📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের ফযীলাত

📄 বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের ফযীলাত


যাঁহারা বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছিলেন, তাঁহাদের ফযীলাত ও মর্যাদা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (স) ইরশাদ করেন:
لا يدخل احد الناران شاء الله من اصحاب الشجرة الذين بايعوا تحتها
"ইনশাআল্লাহ্! এই বৃক্ষের নিচে যাহারা বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, তাহাদের কেহই জাহান্নামে প্রবেশ করিবে না" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
একথা শুনিয়া হযরত হাফসা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছেন:
وَإِنْ مِّنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا .
"তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে। ইহা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত” (১৯: ৭১)।
সুতরাং বায়'আতে রিদওয়ানের কাহাকেও জাহান্নাম অতিক্রম করিতে হইবে না- কথাটির তাৎপর্য কি? আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা তো ইহাও বলিয়াছেন,
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا .
"অতঃপর আমি মুত্তাকীদেরকে উদ্ধার করিব” (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭০)।
হযরত জাবির (রা) রিওয়ায়াত করিয়াছেন, হযরত হাতিব (রা)-এর এক ক্রীতদাস একদা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সমীপে হাযির হইয়া হযরত হাতিব সম্বন্ধে অভিযোগ করিয়া ক্ষোভের সহিত বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! হাতিব অবশ্যই জাহান্নামে যাইবে। আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, তুমি মিথ্যা বলিতেছ। সে জাহান্নামে যাইবে না। সে তো বন্দর ও হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণ করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
যাঁহারা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর হাতে বায়'আতে রিদওয়ানে শরীক হইয়াছিলেন, তাঁহাদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহার সন্তুষ্টি ঘোষণা করিয়াছেন:
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ. "যাহারা গাছের নিচে আপনার নিকট বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, আল্লাহ্ তাঁহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন" (৪৮:১৮)।
আল্লাহ্ তাঁহাদের ইখলাস ও নিষ্ঠার সাক্ষ্য দিয়া বলিয়াছেন, فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ “তিনি তাঁহাদের অন্তরে যাহা ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন" (৪৮: ১৮)।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহাদের ঈমান ও ইয়াকীনের স্বীকৃতি দিয়াছেন, فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ "আল্লাহ্ তাহাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করিয়াছেন"। ইহাতে ইঙ্গিত রহিয়াছে যে, তাঁহারা আমৃত্যু ঈমান, ইঙ্গাস ও ইয়াকীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকিবেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৭৫)।

যাঁহারা বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছিলেন, তাঁহাদের ফzilaত ও মর্যাদা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (স) ইরশাদ করেন:
لا يدخل احد الناران شاء الله من اصحاب الشجرة الذين بايعوا تحتها
"ইনশাআল্লাহ্! এই বৃক্ষের নিচে যাহারা বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, তাহাদের কেহই জাহান্নামে প্রবেশ করিবে না" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
একথা শুনিয়া হযরত হাফসা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছেন:
وَإِنْ مِّنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا.
"তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে। ইহা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত” (১৯: ৭১)।
সুতরাং বায়'আতে রিদওয়ানের কাহাকেও জাহান্নাম অতিক্রম করিতে হইবে না- কথাটির তাৎপর্য কি? আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা তো ইহাও বলিয়াছেন,
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا. "অতঃপর আমি মুত্তাকীদেরকে উদ্ধার করিব” (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭০)।
হযরত জাবির (রা) রিওয়ায়াত করিয়াছেন, হযরত হাতিব (রা)-এর এক ক্রীতদাস একদা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সমীপে হাযির হইয়া হযরত হাতিব সম্বন্ধে অভিযোগ করিয়া ক্ষোভের সহিত বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! হাতিব অবশ্যই জাহান্নামে যাইবে। আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, তুমি মিথ্যা বলিতেছ। সে জাহান্নামে যাইবে না। সে তো বন্দর ও হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণ করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
যাঁহারা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর হাতে বায়'আতে রিদওয়ানে শরীক হইয়াছিলেন, তাঁহাদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহার সন্তুষ্টি ঘোষণা করিয়াছেন:
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ. "যাহারা গাছের নিচে আপনার নিকট বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, আল্লাহ্ তাঁহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন" (৪৮:১৮)।
আল্লাহ্ তাঁহাদের ইখলাস ও নিষ্ঠার সাক্ষ্য দিয়া বলিয়াছেন, فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ “তিনি তাঁহাদের অন্তরে যাহা ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন" (৪৮: ১৮)।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহাদের ঈমান ও ইয়াকীনের স্বীকৃতি দিয়াছেন, فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ "আল্লাহ্ তাহাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করিয়াছেন”। ইহাতে ইঙ্গিত রহিয়াছে যে, তাঁহারা আমৃত্যু ঈমান, ইঙ্গাস ও ইয়াকীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকিবেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৭৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত উছমান (রা)-এর প্রত্যাবর্তন

