📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সন্ধিপত্র লিখার জন্য আলী (রা)-কে নির্দেশ

📄 সন্ধিপত্র লিখার জন্য আলী (রা)-কে নির্দেশ


সন্ধির শর্তাবলী স্থিরীকৃত হওয়ার পর তাহা লিপিবদ্ধ করিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স) হযরত আলী (রা)-কে নির্দেশ দিলেন। তাঁহার নির্দেশানুসারে তিনি সন্ধিপত্র লিখিতে আরম্ভ করিলেন। প্রথমেই তিনি লিখিলেন, بسم الله الرحمن الرحيم (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্ নামে)। কুরায়শ-প্রতিনিধি সুহায়ল আপত্তি করিয়া বলিল, থামুন! এই কথা লিখিতে পারিবেন না। রহমান ও রাহীম কি তাহা আমরা জানি না। আপনি বরং লিখুন, باسمك اللهم (হে আল্লাহ! তোমার নামে)। কারণ, আমরা ইহাই লিখিয়া থাকি। ইহাই আমাদের চিরাচরিত নিয়ম। ইহাই লিখুন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আচ্ছা, তাহাই লিখ। তারপর লিখা হইল :
هذا ما قضى عليه محمد رسول الله ﷺ. "ইহা সেই চুক্তিপত্র যাহার প্রতি আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদ (স) স্বীকৃতি প্রদান করিয়াছেন।" সুহায়ল আবার বাধা দিয়া বলিল, থামুন! মুহাম্মাদ যে আল্লাহ্র রাসূল ইহা যদি আমরা মানিতাম, তবে আর আপনাদের সাথে আমাদের যুদ্ধ সংঘাত হইত কিজন্য? এই কথা লিখিতে পারিবেন না; বরং লিখুন, محمد بن عبد الله (আবদুল্লাহ্র পুত্র মুহাম্মাদ)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা যদিও অস্বীকার কর, কিন্তু নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহ্র রাসূল। আচ্ছা, তুমি যাহা বল তাহাই লিখা হইবে। তৎপর নবী করীম (স) হযরত আলীকে বলিলেন, তুমি رسول الله শব্দটি কাটিয়া দিয়া তদস্থলে محمد بن عبد الله শব্দটি লিখিয়া দাও। হযরত আলী (রা) বলিলেন, আমাকে মাফ করুন! আমি কিছুতেই আপনার নাম হইতে "রাসূলুল্লাহ” শব্দটি মুছিতে পারিব না। তিনি বলিলেন, আচ্ছা, শব্দটি কোথায় আমাকে দেখাইয়া দাও। হযরত আলী দেখাইয়া দিলে তিনি নিজেই "রাসূলুল্লাহ” শব্দটি কাটিয়া দিলেন। তৎপর হযরত আলী সেই স্থানে ইব্‌ন আবদিল্লাহ্ শব্দটি লিখিয়া দেন।
কিন্তু ইমাম মুসলিমের রিওয়ায়াতে আসিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) নিজেই "আবদুল্লাহ” শব্দটি লিখিয়াছিলেন। প্রশ্ন হয় যে, তিনি উম্মী (নিরক্ষর) হইয়া লিখিলেন কিরূপে? আল্লামা কাযী ইয়াদ বলেন, ইহা তাঁহার মু'জিযা ছিল। ইব্‌ন হাজার (র) বলেন, 'তিনি লিখিয়াছেন' অর্থ তিনি লিখিতে আদেশ দিয়াছেন। তাহা ছাড়া শুধু নাম লিখিতে জানিলেই উম্মী হওয়ার গুণ বিলুপ্ত হইয়া যায় না (আসাহ্হুস্ সিয়ার, পৃ. ১৭৫)।

