📄 মক্কায় উমরাতুল কাযার প্রভাব
মুসলমানদের প্রত্যেকেই ছিলেন ইসলামী আদর্শের মূর্ত প্রতীক। তাহারা জামাআতবদ্ধ হইয়া নামায আদায় করিতেছিলেন। এই নামাযের মাধ্যমে তাহাদের সকল গর্ব-অহমিকা' দূর হইয়া যাইতেছিল। তাহাদের স্বাস্থ্যবানগণ দুর্বলদের সহায়তা করিতেছিলেন। বিত্তবানগণ বিত্তহীনদের সাহায্য করিতেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) একজন দয়ালু পিতার মত তাহাদের মধ্যে চলাফেরা করিতেছিলেন। কাহারও সাথে স্মিত হাস্যে কথা বলিতে ছিলেন, আবার কাহারও সাথে কৌতুক করিতেছিলেন। তবে সে কৌতুকও ছিল অর্থপূর্ণ।
কুরায়শগণ পাহাড়-পর্বতের চূড়ায় দাঁড়াইয়া ও বসিয়া এক মনে এক দৃষ্টিতে বিস্ময়ের সাথে এ দৃশ্যগুলি দেখিতেছিল। সত্যিই ইহা ছিল ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব বিস্ময়কর দৃশ্য। তাহারা দেখিতেছিল, মুসলমানগণ মদ পান করেন না। কোন অবৈধ বস্তুই তাহারা স্পর্শ করেন না। কোন প্রকার ঝগড়া-ফাসাদে তাহারা লিপ্ত হন না। তাহারা আল্লাহ্র কোন নির্দেশ অমান্য করেন না, বরং তাহা পালনের জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। এই দৃশ্য কুরায়শদের অন্তরে কী পরিমাণ রেখাপাত করিয়াছিল তাহা সহজেই অনুমেয়। উমরাতুল-কাযা পালনের পরবর্তী ঘটনাবলী ইহার প্রমাণ বহন করে।
খালিদ ইব্দুল ওয়ালীদ ছিলেন কুরায়শদের শ্রেষ্ঠতম বীর। উহুদ প্রান্তরে তিনিই যুদ্ধের গতি পাল্টাইয়া দিয়াছিলেন কুরায়শদের অনুকূলে। উমরাতুল-কাযার কিছু দিন পর তিনি কুরায়শদের এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়া বলিলেন, প্রত্যেক জ্ঞানী ব্যক্তির নিকট একথা স্পষ্ট হইয়া গিয়াছে যে, মুহাম্মাদ (স) কবি কিংবা যাদুকর নহেন। তাঁহার বাণী বিশ্ব-প্রতিপালকেরই ওহী। তাঁহাকে অনুসরণ করা প্রত্যেক লোকের একান্ত কর্তব্য। সমাবেশের লোকজন তাঁহার বক্তব্যে আপত্তি জানাইল। তিনি নির্ভীক কণ্ঠে ঘোষণা করিলেন, তোমাদের আপত্তিই হইল অজ্ঞতা-প্রসূত। এখন আমার নিকট সত্য প্রকাশিত হইয়াছে। আমি ইসলাম গ্রহণ করিলাম। হযরত খালিদের পর বহু সংখ্যক কুরায়শ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করিতে লাগিলেন। এসবই ছিল উমরাতুল-কাযা পালনের সময় রাসূলুল্লাহ (স) ও মুসলমানগণকে অতি নিকট হইতে পর্যবেক্ষণ করার ও জানার প্রভাব ও সুফল।
📄 স্বপ্ন সত্যে পরিণত হইল
হুদায়বিয়ার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হইয়াছে যে, মদীনায় রাসূলুল্লাহ (স) স্বপ্নে দেখিলেন যে, তিনি সাহাবীগণকে সঙ্গে লইয়া নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে মক্কায় মসজিদুল হারামে প্রবেশ করিয়াছেন, উমরাহ সম্পাদন করিয়া মাথা মুণ্ডন করিয়াছেন এবং বায়তুল্লাহর চাবি তাঁহার হস্তগত হইয়াছে। নবীগণের স্বপ্নও এক প্রকার ওহী। আর ওহী ধ্রুব সত্য, উহার বাস্তবতা অনিবার্য। হুদায়বিয়ার সন্ধির পরবর্তী বৎসর উমরাতুল-কাযার মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়িত হইল। তিনি দুই হাজারেরও অধিক সঙ্গী লইয়া মসজিদুল হারামে প্রবেশ করিলেন, উমরাহ করিলেন এবং মাথা মুণ্ডন করিলেন। ইহার এক বৎসর পর মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে বায়তুল্লাহর চাবি তাঁহার হস্তগত হইল। এই সময় তিনি সাহাবায়ে কিরামকে, বিশেষত হযরত উমার (রা)-কে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, এই কথাই আমি তোমাদেরকে বলিয়াছিলাম। হযরত উমার (রা) বলিলেন, নিঃসন্দেহে কোন বিজয় হুদায়বিয়ার সন্ধির চাইতে উত্তম ও মহান নহে। রাসূলুল্লাহ (স) উমরাতুল-কাযা আদায় করিয়া মদীনায় ফিরিয়া আসিলে এই আয়াত নাযিল হয়:
لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولُهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلَّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِنْ دُونِ ذَلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا.