📄 হযরত উছমান (রা)-এর প্রত্যাবর্তন


দারুণ উদ্দীপনার মধ্য দিয়া বায়'আত সমাপ্ত হইয়া গেল। প্রচণ্ড উত্তেজনার মধ্যে সকলে আসন্ন বিপদের সম্মুখীন হইবার জন্য প্রস্তুত হইতেছেন। এমন সময় সকলেই দেখিতে পাইলেন হযরত উছমান (রা) মক্কা হইতে ফিরিয়া আসিতেছেন। তাঁহাকে নিজেদের মধ্যে পাইয়া সাহাবীগণের অশান্তি ও উদ্বেগ দূর হইল।
হযরত উছমান (রা) একাকী 'উমরাহ করিতে অস্বীকার করায় কুরায়শগণ ক্ষুব্ধ হইয়া তাঁহাকে আটক করিয়া রাখিয়াছিল। পরে যখন তাহারা শুনিতে পাইল যে, মুসলমানগণ উত্তেজিত হইয়া মরণপণ জিহাদের বায়'আত গ্রহণ করিতেছে, তখন তাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া দেয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭০)।
হযরত উছমান (রা) উপস্থিত হইলে সাহাবীগণ উৎসুক্যবশত তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি তাওয়াফ করিয়াছেন কি? তিনি বলিলেন, কুরায়শগণ আমাকে তাওয়াফ করিতে বলিয়াছিল, কিন্তু আমি তাহা করি নাই। যাঁহার হস্তে আমার জীবন, তাঁহার শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি আমাকে এক বৎসরও মক্কায় থাকিতে হইত তবুও রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে ছাড়িয়া আমি একা কখনও তাওয়াফ করিতে রাযী হইতাম না (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৬৯)।

দারুণ উদ্দীপনার মধ্য দিয়া বায়'আত সমাপ্ত হইয়া গেল। প্রচণ্ড উত্তেজনার মধ্যে সকলে আসন্ন বিপদের সম্মুখীন হইবার জন্য প্রস্তুত হইতেছেন। এমন সময় সকলেই দেখিতে পাইলেন হযরত উছমান (রা) মক্কা হইতে ফিরিয়া আসিতেছেন। তাঁহাকে নিজেদের মধ্যে পাইয়া সাহাবীগণের অশান্তি ও উদ্বেগ দূর হইল।
হযরত উছমান (রা) একাকী 'উমরাহ করিতে অস্বীকার করায় কুরায়শগণ ক্ষুব্ধ হইয়া তাঁহাকে আটক করিয়া রাখিয়াছিল। পরে যখন তাহারা শুনিতে পাইল যে, মুসলমানগণ উত্তেজিত হইয়া মরণপণ জিহাদের বায়'আত গ্রহণ করিতেছে, তখন তাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া দেয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭০)।
হযরত উছমান (রা) উপস্থিত হইলে সাহাবীগণ উৎসুক্যবশত তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি তাওয়াফ করিয়াছেন কি? তিনি বলিলেন, কুরায়শগণ আমাকে তাওয়াফ করিতে বলিয়াছিল, কিন্তু আমি তাহা করি নাই। যাঁহার হস্তে আমার জীবন, তাঁহার শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি আমাকে এক বৎসরও মক্কায় থাকিতে হইত তবুও রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে ছাড়িয়া আমি একা কখনও তাওয়াফ করিতে রাযী হইতাম না (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৬৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বায়'আতে রিদওয়ানের সেই বৃক্ষটি

