📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মদীনা হইতে যাত্রা

📄 মদীনা হইতে যাত্রা


যাত্রাকালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় নুমায়লা ইবন 'আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করেন, অতঃপর 'আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা)-এর হাতে যুদ্ধের পতাকা হস্তান্তর করেন। পতাকাটি ছিল শ্বেত বর্ণের (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়‍্যা, ৩খ., পৃ. ২২৪)। ভিন্নমতে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫; মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদ: গোলাম মুঈনুদ্দীন ২খ., পৃ. ৪০১; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৩)। ইব্‌ন হাজার আল-আসকালানী বলেন, সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিয়োগ করার অভিমত অধিকতর শুদ্ধ ও ইহাই প্রসিদ্ধ (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৫)। এই ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (র) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ উল্লেখযোগ্য। 'ইরাক ইবন মালিক (রা) বলেনঃ নবী (স) যখন খায়বারে ছিলেন, তখন আবূ হুরায়রা (রা) তাঁহার গোত্রীয় একদল লোকের সহিত মদীনা আগমন করিলেন। এই সময় সিবা ইব্‌ন উরফুতা আল-গাতাফানী (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হইয়াছিল। আবূ হুরায়রা (রা) সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে ফজরের সালাত আদায়রত পাইলেন। তিনি প্রথম রাক'আতে কাফ-হা ইয়া 'আয়ন-সা'দ (كهيعص) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে ওয়ায়লুল্লিল মুতাফফিফীন (وَيْلٌ لِّلْمُطفّفين) পড়িতেছিলেন। তাঁহার এই কিরাআত শুনিয়া আবূ হুরায়রা (রা) মনে মনে বলিলেন, অমুক ব্যক্তির সর্বনাশ হউক! তাহার দুইটি মাপযন্ত্র রহিয়াছে। সে যখন নিজের জন্য মাপে তখন পুরাপুরি গ্রহণ করে আর অন্যকে মাপিয়া দিবার সময় কম দেয়। সালাত সমাপ্ত করার পর তিনি সিবা ইন্ন উরফুতা (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গমন করিলেন এবং মুসলমানগণের সহিত কথা বলিলেন। মুসলমানগণ তাঁহাকে তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অংশীদার করিয়া লইলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়্যা, ২/৪খ., পৃ. ১৮৩; যাদুল মা'আদ, ১/২খ., পৃ. ১৩৩)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বার শত মুসলিম পদাতিক বাহিনী এবং দুই শত, মতান্তরে তিন শত অশ্বারোহী ছিলেন। তাহাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক উটও ছিল। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রা)-ও এই যুদ্ধে রাসূলুল্লহ (স)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন। উমায়মা বিন্‌ত-সালত গিফারিয়‍্যা বানু গিফারের কয়েকজন মহিলাসহ সঙ্গে ছিলেন। তাহাদের কাজ ছিল পীড়িতদের সেবা করা। অন্য গোত্রের কিছু মহিলাও এই সেবিকা দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) বলেন, আমরা রাত্রিকালে পথ অতিক্রম করিতেছিলাম আর আমার চাচা আমর ইবনুল আকওয়া (রা) এবং কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী আমার ভ্রাতা আমের নিম্নোক্ত কৃবিতার চরণগুলি পুন পুন আবৃত্তি করিতে থাকেন:
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا + وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَاغْفِرْ فِدَا لَكَ مَا أَبْقَيْنَا + وَلَقِّنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا + إِنَّا إِذَا صِيحَ بِنَا تَيْنَا وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا + وَبِالصِّيَاحِ عَوْلُوا عَلَيْنَا .
"হে আল্লাহ! যদি তোমার আশীষ না হইত তাহা হইলে আমরা সৎপথের দিশা পাইতাম না; না আমরা সাদাকা (যাকাত) আদায় করিতাম, না সালাত আদায় করিতাম। অতএব, হে মহান প্রভু! তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমরা ভূপৃষ্ঠে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তোমার জন্য কুরবান। তুমি আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ কর, শত্রুদের মুকাবিলায় আমাদের দৃঢ়পদ রাখ, আর যখন শত্রুরা মুকাবিলার জন্য আহ্বান করিবে তখন যেন আমরা অগ্রসর হইতে পারি, তাহাদিগের আহ্বানের সময় আমরা নিজেদের উপর আস্থাশীল হইতে পারি, আমাদিগকে ফেতনায় জড়াইতে চাহিলে যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করিতে পারি"।
এই কবিতাগুচ্ছের রচয়িতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) খোদ এই কবিতার ছন্দ মিলাইয়া খনদকের যুদ্ধে আবৃত্তি করিয়াছেন। আমের (রা)-এর কণ্ঠ ছিল খুবই সুমধুর। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইনি কে? লোকজন উত্তর দিল, আমের ইবনুল আকওয়া (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আল্লাহ তাহার উপর রহম করুন কিম্বা আল্লাহ তাহাকে ক্ষমা করুন। সাহাবীগণের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল যে, যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও এই দু'আ করিলে তিনি শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করিতেন। এই কারণে উমার ইবনুল খাত্তাব কিংবা অন্য কোন সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! তাঁহার শাহাদাত অবধারিত হইয়া গিয়াছে। আহ! যদি তিনি আরও কিছু দিন বাঁচিয়া থাকিতেন এবং আমাদেরকে তাহার সুমধুর সুরে কাব্যগাঁথা শুনাইতেন তাহা হইলে উপকৃত হইতে পারিতাম। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের নিকটবর্তী আস-সাহবা নামক স্থানে উপনীত হইলেন তখন আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আহার গ্রহণ করেন। খাদ্য হিসাবে ছিল শুধু ছাতু। রাসূলুল্লাহ (স) ও সকল সাহাবী উহাই আহার করেন। তাহার পরে সকলে কুলি করিয়া মাগরিবের সালাত আদায় করেন, কেহই (আহার গ্রহণ জনিত কারণে) উযু করেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫,১৮৬; যাদুল মা'আদ, ১/২ খ., পৃ. ১৩৩)।

