📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর শাহাদাত

📄 মাহমূদ ইবন মাসলামা (রা)-এর শাহাদাত


এই সময় প্রচণ্ড গরম ছিল। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার ভ্রাতা মাহমূদ ইবন মাসলামা গরমের প্রচণ্ডতায় এবং ভারী অস্ত্র বহনের ফলে ক্লান্ত হইয়া পড়েন। তিনি নাঈম দুর্গের প্রাচীরের পাদদেশে নির্জন ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণের জন্য শয়ন করেন। কিন্তু কিনানা ইবন হুকায়ক অথবা মারহাব টের পাইয়া দুর্গের প্রাচীরের উপর হইতে বিরাট একটি পাথর নিক্ষেপ করে। উহার ফলে তাহার মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যায় এবং তিনি শাহাদাত লাভ করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৭-৮৮)।

এই সময় প্রচণ্ড গরম ছিল। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার ভ্রাতা মাহমূদ ইবন মাসলামা গরমের প্রচণ্ডতায় এবং ভারী অস্ত্র বহনের ফলে ক্লান্ত হইয়া পড়েন। তিনি নাঈম দুর্গের প্রাচীরের পাদদেশে নির্জন ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণের জন্য শয়ন করেন। কিন্তু কিনানা ইবন হুকায়ক অথবা মারহাব টের পাইয়া দুর্গের প্রাচীরের উপর হইতে বিরাট একটি পাথর নিক্ষেপ করে। উহার ফলে তাহার মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যায় এবং তিনি শাহাদাত লাভ করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৭-৮৮)।

এই সময় প্রচণ্ড গরম ছিল। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার ভ্রাতা মাহমূদ ইবন মাসলামা গরমের প্রচণ্ডতায় এবং ভারী অস্ত্র বহনের ফলে ক্লান্ত হইয়া পড়েন। তিনি নাঈম দুর্গের প্রাচীরের পাদদেশে নির্জন ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণের জন্য শয়ন করেন। কিন্তু কিনানা ইবন হুকায়ক অথবা মারহাব টের পাইয়া দুর্গের প্রাচীরের উপর হইতে বিরাট একটি পাথর নিক্ষেপ করে। উহার ফলে তাহার মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যায় এবং তিনি শাহাদাত লাভ করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৭-৮৮)।

এই সময় প্রচণ্ড গরম ছিল। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার ভ্রাতা মাহমূদ ইবন মাসলামা গরমের প্রচণ্ডতায় এবং ভারী অস্ত্র বহনের ফলে ক্লান্ত হইয়া পড়েন। তিনি নাঈম দুর্গের প্রাচীরের পাদদেশে নির্জন ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণের জন্য শয়ন করেন। কিন্তু কিনানা ইবন হুকায়ক অথবা মারহাব টের পাইয়া দুর্গের প্রাচীরের উপর হইতে বিরাট একটি পাথর নিক্ষেপ করে। উহার ফলে তাহার মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যায় এবং তিনি শাহাদাত লাভ করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৭-৮৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খেজুর বৃক্ষ কর্তনের অনুমতি প্রত্যাহার

📄 খেজুর বৃক্ষ কর্তনের অনুমতি প্রত্যাহার


হুবাব আল-মুনযির (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আবেদন করিলেন, “খেজুর বৃক্ষ ইয়াহূদীগণের নিকট নিজেদের সন্তানদের চেয়ে অধিক প্রিয়। হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি আপনি আদেশ করেন তাহা হইলে বৃক্ষরাজি কাটিয়া ফেলি। উহার ফলে উহাদিগের জ্বালা তীব্রতর হইতে থাকিবে।” অতঃপর কিছু সংখ্যক সাহাবী কর্তন কাজ শুরু করিলেন। কোমল হৃদয়ের সাহাবী আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) এই অবস্থা দেখিয়া আবেদন করিলেন, "হে আল্লাহ্র রাসূল! মহান আল্লাহ আপনাকে খায়বার বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। এই প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হইবে। সুতরাং এই বৃক্ষরাজি কর্তনে লাভ কি? আদেশ হইলে ঐ কর্তনকাজ হইতে হস্তগুলিকে বারণ করা হইবে এবং উহা একটি শুভ কাজ হইবে।" রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: ঠিক আছে, নিষেধ কর। সীরাতবিদগণ বলেন, আনুমানিক চার শত বৃক্ষ কাটিয়া ফেলা হইয়াছিল। নাতা ব্যতীত অন্য কোথায়ও এই বৃক্ষ কর্তন কাজ অনুষ্ঠিত হয় নাই।

