📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খায়বার পরিচিতি

📄 খায়বার পরিচিতি


খেজুরবৃক্ষ বহুল একটি জনপদ। সমুদ্রপৃষ্ঠ হইতে উহার উচ্চতা দুই হাজার আট শত ফুট এবং মদীনা হইতে এক শত চুরাশি কি. মি. (আনু. এক শত পঁচিশ মাইল) উত্তরে, স্থলপথ দিয়া আগমনকারী হাজ্জীদের প্রধান যাতায়াত পথে অবস্থিত। মহানবী (স)-এর যুগে হাজ্জীগণ উহুদ পাহাড়ের পশ্চিম অর্থাৎ আল-গাবা হইয়া হজ্জে গমন করিতে। অধুনা নব নির্মিত বিমান বন্দরে যাইতে উহার পূর্ব পার্শ্ব দিয়া যাতায়াত করিতে হয়। মদীনা হইতে খায়বারের পথে সালসাল জনপদটি অবস্থিত, মদীনা হইতে যাহার দূরত্ব এক শত আটাশ কি. মি.। এই জনপদ বেশ সবুজ-শ্যামল। স্থানীয় অধিবাসীদের বর্ণনামতে এই জনপদের অর্ধাংশের পানি লবণাক্ত এবং অপর অর্ধাংশের পানি সুপেয়-সুমিষ্ট। সম্ভবত এই জনপদই ফাদাক নামে অভিহিত।
খায়বার একটি প্রস্তরময় অঞ্চল। মদীনা হইতে খায়বার গমন পথে ১৫/২০ কি. মি. দূরত্বে শুভ্র ও আবাদযোগ্য ভূখণ্ড রহিয়াছে যাহা ১০/১২ কি. মি. প্রশস্ত, অথচ উহা পতিত জমি হিসাবে পরিত্যক্ত ছিল। উহার পর পুনরায় প্রস্তরময় অঞ্চল আরম্ভ হয়। এই অঞ্চলের ডান পার্শ্বে কয়েক মাইল জুড়িয়া প্রাচীন ইয়াহুদী জনপদের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। এই স্থানে কতকগুলি পাকা জলাশয়ের ধ্বংসাবশেষ দেখিতে পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে পানি শুকাইয়া যাইবার পর জলাশয়গুলির তলায় অনেক দূর পর্যন্ত মাটির পাতলা স্তর দেখা যায়। মার্কিন প্রকৌশলী Twitchell সাউদী আরবের কৃষি জরীপের রিপোর্টে এই স্থানে সাদ্দুল হাসীদ এবং আরও পাঁচটি জলাধারের উল্লেখ করিয়াছেন।
খায়বার যুদ্ধে গমন ও তথা হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ (স) “সাদ্দুস সাহাবা” নামক একটি জলাশয়ের নিকট যাত্রাবিরতি করিয়াছিলেন। এই জলাশয়ও সম্ভবত ঐ স্থানের কোথায়ও অবস্থিত ছিল। এই স্থানের পর একটি বিস্তীর্ণ নিম্ন উপত্যকা রহিয়াছে যাহাতে খায়বার শহর অবস্থিত। শহরটি খেজুর বাগান দ্বারা এতই আবৃত যে, কোনও উচ্চ স্থান হইতে উহার ঘরবাড়ি দৃষ্টিগোচর হয় না। রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে এই শহরের "আল-কাতীবা” মহল্লায় চল্লিশ হাজার খেজুরগাছ ছিল বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। বর্তমানে শহরের দক্ষিণে একটি উচ্চ পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক মাইল বিস্তৃত একটি ঘন খেজুর বাগান আছে। খায়বার শহরে বর্তমানে (১৯৬৪ খৃ.) ‘উনায়যা গোত্রের আরবগণ বাস করে। কথিত আছে যে, খায়বারের স্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার হইলেও খেজুর ফসল উত্তোলনের সময় উহার অস্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা পঁচিশ-ত্রিশ হাজারে বৃদ্ধি পায়। খায়বার শহরে কয়েকটি উচ্চ টিলা ও পাহাড় রহিয়াছে (ইসলামী বিশ্বকোষ, ৯খ., পৃ. ৫৭৮)। খায়বার মদীনা হইতে সিরিয়া অভিমুখে আট "বারীদ” (৯৬ মাইল) দূরবর্তী একটি জনপদ (আল-হামাবীল, মু'জামুল বুলদান, ২খ., ৪০৯; আল-বুসতানী, দাইরাতুল মা'আরিফ, ৭খ., পৃ. ৫০৮)।
ইয়াহুদীদের ভাষায় 'খায়বার” শব্দের অর্থ দুর্গ। খায়বার যেহেতু কতিপয় দুর্গের সমষ্টি তাই উহাকে খায়াবির ও (বহুবচন হিসাবে) বলা হয় (মু'জামুল বুলদান, ২খ., পৃ. ৪০৯; মারাসিদুল ইত্তিলা', ১খ., পৃ. ৪৯৪)।
আহমাদ আলী সাহারানপুরী আল-হালাবীর সূত্রে উল্লেখ করেন যে, আমালিক গোত্রের খায়বার নামক এক ব্যক্তি এই শহরে বসবাস করিত। তাহারই নামানুসারে শহরটির নামকরণ করা হয়। তাহার আর এক ভাই ইয়াছরিব মদীনায় বসবাস করিত। তাহার নামানুসারে মদীনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াছরিব (বুখারী, কলিকাতা, ২খ., পৃ. ৬০৩, পার্শ্বটীকা নং ৫)। ঐতিহাসিক আল-বাকরী সাহল ইব্‌ন মুহাম্মাদ আল-কাতিব-এর সূত্রে এবং ইয়াকৃত আয-যাজ্জাজীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার শহরটির নামকরণ হইয়াছে উহার প্রতিষ্ঠাতা খায়বার ইব্‌ন কানিয়া ইন্ন মাহ্লাঈল-এর নামানুসারে (দাইরা মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া, লাহোর, ৯খ., পৃ. ৬৭)।

খেজুরবৃক্ষ বহুল একটি জনপদ। সমুদ্রপৃষ্ঠ হইতে উহার উচ্চতা দুই হাজার আট শত ফুট এবং মদীনা হইতে এক শত চুরাশি কি. মি. (আনু. এক শত পঁচিশ মাইল) উত্তরে, স্থলপথ দিয়া আগমনকারী হাজ্জীদের প্রধান যাতায়াত পথে অবস্থিত। মহানবী (স)-এর যুগে হাজ্জীগণ উহুদ পাহাড়ের পশ্চিম অর্থাৎ আল-গাবা হইয়া হজ্জে গমন করিতে। অধুনা নব নির্মিত বিমান বন্দরে যাইতে উহার পূর্ব পার্শ্ব দিয়া যাতায়াত করিতে হয়। মদীনা হইতে খায়বারের পথে সালসাল জনপদটি অবস্থিত, মদীনা হইতে যাহার দূরত্ব এক শত আটাশ কি. মি.। এই জনপদ বেশ সবুজ-শ্যামল। স্থানীয় অধিবাসীদের বর্ণনামতে এই জনপদের অর্ধাংশের পানি লবণাক্ত এবং অপর অর্ধাংশের পানি সুপেয়-সুমিষ্ট। সম্ভবত এই জনপদই ফাদাক নামে অভিহিত।
খায়বার একটি প্রস্তরময় অঞ্চল। মদীনা হইতে খায়বার গমন পথে ১৫/২০ কি. মি. দূরত্বে শুভ্র ও আবাদযোগ্য ভূখণ্ড রহিয়াছে যাহা ১০/১২ কি. মি. প্রশস্ত, অথচ উহা পতিত জমি হিসাবে পরিত্যক্ত ছিল। উহার পর পুনরায় প্রস্তরময় অঞ্চল আরম্ভ হয়। এই অঞ্চলের ডান পার্শ্বে কয়েক মাইল জুড়িয়া প্রাচীন ইয়াহুদী জনপদের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। এই স্থানে কতকগুলি পাকা জলাশয়ের ধ্বংসাবশেষ দেখিতে পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে পানি শুকাইয়া যাইবার পর জলাশয়গুলির তলায় অনেক দূর পর্যন্ত মাটির পাতলা স্তর দেখা যায়। মার্কিন প্রকৌশলী Twitchell সাউদী আরবের কৃষি জরীপের রিপোর্টে এই স্থানে সাদ্দুল হাসীদ এবং আরও পাঁচটি জলাধারের উল্লেখ করিয়াছেন।
খায়বার যুদ্ধে গমন ও তথা হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ (স) “সাদ্দুস সাহাবা” নামক একটি জলাশয়ের নিকট যাত্রাবিরতি করিয়াছিলেন। এই জলাশয়ও সম্ভবত ঐ স্থানের কোথায়ও অবস্থিত ছিল। এই স্থানের পর একটি বিস্তীর্ণ নিম্ন উপত্যকা রহিয়াছে যাহাতে খায়বার শহর অবস্থিত। শহরটি খেজুর বাগান দ্বারা এতই আবৃত যে, কোনও উচ্চ স্থান হইতে উহার ঘরবাড়ি দৃষ্টিগোচর হয় না। রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে এই শহরের "আল-কাতীবা” মহল্লায় চল্লিশ হাজার খেজুরগাছ ছিল বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। বর্তমানে শহরের দক্ষিণে একটি উচ্চ পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক মাইল বিস্তৃত একটি ঘন খেজুর বাগান আছে। খায়বার শহরে বর্তমানে (১৯৬৪ খৃ.) ‘উনায়যা গোত্রের আরবগণ বাস করে। কথিত আছে যে, খায়বারের স্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার হইলেও খেজুর ফসল উত্তোলনের সময় উহার অস্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা পঁচিশ-ত্রিশ হাজারে বৃদ্ধি পায়। খায়বার শহরে কয়েকটি উচ্চ টিলা ও পাহাড় রহিয়াছে (ইসলামী বিশ্বকোষ, ৯খ., পৃ. ৫৭৮)। খায়বার মদীনা হইতে সিরিয়া অভিমুখে আট "বারীদ” (৯৬ মাইল) দূরবর্তী একটি জনপদ (আল-হামাবীল, মু'জামুল বুলদান, ২খ., ৪০৯; আল-বুসতানী, দাইরাতুল মা'আরিফ, ৭খ., পৃ. ৫০৮)।
ইয়াহুদীদের ভাষায় 'খায়বার” শব্দের অর্থ দুর্গ। খায়বার যেহেতু কতিপয় দুর্গের সমষ্টি তাই উহাকে খায়াবির ও (বহুবচন হিসাবে) বলা হয় (মু'জামুল বুলদান, ২খ., পৃ. ৪০৯; মারাসিদুল ইত্তিলা', ১খ., পৃ. ৪৯৪)।
আহমাদ আলী সাহারানপুরী আল-হালাবীর সূত্রে উল্লেখ করেন যে, আমালিক গোত্রের খায়বার নামক এক ব্যক্তি এই শহরে বসবাস করিত। তাহারই নামানুসারে শহরটির নামকরণ করা হয়। তাহার আর এক ভাই ইয়াছরিব মদীনায় বসবাস করিত। তাহার নামানুসারে মদীনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াছরিব (বুখারী, কলিকাতা, ২খ., পৃ. ৬০৩, পার্শ্বটীকা নং ৫)। ঐতিহাসিক আল-বাকরী সাহল ইব্‌ন মুহাম্মাদ আল-কাতিব-এর সূত্রে এবং ইয়াকৃত আয-যাজ্জাজীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার শহরটির নামকরণ হইয়াছে উহার প্রতিষ্ঠাতা খায়বার ইব্‌ন কানিয়া ইন্ন মাহ্লাঈল-এর নামানুসারে (দাইরা মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া, লাহোর, ৯খ., পৃ. ৬৭)।