যাত্রাকালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় নুমায়লা ইবন 'আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করেন, অতঃপর 'আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা)-এর হাতে যুদ্ধের পতাকা হস্তান্তর করেন। পতাকাটি ছিল শ্বেত বর্ণের (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২২৪)। ভিন্নমতে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫; মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদ: গোলাম মুঈনুদ্দীন ২খ., পৃ. ৪০১; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৩)। ইব্‌ন হাজার আল-আসকালানী বলেন, সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিয়োগ করার অভিমত অধিকতর শুদ্ধ ও ইহাই প্রসিদ্ধ (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৫)। এই ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (র) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ উল্লেখযোগ্য। 'ইরাক ইবন মালিক (রা) বলেনঃ নবী (স) যখন খায়বারে ছিলেন, তখন আবূ হুরায়রা (রা) তাঁহার গোত্রীয় একদল লোকের সহিত মদীনা আগমন করিলেন। এই সময় সিবা ইব্‌ন উরফুতা আল-গাতাফানী (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হইয়াছিল। আবূ হুরায়রা (রা) সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে ফজরের সালাত আদায়রত পাইলেন। তিনি প্রথম রাক'আতে কাফ-হা ইয়া 'আয়ন-সা'দ (كهيعص) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে ওয়ায়লুল্লিল মুতাফফিফীন (وَيْلٌ لِّلْمُطفّفين) পড়িতেছিলেন। তাঁহার এই কিরাআত শুনিয়া আবূ হুরায়রা (রা) মনে মনে বলিলেন, অমুক ব্যক্তির সর্বনাশ হউক! তাহার দুইটি মাপযন্ত্র রহিয়াছে। সে যখন নিজের জন্য মাপে তখন পুরাপুরি গ্রহণ করে আর অন্যকে মাপিয়া দিবার সময় কম দেয়। সালাত সমাপ্ত করার পর তিনি সিবা ইন্ন উরফুতা (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গমন করিলেন এবং মুসলমানগণের সহিত কথা বলিলেন। মুসলমানগণ তাঁহাকে তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অংশীদার করিয়া লইলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৮৩; যাদুল মা'আদ, ১/২খ., পৃ. ১৩৩)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বার শত মুসলিম পদাতিক বাহিনী এবং দুই শত, মতান্তরে তিন শত অশ্বারোহী ছিলেন। তাহাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক উটও ছিল। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রা)-ও এই যুদ্ধে রাসূলুল্লহ (স)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন। উমায়মা বিন্‌ত-সালত গিফারিয়‍্যা বানু গিফারের কয়েকজন মহিলাসহ সঙ্গে ছিলেন। তাহাদের কাজ ছিল পীড়িতদের সেবা করা। অন্য গোত্রের কিছু মহিলাও এই সেবিকা দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) বলেন, আমরা রাত্রিকালে পথ অতিক্রম করিতেছিলাম আর আমার চাচা আমর ইবনুল আকওয়া (রা) এবং কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী আমার ভ্রাতা আমের নিম্নোক্ত কৃবিতার চরণগুলি পুন পুন আবৃত্তি করিতে থাকেন:
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا + وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَاغْفِرْ فِدَا لَكَ مَا أَبْقَيْنَا + وَلَقِّنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا + إِنَّا إِذَا صِيحَ بِنَا تَيْنَا وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا + وَبِالصِّيَاحِ عَوْلُوا عَلَيْنَا .
"হে আল্লাহ! যদি তোমার আশীষ না হইত তাহা হইলে আমরা সৎপথের দিশা পাইতাম না; না আমরা সাদাকা (যাকাত) আদায় করিতাম, না সালাত আদায় করিতাম। অতএব, হে মহান প্রভু! তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমরা ভূপৃষ্ঠে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তোমার জন্য কুরবান। তুমি আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ কর, শত্রুদের মুকাবিলায় আমাদের দৃঢ়পদ রাখ, আর যখন শত্রুরা মুকাবিলার জন্য আহ্বান করিবে তখন যেন আমরা অগ্রসর হইতে পারি, তাহাদিগের আহ্বানের সময় আমরা নিজেদের উপর আস্থাশীল হইতে পারি, আমাদিগকে ফেতনায় জড়াইতে চাহিলে যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করিতে পারি"।
এই কবিতাগুচ্ছের রচয়িতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) খোদ এই কবিতার ছন্দ মিলাইয়া খনদকের যুদ্ধে আবৃত্তি করিয়াছেন। আমের (রা)-এর কণ্ঠ ছিল খুবই সুমধুর। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইনি কে? লোকজন উত্তর দিল, আমের ইবনুল আকওয়া (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আল্লাহ তাহার উপর রহম করুন কিম্বা আল্লাহ তাহাকে ক্ষমা করুন। সাহাবীগণের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল যে, যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও এই দু'আ করিলে তিনি শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করিতেন। এই কারণে উমার ইবনুল খাত্তাব কিংবা অন্য কোন সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! তাঁহার শাহাদাত অবধারিত হইয়া গিয়াছে। আহ! যদি তিনি আরও কিছু দিন বাঁচিয়া থাকিতেন এবং আমাদেরকে তাহার সুমধুর সুরে কাব্যগাঁথা শুনাইতেন তাহা হইলে উপকৃত হইতে পারিতাম। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের নিকটবর্তী আস-সাহবা নামক স্থানে উপনীত হইলেন তখন আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আহার গ্রহণ করেন। খাদ্য হিসাবে ছিল শুধু ছাতু। রাসূলুল্লাহ (স) ও সকল সাহাবী উহাই আহার করেন। তাহার পরে সকলে কুলি করিয়া মাগরিবের সালাত আদায় করেন, কেহই (আহার গ্রহণ জনিত কারণে) উযু করেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫,১৮৬; যাদুল মা'আদ, ১/২ খ., পৃ. ১৩৩)।