হুবাব আল-মুনযির (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আবেদন করিলেন, “খেজুর বৃক্ষ ইয়াহূদীগণের নিকট নিজেদের সন্তানদের চেয়ে অধিক প্রিয়। হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি আপনি আদেশ করেন তাহা হইলে বৃক্ষরাজি কাটিয়া ফেলি। উহার ফলে উহাদিগের জ্বালা তীব্রতর হইতে থাকিবে।” অতঃপর কিছু সংখ্যক সাহাবী কর্তন কাজ শুরু করিলেন। কোমল হৃদয়ের সাহাবী আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) এই অবস্থা দেখিয়া আবেদন করিলেন, "হে আল্লাহ্র রাসূল! মহান আল্লাহ আপনাকে খায়বার বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। এই প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হইবে। সুতরাং এই বৃক্ষরাজি কর্তনে লাভ কি? আদেশ হইলে ঐ কর্তনকাজ হইতে হস্তগুলিকে বারণ করা হইবে এবং উহা একটি শুভ কাজ হইবে।" রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: ঠিক আছে, নিষেধ কর। সীরাতবিদগণ বলেন, আনুমানিক চার শত বৃক্ষ কাটিয়া ফেলা হইয়াছিল। নাতা ব্যতীত অন্য কোথায়ও এই বৃক্ষ কর্তন কাজ অনুষ্ঠিত হয় নাই।

হুবাব আল-মুনযির (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আবেদন করিলেন, “খেজুর বৃক্ষ ইয়াহূদীগণের নিকট নিজেদের সন্তানদের চেয়ে অধিক প্রিয়। হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি আপনি আদেশ করেন তাহা হইলে বৃক্ষরাজি কাটিয়া ফেলি। উহার ফলে উহাদিগের জ্বালা তীব্রতর হইতে থাকিবে।” অতঃপর কিছু সংখ্যক সাহাবী কর্তন কাজ শুরু করিলেন। কোমল হৃদয়ের সাহাবী আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) এই অবস্থা দেখিয়া আবেদন করিলেন, "হে আল্লাহ্র রাসূল! মহান আল্লাহ আপনাকে খায়বার বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। এই প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হইবে। সুতরাং এই বৃক্ষরাজি কর্তনে লাভ কি? আদেশ হইলে ঐ কর্তনকাজ হইতে হস্তগুলিকে বারণ করা হইবে এবং উহা একটি শুভ কাজ হইবে।" রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: ঠিক আছে, নিষেধ কর। সীরাতবিদগণ বলেন, আনুমানিক চার শত বৃক্ষ কাটিয়া ফেলা হইয়াছিল। নাতা ব্যতীত অন্য কোথায়ও এই বৃক্ষ কর্তন কাজ অনুষ্ঠিত হয় নাই।

হুবাব আল-মুনযির (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আবেদন করিলেন, “খেজুর বৃক্ষ ইয়াহূদীগণের নিকট নিজেদের সন্তানদের চেয়ে অধিক প্রিয়। হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি আপনি আদেশ করেন তাহা হইলে বৃক্ষরাজি কাটিয়া ফেলি। উহার ফলে উহাদিগের জ্বালা তীব্রতর হইতে থাকিবে।” অতঃপর কিছু সংখ্যক সাহাবী কর্তন কাজ শুরু করিলেন। কোমল হৃদয়ের সাহাবী আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) এই অবস্থা দেখিয়া আবেদন করিলেন, "হে আল্লাহ্র রাসূল! মহান আল্লাহ আপনাকে খায়বার বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। এই প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হইবে। সুতরাং এই বৃক্ষরাজি কর্তনে লাভ কি? আদেশ হইলে ঐ কর্তনকাজ হইতে হস্তগুলিকে বারণ করা হইবে এবং উহা একটি শুভ কাজ হইবে।" রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: ঠিক আছে, নিষেধ কর। সীরাতবিদগণ বলেন, আনুমানিক চার শত বৃক্ষ কাটিয়া ফেলা হইয়াছিল। নাতা ব্যতীত অন্য কোথায়ও এই বৃক্ষ কর্তন কাজ অনুষ্ঠিত হয় নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাবশী রাখাল

