📄 খায়বারের দুর্গসমূহ
খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূস, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূস, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূস, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূস, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূস. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।
খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূস, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূস, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূস, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূس, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূس. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।
খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূس, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূس, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূس, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূس, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূس. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।
খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূস, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূস, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূস, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূস, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূস. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।
📄 যুদ্ধের সূচনা
وَعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنْكُمْ وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا.
"আল্লাহ তোমাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যাহার অধিকারী হইবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন এবং তিনি তোমাদিগ হইতে মানুষের হস্ত নিবারিত করিয়াছেন, যেন ইহা হয় মু'মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ তোমাদিগকে পরিচালিত করেন সরল পথে" (৪৮: ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সূরা আল-ফাতহ অবতীর্ণ হয়। ইহাতে আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষত বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদিগকে এই প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছিলেন যে, তোমরা অনেক বিজয় অর্জন করিবে এবং যুদ্ধে লভ্য সম্পদের অধিকারী হইবে। কার্যত তিনি এই বায়'আতুর রিদওয়ানের পুরস্কার হিসাবে খায়বারের বিজয় দান করিলেন এবং মক্কা বিজয় অর্জিত হইবে।
فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ )ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন)। এমনকি উক্ত সূরার ১৮ আয়াতের শেষাংশ وَآثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا )এবং তাহাদিগকে পুরষ্কার দিলেন আসন্ন বিজয়( ইহাতেও আসন্ন বিজয় দ্বারা খায়বারের বিজয় বুঝানো হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া মদীনায় পৌঁছিলেন। তিনি যিলহজ্জ ও মুহাররামের প্রথমদিকের দিনগুলিতে মদীনাতেই অবস্থান করিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে খায়বারের উদ্দেশে অভিযান চালানোর আদেশ দেওয়া হইল। ইহা বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীদিগের আবাস স্থল। ইহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া আহযাব যুদ্ধে মক্কার কাফিরদিগকে মদীনা আক্রমণে উদ্যত করিয়াছিল। মহান আল্লাহ এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে জানাইয়া দিলেন যে, খায়বারের বিজয়ের সুসংবাদ প্রাপ্ত হইয়া মুনাফিকরাও আপনার পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবার আবেদন করিবে। আপনি কোন অবস্থাতেই ইহাদিগকে এই অভিযানে আপনার সংগে অংশগ্রহণ করিতে দিবেন না। এই ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়:
سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذَا انْطَلَقْتُمْ إِلَى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلامَ اللهِ قُلْ لَنْ تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُمْ قَالَ اللهُ مِنْ قَبْلُ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا بَلْ كَانُوا لَا يَفْقَهُونَ إِلا قَلِيلاً.
"তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাইবে তখন যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গিয়াছিল তাহারা বলিবে, আমাদিগকে তোমাদের সংগে যাইতে দাও। উহারা আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করিতে চায়। বলুন, তোমরা কিছুতেই আমাদের সংগী হইতে পারিবে না। আল্লাহ পূর্বেই এইরূপ ঘোষণা করিয়াছেন। উহারা অবশ্যই বলিবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিতেছ। বস্তুত উহাদের বোধশক্তি সামান্য" (৪৮: ১৫; সীরাতে মুহসিনি কাইনাত, পৃ. ২৮৬; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
মূসা ইব্ন উকবা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিয়া মদীনায় বিশ দিন অথবা বিশের কাছাকাছি সময়কাল অবস্থান করিবার পর খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করিয়াছিলেন। তিনি ইমাম যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ শুরু হইয়াছিল হিজরী ষষ্ঠ সনে। কিন্তু বিশুদ্ধতম অভিমত হইল খায়বারের যুদ্ধ হিজরী সপ্তম সনের সূচনাক্ষণে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪ খ., পৃ. ১৮৩)।
ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের উদ্দেশে ৭ম হিজরী সনের মুহাররাম মাসের শেষ দিকে রওয়ানা করিয়া দশের অধিক দিবস পর্যন্ত ইহা অবরোধ করিয়া রাখেন এবং ইহা সফর মাসে বিজিত হয়। আল-মিসওয়ার ও মারওয়ান হইতে ইন্ন ইসহাকের বরাতে ইউনুস ইব্ন বুকায়র অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন। তিনি মদীনায় যিলহজ্জ মাসে আগমন করেন এবং মাস অবধি তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর মুহাররম মাসে খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
ইব্ন আব্বাস (রা)-এর হাদীছ সূত্রে ইন্ন আইয-এর অভিমত হইল, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিবার পর মদীনায় দশদিন অবস্থান করিয়াছিলেন। সুলায়মান আত-তায়সীর মাগাযীতে উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) পনের দিন মদীনায় অবস্থান করিয়াছিলেন। ইবনুত-তীন ইবনুল হিসার-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা ইমাম মালিক (র) হইতে বর্ণিত (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)। ইব্ন হাযম এই অভিমতের উপর কঠোর মনোভাব পোষণ করিয়াছেন। ইন্ন ইসহাকের অভিমত যে, খায়বার ৭ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। উহা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত।
সবগুলি অভিমতের মধ্যে এইরূপে সমন্বয় সাধন সম্ভব যে, যাহারা ৬ষ্ঠ হিজরী সনের অভিমত পোষণ করেন তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরতের মাস রবীউল আওয়াল হইতে হিজরী সাল গণনা করেন। আল-হাকেম ওয়াকিদী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন এবং ইবন সা'দও অনুরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ জুমাদাল উলা মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আল-ওয়াকিদীর মাগাযীতে আছে যে, এই যুদ্ধ সফর মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কেহ কেহ অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, রাবীউল আওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, ইবন সা'দ ও ইব্ন আবী শায়বা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত খায়বার অভিমুখে রমযানের ১৮ তারিখে রওয়ানা করিয়াছিলাম। আবূ সাঈদ (রা)-এর এই হাদীছের সনদ হাসান পর্যায়ের হইলেও ইহা ত্রুটিপূর্ণ। সম্ভবত ইহাতে হুনায়নের কথা বলা হইয়াছিল, কিন্তু তাহাতে শব্দ চয়নে ত্রুটি হইয়াছে। কারণ হুনায়ন যুদ্ধ মক্কা বিজয়ের পরে সংঘটিত হইয়াছিল, আর মক্কা বিজয় অভিযানে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (স) রমযান মাসে বাহির হইয়াছিলেন। আশ-শায়খ আবু হামিদ আত-তা'লীকা গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৫ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা একটি ভুল ধারণা। সম্ভবত তিনি ইহা দ্বারা খন্দক বুঝাইয়াছেন (ফাতহুল-বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
وَاعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنْكُمْ وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا.
