📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শ প্রতিনিধি উরওয়া ও তাহার অসংযত উক্তি

📄 কুরায়শ প্রতিনিধি উরওয়া ও তাহার অসংযত উক্তি


এই সময় উরওয়া ইব্‌ন মাসউদ আছ-ছাকাফী নামক জনৈক তায়েফবাসী সরদার কুরায়শদের লক্ষ্য করিয়া বলিল, আপনারা কি আমার পিতৃস্থানীয়? কুরায়শগণ উত্তর করিল, নিশ্চয়। সে আবার বলিল, আমি কি আপনাদের সন্তানতুল্য নহি? তাহারা বলিল, অবশ্যই। তখন সে বলিল, আমার প্রতি কি আপনারা পূর্ণমাত্রায় আস্থাবান নহেন? তাহারা বলিল, নিশ্চয়। সে বলিল, তবে শুনুন! মুহাম্মাদ তোমাদেরকে যে প্রস্তাব দিয়াছেন, তাহা অত্যন্ত যুক্তিসংগত। তোমরা আমাকে অনুমতি দাও, আমি সরাসরি তাঁহার সহিত সাক্ষাত করিয়া সবিস্তার আলোচনা করিয়া আসি। উরওয়ার এই প্রস্তাবে সকলে সম্মতি জ্ঞাপন করিল (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩)।
তখন উরওয়া ইবন মাসউ'দ আছ-ছাকাফী রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া বলিল, আমি কুরায়শদের পক্ষ হইতে আপনার মতামত জানিতে আসিয়াছি। রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহার নিকট ঐ কথাগুলিরই পুনরাবৃত্তি করিলেন যাহা বুদায়ল ইব্‌ন ওয়ারাকার নিকট বলিয়াছিলেন।
উরওয়া বলিল, হে মুহাম্মাদ! আপনি যদি নিজ বংশের লোকদেরকে ধ্বংস করেন, তবে তাহা কি কোন ভাল কাজ হইবে? কেহ নিজ বংশকে ধ্বংস করিয়া দিয়াছে, এমন কোন দৃষ্টান্ত আছে কি? আর যদি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়া যায় তবে যে সমস্ত ভবঘুরে আপনার চতুষ্পার্শ্বে ভিড় করিয়া আছে তাহারা ধূলিবৎ উড়িয়া যাইবে। তখন আপনি তাহাদের নাম-নিশানাও দেখিতে পাইবেন না (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৮)।
তাহার এই অসংলগ্ন উক্তি শুনিয়া সাহাবীগণ অতিমাত্রায় উত্তেজিত হইলেন, এমনকি ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) তাহাকে গালি দিয়া বলিলেন, কি বলিস পাষণ্ড! আমরা রাসূলকে ছাড়িয়া চলিয়া যাইব? উরওয়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁহার দিকে তাকাইয়া বলিল, ইনি কে? রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, ইনি আবূ বাক্স। উরওয়া বলিল, হে আবূ বাক্স! তুমি একবার আমার উপকার করিয়াছিলে, আমি উহার প্রতিদান দিতে পারি নাই। তাই তোমার কথার উত্তর দিলাম না। সেই উপকার ছিল এই যে, উরওয়া কোন এক সময় রক্তপণ আদায় করিতে অক্ষম হইলে আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) তাহাকে দশটি উট দিয়া সাহায্য করিয়াছিলেন (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩)।
উরওয়া যখন রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সহিত আলাপ-আলোচনা করিতেছিল তখন তাহার চাচাতো ভাই হযরত মুগীরা ইব্‌ন শু'বা (রা) একটি খোলা তরবারি হাতে লইয়া রাসূলের পশ্চাতে দণ্ডায়মান ছিলেন। আরবের সাধারণ নিয়ম অনুসারে উরওয়া কথা বলার সময় বারবার রাসূলুল্লাহ (স)-এর দাঁড়ি মুবারকে হাত লাগাইতেছিল। হযরত মুগীরা (রা) তরবারির বাট দ্বারা তাহার হাতে চাপ দিয়া বলিলেন, "সাবধান! রাসূলের দাঁড়ি মুবারক হইতে হাত হঠাও। কোন মুশরিকের জন্য ইহা সংগত নহে যে, সে রাসূলের দাঁড়ি মুবারক স্পর্শ করিবে।" উরওয়া ইহাতে ক্ষুব্ধ হইয়া মুগীরা (রা)-কে লক্ষ্য করিয়া বলিল, "ওরে বিশ্বাসঘাতক! আমি কি