📄 বায়'আতে রিদওয়ানের সেই বৃক্ষটি


যেই বৃক্ষের নিচে "বায়'আতে রিদওয়ান” অনুষ্ঠিত হয় উহা ছিল একটি বাবলা বৃক্ষ। রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর ওফাতের পর কিছু লোক সেখানে গমন করিতে এবং পরম ভক্তি-শ্রদ্ধা লইয়া উহাকে যিয়ারত করিতে আরম্ভ করে। তখন হযরত উমার ফারূক (রা) আশঙ্কা করিলেন যে, ভবিষ্যতে অজ্ঞ লোকেরা পূর্ববর্তী উম্মাতের ন্যায় এই বৃক্ষের পূজা শুরু করিয়া দিতে পারে। এই আশঙ্কায় তিনি বৃক্ষটি কাটিয়া ফেলেন। পরে সেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়। তুর্কী শাসনামলে মসজিদটি পুনঃসংস্কার করা হয়। বর্তমানে "গারদেপুশ” সড়কের পাশে মসজিদটি অবস্থিত (দা. মা. ই., উর্দু, ৭খ., পৃ. ৯৫৮)।
কিন্তু বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াতে হযরত তারিক ইব্‌ন আবদুর রহমান বলেন, আমি একবার হজ্জে যাওয়ার পথে এক জায়গায় দেখিলাম, কিছু লোক একত্র হইয়া নামায পড়িতেছে। আমি তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহা কোন মসজিদ? তাহারা বলিল, ইহা সেই বৃক্ষ, যাহার নিচে আল্লাহ্র রাসূল বায়'আতে রিদওয়ান গ্রহণ করিয়াছিলেন। আমি পরে হযরত সা'ঈদ ইবনুল মুসায়‍্যাব (র)-এর নিকট উপস্থিত হই এবং এই ঘটনা বর্ণনা করি। তিনি বলিলেন, আমার পিতা বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আমাকে বলিয়াছেন, আমরা যখন পরবর্তী বৎসর অর্থাৎ 'উমরাতুল-কাযার বৎসর মক্কায় উপস্থিত হই, তখন অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বৃক্ষটির সন্ধান পাই নাই। অতঃপর হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়‍্যাব বলিলেন, রাসলুল্লাহ (স)-এর যে সকল সাহাবী এই বায়'আতে শরীক ছিলেন তাঁহারা তো এই বৃক্ষের সন্ধান পাইলেন না, আর তুমি কিনা সেই বৃক্ষের সন্ধান জানিয়া ফেলিয়াছ? আশ্চর্যের বিষয় বটে! তুমি কি তাঁহাদের চাইতেও অধিক জ্ঞাত? (তাফসীর রূহুল মা'আনী, ১৪খ., পৃ. ১৬২)।
ইহা হইতে জানা গেল যে, পরবর্তী কালে লোকেরা নিছক অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া কোন একটি বৃক্ষকে বায়'আতে রিদওয়ানের বৃক্ষ বলিয়া নির্দিষ্ট করিয়া লইয়াছিল এবং উহার নিচে জমায়েত হইয়া নামায পড়া শুরু করিয়াছিল। হযরত উমার ফারূক (রা) জানিতেন যে, ইহা সেই বৃক্ষটি নহে। তাই ইহা সম্ভব যে, তিনি একটি ভ্রান্তি ও শিরকের আশঙ্কাবোধ করিয়া সেই বৃক্ষটিও কাটিয়া ফেলেন (তাফসীর মা'আরিফুল কুরআন, ৮খ., পৃ. ৮১)।