যাত্রাকালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় নুমায়লা ইবন 'আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করেন, অতঃপর 'আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা)-এর হাতে যুদ্ধের পতাকা হস্তান্তর করেন। পতাকাটি ছিল শ্বেত বর্ণের (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২২৪)। ভিন্নমতে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫; মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদ: গোলাম মুঈনুদ্দীন ২খ., পৃ. ৪০১; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৩)। ইব্‌ন হাজার আল-আসকালানী বলেন, সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিয়োগ করার অভিমত অধিকতর শুদ্ধ ও ইহাই প্রসিদ্ধ (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৫)। এই ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (র) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ উল্লেখযোগ্য। 'ইরাক ইবন মালিক (রা) বলেনঃ নবী (স) যখন খায়বারে ছিলেন, তখন আবূ হুরায়রা (রা) তাঁহার গোত্রীয় একদল লোকের সহিত মদীনা আগমন করিলেন। এই সময় সিবা ইব্‌ন উরফুতা আল-গাতাফানী (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হইয়াছিল। আবূ হুরায়রা (রা) সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে ফজরের সালাত আদায়রত পাইলেন। তিনি প্রথম রাক'আতে কাফ-হা ইয়া 'আয়ন-সা'দ (كهيعص) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে ওয়ায়লুল্লিল মুতাফফিফীন (وَيْلٌ لِّلْمُطفّفين) পড়িতেছিলেন। তাঁহার এই কিরাআত শুনিয়া আবূ হুরায়রা (রা) মনে মনে বলিলেন, অমুক ব্যক্তির সর্বনাশ হউক! তাহার দুইটি মাপযন্ত্র রহিয়াছে। সে যখন নিজের জন্য মাপে তখন পুরাপুরি গ্রহণ করে আর অন্যকে মাপিয়া দিবার সময় কম দেয়। সালাত সমাপ্ত করার পর তিনি সিবা ইন্ন উরফুতা (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট গমন করিলেন এবং মুসলমানগণের সহিত কথা বলিলেন। মুসলমানগণ তাঁহাকে তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অংশীদার করিয়া লইলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৮৩; যাদুল মা'আদ, ১/২খ., পৃ. ১৩৩)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বার শত মুসলিম পদাতিক বাহিনী এবং দুই শত, মতান্তরে তিন শত অশ্বারোহী ছিলেন। তাহাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক উটও ছিল। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রা)-ও এই যুদ্ধে রাসূলুল্লহ (স)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন। উমায়মা বিন্‌ত-সালত গিফারিয়‍্যা বানু গিফারের কয়েকজন মহিলাসহ সঙ্গে ছিলেন। তাহাদের কাজ ছিল পীড়িতদের সেবা করা। অন্য গোত্রের কিছু মহিলাও এই সেবিকা দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) বলেন, আমরা রাত্রিকালে পথ অতিক্রম করিতেছিলাম আর আমার চাচা আমর ইবনুল আকওয়া (রা) এবং কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী আমার ভ্রাতা আমের নিম্নোক্ত কৃবিতার চরণগুলি পুন পুন আবৃত্তি করিতে থাকেন:
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا + وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَاغْفِرْ فِدَا لَكَ مَا أَبْقَيْنَا + وَلَقِّنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا + إِنَّا إِذَا صِيحَ بِنَا تَيْنَا وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا + وَبِالصِّيَاحِ عَوْلُوا عَلَيْنَا .
"হে আল্লাহ! যদি তোমার আশীষ না হইত তাহা হইলে আমরা সৎপথের দিশা পাইতাম না; না আমরা সাদাকা (যাকাত) আদায় করিতাম, না সালাত আদায় করিতাম। অতএব, হে মহান প্রভু! তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমরা ভূপৃষ্ঠে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তোমার জন্য কুরবান। তুমি আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ কর, শত্রুদের মুকাবিলায় আমাদের দৃঢ়পদ রাখ, আর যখন শত্রুরা মুকাবিলার জন্য আহ্বান করিবে তখন যেন আমরা অগ্রসর হইতে পারি, তাহাদিগের আহ্বানের সময় আমরা নিজেদের উপর আস্থাশীল হইতে পারি, আমাদিগকে ফেতনায় জড়াইতে চাহিলে যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করিতে পারি"।
এই কবিতাগুচ্ছের রচয়িতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) খোদ এই কবিতার ছন্দ মিলাইয়া খনদকের যুদ্ধে আবৃত্তি করিয়াছেন। আমের (রা)-এর কণ্ঠ ছিল খুবই সুমধুর। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইনি কে? লোকজন উত্তর দিল, আমের ইবনুল আকওয়া (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আল্লাহ তাহার উপর রহম করুন কিম্বা আল্লাহ তাহাকে ক্ষমা করুন। সাহাবীগণের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল যে, যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও এই দু'আ করিলে তিনি শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করিতেন। এই কারণে উমার ইবনুল খাত্তাব কিংবা অন্য কোন সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! তাঁহার শাহাদাত অবধারিত হইয়া গিয়াছে। আহ! যদি তিনি আরও কিছু দিন বাঁচিয়া থাকিতেন এবং আমাদেরকে তাহার সুমধুর সুরে কাব্যগাঁথা শুনাইতেন তাহা হইলে উপকৃত হইতে পারিতাম। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের নিকটবর্তী আস-সাহবা নামক স্থানে উপনীত হইলেন তখন আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আহার গ্রহণ করেন। খাদ্য হিসাবে ছিল শুধু ছাতু। রাসূলুল্লাহ (স) ও সকল সাহাবী উহাই আহার করেন। তাহার পরে সকলে কুলি করিয়া মাগরিবের সালাত আদায় করেন, কেহই (আহার গ্রহণ জনিত কারণে) উযু করেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫,১৮৬; যাদুল মা'আদ, ১/২ খ., পৃ. ১৩৩)।

