📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বিস্ময়কর ঝর্ণা

📄 বিস্ময়কর ঝর্ণা


পূর্বোক্ত আশ-শিকক দুর্গে আল-হুম্মার নামক একটি নির্ঝরনী আছে। রাসূলুল্লাহ (স) ইহার নাম দিয়াছিলেন কিসমাতু মালাইকা। উক্ত নির্ঝরনী হইতে নির্গত পানির দুই-তৃতীয়াংশ একটি নালায় এবং এক-তৃতীয়াংশ অন্য একটি নালায় প্রবাহিত হয়, ব্যতিক্রম কখনও হয় না। এই বিস্ময়কর ব্যাপার রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগ হইতে অদ্যাবধি চলিয়া আসিতেছে। যদি কেহ উক্ত ফোয়ারায় ৩টি খেজুর অথবা ৩টি কাষ্ঠ খণ্ড নিক্ষেপ করে, তবে উহাদের দুইটি সেই নালায় যায় যাহাতে দুই-তৃতীয়াংশ পানি প্রবাহিত হয় এবং একটি যাইবে ঐ নালায় যাহাতে এক-তৃতীয়াংশ পানি চলে। কোন উপায়েই দ্বিতীয় নালায় এক-তৃতীয়াংশ অপেক্ষা অধিক পানি প্রবাহিত করানো যায় না। যদি কেহ দ্বিতীয় নালায় অধিক পানি প্রবাহিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রথমোক্ত নালার মুখে দাঁড়াইয়া যায় তথাপি তাহা সম্ভব হয় না; বরং পানি স্ফীত হইয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বাধা অতিক্রম করিয়া প্রথমোক্ত নালায় গিয়া পড়ে (দা.মা.ই., ১৯৭২ খৃ., ৯খ., পৃ. ৬৯)। আন-নাতা-এ অবস্থিত বৃহত্তম ফোয়ারা আল-লুহায়হা নামে পরিচিত।
খায়বারে সর্বপ্রথম দারু বানী কিম্মা নামক স্থানটি বিজিত হয় যাহা আন-নাতা-এর অন্তর্ভুক্ত। উক্ত স্থানেই মারহাব-এর ভ্রাতা ইলয়াস বাস করিত। উক্ত স্থান সম্পর্কে উম্মুল মু'মিনীন আইশা (রা) বলিয়াছেন, "দারু বানী কিম্মা বিজিত হইবার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স) কোন দিন পেট ভরিয়া যবের রুটি ও খেজুর ভক্ষণ করেন নাই।" বর্তমানে মারহাব-এর প্রাসাদের পাদদেশে একটি ক্ষুদ্র মসজিদ রহিয়াছে। উহার অদূরে পানির যে ফোয়ারাটি রহিয়াছে উহার সম্বন্ধে এইরূপ কাহিনী আছে যে, আলী (রা) মারহাবের উপর আক্রমণ করিলে এক সময় তরবারি তাহার হস্ত হইতে যেই স্থানে পতিত হয় সেখানে একটি পানির ফোয়ারা উৎসারিত হইয়াছিল এবং সেই কারণে এই ফোয়ারা তাহার নামের সহিত সম্পৃক্ত হইয়া যায়। তাহার অনতিদূরে আরেকটি বৃহৎ ফোয়ারা আছে। উক্ত ফোয়ারার পানি দ্বারাই খেজুর বাগানসমূহে সেচকার্য চলিয়া থাকে (সম্পাদনা পরিষদ, দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর ১৩৯২ হি., ৯খ., পৃ.৬৯; ইসলামী বিশ্বকোষ, খায়বার নিবন্ধ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৯০ খৃ., ৯খ., পৃ. ৫৭৮)।

পূর্বোক্ত আশ-শিকক দুর্গে আল-হুম্মার নামক একটি নির্ঝরনী আছে। রাসূলুল্লাহ (স) ইহার নাম দিয়াছিলেন কিসমাতু মালাইকা। উক্ত নির্ঝরনী হইতে নির্গত পানির দুই-তৃতীয়াংশ একটি নালায় এবং এক-তৃতীয়াংশ অন্য একটি নালায় প্রবাহিত হয়, ব্যতিক্রম কখনও হয় না। এই বিস্ময়কর ব্যাপার রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগ হইতে অদ্যাবধি চলিয়া আসিতেছে। যদি কেহ উক্ত ফোয়ারায় ৩টি খেজুর অথবা ৩টি কাষ্ঠ খণ্ড নিক্ষেপ করে, তবে উহাদের দুইটি সেই নালায় যায় যাহাতে দুই-তৃতীয়াংশ পানি প্রবাহিত হয় এবং একটি যাইবে ঐ নালায় যাহাতে এক-তৃতীয়াংশ পানি চলে। কোন উপায়েই দ্বিতীয় নালায় এক-তৃতীয়াংশ অপেক্ষা অধিক পানি প্রবাহিত করানো যায় না। যদি কেহ দ্বিতীয় নালায় অধিক পানি প্রবাহিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রথমোক্ত নালার মুখে দাঁড়াইয়া যায় তথাপি তাহা সম্ভব হয় না; বরং পানি স্ফীত হইয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বাধা অতিক্রম করিয়া প্রথমোক্ত নালায় গিয়া পড়ে (দা.মা.ই., ১৯৭২ খৃ., ৯খ., পৃ. ৬৯)। আন-নাতা-এ অবস্থিত বৃহত্তম ফোয়ারা আল-লুহায়হা নামে পরিচিত।

