবেন অথবা তাঁহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহে আবদ্ধ হইবার পন্থাটি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করিয়াছিলেন। করুণা ও সদ্ব্যবহার ছাড়াও ইহা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হইতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই আচরণের ফলেই আরববাসীদের ইসলামের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাইতেছিল। ইসলাম তাহার শত্রুদিগের পরিবার-পরিজনের সহিতও কতই না উত্তম আচরণ করে (শিবলী নু'মানী ও সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন-নবী, ১খ., ২৮৪)।
📄 সাফিয়্যা নামের কারণ
উম্মত জননী আইশা (রা) বলেন, كَانَتْ صَفَيَّةُ مِنَ الصَّفَى "সাফিয়্যা (রা) ছিলেন সাফী অংশের অন্তর্ভুক্ত” (আবু দাউদ, ২খ., পৃ.৭৩)।
ইব্ন আওন বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইব্ন সীরীনকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধে শরীক না হইলেও তাঁহার জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করা হইত। সাফী হইল 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) পৃথক করিবার পূর্বে তাঁহার জন্য যেই অংশ গ্রহণ করা হইত" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
وَعَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِي قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ سَهُمْ يُدْعَى الصَّفِيُّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ امَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسَا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الخُمس (ابو داود كتاب الخراج باب ما جاء في سهم الصفى ).
"আমের আশ-শা'বী (র) বলেন, রাসূলূল্লাহ (স)-এর জন্য একটি অংশ ছিল যাহাকে 'সাফী' বলিয়া অভিহিত করা হইত। 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি নিজ পছন্দ মত যাহা গ্রহণ করিতেন- তাহা গোলাম অথবা বাঁদী কিংবা ঘোড়া যাহাই হউক"।
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا غَدًا كَانَ لَهُ سَهْمُ صَافٍ يَأْخُذُهُ مِنْ حَيْثُ شَاءَ فَكَانَتْ صَفِيَّةٌ مِنْ ذَلِكَ السَّهْمِ وَكَانَ إِذَا لَمْ يَغْزُو ضُرِبَ لَهُ بِسَهْمِهِ وَلَمْ يُخَيَّرُ.
"কাতাদা (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতেন তখন তাঁহার জন্য "সাফী'র এক অংশ থাকিত। তিনি যেখান হইতে ইচ্ছা তাহা গ্রহণ করিতেন। এইরূপ অংশেরই অধীনে ছিলেন সাফিয়্যা (রা)। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করিলেও তাঁহার জন্য তাঁহার অংশ পৃথক করা হইত, অন্য কিছু গ্রহণের অধিকার থাকিত না" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
এই হাদীছ তিনটি দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিশেষ অংশ। ইহাও বুঝা যাইতেছে যে, 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং ইতিপূর্বে যেই কথা বলা হইয়াছে যে, সাফিয়্যা (রা) দিহয়া কালবী (রা)-এর ভাগে পড়েন নাই, বরং তিনি তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদেশ পাইয়া স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইবন হাজার উপরিউক্ত হাদীছগুলি বর্ণনা করিয়া বলেন, কেহ কেহ বালিয়াছেন, সাফিয়্যা (রা)-কে বন্দী করিবার পূর্বে তাঁহার নাম ছিল যয়নব। অতঃপর তিনি সাফী-র মধ্যে গণ্য হইবার পর তাঁহার নাম হইল সাফিয়্যা (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
উম্মত জননী আইশা (রা) বলেন, كَانَتْ صَفَيَّةُ مِنَ الصَّفَى "সাফিয়্যা (রা) ছিলেন সাফী অংশের অন্তর্ভুক্ত” (আবু দাউদ, ২খ., পৃ.৭৩)।
ইব্ন আওন বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইব্ন সীরীনকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধে শরীক না হইলেও তাঁহার জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করা হইত। সাফী হইল 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) পৃথক করিবার পূর্বে তাঁহার জন্য যেই অংশ গ্রহণ করা হইত" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
وَعَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِي قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ سَهُمْ يُدْعَى الصَّفِيُّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ امَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسَا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الخُمس (ابو داود كتاب الخراج باب ما جاء في سهم الصفى ).