খেজুরবৃক্ষ বহুল একটি জনপদ। সমুদ্রপৃষ্ঠ হইতে উহার উচ্চতা দুই হাজার আট শত ফুট এবং মদীনা হইতে এক শত চুরাশি কি. মি. (আনু. এক শত পঁচিশ মাইল) উত্তরে, স্থলপথ দিয়া আগমনকারী হাজ্জীদের প্রধান যাতায়াত পথে অবস্থিত। মহানবী (স)-এর যুগে হাজ্জীগণ উহুদ পাহাড়ের পশ্চিম অর্থাৎ আল-গাবা হইয়া হজ্জে গমন করিতে। অধুনা নব নির্মিত বিমান বন্দরে যাইতে উহার পূর্ব পার্শ্ব দিয়া যাতায়াত করিতে হয়। মদীনা হইতে খায়বারের পথে সালসাল জনপদটি অবস্থিত, মদীনা হইতে যাহার দূরত্ব এক শত আটাশ কি. মি.। এই জনপদ বেশ সবুজ-শ্যামল। স্থানীয় অধিবাসীদের বর্ণনামতে এই জনপদের অর্ধাংশের পানি লবণাক্ত এবং অপর অর্ধাংশের পানি সুপেয়-সুমিষ্ট। সম্ভবত এই জনপদই ফাদাক নামে অভিহিত।
খায়বার একটি প্রস্তরময় অঞ্চল। মদীনা হইতে খায়বার গমন পথে ১৫/২০ কি. মি. দূরত্বে শুভ্র ও আবাদযোগ্য ভূখণ্ড রহিয়াছে যাহা ১০/১২ কি. মি. প্রশস্ত, অথচ উহা পতিত জমি হিসাবে পরিত্যক্ত ছিল। উহার পর পুনরায় প্রস্তরময় অঞ্চল আরম্ভ হয়। এই অঞ্চলের ডান পার্শ্বে কয়েক মাইল জুড়িয়া প্রাচীন ইয়াহুদী জনপদের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। এই স্থানে কতকগুলি পাকা জলাশয়ের ধ্বংসাবশেষ দেখিতে পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে পানি শুকাইয়া যাইবার পর জলাশয়গুলির তলায় অনেক দূর পর্যন্ত মাটির পাতলা স্তর দেখা যায়। মার্কিন প্রকৌশলী Twitchell সাউদী আরবের কৃষি জরীপের রিপোর্টে এই স্থানে সাদ্দুল হাসীদ এবং আরও পাঁচটি জলাধারের উল্লেখ করিয়াছেন।
খায়বার যুদ্ধে গমন ও তথা হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ (স) “সাদ্দুস সাহাবা” নামক একটি জলাশয়ের নিকট যাত্রাবিরতি করিয়াছিলেন। এই জলাশয়ও সম্ভবত ঐ স্থানের কোথায়ও অবস্থিত ছিল। এই স্থানের পর একটি বিস্তীর্ণ নিম্ন উপত্যকা রহিয়াছে যাহাতে খায়বার শহর অবস্থিত। শহরটি খেজুর বাগান দ্বারা এতই আবৃত যে, কোনও উচ্চ স্থান হইতে উহার ঘরবাড়ি দৃষ্টিগোচর হয় না। রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে এই শহরের "আল-কাতীবা” মহল্লায় চল্লিশ হাজার খেজুরগাছ ছিল বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। বর্তমানে শহরের দক্ষিণে একটি উচ্চ পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক মাইল বিস্তৃত একটি ঘন খেজুর বাগান আছে। খায়বার শহরে বর্তমানে (১৯৬৪ খৃ.) ‘উনায়যা গোত্রের আরবগণ বাস করে। কথিত আছে যে, খায়বারের স্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার হইলেও খেজুর ফসল উত্তোলনের সময় উহার অস্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা পঁচিশ-ত্রিশ হাজারে বৃদ্ধি পায়। খায়বার শহরে কয়েকটি উচ্চ টিলা ও পাহাড় রহিয়াছে (ইসলামী বিশ্বকোষ, ৯খ., পৃ. ৫৭৮)। খায়বার মদীনা হইতে সিরিয়া অভিমুখে আট "বারীদ” (৯৬ মাইল) দূরবর্তী একটি জনপদ (আল-হামাবীল, মু'জামুল বুলদান, ২খ., ৪০৯; আল-বুসতানী, দাইরাতুল মা'আরিফ, ৭খ., পৃ. ৫০৮)।
ইয়াহুদীদের ভাষায় 'খায়বার” শব্দের অর্থ দুর্গ। খায়বার যেহেতু কতিপয় দুর্গের সমষ্টি তাই উহাকে খায়াবির ও (বহুবচন হিসাবে) বলা হয় (মু'জামুল বুলদান, ২খ., পৃ. ৪০৯; মারাসিদুল ইত্তিলা', ১খ., পৃ. ৪৯৪)।
আহমাদ আলী সাহারানপুরী আল-হালাবীর সূত্রে উল্লেখ করেন যে, আমালিক গোত্রের খায়বার নামক এক ব্যক্তি এই শহরে বসবাস করিত। তাহারই নামানুসারে শহরটির নামকরণ করা হয়। তাহার আর এক ভাই ইয়াছরিব মদীনায় বসবাস করিত। তাহার নামানুসারে মদীনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াছরিব (বুখারী, কলিকাতা, ২খ., পৃ. ৬০৩, পার্শ্বটীকা নং ৫)। ঐতিহাসিক আল-বাকরী সাহল ইব্‌ন মুহাম্মাদ আল-কাতিব-এর সূত্রে এবং ইয়াকৃত আয-যাজ্জাজীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার শহরটির নামকরণ হইয়াছে উহার প্রতিষ্ঠাতা খায়বার ইব্‌ন কানিয়া ইন্ন মাহ্লাঈল-এর নামানুসারে (দাইরা মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া, লাহোর, ৯খ., পৃ. ৬৭)।