সন্ধির শর্তাবলী স্থিরীকৃত হওয়ার পর তাহা লিপিবদ্ধ করিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স) হযরত আলী (রা)-কে নির্দেশ দিলেন। তাঁহার নির্দেশানুসারে তিনি সন্ধিপত্র লিখিতে আরম্ভ করিলেন। প্রথমেই তিনি লিখিলেন, بسم الله الرحمن الرحيم (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্ নামে)। কুরায়শ-প্রতিনিধি সুহায়ল আপত্তি করিয়া বলিল, থামুন! এই কথা লিখিতে পারিবেন না। রহমান ও রাহীম কি তাহা আমরা জানি না। আপনি বরং লিখুন, باسمك اللهم (হে আল্লাহ! তোমার নামে)। কারণ, আমরা ইহাই লিখিয়া থাকি। ইহাই আমাদের চিরাচরিত নিয়ম। ইহাই লিখুন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আচ্ছা, তাহাই লিখ। তারপর লিখা হইল :
هذا ما قضى عليه محمد رسول الله ﷺ. "ইহা সেই চুক্তিপত্র যাহার প্রতি আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদ (স) স্বীকৃতি প্রদান করিয়াছেন।" সুহায়ল আবার বাধা দিয়া বলিল, থামুন! মুহাম্মাদ যে আল্লাহ্র রাসূল ইহা যদি আমরা মানিতাম, তবে আর আপনাদের সাথে আমাদের যুদ্ধ সংঘাত হইত কিজন্য? এই কথা লিখিতে পারিবেন না; বরং লিখুন, محمد بن عبد الله (আবদুল্লাহ্র পুত্র মুহাম্মাদ)। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা যদিও অস্বীকার কর, কিন্তু নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহ্র রাসূল। আচ্ছা, তুমি যাহা বল তাহাই লিখা হইবে। তৎপর নবী করীম (স) হযরত আলীকে বলিলেন, তুমি رسول الله শব্দটি কাটিয়া দিয়া তদস্থলে محمد بن عبد الله শব্দটি লিখিয়া দাও। হযরত আলী (রা) বলিলেন, আমাকে মাফ করুন! আমি কিছুতেই আপনার নাম হইতে "রাসূলুল্লাহ” শব্দটি মুছিতে পারিব না। তিনি বলিলেন, আচ্ছা, শব্দটি কোথায় আমাকে দেখাইয়া দাও। হযরত আলী দেখাইয়া দিলে তিনি নিজেই "রাসূলুল্লাহ” শব্দটি কাটিয়া দিলেন। তৎপর হযরত আলী সেই স্থানে ইব্‌ন আবদিল্লাহ্ শব্দটি লিখিয়া দেন।
কিন্তু ইমাম মুসলিমের রিওয়ায়াতে আসিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) নিজেই "আবদুল্লাহ” শব্দটি লিখিয়াছিলেন। প্রশ্ন হয় যে, তিনি উম্মী (নিরক্ষর) হইয়া লিখিলেন কিরূপে? আল্লামা কাযী ইয়াদ বলেন, ইহা তাঁহার মু'জিযা ছিল। ইব্‌ন হাজার (র) বলেন, 'তিনি লিখিয়াছেন' অর্থ তিনি লিখিতে আদেশ দিয়াছেন। তাহা ছাড়া শুধু নাম লিখিতে জানিলেই উম্মী হওয়ার গুণ বিলুপ্ত হইয়া যায় না (আসাহ্হুস্ সিয়ার, পৃ. ১৭৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বন্দী আবূ জান্দাল (রা)-এর আগমন

📄 বন্দী আবূ জান্দাল (রা)-এর আগমন


এখনও সন্ধিপত্র লিখা শেষ হয় নাই। এমন সময় কুরায়শ দূত সুহায়লের পুত্র আবু জান্দাল (রা) শৃংখল বেষ্টিত অবস্থায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে উপস্থিত হইলেন। ইসলাম গ্রহণ করার অপরাধে দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁহার প্রতি অমানুষিক অত্যাচার ও নিপীড়ন চলিয়া আসিতেছিল। ইসলাম ত্যাগ করার জন্য তাঁহাকে শৃংখলবদ্ধ করিয়া রাখা হইয়াছিল। কিন্তু আবূ জান্দাল (রা) ইসলাম ত্যাগ করিতে রাযী হন নাই। তিনি আজ অতি কৌশলে কুরায়শদের বন্দীশালা হইতে পালাইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাযির হন।
