📄 কুরবানী করিয়া ইহরামমুক্ত হওয়ার নির্দেশ
যেহেতু সন্ধির শর্তানুযায়ী এই বৎসর মক্কায় প্রবেশ এবং মীনায় কুরবানী করা সম্ভব হইবে না, তাই রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবীগণকে কুরবানীর উটগুলি যবেহ করিবার নির্দেশ দিলেন এবং বলিলেন, তোমরা মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাটাইয়া ইহরাম হইতে মুক্ত হইয়া যাও। কিন্তু সন্ধির শর্তাবলীর কারণে সকলের মন একেবারে ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছিল। সকলেই মাথা নত করিয়া নিথর, নিস্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিলেন, কুরবানী করিবার জন্য কেহই অগ্রসর হইলেন না। রাসূলুল্লাহ (স) তিনবার এই নির্দেশের পুনরাবৃত্তি করিলেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৬০)।
যেহেতু সন্ধির শর্তানুযায়ী এই বৎসর মক্কায় প্রবেশ এবং মীনায় কুরবানী করা সম্ভব হইবে না, তাই রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবীগণকে কুরবানীর উটগুলি যবেহ করিবার নির্দেশ দিলেন এবং বলিলেন, তোমরা মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাটাইয়া ইহরাম হইতে মুক্ত হইয়া যাও। কিন্তু সন্ধির শর্তাবলীর কারণে সকলের মন একেবারে ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছিল। সকলেই মাথা নত করিয়া নিথর, নিস্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিলেন, কুরবানী করিবার জন্য কেহই অগ্রসর হইলেন না। রাসূলুল্লাহ (স) তিনবার এই নির্দেশের পুনরাবৃত্তি করিলেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৬০)।
📄 হযরত উম্মু সালামা (রা)-এর সুপরামর্শ
রাসূলুল্লাহ (স) কুরবানী করার জন্য নির্দেশ দিয়াছেন, কিন্তু কেহই কুরবানী করার জন্য অগ্রসর হইতেছে না। এই অবস্থা দেখিয়া তাঁহার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হইল। তিনি তাঁবুতে প্রবেশ করিয়া হযরত উম্মু সালামা (রা)-এর নিকট মনের ক্ষোভ প্রকাশ করিলেন। উম্মু সালামা (রা) বলিলেন, সাহাবীগণ দুঃখে, ক্ষোভে ও অপমানে মর্মাহত হইয়া আছেন। তাই আপনি তাহাদেরকে কিছু না বলিয়া স্বয়ং বাহির হইয়া নিজেই কুরবানী করুন এবং মাথা মুণ্ডন করাইয়া 'উমরাহর ইহরাম ভাঙ্গিয়া ফেলুন। রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাই করিলেন। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে দেখিয়া বুঝিতে পারিলেন যে, এই হুকুম আর রদবদল হইবে না। তখন সকলেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর অনুসরণ করিলেন। কেহ কেহ মাথা মুণ্ডন করাইলেন আর কিছু সাহাবী মাথার চুল ছাটাইলেন। মহানবী (স) মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য এই বলিয়া তিনবার দু'আ করিলেন, (اللهم ارحم المحلقين )হে আল্লাহ্! মাথা মুণ্ডনকারীদের রহম কর)। সাহাবীগণ আরয করিলেন, চুল ছাটাইকারীদের জন্যও। তিনি একবার দু'আ করিলেন, হে আল্লাহ চুল ছাটাইকারীদের উপর রহমত কর।
কুরবানীর পশুর গোস্ত দরিদ্র সাহাবীদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিলেন। দশটি উট হযরত নাজিয়া ইবন জুনদুবের মাধ্যমে মারওয়ায় প্রেরিত হইল এবং সেখানে কুরবানী করিয়া তথাকার লোকদের মধ্যে বিতরণ করা হইল (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩; তাফসীর ইব্ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৮১)।
সাহাবী হযরত খিরাশ ইবন উমায়্যা ইবনিল ফাদল আল-খুযা'ঈ (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর মাথা মুণ্ডন করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৮)।
রাসূলুল্লাহ (স) কুরবানী করার জন্য নির্দেশ দিয়াছেন, কিন্তু কেহই কুরবানী করার জন্য অগ্রসর হইতেছে না। এই অবস্থা দেখিয়া তাঁহার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হইল। তিনি তাঁবুতে প্রবেশ করিয়া হযরত উম্মু সালামা (রা)-এর নিকট মনের ক্ষোভ প্রকাশ করিলেন। উম্মু সালামা (রা) বলিলেন, সাহাবীগণ দুঃখে, ক্ষোভে ও অপমানে মর্মাহত হইয়া আছেন। তাই আপনি তাহাদেরকে কিছু না বলিয়া স্বয়ং বাহির হইয়া নিজেই কুরবানী করুন এবং মাথা মুণ্ডন করাইয়া 'উমরাহর ইহরাম ভাঙ্গিয়া ফেলুন। রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাই করিলেন। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-কে দেখিয়া বুঝিতে পারিলেন যে, এই হুকুম আর রদবদল হইবে না। তখন সকলেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর অনুসরণ করিলেন। কেহ কেহ মাথা মুণ্ডন করাইলেন আর কিছু সাহাবী মাথার চুল ছাটাইলেন। মহানবী (স) মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য এই বলিয়া তিনবার দু'আ করিলেন, (اللهم ارحم المحلقين )হে আল্লাহ্! মাথা মুণ্ডনকারীদের রহম কর)। সাহাবীগণ আরয করিলেন, চুল ছাটাইকারীদের জন্যও। তিনি একবার দু'আ করিলেন, হে আল্লাহ চুল ছাটাইকারীদের উপর রহমত কর।
কুরবানীর পশুর গোস্ত দরিদ্র সাহাবীদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিলেন। দশটি উট হযরত নাজিয়া ইবন জুনদুবের মাধ্যমে মারওয়ায় প্রেরিত হইল এবং সেখানে কুরবানী করিয়া তথাকার লোকদের মধ্যে বিতরণ করা হইল (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩; তাফসীর ইব্ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৮১)।
সাহাবী হযরত খিরাশ ইবন উমায়্যা ইবনিল ফাদল আল-খুযা'ঈ (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর মাথা মুণ্ডন করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৮)।