📄 হাবশী রাখাল


কৃষ্ণকায় এক রাখালের ঘটনা সহীহ হাদীছসমূহে উদ্ধৃত হইয়াছে। ঘটনাটি এই দুর্গ বিজয়ের সময় সংঘটিত হয়। ইয়াহুদীগণ যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে তখন সে জিজ্ঞাসা করে, উহা কি ব্যাপার! তাহারা জবাব দেয়, ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করিব যে নিজকে আল্লাহ্ নবী বলিয়া দাবি করে। ইহা শুনিবামাত্র তাহার হৃদয়ে ইসলামের জযবা সৃষ্টি হয়। সে তাহার সকল বকরীসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট চলিয়া আসে এবং প্রশ্ন করে, আপনি কি বলেন এবং দাওয়াত দেন? তিনি জওয়াব দিলেন: আমি দীন ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানাই এবং এই দাওয়াত দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কাহারও দাসত্ব করিও না এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। সে বলিল, আমি যদি আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করি এবং আপনার নবুওয়াত স্বীকার করি তাহা হইলে কি হইবে এবং ঐসব বকরী যাহা আমার নিকট আমানত রাখা হইয়াছে আমি ঐগুলি কি করিব? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: দুর্গের নিকটবর্তী হইয়া সকল বকরীকে তাড়া কর এবং ঢিল নিক্ষেপ কর যাহাতে সকল বকরী নিজ নিজ মালিকের নিকট চলিয়া যায়।
অন্য একট বর্ণনায় রহিয়াছে যে, সে বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন কৃষ্ণকায় ব্যক্তি, আমার চেহারা কুৎসিত, শরীর হইতে দুর্গন্ধ বাহির হয় এবং আমর নিকট কোন সম্পদও নাই। এই অবস্থায় আমি যদি আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করিয়া নিহত হই তাহা হইলে কি আমি জান্নাত পাইব? রাসূলুল্লাহ (স) জওয়াব দিলেন, হাঁ, জান্নাত পাইবে। তারপর সে যুদ্ধ করে এবং শাহাদত লাভ করে। তাহার লাশ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট নীত হইলে তিনি বলিলেন, আল্লাহ তাহার চেহারা উজ্জ্বল করিয়া দিয়াছেন, তাহার শরীর সুগন্ধযুক্ত করিয়াছেন এবং সে জান্নাতের দুইজন হুর প্রাপ্ত হইয়াছে। সে আল্লাহ্র পথে জিহাদ ব্যতীত আর কোন আমল করে নাই, এক ওয়াক্ত সালাতও আদায় করে নাই, কিন্তু ঈমান এবং সত্যবাদিতার ফলে সে এই মর্যাদা প্রাপ্ত হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৮)।