অর্থ-কড়ি দিয়া তোর কৃত অপরাধের ক্ষতিপূরণ করি নাই? আজ তুই আমার সাথে এমন ব্যবহার করছিস?" উরওয়ার ইঙ্গিতের বিষয়টি ছিল এই যে, হযরত মুগীরা (রা) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কিছু লোককে হত্যা করিয়াছিলেন। নিহতদের আত্মীয়-স্বজন তখন হত্যার প্রতিশোধকল্পে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইয়া যায়। এই সময় উরওয়া নিজের পক্ষ হইতে নিহতদের রক্তপণ পরিশোধ করিয়া তাঁহাকে রক্ষা করিয়াছিল এবং যুদ্ধের দাবানল নির্বাপিত করিয়াছিল (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫৫)।
উরওয়া ছিল অতি বিচক্ষণ প্রবীণ ব্যক্তি। সে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সহিত আলাপ-আলোচনা করিতে করিতে মনোযোগ সহকারে সাহাবা-ই কিরামের আচার-ব্যবহার, চালচলন ও কথাবার্তা পর্যবেক্ষণ করিতেছিল। রাসূলের প্রতি সাহাবীগণের অগাধ ভক্তি-শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালবাসা ও অসামান্য আনুগত্যবোধ দেখিয়া সে অভিভূত হইয়া পড়ে। উরওয়া মক্কায় ফিরিয়া কুরায়শদেরকে বলিল, "আমি বড় বড় রাজা-বাদশাহর দরবারে গিয়াছি। রোম, পারস্য ও আবিসিনিয়ার সম্রাটদের শান-শওকতও দেখিয়াছি। কিন্তু আল্লাহ্র শপথ! মুহাম্মাদের সাহাবীগণ তাঁহাকে যেরূপ ভক্তি ও শ্রদ্ধা করেন, বিশ্বজগতে কোথাও উহার দৃষ্টান্ত দেখি নাই। তিনি যখন কথা বলেন, তখন এই বিশাল কাফেলা একেবারে নীরব থাকে। কেহই তাঁহার দিকে দৃষ্টি উঠাইয়া তাকাইতে সাহস পায় না। তাঁহার সহিত যখন কেহ কিছু বলেন, তখন অতি বিনয় সহকারে মৃদুস্বরে কথা বলেন। তাঁহার আজ্ঞা পালন করার জন্য তাহাদের প্রত্যেকেই ব্যাকুল হইয়া উঠেন। তিনি থু থু ফেলিলে তাহারা কাড়াকাড়ি করিয়া তাহা লইয়া নিজেদের মুখমণ্ডলে এবং শরীরে মাখে। তিনি উযু করিলে তাঁহার পানি লইবার জন্য তাহাদের মধ্যে কাড়াকাড়ি লাগিয়া যায়।"
অতঃপর উরওয়া বলিল, "হে কুরায়শগণ! মুহাম্মাদ তোমাদেরকে অতি ন্যায়সংগত কথাই বলিয়াছেন। তোমরা তাঁহার কথা মানিয়া লও। ইহাতেই তোমাদের মঙ্গল হইবে" (যাদুল-মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৮; যুরকানী, ২খ., পৃ. ১৯২)। উরওয়া সাহাবীগণ সম্বন্ধে যেই অভিব্যক্তি প্রকাশ করিয়াছে, ইহা যেন সাহাবীগণ সম্বন্ধে তাহার প্রথম উক্তির কুদরতী প্রতিউত্তর যাহা আল্লাহ্ তা'আলা তাহার মুখেই ব্যক্ত করাইয়াছিলেন।

এই সময় উরওয়া ইব্‌ন মাসউদ আছ-ছাকাফী নামক জনৈক তায়েফবাসী সরদার কুরায়শদের লক্ষ্য করিয়া বলিল, আপনারা কি আমার পিতৃস্থানীয়? কুরায়শগণ উত্তর করিল, নিশ্চয়। সে আবার বলিল, আমি কি আপনাদের সন্তানতুল্য নহি? তাহারা বলিল, অবশ্যই। তখন সে বলিল, আমার প্রতি কি আপনারা পূর্ণমাত্রায় আস্থাবান নহেন? তাহারা বলিল, নিশ্চয়। সে বলিল, তবে শুনুন! মুহাম্মাদ তোমাদেরকে যে প্রস্তাব দিয়াছেন, তাহা অত্যন্ত যুক্তিসংগত। তোমরা আমাকে অনুমতি দাও, আমি সরাসরি তাঁহার সহিত সাক্ষাত করিয়া সবিস্তার আলোচনা করিয়া আসি। উরওয়ার এই প্রস্তাবে সকলে সম্মতি জ্ঞাপন করিল (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩)।
তখন উরওয়া ইবন মাসউ'দ আছ-ছাকাফী রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া বলিল, আমি কুরায়শদের পক্ষ হইতে আপনার মতামত জানিতে আসিয়াছি। রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহার নিকট ঐ কথাগুলিরই পুনরাবৃত্তি করিলেন যাহা বুদায়ল ইব্‌ন ওয়ারাকার নিকট বলিয়াছিলেন।