"আল্লাহ তোমাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যাহার অধিকারী হইবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন এবং তিনি তোমাদিগ হইতে মানুষের হস্ত নিবারিত করিয়াছেন, যেন ইহা হয় মু'মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ তোমাদিগকে পরিচালিত করেন সরল পথে" (৪৮: ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সূরা আল-ফাতহ অবতীর্ণ হয়। ইহাতে আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষত বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদিগকে এই প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছিলেন যে, তোমরা অনেক বিজয় অর্জন করিবে এবং যুদ্ধে লভ্য সম্পদের অধিকারী হইবে। কার্যত তিনি এই বায়'আতুর রিদওয়ানের পুরস্কার হিসাবে খায়বারের বিজয় দান করিলেন এবং মক্কা বিজয় অর্জিত হইবে।
فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ )ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন)। এমনকি উক্ত সূরার ১৮ আয়াতের শেষাংশ وَآثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا )এবং তাহাদিগকে পুরষ্কার দিলেন আসন্ন বিজয়( ইহাতেও আসন্ন বিজয় দ্বারা খায়বারের বিজয় বুঝানো হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া মদীনায় পৌঁছিলেন। তিনি যিলহজ্জ ও মুহাররামের প্রথমদিকের দিনগুলিতে মদীনাতেই অবস্থান করিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে খায়বারের উদ্দেশে অভিযান চালানোর আদেশ দেওয়া হইল। ইহা বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীদিগের আবাস স্থল। ইহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া আহযাব যুদ্ধে মক্কার কাফিরদিগকে মদীনা আক্রমণে উদ্যত করিয়াছিল। মহান আল্লাহ এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে জানাইয়া দিলেন যে, খায়বারের বিজয়ের সুসংবাদ প্রাপ্ত হইয়া মুনাফিকরাও আপনার পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবার আবেদন করিবে। আপনি কোন অবস্থাতেই ইহাদিগকে এই অভিযানে আপনার সংগে অংশগ্রহণ করিতে দিবেন না। এই ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়:
سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذَا انْطَلَقْتُمْ إِلَى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلامَ اللهِ قُلْ لَنْ تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُمْ قَالَ اللهُ مِنْ قَبْلُ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا بَلْ كَانُوا لَا يَفْقَهُونَ إِلا قَلِيلاً.
"তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাইবে তখন যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গিয়াছিল তাহারা বলিবে, আমাদিগকে তোমাদের সংগে যাইতে দাও। উহারা আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করিতে চায়। বলুন, তোমরা কিছুতেই আমাদের সংগী হইতে পারিবে না। আল্লাহ পূর্বেই এইরূপ ঘোষণা করিয়াছেন। উহারা অবশ্যই বলিবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিতেছ। বস্তুত উহাদের বোধশক্তি সামান্য" (৪৮: ১৫; সীরাতে মুহসিনি কাইনাত, পৃ. ২৮৬; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
মূসা ইব্ন উকবা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিয়া মদীনায় বিশ দিন অথবা বিশের কাছাকাছি সময়কাল অবস্থান করিবার পর খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করিয়াছিলেন। তিনি ইমাম যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ শুরু হইয়াছিল হিজরী ষষ্ঠ সনে। কিন্তু বিশুদ্ধতম অভিমত হইল খায়বারের যুদ্ধ হিজরী সপ্তম সনের সূচনাক্ষণে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪ খ., পৃ. ১৮৩)।
ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের উদ্দেশে ৭ম হিজরী সনের মুহাররাম মাসের শেষ দিকে রওয়ানা করিয়া দশের অধিক দিবস পর্যন্ত ইহা অবরোধ করিয়া রাখেন এবং ইহা সফর মাসে বিজিত হয়। আল-মিসওয়ার ও মারওয়ান হইতে ইন্ন ইসহাকের বরাতে ইউনুস ইব্ন বুকায়র অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন। তিনি মদীনায় যিলহজ্জ মাসে আগমন করেন এবং মাস অবধি তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর মুহাররাম মাসে খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
ইব্ন আব্বাস (রা)-এর হাদীছ সূত্রে ইন্ন আইয-এর অভিমত হইল, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিবার পর মদীনায় দশদিন অবস্থান করিয়াছিলেন। সুলায়মান আত-তায়সীর মাগাযীতে উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) পনের দিন মদীনায় অবস্থান করিয়াছিলেন। ইবনুত-তীন ইবনুল হিসার-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা ইমাম মালিক (র) হইতে বর্ণিত (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)। ইব্ন হাযম এই অভিমতের উপর কঠোর মনোভাব পোষণ করিয়াছেন। ইন্ন ইসহাকের অভিমত যে, খায়বার ৭ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। উহা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত।
সবগুলি অভিমতের মধ্যে এইরূপে সমন্বয় সাধন সম্ভব যে, যাহারা ৬ষ্ঠ হিজরী সনের অভিমত পোষণ করেন তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরতের মাস রবীউল আওয়াল হইতে হিজরী সাল গণনা করেন। আল-হাকেম ওয়াকিদী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন এবং ইবন সা'দও অনুরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ জুমাদাল উলা মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আল-ওয়াকিদীর মাগাযীতে আছে যে, এই যুদ্ধ সফর মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কেহ কেহ অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, রাবীউল আওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, ইবন সা'দ ও ইব্ন আবী শায়বা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত খায়বার অভিমুখে রমযানের ১৮ তারিখে রওয়ানা করিয়াছিলাম। আবূ সাঈদ (রা)-এর এই হাদীছের সনদ হাসান পর্যায়ের হইলেও ইহা ত্রুটিপূর্ণ। সম্ভবত ইহাতে হুনায়নের কথা বলা হইয়াছিল, কিন্তু তাহাতে শব্দ চয়নে ত্রুটি হইয়াছে। কারণ হুনায়ন যুদ্ধ মক্কা বিজয়ের পরে সংঘটিত হইয়াছিল, আর মক্কা বিজয় অভিযানে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (স) রমযান মাসে বাহির হইয়াছিলেন। আশ-শায়খ আবু হামিদ আত-তা'লীকা গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৫ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা একটি ভুল ধারণা। সম্ভবত তিনি ইহা দ্বারা খন্দক বুঝাইয়াছেন (ফাতহুল-বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
وَاعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنْكُمْ وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا.