হযরত আবূ জান্দাল (রা)-কে দেখিয়াই তাঁহার পিতা সুহায়ল ত্রস্তপদে তাঁহার দিকে আগাইয়া গেল এবং তাঁহার মুখমণ্ডলে সজোরে একটি চপেটাঘাত করিল (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৭)।
অতঃপর সুহায়ল রাসূলুল্লাহ (স)-এর দিকে মুখ করিয়া বলিলেন, হে মুহাম্মাদ! এই চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে এখনই আমার পুত্র আবু জান্দালকে আমার নিকট ফিরাইয়া দিন। তিনি বলিলেন, সুহায়ল! এখনও তো সন্ধিপত্র লেখা সম্পূর্ণ হয় নাই, ইহার উপর স্বাক্ষর হয় নাই। সুতরাং শর্ত পালনের কোন কথা আসিতে পারে না। সুহায়ল বলিল, যদি তাহাই হয়, তবে ইহার পর আমি কোন ব্যাপারেই আপনার সহিত কথা বলিতে প্রস্তুত নহি। তিনি বলিলেন, সুহায়ল। আর না হয় আমার খাতিরেই আবূ জান্দালকে আমাদের সহিত মদীনায় যাইতে দাও। সুহায়ল বলিল, ইহা কখনও হইতে পারে না।
তখন মিকরায বলিল, আচ্ছা, আমি অনুমতি দিতেছি। আপনারা আবূ জান্দালকে লইয়া যান। কিন্তু সুহায়ল মিকরাযের কথা প্রত্যাখ্যান করিয়া বলিল, ইহা কখনও হইতে দিব না। অতঃপর সে আবু জান্দাল (রা)-র শৃংখল ধরিয়া টানিয়া নিজের দিকে লইয়া গেল।
হযরত আবূ জান্দাল (রা) চিৎকার করিয়া বলিতে লাগিলেন, হে আমার মুসলমান ভাইগণ! আমি মুসলমান হইয়া তোমাদের নিকট আসিয়াছি। ইহার পরও আমাকে এই যালিম মুশরিকদের হাতে তুলিয়া দেওয়া হইতেছে। তোমরা কি দেখিতেছ না তাহারা আমাকে কী অমানুষিক অত্যাচার করিয়াছে! এই কথা বলিয়া তিনি তাঁহার দেহের ক্ষতসমূহ দেখাইতে লাগিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) সুহায়লের দাবির প্রেক্ষিতে আবু জান্দালকে তাহার নিকট ফিরাইয়া দিলেন এবং আবু জান্দালকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, আবু জান্দাল! ধৈর্য ধারণ কর। আল্লাহ তা'আলা শীঘ্রই তোমাদের মুক্তির ব্যবস্থা করিবেন (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৭, সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫৯)। রাসূলুল্লাহ (স) আরও বলিলেন, দেখ, আবু জান্দাল! আমরা তাহাদের সহিত একটি সন্ধিতে উপনীত হইয়াছি। আমরা তাহাদেরকে কতিপয় প্রতিশ্রুতি দিয়াছি। তাহারাও আমাদেরকে কতিপয় প্রতিশ্রুতি দিয়াছে। তাই আমরা বিশ্বাসভঙ্গ করিতে পারি না। তুমি সবর কর, ইহার বিনিময়ে আল্লাহ্ নিকট পুরস্কারের প্রত্যাশী হও। দৃঢ় বিশ্বাস রাখ, আল্লাহ অতিসত্ত্বর তোমার জন্য মুক্তির কোন একটি পথ খুলিয়া দিবেন (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৭)।
এই করুণ দৃশ্য দেখিয়া মুসলমানগণ ভীষণ দুঃখিত হইলেন। কিন্তু আল্লাহ্র রাসূলের আনুগত্যের কারণে কিছুই বলিলেন না। শুধু দৃষ্টি নত করিয়া দুঃখ ও ক্ষোভ সংবরণ করিলেন এবং অশ্রু বিসর্জন দিলেন। হযরত আবূ জান্দাল (রা)-কে যখন টানিয়া হেঁচড়াইয়া মক্কাভিমুখে লইয়া যাওয়া হইতেছিল তখন হযরত উমার (রা) তাঁহার সহিত কিছু দূর হাঁটিলেন এবং বলিলেন, "আবূ জান্দাল! ধৈর্য ধারণ কর। তাহারা মুশরিক, তাহাদের রক্ত আল্লাহ্র নিকট কুকুরের রক্ততুল্য" (তাফসীর ইবন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৭)।