"নিশ্চয় আল্লাহ তাঁহার রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করিয়া দেখাইয়াছেন, আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করিবে নিরাপদে, তোমাদের কেহ কেহ মস্তক মুণ্ডিত করিবে, আর কেহ কেহ কেশ কর্তন করিবে। তোমাদের কোন ভয় থাকিবে না। আল্লাহ জানেন তোমরা যাহা জান না। ইহা ছাড়াও তিনি তোমাদেরকে দিয়াছেন এক সদ্য বিজয়” (৪৮: ২৭; সংপ্তি মাআরিফুল কুরআন, সূরা আল-ফাতহ্, পৃ. ১২৬৫)।
📄 হুদায়বিয়ার শিক্ষা
রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবনের প্রতিটি কর্ম, প্রতিটি পদক্ষেপ মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ ও জীবন চলার পথের দিশা। ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি ও উমরাতুল-কাযার ঘটনায়ও উম্মতের জন্য রহিয়াছে অসংখ্য হিদায়াত ও শিক্ষা। নিম্নে হুদায়বিয়ার শিক্ষা সংক্ষিপ্তাকারে পেশ করা হইল:
১। মুসলমানদের খলীফা যদি লক্ষ্য করেন যে, কাফিরদের সহিত শান্তিচুক্তিতে উপনীত হইলে ইসলাম ও মুসলমানদের কল্যাণ হইবে, তবে এই জাতীয় সন্ধিচুক্তি করা ইসলামে বৈধ ও অনুমোদিত। ইহাও জিহাদের সমতুল্য গণ্য হইবে। কারণ জিহাদের অন্যতম উদ্দেশ্য হইল কাফিরদের অনিষ্ট হইতে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে রক্ষা করা; সন্ধির মাধ্যমে এই উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। পবিত্র কুরআনে এই প্রসঙ্গে ইরশাদ হইয়াছে:
وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ أَنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ.
"তাহারা যদি সন্ধির প্রতি ঝুঁকিয়া পড়ে, তবে তুমিও সন্ধির দিকে ঝুঁকিবে এবং আল্লাহ্র উপর নির্ভর করিবে। তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ" (৮:৬১)।
২। পক্ষান্তরে সন্ধি করার মধ্যে ইসলাম ও মুসলমানদের কল্যাণ না থাকিলে এই জাতীয় সন্ধি করা ইসলামে অনুমোদিত নহে। কারণ, এই জাতীয় সন্ধি প্রকারান্তরে ইসলাম ও মুসলমানগণকে শত্রুদের নিকট হেয় প্রতিপন্ন করা, এমনকি জিহাদের বিধানকে অকার্যকর করিয়া দেওয়া। পবিত্র কুরআনে এই সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছে:
فَلَا تَهِنُوا وَتَدْعُوا إِلَى السَّلْمِ وَانْتُمُ الْأَعْلَوْنَ وَاللَّهُ مَعَكُمْ وَلَنْ يُتِرَكُمْ أَعْمَالُكُمْ.