পূর্বোক্ত আশ-শিকক দুর্গে আল-হুম্মার নামক একটি নির্ঝরনী আছে। রাসূলুল্লাহ (স) ইহার নাম দিয়াছিলেন কিসমাতু মালাইকা। উক্ত নির্ঝরনী হইতে নির্গত পানির দুই-তৃতীয়াংশ একটি নালায় এবং এক-তৃতীয়াংশ অন্য একটি নালায় প্রবাহিত হয়, ব্যতিক্রম কখনও হয় না। এই বিস্ময়কর ব্যাপার রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগ হইতে অদ্যাবধি চলিয়া আসিতেছে। যদি কেহ উক্ত ফোয়ারায় ৩টি খেজুর অথবা ৩টি কাষ্ঠ খণ্ড নিক্ষেপ করে, তবে উহাদের দুইটি সেই নালায় যায় যাহাতে দুই-তৃতীয়াংশ পানি প্রবাহিত হয় এবং একটি যাইবে ঐ নালায় যাহাতে এক-তৃতীয়াংশ পানি চলে। কোন উপায়েই দ্বিতীয় নালায় এক-তৃতীয়াংশ অপেক্ষা অধিক পানি প্রবাহিত করানো যায় না। যদি কেহ দ্বিতীয় নালায় অধিক পানি প্রবাহিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রথমোক্ত নালার মুখে দাঁড়াইয়া যায় তথাপি তাহা সম্ভব হয় না; বরং পানি স্ফীত হইয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বাধা অতিক্রম করিয়া প্রথমোক্ত নালায় গিয়া পড়ে (দা.মা.ই., ১৯৭২ খৃ., ৯খ., পৃ. ৬৯)। আন-নাতা-এ অবস্থিত বৃহত্তম ফোয়ারা আল-লুহায়হা নামে পরিচিত।

পূর্বোক্ত আশ-শিকক দুর্গে আল-হুম্মার নামক একটি নির্ঝরনী আছে। রাসূলুল্লাহ (স) ইহার নাম দিয়াছিলেন কিসমাতু মালাইকা। উক্ত নির্ঝরনী হইতে নির্গত পানির দুই-তৃতীয়াংশ একটি নালায় এবং এক-তৃতীয়াংশ অন্য একটি নালায় প্রবাহিত হয়, ব্যতিক্রম কখনও হয় না। এই বিস্ময়কর ব্যাপার রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগ হইতে অদ্যাবধি চলিয়া আসিতেছে। যদি কেহ উক্ত ফোয়ারায় ৩টি খেজুর অথবা ৩টি কাষ্ঠ খণ্ড নিক্ষেপ করে, তবে উহাদের দুইটি সেই নালায় যায় যাহাতে দুই-তৃতীয়াংশ পানি প্রবাহিত হয় এবং একটি যাইবে ঐ নালায় যাহাতে এক-তৃতীয়াংশ পানি চলে। কোন উপায়েই দ্বিতীয় নালায় এক-তৃতীয়াংশ অপেক্ষা অধিক পানি প্রবাহিত করানো যায় না। যদি কেহ দ্বিতীয় নালায় অধিক পানি প্রবাহিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রথমোক্ত নালার মুখে দাঁড়াইয়া যায় তথাপি তাহা সম্ভব হয় না; বরং পানি স্ফীত হইয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বাধা অতিক্রম করিয়া প্রথমোক্ত নালায় গিয়া পড়ে (দা.মা.ই., ১৯৭২ খৃ., ৯খ., পৃ. ৬৯)। আন-নাতা-এ অবস্থিত বৃহত্তম ফোয়ারা আল-লুহায়হা নামে পরিচিত।
খায়বারে সর্বপ্রথম দারু বানী কিম্মা নামক স্থানটি বিজিত হয় যাহা আন-নাতা-এর অন্তর্ভুক্ত। উক্ত স্থানেই মারহাব-এর ভ্রাতা ইলয়াস বাস করিত। উক্ত স্থান সম্পর্কে উম্মুল মু'মিনীন আইশা (রা) বলিয়াছেন, "দারু বানী কিম্মা বিজিত হইবার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স) কোন দিন পেট ভরিয়া যবের রুটি ও খেজুর ভক্ষণ করেন নাই।" বর্তমানে মারহাব-এর প্রাসাদের পাদদেশে একটি ক্ষুদ্র মসজিদ রহিয়াছে। উহার অদূরে পানির যে ফোয়ারাটি রহিয়াছে উহার সম্বন্ধে এইরূপ কাহিনী আছে যে, আলী (রা) মারহাবের উপর আক্রমণ করিলে এক সময় তরবারি তাহার হস্ত হইতে যেই স্থানে পতিত হয় সেখানে একটি পানির ফোয়ারা উৎসারিত হইয়াছিল এবং সেই কারণে এই ফোয়ারা তাহার নামের সহিত সম্পৃক্ত হইয়া যায়। তাহার অনতিদূরে আরেকটি বৃহৎ ফোয়ারা আছে। উক্ত ফোয়ারার পানি দ্বারাই খেজুর বাগানসমূহে সেচকার্য চলিয়া থাকে (সম্পাদনা পরিষদ, দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর ১৩৯২ হি., ৯খ., পৃ.৬৯; ইসলামী বিশ্বকোষ, খায়বার নিবন্ধ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৯০ খৃ., ৯খ., পৃ. ৫৭৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খায়বারের দুর্গসমূহ