"আল্লাহ তোমাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যাহার অধিকারী হইবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন এবং তিনি তোমাদিগ হইতে মানুষের হস্ত নিবারিত করিয়াছেন, যেন ইহা হয় মু'মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ তোমাদিগকে পরিচালিত করেন সরল পথে" (৪৮: ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সূরা আল-ফাতহ অবতীর্ণ হয়। ইহাতে আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষত বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদিগকে এই প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছিলেন যে, তোমরা অনেক বিজয় অর্জন করিবে এবং যুদ্ধে লভ্য সম্পদের অধিকারী হইবে। কার্যত তিনি এই বায়'আতুর রিদওয়ানের পুরস্কার হিসাবে খায়বারের বিজয় দান করিলেন এবং মক্কা বিজয় অর্জিত হইবে।
فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ )ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন)। এমনকি উক্ত সূরার ১৮ আয়াতের শেষাংশ وَآثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا )এবং তাহাদিগকে পুরষ্কার দিলেন আসন্ন বিজয়( ইহাতেও আসন্ন বিজয় দ্বারা খায়বারের বিজয় বুঝানো হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া মদীনায় পৌঁছিলেন। তিনি যিলহজ্জ ও মুহাররামের প্রথমদিকের দিনগুলিতে মদীনাতেই অবস্থান করিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে খায়বারের উদ্দেশে অভিযান চালানোর আদেশ দেওয়া হইল। ইহা বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীদিগের আবাস স্থল। ইহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া আহযাব যুদ্ধে মক্কার কাফিরদিগকে মদীনা আক্রমণে উদ্যত করিয়াছিল। মহান আল্লাহ এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে জানাইয়া দিলেন যে, খায়বারের বিজয়ের সুসংবাদ প্রাপ্ত হইয়া মুনাফিকরাও আপনার পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবার আবেদন করিবে। আপনি কোন অবস্থাতেই ইহাদিগকে এই অভিযানে আপনার সংগে অংশগ্রহণ করিতে দিবেন না। এই ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়:
سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذَا انْطَلَقْتُمْ إِلَى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلامَ اللهِ قُلْ لَنْ تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُمْ قَالَ اللهُ مِنْ قَبْلُ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا بَلْ كَانُوا لَا يَفْقَهُونَ إِلا قَلِيلاً.
"তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাইবে তখন যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গিয়াছিল তাহারা বলিবে, আমাদিগকে তোমাদের সংগে যাইতে দাও। উহারা আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করিতে চায়। বলুন, তোমরা কিছুতেই আমাদের সংগী হইতে পারিবে না। আল্লাহ পূর্বেই এইরূপ ঘোষণা করিয়াছেন। উহারা অবশ্যই বলিবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিতেছ। বস্তুত উহাদের বোধশক্তি সামান্য" (৪৮: ১৫; সীরাতে মুহসিনি কাইনাত, পৃ. ২৮৬; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
মূসা ইব্ন উকবা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিয়া মদীনায় বিশ দিন অথবা বিশের কাছাকাছি সময়কাল অবস্থান করিবার পর খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করিয়াছিলেন। তিনি ইমাম যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ শুরু হইয়াছিল হিজরী ষষ্ঠ সনে। কিন্তু বিশুদ্ধতম অভিমত হইল খায়বারের যুদ্ধ হিজরী সপ্তম সনের সূচনাক্ষণে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪ খ., পৃ. ১৮৩)।
ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের উদ্দেশে ৭ম হিজরী সনের মুহাররাম মাসের শেষ দিকে রওয়ানা করিয়া দশের অধিক দিবস পর্যন্ত ইহা অবরোধ করিয়া রাখেন এবং ইহা সফর মাসে বিজিত হয়। আল-মিসওয়ার ও মারওয়ান হইতে ইন্ন ইসহাকের বরাতে ইউনুস ইব্ন বুকায়র অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন। তিনি মদীনায় যিলহজ্জ মাসে আগমন করেন এবং মাস অবধি তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর মুহাররাম মাসে খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
ইব্ন আব্বাস (রা)-এর হাদীছ সূত্রে ইন্ন আইয-এর অভিমত হইল, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিবার পর মদীনায় দশদিন অবস্থান করিয়াছিলেন। সুলায়মান আত-তায়সীর মাগাযীতে উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) পনের দিন মদীনায় অবস্থান করিয়াছিলেন। ইবনুত-তীন ইবনুল হিসার-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা ইমাম মালিক (র) হইতে বর্ণিত (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)। ইব্ন হাযম এই অভিমতের উপর কঠোর মনোভাব পোষণ করিয়াছেন। ইন্ন ইসহাকের অভিমত যে, খায়বার ৭ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। উহা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত।
সবগুলি অভিমতের মধ্যে এইরূপে সমন্বয় সাধন সম্ভব যে, যাহারা ৬ষ্ঠ হিজরী সনের অভিমত পোষণ করেন তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরতের মাস রবীউল আওয়াল হইতে হিজরী সাল গণনা করেন। আল-হাকেম ওয়াকিদী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন এবং ইবন সা'দও অনুরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ জুমাদাল উলা মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আল-ওয়াকিদীর মাগাযীতে আছে যে, এই যুদ্ধ সফর মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কেহ কেহ অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, রাবীউল আওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, ইবন সা'দ ও ইব্ন আবী শায়বা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত খায়বার অভিমুখে রমযানের ১৮ তারিখে রওয়ানা করিয়াছিলাম। আবূ সাঈদ (রা)-এর এই হাদীছের সনদ হাসান পর্যায়ের হইলেও ইহা ত্রুটিপূর্ণ। সম্ভবত ইহাতে হুনায়নের কথা বলা হইয়াছিল, কিন্তু তাহাতে শব্দ চয়নে ত্রুটি হইয়াছে। কারণ হুনায়ন যুদ্ধ মক্কা বিজয়ের পরে সংঘটিত হইয়াছিল, আর মক্কা বিজয় অভিযানে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (স) রমযান মাসে বাহির হইয়াছিলেন। আশ-শায়খ আবু হামিদ আত-তা'লীকা গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৫ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা একটি ভুল ধারণা। সম্ভবত তিনি ইহা দ্বারা খন্দক বুঝাইয়াছেন (ফাতহুল-বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
وَعدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَها فَعَجَّلَ لَكُم هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنكُم وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤمِنِينَ وَيَهدِيَكُم صِرَاطًا مُّستَقِيمًا.