কৃষ্ণকায় এক রাখালের ঘটনা সহীহ হাদীছসমূহে উদ্ধৃত হইয়াছে। ঘটনাটি এই দুর্গ বিজয়ের সময় সংঘটিত হয়। ইয়াহুদীগণ যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে তখন সে জিজ্ঞাসা করে, উহা কি ব্যাপার! তাহারা জবাব দেয়, ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করিব যে নিজকে আল্লাহ্ নবী বলিয়া দাবি করে। ইহা শুনিবামাত্র তাহার হৃদয়ে ইসলামের জযবা সৃষ্টি হয়। সে তাহার সকল বকরীসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট চলিয়া আসে এবং প্রশ্ন করে, আপনি কি বলেন এবং দাওয়াত দেন? তিনি জওয়াব দিলেন: আমি দীন ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানাই এবং এই দাওয়াত দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কাহারও দাসত্ব করিও না এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। সে বলিল, আমি যদি আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করি এবং আপনার নবুওয়াত স্বীকার করি তাহা হইলে কি হইবে এবং ঐসব বকরী যাহা আমার নিকট আমানত রাখা হইয়াছে আমি ঐগুলি কি করিব? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: দুর্গের নিকটবর্তী হইয়া সকল বকরীকে তাড়া কর এবং ঢিল নিক্ষেপ কর যাহাতে সকল বকরী নিজ নিজ মালিকের নিকট চলিয়া যায়।
অন্য একট বর্ণনায় রহিয়াছে যে, সে বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন কৃষ্ণকায় ব্যক্তি, আমার চেহারা কুৎসিত, শরীর হইতে দুর্গন্ধ বাহির হয় এবং আমর নিকট কোন সম্পদও নাই। এই অবস্থায় আমি যদি আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করিয়া নিহত হই তাহা হইলে কি আমি জান্নাত পাইব? রাসূলুল্লাহ (স) জওয়াব দিলেন, হাঁ, জান্নাত পাইব। তারপর সে যুদ্ধ করে এবং শাহাদত লাভ করে। তাহার লাশ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট নীত হইলে তিনি বলিলেন, আল্লাহ তাহার চেহারা উজ্জ্বল করিয়া দিয়াছেন, তাহার শরীর সুগন্ধযুক্ত করিয়াছেন এবং সে জান্নাতের দুইজন হুর প্রাপ্ত হইয়াছে। সে আল্লাহ্র পথে জিহাদ ব্যতীত আর কোন আমল করে নাই, এক ওয়াক্ত সালাতও আদায় করে নাই, কিন্তু ঈমান এবং সত্যবাদিতার ফলে সে এই মর্যাদা প্রাপ্ত হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৮)।

কৃষ্ণকায় এক রাখালের ঘটনা সহীহ হাদীছসমূহে উদ্ধৃত হইয়াছে। ঘটনাটি এই দুর্গ বিজয়ের সময় সংঘটিত হয়। ইয়াহুদীগণ যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে তখন সে জিজ্ঞাসা করে, উহা কি ব্যাপার! তাহারা জবাব দেয়, ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করিব যে নিজকে আল্লাহ্ নবী বলিয়া দাবি করে। ইহা শুনিবামাত্র তাহার হৃদয়ে ইসলামের জযবা সৃষ্টি হয়। সে তাহার সকল বকরীসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট চলিয়া আসে এবং প্রশ্ন করে, আপনি কি বলেন এবং দাওয়াত দেন? তিনি জওয়াব দিলেন: আমি দীন ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানাই এবং এই দাওয়াত দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কাহারও দাসত্ব করিও না এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। সে বলিল, আমি যদি আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করি এবং আপনার নবুওয়াত স্বীকার করি তাহা হইলে কি হইবে এবং ঐসব বকরী যাহা আমার নিকট আমানত রাখা হইয়াছে আমি ঐগুলি কি করিব? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: দুর্গের নিকটবর্তী হইয়া সকল বকরীকে তাড়া কর এবং ঢিল নিক্ষেপ কর যাহাতে সকল বকরী নিজ নিজ মালিকের নিকট চলিয়া যায়।
অন্য একট বর্ণনায় রহিয়াছে যে, সে বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন কৃষ্ণকায় ব্যক্তি, আমার চেহারা কুৎসিত, শরীর হইতে দুর্গন্ধ বাহির হয় এবং আমর নিকট কোন সম্পদও নাই। এই অবস্থায় আমি যদি আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করিয়া নিহত হইয়া তাহা হইলে কি আমি জান্নাত পাইব? রাসূলুল্লাহ (স) জওয়াব দিলেন, হাঁ, জান্নাত পাইব। তারপর সে যুদ্ধ করে এবং শাহাদত লাভ করে। তাহার লাশ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট নীত হইলে তিনি বলিলেন, আল্লাহ তাহার চেহারা উজ্জ্বল করিয়া দিয়াছেন, তাহার শরীর সুগন্ধযুক্ত করিয়াছেন এবং সে জান্নাতের দুইজন হুর প্রাপ্ত হইয়াছে। সে আল্লাহ্র পথে জিহাদ ব্যতীত আর কোন আমল করে নাই, এক ওয়াক্ত সালাতও আদায় করে নাই, কিন্তু ঈমান এবং সত্যবাদিতার ফলে সে এই মর্যাদা প্রাপ্ত হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৮)।