"আমের আশ-শা'বী (র) বলেন, রাসূলূল্লাহ (স)-এর জন্য একটি অংশ ছিল যাহাকে 'সাফী' বলিয়া অভিহিত করা হইত। 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি নিজ পছন্দ মত যাহা গ্রহণ করিতেন- তাহা গোলাম অথবা বাঁদী কিংবা ঘোড়া যাহাই হউক"।
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا غَدًا كَانَ لَهُ سَهْمُ صَافٍ يَأْخُذُهُ مِنْ حَيْثُ شَاءَ فَكَانَتْ صَفِيَّةٌ مِنْ ذَلِكَ السَّهْمِ وَكَانَ إِذَا لَمْ يَغْزُو ضُرِبَ لَهُ بِسَهْمِهِ وَلَمْ يُخَيَّرُ.
"কাতাদা (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতেন তখন তাঁহার জন্য "সাফী'র এক অংশ থাকিত। তিনি যেখান হইতে ইচ্ছা তাহা গ্রহণ করিতেন। এইরূপ অংশেরই অধীনে ছিলেন সাফিয়্যা (রা)। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করিলেও তাঁহার জন্য তাঁহার অংশ পৃথক করা হইত, অন্য কিছু গ্রহণের অধিকার থাকিত না" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
এই হাদীছ তিনটি দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিশেষ অংশ। ইহাও বুঝা যাইতেছে যে, 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং ইতিপূর্বে যেই কথা বলা হইয়াছে যে, সাফিয়্যা (রা) দিহয়া কালবী (রা)-এর ভাগে পড়েন নাই, বরং তিনি তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদেশ পাইয়া স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইবন হাজার উপরিউক্ত হাদীছগুলি বর্ণনা করিয়া বলেন, কেহ কেহ বালিয়াছেন, সাফিয়্যা (রা)-কে বন্দী করিবার পূর্বে তাঁহার নাম ছিল যয়নব। অতঃপর তিনি সাফী-র মধ্যে গণ্য হইবার পর তাঁহার নাম হইল সাফিয়্যা (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
উম্মত জননী আইশা (রা) বলেন, كَانَتْ صَفَيَّةُ مِنَ الصَّفَى "সাফিয়্যা (রা) ছিলেন সাফী অংশের অন্তর্ভুক্ত” (আবু দাউদ, ২খ., পৃ.৭৩)।
ইব্ন আওন বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইব্ن সীরীনকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধে শরীক না হইলেও তাঁহার জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করা হইত। সাফী হইল 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) পৃথক করিবার পূর্বে তাঁহার জন্য যেই অংশ গ্রহণ করা হইত" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
وَعَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِي قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ سَهُمْ يُدْعَى الصَّفِيُّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ امَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسَا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الخُمس (ابو داود كتاب الخراج باب ما جاء في سهم الصفى ).
"আমের আশ-শা'বী (র) বলেন, রাসূলূল্লাহ (স)-এর জন্য একটি অংশ ছিল যাহাকে 'সাফী' বলিয়া অভিহিত করা হইত। 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি নিজ পছন্দ মত যাহা গ্রহণ করিতেন- তাহা গোলাম অথবা বাঁদী কিংবা ঘোড়া যাহাই হউক"।
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا غَدًا كَانَ لَهُ سَهْمُ صَافٍ يَأْخُذُهُ مِنْ حَيْثُ شَاءَ فَكَانَتْ صَفِيَّةٌ مِنْ ذَلِكَ السَّهْمِ وَكَانَ إِذَا لَمْ يَغْزُو ضُرِبَ لَهُ بِسَهْمِهِ وَلَمْ يُخَيَّرُ.