"আল্লাহ তোমাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যাহার অধিকারী হইবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন এবং তিনি তোমাদিগ হইতে মানুষের হস্ত নিবারিত করিয়াছেন, যেন ইহা হয় মু'মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ তোমাদিগকে পরিচালিত করেন সরল পথে" (৪৮: ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সূরা আল-ফাতহ অবতীর্ণ হয়। ইহাতে আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষত বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদিগকে এই প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছিলেন যে, তোমরা অনেক বিজয় অর্জন করিবে এবং যুদ্ধে লভ্য সম্পদের অধিকারী হইবে। কার্যত তিনি এই বায়'আতুর রিদওয়ানের পুরস্কার হিসাবে খায়বারের বিজয় দান করিলেন এবং মক্কা বিজয় অর্জিত হইবে।
فَعَجَّلَ لَكُم هَذِهِ (ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন)। এমনকি উক্ত সূরার ১৮ আয়াতের শেষাংশ وَآثابَهُم فَتحًا قَرِيبًا (এবং তাহাদিগকে পুরষ্কার দিলেন আসন্ন বিজয়) ইহাতেও আসন্ন বিজয় দ্বারা খায়বারের বিজয় বুঝানো হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া মদীনায় পৌঁছিলেন। তিনি যিলহজ্জ ও মুহাররামের প্রথমদিকের দিনগুলিতে মদীনাতেই অবস্থান করিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে খায়বারের উদ্দেশে অভিযান চালানোর আদেশ দেওয়া হইল। ইহা বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীদিগের আবাস স্থল। ইহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া আহযাব যুদ্ধে মক্কার কাফিরদিগকে মদীনা আক্রমণে উদ্যত করিয়াছিল। মহান আল্লাহ এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে জানাইয়া দিলেন যে, খায়বারের বিজয়ের সুসংবাদ প্রাপ্ত হইয়া মুনাফিকরাও আপনার পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবার আবেদন করিবে। আপনি কোন অবস্থাতেই ইহাদিগকে এই অভিযানে আপনার সংগে অংশগ্রহণ করিতে দিবেন না। এই ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়:
سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذا انطَلَقْتُم إلى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوها ذَرُونا نَتَّبِعْكُم يُرِيدُونَ أن يُبَدِّلُوا كَلامَ اللهِ قُل لَن تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُم قالَ اللَّهُ مِن قَبلُ فَسَيَقُولُونَ بَل تَحسُدُونَنا بَل كَانُوا لا يَفْقَهُونَ إلّا قَلِيلًا.
"তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাইবে তখন যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গিয়াছিল তাহারা বলিবে, আমাদিগকে তোমাদের সংগে যাইতে দাও। উহারা আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করিতে চায়। বলুন, তোমরা কিছুতেই আমাদের সংগী হইতে পারিবে না। আল্লাহ পূর্বেই এইরূপ ঘোষণা করিয়াছেন। উহারা অবশ্যই বলিবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিতেছ। বস্তুত উহাদের বোধশক্তি সামান্য" (৪৮: ১৫; সীরাতে মুহসিনি কাইনাত, পৃ. ২৮৬; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
মূসা ইব্ন উকবা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিয়া মদীনায় বিশ দিন অথবা বিশের কাছাকাছি সময়কাল অবস্থান করিবার পর খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করিয়াছিলেন। তিনি ইমাম যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ শুরু হইয়াছিল হিজরী ষষ্ঠ সনে। কিন্তু বিশুদ্ধতম অভিমত হইল খায়বারের যুদ্ধ হিজরী সপ্তম সনের সূচনাক্ষণে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪ খ., পৃ. ১৮৩)।
ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের উদ্দেশে ৭ম হিজরী সনের মুহাররাম মাসের শেষ দিকে রওয়ানা করিয়া দশের অধিক দিবস পর্যন্ত ইহা অবরোধ করিয়া রাখেন এবং ইহা সফর মাসে বিজিত হয়। আল-মিসওয়ার ও মারওয়ান হইতে ইন্ন ইসহাকের বরাতে ইউনুস ইব্ন বুকায়র অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন। তিনি মদীনায় যিলহজ্জ মাসে আগমন করেন এবং মাস অবধি তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর মুহাররাম মাসে খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
ইব্ন আব্বাস (রা)-এর হাদীছ সূত্রে ইন্ন আইয-এর অভিমত হইল, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিবার পর মদীনায় দশদিন অবস্থান করিয়াছিলেন। সুলায়মান আত-তায়সীর মাগাযীতে উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) পনের দিন মদীনায় অবস্থান করিয়াছিলেন। ইবনুত-তীন ইবনুল হিসার-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা ইমাম মালিক (র) হইতে বর্ণিত (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)। ইব্ন হাযম এই অভিমতের উপর কঠোর মনোভাব পোষণ করিয়াছেন। ইন্ন ইসহাকের অভিমত যে, খায়বার ৭ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। উহা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত।
সবগুলি অভিমতের মধ্যে এইরূপে সমন্বয় সাধন সম্ভব যে, যাহারা ৬ষ্ঠ হিজরী সনের অভিমত পোষণ করেন তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরতের মাস রবীউল আওয়াল হইতে হিজরী সাল গণনা করেন। আল-হাকেম ওয়াকিদী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন এবং ইবন সা'দও অনুরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ জুমাদাল উলা মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আল-ওয়াকিদীর মাগাযীতে আছে যে, এই যুদ্ধ সফর মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কেহ কেহ অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, রাবীউল আওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, ইবন সা'দ ও ইব্ন আবী শায়বা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত খায়বার অভিমুখে রমযানের ১৮ তারিখে রওয়ানা করিয়াছিলাম। আবূ সাঈদ (রা)-এর এই হাদীছের সনদ হাসান পর্যায়ের হইলেও ইহা ত্রুটিপূর্ণ। সম্ভবত ইহাতে হুনায়নের কথা বলা হইয়াছিল, কিন্তু তাহাতে শব্দ চয়নে ত্রুটি হইয়াছে। কারণ হুনায়ন যুদ্ধ মক্কা বিজয়ের পরে সংঘটিত হইয়াছিল, আর মক্কা বিজয় অভিযানে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (স) রমযান মাসে বাহির হইয়াছিলেন। আশ-শায়খ আবু হামিদ আত-তা'লীকা গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৫ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা একটি ভুল ধারণা। সম্ভবত তিনি ইহা দ্বারা খন্দক বুঝাইয়াছেন (ফাতহুল-বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
📄 খায়বার অভিযানের কারণ
মদীনা মুনাওয়ারা হইতে বহিষ্কৃত বানু নাদীর গোত্রের ইয়াহুদীরা খায়বারে আসিয়া বসতি স্থাপন করে। খন্দকের যুদ্ধ ইহাদিগের প্ররোচনায় সংঘটিত হইয়াছিল। এই সকল ইয়াহুদী নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়াতে কুরায়শদের চাহিদা মুতাবিক শর্তসমূহ মানিয়া লইয়াছিলেন। তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, মুসলমানগণের যুদ্ধে কুরায়শ নিরপেক্ষ থাকিবে। এই চুক্তি সম্পাদনের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকেন। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে তিনি পনের শত সাহাবীর একটি বাহিনী লইয়া মদীনা হইতে যাত্রা করেন (দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর, ৯খ, পৃ. ৬৯)।
খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছুদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (স) একটি ফরমান জারী করিয়াছিলেন যে, যাহারা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন কেবল তাহারাই এই অভিযানে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, অন্য কেহ নয়। কারণ খায়বরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হইল বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কারস্বরূপ যাহা পূর্বোক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৪)।