যাত্রাকালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় নুমায়লা ইবন 'আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করেন, অতঃপর 'আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা)-এর হাতে যুদ্ধের পতাকা হস্তান্তর করেন। পতাকাটি ছিল শ্বেত বর্ণের (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়‍্যা, ৩খ., পৃ. ২২৪)। ভিন্নমতে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫; মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদ: গোলাম মুঈনুদ্দীন ২খ., পৃ. ৪০১; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৩)। ইব্‌ন হাজার আল-আসকালানী বলেন, সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিয়োগ করার অভিমত অধিকতর শুদ্ধ ও ইহাই প্রসিদ্ধ (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৫)। এই ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (র) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ উল্লেখযোগ্য। 'ইরাক ইবন মালিক (রা) বলেনঃ নবী (স) যখন খায়বারে ছিলেন, তখন আবূ হুরায়রা (রা) তাঁহার গোত্রীয় একদল লোকের সহিত মদীনা আগমন করিলেন। এই সময় সিবা ইব্‌ন উরফুতা আল-গাতাফানী (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হইয়াছিল। আবূ হুরায়রা (রা) সিবা ইব্‌ন উরফুতা (রা)-কে ফজরের সালাত আদায়রত পাইলেন। তিনি প্রথম রাক'আতে কাফ-হা ইয়া 'আয়ন-সা'দ (كهيعص) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে ওয়ায়লুল্লিল মুতাফফিফীন (وَيْلٌ لِّلْمُطفّفين) পড়িতেছিলেন। তাঁহার এই কিরাআত শুনিয়া আবূ হুরায়রা (রা) মনে মনে বলিলেন, অমুক ব্যক্তির সর্বনাশ হউক! তাহার দুইটি মাপযন্ত্র রহিয়াছে। সে যখন নিজের জন্য মাপে তখন পুরাপুরি গ্রহণ করে আর অন্যকে মাপিয়া দিবার সময় কম দেয়। সালাত সমাপ্ত করার পর তিনি সিবা ইন্ন উরফুতা (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গমন করিলেন এবং মুসলমানগণের সহিত কথা বলিলেন। মুসলমানগণ তাঁহাকে তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অংশীদার করিয়া লইলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৮৩; যাদুল মা'আদ, ১/২খ., পৃ. ১৩৩)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বার শত মুসলিম পদাতিক বাহিনী এবং দুই শত, মতান্তরে তিন শত অশ্বারোহী ছিলেন। তাহাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক উটও ছিল। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রা)-ও এই যুদ্ধে রাসূলুল্লহ (স)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন। উমায়মা বিন্‌ত-সালত গিফারিয়‍্যা বানু গিফারের কয়েকজন মহিলাসহ সঙ্গে ছিলেন। তাহাদের কাজ ছিল পীড়িতদের সেবা করা। অন্য গোত্রের কিছু মহিলাও এই সেবিকা দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) বলেন, আমরা রাত্রিকালে পথ অতিক্রম করিতেছিলাম আর আমার চাচা আমর ইবনুল আকওয়া (রা) এবং কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী আমার ভ্রাতা আমের নিম্নোক্ত কৃবিতার চরণগুলি পুন পুন আবৃত্তি করিতে থাকেন:
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا + وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَاغْفِرْ فِدَا لَكَ مَا أَبْقَيْنَا + وَلَقِّنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا + إِنَّا إِذَا صِيحَ بِنَا تَيْنَا وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا + وَبِالصِّيَاحِ عَوْلُوا عَلَيْنَا .
"হে আল্লাহ! যদি তোমার আশীষ না হইত তাহা হইলে আমরা সৎপথের দিশা পাইতাম না; না আমরা সাদাকা (যাকাত) আদায় করিতাম, না সালাত আদায় করিতাম। অতএব, হে মহান প্রভু! তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমরা ভূপৃষ্ঠে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তোমার জন্য কুরবান। তুমি আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ কর, শত্রুদের মুকাবিলায় আমাদের দৃঢ়পদ রাখ, আর যখন শত্রুরা মুকাবিলার জন্য আহ্বান করিবে তখন যেন আমরা অগ্রসর হইতে পারি, তাহাদিগের আহ্বানের সময় আমরা নিজেদের উপর আস্থাশীল হইতে পারি, আমাদিগকে ফেতনায় জড়াইতে চাহিলে যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করিতে পারি"।
এই কবিতাগুচ্ছের রচয়িতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) খোদ এই কবিতার ছন্দ মিলাইয়া খনদকের যুদ্ধে আবৃত্তি করিয়াছেন। আমের (রা)-এর কণ্ঠ ছিল খুবই সুমধুর। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইনি কে? লোকজন উত্তর দিল, আমের ইবনুল আকওয়া (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আল্লাহ তাহার উপর রহম করুন কিম্বা আল্লাহ তাহাকে ক্ষমা করুন। সাহাবীগণের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল যে, যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও এই দু'আ করিলে তিনি শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করিতেন। এই কারণে উমার ইবনুল খাত্তাব কিংবা অন্য কোন সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! তাঁহার শাহাদাত অবধারিত হইয়া গিয়াছে। আহ! যদি তিনি আরও কিছু দিন বাঁচিয়া থাকিতেন এবং আমাদেরকে তাহার সুমধুর সুরে কাব্যগাঁথা শুনাইতেন তাহা হইলে উপকৃত হইতে পারিতাম। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের নিকটবর্তী আস-সাহবা নামক স্থানে উপনীত হইলেন তখন আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আহার গ্রহণ করেন। খাদ্য হিসাবে ছিল শুধু ছাতু। রাসূলুল্লাহ (স) ও সকল সাহাবী উহাই আহার করেন। তাহার পরে সকলে কুলি করিয়া মাগরিবের সালাত আদায় করেন, কেহই (আহার গ্রহণ জনিত কারণে) উযু করেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫,১৮৬; যাদুল মা'আদ, ১/২ খ., পৃ. ১৩৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 'আমের ইবনুল আকওয়া (রা)-এর শাহাদাতবরণ

📄 'আমের ইবনুল আকওয়া (রা)-এর শাহাদাতবরণ


রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হইয়াছিল। ঐ যুদ্ধেই আমের (রা) শাহাদাত বরণ করিয়াছিলেন। যুদ্ধকালে তাঁহার নিজের তরবারি তাঁহার প্রতি ফিরিয়া আসিয়া তাঁহাকে গুরুতরভাবে আহত করে এবং ইহার ফলেই তিনি শাহাদাত লাভ করেন। মুসলমানদের মধ্যে তাঁহার শাহাদাতের ব্যাপারে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তাহারা বলাবলি করিতে থাকেন, নিজ তরবারির আঘাতে তাঁহার মৃত্যু হইয়াছে, তাই তিনি কী করিয়া শহীদ হইবেন? এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র সালামা ইব্‌ন আম্র ইবনুল আকওয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি তাঁহার ব্যাপারে লোকদের জল্পনা-কল্পনার কথাও তাঁহাকে অবহিত করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলিলেন, انهُ لَشَهِيدٌ (নিশ্চয় সে শহীদ)। তিনি যথারীতি তাঁহার জানাযার সালাত আদায় করেন। ইহার ফলে তাঁহার ব্যাপারে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, অনুবাদ ইফাবা, ৩খ., পৃ. ৩৪৭, ১৯৯৫ খৃ.)। বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, তাহার জন্য দ্বিগুণ ছওয়াব রহিয়াছে। সে কর্মতৎপর জিহাদকারী (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬০৩)।

রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হইয়াছিল। ঐ যুদ্ধেই আমের (রা) শাহাদাত বরণ করিয়াছিলেন। যুদ্ধকালে তাঁহার নিজের তরবারি তাঁহার প্রতি ফিরিয়া আসিয়া তাঁহাকে গুরুতরভাবে আহত করে এবং ইহার ফলেই তিনি শাহাদাত লাভ করেন। মুসলমানদের মধ্যে তাঁহার শাহাদাতের ব্যাপারে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তাহারা বলাবলি করিতে থাকেন, নিজ তরবারির আঘাতে তাঁহার মৃত্যু হইয়াছে, তাই তিনি কী করিয়া শহীদ হইবেন? এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র সালামা ইব্‌ন আম্র ইবনুল আকওয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি তাঁহার ব্যাপারে লোকদের জল্পনা-কল্পনার কথাও তাঁহাকে অবহিত করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলিলেন, انهُ لَشَهِيدٌ (নিশ্চয় সে শহীদ)। তিনি যথারীতি তাঁহার জানাযার সালাত আদায় করেন। ইহার ফলে তাঁহার ব্যাপারে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, অনুবাদ ইফাবা, ৩খ., পৃ. ৩৪৭, ১৯৯৫ খৃ.)। বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, তাহার জন্য দ্বিগুণ ছওয়াব রহিয়াছে। সে কর্মতৎপর জিহাদকারী (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬০৩)।

রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হইয়াছিল। ঐ যুদ্ধেই আমের (রা) শাহাদাত বরণ করিয়াছিলেন। যুদ্ধকালে তাঁহার নিজের তরবারি তাঁহার প্রতি ফিরিয়া আসিয়া তাঁহাকে গুরুতরভাবে আহত করে এবং ইহার ফলেই তিনি শাহাদাত লাভ করেন। মুসলমানদের মধ্যে তাঁহার শাহাদাতের ব্যাপারে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তাহারা বলাবলি করিতে থাকেন, নিজ তরবারির আঘাতে তাঁহার মৃত্যু হইয়াছে, তাই তিনি কী করিয়া শহীদ হইবেন? এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র সালামা ইব্‌ন আম্র ইবনুল আকওয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি তাঁহার ব্যাপারে লোকদের জল্পনা-কল্পনার কথাও তাঁহাকে অবহিত করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলিলেন, انهُ لَشَهِيدٌ (নিশ্চয় সে শহীদ)। তিনি যথারীতি তাঁহার জানাযার সালাত আদায় করেন। ইহার ফলে তাঁহার ব্যাপারে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, অনুবাদ ইফাবা, ৩খ., পৃ. ৩৪৭, ১৯৯৫ খৃ.)। বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, তাহার জন্য দ্বিগুণ ছওয়াব রহিয়াছে। সে কর্মতৎপর জিহাদকারী (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬০৩)।

রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হইয়াছিল। ঐ যুদ্ধেই আমের (রা) শাহাদাত বরণ করিয়াছিলেন। যুদ্ধকালে তাঁহার নিজের তরবারি তাঁহার প্রতি ফিরিয়া আসিয়া তাঁহাকে গুরুতরভাবে আহত করে এবং ইহার ফলেই তিনি শাহাদাত লাভ করেন। মুসলমানদের মধ্যে তাঁহার শাহাদাতের ব্যাপারে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তাহারা বলাবলি করিতে থাকেন, নিজ তরবারির আঘাতে তাঁহার মৃত্যু হইয়াছে, তাই তিনি কী করিয়া শহীদ হইবেন? এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র সালামা ইব্‌ন আম্র ইবনুল আকওয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি তাঁহার ব্যাপারে লোকদের জল্পনা-কল্পনার কথাও তাঁহাকে অবহিত করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলিলেন, انهُ لَشَهِيدٌ (নিশ্চয় সে শহীদ)। তিনি যথারীতি তাঁহার জানাযার সালাত আদায় করেন। ইহার ফলে তাঁহার ব্যাপারে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, অনুবাদ ইফাবা, ৩খ., পৃ. ৩৪৭, ১৯৯৫ খৃ.)। বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, তাহার জন্য দ্বিগুণ ছওয়াব রহিয়াছে। সে কর্মতৎপর জিহাদকারী (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬০৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর দু'আ

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর দু'আ


ইবন ইসহাক তদীয় সূত্রে আবূ মুআত্তাব ইবন আমর (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের নিকটবর্তী পৌঁছিয়া তাঁহার সাহাবীদিগকে বলিলেন: তোমরা থাক! অতঃপর বলিলেন:
اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَمَا أَظْلَلْنَ وَرَبُّ الْأَرْضِينَ وَمَا أَقْلَلْنَ وَرَبُّ الشَّيَاطِينَ وَمَا أَضْلَلْنَ وَرَبُّ الرِّيَاحِ وَمَا أَدْرَيْنَ فَإِنَّا نَسْتَلْكَ خَيْرَ هُذِهِ الْقَرْيَةِ وَخَيْرَ أَهْلِهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ أَهْلِهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا .
"হে আল্লাহ! আসমান ও তাহার ছায়াতলে যাহা কিছু রহিয়াছে তাহার প্রতিপালক, যমীন ও তাহার মধ্যে যাহা কিছু উৎপন্ন হয় তাহার প্রতিপালক, শয়তান ও তাহার দ্বারা পথভ্রষ্টদের প্রতিপালক এবং বায়ুসমূহ ও তাহার দ্বারা উড়াইয়া নেওয়া বস্তুর প্রতিপালক! আমরা তোমার নিকট ঐ জনপদের এবং উহার বাসিন্দাদের এবং উহার মধ্যে নিহিত সকল অমঙ্গল হইতে তোমার আশ্রয় চাহিতেছি" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা ও বঙ্গানুবাদ, ই. ফা. বা., ৩খ., পৃ. ৩৪৮)।

ইবন ইসহাক তদীয় সূত্রে আবূ মুআত্তাব ইবন আমর (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের নিকটবর্তী পৌঁছিয়া তাঁহার সাহাবীদিগকে বলিলেন: তোমরা থাক! অতঃপর বলিলেন:
اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَمَا أَظْلَلْنَ وَرَبُّ الْأَرْضِينَ وَمَا أَقْلَلْنَ وَرَبُّ الشَّيَاطِينَ وَمَا أَضْلَلْنَ وَرَبُّ الرِّيَاحِ وَمَا أَدْرَيْنَ فَإِنَّا نَسْتَلْكَ خَيْرَ هُذِهِ الْقَرْيَةِ وَخَيْرَ أَهْلِهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ أَهْلِهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا .
“হে আল্লাহ! আসমান ও তাহার ছায়াতলে যাহা কিছু রহিয়াছে তাহার প্রতিপালক, যমীন ও তাহার মধ্যে যাহা কিছু উৎপন্ন হয় তাহার প্রতিপালক, শয়তান ও তাহার দ্বারা পথভ্রষ্টদের প্রতিপালক এবং বায়ুসমূহ ও তাহার দ্বারা উড়াইয়া নেওয়া বস্তুর প্রতিপালক! আমরা তোমার নিকট ঐ জনপদের এবং উহার বাসিন্দাদের এবং উহার মধ্যে নিহিত সকল অমঙ্গল হইতে তোমার আশ্রয় চাহিতেছি” (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা ও বঙ্গানুবাদ, ই. ফা. বা., ৩খ., পৃ. ৩৪৮)।

ইবন ইসহাক তদীয় সূত্রে আবূ মুআত্তাব ইবন আমর (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের নিকটবর্তী পৌঁছিয়া তাঁহার সাহাবীদিগকে বলিলেন: তোমরা থাক! অতঃপর বলিলেন:
اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَمَا أَظْلَلْنَ وَرَبُّ الْأَرْضِينَ وَمَا أَقْلَلْنَ وَرَبُّ الشَّيَاطِينَ وَمَا أَضْلَلْنَ وَرَبُّ الرِّيَاحِ وَمَا أَدْرَيْنَ فَإِنَّا نَسْتَلْكَ خَيْرَ هُذِهِ الْقَرْيَةِ وَخَيْرَ أَهْلِهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ أَهْلِهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا .
“হে আল্লাহ! আসমান ও তাহার ছায়াতলে যাহা কিছু রহিয়াছে তাহার প্রতিপালক, যমীন ও তাহার মধ্যে যাহা কিছু উৎপন্ন হয় তাহার প্রতিপালক, শয়তান ও তাহার দ্বারা পথভ্রষ্টদের প্রতিপালক এবং বায়ুসমূহ ও তাহার দ্বারা উড়াইয়া নেওয়া বস্তুর প্রতিপালক! আমরা তোমার নিকট ঐ জনপদের এবং উহার বাসিন্দাদের এবং উহার মধ্যে নিহিত সকল অমঙ্গল হইতে তোমার আশ্রয় চাহিতেছি” (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা ও বঙ্গানুবাদ, ই. ফা. বা., ৩খ., পৃ. ৩৪৮)।

