📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বায়'আতে রিদওয়ান

📄 বায়'আতে রিদওয়ান


"হযরত উছমান (রা) কুরায়শদের হাতে নিহত হইয়াছেন" এই দুঃসংবাদে মুসলমানগণ অত্যন্ত মর্মাহত হইলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) একটি বাবলা গাছের ছায়ায় বসিয়া বিশ্রাম করিতেছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ উঠিয়া সাহাবীগণকে সম্বোধন করিয়া বলিসেন, উছমানের খুনের প্রতিশোধ গ্রহণ করিতেই হইবে। যতক্ষণ না তাহাদের সহিত লড়িব, এখান হইতে ফিরিয়া যাইব না। আইস, আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করিয়া মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য আল্লাহর নামে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হও”। এই কথা বলিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স) বায়'আতের জন্য লোকজনকে আহ্বান করিলেন। চৌদ্দ শত সাহাবী আওয়াজ শুনিবামাত্র চতুর্দিক হইতে ছুটিয়া আসিয়া আল্লাহ্র রাসূলকে বেষ্টন করিয়া দাঁড়াইলেন এবং তাঁহার হাতে হাত রাখিয়া জীবন উৎসর্গ করার শপথ গ্রহণ করিলেন (তাফসীর ইবন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৮)।
বায়'আতের জন্য সর্বপ্রথম হাত বাড়াইয়া দিলেন হযরত আবূ সিনান (রা)। তাঁহার প্রকৃত নাম ওয়াত্বাহ ইব্‌ন মিহসান। ইনি হইলেন প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উক্বাশা ইব্‌ন মিহসান (রা)-এর সহোদর। অবশ্য কেহ কেহ রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, সর্বপ্রথম বায়'আত গ্রহণকারী সাহাবী হইলেন হযরত সিনান ইব্‌ন আবী সিনান (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৬১)। এই শপথই ইসলামী ইতিহাসে "বায়'আতে রিদওয়ান” নামে প্রসিদ্ধ। এই সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন:
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا .
"মু'মিনগণ যখন বৃক্ষের নিচে আপনার হাতে হাত রাখিয়া বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, তখন আল্লাহ্ তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন। তিনি তাহাদের হৃদয়ে যাহা ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন। সুতরাং তিনি তাহাদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং তাহাদেরকে দিলেন আসন্ন বিজয়” (৪৮:১৮)।
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللهَ يَدُ اللهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُتُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهِ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا.
"যাহারা তোমার হাতে বায়'আত করে তাহারা তো আল্লাহ্ই হাতে বায়'আত করে। আল্লাহ্ হাত তাহাদের হাতের উপর। অতঃপর যে উহা ভঙ্গ করে, উহা ভঙ্গ করিবার পরিণাম তাহারই এবং যে আল্লাহ্র সহিত-কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তিনি অবশ্যই তাহাকে মহাপুরস্কার দেন" (৪৮:১০)।
হুদায়বিয়ায় উপস্থিত নর-নারী নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমান প্রবল উদ্দীপনার সহিত এই বায়'আতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। শুধু বানূ সালামা গোত্রের "জাদ্দ ইব্‌ন কায়স” নামক এক মুনাফিক বায়'আত গ্রহণ হইতে বিরত রহিল। জাবির (রা) বলেন, আমি জাদ্দ ইব্‌ন কায়সকে দেখিলাম সে বায়'আতের সময় একটি উটের আড়ালে আত্মগোপন করিয়া রহিয়াছে (আল্-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৬)।
হযরত জাবির (রা) আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, এই বৃক্ষের নিচে যাহারা বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করিবে, তবে লাল উটের মালিক নহে। তাঁহার এ কথার পর আমরা তালাশ করিয়া দেখিলাম এক ব্যক্তি তাহার উট হারাইয়া তাহা খোঁজ করিতেছে। আমরা তাহাকে বলিলাম, তুমি বায়'আত গ্রহণ করিয়াছ কি? সে বলিল, “বায়'আতের চাইতে আমার হারানো উট খুঁজিয়া পাওয়া আমার নিকট শ্রেয়” (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭০)।
হযরত উছমান (রা) উপস্থিত থাকিলে তিনিও নিঃসন্দেহে বায়'আতে যোগদান করিতেন। তাই রাসূলুল্লাহ্ (স) সাহাবীগণকে তাঁহার একটি হাত দেখাইয়া বলিলেন, ইহা উছমানের হাত। তৎপর এই হাতটি অপর হাতের উপর রাখিয়া হযরত উছমানের পক্ষে বায়'আত করিলেন (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮২)। হযরত উছমান (রা)-এর প্রতি আল্লাহ্র রাসূলের এতই গভীর আস্থা ছিল যে, স্বীয় হাতকে উছমানের হাত এবং স্বীয় অঙ্গীকারকে উছমানের অঙ্গীকার বলিয়া গ্রহণ করিলেন।
বায়'আতের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (স) আহ্বান জানাইলে হযরত আবূ সিনান আল-আসাদী (রা) সর্বাগ্রে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে বায়'আত করুন। আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, কিসের উপর বায়'আত করিবে? আবূ সিনান বলিলেন, আমার মনে যাহা জাগিতেছে তাহার উপর আমি বায়'আত করিব। আল্লাহর রাসূল বলিলেন, তোমার মনে কি জাগিতেছে? আবূ সিনান বলিলেন, আমার মনে জাগিতেছে, “আল্লাহ আপনাকে বিজয়ী না করা পর্যন্ত আপনার অগ্রে থাকিয়া তরবারি চালনা করিব অথবা শহীদ হইব।” রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাকে একথার উপর বায়'আত করিলে একথার উপরই বাকী সকলে বায়'আত করিলেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫২)।
হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) তিনবার বায়'আত করেনঃ একবার প্রারম্ভে, একবার মধ্যে আর একবার সর্বশেষে। হযরত মা'কিল ইব্‌ন ইয়াসার (রা) বলেন, বায়'আতের সময় রাসূলে কারীম (স) একটি বাবলা গাছের নিচে উপবিষ্ট ছিলেন। আমি পিছনে দাঁড়াইয়া গাছের ঝুলিয়া পড়া ডালাগুলি উঁচু করিয়া ধরিয়া রাখিয়াছিলাম (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৯)।