মদীনা মুনাওয়ারা হইতে বহিষ্কৃত বানু নাদীর গোত্রের ইয়াহুদীরা খায়বারে আসিয়া বসতি স্থাপন করে। খন্দকের যুদ্ধ ইহাদিগের প্ররোচনায় সংঘটিত হইয়াছিল। এই সকল ইয়াহুদী নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়াতে কুরায়শদের চাহিদা মুতাবিক শর্তসমূহ মানিয়া লইয়াছিলেন। তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, মুসলমানগণের যুদ্ধে কুরায়শ নিরপেক্ষ থাকিবে। এই চুক্তি সম্পাদনের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকেন। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে তিনি পনের শত সাহাবীর একটি বাহিনী লইয়া মদীনা হইতে যাত্রা করেন (দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর, ৯খ, পৃ. ৬৯)।
খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছুদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (স) একটি ফরমান জারী করিয়াছিলেন যে, যাহারা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন কেবল তাহারাই এই অভিযানে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, অন্য কেহ নয়। কারণ খায়বরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হইল বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কারস্বরূপ যাহা পূর্বোক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৪)।
মদীনা মুনাওয়ারা হইতে বহিষ্কৃত বানু নাদীর গোত্রের ইয়াহুদীরা খায়বারে আসিয়া বসতি স্থাপন করে। খন্দকের যুদ্ধ ইহাদিগের প্ররোচনায় সংঘটিত হইয়াছিল। এই সকল ইয়াহুদী নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়াতে কুরায়শদের চাহিদা মুতাবিক শর্তসমূহ মানিয়া লইয়াছিলেন। তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, মুসলমানগণের যুদ্ধে কুরায়শ নিরপেক্ষ থাকিবে। এই চুক্তি সম্পাদনের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকেন। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে তিনি পনের শত সাহাবীর একটি বাহিনী লইয়া মদীনা হইতে যাত্রা করেন (দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর, ৯খ, পৃ. ৬৯)।
খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছুদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (স) একটি ফরমান জারী করিয়াছিলেন যে, যাহারা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন কেবল তাহারাই এই অভিযানে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, অন্য কেহ নয়। কারণ খায়বরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হইল বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কারস্বরূপ যাহা পূর্বোক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৪)।
মদীনা মুনাওয়ারা হইতে বহিষ্কৃত বানু নাদীর গোত্রের ইয়াহুদীরা খায়বারে আসিয়া বসতি স্থাপন করে। খন্দকের যুদ্ধ ইহাদিগের প্ররোচনায় সংঘটিত হইয়াছিল। এই সকল ইয়াহুদী নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়াতে কুরায়শদের চাহিদা মুতাবিক শর্তসমূহ মানিয়া লইয়াছিলেন। তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, মুসলমানগণের যুদ্ধে কুরায়শ নিরপেক্ষ থাকিবে। এই চুক্তি সম্পাদনের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকেন। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে তিনি পনের শত সাহাবীর একটি বাহিনী লইয়া মদীনা হইতে যাত্রা করেন (দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর, ৯খ, পৃ. ৬৯)।
খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছুদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (স) একটি ফরমান জারী করিয়াছিলেন যে, যাহারা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন কেবল তাহারাই এই অভিযানে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, অন্য কেহ নয়। কারণ খায়বরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হইল বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কারস্বরূপ যাহা পূর্বোক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৪)।
📄 মদীনা হইতে যাত্রা
যাত্রাকালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় নুমায়লা ইবন 'আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করেন, অতঃপর 'আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-এর হাতে যুদ্ধের পতাকা হস্তান্তর করেন। পতাকাটি ছিল শ্বেত বর্ণের (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২২৪)। ভিন্নমতে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫; মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদ: গোলাম মুঈনুদ্দীন ২খ., পৃ. ৪০১; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৩)। ইব্ন হাজার আল-আসকালানী বলেন, সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিয়োগ করার অভিমত অধিকতর শুদ্ধ ও ইহাই প্রসিদ্ধ (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৫)। এই ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (র) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ উল্লেখযোগ্য। 'ইরাক ইবন মালিক (রা) বলেনঃ নবী (স) যখন খায়বারে ছিলেন, তখন আবূ হুরায়রা (রা) তাঁহার গোত্রীয় একদল লোকের সহিত মদীনা আগমন করিলেন। এই সময় সিবা ইব্ন উরফুতা আল-গাতাফানী (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হইয়াছিল। আবূ হুরায়রা (রা) সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে ফজরের সালাত আদায়রত পাইলেন। তিনি প্রথম রাক'আতে কাফ-হা ইয়া 'আয়ন-সা'দ (كهيعص) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে ওয়ায়লুল্লিল মুতাফফিফীন (وَيْلٌ لِّلْمُطفّفين) পড়িতেছিলেন। তাঁহার এই কিরাআত শুনিয়া আবূ হুরায়রা (রা) মনে মনে বলিলেন, অমুক ব্যক্তির সর্বনাশ হউক! তাহার দুইটি মাপযন্ত্র রহিয়াছে। সে যখন নিজের জন্য মাপে তখন পুরাপুরি গ্রহণ করে আর অন্যকে মাপিয়া দিবার সময় কম দেয়। সালাত সমাপ্ত করার পর তিনি সিবা ইন্ন উরফুতা (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গমন করিলেন এবং মুসলমানগণের সহিত কথা বলিলেন। মুসলমানগণ তাঁহাকে তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অংশীদার করিয়া লইলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়্যা, ২/৪খ., পৃ. ১৮৩; যাদুল মা'আদ, ১/২খ., পৃ. ১৩৩)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বার শত মুসলিম পদাতিক বাহিনী এবং দুই শত, মতান্তরে তিন শত অশ্বারোহী ছিলেন। তাহাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক উটও ছিল। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রা)-ও এই যুদ্ধে রাসূলুল্লহ (স)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন। উমায়মা বিন্ত-সালত গিফারিয়্যা বানু গিফারের কয়েকজন মহিলাসহ সঙ্গে ছিলেন। তাহাদের কাজ ছিল পীড়িতদের সেবা করা। অন্য গোত্রের কিছু মহিলাও এই সেবিকা দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) বলেন, আমরা রাত্রিকালে পথ অতিক্রম করিতেছিলাম আর আমার চাচা আমর ইবনুল আকওয়া (রা) এবং কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী আমার ভ্রাতা আমের নিম্নোক্ত কৃবিতার চরণগুলি পুন পুন আবৃত্তি করিতে থাকেন:
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا + وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَاغْفِرْ فِدَا لَكَ مَا أَبْقَيْنَا + وَلَقِّنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا + إِنَّا إِذَا صِيحَ بِنَا تَيْنَا وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا + وَبِالصِّيَاحِ عَوْلُوا عَلَيْنَا .