উরওয়া বলিল, হে মুহাম্মাদ! আপনি যদি নিজ বংশের লোকদেরকে ধ্বংস করেন, তবে তাহা কি কোন ভাল কাজ হইবে? কেহ নিজ বংশকে ধ্বংস করিয়া দিয়াছে, এমন কোন দৃষ্টান্ত আছে কি? আর যদি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়া যায় তবে যে সমস্ত ভবঘুরে আপনার চতুষ্পার্শ্বে ভিড় করিয়া আছে তাহারা ধূলিবৎ উড়িয়া যাইবে। তখন আপনি তাহাদের নাম-নিশানাও দেখিতে পাইবেন না (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৮)।
তাহার এই অসংলগ্ন উক্তি শুনিয়া সাহাবীগণ অতিমাত্রায় উত্তেজিত হইলেন, এমনকি ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) তাহাকে গালি দিয়া বলিলেন, কি বলিস পাষণ্ড! আমরা রাসূলকে ছাড়িয়া চলিয়া যাইব? উরওয়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁহার দিকে তাকাইয়া বলিল, ইনি কে? রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, ইনি আবূ বাক্স। উরওয়া বলিল, হে আবূ বাক্স! তুমি একবার আমার উপকার করিয়াছিলে, আমি উহার প্রতিদান দিতে পারি নাই। তাই তোমার কথার উত্তর দিলাম না। সেই উপকার ছিল এই যে, উরওয়া কোন এক সময় রক্তপণ আদায় করিতে অক্ষম হইলে আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) তাহাকে দশটি উট দিয়া সাহায্য করিয়াছিলেন (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৩)।
উরওয়া যখন রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সহিত আলাপ-আলোচনা করিতেছিল তখন তাহার চাচাতো ভাই হযরত মুগীরা ইব্‌ন শু'বা (রা) একটি খোলা তরবারি হাতে লইয়া রাসূলের পশ্চাতে দণ্ডায়মান ছিলেন। আরবের সাধারণ নিয়ম অনুসারে উরওয়া কথা বলার সময় বারবার রাসূলুল্লাহ (স)-এর দাঁড়ি মুবারকে হাত লাগাইতেছিল। হযরত মুগীরা (রা) তরবারির বাট দ্বারা তাহার হাতে চাপ দিয়া বলিলেন, "সাবধান! রাসূলের দাঁড়ি মুবারক হইতে হাত হঠাও। কোন মুশরিকের জন্য ইহা সংগত নহে যে, সে রাসূলের দাঁড়ি মুবারক স্পর্শ করিবে।" উরওয়া ইহাতে ক্ষুব্ধ হইয়া মুগীরা (রা)-কে লক্ষ্য করিয়া বলিল, "ওরে বিশ্বাসঘাতক! আমি কি অর্থ-কড়ি দিয়া তোর কৃত অপরাধের ক্ষতিপূরণ করি নাই? আজ তুই আমার সাথে এমন ব্যবহার করছিস?" উরওয়ার ইঙ্গিতের বিষয়টি ছিল এই যে, হযরত মুগীরা (রা) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কিছু লোককে হত্যা করিয়াছিলেন। নিহতদের আত্মীয়-স্বজন তখন হত্যার প্রতিশোধকল্পে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইয়া যায়। এই সময় উরওয়া নিজের পক্ষ হইতে নিহতদের রক্তপণ পরিশোধ করিয়া তাঁহাকে রক্ষা করিয়াছিল এবং যুদ্ধের দাবানল নির্বাপিত করিয়াছিল (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫৫)।
উরওয়া ছিল অতি বিচক্ষণ প্রবীণ ব্যক্তি। সে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সহিত আলাপ-আলোচনা করিতে করিতে মনোযোগ সহকারে সাহাবা-ই কিরামের আচার-ব্যবহার, চালচলন ও কথাবার্তা পর্যবেক্ষণ করিতেছিল। রাসূলের প্রতি সাহাবীগণের অগাধ ভক্তি-শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালবাসা ও অসামান্য আনুগত্যবোধ দেখিয়া সে অভিভূত হইয়া পড়ে। উরওয়া মক্কায় ফিরিয়া কুরায়শদেরকে বলিল, "আমি