কৃষ্ণকায় এক রাখালের ঘটনা সহীহ হাদীছসমূহে উদ্ধৃত হইয়াছে। ঘটনাটি এই দুর্গ বিজয়ের সময় সংঘটিত হয়। ইয়াহুদীগণ যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে তখন সে জিজ্ঞাসা করে, উহা কি ব্যাপার! তাহারা জবাব দেয়, ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করিব যে নিজকে আল্লাহ্ নবী বলিয়া দাবি করে। ইহা শুনিবামাত্র তাহার হৃদয়ে ইসলামের জযবা সৃষ্টি হয়। সে তাহার সকল বকরীসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট চলিয়া আসে এবং প্রশ্ন করে, আপনি কি বলেন এবং দাওয়াত দেন? তিনি জওয়াব দিলেন: আমি দীন ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানাই এবং এই দাওয়াত দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কাহারও দাসত্ব করিও না এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। সে বলিল, আমি যদি আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করি এবং আপনার নবুওয়াত স্বীকার করি তাহা হইলে কি হইবে এবং ঐসব বকরী যাহা আমার নিকট আমানত রাখা হইয়াছে আমি ঐগুলি কি করিব? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: দুর্গের নিকটবর্তী হইয়া সকল বকরীকে তাড়া কর এবং ঢিল নিক্ষেপ কর যাহাতে সকল বকরী নিজ নিজ মালিকের নিকট চলিয়া যায়।
অন্য একট বর্ণনায় রহিয়াছে যে, সে বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন কৃষ্ণকায় ব্যক্তি, আমার চেহারা কুৎসিত, শরীর হইতে দুর্গন্ধ বাহির হয় এবং আমর নিকট কোন সম্পদও নাই। এই অবস্থায় আমি যদি আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করিয়া নিহত হই তাহা হইলে কি আমি জান্নাত পাইব? রাসূলুল্লাহ (স) জওয়াব দিলেন, হাঁ, জান্নাত পাইব। তারপর সে যুদ্ধ করে এবং শাহাদত লাভ করে। তাহার লাশ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট নীত হইলে তিনি বলিলেন, আল্লাহ তাহার চেহারা উজ্জ্বল করিয়া দিয়াছেন, তাহার শরীর সুগন্ধযুক্ত করিয়াছেন এবং সে জান্নাতের দুইজন হুর প্রাপ্ত হইয়াছে। সে আল্লাহ্র পথে জিহাদ ব্যতীত আর কোন আমল করে নাই, এক ওয়াক্ত সালাতও আদায় করে নাই, কিন্তু ঈমান এবং সত্যবাদিতার ফলে সে এই মর্যাদা প্রাপ্ত হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জনৈক ইয়াহুদীর ইসলাম গ্রহণ

📄 জনৈক ইয়াহুদীর ইসলাম গ্রহণ


এক রাত্রিতে 'উমার ইবনু'ল-খাত্তাব (রা) সৈন্যবাহিনীর নিরাপত্তামূলক পাহারায় রত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) এইভাবে প্রতি রাত্রে মুসলিম বহিনীর প্রহরায় কোনও এক সাহাবীকে নিয়োজিত রাখিতেন। ঐ রাত্রে মুসলমানগণ এক ইয়াহুদীকে পাকড়াও করিয়া উমার (রা)-এর নিকট লইয়া আসিলেন। তিনি তাহাকে হত্যা করিবার আদেশ দিলেন। ইয়াহুদী ঐ সময় বলিল, আমাকে তোমাদের নবীর কাছে লইয়া চল। তাঁহার সহিত আমার একটি কথা আছে। 'উমার (রা) তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌঁছাইয়া দিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিল, "আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, হে আবুল কাসিম! তাহা হইলে আমি আপনার কাছে তথ্য উপস্থাপন করিব।" রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে নিরাপত্তা দান করিলেন। ইয়াহুদী বলিল, খায়বারবাসিগণ মুসলিম বাহিনীর ভয়ে খুবই সন্ত্রস্ত। বিশেষত আজিকার যুদ্ধের জন্য ইহারা খুবই ভয়-ভীতি বিহ্বল। তাহারা আজ রাত্রে শিক্ দুর্গে স্থানান্তরিত হইতে চায়। যুদ্ধাস্ত্র ও খাদ্য-পানীয় একটি গোপন স্থানে তাহারা লুকাইয়া রাখিয়াছে। আমি ঐ স্থানটি চিনি। আগামী কল্য যখন এই দুর্গ বিজিত হইবে তখন আমি আপনার অনুগত লোকদিগকে তাহা দেখাইয়া দিব।
রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন : ইনশাআল্লাহ তোমাকে নিরাপত্তা দেওয়া হইল। ইয়াহুদী বলিল, আমার পরিবার-পরিজন ঐ দুর্গে অবস্থানরত, ইহাদিগকেও ক্ষমা করিয়া দিন। রাসূলুল্লাহ (স) উহাদিগকেও ক্ষমা করিয়া দিলেন। পরবর্তী দিন নাতা অঞ্চল বিজিত হইল এবং ইহার দুর্গও বিজিত হইল। ইয়াহুদীটি নিজ পরিবার-পরিজনসহ ঈমান আনিল (মাদারিজুন নুবৃওয়া, উরদু অনুবাদ, ২খ., পৃ. ৪০৮)।