ইবন ইসহাক তদীয় সূত্রে আবূ মুআত্তাব ইবন আমর (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের নিকটবর্তী পৌঁছিয়া তাঁহার সাহাবীদিগকে বলিলেন: তোমরা থাক! অতঃপর বলিলেন:
اللهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَمَا أَظْلَلْنَ وَرَبُّ الْأَرْضِينَ وَمَا أَقْلَلْنَ وَرَبُّ الشَّيَاطِينَ وَمَا أَضْلَلْنَ وَرَبُّ الرِّيَاحِ وَمَا أَدْرَيْنَ فَإِنَّا نَسْتَلْكَ خَيْرَ هُذِهِ الْقَرْيَةِ وَخَيْرَ أَهْلِهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ أَهْلِهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا .
"হে আল্লাহ! আসমান ও তাহার ছায়াতলে যাহা কিছু রহিয়াছে তাহার প্রতিপালক, যমীন ও তাহার মধ্যে যাহা কিছু উৎপন্ন হয় তাহার প্রতিপালক, শয়তান ও তাহার দ্বারা পথভ্রষ্টদের প্রতিপালক এবং বায়ুসমূহ ও তাহার দ্বারা উড়াইয়া নেওয়া বস্তুর প্রতিপালক! আমরা তোমার নিকট ঐ জনপদের এবং উহার বাসিন্দাদের এবং উহার মধ্যে নিহিত সকল অমঙ্গল হইতে তোমার আশ্রয় চাহিতেছি" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা ও বঙ্গানুবাদ, ই. ফা. বা., ৩খ., পৃ. ৩৪৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খায়বারবাসীদের পলায়ন

📄 খায়বারবাসীদের পলায়ন


মুনাফিক নেতা 'আবদুল্লাহ ইবন উবায়্য ইবন সালূল খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আবেদন করিয়াছিল। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) ঘোষণা করিয়াছিলেন যে, এই অভিযানে এমন কোন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না যাহার মধ্যে পার্থিব লোভ-লালসা রহিয়াছে। উহার ফলে মুনাফিকদের সরদার আবদুল্লাহ ইবন উবায়্য খায়বারবাসীকে পূর্বেই অবহিত করিয়াছিল যে, মুহাম্মাদ (স) তোমাদের মূলোৎপাটনের ইচ্ছা পোষণ করিতেছেন। সাবধান! নিজেদের দুর্গে প্রবেশ করিবে না। খোলামাঠে বাহির হইয়া তাহার সহিত যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ কর। কারণ যুদ্ধের জন্য তোমাদের অগাধ রসদপত্র ও পর্যাপ্ত সংখ্যক সেবক রহিয়াছে (মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদঃ গোলাম মুঈনুদ্দিন, ২খ., পৃ. ৪০১)। যেই রাত্রিশেষে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খায়বারবাসীদের উপর আক্রমণ চালাইবার কথা ঐ রাত্রিতে আল্লাহর ইচ্ছায় তাহারা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন ছিল, যদিও তাহারা ঐ আক্রমণ সম্পর্কে পূর্ব হইতেই অবগত ছিল। আক্রমণের সংবাদ প্রাপ্তির পর হইতে তাহারা স্ব-স্ব বসতিসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাহারা মোতায়েন করিয়াছিল। কিন্তু আক্রমণের রাত্রে তাহারা নিদ্রামগ্ন হইয়া পড়ে। তাহাদের মোরগের ডাক শোনা যায় নাই, এমনকি তাহাদের পশুগুলিও নিশ্চুপ ছিল (মাদারিজুন নুবুওয়া, উরদূ অনুবাদ ২খ., ৪০৬)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর নীতি ছিল যে, যখন তিনি কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করিতে মনস্থ করিতেন, তখন ভোর না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ চালাইতেন না। যদি কোন জনপদে পৌঁছিয়া তিনি ফজরের আযান শুনিতে পাইতেন তাহা হইলে আক্রমণ হইতে বিরত থাকিতেন। আর যদি আযান শুনিতে না পাইতেন তাহা হইলে আক্রমণ করিতেন। আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমরা রাত্রিবেলা খায়বারে গিয়া অবতরণ করিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে রাত্রিযাপন করিলেন। প্রত্যূষে তিনি আযান শুনিতে পাইলেন না। অতঃপর তিনি বাহনে আরোহণ করিলেন এবং আমরাও বাহনে আরোহণ করিলাম। আমি আবূ তালহার সহযাত্রী হইলাম। আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর পাশাপাশি আগাইতেছিলাম। আমার পা রাসূলুল্লাহ (স)-এর পবিত্র পদযুগল স্পর্শ করিতেছিল। আমরা লক্ষ্য করিলাম, খায়বারের কর্মজীবী লোকেরা প্রত্যূষেই গৃহ হইতে কর্মস্থলের দিকে বাহির হইয়া পড়িয়াছে। সঙ্গে তাহাদের বেলচা ও টুকরি ছিল। তাহারা যখন রাসূলুল্লাহ (স) ও তাঁহার পূর্ণাঙ্গ বাহিনীকে প্রত্যক্ষ করিল তখন বলিয়া উঠিল, ঐ যে মুহাম্মাদ ও তাঁহার সেনাবাহিনী দেখা যাইতেছে। তখন তাহারা পশ্চাৎ দিকে পালাইয়া গেল। তাহাদের পালানোর এই দৃশ্য অবলোকন করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ.
"আল্লাহু আকবার! খায়বার ধ্বংস হইয়া গেল। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙিনায় অবতরণ করি তখন ঐ সতর্ককৃতদের প্রভাত হইবে কতই না অশুভ"।
রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তখন তিনি 'আসীর পাহাড়ের পথ ধরিয়া অগ্রসর হন। সেখানে তাঁহার আগমন উপলক্ষে নির্মাণ করা হয় একটি মসজিদ। অতঃপর তিনি আস-সাহবায় গিয়া পৌঁছেন। ইহার পর বাহিনীসহ তিনি আর-রাজী' নামক প্রান্তরে শিবির স্থাপন করেন। ইহা খায়বার ও গাতাফানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে অবস্থানের উদ্দেশ্য ছিল গাতাফান ও খায়বারবাসীদের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করা। ফলে গাতাফানীরা খায়বারবাসীদিগকে কোনরূপ সাহায্য করিতে পারিল না, যদিও তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিরুদ্ধে খায়বারবাসীদের সমর্থক ছিল (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২২৬)।