খেজুরবৃক্ষ বহুল একটি জনপদ। সমুদ্রপৃষ্ঠ হইতে উহার উচ্চতা দুই হাজার আট শত ফুট এবং মদীনা হইতে এক শত চুরাশি কি. মি. (আনু. এক শত পঁচিশ মাইল) উত্তরে, স্থলপথ দিয়া আগমনকারী হাজ্জীদের প্রধান যাতায়াত পথে অবস্থিত। মহানবী (স)-এর যুগে হাজ্জীগণ উহুদ পাহাড়ের পশ্চিম অর্থাৎ আল-গাবা হইয়া হজ্জে গমন করিতে। অধুনা নব নির্মিত বিমান বন্দরে যাইতে উহার পূর্ব পার্শ্ব দিয়া যাতায়াত করিতে হয়। মদীনা হইতে খায়বারের পথে সালসাল জনপদটি অবস্থিত, মদীনা হইতে যাহার দূরত্ব এক শত আটাশ কি. মি.। এই জনপদ বেশ সবুজ-শ্যামল। স্থানীয় অধিবাসীদের বর্ণনামতে এই জনপদের অর্ধাংশের পানি লবণাক্ত এবং অপর অর্ধাংশের পানি সুপেয়-সুমিষ্ট। সম্ভবত এই জনপদই ফাদাক নামে অভিহিত।
খায়বার একটি প্রস্তরময় অঞ্চল। মদীনা হইতে খায়বার গমন পথে ১৫/২০ কি. মি. দূরত্বে শুভ্র ও আবাদযোগ্য ভূখণ্ড রহিয়াছে যাহা ১০/১২ কি. মি. প্রশস্ত, অথচ উহা পতিত জমি হিসাবে পরিত্যক্ত ছিল। উহার পর পুনরায় প্রস্তরময় অঞ্চল আরম্ভ হয়। এই অঞ্চলের ডান পার্শ্বে কয়েক মাইল জুড়িয়া প্রাচীন ইয়াহুদী জনপদের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। এই স্থানে কতকগুলি পাকা জলাশয়ের ধ্বংসাবশেষ দেখিতে পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে পানি শুকাইয়া যাইবার পর জলাশয়গুলির তলায় অনেক দূর পর্যন্ত মাটির পাতলা স্তর দেখা যায়। মার্কিন প্রকৌশলী Twitchell সাউদী আরবের কৃষি জরীপের রিপোর্টে এই স্থানে সাদ্দুল হাসীদ এবং আরও পাঁচটি জলাধারের উল্লেখ করিয়াছেন।
খায়বার যুদ্ধে গমন ও তথা হইতে প্রত্যাবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ (স) “সাদ্দুস সাহাবা” নামক একটি জলাশয়ের নিকট যাত্রাবিরতি করিয়াছিলেন। এই জলাশয়ও সম্ভবত ঐ স্থানের কোথায়ও অবস্থিত ছিল। এই স্থানের পর একটি বিস্তীর্ণ নিম্ন উপত্যকা রহিয়াছে যাহাতে খায়বার শহর অবস্থিত। শহরটি খেজুর বাগান দ্বারা এতই আবৃত যে, কোনও উচ্চ স্থান হইতে উহার ঘরবাড়ি দৃষ্টিগোচর হয় না। রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে এই শহরের "আল-কাতীবা” মহল্লায় চল্লিশ হাজার খেজুরগাছ ছিল বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। বর্তমানে শহরের দক্ষিণে একটি উচ্চ পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক মাইল বিস্তৃত একটি ঘন খেজুর বাগান আছে। খায়বার শহরে বর্তমানে (১৯৬৪ খৃ.) ‘উনায়যা গোত্রের আরবগণ বাস করে। কথিত আছে যে, খায়বারের স্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার হইলেও খেজুর ফসল উত্তোলনের সময় উহার অস্থায়ী অধিবাসীর সংখ্যা পঁচিশ-ত্রিশ হাজারে বৃদ্ধি পায়। খায়বার শহরে কয়েকটি উচ্চ টিলা ও পাহাড় রহিয়াছে (ইসলামী বিশ্বকোষ, ৯খ., পৃ. ৫৭৮)। খায়বার মদীনা হইতে সিরিয়া অভিমুখে আট "বারীদ” (৯৬ মাইল) দূরবর্তী একটি জনপদ (আল-হামাবীল, মু'জামুল বুলদান, ২খ., ৪০৯; আল-বুসতানী, দাইরাতুল মা'আরিফ, ৭খ., পৃ. ৫০৮)।
ইয়াহুদীদের ভাষায় 'খায়বার” শব্দের অর্থ দুর্গ। খায়বার যেহেতু কতিপয় দুর্গের সমষ্টি তাই উহাকে খায়াবির ও (বহুবচন হিসাবে) বলা হয় (মু'জামুল বুলদান, ২খ., পৃ. ৪০৯; মারাসিদুল ইত্তিলা', ১খ., পৃ. ৪৯৪)।
আহমাদ আলী সাহারানপুরী আল-হালাবীর সূত্রে উল্লেখ করেন যে, আমালিক গোত্রের খায়বার নামক এক ব্যক্তি এই শহরে বসবাস করিত। তাহারই নামানুসারে শহরটির নামকরণ করা হয়। তাহার আর এক ভাই ইয়াছরিব মদীনায় বসবাস করিত। তাহার নামানুসারে মদীনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াছরিব (বুখারী, কলিকাতা, ২খ., পৃ. ৬০৩, পার্শ্বটীকা নং ৫)। ঐতিহাসিক আল-বাকরী সাহল ইব্‌ন মুহাম্মাদ আল-কাতিব-এর সূত্রে এবং ইয়াকৃত আয-যাজ্জাজীর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, খায়বার শহরটির নামকরণ হইয়াছে উহার প্রতিষ্ঠাতা খায়বার ইব্‌ন কানিয়া ইন্ন মাহ্লাঈল-এর নামানুসারে (দাইরা মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া, লাহোর, ৯খ., পৃ. ৬৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 প্রাচীন ইতিহাস