"হযরত উছমান (রা) কুরায়শদের হাতে নিহত হইয়াছেন" এই দুঃসংবাদে মুসলমানগণ অত্যন্ত মর্মাহত হইলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) একটি বাবলা গাছের ছায়ায় বসিয়া বিশ্রাম করিতেছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ উঠিয়া সাহাবীগণকে সম্বোধন করিয়া বলিসেন, উছমানের খুনের প্রতিশোধ গ্রহণ করিতেই হইবে। যতক্ষণ না তাহাদের সহিত লড়িব, এখান হইতে ফিরিয়া যাইব না। আইস, আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করিয়া মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য আল্লাহর নামে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হও”। এই কথা বলিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স) বায়'আতের জন্য লোকজনকে আহ্বান করিলেন। চৌদ্দ শত সাহাবী আওয়াজ শুনিবামাত্র চতুর্দিক হইতে ছুটিয়া আসিয়া আল্লাহ্র রাসূলকে বেষ্টন করিয়া দাঁড়াইলেন এবং তাঁহার হাতে হাত রাখিয়া জীবন উৎসর্গ করার শপথ গ্রহণ করিলেন (তাফসীর ইবন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৮)।
বায়'আতের জন্য সর্বপ্রথম হাত বাড়াইয়া দিলেন হযরত আবূ সিনান (রা)। তাঁহার প্রকৃত নাম ওয়াত্বাহ ইব্‌ন মিহসান। ইনি হইলেন প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উক্বাশা ইব্‌ন মিহসান (রা)-এর সহোদর। অবশ্য কেহ কেহ রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, সর্বপ্রথম বায়'আত গ্রহণকারী সাহাবী হইলেন হযরত সিনান ইব্‌ন আবী সিনান (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৬১)। এই শপথই ইসলামী ইতিহাসে "বায়'আতে রিদওয়ান” নামে প্রসিদ্ধ। এই সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন:
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا .
"মু'মিনগণ যখন বৃক্ষের নিচে আপনার হাতে হাত রাখিয়া বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, তখন আল্লাহ্ তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন। তিনি তাহাদের হৃদয়ে যাহা ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন। সুতরাং তিনি তাহাদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং তাহাদেরকে দিলেন আসন্ন বিজয়” (৪৮:১৮)।
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللهَ يَدُ اللهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُتُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهِ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا.
"যাহারা তোমার হাতে বায়'আত করে তাহারা তো আল্লাহ্ই হাতে বায়'আত করে। আল্লাহ্ হাত তাহাদের হাতের উপর। অতঃপর যে উহা ভঙ্গ করে, উহা ভঙ্গ করিবার পরিণাম তাহারই এবং যে আল্লাহ্র সহিত-কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তিনি অবশ্যই তাহাকে মহাপুরস্কার দেন" (৪৮:১০)।
হুদায়বিয়ায় উপস্থিত নর-নারী নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমান প্রবল উদ্দীপনার সহিত এই বায়'আতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। শুধু বানূ সালামা গোত্রের "জাদ্দ ইব্‌ন কায়স” নামক এক মুনাফিক বায়'আত গ্রহণ হইতে বিরত রহিল। জাবির (রা) বলেন, আমি জাদ্দ ইব্‌ন কায়সকে দেখিলাম সে বায়'আতের সময় একটি উটের আড়ালে আত্মগোপন করিয়া রহিয়াছে (আল্-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৬)।
হযরত জাবির (রা) আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, এই বৃক্ষের নিচে যাহারা বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করিবে, তবে লাল উটের মালিক নহে। তাঁহার এ কথার পর আমরা তালাশ করিয়া দেখিলাম এক ব্যক্তি তাহার উট হারাইয়া তাহা খোঁজ করিতেছে। আমরা তাহাকে বলিলাম, তুমি বায়'আত গ্রহণ করিয়াছ কি? সে বলিল, “বায়'আতের চাইতে আমার হারানো উট খুঁজিয়া পাওয়া আমার নিকট শ্রেয়” (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭০)।
হযরত উছমান (রা) উপস্থিত থাকিলে তিনিও নিঃসন্দেহে বায়'আতে যোগদান করিতেন। তাই রাসূলুল্লাহ্ (স) সাহাবীগণকে তাঁহার একটি হাত দেখাইয়া বলিলেন, ইহা উছমানের হাত। তৎপর এই হাতটি অপর হাতের উপর রাখিয়া হযরত উছমানের পক্ষে বায়'আত করিলেন (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮২)। হযরত উছমান (রা)-এর প্রতি আল্লাহ্র রাসূলের এতই গভীর আস্থা ছিল যে, স্বীয় হাতকে উছমানের হাত এবং স্বীয় অঙ্গীকারকে উছমানের অঙ্গীকার বলিয়া গ্রহণ করিলেন।
বায়'আতের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (স) আহ্বান জানাইলে হযরত আবূ সিনান আল-আসাদী (রা) সর্বাগ্রে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে বায়'আত করুন। আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, কিসের উপর বায়'আত করিবে? আবূ সিনান বলিলেন, আমার মনে যাহা জাগিতেছে তাহার উপর আমি বায়'আত করিব। আল্লাহর রাসূল বলিলেন, তোমার মনে কি জাগিতেছে? আবূ সিনান বলিলেন, আমার মনে জাগিতেছে, “আল্লাহ আপনাকে বিজয়ী না করা পর্যন্ত আপনার অগ্রে থাকিয়া তরবারি চালনা করিব অথবা শহীদ হইব।” রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাকে একথার উপর বায়'আত করিলে একথার উপরই বাকী সকলে বায়'আত করিলেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫২)।
হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) তিনবার বায়'আত করেনঃ একবার প্রারম্ভে, একবার মধ্যে আর একবার সর্বশেষে। হযরত মা'কিল ইব্‌ন ইয়াসার (রা) বলেন, বায়'আতের সময় রাসূলে কারীম (স) একটি বাবলা গাছের নিচে উপবিষ্ট ছিলেন। আমি পিছনে দাঁড়াইয়া গাছের ঝুলিয়া পড়া ডালাগুলি উঁচু করিয়া ধরিয়া রাখিয়াছিলাম (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের ফযীলাত