মুনাফিক নেতা 'আবদুল্লাহ ইবন উবায়্য ইবন সালূল খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আবেদন করিয়াছিল। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) ঘোষণা করিয়াছিলেন যে, এই অভিযানে এমন কোন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না যাহার মধ্যে পার্থিব লোভ-লালসা রহিয়াছে। উহার ফলে মুনাফিকদের সরদার আবদুল্লাহ ইবন উবায়্য খায়বারবাসীকে পূর্বেই অবহিত করিয়াছিল যে, মুহাম্মাদ (স) তোমাদের মূলোৎপাটনের ইচ্ছা পোষণ করিতেছেন। সাবধান! নিজেদের দুর্গে প্রবেশ করিবে না। খোলামাঠে বাহির হইয়া তাহার সহিত যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ কর। কারণ যুদ্ধের জন্য তোমাদের অগাধ রসদপত্র ও পর্যাপ্ত সংখ্যক সেবক রহিয়াছে (মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদঃ গোলাম মুঈনুদ্দিন, ২খ., পৃ. ৪০১)। যেই রাত্রিশেষে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খায়বারবাসীদের উপর আক্রমণ চালাইবার কথা ঐ রাত্রিতে আল্লাহর ইচ্ছায় তাহারা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন ছিল, যদিও তাহারা ঐ আক্রমণ সম্পর্কে পূর্ব হইতেই অবগত ছিল। আক্রমণের সংবাদ প্রাপ্তির পর হইতে তাহারা স্ব-স্ব বসতিসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাহারা মোতায়েন করিয়াছিল। কিন্তু আক্রমণের রাত্রে তাহারা নিদ্রামগ্ন হইয়া পড়ে। তাহাদের মোরগের ডাক শোনা যায় নাই, এমনকি তাহাদের পশুগুলিও নিশ্চুপ ছিল (মাদারিজুন নুবুওয়া, উরদূ অনুবাদ ২খ., ৪০৬)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর নীতি ছিল যে, যখন তিনি কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করিতে মনস্থ করিতেন, তখন ভোর না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ চালাইতেন না। যদি কোন জনপদে পৌঁছিয়া তিনি ফজরের আযান শুনিতে পাইতেন তাহা হইলে আক্রমণ হইতে বিরত থাকিতেন। আর যদি আযান শুনিতে না পাইতেন তাহা হইলে আক্রমণ করিতেন। আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমরা রাত্রিবেলা খায়বারে গিয়া অবতরণ করিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে রাত্রিযাপন করিলেন। প্রত্যূষে তিনি আযান শুনিতে পাইলেন না। অতঃপর তিনি বাহনে আরোহণ করিলেন এবং আমরাও বাহনে আরোহণ করিলাম। আমি আবূ তালহার সহযাত্রী হইলাম। আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর পাশাপাশি আগাইতেছিলাম। আমার পা রাসূলুল্লাহ (স)-এর পবিত্র পদযুগল স্পর্শ করিতেছিল। আমরা লক্ষ্য করিলাম, খায়বারের কর্মজীবী লোকেরা প্রত্যূষেই গৃহ হইতে কর্মস্থলের দিকে বাহির হইয়া পড়িয়াছে। সঙ্গে তাহাদের বেলচা ও টুকরি ছিল। তাহারা যখন রাসূলুল্লাহ (স) ও তাঁহার পূর্ণাঙ্গ বাহিনীকে প্রত্যক্ষ করিল তখন বলিয়া উঠিল, ঐ যে মুহাম্মাদ ও তাঁহার সেনাবাহিনী দেখা যাইতেছে। তখন তাহারা পশ্চাৎ দিকে পালাইয়া গেল। তাহাদের পালানোর এই দৃশ্য অবলোকন করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ.
"আল্লাহু আকবার! খায়বার ধ্বংস হইয়া গেল। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙিনায় অবতরণ করি তখন ঐ সতর্ককৃতদের প্রভাত হইবে কতই না অশুভ"।
রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তখন তিনি 'আসীর পাহাড়ের পথ ধরিয়া অগ্রসর হন। সেখানে তাঁহার আগমন উপলক্ষে নির্মাণ করা হয় একটি মসজিদ। অতঃপর তিনি আস-সাহবায় গিয়া পৌঁছেন। ইহার পর বাহিনীসহ তিনি আর-রাজী' নামক প্রান্তরে শিবির স্থাপন করেন। ইহা খায়বার ও গাতাফানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে অবস্থানের উদ্দেশ্য ছিল গাতাফান ও খায়বারবাসীদের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করা। ফলে গাতাফানীরা খায়বারবাসীদিগকে কোনরূপ সাহায্য করিতে পারিল না, যদিও তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিরুদ্ধে খায়বারবাসীদের সমর্থক ছিল (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২২৬)।

মুনাফিক নেতা 'আবদুল্লাহ ইবন উবায়্য ইবন সালূল খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আবেদন করিয়াছিল। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) ঘোষণা করিয়াছিলেন যে, এই অভিযানে এমন কোন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না যাহার মধ্যে পার্থিব লোভ-লালসা রহিয়াছে। উহার ফলে মুনাফিকদের সরদার আবদুল্লাহ ইবন উবায়্য খায়বারবাসীকে পূর্বেই অবহিত করিয়াছিল যে, মুহাম্মাদ (স) তোমাদের মূলোৎপাটনের ইচ্ছা পোষণ করিতেছেন। সাবধান! নিজেদের দুর্গে প্রবেশ করিবে না। খোলামাঠে বাহির হইয়া তাহার সহিত যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ কর। কারণ যুদ্ধের জন্য তোমাদের অগাধ রসদপত্র ও পর্যাপ্ত সংখ্যক সেবক রহিয়াছে (মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদঃ গোলাম মুঈনুদ্দিন, ২খ., পৃ. ৪০১)। যেই রাত্রিশেষে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খায়বারবাসীদের উপর আক্রমণ চালাইবার কথা ঐ রাত্রিতে আল্লাহর ইচ্ছায় তাহারা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন ছিল, যদিও তাহারা ঐ আক্রমণ সম্পর্কে পূর্ব হইতেই অবগত ছিল। আক্রমণের সংবাদ প্রাপ্তির পর হইতে তাহারা স্ব-স্ব বসতিসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাহারা মোতায়েন করিয়াছিল। কিন্তু আক্রমণের রাত্রে তাহারা নিদ্রামগ্ন হইয়া পড়ে। তাহাদের মোরগের ডাক শোনা যায় নাই, এমনকি তাহাদের পশুগুলিও নিশ্চুপ ছিল (মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদ ২খ., ৪০৬)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর নীতি ছিল যে, যখন তিনি কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করিতে মনস্থ করিতেন, তখন ভোর না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ চালাইতেন না। যদি কোন জনপদে পৌঁছিয়া তিনি ফজরের আযান শুনিতে পাইতেন তাহা হইলে আক্রমণ হইতে বিরত থাকিতেন। আর যদি আযান শুনিতে না পাইতেন তাহা হইলে আক্রমণ করিতেন। আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমরা রাত্রিবেলা খায়বারে গিয়া অবতরণ করিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে রাত্রিযাপন করিলেন। প্রত্যূষে তিনি আযান শুনিতে পাইলেন না। অতঃপর তিনি বাহনে আরোহণ করিলেন এবং আমরাও বাহনে আরোহণ করিলাম। আমি আবূ তালহার সহযাত্রী হইলাম। আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর পাশাপাশি আগাইতেছিলাম। আমার পা রাসূলুল্লাহ (স)-এর পবিত্র পদযুগল স্পর্শ করিতেছিল। আমরা লক্ষ্য করিলাম, খায়বারের কর্মজীবী লোকেরা প্রত্যূষেই গৃহ হইতে কর্মস্থলের দিকে বাহির হইয়া পড়িয়াছে। সঙ্গে তাহাদের বেলচা ও টুকরি ছিল। তাহারা যখন রাসূলুল্লাহ (স) ও তাঁহার পূর্ণাঙ্গ বাহিনীকে প্রত্যক্ষ করিল তখন বলিয়া উঠিল, ঐ যে মুহাম্মাদ ও তাঁহার সেনাবাহিনী দেখা যাইতেছে। তখন তাহারা পশ্চাৎ দিকে পালাইয়া গেল। তাহাদের পালানোর এই দৃশ্য অবলোকন করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ.
"আল্লাহু আকবার! খায়বার ধ্বংস হইয়া গেল। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙিনায় অবতরণ করি তখন ঐ সতর্ককৃতদের প্রভাত হইবে কতই না অশুভ"।
রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তখন তিনি 'আসীর পাহাড়ের পথ ধরিয়া অগ্রসর হন। সেখানে তাঁহার আগমন উপলক্ষে নির্মাণ করা হয় একটি মসজিদ। অতঃপর তিনি আস-সাহবায় গিয়া পৌঁছেন। ইহার পর বাহিনীসহ তিনি আর-রাজী' নামক প্রান্তরে শিবির স্থাপন করেন। ইহা খায়বার ও গাতাফানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে অবস্থানের উদ্দেশ্য ছিল গাতাফান ও খায়বারবাসীদের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করা। ফলে গাতাফানীরা খায়বারবাসীদিগকে কোনরূপ সাহায্য করিতে পারিল না, যদিও তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিরুদ্ধে খায়বারবাসীদের সমর্থক ছিল (ইব্‌ن হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২২৬)।