📄 খায়বারের দুর্গসমূহ


খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূস, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্‌ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূস, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্‌ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূস, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূস, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূস. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।

খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূস, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্‌ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূস, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্‌ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূস, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূس, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূس. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।

খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূس, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্‌ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূس, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্‌ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূس, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূس, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূس. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।

খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূস, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্‌ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূস, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্‌ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূস, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূস, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূস. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধের সূচনা

📄 যুদ্ধের সূচনা


وَعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنْكُمْ وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا.
"আল্লাহ তোমাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যাহার অধিকারী হইবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন এবং তিনি তোমাদিগ হইতে মানুষের হস্ত নিবারিত করিয়াছেন, যেন ইহা হয় মু'মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ তোমাদিগকে পরিচালিত করেন সরল পথে" (৪৮: ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সূরা আল-ফাতহ অবতীর্ণ হয়। ইহাতে আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষত বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদিগকে এই প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছিলেন যে, তোমরা অনেক বিজয় অর্জন করিবে এবং যুদ্ধে লভ্য সম্পদের অধিকারী হইবে। কার্যত তিনি এই বায়'আতুর রিদওয়ানের পুরস্কার হিসাবে খায়বারের বিজয় দান করিলেন এবং মক্কা বিজয় অর্জিত হইবে।
فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ )ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন)। এমনকি উক্ত সূরার ১৮ আয়াতের শেষাংশ وَآثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا )এবং তাহাদিগকে পুরষ্কার দিলেন আসন্ন বিজয়( ইহাতেও আসন্ন বিজয় দ্বারা খায়বারের বিজয় বুঝানো হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া মদীনায় পৌঁছিলেন। তিনি যিলহজ্জ ও মুহাররামের প্রথমদিকের দিনগুলিতে মদীনাতেই অবস্থান করিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে খায়বারের উদ্দেশে অভিযান চালানোর আদেশ দেওয়া হইল। ইহা বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীদিগের আবাস স্থল। ইহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া আহযাব যুদ্ধে মক্কার কাফিরদিগকে মদীনা আক্রমণে উদ্যত করিয়াছিল। মহান আল্লাহ এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে জানাইয়া দিলেন যে, খায়বারের বিজয়ের সুসংবাদ প্রাপ্ত হইয়া মুনাফিকরাও আপনার পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবার আবেদন করিবে। আপনি কোন অবস্থাতেই ইহাদিগকে এই অভিযানে আপনার সংগে অংশগ্রহণ করিতে দিবেন না। এই ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়:
سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذَا انْطَلَقْتُمْ إِلَى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلامَ اللهِ قُلْ لَنْ تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُمْ قَالَ اللهُ مِنْ قَبْلُ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا بَلْ كَانُوا لَا يَفْقَهُونَ إِلا قَلِيلاً.
"তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাইবে তখন যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গিয়াছিল তাহারা বলিবে, আমাদিগকে তোমাদের সংগে যাইতে দাও। উহারা আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করিতে চায়। বলুন, তোমরা কিছুতেই আমাদের সংগী হইতে পারিবে না। আল্লাহ পূর্বেই এইরূপ ঘোষণা করিয়াছেন। উহারা অবশ্যই বলিবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিতেছ। বস্তুত উহাদের বোধশক্তি সামান্য" (৪৮: ১৫; সীরাতে মুহসিনি কাইনাত, পৃ. ২৮৬; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
মূসা ইব্‌ন উকবা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিয়া মদীনায় বিশ দিন অথবা বিশের কাছাকাছি সময়কাল অবস্থান করিবার পর খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করিয়াছিলেন। তিনি ইমাম যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ শুরু হইয়াছিল হিজরী ষষ্ঠ সনে। কিন্তু বিশুদ্ধতম অভিমত হইল খায়বারের যুদ্ধ হিজরী সপ্তম সনের সূচনাক্ষণে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪ খ., পৃ. ১৮৩)।
ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের উদ্দেশে ৭ম হিজরী সনের মুহাররাম মাসের শেষ দিকে রওয়ানা করিয়া দশের অধিক দিবস পর্যন্ত ইহা অবরোধ করিয়া রাখেন এবং ইহা সফর মাসে বিজিত হয়। আল-মিসওয়ার ও মারওয়ান হইতে ইন্ন ইসহাকের বরাতে ইউনুস ইব্‌ন বুকায়র অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন। তিনি মদীনায় যিলহজ্জ মাসে আগমন করেন এবং মাস অবধি তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর মুহাররম মাসে খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর হাদীছ সূত্রে ইন্ন আইয-এর অভিমত হইল, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিবার পর মদীনায় দশদিন অবস্থান করিয়াছিলেন। সুলায়মান আত-তায়সীর মাগাযীতে উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) পনের দিন মদীনায় অবস্থান করিয়াছিলেন। ইবনুত-তীন ইবনুল হিসার-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা ইমাম মালিক (র) হইতে বর্ণিত (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)। ইব্‌ন হাযম এই অভিমতের উপর কঠোর মনোভাব পোষণ করিয়াছেন। ইন্ন ইসহাকের অভিমত যে, খায়বার ৭ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। উহা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত।
সবগুলি অভিমতের মধ্যে এইরূপে সমন্বয় সাধন সম্ভব যে, যাহারা ৬ষ্ঠ হিজরী সনের অভিমত পোষণ করেন তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরতের মাস রবীউল আওয়াল হইতে হিজরী সাল গণনা করেন। আল-হাকেম ওয়াকিদী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন এবং ইবন সা'দও অনুরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ জুমাদাল উলা মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আল-ওয়াকিদীর মাগাযীতে আছে যে, এই যুদ্ধ সফর মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কেহ কেহ অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, রাবীউল আওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, ইবন সা'দ ও ইব্‌ন আবী শায়বা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত খায়বার অভিমুখে রমযানের ১৮ তারিখে রওয়ানা করিয়াছিলাম। আবূ সাঈদ (রা)-এর এই হাদীছের সনদ হাসান পর্যায়ের হইলেও ইহা ত্রুটিপূর্ণ। সম্ভবত ইহাতে হুনায়নের কথা বলা হইয়াছিল, কিন্তু তাহাতে শব্দ চয়নে ত্রুটি হইয়াছে। কারণ হুনায়ন যুদ্ধ মক্কা বিজয়ের পরে সংঘটিত হইয়াছিল, আর মক্কা বিজয় অভিযানে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (স) রমযান মাসে বাহির হইয়াছিলেন। আশ-শায়খ আবু হামিদ আত-তা'লীকা গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৫ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা একটি ভুল ধারণা। সম্ভবত তিনি ইহা দ্বারা খন্দক বুঝাইয়াছেন (ফাতহুল-বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।

وَاعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنْكُمْ وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا.
"আল্লাহ তোমাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যাহার অধিকারী হইবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন এবং তিনি তোমাদিগ হইতে মানুষের হস্ত নিবারিত করিয়াছেন, যেন ইহা হয় মু'মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ তোমাদিগকে পরিচালিত করেন সরল পথে" (৪৮: ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সূরা আল-ফাতহ অবতীর্ণ হয়। ইহাতে আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষত বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদিগকে এই প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছিলেন যে, তোমরা অনেক বিজয় অর্জন করিবে এবং যুদ্ধে লভ্য সম্পদের অধিকারী হইবে। কার্যত তিনি এই বায়'আতুর রিদওয়ানের পুরস্কার হিসাবে খায়বারের বিজয় দান করিলেন এবং মক্কা বিজয় অর্জিত হইবে।
فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ )ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন)। এমনকি উক্ত সূরার ১৮ আয়াতের শেষাংশ وَآثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا )এবং তাহাদিগকে পুরষ্কার দিলেন আসন্ন বিজয়( ইহাতেও আসন্ন বিজয় দ্বারা খায়বারের বিজয় বুঝানো হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া মদীনায় পৌঁছিলেন। তিনি যিলহজ্জ ও মুহাররামের প্রথমদিকের দিনগুলিতে মদীনাতেই অবস্থান করিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে খায়বারের উদ্দেশে অভিযান চালানোর আদেশ দেওয়া হইল। ইহা বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীদিগের আবাস স্থল। ইহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া আহযাব যুদ্ধে মক্কার কাফিরদিগকে মদীনা আক্রমণে উদ্যত করিয়াছিল। মহান আল্লাহ এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে জানাইয়া দিলেন যে, খায়বারের বিজয়ের সুসংবাদ প্রাপ্ত হইয়া মুনাফিকরাও আপনার পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবার আবেদন করিবে। আপনি কোন অবস্থাতেই ইহাদিগকে এই অভিযানে আপনার সংগে অংশগ্রহণ করিতে দিবেন না। এই ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়:
سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذَا انْطَلَقْتُمْ إِلَى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلامَ اللهِ قُلْ لَنْ تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُمْ قَالَ اللهُ مِنْ قَبْلُ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا بَلْ كَانُوا لَا يَفْقَهُونَ إِلا قَلِيلاً.
"তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাইবে তখন যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গিয়াছিল তাহারা বলিবে, আমাদিগকে তোমাদের সংগে যাইতে দাও। উহারা আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করিতে চায়। বলুন, তোমরা কিছুতেই আমাদের সংগী হইতে পারিবে না। আল্লাহ পূর্বেই এইরূপ ঘোষণা করিয়াছেন। উহারা অবশ্যই বলিবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিতেছ। বস্তুত উহাদের বোধশক্তি সামান্য" (৪৮: ১৫; সীরাতে মুহসিনি কাইনাত, পৃ. ২৮৬; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
মূসা ইব্‌ন উকবা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিয়া মদীনায় বিশ দিন অথবা বিশের কাছাকাছি সময়কাল অবস্থান করিবার পর খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করিয়াছিলেন। তিনি ইমাম যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ শুরু হইয়াছিল হিজরী ষষ্ঠ সনে। কিন্তু বিশুদ্ধতম অভিমত হইল খায়বারের যুদ্ধ হিজরী সপ্তম সনের সূচনাক্ষণে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪ খ., পৃ. ১৮৩)।
ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের উদ্দেশে ৭ম হিজরী সনের মুহাররাম মাসের শেষ দিকে রওয়ানা করিয়া দশের অধিক দিবস পর্যন্ত ইহা অবরোধ করিয়া রাখেন এবং ইহা সফর মাসে বিজিত হয়। আল-মিসওয়ার ও মারওয়ান হইতে ইন্ন ইসহাকের বরাতে ইউনুস ইব্‌ন বুকায়র অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন। তিনি মদীনায় যিলহজ্জ মাসে আগমন করেন এবং মাস অবধি তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর মুহাররাম মাসে খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর হাদীছ সূত্রে ইন্ন আইয-এর অভিমত হইল, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিবার পর মদীনায় দশদিন অবস্থান করিয়াছিলেন। সুলায়মান আত-তায়সীর মাগাযীতে উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) পনের দিন মদীনায় অবস্থান করিয়াছিলেন। ইবনুত-তীন ইবনুল হিসার-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা ইমাম মালিক (র) হইতে বর্ণিত (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)। ইব্‌ন হাযম এই অভিমতের উপর কঠোর মনোভাব পোষণ করিয়াছেন। ইন্ন ইসহাকের অভিমত যে, খায়বার ৭ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। উহা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত।
সবগুলি অভিমতের মধ্যে এইরূপে সমন্বয় সাধন সম্ভব যে, যাহারা ৬ষ্ঠ হিজরী সনের অভিমত পোষণ করেন তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরতের মাস রবীউল আওয়াল হইতে হিজরী সাল গণনা করেন। আল-হাকেম ওয়াকিদী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন এবং ইবন সা'দও অনুরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ জুমাদাল উলা মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আল-ওয়াকিদীর মাগাযীতে আছে যে, এই যুদ্ধ সফর মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কেহ কেহ অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, রাবীউল আওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, ইবন সা'দ ও ইব্‌ন আবী শায়বা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত খায়বার অভিমুখে রমযানের ১৮ তারিখে রওয়ানা করিয়াছিলাম। আবূ সাঈদ (রা)-এর এই হাদীছের সনদ হাসান পর্যায়ের হইলেও ইহা ত্রুটিপূর্ণ। সম্ভবত ইহাতে হুনায়নের কথা বলা হইয়াছিল, কিন্তু তাহাতে শব্দ চয়নে ত্রুটি হইয়াছে। কারণ হুনায়ন যুদ্ধ মক্কা বিজয়ের পরে সংঘটিত হইয়াছিল, আর মক্কা বিজয় অভিযানে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (স) রমযান মাসে বাহির হইয়াছিলেন। আশ-শায়খ আবু হামিদ আত-তা'লীকা গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৫ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা একটি ভুল ধারণা। সম্ভবত তিনি ইহা দ্বারা খন্দক বুঝাইয়াছেন (ফাতহুল-বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।

وَاعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنْكُمْ وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا.
"আল্লাহ তোমাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যাহার অধিকারী হইবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন এবং তিনি তোমাদিগ হইতে মানুষের হস্ত নিবারিত করিয়াছেন, যেন ইহা হয় মু'মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ তোমাদিগকে পরিচালিত করেন সরল পথে" (৪৮: ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সূরা আল-ফাতহ অবতীর্ণ হয়। ইহাতে আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষত বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদিগকে এই প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছিলেন যে, তোমরা অনেক বিজয় অর্জন করিবে এবং যুদ্ধে লভ্য সম্পদের অধিকারী হইবে। কার্যত তিনি এই বায়'আতুর রিদওয়ানের পুরস্কার হিসাবে খায়বারের বিজয় দান করিলেন এবং মক্কা বিজয় অর্জিত হইবে।
فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ )ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন)। এমনকি উক্ত সূরার ১৮ আয়াতের শেষাংশ وَآثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا )এবং তাহাদিগকে পুরষ্কার দিলেন আসন্ন বিজয়( ইহাতেও আসন্ন বিজয় দ্বারা খায়বারের বিজয় বুঝানো হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া মদীনায় পৌঁছিলেন। তিনি যিলহজ্জ ও মুহাররামের প্রথমদিকের দিনগুলিতে মদীনাতেই অবস্থান করিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে খায়বারের উদ্দেশে অভিযান চালানোর আদেশ দেওয়া হইল। ইহা বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীদিগের আবাস স্থল। ইহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া আহযাব যুদ্ধে মক্কার কাফিরদিগকে মদীনা আক্রমণে উদ্যত করিয়াছিল। মহান আল্লাহ এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে জানাইয়া দিলেন যে, খায়বারের বিজয়ের সুসংবাদ প্রাপ্ত হইয়া মুনাফিকরাও আপনার পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবার আবেদন করিবে। আপনি কোন অবস্থাতেই ইহাদিগকে এই অভিযানে আপনার সংগে অংশগ্রহণ করিতে দিবেন না। এই ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়:
سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذَا انْطَلَقْتُمْ إِلَى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلامَ اللهِ قُلْ لَنْ تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُمْ قَالَ اللهُ مِنْ قَبْلُ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا بَلْ كَانُوا لَا يَفْقَهُونَ إِلا قَلِيلاً.
"তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাইবে তখন যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গিয়াছিল তাহারা বলিবে, আমাদিগকে তোমাদের সংগে যাইতে দাও। উহারা আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করিতে চায়। বলুন, তোমরা কিছুতেই আমাদের সংগী হইতে পারিবে না। আল্লাহ পূর্বেই এইরূপ ঘোষণা করিয়াছেন। উহারা অবশ্যই বলিবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিতেছ। বস্তুত উহাদের বোধশক্তি সামান্য" (৪৮: ১৫; সীরাতে মুহসিনি কাইনাত, পৃ. ২৮৬; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
মূসা ইব্‌ন উকবা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিয়া মদীনায় বিশ দিন অথবা বিশের কাছাকাছি সময়কাল অবস্থান করিবার পর খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করিয়াছিলেন। তিনি ইমাম যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ শুরু হইয়াছিল হিজরী ষষ্ঠ সনে। কিন্তু বিশুদ্ধতম অভিমত হইল খায়বারের যুদ্ধ হিজরী সপ্তম সনের সূচনাক্ষণে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪ খ., পৃ. ১৮৩)।
ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের উদ্দেশে ৭ম হিজরী সনের মুহাররাম মাসের শেষ দিকে রওয়ানা করিয়া দশের অধিক দিবস পর্যন্ত ইহা অবরোধ করিয়া রাখেন এবং ইহা সফর মাসে বিজিত হয়। আল-মিসওয়ার ও মারওয়ান হইতে ইন্ন ইসহাকের বরাতে ইউনুস ইব্‌ন বুকায়র অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন। তিনি মদীনায় যিলহজ্জ মাসে আগমন করেন এবং মাস অবধি তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর মুহাররাম মাসে খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর হাদীছ সূত্রে ইন্ন আইয-এর অভিমত হইল, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিবার পর মদীনায় দশদিন অবস্থান করিয়াছিলেন। সুলায়মান আত-তায়সীর মাগাযীতে উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) পনের দিন মদীনায় অবস্থান করিয়াছিলেন। ইবনুত-তীন ইবনুল হিসার-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা ইমাম মালিক (র) হইতে বর্ণিত (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)। ইব্‌ন হাযম এই অভিমতের উপর কঠোর মনোভাব পোষণ করিয়াছেন। ইন্ন ইসহাকের অভিমত যে, খায়বার ৭ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। উহা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত।
সবগুলি অভিমতের মধ্যে এইরূপে সমন্বয় সাধন সম্ভব যে, যাহারা ৬ষ্ঠ হিজরী সনের অভিমত পোষণ করেন তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরতের মাস রবীউল আওয়াল হইতে হিজরী সাল গণনা করেন। আল-হাকেম ওয়াকিদী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন এবং ইবন সা'দও অনুরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ জুমাদাল উলা মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আল-ওয়াকিদীর মাগাযীতে আছে যে, এই যুদ্ধ সফর মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কেহ কেহ অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, রাবীউল আওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, ইবন সা'দ ও ইব্‌ন আবী শায়বা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত খায়বার অভিমুখে রমযানের ১৮ তারিখে রওয়ানা করিয়াছিলাম। আবূ সাঈদ (রা)-এর এই হাদীছের সনদ হাসান পর্যায়ের হইলেও ইহা ত্রুটিপূর্ণ। সম্ভবত ইহাতে হুনায়নের কথা বলা হইয়াছিল, কিন্তু তাহাতে শব্দ চয়নে ত্রুটি হইয়াছে। কারণ হুনায়ন যুদ্ধ মক্কা বিজয়ের পরে সংঘটিত হইয়াছিল, আর মক্কা বিজয় অভিযানে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (স) রমযান মাসে বাহির হইয়াছিলেন। আশ-শায়খ আবু হামিদ আত-তা'লীকা গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৫ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা একটি ভুল ধারণা। সম্ভবত তিনি ইহা দ্বারা খন্দক বুঝাইয়াছেন (ফাতহুল-বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।

وَعدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَها فَعَجَّلَ لَكُم هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنكُم وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤمِنِينَ وَيَهدِيَكُم صِرَاطًا مُّستَقِيمًا.
"আল্লাহ তোমাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের যাহার অধিকারী হইবে তোমরা। তিনি ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন এবং তিনি তোমাদিগ হইতে মানুষের হস্ত নিবারিত করিয়াছেন, যেন ইহা হয় মু'মিনদের জন্য এক নিদর্শন এবং আল্লাহ তোমাদিগকে পরিচালিত করেন সরল পথে" (৪৮: ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে সূরা আল-ফাতহ অবতীর্ণ হয়। ইহাতে আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষত বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদিগকে এই প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছিলেন যে, তোমরা অনেক বিজয় অর্জন করিবে এবং যুদ্ধে লভ্য সম্পদের অধিকারী হইবে। কার্যত তিনি এই বায়'আতুর রিদওয়ানের পুরস্কার হিসাবে খায়বারের বিজয় দান করিলেন এবং মক্কা বিজয় অর্জিত হইবে।
فَعَجَّلَ لَكُم هَذِهِ (ইহা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করিয়াছেন)। এমনকি উক্ত সূরার ১৮ আয়াতের শেষাংশ وَآثابَهُم فَتحًا قَرِيبًا (এবং তাহাদিগকে পুরষ্কার দিলেন আসন্ন বিজয়) ইহাতেও আসন্ন বিজয় দ্বারা খায়বারের বিজয় বুঝানো হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া মদীনায় পৌঁছিলেন। তিনি যিলহজ্জ ও মুহাররামের প্রথমদিকের দিনগুলিতে মদীনাতেই অবস্থান করিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে খায়বারের উদ্দেশে অভিযান চালানোর আদেশ দেওয়া হইল। ইহা বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীদিগের আবাস স্থল। ইহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়া আহযাব যুদ্ধে মক্কার কাফিরদিগকে মদীনা আক্রমণে উদ্যত করিয়াছিল। মহান আল্লাহ এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-কে জানাইয়া দিলেন যে, খায়বারের বিজয়ের সুসংবাদ প্রাপ্ত হইয়া মুনাফিকরাও আপনার পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবার আবেদন করিবে। আপনি কোন অবস্থাতেই ইহাদিগকে এই অভিযানে আপনার সংগে অংশগ্রহণ করিতে দিবেন না। এই ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়:
سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذا انطَلَقْتُم إلى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوها ذَرُونا نَتَّبِعْكُم يُرِيدُونَ أن يُبَدِّلُوا كَلامَ اللهِ قُل لَن تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُم قالَ اللَّهُ مِن قَبلُ فَسَيَقُولُونَ بَل تَحسُدُونَنا بَل كَانُوا لا يَفْقَهُونَ إلّا قَلِيلًا.
"তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাইবে তখন যাহারা পশ্চাতে রহিয়া গিয়াছিল তাহারা বলিবে, আমাদিগকে তোমাদের সংগে যাইতে দাও। উহারা আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করিতে চায়। বলুন, তোমরা কিছুতেই আমাদের সংগী হইতে পারিবে না। আল্লাহ পূর্বেই এইরূপ ঘোষণা করিয়াছেন। উহারা অবশ্যই বলিবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিতেছ। বস্তুত উহাদের বোধশক্তি সামান্য" (৪৮: ১৫; সীরাতে মুহসিনি কাইনাত, পৃ. ২৮৬; ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।