"সুতরাং তোমরা হীনবল হইও না এবং সন্ধির প্রস্তাব করিও না। তোমরাই প্রবল বিজয়ী। আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে আছেন, তিনি তোমাদের কর্মফল কখনও ক্ষুণ্ণ করিবেন না" (৪৭:৩৫)।
৩। প্রয়োজন হইলে কাফিরদের সহিত কোন প্রকার বিনিময় ছাড়াও সন্ধি করা যায়। হুদায়বিয়ার সন্ধি ছিল এই প্রকারের।
৪। মুসলমান ও কাফিরদের মধ্যে কোন মেয়াদী চুক্তি হইলে তাহা লিখিয়া রাখা উচিৎ। কেননা এই চুক্তি যেহেতু একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত কার্যকর থাকিবে, তাই লিখিত না থাকিলে ভুল বুঝাবুঝির অথবা বিশ্বাস ভঙ্গের আশংকা থাকিয়া যায়।
৫। উভয় পক্ষের নিকট সংরক্ষিত থাকার জন্য চুক্তিপত্রের অন্তত দুইটি কপি হওয়া চাই।
৬। চুক্তি-পত্রে উভয় পক্ষের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের স্বাক্ষর ও সীলমোহর হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৭। চুক্তি-পত্রে উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতৃদ্বয়ের স্বাক্ষর ছাড়াও উভয় পক্ষ হইতে কিছু সাক্ষী রাখিতে হইবে।
৮। চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার পর হইতে মেয়াদ পূর্তি পর্যন্ত চুক্তির কোন ধারা বা শর্ত ভঙ্গ করা অন্যায়। সন্ধির প্রতিটি ধারা ও শর্ত বাস্তবায়নে ও সংরক্ষণে আন্তরিক হওয়া চাই। রাসূলুল্লাহ (স) এই কারণে আবু জান্দাল ও আবূ বাসীর (রা)-কে ফেরৎ দিয়াছিলেন।
৯। এক এলাকার সহিত সন্ধি চুক্তি হইলে তাহা কেবল সেই এলাকার জন্যই কার্যকর হইবে। অপর এলাকর উপর তাহা কার্যকর হইবে না। এই কারণে যে সকল মুসলমান মক্কা হইতে পলায়ন করিয়া মদীনায় আশ্রয় লইবে, তাহাদেরকে কেবল মক্কাবাসীর হাতে তুলিয়া দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (স) চুক্তিবদ্ধ হন। সুতরাং কোন মুসলমান মক্কা হইতে মদীনায় না আসিয়া অন্য কোথাও আশ্রয় লইলে তাহা চুক্তির পরিপন্থী নয়। যেমন আবূ বাসীর (রা)-এর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক মক্কাবাসী মুসলমান ঈস নামক স্থানে আশ্রয় লইয়াছিলেন।
১০। অনুরূপভাবে হযরত আবূ বাসীর (রা)-এর নেতৃত্বে একদল মুসলমান ঈস অঞ্চলে অবস্থান করিয়া সন্ধিকালীন মেয়াদের মধ্যে কুরায়শ কাফেলার উপর যে হামলা করিতেছিলেন তাহাও সন্ধি ভঙ্গের মধ্যে গণ্য নহে। কারণ ঈস মদীনার সীমান্ত বহির্ভূত এলাকা।
১১। ইবন ইসহাক বর্ণনা করিয়াছেন যে, হুদায়বিয়ায় অবস্থানকালে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি গভীর অনুরাগ ও অকৃত্রিম ভক্তি-শ্রদ্ধার কারণে তাঁহার মুণ্ডিত চুল মুবারক কাড়াকাড়ি করিয়া হস্তগত করিয়াছিলেন এবং তাহা নিজেদের সংরক্ষণে রাখিয়াছিলেন।
১৩। রাসূলুল্লাহ (স) সন্ধি চুক্তির পর সকলকে কুরবানী করিয়া ইহরামমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু চরম মর্মপীড়া ও মানসিক যাতনার দরুণ তাঁহারা সকলেই ছিলেন নির্বাক, হতবিহ্বল। রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবীগণের এই পরিস্থিতি দেখিয়া মনক্ষুণ্ণ হন। তখন হযরত উম্মে সালামা (রা) তাঁহাকে পরামর্শ দান করেন। ইহা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রয়োজনে মহিলাদের পরামর্শ গ্রহণ করা যায়। তবে শর্ত হইল, তাঁহারা যেন বুদ্ধিমতী, আল্লাহভীরু ও বিশ্বাসভাজন হন।
১৪। সুহায়ল ইব্ন আমরের উপর্যুপরি আপত্তির কারণে রাসূলুল্লাহ (স) সন্ধির শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম-এর স্থলে বি-ইসমিকাল্লাহুম্মা লিখিতে এবং মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ-এর স্থলে মুহাম্মাদ ইব্ন আবদুল্লাহ লিখিতে সম্মত হন যদিও বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম এবং মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ লিখাই শ্রেয় ও উত্তম ছিল। ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, দীনের বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণের খাতিরে সাধারণ শ্রেয় ও উত্তম বিষয় লইয়া জিদ করা অনুচিৎ।