যেই বৃক্ষের নিচে "বায়'আতে রিদওয়ান” অনুষ্ঠিত হয় উহা ছিল একটি বাবলা বৃক্ষ। রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর ওফাতের পর কিছু লোক সেখানে গমন করিতে এবং পরম ভক্তি-শ্রদ্ধা লইয়া উহাকে যিয়ারত করিতে আরম্ভ করে। তখন হযরত উমার ফারূক (রা) আশঙ্কা করিলেন যে, ভবিষ্যতে অজ্ঞ লোকেরা পূর্ববর্তী উম্মাতের ন্যায় এই বৃক্ষের পূজা শুরু করিয়া দিতে পারে। এই আশঙ্কায় তিনি বৃক্ষটি কাটিয়া ফেলেন। পরে সেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়। তুর্কী শাসনামলে মসজিদটি পুনঃসংস্কার করা হয়। বর্তমানে "গারদেপুশ” সড়কের পাশে মসজিদটি অবস্থিত (দা. মা. ই., উর্দু, ৭খ., পৃ. ৯৫৮)।
কিন্তু বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াতে হযরত তারিক ইব্‌ন আবদুর রহমান বলেন, আমি একবার হজ্জে যাওয়ার পথে এক জায়গায় দেখিলাম, কিছু লোক একত্র হইয়া নামায পড়িতেছে। আমি তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহা কোন মসজিদ? তাহারা বলিল, ইহা সেই বৃক্ষ, যাহার নিচে আল্লাহ্র রাসূল বায়'আতে রিদওয়ান গ্রহণ করিয়াছিলেন। আমি পরে হযরত সা'ঈদ ইবনুল মুসায়‍্যাব (র)-এর নিকট উপস্থিত হই এবং এই ঘটনা বর্ণনা করি। তিনি বলিলেন, আমার পিতা বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আমাকে বলিয়াছেন, আমরা যখন পরবর্তী বৎসর অর্থাৎ 'উমরাতুল-কাযার বৎসর মক্কায় উপস্থিত হই, তখন অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বৃক্ষটির সন্ধান পাই নাই। অতঃপর হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়‍্যাব বলিলেন, রাসলুল্লাহ (স)-এর যে সকল সাহাবী এই বায়'আতে শরীক ছিলেন তাঁহারা তো এই বৃক্ষের সন্ধান পাইলেন না, আর তুমি কিনা সেই বৃক্ষের সন্ধান জানিয়া ফেলিয়াছ? আশ্চর্যের বিষয় বটে! তুমি কি তাঁহাদের চাইতেও অধিক জ্ঞাত? (তাফসীর রূহুল মা'আনী, ১৪খ., পৃ. ১৬২)।
ইহা হইতে জানা গেল যে, পরবর্তী কালে লোকেরা নিছক অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া কোন একটি বৃক্ষকে বায়'আতে রিদওয়ানের বৃক্ষ বলিয়া নির্দিষ্ট করিয়া লইয়াছিল এবং উহার নিচে জমায়েত হইয়া নামায পড়া শুরু করিয়াছিল। হযরত উমার ফারূক (রা) জানিতেন যে, ইহা সেই বৃক্ষটি নহে। তাই ইহা সম্ভব যে, তিনি একটি ভ্রান্তি ও শিরকের আশঙ্কাবোধ করিয়া সেই বৃক্ষটিও কাটিয়া ফেলেন (তাফসীর মা'আরিফুল কুরআন, ৮খ., পৃ. ৮১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শদের দুরভিসন্ধি