মূসা ইব্‌ন উকবা বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিয়া মদীনায় বিশ দিন অথবা বিশের কাছাকাছি সময়কাল অবস্থান করিবার পর খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করিয়াছিলেন। তিনি ইমাম যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ শুরু হইয়াছিল হিজরী ষষ্ঠ সনে। কিন্তু বিশুদ্ধতম অভিমত হইল খায়বারের যুদ্ধ হিজরী সপ্তম সনের সূচনাক্ষণে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪ খ., পৃ. ১৮৩)।
ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বারের উদ্দেশে ৭ম হিজরী সনের মুহাররাম মাসের শেষ দিকে রওয়ানা করিয়া দশের অধিক দিবস পর্যন্ত ইহা অবরোধ করিয়া রাখেন এবং ইহা সফর মাসে বিজিত হয়। আল-মিসওয়ার ও মারওয়ান হইতে ইন্ন ইসহাকের বরাতে ইউনুস ইব্‌ন বুকায়র অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন। তিনি মদীনায় যিলহজ্জ মাসে আগমন করেন এবং মাস অবধি তথায় অবস্থান করেন। অতঃপর মুহাররাম মাসে খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর হাদীছ সূত্রে ইন্ন আইয-এর অভিমত হইল, রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়া হইতে ফিরিবার পর মদীনায় দশদিন অবস্থান করিয়াছিলেন। সুলায়মান আত-তায়সীর মাগাযীতে উল্লেখ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) পনের দিন মদীনায় অবস্থান করিয়াছিলেন। ইবনুত-তীন ইবনুল হিসার-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা ইমাম মালিক (র) হইতে বর্ণিত (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)। ইব্‌ন হাযম এই অভিমতের উপর কঠোর মনোভাব পোষণ করিয়াছেন। ইন্ন ইসহাকের অভিমত যে, খায়বার ৭ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। উহা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত।
সবগুলি অভিমতের মধ্যে এইরূপে সমন্বয় সাধন সম্ভব যে, যাহারা ৬ষ্ঠ হিজরী সনের অভিমত পোষণ করেন তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরতের মাস রবীউল আওয়াল হইতে হিজরী সাল গণনা করেন। আল-হাকেম ওয়াকিদী সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন এবং ইবন সা'দও অনুরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ জুমাদাল উলা মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আল-ওয়াকিদীর মাগাযীতে আছে যে, এই যুদ্ধ সফর মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। কেহ কেহ অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, রাবীউল আওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, ইবন সা'দ ও ইব্‌ন আবী শায়বা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত খায়বার অভিমুখে রমযানের ১৮ তারিখে রওয়ানা করিয়াছিলাম। আবূ সাঈদ (রা)-এর এই হাদীছের সনদ হাসান পর্যায়ের হইলেও ইহা ত্রুটিপূর্ণ। সম্ভবত ইহাতে হুনায়নের কথা বলা হইয়াছিল, কিন্তু তাহাতে শব্দ চয়নে ত্রুটি হইয়াছে। কারণ হুনায়ন যুদ্ধ মক্কা বিজয়ের পরে সংঘটিত হইয়াছিল, আর মক্কা বিজয় অভিযানে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (স) রমযান মাসে বাহির হইয়াছিলেন। আশ-শায়খ আবু হামিদ আত-তা'লীকা গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, খায়বার যুদ্ধ ৫ম হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা একটি ভুল ধারণা। সম্ভবত তিনি ইহা দ্বারা খন্দক বুঝাইয়াছেন (ফাতহুল-বারী, ৭খ., পৃ. ৪৬৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খায়বার অভিযানের কারণ