১৫। ইসলাম গ্রহণের পরও বিশেষ পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে বিশেষ কথা বা কাজের উপর বায়'আত করা যাইতে পারে।
১৬। হযরত উছমান (রা)-এর অনুপস্থিতিতে তাঁহার নামে বায়আত গ্রহণ করা প্রমাণ করে যে, গায়েবানা বায়'আত বৈধ ও অনুমোদিত।
১৭। হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া (রা)-র তিনবার বায়'আত গ্রহণ এবং হযরত ইব্ন উমার (রা)-এর দুইবার বায়'আত গ্রহণ হইতে বুঝা যায় যে, বায়আত নবায়ন ও বারবার বায়'আত গ্রহণ বৈধ ও অনুমোদিত।
১৮। বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকরী সাহাবীগণের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রকাশ প্রমাণ করে যে, তাঁহারা নিষ্ঠাবান ঈমানদার ছিলেন। এই গুণ তাঁহাদের আমৃত্যু বহাল ছিল। অতএব কতিপয় প্রখ্যাত সাহাবী প্রাণ রক্ষার্থে গোপন কৌশল (তাকিয়া) অবলম্বনকারী ছিলেন, শীআদের এই কল্পিত ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভ্রষ্টতাপ্রসূত।
১৯। বায়আতে রিদওয়ান ছিল জিহাদের উপর। কুরআনের ৬৬ : ১২ আয়াতে দেখা যায় যে, ঈমান, তাক্বওয়া এবং বিশেষ আমলের উপর বায়আত গ্রহণের কথা আসিয়াছে। ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাতে বায়আত কয়েক প্রকারের ছিল। এক প্রকার হইল, তিনি খলীফাতুল্লাহ হিসাবে জিহাদের বায়আত করাইতেন। আরেক প্রকার হইল যে, তিনি নৈতিক সংশোধনকারী হিসাবে তাযকিয়া ও ইহসানের উপরও বায়আত করাইতেন। সুতরাং তাসাওউফের তরীকায় মাশায়েখগণ যেই বায়আত করাইয়া থাকেন, তাহা শুধু শরীআত অনুমোদিতই নহে, বরং সুন্নতও বটে।
২০। রণাঙ্গণে শত্রুর হামলার আশংকা প্রবল হইলে সালাতুল খাওফ-এর অনুমতি রহিয়াছে।
২১। উমরাতুল-কাযার বৎসর মহানবী (স)-এর ঘোষণা : যাহারা গত বৎসর হুদায়বিয়ায় গমন করিয়াছিল, এবার তাহাদের প্রত্যেককে উমরাহ আদায় করার জন্য যাইতে হইবে। ইহার দ্বারা প্রামণিত হয় যে, ইহরাম বাঁধার পর উমরাহ করিতে সক্ষম না হইলে পরে তাহা কাযা করিতে হইবে।
২২। হযরত হামযা (রা)-এর কন্যা উমামা-এর লালন-পালন সম্বন্ধে সাহাবীদের প্রতিযোগিতা ও মহানবী (স)-এর ফয়সালা হইতে প্রমাণিত হয় যে, মাতার অবর্তমানে শিশুদের লালন-পালন সম্পর্কে খালার দাবিই অগ্রগণ্য।
২৩। উক্ত ঘটনা হইতে আরও প্রমাণিত হয় যে, ন্যায়বিচার করিয়া যাহার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়, বিচারকের তাহাকে প্রবোধ ও সান্তনা দেওয়া সুন্নত।
২৪। হযরত মায়মূনা (রা)-এর বিবাহের ঘটনা হইতে বুঝা যায় যে, ইহরাম অবস্থায় বিবাহ-শাদী বৈধ, তবে নির্জনবাস বৈধ নহে।
২৫। বরের পক্ষ হইতে অন্য কেহ মহর আদায় করিলে তাহা আদায় হইয়া যাইবে।
২৬। হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহার কবিতা আবৃত্তি প্রমাণ করে যে, কাব্যচর্চা নিন্দনীয় নহে, বরং প্রশংসনীয়। তবে শর্ত হইল তাহা অশ্লীলতা ও মিথ্যা মুক্ত হইতে হইবে।
২৭। হুদায়বিয়ার কিছু ভূখণ্ড ছিল হারাম শরীফের বাহিরে, যাহাকে হিল্ল (حل) বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (স) নামাযের সময় হইলে হিল্ল হইতে হারামে প্রবেশ করিয়া নামায পড়িতেন। ইহা হইতে বুঝা যায়, যে ব্যক্তি হারামের এলাকার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করে তাহার জন্য হারামে নামায আদায় করা উত্তম ও মুস্তাহাব (দ্র. সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৬৬-৩৭৫; তাফসীর ইব্ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৫, সূরা ফাত্হ-এর তাফসীর)।