"হে আল্লাহ! যদি তোমার আশীষ না হইত তাহা হইলে আমরা সৎপথের দিশা পাইতাম না; না আমরা সাদাকা (যাকাত) আদায় করিতাম, না সালাত আদায় করিতাম। অতএব, হে মহান প্রভু! তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমরা ভূপৃষ্ঠে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তোমার জন্য কুরবান। তুমি আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ কর, শত্রুদের মুকাবিলায় আমাদের দৃঢ়পদ রাখ, আর যখন শত্রুরা মুকাবিলার জন্য আহ্বান করিবে তখন যেন আমরা অগ্রসর হইতে পারি, তাহাদিগের আহ্বানের সময় আমরা নিজেদের উপর আস্থাশীল হইতে পারি, আমাদিগকে ফেতনায় জড়াইতে চাহিলে যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করিতে পারি"।
এই কবিতাগুচ্ছের রচয়িতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) খোদ এই কবিতার ছন্দ মিলাইয়া খনদকের যুদ্ধে আবৃত্তি করিয়াছেন। আমের (রা)-এর কণ্ঠ ছিল খুবই সুমধুর। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইনি কে? লোকজন উত্তর দিল, আমের ইবনুল আকওয়া (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আল্লাহ তাহার উপর রহম করুন কিম্বা আল্লাহ তাহাকে ক্ষমা করুন। সাহাবীগণের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল যে, যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও এই দু'আ করিলে তিনি শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করিতেন। এই কারণে উমার ইবনুল খাত্তাব কিংবা অন্য কোন সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! তাঁহার শাহাদাত অবধারিত হইয়া গিয়াছে। আহ! যদি তিনি আরও কিছু দিন বাঁচিয়া থাকিতেন এবং আমাদেরকে তাহার সুমধুর সুরে কাব্যগাঁথা শুনাইতেন তাহা হইলে উপকৃত হইতে পারিতাম। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের নিকটবর্তী আস-সাহবা নামক স্থানে উপনীত হইলেন তখন আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আহার গ্রহণ করেন। খাদ্য হিসাবে ছিল শুধু ছাতু। রাসূলুল্লাহ (স) ও সকল সাহাবী উহাই আহার করেন। তাহার পরে সকলে কুলি করিয়া মাগরিবের সালাত আদায় করেন, কেহই (আহার গ্রহণ জনিত কারণে) উযু করেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫,১৮৬; যাদুল মা'আদ, ১/২ খ., পৃ. ১৩৩)।
যাত্রাকালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় নুমায়লা ইবন 'আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করেন, অতঃপর 'আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-এর হাতে যুদ্ধের পতাকা হস্তান্তর করেন। পতাকাটি ছিল শ্বেত বর্ণের (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২২৪)। ভিন্নমতে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫; মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদ: গোলাম মুঈনুদ্দীন ২খ., পৃ. ৪০১; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৩)। ইব্ন হাজার আল-আসকালানী বলেন, সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিয়োগ করার অভিমত অধিকতর শুদ্ধ ও ইহাই প্রসিদ্ধ (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৫)। এই ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (র) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ উল্লেখযোগ্য। 'ইরাক ইবন মালিক (রা) বলেনঃ নবী (স) যখন খায়বারে ছিলেন, তখন আবূ হুরায়রা (রা) তাঁহার গোত্রীয় একদল লোকের সহিত মদীনা আগমন করিলেন। এই সময় সিবা ইব্ন উরফুতা আল-গাতাফানী (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হইয়াছিল। আবূ হুরায়রা (রা) সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে ফজরের সালাত আদায়রত পাইলেন। তিনি প্রথম রাক'আতে কাফ-হা ইয়া 'আয়ন-সা'দ (كهيعص) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে ওয়ায়লুল্লিল মুতাফফিফীন (وَيْلٌ لِّلْمُطفّفين) পড়িতেছিলেন। তাঁহার এই কিরাআত শুনিয়া আবূ হুরায়রা (রা) মনে মনে বলিলেন, অমুক ব্যক্তির সর্বনাশ হউক! তাহার দুইটি মাপযন্ত্র রহিয়াছে। সে যখন নিজের জন্য মাপে তখন পুরাপুরি গ্রহণ করে আর অন্যকে মাপিয়া দিবার সময় কম দেয়। সালাত সমাপ্ত করার পর তিনি সিবা ইন্ন উরফুতা (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গমন করিলেন এবং মুসলমানগণের সহিত কথা বলিলেন। মুসলমানগণ তাঁহাকে তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অংশীদার করিয়া লইলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৮৩; যাদুল মা'আদ, ১/২খ., পৃ. ১৩৩)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বার শত মুসলিম পদাতিক বাহিনী এবং দুই শত, মতান্তরে তিন শত অশ্বারোহী ছিলেন। তাহাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক উটও ছিল। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রা)-ও এই যুদ্ধে রাসূলুল্লহ (স)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন। উমায়মা বিন্ত-সালত গিফারিয়্যা বানু গিফারের কয়েকজন মহিলাসহ সঙ্গে ছিলেন। তাহাদের কাজ ছিল পীড়িতদের সেবা করা। অন্য গোত্রের কিছু মহিলাও এই সেবিকা দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) বলেন, আমরা রাত্রিকালে পথ অতিক্রম করিতেছিলাম আর আমার চাচা আমর ইবনুল আকওয়া (রা) এবং কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী আমার ভ্রাতা আমের নিম্নোক্ত কৃবিতার চরণগুলি পুন পুন আবৃত্তি করিতে থাকেন:
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا + وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَاغْفِرْ فِدَا لَكَ مَا أَبْقَيْنَا + وَلَقِّنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا + إِنَّا إِذَا صِيحَ بِنَا تَيْنَا وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا + وَبِالصِّيَاحِ عَوْلُوا عَلَيْنَا .