এখনও সন্ধিপত্র লিখা শেষ হয় নাই। এমন সময় কুরায়শ দূত সুহায়লের পুত্র আবু জান্দাল (রা) শৃংখল বেষ্টিত অবস্থায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে উপস্থিত হইলেন। ইসলাম গ্রহণ করার অপরাধে দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁহার প্রতি অমানুষিক অত্যাচার ও নিপীড়ন চলিয়া আসিতেছিল। ইসলাম ত্যাগ করার জন্য তাঁহাকে শৃংখলবদ্ধ করিয়া রাখা হইয়াছিল। কিন্তু আবূ জান্দাল (রা) ইসলাম ত্যাগ করিতে রাযী হন নাই। তিনি আজ অতি কৌশলে কুরায়শদের বন্দীশালা হইতে পালাইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাযির হন।
হযরত আবূ জান্দাল (রা)-কে দেখিয়াই তাঁহার পিতা সুহায়ল ত্রস্তপদে তাঁহার দিকে আগাইয়া গেল এবং তাঁহার মুখমণ্ডলে সজোরে একটি চপেটাঘাত করিল (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৭)।
অতঃপর সুহায়ল রাসূলুল্লাহ (স)-এর দিকে মুখ করিয়া বলিলেন, হে মুহাম্মাদ! এই চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে এখনই আমার পুত্র আবু জান্দালকে আমার নিকট ফিরাইয়া দিন। তিনি বলিলেন, সুহায়ল! এখনও তো সন্ধিপত্র লেখা সম্পূর্ণ হয় নাই, ইহার উপর স্বাক্ষর হয় নাই। সুতরাং শর্ত পালনের কোন কথা আসিতে পারে না। সুহায়ল বলিল, যদি তাহাই হয়, তবে ইহার পর আমি কোন ব্যাপারেই আপনার সহিত কথা বলিতে প্রস্তুত নহি। তিনি বলিলেন, সুহায়ল। আর না হয় আমার খাতিরেই আবূ জান্দালকে আমাদের সহিত মদীনায় যাইতে দাও। সুহায়ল বলিল, ইহা কখনও হইতে পারে না।
তখন মিকরায বলিল, আচ্ছা, আমি অনুমতি দিতেছি। আপনারা আবূ জান্দালকে লইয়া যান। কিন্তু সুহায়ল মিকরাযের কথা প্রত্যাখ্যান করিয়া বলিল, ইহা কখনও হইতে দিব না। অতঃপর সে আবু জান্দাল (রা)-র শৃংখল ধরিয়া টানিয়া নিজের দিকে লইয়া গেল।
হযরত আবূ জান্দাল (রা) চিৎকার করিয়া বলিতে লাগিলেন, হে আমার মুসলমান ভাইগণ! আমি মুসলমান হইয়া তোমাদের নিকট আসিয়াছি। ইহার পরও আমাকে এই যালিম মুশরিকদের হাতে তুলিয়া দেওয়া হইতেছে। তোমরা কি দেখিতেছ না তাহারা আমাকে কী অমানুষিক অত্যাচার করিয়াছে! এই কথা বলিয়া তিনি তাঁহার দেহের ক্ষতসমূহ দেখাইতে লাগিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) সুহায়লের দাবির প্রেক্ষিতে আবু জান্দালকে তাহার নিকট ফিরাইয়া দিলেন এবং আবু জান্দালকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, আবু জান্দাল! ধৈর্য ধারণ কর। আল্লাহ তা'আলা শীঘ্রই তোমাদের মুক্তির ব্যবস্থা করিবেন (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৭, সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫৯)। রাসূলুল্লাহ (স) আরও বলিলেন, দেখ, আবু জান্দাল! আমরা তাহাদের সহিত একটি সন্ধিতে উপনীত হইয়াছি।