📄 প্রাচীন ইতিহাস


ব্যাবিলনের সর্বশেষ কালদীয় সম্রাট নাবূ না'ইদ [নাবৃনীদ] (খৃ. পৃ. ৫৫৬ অথবা ৫৩৯)-এর উৎকীর্ণ শিলালিপিতে খায়বারের উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। উক্ত শিলালিপি হাররান-এর বিধ্বস্ত জামে' মসজিদের মেঝেতে স্থাপিত একটি প্রস্তরে উৎকীর্ণ (দ্র. মিউনিখের বিশ্ব প্রাচ্যবিদ পরিষদ-এর প্রকাশিত কার্যবিবরণী, ১৩২)। উহাতে লেখা আছে যে, সম্রাট নাবূ না'ইদ যখন তায়মা নামক স্থানে তাহার উপ-রাজধানী স্থাপন করেন তখন তিনি খায়বার, ফাদাক প্রভৃতি স্থান হইয়া ইয়াছরিব (মদীনা) পর্যন্ত ভ্রমণ করেন।
হাররানের নিকট অবস্থিত লাজা নামক স্থানে আরেকটি শিলালিপি আবিষ্কৃত হইয়াছে। উহাতে আবজাদের হিসাব অনুযায়ী (সংখ্যা ভিত্তিক কৌশলসহ) আরবী ভাষায় উৎকীর্ণ রহিয়াছেঃ "আমি অর্থাৎ শারাহীল ইন্ন তালাম্ যাল-মারতুল শহরটি ৪৬৩ সনে খায়বারের ধ্বংসের এক বৎসর পর নির্মাণ করিলাম"। E. Littmann (R. S. O., ১৯১১ এবং ১৯১২ খৃ., পৃ. ১৯৩)-এর বর্ণনা অনুসারে উক্ত শিলালিপিতে উল্লিখিত ৪৬৩ সন দ্বারা ৫৬৮ খৃ. বুঝিতে হইবে।
ইব্‌ন কুতায়বার বর্ণনা অনুসারে (দ্র. কিতাবুল-মা'আরিফ, পৃ. ৩১৩) গাসসান গোত্রীয় শাসনকর্তা হারিছ ইব্‌ন আবী শামির জাবালা (৫২৮-৫৭০) উক্ত অঞ্চলের দিকে অভিযান পরিচালনা করিয়াছিলেন। খায়বারের অধিবাসিগণ সম্ভবত ইরানীদের ও হীরার শাসনকর্তাদের সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইয়াছিল। ফলে বায়যান্টাইন সম্রাট সামন্ত গাসসানী শাসনকর্তাকে এইদিকে অভিযানে প্রেরণ করিয়াছিলেন। তৎকালীন খায়বার অধিবাসীদের সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না। তবে ষাট বৎসর পর যখন রাসূলুল্লাহ (স) তথায় পদার্পণ করেন, তখন সেখানে শুধু ইয়াহুদীরাই বসবাস করিত। উহাদিগের আর্থিক সচ্ছলতার কারণে মক্কাবাসীরা তাহাদিগকে বিবাহ উপলক্ষে খায়বার হইতে ডেগ ও অংলকারাদি ভাড়া করিত। এক অনুষ্ঠানে কোন মক্কাবাসী ভাড়াতে যে অংলকার আনিয়াছিল তাহা হারাইয়া গেলে দশ সহস্র স্বর্ণমুদ্রা ক্ষতিপূরণ দিতে হইয়াছিল (দ্র. তাবাকাত ইবন সা'দ, ১/২খ., পৃ. ৮১; শারহুস সিয়ারিল কাবীর, ১খ., পৃ. ১৮৬)।
খুব সম্ভব বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে আরব পৌত্তলিক ও ইয়াহুদীদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের রেওয়াজ ছিল এবং ইয়াহুদী রমণীরা নির্দ্বিধায় আরবগণের সহিত বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করিত (দ্র. ইব্‌ন্ন হাবীব, আল-মুনাস্মাক, লাখনৌ, পাণ্ডুলিপি, পৃ. ৩২৫)। খায়বারে বিপুল পরিমাণে খেজুর উৎপন্ন হইত। জাহিলী যুগে এই স্থানে জ্বরের প্রাদুর্ভাব ছিল (বিস্তারিত বিবরণের জন্য দ্র. আল-কাযীনী, আল-আছার, ২খ., পৃ. ৬০, ৬১; ইব্‌ন কুভায়বা, আল-আনওয়া, পৃ. ৩০-৩১; দামাই, ৯খ., পৃ. ৬৮)। খায়বারের ইয়াহুদীদের পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্যে "তায়লাসান” (এক প্রকার সবুজ চাদর) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়া বানুল মুসতালিক মিন খুযা'আ, বাব নং ৩৩)। ইয়াকৃত মু'জামুল বুলদান গ্রন্থে খায়বারের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্য হইতে ইবনুল কাহির আল-খায়বারী আল-লাখমী মুহাদ্দিছের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করিয়াছেন। ইসলামী যুগের ভূগোলবিদদের মধ্যে আল-বাকরীর (মু'জাম, পৃ. ৩৩১, ৩৩২) মতে, মদীনা মুনাওয়ারা হইতে যাত্রা করিলে পথিমধ্যে প্রথমে গাবাতুল 'উলয়া, অতঃপর গাবাতুস সুফলা এবং তৎপর নাকাব য়ারদাউজ নামক স্থান। অতঃপর আদ-দূমা নামক উপত্যকায় কতকগুলি কুপ আছে। ইহার পর উশমুয পর্বত, অতঃপর হাররা আশ-শুক্কা এবং তৎপর নুমার নামক স্থান যাহা আট মাইল দূরত্বে খায়বারের সীমান্তে অবস্থিত। নুমা-র পরে খায়বার অঞ্চল ও উহার দুর্গসমূহ রহিয়াছে। খায়বারের বাজারের নাম আল-মুরতালা যাহা উছমান (রা) স্থাপন করিয়াছিলেন। এই দুর্গসমূহে কিছু সংখ্যক প্রাচীন অধিবাসী বাস করে। উহারা উমার (রা)-এর বংশধর।
আরও সামনে হিস্স-ই ওয়াজদা যাহাতে খেজুর ইত্যাদির বাগান আছে। এই বাগান রাসূলুল্লাহ (স)-এর ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। ইহার পর আল-আওয়াল পাহাড় যাহার উপর ইয়াহুদীদের দুর্গ (আতাস) অবস্থিত। উহার উপর কতকগুলি শস্যক্ষেত্র ও ফলের বাগান রহিয়াছে। আল-ওয়াতীহ নামক এই স্থানের আয় হইতে উম্মাহাতুল মু'মিনীনের এবং মুত্তালিব বংশীয়দের নির্দিষ্ট ভাতা প্রদান করা হইত। আল-ওয়াতীহের সহিত সংযুক্ত খালাস নামক স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত একটি উপত্যকা আল-কাতীবা নামে পরিচিত যাহার সমুদয় অংশই রাসূলুল্লাহ (স)-এর ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত ছিল। উপত্যকাটি খায়বার অঞ্চলের দুর্গ বেষ্টিত স্থানসমূহের অন্যতম।
আস-সাহবা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (স) ছাউনী স্থাপন করিয়া রাত্রিযাপন করিয়াছিলেন। ইহা খায়বার হইতে এক বারীদ (১২ মাইল) দূরে অবস্থিত। খায়বারের বৃহত্তম দুর্গের নাম আল-কামূস যাহা আলী (রা) জয় করিয়াছিলেন। ইহারই পাশ্ববর্তী স্থানে রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিয়াছিলেন যেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হইয়াছে। এই স্থানে আন-নাতা ও আশ-শিকক নামক দুইটি উপত্যকা রহিয়াছে। উহাদিগের মধ্যবর্তী এলাকা আস-সাবখা ও আল-মাখাদা নামে পরিচিত। ইহা সেই মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত যেখানে খায়বারে রাসূলুল্লাহ (স) অবস্থান করিয়াছিলেন। ঈসা ইবন মূসা বিপুল অর্থব্যয়ে এইখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করান। উহার ভিত্তি পরস্পর সংযুক্ত প্রস্তর খণ্ডের (তাাকাত) উপর প্রতিষ্ঠিত। মসজিদের সহিত বড় একটি চত্বরও রহিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) যেই পাথরটিকে সুতরারূপে গ্রহণ করিয়া এখানে সালাত আদায় করিতেন, বর্তমানে উহাও উক্ত স্থানে রক্ষিত আছে। আজকাল এই মাঠে ঈদের জামা'আত অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বোক্ত আন-নাতা নামক স্থানে মারহাব-এর দুর্গ ও প্রাসাদ রহিয়াছে। খায়বার বিজয়ের পর উক্ত প্রাসাদ যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল।

ব্যাবিলনের সর্বশেষ কালদীয় সম্রাট নাবূ না'ইদ [নাবৃনীদ] (খৃ. পৃ. ৫৫৬ অথবা ৫৩৯)-এর উৎকীর্ণ শিলালিপিতে খায়বারের উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। উক্ত শিলালিপি হাররান-এর বিধ্বস্ত জামে' মসজিদের মেঝেতে স্থাপিত একটি প্রস্তরে উৎকীর্ণ (দ্র. মিউনিখের বিশ্ব প্রাচ্যবিদ পরিষদ-এর প্রকাশিত কার্যবিবরণী, ১৩২)। উহাতে লেখা আছে যে, সম্রাট নাবূ না'ইদ যখন তায়মা নামক স্থানে তাহার উপ-রাজধানী স্থাপন করেন তখন তিনি খায়বার, ফাদাক প্রভৃতি স্থান হইয়া ইয়াছরিব (মদীনা) পর্যন্ত ভ্রমণ করেন।
হাররানের নিকট অবস্থিত লাজা নামক স্থানে আরেকটি শিলালিপি আবিষ্কৃত হইয়াছে। উহাতে আবজাদের হিসাব অনুযায়ী (সংখ্যা ভিত্তিক কৌশলসহ) আরবী ভাষায় উৎকীর্ণ রহিয়াছেঃ "আমি অর্থাৎ শারাহীল ইন্ন তালাম্ যাল-মারতুল শহরটি ৪৬৩ সনে খায়বারের ধ্বংসের এক বৎসর পর নির্মাণ করিলাম"। E. Littmann (R. S. O., ১৯১১ এবং ১৯১২ খৃ., পৃ. ১৯৩)-এর বর্ণনা অনুসারে উক্ত শিলালিপিতে উল্লিখিত ৪৬৩ সন দ্বারা ৫৬৮ খৃ. বুঝিতে হইবে।
ইব্‌ন কুতায়বার বর্ণনা অনুসারে (দ্র. কিতাবুল-মা'আরিফ, পৃ. ৩১৩) গাসসান গোত্রীয় শাসনকর্তা হারিছ ইব্‌ন আবী শামির জাবালা (৫২৮-৫৭০) উক্ত অঞ্চলের দিকে অভিযান পরিচালনা করিয়াছিলেন। খায়বারের অধিবাসিগণ সম্ভবত ইরানীদের ও হীরার শাসনকর্তাদের সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইয়াছিল। ফলে বায়যান্টাইন সম্রাট সামন্ত গাসসানী শাসনকর্তাকে এইদিকে অভিযানে প্রেরণ করিয়াছিলেন। তৎকালীন খায়বার অধিবাসীদের সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না। তবে ষাট বৎসর পর যখন রাসূলুল্লাহ (স) তথায় পদার্পণ করেন, তখন সেখানে শুধু ইয়াহুদীরাই বসবাস করিত। উহাদিগের আর্থিক সচ্ছলতার কারণে মক্কাবাসীরা তাহাদিগকে বিবাহ উপলক্ষে খায়বার হইতে ডেগ ও অংলকারাদি ভাড়া করিত। এক অনুষ্ঠানে কোন মক্কাবাসী ভাড়াতে যে অংলকার আনিয়াছিল তাহা হারাইয়া গেলে দশ সহস্র স্বর্ণমুদ্রা ক্ষতিপূরণ দিতে হইয়াছিল (দ্র. তাবাকাত ইবন সা'দ, ১/২খ., পৃ. ৮১; শারহুস সিয়ারিল কাবীর, ১খ., পৃ. ১৮৬)।
খুব সম্ভব বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে আরব পৌত্তলিক ও ইয়াহুদীদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের রেওয়াজ ছিল এবং ইয়াহুদী রমণীরা নির্দ্বিধায় আরবগণের সহিত বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করিত (দ্র. ইব্‌ন্ন হাবীব, আল-মুনাস্মাক, লাখনৌ, পাণ্ডুলিপি, পৃ. ৩২৫)। খায়বারে বিপুল পরিমাণে খেজুর উৎপন্ন হইত। জাহিলী যুগে এই স্থানে জ্বরের প্রাদুর্ভাব ছিল (বিস্তারিত বিবরণের জন্য দ্র. আল-কাযীনী, আল-আছার, ২খ., পৃ. ৬০, ৬১; ইব্‌ন কুভায়বা, আল-আনওয়া, পৃ. ৩০-৩১; দামাই, ৯খ., পৃ. ৬৮)। খায়বারের ইয়াহুদীদের পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্যে "তায়লাসান” (এক প্রকার সবুজ চাদর) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতু খায়বার, হাদীছ নং ১২)। ইয়াকৃত মু'জামুল বুলদান গ্রন্থে খায়বারের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্য হইতে ইবনুল কাহির আল-খায়বারী আল-লাখমী মুহাদ্দিছের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করিয়াছেন। ইসলামী যুগের ভূগোলবিদদের মধ্যে আল-বাকরীর (মু'জাম, পৃ. ৩৩১, ৩৩২) মতে, মদীনা মুনাওয়ারা হইতে যাত্রা করিলে পথিমধ্যে প্রথমে গাবাতুল 'উলয়া, অতঃপর গابატুস সুফলা এবং তৎপর নাকাব য়ারদাউজ নামক স্থান। অতঃপর আদ-দূমা নামক উপত্যকায় কতকগুলি কুপ আছে। ইহার পর উশমুয পর্বত, অতঃপর হাররা আশ-শুক্কা এবং তৎপর নুমার নামক স্থান যাহা আট মাইল দূরত্বে খায়বারের সীমান্তে অবস্থিত। নুমা-র পরে খায়বার অঞ্চল ও উহার দুর্গসমূহ রহিয়াছে। খায়বারের বাজারের নাম আল-মুরতালা যাহা উছমান (রা) স্থাপন করিয়াছিলেন। এই দুর্গসমূহে কিছু সংখ্যক প্রাচীন অধিবাসী বাস করে। উহারা উমার (রা)-এর বংশধর।
আরও সামনে হিস্স-ই ওয়াজদা যাহাতে খেজুর ইত্যাদির বাগান আছে। এই বাগান রাসূলুল্লাহ (স)-এর ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। ইহার পর আল-আওয়াল পাহাড় যাহার উপর ইয়াহুদীদের দুর্গ (আতাস) অবস্থিত। উহার উপর কতকগুলি শস্যক্ষেত্র ও ফলের বাগান রহিয়াছে। আল-ওয়াতীহ নামক এই স্থানের আয় হইতে উম্মাহাতুল মু'মিনীনের এবং মুত্তালিব বংশীয়দের নির্দিষ্ট ভাতা প্রদান করা হইত। আল-ওয়াতীহের সহিত সংযুক্ত খালাস নামক স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত একটি উপত্যকা আল-কাতীবা নামে পরিচিত যাহার সমুদয় অংশই রাসূলুল্লাহ (স)-এর ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত ছিল। উপত্যকাটি খায়বার অঞ্চলের দুর্গ বেষ্টিত স্থানসমূহের অন্যতম।
আস-সাহবা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (স) ছাউনী স্থাপন করিয়া রাত্রিযাপন করিয়াছিলেন। ইহা খায়বার হইতে এক বারীদ (১২ মাইল) দূরে অবস্থিত। খায়বারের বৃহত্তম দুর্গের নাম আল-কামূس যাহা আলী (রা) জয় করিয়াছিলেন। ইহারই পাশ্ববর্তী স্থানে রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিয়াছিলেন যেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হইয়াছে। এই স্থানে আন-নাতা ও আশ-শিকক নামক দুইটি উপত্যকা রহিয়াছে। উহাদিগের মধ্যবর্তী এলাকা আস-সাবখা ও আল-মাখাদা নামে পরিচিত। ইহা সেই মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত যেখানে খায়বারে রাসূলুল্লাহ (স) অবস্থান করিয়াছিলেন। ঈসা ইবন মূসা বিপুল অর্থব্যয়ে এইখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করান। উহার ভিত্তি পরস্পর সংযুক্ত প্রস্তর খণ্ডের (তাাকাত) উপর প্রতিষ্ঠিত। মসজিদের সহিত বড় একটি চত্বরও রহিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) যেই পাথরটিকে সুতরারূপে গ্রহণ করিয়া এখানে সালাত আদায় করিতেন, বর্তমানে উহাও উক্ত স্থানে রক্ষিত আছে। আজকাল এই মাঠে ঈদের জামা'আত অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বোক্ত আন-নাতা নামক স্থানে মারহাব-এর দুর্গ ও প্রাসাদ রহিয়াছে। খায়বার বিজয়ের পর উক্ত প্রাসাদ যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল।