"কাতাদা (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতেন তখন তাঁহার জন্য "সাফী'র এক অংশ থাকিত। তিনি যেখান হইতে ইচ্ছা তাহা গ্রহণ করিতেন। এইরূপ অংশেরই অধীনে ছিলেন সাফিয়্যা (রা)। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করিলেও তাঁহার জন্য তাঁহার অংশ পৃথক করা হইত, অন্য কিছু গ্রহণের অধিকার থাকিত না" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
এই হাদীছ তিনটি দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (س.)-এর বিশেষ অংশ। ইহাও বুঝা যাইতেছে যে, 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং ইতিপূর্বে যেই কথা বলা হইয়াছে যে, সাফিয়্যা (রা) দিহয়া কালবী (রা)-এর ভাগে পড়েন নাই, বরং তিনি তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদেশ পাইয়া স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইবন হাজার উপরিউক্ত হাদীছগুলি বর্ণনা করিয়া বলেন, কেহ কেহ বালিয়াছেন, সাফিয়্যা (রা)-কে বন্দী করিবার পূর্বে তাঁহার নাম ছিল যয়নব। অতঃপর তিনি সাফী-র মধ্যে গণ্য হইবার পর তাঁহার নাম হইল সাফিয়্যা (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
উম্মত জননী আইশা (রা) বলেন, كَانَتْ صَفَيَّةُ مِنَ الصَّفَى "সাফিয়্যা (রা) ছিলেন সাফী অংশের অন্তর্ভুক্ত” (আবু দাউদ, ২খ., পৃ.৭৩)।
ইব্ন আওন বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইব্ন সীরীনকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধে শরীক না হইলেও তাঁহার জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করা হইত। সাফী হইল 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) পৃথক করিবার পূর্বে তাঁহার জন্য যেই অংশ গ্রহণ করা হইত" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
وَعَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِي قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ سَهُمْ يُدْعَى الصَّفِيُّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ امَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسَا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الخُمس (ابو داود كتاب الخراج باب ما جاء في سهم الصفى ).
"আমের আশ-শা'বী (র) বলেন, রাসূলূল্লাহ (স)-এর জন্য একটি অংশ ছিল যাহাকে 'সাফী' বলিয়া অভিহিত করা হইত। 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি নিজ পছন্দ মত যাহা গ্রহণ করিতেন- তাহা গোলাম অথবা বাঁদী কিংবা ঘোড়া যাহাই হউক"।
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا غَدًا كَانَ لَهُ سَهْمُ صَافٍ يَأْخُذُهُ مِنْ حَيْثُ شَاءَ فَكَانَتْ صَفِيَّةُ مِنْ ذَلِكَ السَّهْمِ وَكَانَ إِذَا لَمْ يَغْزُو ضُرِبَ لَهُ بِسَهْمِهِ وَلَمْ يُخَيَّرُ.
"কাতাদা (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতেন তখন তাঁহার জন্য "সাফী'র এক অংশ থাকিত। তিনি যেখান হইতে ইচ্ছা তাহা গ্রহণ করিতেন। এইরূপ অংশেরই অধীনে ছিলেন সাফিয়্যা (রা)। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করিলেও তাঁহার জন্য তাঁহার অংশ পৃথক করা হইত, অন্য কিছু গ্রহণের অধিকার থাকিত না" (আবূ দাউদ, প্রাগুক্ত)।
এই হাদীছ তিনটি দ্বারা বুঝা যাইতেছে যে, সাফিয়্যা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিশেষ অংশ। ইহাও বুঝা যাইতেছে যে, 'খুমুস' পৃথক করিবার পূর্বে তিনি সাফিয়্যা (রা)-কে গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং ইতিপূর্বে যেই কথা বলা হইয়াছে যে, সাফিয়্যা (রা) দিহয়া কালবী (রা)-এর ভাগে পড়েন নাই, বরং তিনি তাঁহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদেশ পাইয়া স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইবন হাজার উপরিউক্ত হাদীছগুলি বর্ণনা করিয়া বলেন, কেহ কেহ বালিয়াছেন, সাফিয়্যা (রা)-কে বন্দী করিবার পূর্বে তাঁহার নাম ছিল যয়নব। অতঃপর তিনি সাফী-র মধ্যে গণ্য হইবার পর তাঁহার নাম হইল সাফিয়্যা (ফাতহুল বারী, ৭খ., ৪৮০)।
📄 কুল্লা দুর্গ