আমরা তাহাদেরকে কতিপয় প্রতিশ্রুতি দিয়াছি। তাহারাও আমাদেরকে কতিপয় প্রতিশ্রুতি দিয়াছে। তাই আমরা বিশ্বাসভঙ্গ করিতে পারি না। তুমি সবর কর, ইহার বিনিময়ে আল্লাহ্ নিকট পুরস্কারের প্রত্যাশী হও। দৃঢ় বিশ্বাস রাখ, আল্লাহ অতিসত্ত্বর তোমার জন্য মুক্তির কোন একটি পথ খুলিয়া দিবেন (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৭)।
এই করুণ দৃশ্য দেখিয়া মুসলমানগণ ভীষণ দুঃখিত হইলেন। কিন্তু আল্লাহ্র রাসূলের আনুগত্যের কারণে কিছুই বলিলেন না। শুধু দৃষ্টি নত করিয়া দুঃখ ও ক্ষোভ সংবরণ করিলেন এবং অশ্রু বিসর্জন দিলেন।
হযরত আবূ জান্দাল (রা)-কে যখন টানিয়া হেঁচড়াইয়া মক্কাভিমুখে লইয়া যাওয়া হইতেছিল তখন হযরত উমার (রা) তাঁহার সহিত কিছু দূর হাঁটিলেন এবং বলিলেন, "আবূ জান্দাল! ধৈর্য ধারণ কর। তাহারা মুশরিক, তাহাদের রক্ত আল্লাহ্র নিকট কুকুরের রক্ততুল্য" (তাফসীর ইবন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সন্ধিপত্রের স্বাক্ষর

📄 সন্ধিপত্রের স্বাক্ষর


সন্ধিপত্র লেখা সমাপ্ত হইল। উভয় পক্ষ উহাতে স্বাক্ষর করিল। কয়েকজন সাক্ষীও উহাতে স্বাক্ষর করিলেন। মুসলমানদের মধ্য হইতে সাক্ষী হইলেন হযরত আবূ বকর সিদ্দীক, হযরত উমার ফারূক, হযরত উছমান, হযরত আলী, হযরত সা'দ ইব্‌ন আবী ওয়াক্কাস, হযরত আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ, হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল, মুহাম্মদ ইব্‌ন মাসলামা, আবূ উবায়দা, ইবনুল জাররাহ (রা) প্রমুখ সাহাবীও। মুশরিক পক্ষ হইতে সাক্ষী হইল মিকরায ইবন হাম্স, হুয়ায়তিব ইব্‌ন আবদুল উয্যা প্রমুখ সরদার (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৭)। চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার পর উহার একটি কপি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট সোপর্দ করা হইল এবং আরেকটি কপি সুহায়ল ইব্‌ন আমর লইয়া গেল (তাবাকাত ইবন সা'দ, ২খ., পৃ. ৭১)। সন্ধি চুক্তির পরপরই আরবের বানু খুযা'আ গোত্র রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত এবং বানূ বাক্স গোত্র কুরায়শদের সহিত মৈত্রীচুক্তি সম্পাদন করে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭৭)।

সন্ধিপত্র লেখা সমাপ্ত হইল। উভয় পক্ষ উহাতে স্বাক্ষর করিল। কয়েকজন সাক্ষীও উহাতে স্বাক্ষর করিলেন। মুসলমানদের মধ্য হইতে সাক্ষী হইলেন হযরত আবূ বকর সিদ্দীক, হযরত উমার ফারূক, হযরত উছমান, হযরত আলী, হযরত সা'দ ইব্‌ন আবী ওয়াক্কাস, হযরত আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ, হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল, মুহাম্মদ ইব্‌ন মাসলামা, আবূ উবায়দা, ইবনুল জাররাহ (রা) প্রমুখ সাহাবীও। মুশরিক পক্ষ হইতে সাক্ষী হইল মিকরায ইবন হাম্স, হুয়ায়তিব ইব্‌ন আবদুল উয্যা প্রমুখ সরদার (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৭)। চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার পর উহার একটি কপি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট সোপর্দ করা হইল এবং আরেকটি কপি সুহায়ল ইব্‌ন আমর লইয়া গেল (তাবাকাত ইবন সা'দ, ২খ., পৃ. ৭১)। সন্ধি চুক্তির পরপরই আরবের বানু খুযা'আ গোত্র রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত এবং বানূ বাক্স গোত্র কুরায়শদের সহিত মৈত্রীচুক্তি সম্পাদন করে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সন্ধির শর্তাবলীর ব্যাপারে সাহাবীগণের প্রতিক্রিয়া

📄 সন্ধির শর্তাবলীর ব্যাপারে সাহাবীগণের প্রতিক্রিয়া


সন্ধির কতিপয় শর্তের ব্যাপারে হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) ব্যতীত প্রায় সকল সাহাবায়ে কিরাম দুঃখে, ক্ষোভে ও অভিমানে অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন। কারণ এই সন্ধির শর্তগুলি বাহ্যত ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত হীনতাজনক ছিল। হযরত উমার (রা) কিছুতেই ধৈর্য ধারণ করিতে পারিতেছিলেন না। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাযির হইয়া বলিলেন, আপনি যে আল্লাহ্র রাসূল, ইহা কি সত্য নহে? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ, নিশ্চয় আমি আল্লাহ্র রাসূল। উমার বলিলেন, আমরা যে পথে আছি তাহা কি ন্যায় ও সত্যের পথ নহে? আর কাফিরগণ যে পথে আছে উহা কি অন্যায় ও অসত্যের পথ নহে? তিনি বলিলেন, নিশ্চয়। উমার বলিলেন, তবে দীনের কাজে আমরা এত দুর্বলতা দেখাই কেন? এত অপমান কেন সহ্য করিব? মহানবী (স) বলিলেন, আমি আল্লাহ্ প্রেরিত নবী। তিনিই আমার সাহায্য করিবেন। আমি কিছুতেই তাঁহার আদেশ অমান্য করিব না। উমার বলিলেন, আপনি কি বলেন নাই যে, আমরা কা'বাঘর তাওয়াফ করিব? তিনি বলিলেন, হাঁ, অবশ্যই বলিয়াছি। কিন্তু এই কথা তো বলি নাই যে, এই বৎসরই তাওয়াফ করিব। উমার বলিলেন, না, তাহা বলেন নাই। মহানবী (স) বলিলেন, তাহা হইলে কিছুকাল ধৈর্য ধর। অচিরেই আমরা সকলে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করিব (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭৬)।
হযরত উমার (রা) বলেন, ইহার পর আমি হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা)-এর নিকট গেলাম এবং ঠিক ঐ কথাগুলির পুনরাবৃত্তি করিলাম। তিনিও আমাকে অবিকল তদ্রূপ উত্তরই দিলেন। তৎপর তিনি আমাকে বলিলেন, হে উমার! রাসূলুল্লাহ (স)-এর আনুগত্যে অটল থাকিও, তিনি আল্লাহ্র রাসূল। তিনি যাহা কিছু করেন, আল্লাহ্র নির্দেশেই করেন। মৃত্যু পর্যন্ত কখনও তাঁহার মতের বিরুদ্ধাচরণ করিও না (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩)।
বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই কথাও জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহাদের নিকট আমাদের কেহ চলিয়া গেলে তাহারা তাহাকে আমাদের নিকট ফেরৎ পাঠাইতে বাধ্য থাকিবে না, অথচ তাহাদের কেহ আমাদের নিকট মুসলমান হইয়া আসিলে আমরা তাহাকে এই যালিম মুশরিকদের হাতে সোপর্দ করিতে বাধ্য থাকিব, এই শর্তও কি আপনি মানিয়া লইলেন? তিনি বলিলেন, হাঁ, যে কেহ তাহাদের আশ্রয় গ্রহণ করিবে, সে মুসলমান নহে, সে মুনাফিক। তাহার চলিয়া যাওয়াই বাঞ্ছনীয়। আর যে সকল খাঁটি মুসলমান তাহাদের নিকট আবদ্ধ থাকিবে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তাহাদের মুক্তির উপায় করিয়া দিবেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৬০)।
হযরত উমার (রা) দুঃখে ও ক্ষোভে ইসলাম ও মুসলমানদের বাহ্যত অবমাননায় মর্মপীড়ায় অস্থির হইয়া পড়িয়াছিলেন। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই সমস্ত প্রশ্ন করিয়াছিলেন। পরে যখন তিনি প্রকৃতিস্থ হইলেন, তখন ইহার জন্য তিনি খুবই অনুতপ্ত হইয়াছিলেন। আজীবন তিনি ইহার জন্য অনুশোচনা করিতে থাকেন। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তিনি বহু নফল নামায পড়েন, অনেক রোযা রাখেন, প্রচুর দান-খয়রাত করেন, গোলাম আযাদ করেন এবং আল্লাহ্র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৬)।
উলামায়ে কিরাম বলেন, হযরত উমার (রা)-এর এই সকল প্রশ্ন রাসূলে করীম (স)-এর রিসালাত ও আল্লাহ্র ওয়াদার প্রতি আস্থাহীনতা বা সন্দেহ ও সংশয়ের কারণে ছিল না, বরং তাঁহার উদ্দেশ্য ছিল ইহার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদ্‌ঘাটন। আর ইহাও ছিল কাফিরদের প্রতি তাঁহার তীব্র ঘৃণা এবং ইসলামের প্রতি পরম শ্রদ্ধাবোধ হইতে উৎসারিত (হাশিয়া-ই সাবী, ৪খ., পৃ. ৯১)।

সন্ধির কতিপয় শর্তের ব্যাপারে হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) ব্যতীত প্রায় সকল সাহাবায়ে কিরাম দুঃখে, ক্ষোভে ও অভিমানে অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন। কারণ এই সন্ধির শর্তগুলি বাহ্যত ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত হীনতাজনক ছিল। হযরত উমার (রা) কিছুতেই ধৈর্য ধারণ করিতে পারিতেছিলেন না। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাযির হইয়া বলিলেন, আপনি যে আল্লাহ্র রাসূল, ইহা কি সত্য নহে? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ, নিশ্চয় আমি আল্লাহ্র রাসূল। উমার বলিলেন, আমরা যে পথে আছি তাহা কি ন্যায় ও সত্যের পথ নহে? আর কাফিরগণ যে পথে আছে উহা কি অন্যায় ও অসত্যের পথ নহে? তিনি বলিলেন, নিশ্চয়। উমার বলিলেন, তবে দীনের কাজে আমরা এত দুর্বলতা দেখাই কেন? এত অপমান কেন সহ্য করিব? মহানবী (স) বলিলেন, আমি আল্লাহ্ প্রেরিত নবী। তিনিই আমার সাহায্য করিবেন। আমি কিছুতেই তাঁহার আদেশ অমান্য