ব্যাবিলনের সর্বশেষ কালদীয় সম্রাট নাবূ না'ইদ [নাবৃনীদ] (খৃ. পৃ. ৫৫৬ অথবা ৫৩৯)-এর উৎকীর্ণ শিলালিপিতে খায়বারের উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। উক্ত শিলালিপি হাররান-এর বিধ্বস্ত জামে' মসজিদের মেঝেতে স্থাপিত একটি প্রস্তরে উৎকীর্ণ (দ্র. মিউনিখের বিশ্ব প্রাচ্যবিদ পরিষদ-এর প্রকাশিত কার্যবিবরণী, ১৩২)। উহাতে লেখা আছে যে, সম্রাট নাবূ না'ইদ যখন তায়মা নামক স্থানে তাহার উপ-রাজধানী স্থাপন করেন তখন তিনি খায়বার, ফাদাক প্রভৃতি স্থান হইয়া ইয়াছরিব (মদীনা) পর্যন্ত ভ্রমণ করেন।
হাররানের নিকট অবস্থিত লাজা নামক স্থানে আরেকটি শিলালিপি আবিষ্কৃত হইয়াছে। উহাতে আবজাদের হিসাব অনুযায়ী (সংখ্যা ভিত্তিক কৌশলসহ) আরবী ভাষায় উৎকীর্ণ রহিয়াছেঃ "আমি অর্থাৎ শারাহীল ইন্ন তালাম্ যাল-মারতুল শহরটি ৪৬৩ সনে খায়বারের ধ্বংসের এক বৎসর পর নির্মাণ করিলাম"। E. Littmann (R. S. O., ১৯১১ এবং ১৯১২ খৃ., পৃ. ১৯৩)-এর বর্ণনা অনুসারে উক্ত শিলালিপিতে উল্লিখিত ৪৬৩ সন দ্বারা ৫৬৮ খৃ. বুঝিতে হইবে।
ইব্‌ন কুতায়বার বর্ণনা অনুসারে (দ্র. কিতাবুল-মা'আরিফ, পৃ. ৩১৩) গাসসান গোত্রীয় শাসনকর্তা হারিছ ইব্‌ন আবী শামির জাবালা (৫২৮-৫৭০) উক্ত অঞ্চলের দিকে অভিযান পরিচালনা করিয়াছিলেন। খায়বারের অধিবাসিগণ সম্ভবত ইরানীদের ও হীরার শাসনকর্তাদের সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইয়াছিল। ফলে বায়যান্টাইন সম্রাট সামন্ত গাসসানী শাসনকর্তাকে এইদিকে অভিযানে প্রেরণ করিয়াছিলেন। তৎকালীন খায়বার অধিবাসীদের সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না। তবে ষাট বৎসর পর যখন রাসূলুল্লাহ (স) তথায় পদার্পণ করেন, তখন সেখানে শুধু ইয়াহুদীরাই বসবাস করিত। উহাদিগের আর্থিক সচ্ছলতার কারণে মক্কাবাসীরা তাহাদিগকে বিবাহ উপলক্ষে খায়বার হইতে ডেগ ও অংলকারাদি ভাড়া করিত। এক অনুষ্ঠানে কোন মক্কাবাসী ভাড়াতে যে অংলকার আনিয়াছিল তাহা হারাইয়া গেলে দশ সহস্র স্বর্ণমুদ্রা ক্ষতিপূরণ দিতে হইয়াছিল (দ্র. তাবাকাত ইবন সা'দ, ১/২খ., পৃ. ৮১; শারহুস সিয়ারিল কাবীর, ১খ., পৃ. ১৮৬)।
খুব সম্ভব বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে আরব পৌত্তলিক ও ইয়াহুদীদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের রেওয়াজ ছিল এবং ইয়াহুদী রমণীরা নির্দ্বিধায় আরবগণের সহিত বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করিত (দ্র. ইব্‌ন্ন হাবীব, আল-মুনাস্মাক, লাখনৌ, পাণ্ডুলিপি, পৃ. ৩২৫)। খায়বারে বিপুল পরিমাণে খেজুর উৎপন্ন হইত। জাহিলী যুগে এই স্থানে জ্বরের প্রাদুর্ভাব ছিল (বিস্তারিত বিবরণের জন্য দ্র. আল-কাযীনী, আল-আছার, ২খ., পৃ. ৬০, ৬১; ইব্‌ন কুভায়বা, আল-আনওয়া, পৃ. ৩০-৩১; দামাই, ৯খ., পৃ. ৬৮)। খায়বারের ইয়াহুদীদের পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্যে "তায়লাসান” (এক প্রকার সবুজ চাদর) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতু খায়বার, হাদীছ নং ১২)। ইয়াকৃত মু'জামুল বুলদান গ্রন্থে খায়বারের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্য হইতে ইবনুল কাহির আল-খায়বারী আল-লাখমী মুহাদ্দিছের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করিয়াছেন। ইসলামী যুগের ভূগোলবিদদের মধ্যে আল-বাকরীর (মু'জাম, পৃ. ৩৩১, ৩৩২) মতে, মদীনা মুনাওয়ারা হইতে যাত্রা করিলে পথিমধ্যে প্রথমে গাবাতুল 'উলয়া, অতঃপর গابატুস সুফলা এবং তৎপর নাকাব য়ারদাউজ নামক স্থান। অতঃপর আদ-দূমা নামক উপত্যকায় কতকগুলি কুপ আছে। ইহার পর উশমুয পর্বত, অতঃপর হাররা আশ-শুক্কা এবং তৎপর নুমার নামক স্থান যাহা আট মাইল দূরত্বে খায়বারের সীমান্তে অবস্থিত। নুমা-র পরে খায়বার অঞ্চল ও উহার দুর্গসমূহ রহিয়াছে। খায়বারের বাজারের নাম আল-মুরতালা যাহা উছমান (রা) স্থাপন করিয়াছিলেন। এই দুর্গসমূহে কিছু সংখ্যক প্রাচীন অধিবাসী বাস করে। উহারা উমার (রা)-এর বংশধর।
আরও সামনে হিস্স-ই ওয়াজদা যাহাতে খেজুর ইত্যাদির বাগান আছে। এই বাগান রাসূলুল্লাহ (স)-এর ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। ইহার পর আল-আওয়াল পাহাড় যাহার উপর ইয়াহুদীদের দুর্গ (আতাস) অবস্থিত। উহার উপর কতকগুলি শস্যক্ষেত্র ও ফলের বাগান রহিয়াছে। আল-ওয়াতীহ নামক এই স্থানের আয় হইতে উম্মাহাতুল মু'মিনীনের এবং মুত্তালিব বংশীয়দের নির্দিষ্ট ভাতা প্রদান করা হইত। আল-ওয়াতীহের সহিত সংযুক্ত খালাস নামক স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত একটি উপত্যকা আল-কাতীবা নামে পরিচিত যাহার সমুদয় অংশই রাসূলুল্লাহ (س)-এর ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত ছিল। উপত্যকাটি খায়বার অঞ্চলের দুর্গ বেষ্টিত স্থানসমূহের অন্যতম।
আস-সাহবা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (স) ছাউনী স্থাপন করিয়া রাত্রিযাপন করিয়াছিলেন। ইহা খায়বার হইতে এক বারীদ (১২ মাইল) দূরে অবস্থিত। খায়বারের বৃহত্তম দুর্গের নাম আল-কামূس যাহা আলী (রা) জয় করিয়াছিলেন। ইহারই পাশ্ববর্তী স্থানে রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিয়াছিলেন যেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হইয়াছে। এই স্থানে আন-নাতা ও আশ-শিকক নামক দুইটি উপত্যকা রহিয়াছে। উহাদিগের মধ্যবর্তী এলাকা আস-সাবখা ও আল-মাখাদা নামে পরিচিত। ইহা সেই মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত যেখানে খায়বারে রাসূলুল্লাহ (স) অবস্থান করিয়াছিলেন। ঈসা ইবন মূসা বিপুল অর্থব্যয়ে এইখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করান। উহার ভিত্তি পরস্পর সংযুক্ত প্রস্তর খণ্ডের (তাাকাত) উপর প্রতিষ্ঠিত। মসজিদের সহিত বড় একটি চত্বরও রহিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) যেই পাথরটিকে সুতরারূপে গ্রহণ করিয়া এখানে সালাত আদায় করিতেন, বর্তমানে উহাও উক্ত স্থানে রক্ষিত আছে। আজকাল এই মাঠে ঈদের জামা'আত অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বোক্ত আন-নাতা নামক স্থানে মারহাব-এর দুর্গ ও প্রাসাদ রহিয়াছে। খায়বার বিজয়ের পর উক্ত প্রাসাদ যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল।