এই দুর্গটিও ছিল অতিশয় সুরক্ষিত এবং ইহা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কুল্লা শব্দের অর্থ হইল পাহাড়ের চূড়া। দুর্গটি পরবর্তীতে যুবায়র দুর্গ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। কারণ দুর্গটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের সময় যুবায়র (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল বলিয়া ইহাকে এই নামে ডাকা হইত। একাধারে তিন দিন পর্যন্ত দুর্গ অবরোধ করিয়া রাখা হয়, কিন্তু দুর্গের পতন ঘটানো সম্ভব হয় নাই। ইতেমধ্যে একজন ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি এক মাস যুদ্ধ করিয়া দুর্গের পতন ঘটাইতে সক্ষম হইবেন না। অবশ্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা আছে যাহার মাধ্যমে আপনি তাহাদিগকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করিতে সক্ষম হইবেন। পাহাড়ের নিম্নদেশে পানির একটি ঝর্ণা আছে, উহা হইতে রাত্রিকালে এই দুর্গবাসীরা পানি সংগ্রহ করিয়া থাকে। ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দিলেই তাহারা নিরুপায় হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যূষে গমন করিয়া ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দেন। ইহার ফলে দুর্গবাসীরা দুর্গাভ্যন্তর হইতে বাধ্য হইয়া বাহির হয় এবং তাহাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে দশজন ইয়াহুদী নিহত হয় এবং কতিপয় মুসলিম শহীদ হন। অতঃপর দুর্গ বিজিত হয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৪; সীরাতে মুহসিমি কাইনাত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪)।
এই দুর্গটিও ছিল অতিশয় সুরক্ষিত এবং ইহা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কুল্লা শব্দের অর্থ হইল পাহাড়ের চূড়া। দুর্গটি পরবর্তীতে যুবায়র দুর্গ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। কারণ দুর্গটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের সময় যুবায়র (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল বলিয়া ইহাকে এই নামে ডাকা হইত। একাধারে তিন দিন পর্যন্ত দুর্গ অবরোধ করিয়া রাখা হয়, কিন্তু দুর্গের পতন ঘটানো সম্ভব হয় নাই। ইতেমধ্যে একজন ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি এক মাস যুদ্ধ করিয়া দুর্গের পতন ঘটাইতে সক্ষম হইবেন না। অবশ্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা আছে যাহার মাধ্যমে আপনি তাহাদিগকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করিতে সক্ষম হইবেন। পাহাড়ের নিম্নদেশে পানির একটি ঝর্ণা আছে, উহা হইতে রাত্রিকালে এই দুর্গবাসীরা পানি সংগ্রহ করিয়া থাকে। ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দিলেই তাহারা নিরুপায় হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যূষে গমন করিয়া ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দেন। ইহার ফলে দুর্গবাসীরা দুর্গাভ্যন্তর হইতে বাধ্য হইয়া বাহির হয় এবং তাহাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে দশজন ইয়াহুদী নিহত হয় এবং কতিপয় মুসলিম শহীদ হন। অতঃপর দুর্গ বিজিত হয় (আসাহহুস-সিয়ার, পৃ. ১৯৪; সীরাতে মুহসিমি কাইনাত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪)।
এই দুর্গটিও ছিল অতিশয় সুরক্ষিত এবং ইহা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কুল্লা শব্দের অর্থ হইল পাহাড়ের চূড়া। দুর্গটি পরবর্তীতে যুবায়র দুর্গ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। কারণ দুর্গটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের সময় যুবায়র (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল বলিয়া ইহাকে এই নামে ডাকা হইত। একাধারে তিন দিন পর্যন্ত দুর্গ অবরোধ করিয়া রাখা হয়, কিন্তু দুর্গের পতন ঘটানো সম্ভব হয় নাই। ইতেমধ্যে একজন ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি এক মাস যুদ্ধ করিয়া দুর্গের পতন ঘটাইতে সক্ষম হইবেন না। অবশ্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা আছে যাহার মাধ্যমে আপনি তাহাদিগকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করিতে সক্ষম হইবেন। পাহাড়ের নিম্নদেশে পানির একটি ঝর্ণা আছে, উহা হইতে রাত্রিকালে এই দুর্গবাসীরা পানি সংগ্রহ করিয়া থাকে। ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দিলেই তাহারা নিরুপায় হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যূষে গমন করিয়া ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দেন। ইহার ফলে দুর্গবাসীরা দুর্গাভ্যন্তর হইতে বাধ্য হইয়া বাহির হয় এবং তাহাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে দশজন ইয়াহুদী নিহত হয় এবং কতিপয় মুসলিম শহীদ হন। অতঃপর দুর্গ বিজিত হয় (আসাহহুস-সিয়ার, পৃ. ১৯৪; সীরাতে মুহসিমি কাইনাত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪)।
এই দুর্গটিও ছিল অতিশয় সুরক্ষিত এবং ইহা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। কুল্লা শব্দের অর্থ হইল পাহাড়ের চূড়া। দুর্গটি পরবর্তীতে যুবায়র দুর্গ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। কারণ দুর্গটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের সময় যুবায়র (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল বলিয়া ইহাকে এই নামে ডাকা হইত। একাধারে তিন দিন পর্যন্ত দুর্গ অবরোধ করিয়া রাখা হয়, কিন্তু দুর্গের পতন ঘটানো সম্ভব হয় নাই। ইতেমধ্যে একজন ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি এক মাস যুদ্ধ করিয়া দুর্গের পতন ঘটাইতে সক্ষম হইবেন না। অবশ্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা আছে যাহার মাধ্যমে আপনি তাহাদিগকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করিতে সক্ষম হইবেন। পাহাড়ের নিম্নদেশে পানির একটি ঝর্ণা আছে, উহা হইতে রাত্রিকালে এই দুর্গবাসীরা পানি সংগ্রহ করিয়া থাকে। ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দিলেই তাহারা নিরুপায় হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যূষে গমন করিয়া ঝর্ণাটি বন্ধ করিয়া দেন। ইহার ফলে দুর্গবাসীরা দুর্গাভ্যন্তর হইতে বাধ্য হইয়া বাহির হয় এবং তাহাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে দশজন ইয়াহুদী নিহত হয় এবং কতিপয় মুসলিম শহীদ হন। অতঃপর দুর্গ বিজিত হয় (আসাহহুস-সিয়ার, পৃ. ১৯৪; সীরাতে মুহসিমি কাইনাত, পৃ. ২৯৩, ২৯৪)।
📄 ওয়াতীহ ও সুলালিম দুর্গ
যুবায়র দুর্গ বিজয় লাভের পর রাসূলুল্লাহ (স) অবশিষ্ট দুর্গসমূহ দখলের অভিযান চালাইলেন। সকল দুর্গ তাঁহার হস্তগত হওয়ার পর সর্বশেষে তিনি ওয়াতীহ ও সুলালিমের দিকে অগ্রসর হইলেন। কোন কোন বর্ণনায় আল-কাতীবা-এর কথাও উল্লেখ আছে। ইহার পূর্বে সকল দুর্গ বিজিত হইয়া গিয়াছিল। কেবল এই দুইটি দুর্গ অবশিষ্ট ছিল। সর্বদিক হইতে তাড়া খাইয়া ইয়াহুদীরা এই তিনটি দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল এবং ধন-সম্পদ এই সকল দুর্গে আনিয়া রাখিয়াছিল। চৌদ্দ দিন অবরুদ্ধ থাকিবার পর বাধ্য হইয়া তাহারা সন্ধির আবেদন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা মঞ্জুর করিলেন। ইয়াহুদীগণ সন্ধির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করিবার জন্য কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়ক-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রেরণ করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে এই শর্তে মৃত্যুদণ্ড হইতে নিষ্কৃতি দিলেন যে, তাহারা খায়বার অঞ্চল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতিয়ার ও যুদ্ধাস্ত্র এই স্থানে রাখিয়া যাইবে। কোন জিনিস গোপন করিবে না। যদি এই শর্ত লঙ্ঘন করা হয় তাহা হইলে তাহাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের কোন দায়দায়িত্ব থাকিবে না। ইয়াহুদীগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হইবার পরও নিজেদের অপকর্ম হইতে বিরত থাকিল না।