এক রাত্রিতে 'উমার ইবনু'ল-খাত্তাব (রা) সৈন্যবাহিনীর নিরাপত্তামূলক পাহারায় রত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) এইভাবে প্রতি রাত্রে মুসলিম বহিনীর প্রহরায় কোনও এক সাহাবীকে নিয়োজিত রাখিতেন। ঐ রাত্রে মুসলমানগণ এক ইয়াহুদীকে পাকড়াও করিয়া উমার (রা)-এর নিকট লইয়া আসিলেন। তিনি তাহাকে হত্যা করিবার আদেশ দিলেন। ইয়াহুদী ঐ সময় বলিল, আমাকে তোমাদের নবীর কাছে লইয়া চল। তাঁহার সহিত আমার একটি কথা আছে। 'উমার (রা) তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌঁছাইয়া দিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিল, "আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, হে আবুল কাসিম! তাহা হইলে আমি আপনার কাছে তথ্য উপস্থাপন করিব। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে নিরাপত্তা দান করিলেন। ইয়াহুদী বলিল, খায়বারবাসিগণ মুসলিম বাহিনীর ভয়ে খুবই সন্ত্রস্ত। বিশেষত আজিকার যুদ্ধের জন্য ইহারা খুবই ভয়-ভীতি বিহ্বল। তাহারা আজ রাত্রে শিক্ দুর্গে স্থানান্তরিত হইতে চায়। যুদ্ধাস্ত্র ও খাদ্য-পানীয় একটি গোপন স্থানে তাহারা লুকাইয়া রাখিয়াছে। আমি ঐ স্থানটি চিনি। আগামী কল্য যখন এই দুর্গ বিজিত হইবে তখন আমি আপনার অনুগত লোকদিগকে তাহা দেখাইয়া দিব।
রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন : ইনশাআল্লাহ তোমাকে নিরাপত্তা দেওয়া হইল। ইয়াহুদী বলিল, আমার পরিবার-পরিজন ঐ দুর্গে অবস্থানরত, ইহাদিগকেও ক্ষমা করিয়া দিন। রাসূলুল্লাহ (স) উহাদিগকেও ক্ষমা করিয়া দিলেন। পরবর্তী দিন নাতা অঞ্চল বিজিত হইল এবং ইহার দুর্গও বিজিত হইল। ইয়াহুদীটি নিজ পরিবার-পরিজনসহ ঈমান আনিল (মাদারিজুন নুবৃওয়া, উরদু অনুবাদ, ২খ., পৃ. ৪০৮)।