ব্যাবিলনের সর্বশেষ কালদীয় সম্রাট নাবূ না'ইদ [নাবৃনীদ] (খৃ. পৃ. ৫৫৬ অথবা ৫৩৯)-এর উৎকীর্ণ শিলালিপিতে খায়বারের উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। উক্ত শিলালিপি হাররান-এর বিধ্বস্ত জামে' মসজিদের মেঝেতে স্থাপিত একটি প্রস্তরে উৎকীর্ণ (দ্র. মিউনিখের বিশ্ব প্রাচ্যবিদ পরিষদ-এর প্রকাশিত কার্যবিবরণী, ১৩২)। উহাতে লেখা আছে যে, সম্রাট নাবূ না'ইদ যখন তায়মা নামক স্থানে তাহার উপ-রাজধানী স্থাপন করেন তখন তিনি খায়বার, ফাদাক প্রভৃতি স্থান হইয়া ইয়াছরিব (মদীনা) পর্যন্ত ভ্রমণ করেন।
হাররানের নিকট অবস্থিত লাজা নামক স্থানে আরেকটি শিলালিপি আবিষ্কৃত হইয়াছে। উহাতে আবজাদের হিসাব অনুযায়ী (সংখ্যা ভিত্তিক কৌশলসহ) আরবী ভাষায় উৎকীর্ণ রহিয়াছেঃ "আমি অর্থাৎ শারাহীল ইন্ন তালাম্ যাল-মারতুল শহরটি ৪৬৩ সনে খায়বারের ধ্বংসের এক বৎসর পর নির্মাণ করিলাম"। E. Littmann (R. S. O., ১৯১১ এবং ১৯১২ খৃ., পৃ. ১৯৩)-এর বর্ণনা অনুসারে উক্ত শিলালিপিতে উল্লিখিত ৪৬৩ সন দ্বারা ৫৬৮ খৃ. বুঝিতে হইবে।
ইব্‌ন কুতায়বার বর্ণনা অনুসারে (দ্র. কিতাবুল-মা'আরিফ, পৃ. ৩১৩) গাসসান গোত্রীয় শাসনকর্তা হারিছ ইব্‌ন আবী শামির জাবালা (৫২৮-৫৭০) উক্ত অঞ্চলের দিকে অভিযান পরিচালনা করিয়াছিলেন। খায়বারের অধিবাসিগণ সম্ভবত ইরানীদের ও হীরার শাসনকর্তাদের সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইয়াছিল। ফলে বায়যান্টাইন সম্রাট সামন্ত গাসসানী শাসনকর্তাকে এইদিকে অভিযানে প্রেরণ করিয়াছিলেন। তৎকালীন খায়বার অধিবাসীদের সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না। তবে ষাট বৎসর পর যখন রাসূলুল্লাহ (স) তথায় পদার্পণ করেন, তখন সেখানে শুধু ইয়াহুদীরাই বসবাস করিত। উহাদিগের আর্থিক সচ্ছলতার কারণে মক্কাবাসীরা তাহাদিগকে বিবাহ উপলক্ষে খায়বার হইতে ডেগ ও অংলকারাদি ভাড়া করিত। এক অনুষ্ঠানে কোন মক্কাবাসী ভাড়াতে যে অংলকার আনিয়াছিল তাহা হারাইয়া গেলে দশ সহস্র স্বর্ণমুদ্রা ক্ষতিপূরণ দিতে হইয়াছিল (দ্র. তাবাকাত ইবন সা'দ, ১/২খ., পৃ. ৮১; শারহুস সিয়ারিল কাবীর, ১খ., পৃ. ১৮৬)।
খুব সম্ভব বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে আরব পৌত্তলিক ও ইয়াহুদীদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের রেওয়াজ ছিল এবং ইয়াহুদী রমণীরা নির্দ্বিধায় আরবগণের সহিত বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করিত (দ্র. ইব্‌ন্ন হাবীব, আল-মুনাস্মাক, লাখনৌ, পাণ্ডুলিপি, পৃ. ৩২৫)। খায়বারে বিপুল পরিমাণে খেজুর উৎপন্ন হইত। জাহিলী যুগে এই স্থানে জ্বরের প্রাদুর্ভাব ছিল (বিস্তারিত বিবরণের জন্য দ্র. আল-কাযীনী, আল-আছার, ২খ., পৃ. ৬০, ৬১; ইব্‌ন কুভায়বা, আল-আনওয়া, পৃ. ৩০-৩১; দামাই, ৯খ., পৃ. ৬৮)। খায়বারের ইয়াহুদীদের পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্যে "তায়লাসান” (এক প্রকার সবুজ চাদর) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতু খায়বার, হাদীছ নং ১২)। ইয়াকৃত মু'জামুল বুলদান গ্রন্থে খায়বারের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্য হইতে ইবনুল কাহির আল-খায়বারী আল-লাখমী মুহাদ্দিছের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করিয়াছেন। ইসলামী যুগের ভূগোলবিদদের মধ্যে আল-বাকরীর (মু'জাম, পৃ. ৩৩১, ৩৩২) মতে, মদীনা মুনাওয়ারা হইতে যাত্রা করিলে পথিমধ্যে প্রথমে গাবাতুল 'উলয়া, অতঃপর গابাতুস সুফলা এবং তৎপর নাকাব য়ারদাউজ নামক স্থান। অতঃপর আদ-দূমা নামক উপত্যকায় কতকগুলি কুপ আছে। ইহার পর উশমুয পর্বত, অতঃপর হাররা আশ-শুক্কা এবং তৎপর নুমার নামক স্থান যাহা আট মাইল দূরত্বে খায়বারের সীমান্তে অবস্থিত। নুমা-র পরে খায়বার অঞ্চল ও উহার দুর্গসমূহ রহিয়াছে। খায়বারের বাজারের নাম আল-মুরতালা যাহা উছমান (রা) স্থাপন করিয়াছিলেন। এই দুর্গসমূহে কিছু সংখ্যক প্রাচীন অধিবাসী বাস করে। উহারা উমার (রা)-এর বংশধর।
আরও সামনে হিস্স-ই ওয়াজদা যাহাতে খেজুর ইত্যাদির বাগান আছে। এই বাগান রাসূলুল্লাহ (স)-এর ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। ইহার পর আল-আওয়াল পাহাড় যাহার উপর ইয়াহুদীদের দুর্গ (আতাস) অবস্থিত। উহার উপর কতকগুলি শস্যক্ষেত্র ও ফলের বাগান রহিয়াছে। আল-ওয়াতীহ নামক এই স্থানের আয় হইতে উম্মাহাতুল মু'মিনীনের এবং মুত্তালিব বংশীয়দের নির্দিষ্ট ভাতা প্রদান করা হইত। আল-ওয়াতীহের সহিত সংযুক্ত খালাস নামক স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত একটি উপত্যকা আল-কাতীবা নামে পরিচিত যাহার সমুদয় অংশই রাসূলুল্লাহ (স)-এর ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত ছিল। উপত্যকাটি খায়বার অঞ্চলের দুর্গ বেষ্টিত স্থানসমূহের অন্যতম।
আস-সাহবা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (স) ছাউনী স্থাপন করিয়া রাত্রিযাপন করিয়াছিলেন। ইহা খায়বার হইতে এক বারীদ (১২ মাইল) দূরে অবস্থিত। খায়বারের বৃহত্তম দুর্গের নাম আল-কামূস যাহা আলী (রা) জয় করিয়াছিলেন। ইহারই পাশ্ববর্তী স্থানে রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিয়াছিলেন যেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হইয়াছে। এই স্থানে আন-নাতা ও আশ-শিকক নামক দুইটি উপত্যকা রহিয়াছে। উহাদিগের মধ্যবর্তী এলাকা আস-সাবখা ও আল-মাখাদা নামে পরিচিত। ইহা সেই মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত যেখানে খায়বারে রাসূলুল্লাহ (স) অবস্থান করিয়াছিলেন। ঈসা ইবন মূসা বিপুল অর্থব্যয়ে এইখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করান। উহার ভিত্তি পরস্পর সংযুক্ত প্রস্তর খণ্ডের (তাাকাত) উপর প্রতিষ্ঠিত। মসজিদের সহিত বড় একটি চত্বরও রহিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) যেই পাথরটিকে সুতরারূপে গ্রহণ করিয়া এখানে সালাত আদায় করিতেন, বর্তমানে উহাও উক্ত স্থানে রক্ষিত আছে। আজকাল এই মাঠে ঈদের জামা'আত অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বোক্ত আন-নাতা নামক স্থানে মারহাব-এর দুর্গ ও প্রাসাদ রহিয়াছে। খায়বার বিজয়ের পর উক্ত প্রাসাদ যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা)-এর ভাগে পড়িয়াছিল।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বিস্ময়কর ঝর্ণা