"হে আল্লাহ! যদি তোমার আশীষ না হইত তাহা হইলে আমরা সৎপথের দিশা পাইতাম না; না আমরা সাদাকা (যাকাত) আদায় করিতাম, না সালাত আদায় করিতাম। অতএব, হে মহান প্রভু! তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমরা ভূপৃষ্ঠে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তোমার জন্য কুরবান। তুমি আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ কর, শত্রুদের মুকাবিলায় আমাদের দৃঢ়পদ রাখ, আর যখন শত্রুরা মুকাবিলার জন্য আহ্বান করিবে তখন যেন আমরা অগ্রসর হইতে পারি, তাহাদিগের আহ্বানের সময় আমরা নিজেদের উপর আস্থাশীল হইতে পারি, আমাদিগকে ফেতনায় জড়াইতে চাহিলে যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করিতে পারি"।
এই কবিতাগুচ্ছের রচয়িতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) খোদ এই কবিতার ছন্দ মিলাইয়া খনদকের যুদ্ধে আবৃত্তি করিয়াছেন। আমের (রা)-এর কণ্ঠ ছিল খুবই সুমধুর। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইনি কে? লোকজন উত্তর দিল, আমের ইবনুল আকওয়া (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আল্লাহ তাহার উপর রহম করুন কিম্বা আল্লাহ তাহাকে ক্ষমা করুন। সাহাবীগণের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল যে, যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও এই দু'আ করিলে তিনি শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করিতেন। এই কারণে উমার ইবনুল খাত্তাব কিংবা অন্য কোন সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! তাঁহার শাহাদাত অবধারিত হইয়া গিয়াছে। আহ! যদি তিনি আরও কিছু দিন বাঁচিয়া থাকিতেন এবং আমাদেরকে তাহার সুমধুর সুরে কাব্যগাঁথা শুনাইতেন তাহা হইলে উপকৃত হইতে পারিতাম। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের নিকটবর্তী আস-সাহবা নামক স্থানে উপনীত হইলেন তখন আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আহার গ্রহণ করেন। খাদ্য হিসাবে ছিল শুধু ছাতু। রাসূলুল্লাহ (স) ও সকল সাহাবী উহাই আহার করেন। তাহার পরে সকলে কুলি করিয়া মাগরিবের সালাত আদায় করেন, কেহই (আহার গ্রহণ জনিত কারণে) উযু করেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫,১৮৬; যাদুল মা'আদ, ১/২ খ., পৃ. ১৩৩)।
যাত্রাকালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় নুমায়লা ইবন 'আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করেন, অতঃপর 'আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-এর হাতে যুদ্ধের পতাকা হস্তান্তর করেন। পতাকাটি ছিল শ্বেত বর্ণের (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২২৪)। ভিন্নমতে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫; মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদ: গোলাম মুঈনুদ্দীন ২খ., পৃ. ৪০১; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৩)। ইব্ন হাজার আল-আসকালানী বলেন, সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিয়োগ করার অভিমত অধিকতর শুদ্ধ ও ইহাই প্রসিদ্ধ (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৫)। এই ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (র) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ উল্লেখযোগ্য। 'ইরাক ইবন মালিক (রা) বলেনঃ নবী (স) যখন খায়বারে ছিলেন, তখন আবূ হুরায়রা (রা) তাঁহার গোত্রীয় একদল লোকের সহিত মদীনা আগমন করিলেন। এই সময় সিবা ইব্ন উরফুতা আল-গাতাফানী (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হইয়াছিল। আবূ হুরায়রা (রা) সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে ফজরের সালাত আদায়রত পাইলেন। তিনি প্রথম রাক'আতে কাফ-হা ইয়া 'আয়ন-সা'দ (كهيعص) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে ওয়ায়লুল্লিল মুতাফফিফীন (وَيْلٌ لِّلْمُطفّفين) পড়িতেছিলেন। তাঁহার এই কিরাআত শুনিয়া আবূ হুরায়রা (রা) মনে মনে বলিলেন, অমুক ব্যক্তির সর্বনাশ হউক! তাহার দুইটি মাপযন্ত্র রহিয়াছে। সে যখন নিজের জন্য মাপে তখন পুরাপুরি গ্রহণ করে আর অন্যকে মাপিয়া দিবার সময় কম দেয়। সালাত সমাপ্ত করার পর তিনি সিবা ইন্ন উরফুতা (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট গমন করিলেন এবং মুসলমানগণের সহিত কথা বলিলেন। মুসলমানগণ তাঁহাকে তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অংশীদার করিয়া লইলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৮৩; যাদুল মা'আদ, ১/২খ., পৃ. ১৩৩)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বার শত মুসলিম পদাতিক বাহিনী এবং দুই শত, মতান্তরে তিন শত অশ্বারোহী ছিলেন। তাহাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক উটও ছিল। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রা)-ও এই যুদ্ধে রাসূলুল্লহ (স)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন। উমায়মা বিন্ত-সালত গিফারিয়্যা বানু গিফারের কয়েকজন মহিলাসহ সঙ্গে ছিলেন। তাহাদের কাজ ছিল পীড়িতদের সেবা করা। অন্য গোত্রের কিছু মহিলাও এই সেবিকা দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) বলেন, আমরা রাত্রিকালে পথ অতিক্রম করিতেছিলাম আর আমার চাচা আমর ইবনুল আকওয়া (রা) এবং কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী আমার ভ্রাতা আমের নিম্নোক্ত কৃবিতার চরণগুলি পুন পুন আবৃত্তি করিতে থাকেন:
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا + وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَاغْفِرْ فِدَا لَكَ مَا أَبْقَيْنَا + وَلَقِّنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا + إِنَّا إِذَا صِيحَ بِنَا تَيْنَا وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا + وَبِالصِّيَاحِ عَوْلُوا عَلَيْنَا .