📄 কুরায়শদের দুরভিসন্ধি


কুরায়শগণ ভাবিল, রাসূলুল্লাহ্ (স) ও তাঁহার সাহাবীগণ মক্কায় প্রবেশ করিবার আশায় অপ্রস্তুত অবস্থায় আছেন। এই সুযোগে তাঁহাদের অলক্ষ্যে একদল সৈন্য গিয়া আকস্মিক আক্রমণ করিয়া মুসলমানদেরকে পর্যুদস্ত করা খুব সহজ হইবে। তাই তাহারা আশিজন, মতান্তরে সত্তরজন অথবা পঞ্চাশজন সৈন্যের একটি দলকে প্রেরণ করিল। সৈন্যদল তান'ঈম পাহাড়ের পথ দিয়া হুদায়বিয়ার দিকে যাত্রা করিল। মুসলমানদের অলক্ষ্যে তাঁহাদের পিছন দিক হইতে আকস্মিক আক্রমণ করিবার উদ্দেশ্যেই তাহারা চুপে চুপে এই পথে অগ্রসর হইতেছিল। কিন্তু মুসলমানগণ অপ্রস্তুত ছিলেন না, বরং তাঁহারা শত্রুদের চোরা গোপ্তা আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সজাগ ছিলেন। কাফেলার চতুর্দিকে যথারীতি পাহারা মোতায়েন ছিল। দুরাচারগণ কাফেলার নিকটবর্তী গৌঁছামাত্রই পাহারারত বাহিনীর নেতা মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) দলবলসহ তাহাদেরকে অনায়াসেই বন্দী করিয়া ফেলিলেন। কোন কোন বর্ণনামতে এই সময় উভয় বাহিনীর মধ্যে কিছু তীর নিক্ষেপ ও পাথর ছোড়াছুড়ি হইয়াছিল। কুরায়শ বাহিনীর সকলেই বন্দী হইল। তবে তাহাদের সেনাপতি মিকরায কোনভাবে পালাইয়া যাইতে সক্ষম হইল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বন্দীদেরকে উপস্থিত করা হইলে তিনি তাহাদের সকলের অপরাধ ক্ষমা করিয়া বিনা শর্তে মুক্তি দিলেন। তাঁহার এই মহানুভবতা কুরায়শদের মধ্যে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হইল: وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ..
"তিনি মক্কা উপত্যকায় তাহাদের (কুরায়শদের) হাত তোমাদের হইতে এবং তোমাদের হাত তাহাদের হইতে ফিরাইয়া রাখিয়াছিলেন তাহাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পরও” (৪৮: ২৪; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৩)।
কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত উছমান (রা)-এর বন্দী বিনিময় হিসাবে তাহাদেরকে মুক্তি দিয়াছিলেন, ইহা সঠিক নহে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭৮)।

কুরায়শগণ ভাবিল, রাসূলুল্লাহ্ (স) ও তাঁহার সাহাবীগণ মক্কায় প্রবেশ করিবার আশায় অপ্রস্তুত অবস্থায় আছেন। এই সুযোগে তাঁহাদের অলক্ষ্যে একদল সৈন্য গিয়া আকস্মিক আক্রমণ করিয়া মুসলমানদেরকে পর্যুদস্ত করা খুব সহজ হইবে। তাই তাহারা আশিজন, মতান্তরে সত্তরজন অথবা পঞ্চাশজন সৈন্যের একটি দলকে প্রেরণ করিল। সৈন্যদল তান'ঈম পাহাড়ের পথ দিয়া হুদায়বিয়ার দিকে যাত্রা করিল। মুসলমানদের অলক্ষ্যে তাঁহাদের পিছন দিক হইতে আকস্মিক আক্রমণ করিবার উদ্দেশ্যেই তাহারা চুপে চুপে এই পথে অগ্রসর হইতেছিল। কিন্তু মুসলমানগণ অপ্রস্তুত ছিলেন না, বরং তাঁহারা শত্রুদের চোরা গোপ্তা আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সজাগ ছিলেন। কাফেলার চতুর্দিকে যথারীতি পাহারা মোতায়েন ছিল। দুরাচারগণ কাফেলার নিকটবর্তী গৌঁছামাত্রই পাহারারত বাহিনীর নেতা মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) দলবলসহ তাহাদেরকে অনায়াসেই বন্দী করিয়া ফেলিলেন। কোন কোন বর্ণনামতে এই সময় উভয় বাহিনীর মধ্যে কিছু তীর নিক্ষেপ ও পাথর ছোড়াছুড়ি হইয়াছিল। কুরায়শ বাহিনীর সকলেই বন্দী হইল। তবে তাহাদের সেনাপতি মিকরায কোনভাবে পালাইয়া যাইতে সক্ষম হইল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বন্দীদেরকে উপস্থিত করা হইলে তিনি তাহাদের সকলের অপরাধ ক্ষমা করিয়া বিনা শর্তে মুক্তি দিলেন। তাঁহার এই মহানুভবতা কুরায়শদের মধ্যে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হইল:
وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ..
"তিনি মক্কা উপত্যকায় তাহাদের (কুরায়শদের) হাত তোমাদের হইতে এবং তোমাদের হাত তাহাদের হইতে ফিরাইয়া রাখিয়াছিলেন তাহাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পরও” (৪৮: ২৪; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৩)।
কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত উছমান (রা)-এর বন্দী বিনিময় হিসাবে তাহাদেরকে মুক্তি দিয়াছিলেন, ইহা সঠিক নহে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00