📄 বিস্ময়কর ঝর্ণা


পূর্বোক্ত আশ-শিকক দুর্গে আল-হুম্মার নামক একটি নির্ঝরনী আছে। রাসূলুল্লাহ (স) ইহার নাম দিয়াছিলেন কিসমাতু মালাইকা। উক্ত নির্ঝরনী হইতে নির্গত পানির দুই-তৃতীয়াংশ একটি নালায় এবং এক-তৃতীয়াংশ অন্য একটি নালায় প্রবাহিত হয়, ব্যতিক্রম কখনও হয় না। এই বিস্ময়কর ব্যাপার রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগ হইতে অদ্যাবধি চলিয়া আসিতেছে। যদি কেহ উক্ত ফোয়ারায় ৩টি খেজুর অথবা ৩টি কাষ্ঠ খণ্ড নিক্ষেপ করে, তবে উহাদের দুইটি সেই নালায় যায় যাহাতে দুই-তৃতীয়াংশ পানি প্রবাহিত হয় এবং একটি যাইবে ঐ নালায় যাহাতে এক-তৃতীয়াংশ পানি চলে। কোন উপায়েই দ্বিতীয় নালায় এক-তৃতীয়াংশ অপেক্ষা অধিক পানি প্রবাহিত করানো যায় না। যদি কেহ দ্বিতীয় নালায় অধিক পানি প্রবাহিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রথমোক্ত নালার মুখে দাঁড়াইয়া যায় তথাপি তাহা সম্ভব হয় না; বরং পানি স্ফীত হইয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বাধা অতিক্রম করিয়া প্রথমোক্ত নালায় গিয়া পড়ে (দা.মা.ই., ১৯৭২ খৃ., ৯খ., পৃ. ৬৯)। আন-নাতা-এ অবস্থিত বৃহত্তম ফোয়ারা আল-লুহায়হা নামে পরিচিত।
খায়বারে সর্বপ্রথম দারু বানী কিম্মা নামক স্থানটি বিজিত হয় যাহা আন-নাতা-এর অন্তর্ভুক্ত। উক্ত স্থানেই মারহাব-এর ভ্রাতা ইলয়াস বাস করিত। উক্ত স্থান সম্পর্কে উম্মুল মু'মিনীন আইশা (রা) বলিয়াছেন, "দারু বানী কিম্মা বিজিত হইবার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স) কোন দিন পেট ভরিয়া যবের রুটি ও খেজুর ভক্ষণ করেন নাই।" বর্তমানে মারহাব-এর প্রাসাদের পাদদেশে একটি ক্ষুদ্র মসজিদ রহিয়াছে। উহার অদূরে পানির যে ফোয়ারাটি রহিয়াছে উহার সম্বন্ধে এইরূপ কাহিনী আছে যে, আলী (রা) মারহাবের উপর আক্রমণ করিলে এক সময় তরবারি তাহার হস্ত হইতে যেই স্থানে পতিত হয় সেখানে একটি পানির ফোয়ারা উৎসারিত হইয়াছিল এবং সেই কারণে এই ফোয়ারা তাহার নামের সহিত সম্পৃক্ত হইয়া যায়। তাহার অনতিদূরে আরেকটি বৃহৎ ফোয়ারা আছে। উক্ত ফোয়ারার পানি দ্বারাই খেজুর বাগানসমূহে সেচকার্য চলিয়া থাকে (সম্পাদনা পরিষদ, দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর ১৩৯২ হি., ৯খ., পৃ.৬৯; ইসলামী বিশ্বকোষ, খায়বার নিবন্ধ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৯০ খৃ., ৯খ., পৃ. ৫৭৮)।

পূর্বোক্ত আশ-শিকক দুর্গে আল-হুম্মার নামক একটি নির্ঝরনী আছে। রাসূলুল্লাহ (স) ইহার নাম দিয়াছিলেন কিসমাতু মালাইকা। উক্ত নির্ঝরনী হইতে নির্গত পানির দুই-তৃতীয়াংশ একটি নালায় এবং এক-তৃতীয়াংশ অন্য একটি নালায় প্রবাহিত হয়, ব্যতিক্রম কখনও হয় না। এই বিস্ময়কর ব্যাপার রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগ হইতে অদ্যাবধি চলিয়া আসিতেছে। যদি কেহ উক্ত ফোয়ারায় ৩টি খেজুর অথবা ৩টি কাষ্ঠ খণ্ড নিক্ষেপ করে, তবে উহাদের দুইটি সেই নালায় যায় যাহাতে দুই-তৃতীয়াংশ পানি প্রবাহিত হয় এবং একটি যাইবে ঐ নালায় যাহাতে এক-তৃতীয়াংশ পানি চলে। কোন উপায়েই দ্বিতীয় নালায় এক-তৃতীয়াংশ অপেক্ষা অধিক পানি প্রবাহিত করানো যায় না। যদি কেহ দ্বিতীয় নালায় অধিক পানি প্রবাহিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রথমোক্ত নালার মুখে দাঁড়াইয়া যায় তথাপি তাহা সম্ভব হয় না; বরং পানি স্ফীত হইয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বাধা অতিক্রম করিয়া প্রথমোক্ত নালায় গিয়া পড়ে (দা.মা.ই., ১৯৭২ খৃ., ৯খ., পৃ. ৬৯)। আন-নাতা-এ অবস্থিত বৃহত্তম ফোয়ারা আল-লুহায়হা নামে পরিচিত।

পূর্বোক্ত আশ-শিকক দুর্গে আল-হুম্মার নামক একটি নির্ঝরনী আছে। রাসূলুল্লাহ (স) ইহার নাম দিয়াছিলেন কিসমাতু মালাইকা। উক্ত নির্ঝরনী হইতে নির্গত পানির দুই-তৃতীয়াংশ একটি নালায় এবং এক-তৃতীয়াংশ অন্য একটি নালায় প্রবাহিত হয়, ব্যতিক্রম কখনও হয় না। এই বিস্ময়কর ব্যাপার রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগ হইতে অদ্যাবধি চলিয়া আসিতেছে। যদি কেহ উক্ত ফোয়ারায় ৩টি খেজুর অথবা ৩টি কাষ্ঠ খণ্ড নিক্ষেপ করে, তবে উহাদের দুইটি সেই নালায় যায় যাহাতে দুই-তৃতীয়াংশ পানি প্রবাহিত হয় এবং একটি যাইবে ঐ নালায় যাহাতে এক-তৃতীয়াংশ পানি চলে। কোন উপায়েই দ্বিতীয় নালায় এক-তৃতীয়াংশ অপেক্ষা অধিক পানি প্রবাহিত করানো যায় না। যদি কেহ দ্বিতীয় নালায় অধিক পানি প্রবাহিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রথমোক্ত নালার মুখে দাঁড়াইয়া যায় তথাপি তাহা সম্ভব হয় না; বরং পানি স্ফীত হইয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বাধা অতিক্রম করিয়া প্রথমোক্ত নালায় গিয়া পড়ে (দা.মা.ই., ১৯৭২ খৃ., ৯খ., পৃ. ৬৯)। আন-নাতা-এ অবস্থিত বৃহত্তম ফোয়ারা আল-লুহায়হা নামে পরিচিত।