বড় বড় রাজা-বাদশাহর দরবারে গিয়াছি। রোম, পারস্য ও আবিসিনিয়ার সম্রাটদের শান-শওকতও দেখিয়াছি। কিন্তু আল্লাহ্র শপথ! মুহাম্মাদের সাহাবীগণ তাঁহাকে যেরূপ ভক্তি ও শ্রদ্ধা করেন, বিশ্বজগতে কোথাও উহার দৃষ্টান্ত দেখি নাই। তিনি যখন কথা বলেন, তখন এই বিশাল কাফেলা একেবারে নীরব থাকে। কেহই তাঁহার দিকে দৃষ্টি উঠাইয়া তাকাইতে সাহস পায় না। তাঁহার সহিত যখন কেহ কিছু বলেন, তখন অতি বিনয় সহকারে মৃদুস্বরে কথা বলেন। তাঁহার আজ্ঞা পালন করার জন্য তাহাদের প্রত্যেকেই ব্যাকুল হইয়া উঠেন। তিনি থু থু ফেলিলে তাহারা কাড়াকাড়ি করিয়া তাহা লইয়া নিজেদের মুখমণ্ডলে এবং শরীরে মাখে। তিনি উযু করিলে তাঁহার পানি লইবার জন্য তাহাদের মধ্যে কাড়াকাড়ি লাগিয়া যায়।"
অতঃপর উরওয়া বলিল, "হে কুরায়শগণ! মুহাম্মাদ তোমাদেরকে অতি ন্যায়সংগত কথাই বলিয়াছেন। তোমরা তাঁহার কথা মানিয়া লও। ইহাতেই তোমাদের মঙ্গল হইবে" (যাদুল-মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮৮; যুরকানী, ২খ., পৃ. ১৯২)। উরওয়া সাহাবীগণ সম্বন্ধে যেই অভিব্যক্তি প্রকাশ করিয়াছে, ইহা যেন সাহাবীগণ সম্বন্ধে তাহার প্রথম উক্তির কুদরতী প্রতিউত্তর যাহা আল্লাহ্ তা'আলা তাহার মুখেই ব্যক্ত করাইয়াছিলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শ প্রতিনিধি হুলায়স

📄 কুরায়শ প্রতিনিধি হুলায়স


উরওয়ার কথা শুনিয়া বানু কিনানার সরদার হুলায়স ইবন আলকামা আল-কিনানী বলিল, হে কুরায়শ! তোমরা আমাকে একবার অনুমতি দাও, আমি মুহাম্মাদের সহিত আলোচনা করিয়া আসি। তাহারা বলিল, আচ্ছা, যাইতে চাও যাও। রাসূলুল্লাহ্ (স) হুলায়সকে আসিতে দেখিয়া বলিলেন, এই লোকটি বানু কিনানার দলপতি। কুরবানী করা ইহাদের অন্যতম প্রিয় কাজ। আমাদের কুরবানীর পশুগুলি তাহাকে দেখাইয়া দাও। সাহাবীগণ কুরবানীর চিহ্নযুক্ত উটগুলি লইয়া 'লাব্বায়ক, লাব্বায়ক' বলিতে বলিতে হুলায়সের অভ্যর্থনার জন্য অগ্রসর হইলেন। কুরবানীর উটের বিরাট কাফেলা দেখিয়া হুলায়স আর অশ্রু সংবরণ করিতে পারিল না। সে কাঁদিতে কাঁদিতে বলিল, আহা! ইহারা বায়তুল্লাহ্র যিয়ারত প্রত্যাশী। ইহারা কেবল 'উমরাহ্ উদ্দেশ্যেই আসিয়াছে। ইহাদেরকে বাধা দেওয়া কি ঠিক? এই কথা বলিয়া সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাৎ না করিয়াই মক্কায় ফিরিয়া গেল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭৩)।
কুরায়শদের নিকট গিয়া হুলায়স বলিল, "তাহারা যুদ্ধ করিতে আসে নাই, 'উমরাহ করিতে এবং কুরবানী করিতে আসিয়াছে। তাহাদেরকে তোমরা বাধা দিও না। তাহাদেরকে তাহাদের পূণ্যকর্ম সম্পাদন করিতে অনুমতি দাও।" কুরায়শগণ বলিল, তুমি গ্রাম্য লোক, তোমার বুদ্ধি-জ্ঞান কম। তুমি কথা বলিও না, চুপ করিয়া বসিয়া থাক। হুলায়স অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হইয়া বলিল, আল্লাহর কসম! আমরা তোমাদের সহিত এইজন্য চুক্তি করি নাই যে, যাহারা বায়তুল্লাহ যিয়ারত করিতে আসিবে তোমরা তাহাদেরকে বাধা দিবে, আর আমরা কিছুই বলিব না। আমি স্পষ্ট বলিতেছি, "যদি তোমরা এখন মুসলমানদের বায়তুল্লাহ যিয়ারত করিতে অনুমতি না দাও তবে আমরা তোমাদের সহিত কৃত মৈত্রীচুক্তি ভঙ্গ করিয়া চলিয়া যাইব"।
হুলায়সের চুক্তি ভঙ্গের হুমকিতে কুরায়শগণ বিচলিত হইয়া তাহাকে তোষামোদ করিতে লাগিল এবং বলিল, আচ্ছা, বসুন। আমরা একটু বুঝাপড়া করিয়া লই (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫৬)।