মুনাফিক নেতা 'আবদুল্লাহ ইবন উবায়্য ইবন সালূল খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আবেদন করিয়াছিল। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) ঘোষণা করিয়াছিলেন যে, এই অভিযানে এমন কোন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না যাহার মধ্যে পার্থিব লোভ-লালসা রহিয়াছে। উহার ফলে মুনাফিকদের সরদার আবদুল্লাহ ইবন উবায়্য খায়বারবাসীকে পূর্বেই অবহিত করিয়াছিল যে, মুহাম্মাদ (স) তোমাদের মূলোৎপাটনের ইচ্ছা পোষণ করিতেছেন। সাবধান! নিজেদের দুর্গে প্রবেশ করিবে না। খোলামাঠে বাহির হইয়া তাহার সহিত যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ কর। কারণ যুদ্ধের জন্য তোমাদের অগাধ রসদপত্র ও পর্যাপ্ত সংখ্যক সেবক রহিয়াছে (মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদঃ গোলাম মুঈনুদ্দিন, ২খ., পৃ. ৪০১)। যেই রাত্রিশেষে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খায়বারবাসীদের উপর আক্রমণ চালাইবার কথা ঐ রাত্রিতে আল্লাহর ইচ্ছায় তাহারা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন ছিল, যদিও তাহারা ঐ আক্রমণ সম্পর্কে পূর্ব হইতেই অবগত ছিল। আক্রমণের সংবাদ প্রাপ্তির পর হইতে তাহারা স্ব-স্ব বসতিসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাহারা মোতায়েন করিয়াছিল। কিন্তু আক্রমণের রাত্রে তাহারা নিদ্রামগ্ন হইয়া পড়ে। তাহাদের মোরগের ডাক শোনা যায় নাই, এমনকি তাহাদের পশুগুলিও নিশ্চুপ ছিল (মাদারিজুন নুবুওয়া, উরদূ অনুবাদ ২খ., ৪০৬)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর নীতি ছিল যে, যখন তিনি কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করিতে মনস্থ করিতেন, তখন ভোর না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ চালাইতেন না। যদি কোন জনপদে পৌঁছিয়া তিনি ফজরের আযান শুনিতে পাইতেন তাহা হইলে আক্রমণ হইতে বিরত থাকিতেন। আর যদি আযান শুনিতে না পাইতেন তাহা হইলে আক্রমণ করিতেন। আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমরা রাত্রিবেলা খায়বারে গিয়া অবতরণ করিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে রাত্রিযাপন করিলেন। প্রত্যূষে তিনি আযান শুনিতে পাইলেন না। অতঃপর তিনি বাহনে আরোহণ করিলেন এবং আমরাও বাহনে আরোহণ করিলাম। আমি আবূ তালহার সহযাত্রী হইলাম। আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর পাশাপাশি আগাইতেছিলাম। আমার পা রাসূলুল্লাহ (স)-এর পবিত্র পদযুগল স্পর্শ করিতেছিল। আমরা লক্ষ্য করিলাম, খায়বারের কর্মজীবী লোকেরা প্রত্যূষেই গৃহ হইতে কর্মস্থলের দিকে বাহির হইয়া পড়িয়াছে। সঙ্গে তাহাদের বেলচা ও টুকরি ছিল। তাহারা যখন রাসূলুল্লাহ (স) ও তাঁহার পূর্ণাঙ্গ বাহিনীকে প্রত্যক্ষ করিল তখন বলিয়া উঠিল, ঐ যে মুহাম্মাদ ও তাঁহার সেনাবাহিনী দেখা যাইতেছে। তখন তাহারা পশ্চাৎ দিকে পালাইয়া গেল। তাহাদের পালানোর এই দৃশ্য অবলোকন করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذِرِينَ.
"আল্লাহু আকবার! খায়বার ধ্বংস হইয়া গেল। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙিনায় অবতরণ করি তখন ঐ সতর্ককৃতদের প্রভাত হইবে কতই না অশুভ"।
রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তখন তিনি 'আসীর পাহাড়ের পথ ধরিয়া অগ্রসর হন। সেখানে তাঁহার আগমন উপলক্ষে নির্মাণ করা হয় একটি মসজিদ। অতঃপর তিনি আস-সাহবায় গিয়া পৌঁছেন। ইহার পর বাহিনীসহ তিনি আর-রাজী' নামক প্রান্তরে শিবির স্থাপন করেন। ইহা খায়বার ও গাতাফানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে অবস্থানের উদ্দেশ্য ছিল গাতাফান ও খায়বারবাসীদের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করা। ফলে গাতাফানীরা খায়বারবাসীদিগকে কোনরূপ সাহায্য করিতে পারিল না, যদিও তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিরুদ্ধে খায়বারবাসীদের সমর্থক ছিল (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২২৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00