পূর্বোক্ত আশ-শিকক দুর্গে আল-হুম্মার নামক একটি নির্ঝরনী আছে। রাসূলুল্লাহ (স) ইহার নাম দিয়াছিলেন কিসমাতু মালাইকা। উক্ত নির্ঝরনী হইতে নির্গত পানির দুই-তৃতীয়াংশ একটি নালায় এবং এক-তৃতীয়াংশ অন্য একটি নালায় প্রবাহিত হয়, ব্যতিক্রম কখনও হয় না। এই বিস্ময়কর ব্যাপার রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগ হইতে অদ্যাবধি চলিয়া আসিতেছে। যদি কেহ উক্ত ফোয়ারায় ৩টি খেজুর অথবা ৩টি কাষ্ঠ খণ্ড নিক্ষেপ করে, তবে উহাদের দুইটি সেই নালায় যায় যাহাতে দুই-তৃতীয়াংশ পানি প্রবাহিত হয় এবং একটি যাইবে ঐ নালায় যাহাতে এক-তৃতীয়াংশ পানি চলে। কোন উপায়েই দ্বিতীয় নালায় এক-তৃতীয়াংশ অপেক্ষা অধিক পানি প্রবাহিত করানো যায় না। যদি কেহ দ্বিতীয় নালায় অধিক পানি প্রবাহিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রথমোক্ত নালার মুখে দাঁড়াইয়া যায় তথাপি তাহা সম্ভব হয় না; বরং পানি স্ফীত হইয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বাধা অতিক্রম করিয়া প্রথমোক্ত নালায় গিয়া পড়ে (দা.মা.ই., ১৯৭২ খৃ., ৯খ., পৃ. ৬৯)। আন-নাতা-এ অবস্থিত বৃহত্তম ফোয়ারা আল-লুহায়হা নামে পরিচিত।
খায়বারে সর্বপ্রথম দারু বানী কিম্মা নামক স্থানটি বিজিত হয় যাহা আন-নাতা-এর অন্তর্ভুক্ত। উক্ত স্থানেই মারহাব-এর ভ্রাতা ইলয়াস বাস করিত। উক্ত স্থান সম্পর্কে উম্মুল মু'মিনীন আইশা (রা) বলিয়াছেন, "দারু বানী কিম্মা বিজিত হইবার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স) কোন দিন পেট ভরিয়া যবের রুটি ও খেজুর ভক্ষণ করেন নাই।" বর্তমানে মারহাব-এর প্রাসাদের পাদদেশে একটি ক্ষুদ্র মসজিদ রহিয়াছে। উহার অদূরে পানির যে ফোয়ারাটি রহিয়াছে উহার সম্বন্ধে এইরূপ কাহিনী আছে যে, আলী (রা) মারহাবের উপর আক্রমণ করিলে এক সময় তরবারি তাহার হস্ত হইতে যেই স্থানে পতিত হয় সেখানে একটি পানির ফোয়ারা উৎসারিত হইয়াছিল এবং সেই কারণে এই ফোয়ারা তাহার নামের সহিত সম্পৃক্ত হইয়া যায়। তাহার অনতিদূরে আরেকটি বৃহৎ ফোয়ারা আছে। উক্ত ফোয়ারার পানি দ্বারাই খেজুর বাগানসমূহে সেচকার্য চলিয়া থাকে (সম্পাদনা পরিষদ, দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়্যা, লাহোর ১৩৯২ হি., ৯খ., পৃ.৬৯; ইসলামী বিশ্বকোষ, খায়বার নিবন্ধ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৯০ খৃ., ৯খ., পৃ. ৫৭৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খায়বারের দুর্গসমূহ

📄 খায়বারের দুর্গসমূহ


খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূস, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্‌ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূস, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্‌ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূস, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূস, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূস. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।

খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূস, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্‌ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূস, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্‌ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূস, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূس, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূس. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।

খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূس, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্‌ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূس, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্‌ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূس, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূس, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূس. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।

খায়বারের যুদ্ধ ছিল দুর্গ কেন্দ্রিক। একটির পর একটি দুর্গ বিজিত হইয়াছিল। এইগুলির সংখ্যা, এমনকি অনেকটির নাম সম্পর্কেও মতভেদ রহিয়াছে। প্রতিটি দুর্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণসিদ্ধ রিওয়ায়াত পাওয়া যায় না (মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, রাসূলে রাহমাত, দিল্লী ১৯৮২ খৃ., পৃ. ৪০৪)।
খায়বারে ছয়টি দুর্গ ছিল। তাহা হইলঃ সালিম (সম্ভবত সুলালিম), কামূস, নাতা, কাসসারা, শিক্ক ও আরবাতা (নদবী, সীরাতুন-নবী, করাচী ১৯৮৫ খৃ., পৃ. ২৮০)। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হইল, এখানে না'ঈম দুর্গের উল্লেখ নাই। অথচ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়া সর্বপ্রথম না'ঈম দুর্গের দিকে সেনা অভিযানের কথা বলা হইয়াছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮১)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, খায়বার আটটি দুর্গবেষ্টিত ছিল। তাহা হইল: (১) আন-নাতা, (২) আশ-শিক্ক, (৩) আন নাইম, এই তিনটি এক পার্শ্বে অবস্থিত ছিল; (৪) আল-কাতীবা, (৫) আল-ওয়াতীহ, (৬) আস-সালামি; এইগুলি অন্য পার্শ্বে অবস্থিত ছিল। এতদ্ব্যতীত সর্বাধিক মজবুত দুর্গ ছিল (৭) আল-কামূস, যাহা আবুল হুকায়কের অধিকারে ছিল। আন-নাতার পার্শ্বস্থিত (৮) সা'ব ইন মু'আযের দুর্গ (আসাহহুস সিয়ার পৃ. ১৮৪)। ইবন সা'দ নিম্নোক্ত দুর্গরাজির কথা উল্লেখ করিয়াছেন: (১) আন-নাতা, (২) সাব ইব্‌ন মু'আয, (৩) আন-নাঈম, (৪) আয-যুবায়র, (৫) আশ-শিক্ক, (৬) উবায়, (৭) আন-নাযার এবং আল-কাতীবাস্থিত দুর্গসমূহ যথাক্রমে (৮) আল-কামূস, (৯) আল-ওয়াতীহ ও (১০) সুলালিম (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১০৬)।
মাওলানা আযাদ বলেন, কাযী সুলায়মান মানসূরপুরী দুর্গের সংখ্যা দশটি বলিয়াছেন। তাঁহার মতে দুর্গসমূহকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়ঃ (১) নাঈম, নাতা, সাব ইব্‌ন মু'আয ও যুবায়র; এই বাঁড়িটিকে এক কথায় নাতা বলা হয়। (২) শিকক, নাযার ও উবায়- এই তিনটিকে একত্রে শিক্ক বলা হয়। (৩) কামূস, ওয়াতীহ ও সুলালিম- এই তিনটিকে আল-কাতীবা বলা হয় (রাসূলে রাহমাত, পৃ. ৪০৫)। মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর মতে, খায়বারবাসীরা দুর্গমালার শৃংখলে জীবন যাপন করিত। এই দুর্গসমূহ তিনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। একটি হইতে অপরটি পৃথক ছিল। প্রথম সমষ্টি হইল আন-নাতা দুর্গমালা। ইহার অধীন ছিল উবায় ও আল-বারী' দুর্গ। তৃতীয় সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল আল-কামূস, আল-ওয়াতীহ ও আস-সুলালিম (আয়নুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ১০৩-১০৪)। মুহাম্মাদ আল খিদরীর কথার অনেক ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ সায়্যিদ কিলানীর কথার সহিত মিল আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান তিন দুর্গ সমষ্টির বিবরণে অনেক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। খিদরীর মতে, খায়বারে প্রধানত তিনটি দুর্গ ছিল আন-নাতা, আল-কাতীবা ও আশ-শিক্ক। প্রথমটির অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) নাঈম; (২) আস-সাব ও (৩) কুল্লা। দ্বিতীয় দুর্গের অধীনে ছিল দুইটি উপদূর্গঃ (১) উবায় ও (২) আল-বারী। তৃতীয় দুর্গের অধীনে ছিল তিনটি উপদুর্গঃ (১) আল-কামূস. (২) আল-ওয়াতীহ ও (৩) আস-সুলালিম (নূরুল ইয়াকীন, বৈরূত ১৯৭৮ খৃ., পৃ. ২০৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00