উরওয়ার কথা শুনিয়া বানু কিনানার সরদার হুলায়স ইবন আলকামা আল-কিনানী বলিল, হে কুরায়শ! তোমরা আমাকে একবার অনুমতি দাও, আমি মুহাম্মাদের সহিত আলোচনা করিয়া আসি। তাহারা বলিল, আচ্ছা, যাইতে চাও যাও। রাসূলুল্লাহ্ (স) হুলায়সকে আসিতে দেখিয়া বলিলেন, এই লোকটি বানু কিনানার দলপতি। কুরবানী করা ইহাদের অন্যতম প্রিয় কাজ। আমাদের কুরবানীর পশুগুলি তাহাকে দেখাইয়া দাও। সাহাবীগণ কুরবানীর চিহ্নযুক্ত উটগুলি লইয়া 'লাব্বায়ক, লাব্বায়ক' বলিতে বলিতে হুলায়সের অভ্যর্থনার জন্য অগ্রসর হইলেন। কুরবানীর উটের বিরাট কাফেলা দেখিয়া হুলায়স আর অশ্রু সংবরণ করিতে পারিল না। সে কাঁদিতে কাঁদিতে বলিল, আহা! ইহারা বায়তুল্লাহ্র যিয়ারত প্রত্যাশী। ইহারা কেবল 'উমরাহ্ উদ্দেশ্যেই আসিয়াছে। ইহাদেরকে বাধা দেওয়া কি ঠিক? এই কথা বলিয়া সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাৎ না করিয়াই মক্কায় ফিরিয়া গেল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭৩)।
কুরায়শদের নিকট গিয়া হুলায়স বলিল, "তাহারা যুদ্ধ করিতে আসে নাই, 'উমরাহ করিতে এবং কুরবানী করিতে আসিয়াছে। তাহাদেরকে তোমরা বাধা দিও না। তাহাদেরকে তাহাদের পূণ্যকর্ম সম্পাদন করিতে অনুমতি দাও।" কুরায়শগণ বলিল, তুমি গ্রাম্য লোক, তোমার বুদ্ধি-জ্ঞান কম। তুমি কথা বলিও না, চুপ করিয়া বসিয়া থাক। হুলায়স অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হইয়া বলিল, আল্লাহর কসম! আমরা তোমাদের সহিত এইজন্য চুক্তি করি নাই যে, যাহারা বায়তুল্লাহ যিয়ারত করিতে আসিবে তোমরা তাহাদেরকে বাধা দিবে, আর আমরা কিছুই বলিব না। আমি স্পষ্ট বলিতেছি, "যদি তোমরা এখন মুসলমানদের বায়তুল্লাহ যিয়ারত করিতে অনুমতি না দাও তবে আমরা তোমাদের সহিত কৃত মৈত্রীচুক্তি ভঙ্গ করিয়া চলিয়া যাইব"।
হুলায়সের চুক্তি ভঙ্গের হুমকিতে কুরায়শগণ বিচলিত হইয়া তাহাকে তোষামোদ করিতে লাগিল এবং বলিল, আচ্ছা, বসুন। আমরা একটু বুঝাপড়া করিয়া লই (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শ প্রতিনিধি মিক্রায

📄 কুরায়শ প্রতিনিধি মিক্রায


কুরায়শ নেতাগণ বসিয়া দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত চিন্তা-ভাবনা ও শলা-পরামর্শ করিল। এক পর্যায়ে মিকরায ইবন হাম্স নামক জনৈক সরদার উঠিয়া বলিল, তোমরা আমাকে অনুমতি দিলে আমিও একবার মুহাম্মাদের সহিত কথা বলিয়া আসিতাম। কুরায়শদের অনুমতি পাইয়া মিকরায রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে আসিতেছিল। মিকরাযকে দেখিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, "এই লোকটি দুষ্ট প্রকৃতির।” তিনি এই কথা বলিয়া তাহার অতীতের একটি দুরভিসন্ধির প্রতি ইঙ্গিত করিয়াছেন। ইতোপূর্বে পঞ্চাশজন, মতান্তরে সত্তর অথবা আশিজনের যেই কুরায়শ বাহিনী হুদায়বিয়ায় চোরাগোপ্তা হামলা করার প্রস্তুতি লইয়াছিল এবং পরে মুসলমানদের হাতে ধরা পড়িয়াছিল, সেই বাহিনীর প্রধান ছিল এই মিকরায। কিন্তু সে পালাইয়া যাইতে সক্ষম হয়। মুসলমানগণ তাহার কথা জানিতেন না, তাই রাসূলুল্লাহ (স) এই মন্তব্য করিয়াছিলেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫৭; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৬; প্রতিনিধিদের আগমন ক্রমধারায় কিছু ব্যতিক্রমের জন্য দ্র: ইব্‌ন হিশাম ও দানাপুরী)।