"হে আল্লাহ! যদি তোমার আশীষ না হইত তাহা হইলে আমরা সৎপথের দিশা পাইতাম না; না আমরা সাদাকা (যাকাত) আদায় করিতাম, না সালাত আদায় করিতাম। অতএব, হে মহান প্রভু! তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমরা ভূপৃষ্ঠে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তোমার জন্য কুরবান। তুমি আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ কর, শত্রুদের মুকাবিলায় আমাদের দৃঢ়পদ রাখ, আর যখন শত্রুরা মুকাবিলার জন্য আহ্বান করিবে তখন যেন আমরা অগ্রসর হইতে পারি, তাহাদিগের আহ্বানের সময় আমরা নিজেদের উপর আস্থাশীল হইতে পারি, আমাদিগকে ফেতনায় জড়াইতে চাহিলে যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করিতে পারি"।
এই কবিতাগুচ্ছের রচয়িতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) খোদ এই কবিতার ছন্দ মিলাইয়া খনদকের যুদ্ধে আবৃত্তি করিয়াছেন। আমের (রা)-এর কণ্ঠ ছিল খুবই সুমধুর। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইনি কে? লোকজন উত্তর দিল, আমের ইবনুল আকওয়া (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আল্লাহ তাহার উপর রহম করুন কিম্বা আল্লাহ তাহাকে ক্ষমা করুন। সাহাবীগণের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল যে, যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও এই দু'আ করিলে তিনি শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করিতেন। এই কারণে উমার ইবনুল খাত্তাব কিংবা অন্য কোন সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! তাঁহার শাহাদাত অবধারিত হইয়া গিয়াছে। আহ! যদি তিনি আরও কিছু দিন বাঁচিয়া থাকিতেন এবং আমাদেরকে তাহার সুমধুর সুরে কাব্যগাঁথা শুনাইতেন তাহা হইলে উপকৃত হইতে পারিতাম। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের নিকটবর্তী আস-সাহবা নামক স্থানে উপনীত হইলেন তখন আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আহার গ্রহণ করেন। খাদ্য হিসাবে ছিল শুধু ছাতু। রাসূলুল্লাহ (স) ও সকল সাহাবী উহাই আহার করেন। তাহার পরে সকলে কুলি করিয়া মাগরিবের সালাত আদায় করেন, কেহই (আহার গ্রহণ জনিত কারণে) উযু করেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫,১৮৬; যাদুল মা'আদ, ১/২ খ., পৃ. ১৩৩)।
যাত্রাকালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় নুমায়লা ইবন 'আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-কে শাসক নিযুক্ত করেন, অতঃপর 'আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-এর হাতে যুদ্ধের পতাকা হস্তান্তর করেন। পতাকাটি ছিল শ্বেত বর্ণের (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২২৪)। ভিন্নমতে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫; মাদারিজুন নুবুওয়াত, উরদূ অনুবাদ: গোলাম মুঈনুদ্দীন ২খ., পৃ. ৪০১; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৩৩)। ইব্ন হাজার আল-আসকালানী বলেন, সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিয়োগ করার অভিমত অধিকতর শুদ্ধ ও ইহাই প্রসিদ্ধ (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৫)। এই ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (র) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ উল্লেখযোগ্য। 'ইরাক ইবন মালিক (রা) বলেনঃ নবী (স) যখন খায়বারে ছিলেন, তখন আবূ হুরায়রা (রা) তাঁহার গোত্রীয় একদল লোকের সহিত মদীনা আগমন করিলেন। এই সময় সিবা ইব্ন উরফুতা আল-গাতাফানী (রা)-কে মদীনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হইয়াছিল। আবূ হুরায়রা (রা) সিবা ইব্ন উরফুতা (রা)-কে ফজরের সালাত আদায়রত পাইলেন। তিনি প্রথম রাক'আতে কাফ-হা ইয়া 'আয়ন-সা'দ (كهيعص) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে ওয়ায়লুল্লিল মুতাফফিফীন (وَيْلٌ لِّلْمُطفّفين) পড়িতেছিলেন। তাঁহার এই কিরাআত শুনিয়া আবূ হুরায়রা (রা) মনে মনে বলিলেন, অমুক ব্যক্তির সর্বনাশ হউক! তাহার দুইটি মাপযন্ত্র রহিয়াছে। সে যখন নিজের জন্য মাপে তখন পুরাপুরি গ্রহণ করে আর অন্যকে মাপিয়া দিবার সময় কম দেয়। সালাত সমাপ্ত করার পর তিনি সিবা ইন্ন উরফুতা (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গমন করিলেন এবং মুসলমানগণের সহিত কথা বলিলেন। মুসলমানগণ তাঁহাকে তাঁহার সঙ্গী-সাথীসহ যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অংশীদার করিয়া লইলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ., পৃ. ১৮৩; যাদুল মা'আদ, ১/২খ., পৃ. ১৩৩)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বার শত মুসলিম পদাতিক বাহিনী এবং দুই শত, মতান্তরে তিন শত অশ্বারোহী ছিলেন। তাহাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক উটও ছিল। উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামা (রা)-ও এই যুদ্ধে রাসূলুল্লহ (স)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন। উমায়মা বিন্ত-সালত গিফারিয়্যা বানু গিফারের কয়েকজন মহিলাসহ সঙ্গে ছিলেন। তাহাদের কাজ ছিল পীড়িতদের সেবা করা। অন্য গোত্রের কিছু মহিলাও এই সেবিকা দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) বলেন, আমরা রাত্রিকালে পথ অতিক্রম করিতেছিলাম আর আমার চাচা আমর ইবনুল আকওয়া (রা) এবং কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী আমার ভ্রাতা আমের নিম্নোক্ত কৃবিতার চরণগুলি পুন পুন আবৃত্তি করিতে থাকেন:
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا + وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَاغْفِرْ فِدَا لَكَ مَا أَبْقَيْنَا + وَلَقِّنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا + إِنَّا إِذَا صِيحَ بِنَا تَيْنَا وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا + وَبِالصِّيَاحِ عَوْلُوا عَلَيْنَا .
"হে আল্লাহ! যদি তোমার আশীষ না হইত তাহা হইলে আমরা সৎপথের দিশা পাইতাম না; না আমরা সাদাকা (যাকাত) আদায় করিতাম, না সালাত আদায় করিতাম। অতএব, হে মহান প্রভু! তুমি আমাদিগকে ক্ষমা কর, আমরা ভূপৃষ্ঠে অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তোমার জন্য কুরবান। তুমি আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ কর, শত্রুদের মুকাবিলায় আমাদের দৃঢ়পদ রাখ, আর যখন শত্রুরা মুকাবিলার জন্য আহ্বান করিবে তখন যেন আমরা অগ্রসর হইতে পারি, তাহাদিগের আহ্বানের সময় আমরা নিজেদের উপর আস্থাশীল হইতে পারি, আমাদিগকে ফেতনায় জড়াইতে চাহিলে যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করিতে পারি"।
এই কবিতাগুচ্ছের রচয়িতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) খোদ এই কবিতার ছন্দ মিলাইয়া খনদকের যুদ্ধে আবৃত্তি করিয়াছেন। আমের (রা)-এর কণ্ঠ ছিল খুবই সুমধুর। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার কবিতা আবৃত্তি শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ইনি কে? লোকজন উত্তর দিল, আমের ইবনুল আকওয়া (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আল্লাহ তাহার উপর রহম করুন কিম্বা আল্লাহ তাহাকে ক্ষমা করুন। সাহাবীগণের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল যে, যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও এই দু'আ করিলে তিনি শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করিতেন। এই কারণে উমার ইবনুল খাত্তাব কিংবা অন্য কোন সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! তাঁহার শাহাদাত অবধারিত হইয়া গিয়াছে। আহ! যদি তিনি আরও কিছু দিন বাঁচিয়া থাকিতেন এবং আমাদেরকে তাহার সুমধুর সুরে কাব্যগাঁথা শুনাইতেন তাহা হইলে উপকৃত হইতে পারিতাম। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (স) যখন খায়বারের নিকটবর্তী আস-সাহবা নামক স্থানে উপনীত হইলেন তখন আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আহার গ্রহণ করেন। খাদ্য হিসাবে ছিল শুধু ছাতু। রাসূলুল্লাহ (স) ও সকল সাহাবী উহাই আহার করেন। তাহার পরে সকলে কুলি করিয়া মাগরিবের সালাত আদায় করেন, কেহই (আহার গ্রহণ জনিত কারণে) উযু করেন নাই (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৫,১৮৬; যাদুল মা'আদ, ১/২ খ., পৃ. ১৩৩)।