করিব না। উমার বলিলেন, আপনি কি বলেন নাই যে, আমরা কা'বাঘর তাওয়াফ করিব? তিনি বলিলেন, হাঁ, অবশ্যই বলিয়াছি। কিন্তু এই কথা তো বলি নাই যে, এই বৎসরই তাওয়াফ করিব। উমার বলিলেন, না, তাহা বলেন নাই। মহানবী (স) বলিলেন, তাহা হইলে কিছুকাল ধৈর্য ধর। অচিরেই আমরা সকলে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করিব (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭৬)।
হযরত উমার (রা) বলেন, ইহার পর আমি হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা)-এর নিকট গেলাম এবং ঠিক ঐ কথাগুলির পুনরাবৃত্তি করিলাম। তিনিও আমাকে অবিকল তদ্রূপ উত্তরই দিলেন। তৎপর তিনি আমাকে বলিলেন, হে উমার! রাসূলুল্লাহ (স)-এর আনুগত্যে অটল থাকিও, তিনি আল্লাহ্র রাসূল। তিনি যাহা কিছু করেন, আল্লাহ্র নির্দেশেই করেন। মৃত্যু পর্যন্ত কখনও তাঁহার মতের বিরুদ্ধাচরণ করিও না (যadুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩)।
বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই কথাও জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহাদের নিকট আমাদের কেহ চলিয়া গেলে তাহারা তাহাকে আমাদের নিকট ফেরৎ পাঠাইতে বাধ্য থাকিবে না, অথচ তাহাদের কেহ আমাদের নিকট মুসলমান হইয়া আসিলে আমরা তাহাকে এই যালিম মুশরিকদের হাতে সোপর্দ করিতে বাধ্য থাকিব, এই শর্তও কি আপনি মানিয়া লইলেন? তিনি বলিলেন, হাঁ, যে কেহ তাহাদের আশ্রয় গ্রহণ করিবে, সে মুসলমান নহে, সে মুনাফিক। তাহার চলিয়া যাওয়াই বাঞ্ছনীয়। আর যে সকল খাঁটি মুসলমান তাহাদের নিকট আবদ্ধ থাকিবে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তাহাদের মুক্তির উপায় করিয়া দিবেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৬০)।
হযরত উমার (রা) দুঃখে ও ক্ষোভে ইসলাম ও মুসলমানদের বাহ্যত অবমাননায় মর্মপীড়ায় অস্থির হইয়া পড়িয়াছিলেন। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই সমস্ত প্রশ্ন করিয়াছিলেন। পরে যখন তিনি প্রকৃতিস্থ হইলেন, তখন ইহার জন্য তিনি খুবই অনুতপ্ত হইয়াছিলেন। আজীবন তিনি ইহার জন্য অনুশোচনা করিতে থাকেন। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তিনি বহু নফল নামায পড়েন, অনেক রোযা রাখেন, প্রচুর দান-খয়রাত করেন, গোলাম আযাদ করেন এবং আল্লাহ্র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৬)।
উলামায়ে কিরাম বলেন, হযরত উমার (রা)-এর এই সকল প্রশ্ন রাসূলে করীম (স)-এর রিসালাত ও আল্লাহ্র ওয়াদার প্রতি আস্থাহীনতা বা সন্দেহ ও সংশয়ের কারণে ছিল না, বরং তাঁহার উদ্দেশ্য ছিল ইহার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদ্‌ঘাটন। আর ইহাও ছিল কাফিরদের প্রতি তাঁহার তীব্র ঘৃণা এবং ইসলামের প্রতি পরম শ্রদ্ধাবোধ হইতে উৎসারিত (হাশিয়া-ই সাবী, ৪খ., পৃ. ৯১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00