📄 খায়বার অভিযানের কারণ


মদীনা মুনাওয়ারা হইতে বহিষ্কৃত বানু নাদীর গোত্রের ইয়াহুদীরা খায়বারে আসিয়া বসতি স্থাপন করে। খন্দকের যুদ্ধ ইহাদিগের প্ররোচনায় সংঘটিত হইয়াছিল। এই সকল ইয়াহুদী নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়াতে কুরায়শদের চাহিদা মুতাবিক শর্তসমূহ মানিয়া লইয়াছিলেন। তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, মুসলমানগণের যুদ্ধে কুরায়শ নিরপেক্ষ থাকিবে। এই চুক্তি সম্পাদনের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকেন। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে তিনি পনের শত সাহাবীর একটি বাহিনী লইয়া মদীনা হইতে যাত্রা করেন (দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর, ৯খ, পৃ. ৬৯)।
খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছুদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (স) একটি ফরমান জারী করিয়াছিলেন যে, যাহারা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন কেবল তাহারাই এই অভিযানে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, অন্য কেহ নয়। কারণ খায়বরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হইল বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কারস্বরূপ যাহা পূর্বোক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৪)।

মদীনা মুনাওয়ারা হইতে বহিষ্কৃত বানু নাদীর গোত্রের ইয়াহুদীরা খায়বারে আসিয়া বসতি স্থাপন করে। খন্দকের যুদ্ধ ইহাদিগের প্ররোচনায় সংঘটিত হইয়াছিল। এই সকল ইয়াহুদী নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়াতে কুরায়শদের চাহিদা মুতাবিক শর্তসমূহ মানিয়া লইয়াছিলেন। তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, মুসলমানগণের যুদ্ধে কুরায়শ নিরপেক্ষ থাকিবে। এই চুক্তি সম্পাদনের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকেন। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে তিনি পনের শত সাহাবীর একটি বাহিনী লইয়া মদীনা হইতে যাত্রা করেন (দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর, ৯খ, পৃ. ৬৯)।
খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছুদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (স) একটি ফরমান জারী করিয়াছিলেন যে, যাহারা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন কেবল তাহারাই এই অভিযানে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, অন্য কেহ নয়। কারণ খায়বরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হইল বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কারস্বরূপ যাহা পূর্বোক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৪)।

মদীনা মুনাওয়ারা হইতে বহিষ্কৃত বানু নাদীর গোত্রের ইয়াহুদীরা খায়বারে আসিয়া বসতি স্থাপন করে। খন্দকের যুদ্ধ ইহাদিগের প্ররোচনায় সংঘটিত হইয়াছিল। এই সকল ইয়াহুদী নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়াতে কুরায়শদের চাহিদা মুতাবিক শর্তসমূহ মানিয়া লইয়াছিলেন। তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, মুসলমানগণের যুদ্ধে কুরায়শ নিরপেক্ষ থাকিবে। এই চুক্তি সম্পাদনের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকেন। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে তিনি পনের শত সাহাবীর একটি বাহিনী লইয়া মদীনা হইতে যাত্রা করেন (দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর, ৯খ, পৃ. ৬৯)।
খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছুদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (স) একটি ফরমান জারী করিয়াছিলেন যে, যাহারা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন কেবল তাহারাই এই অভিযানে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, অন্য কেহ নয়। কারণ খায়বরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হইল বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কারস্বরূপ যাহা পূর্বোক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৪)।

মদীনা মুনাওয়ারা হইতে বহিষ্কৃত বানু নাদীর গোত্রের ইয়াহুদীরা খায়বারে আসিয়া বসতি স্থাপন করে। খন্দকের যুদ্ধ ইহাদিগের প্ররোচনায় সংঘটিত হইয়াছিল। এই সকল ইয়াহুদী নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) হুদায়বিয়াতে কুরায়শদের চাহিদা মুতাবিক শর্তসমূহ মানিয়া লইয়াছিলেন। তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, মুসলমানগণের যুদ্ধে কুরায়শ নিরপেক্ষ থাকিবে। এই চুক্তি সম্পাদনের পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকেন। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে তিনি পনের শত সাহাবীর একটি বাহিনী লইয়া মদীনা হইতে যাত্রা করেন (দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর, ৯খ, পৃ. ৬৯)।
খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছুদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (স) একটি ফরমান জারী করিয়াছিলেন যে, যাহারা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন কেবল তাহারাই এই অভিযানে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, অন্য কেহ নয়। কারণ খায়বরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হইল বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারিগণের পুরস্কারস্বরূপ যাহা পূর্বোক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হইয়াছে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৮৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00