এক রাত্রিতে 'উমার ইবনু'ল-খাত্তাব (রা) সৈন্যবাহিনীর নিরাপত্তামূলক পাহারায় রত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) এইভাবে প্রতি রাত্রে মুসলিম বহিনীর প্রহরায় কোনও এক সাহাবীকে নিয়োজিত রাখিতেন। ঐ রাত্রে মুসলমানগণ এক ইয়াহুদীকে পাকড়াও করিয়া উমার (রা)-এর নিকট লইয়া আসিলেন। তিনি তাহাকে হত্যা করিবার আদেশ দিলেন। ইয়াহুদী ঐ সময় বলিল, আমাকে তোমাদের নবীর কাছে লইয়া চল। তাঁহার সহিত আমার একটি কথা আছে। 'উমার (রা) তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌঁছাইয়া দিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিল, "আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, হে আবুল কাসিম! তাহা হইলে আমি আপনার কাছে তথ্য উপস্থাপন করিব। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে নিরাপত্তা দান করিলেন। ইয়াহুদী বলিল, খায়বারবাসিগণ মুসলিম বাহিনীর ভয়ে খুবই সন্ত্রস্ত। বিশেষত আজিকার যুদ্ধের জন্য ইহারা খুবই ভয়-ভীতি বিহ্বল। তাহারা আজ রাত্রে শিক্ দুর্গে স্থানান্তরিত হইতে চায়। যুদ্ধাস্ত্র ও খাদ্য-পানীয় একটি গোপন স্থানে তাহারা লুকাইয়া রাখিয়াছে। আমি ঐ স্থানটি চিনি। আগামী কল্য যখন এই দুর্গ বিজিত হইবে তখন আমি আপনার অনুগত লোকদিগকে তাহা দেখাইয়া দিব।
রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন : ইনশাআল্লাহ তোমাকে নিরাপত্তা দেওয়া হইল। ইয়াহুদী বলিল, আমার পরিবার-পরিজন ঐ দুর্গে অবস্থানরত, ইহাদিগকেও ক্ষমা করিয়া দিন। রাসূলুল্লাহ (স) উহাদিগকেও ক্ষমা করিয়া দিলেন। পরবর্তী দিন নাতা অঞ্চল বিজিত হইল এবং ইহার দুর্গও বিজিত হইল। ইয়াহুদীটি নিজ পরিবার-পরিজনসহ ঈমান আনিল (মাদারিজুন নুবৃওয়া, উরদু অনুবাদ, ২খ., পৃ. ৪০৮)।

এক রাত্রিতে 'উমার ইবনু'ল-খাত্তাব (রা) সৈন্যবাহিনীর নিরাপত্তামূলক পাহারায় রত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) এইভাবে প্রতি রাত্রে মুসলিম বহিনীর প্রহরায় কোনও এক সাহাবীকে নিয়োজিত রাখিতেন। ঐ রাত্রে মুসলমানগণ এক ইয়াহুদীকে পাকড়াও করিয়া উমার (রা)-এর নিকট লইয়া আসিলেন। তিনি তাহাকে হত্যা করিবার আদেশ দিলেন। ইয়াহুদী ঐ সময় বলিল, আমাকে তোমাদের নবীর কাছে লইয়া চল। তাঁহার সহিত আমার একটি কথা আছে। 'উমার (রা) তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌঁছাইয়া দিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিল, "আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, হে আবুল কাসিম! তাহা হইলে আমি আপনার কাছে তথ্য উপস্থাপন করিব। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে নিরাপত্তা দান করিলেন। ইয়াহুদী বলিল, খায়বারবাসিগণ মুসলিম বাহিনীর ভয়ে খুবই সন্ত্রস্ত। বিশেষত আজিকার যুদ্ধের জন্য ইহারা খুবই ভয়-ভীতি বিহ্বল। তাহারা আজ রাত্রে শিক্ দুর্গে স্থানান্তরিত হইতে চায়। যুদ্ধাস্ত্র ও খাদ্য-পানীয় একটি গোপন স্থানে তাহারা লুকাইয়া রাখিয়াছে। আমি ঐ স্থানটি চিনি। আগামী কল্য যখন এই দুর্গ বিজিত হইবে তখন আমি আপনার অনুগত লোকদিগকে তাহা দেখাইয়া দিব।
রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন : ইনশাআল্লাহ তোমাকে নিরাপত্তা দেওয়া হইল। ইয়াহুদী বলিল, আমার পরিবার-পরিজন ঐ দুর্গে অবস্থানরত, ইহাদিগকেও ক্ষমা করিয়া দিন। রাসূলুল্লাহ (স) উহাদিগকেও ক্ষমা করিয়া দিলেন। পরবর্তী দিন নাতা অঞ্চল বিজিত হইল এবং ইহার দুর্গও বিজিত হইল। ইয়াহুদীটি নিজ পরিবার-পরিজনসহ ঈমান আনিল (মাদারিজুন নুবৃওয়া, উরদু অনুবাদ, ২খ., পৃ. ৪০৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00