কুরায়শ নেতাগণ বসিয়া দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত চিন্তা-ভাবনা ও শলা-পরামর্শ করিল। এক পর্যায়ে মিকরায ইবন হাম্স নামক জনৈক সরদার উঠিয়া বলিল, তোমরা আমাকে অনুমতি দিলে আমিও একবার মুহাম্মাদের সহিত কথা বলিয়া আসিতাম। কুরায়শদের অনুমতি পাইয়া মিকরায রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে আসিতেছিল। মিকরাযকে দেখিয়াই রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, "এই লোকটি দুষ্ট প্রকৃতির।” তিনি এই কথা বলিয়া তাহার অতীতের একটি দুরভিসন্ধির প্রতি ইঙ্গিত করিয়াছেন। ইতোপূর্বে পঞ্চাশজন, মতান্তরে সত্তর অথবা আশিজনের যেই কুরায়শ বাহিনী হুদায়বিয়ায় চোরাগোপ্তা হামলা করার প্রস্তুতি লইয়াছিল এবং পরে মুসলমানদের হাতে ধরা পড়িয়াছিল, সেই বাহিনীর প্রধান ছিল এই মিকরায। কিন্তু সে পালাইয়া যাইতে সক্ষম হয়। মুসলমানগণ তাহার কথা জানিতেন না, তাই রাসূলুল্লাহ (স) এই মন্তব্য করিয়াছিলেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫৭; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৬; প্রতিনিধিদের আগমন ক্রমধারায় কিছু ব্যতিক্রমের জন্য দ্র: ইব্‌ন হিশাম ও দানাপুরী)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শ প্রতিনিধিরূপে সুহায়ল

📄 কুরায়শ প্রতিনিধিরূপে সুহায়ল


মিকরায রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আলোচনা করিতেছিল। এমন সময় দেখা গেল কুরায়শদের অন্যতম সরদার সুহায়ল আসিতেছে। কুরায়শগণ অনেক চিন্তা-ভাবনার পর সন্ধি করিতে রাযী হইল। এই উদ্দেশ্যে তাহারা সুহায়ল ইব্‌ন আমরকে চূড়ান্ত সন্ধির মধ্যস্থতার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর সমীপে প্রেরণ করিল। তাহারা সুহায়লকে বলিল, যাও, মুহাম্মাদের সহিত সন্ধি করিয়া আইস। তবে সন্ধির শর্তের মধ্যে কোন প্রকার শিথিলতা করিবে না। আর বলিও, "মুহাম্মাদ এই বৎসর মক্কায় প্রবেশের অনুমতি পাইবে না। আগামী বৎসর তাঁহাকে 'উমরাহ করার সুযোগ দেওয়া হইবে।" অন্যথায় আরবগণ বলিবে, মুহাম্মাদ কুরায়শদেরকে পরাভূত করিয়াছে (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৬)।
সুহায়ল ছিল কুরায়শদের মধ্যে অতিশয় বাগ্মী ও সুবক্তা। কুরায়শদের মধ্যে সে খতীবে কুরায়শ নামে সুপরিচিত ছিল। সুহায়লকে আসিতে দেখিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহারা সুহায়লকে পাঠাইয়াছে। ইহাতে মনে হয় তাহারা যেন সত্যি সত্যিই সন্ধি করিতে সম্মত হইয়াছে। তিনি আরও বলিলেন, "فَدْ سَهُلَ لَكُمْ مِنْ أَمْرِكُمْ আল্লাহ তোমাদের বিষয়টি তোমাদের জন্য কিছুটা সহজ করিয়া দিয়াছেন"। বস্তুত ইহা ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর শুভ লক্ষণমূলক উক্তি যাহা সুহায়লের নাম হইতে তিনি উদ্‌ঘাটন করিয়াছিলেন। এই ধরনের “নেকফাল” (শুভ লক্ষণ গ্রহণ বৈধ) (যুরকানী, ২খ., পৃ. ১৯৪)।