যুবায়র দুর্গ বিজয় লাভের পর রাসূলুল্লাহ (স) অবশিষ্ট দুর্গসমূহ দখলের অভিযান চালাইলেন। সকল দুর্গ তাঁহার হস্তগত হওয়ার পর সর্বশেষে তিনি ওয়াতীহ ও সুলালিমের দিকে অগ্রসর হইলেন। কোন কোন বর্ণনায় আল-কাতীবা-এর কথাও উল্লেখ আছে। ইহার পূর্বে সকল দুর্গ বিজিত হইয়া গিয়াছিল। কেবল এই দুইটি দুর্গ অবশিষ্ট ছিল। সর্বদিক হইতে তাড়া খাইয়া ইয়াহুদীরা এই তিনটি দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল এবং ধন-সম্পদ এই সকল দুর্গে আনিয়া রাখিয়াছিল। চৌদ্দ দিন অবরুদ্ধ থাকিবার পর বাধ্য হইয়া তাহারা সন্ধির আবেদন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা মঞ্জুর করিলেন। ইয়াহুদীগণ সন্ধির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করিবার জন্য কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়ক-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রেরণ করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে এই শর্তে মৃত্যুদণ্ড হইতে নিষ্কৃতি দিলেন যে, তাহারা খায়বার অঞ্চল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতিয়ার ও যুদ্ধাস্ত্র এই স্থানে রাখিয়া যাইবে। কোন জিনিস গোপন করিবে না। যদি এই শর্ত লঙ্ঘন করা হয় তাহা হইলে তাহাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের কোন দায়দায়িত্ব থাকিবে না। ইয়াহুদীগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হইবার পরও নিজেদের অপকর্ম হইতে বিরত থাকিল না।
যুবায়র দুর্গ বিজয় লাভের পর রাসূলুল্লাহ (স) অবশিষ্ট দুর্গসমূহ দখলের অভিযান চালাইলেন। সকল দুর্গ তাঁহার হস্তগত হওয়ার পর সর্বশেষে তিনি ওয়াতীহ ও সুলালিমের দিকে অগ্রসর হইলেন। কোন কোন বর্ণনায় আল-কাতীবা-এর কথাও উল্লেখ আছে। ইহার পূর্বে সকল দুর্গ বিজিত হইয়া গিয়াছিল। কেবল এই দুইটি দুর্গ অবশিষ্ট ছিল। সর্বদিক হইতে তাড়া খাইয়া ইয়াহুদীরা এই তিনটি দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল এবং ধন-সম্পদ এই সকল দুর্গে আনিয়া রাখিয়াছিল। চৌদ্দ দিন অবরুদ্ধ থাকিবার পর বাধ্য হইয়া তাহারা সন্ধির আবেদন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা মঞ্জুর করিলেন। ইয়াহুদীগণ সন্ধির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করিবার জন্য কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়ক-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রেরণ করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে এই শর্তে মৃত্যুদণ্ড হইতে নিষ্কৃতি দিলেন যে, তাহারা খায়বার অঞ্চল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতিয়ার ও যুদ্ধাস্ত্র এই স্থানে রাখিয়া যাইবে। কোন জিনিস গোপন করিবে না। যদি এই শর্ত লঙ্ঘন করা হয় তাহা হইলে তাহাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের কোন দায়দায়িত্ব থাকিবে না। ইয়াহুদীগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হইবার পরও নিজেদের অপকর্ম হইতে বিরত থাকিল না।
যুবায়র দুর্গ বিজয় লাভের পর রাসূলুল্লাহ (স) অবশিষ্ট দুর্গসমূহ দখলের অভিযান চালাইলেন। সকল দুর্গ তাঁহার হস্তগত হওয়ার পর সর্বশেষে তিনি ওয়াতীহ ও সুলালিমের দিকে অগ্রসর হইলেন। কোন কোন বর্ণনায় আল-কাতীবা-এর কথাও উল্লেখ আছে। ইহার পূর্বে সকল দুর্গ বিজিত হইয়া গিয়াছিল। কেবল এই দুইটি দুর্গ অবশিষ্ট ছিল। সর্বদিক হইতে তাড়া খাইয়া ইয়াহুদীরা এই তিনটি দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল এবং ধন-সম্পদ এই সকল দুর্গে আনিয়া রাখিয়াছিল। চৌদ্দ দিন অবরুদ্ধ থাকিবার পর বাধ্য হইয়া তাহারা সন্ধির আবেদন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা মঞ্জুর করিলেন। ইয়াহুদীগণ সন্ধির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করিবার জন্য কিনানা ইব্ন আবিল হুকায়ক-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রেরণ করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে এই শর্তে মৃত্যুদণ্ড হইতে নিষ্কৃতি দিলেন যে, তাহারা খায়বার অঞ্চল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতিয়ার ও যুদ্ধাস্ত্র এই স্থানে রাখিয়া যাইবে। কোন জিনিস গোপন করিবে না। যদি এই শর্ত লঙ্ঘন করা হয় তাহা হইলে তাহাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের কোন দায়দায়িত্ব থাকিবে না। ইয়াহুদীগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হইবার পরও নিজেদের অপকর্ম হইতে বিরত থাকিল না।