সুহায়ল আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে হাঁটু গাড়িয়া বসিল এবং সন্ধির আলোচনা আরম্ভ করিল। সুহায়ল বলিল, আপনাদেরকে এইবার এখান হইতেই মদীনায় ফিরিয়া যাইতে হইবে। মক্কার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হইবে না। অন্যথায় লোকেরা মনে করিবে, মুসলমানগণ বলপূর্বক 'উমরাহ করিয়া গিয়াছে। ইহা কুরায়শদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। এইবার এখান হইতে মদীনায় ফিরিয়া যাওয়া যদি কবুল করেন, তবেই কেবল আমি আপনার সহিত সন্ধি সম্পর্কে আলোচনা করিব, ইহাই আমার প্রথম ও প্রধান শর্ত।
সাহাবায়ে কিরাম এই শর্তে সন্ধি করিতে কিছুতেই সম্মত ছিলেন না। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদেরকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, "তোমরা বুঝিতে পারিতেছ না, ইহা আমাদের জন্য পরাজয় নহে। ইহার মধ্য দিয়াই আমরা মহাবিজয়ের দিকে অগ্রসর হইব এবং মহাবিজয় লাভ করিতে সমর্থ হইব।” অতঃপর সুহায়লকে সম্বোধন করিয়া তিনি বলিলেন, সুহায়ল! কা'বাঘরের মর্যাদা রক্ষার্থে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কুরায়শগণ আজ আমার নিকট যাহা কিছু চাহিবে, আমি তাহাই দিব। তোমাদের শর্তেই আমি সন্ধি করিতে রাযী আছি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৬)। দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার পর নিম্নোক্ত শর্তে সন্ধি করার সিদ্ধান্ত হইল:
১. মুসলমানগণ এই বৎসর 'উমরাহ না করিয়াই মদীনায় ফিরিয়া যাইবেন।
২. আগামী বৎসর তাহারা তাহাদের এই মূলতবী 'উমরাহ কাযা করিতে পারিবেন। তবে তিন দিনের বেশি মক্কায় থাকিতে পারিবেন না।
৩. 'উমরাহ করিবার সময় তাহারা কোন প্রকার অস্ত্র বহন করিতে পারিবেন না, শুধু কোষবদ্ধ তরবারি আনিতে পরিবেন।
৪. যে সমস্ত মুসলমান মক্কায় অবস্থান করিতেছে তাহাদের মধ্য হইতে কেহই মুসলমানদের সহিত মদীনায় যাইতে পারিবে না। আর মুসলমান কাফেলা হইতে কেহ মক্কায় থাকিয়া যাইতে চাহিলে তাহাকে রাখিয়া যাইতে হইবে। অনুরূপ মক্কা হইতে কেহ মদীনায় চলিয়া আসিলে তাহাকে মদীনায় ফেরৎ পাঠানো হইবে না।
৫. উভয় পক্ষ প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে বন্ধুত্ব ভাব পোষণ করিবে। এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে যুদ্ধের প্রেরণা যোগাইবে না।
৬. আরবের অন্যান্য গোত্রসমূহ স্বেচ্ছায় সন্ধিভুক্ত যে কোন পক্ষের সহিত স্বাধীনভাবে মিত্রতা স্থাপন করিতে পারিবে।
৭. এই সন্ধি দশ বৎসর কাল বলবৎ থাকিবে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., - পৃ. ৫৬৪)।

মিকরায রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আলোচনা করিতেছিল। এমন সময় দেখা গেল কুরায়শদের অন্যতম সরদার সুহায়ল আসিতেছে। কুরায়শগণ অনেক চিন্তা-ভাবনার পর সন্ধি করিতে রাযী হইল। এই উদ্দেশ্যে তাহারা সুহায়ল ইব্‌ন আমরকে চূড়ান্ত সন্ধির মধ্যস্থতার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর সমীপে প্রেরণ করিল। তাহারা সুহায়লকে বলিল, যাও, মুহাম্মাদের সহিত সন্ধি করিয়া আইস। তবে সন্ধির শর্তের মধ্যে কোন প্রকার শিথিলতা করিবে না। আর বলিও, "মুহাম্মাদ এই বৎসর মক্কায় প্রবেশের অনুমতি পাইবে না। আগামী বৎসর তাঁহাকে 'উমরাহ করার সুযোগ দেওয়া হইবে।" অন্যথায় আরবগণ বলিবে, মুহাম্মাদ কুরায়শদেরকে পরাভূত করিয়াছে (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৬)।
সুহায়ল ছিল কুরায়শদের মধ্যে অতিশয় বাগ্মী ও সুবক্তা। কুরায়শদের মধ্যে সে খতীবে কুরায়শ নামে সুপরিচিত ছিল। সুহায়লকে আসিতে দেখিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহারা সুহায়লকে পাঠাইয়াছে। ইহাতে মনে হয় তাহারা যেন সত্যি সত্যিই সন্ধি করিতে সম্মত হইয়াছে। তিনি আরও বলিলেন, "فَدْ سَهُلَ لَكُمْ مِنْ أَمْرِكُمْ আল্লাহ তোমাদের বিষয়টি তোমাদের জন্য কিছুটা সহজ করিয়া দিয়াছেন"। বস্তুত ইহা ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর শুভ লক্ষণমূলক উক্তি যাহা সুহায়লের নাম হইতে তিনি উদ্‌ঘাটন করিয়াছিলেন। এই ধরনের “নেকফাল” (শুভ লক্ষণ গ্রহণ বৈধ) (যুরকানী, ২খ., পৃ. ১৯৪)।
সুহায়ল আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে হাঁটু গাড়িয়া বসিল এবং সন্ধির আলোচনা আরম্ভ করিল। সুহায়ল বলিল, আপনাদেরকে এইবার এখান হইতেই মদীনায় ফিরিয়া যাইতে হইবে। মক্কার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হইবে না। অন্যথায় লোকেরা মনে করিবে, মুসলমানগণ বলপূর্বক 'উমরাহ করিয়া গিয়াছে। ইহা কুরায়শদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। এইবার এখান হইতে মদীনায় ফিরিয়া যাওয়া যদি কবুল করেন, তবেই কেবল আমি আপনার সহিত সন্ধি সম্পর্কে আলোচনা করিব, ইহাই আমার প্রথম ও প্রধান শর্ত।
সাহাবায়ে কিরাম এই শর্তে সন্ধি করিতে কিছুতেই সম্মত ছিলেন না। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদেরকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, "তোমরা বুঝিতে পারিতেছ না, ইহা আমাদের জন্য পরাজয় নহে। ইহার মধ্য দিয়াই আমরা মহাবিজয়ের দিকে অগ্রসর হইব এবং মহাবিজয় লাভ করিতে সমর্থ হইব।” অতঃপর সুহায়লকে সম্বোধন করিয়া তিনি বলিলেন, সুহায়ল! কা'বাঘরের মর্যাদা রক্ষার্থে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কুরায়শগণ আজ আমার নিকট যাহা কিছু চাহিবে, আমি তাহাই দিব। তোমাদের শর্তেই আমি সন্ধি করিতে রাযী আছি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৬)। দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার পর নিম্নোক্ত শর্তে সন্ধি করার সিদ্ধান্ত হইল:
১. মুসলমানগণ এই বৎসর 'উমরাহ না করিয়াই মদীনায় ফিরিয়া যাইবেন।
২. আগামী বৎসর তাহারা তাহাদের এই মূলতবী 'উমরাহ কাযা করিতে পারিবেন। তবে তিন দিনের বেশি মক্কায় থাকিতে পারিবেন না।
৩. 'উমরাহ করিবার সময় তাহারা কোন প্রকার অস্ত্র বহন করিতে পারিবেন না, শুধু কোষবদ্ধ তরবারি আনিতে পরিবেন।
৪. যে সমস্ত মুসলমান মক্কায় অবস্থান করিতেছে তাহাদের মধ্য হইতে কেহই মুসলমানদের সহিত মদীনায় যাইতে পারিবে না। আর মুসলমান কাফেলা হইতে কেহ মক্কায় থাকিয়া যাইতে চাহিলে তাহাকে রাখিয়া যাইতে হইবে। অনুরূপ মক্কা হইতে কেহ মদীনায় চলিয়া গেলে তাহাকে মক্কায় ফেরৎ পাঠাইতে হইবে। কিন্তু মদীনা হইতে কেহ মক্কায় চলিয়া আসিলে তাহাকে মদীনায় ফেরৎ পাঠানো হইবে না।
৫. উভয় পক্ষ প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে বন্ধুত্ব ভাব পোষণ করিবে। এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে যুদ্ধের প্রেরণা যোগাইবে না।
৬. আরবের অন্যান্য গোত্রসমূহ স্বেচ্ছায় সন্ধিভুক্ত যে কোন পক্ষের সহিত স্বাধীনভাবে মিত্রতা স্থাপন করিতে পারিবে।
৭. এই সন্ধি দশ বৎসর কাল বলবৎ থাকিবে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., - পৃ. ৫৬৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00