📄 বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের ফযীলাত


যাঁহারা বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছিলেন, তাঁহাদের ফযীলাত ও মর্যাদা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (স) ইরশাদ করেন:
لا يدخل احد الناران شاء الله من اصحاب الشجرة الذين بايعوا تحتها
"ইনশাআল্লাহ্! এই বৃক্ষের নিচে যাহারা বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, তাহাদের কেহই জাহান্নামে প্রবেশ করিবে না" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
একথা শুনিয়া হযরত হাফসা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছেন:
وَإِنْ مِّنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا .
"তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে। ইহা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত” (১৯: ৭১)।
সুতরাং বায়'আতে রিদওয়ানের কাহাকেও জাহান্নাম অতিক্রম করিতে হইবে না- কথাটির তাৎপর্য কি? আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা তো ইহাও বলিয়াছেন,
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا .
"অতঃপর আমি মুত্তাকীদেরকে উদ্ধার করিব” (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭০)।
হযরত জাবির (রা) রিওয়ায়াত করিয়াছেন, হযরত হাতিব (রা)-এর এক ক্রীতদাস একদা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সমীপে হাযির হইয়া হযরত হাতিব সম্বন্ধে অভিযোগ করিয়া ক্ষোভের সহিত বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! হাতিব অবশ্যই জাহান্নামে যাইবে। আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, তুমি মিথ্যা বলিতেছ। সে জাহান্নামে যাইবে না। সে তো বন্দর ও হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণ করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
যাঁহারা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর হাতে বায়'আতে রিদওয়ানে শরীক হইয়াছিলেন, তাঁহাদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহার সন্তুষ্টি ঘোষণা করিয়াছেন:
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ. "যাহারা গাছের নিচে আপনার নিকট বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, আল্লাহ্ তাঁহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন" (৪৮:১৮)।
আল্লাহ্ তাঁহাদের ইখলাস ও নিষ্ঠার সাক্ষ্য দিয়া বলিয়াছেন, فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ “তিনি তাঁহাদের অন্তরে যাহা ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন" (৪৮: ১৮)।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহাদের ঈমান ও ইয়াকীনের স্বীকৃতি দিয়াছেন, فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ "আল্লাহ্ তাহাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করিয়াছেন"। ইহাতে ইঙ্গিত রহিয়াছে যে, তাঁহারা আমৃত্যু ঈমান, ইঙ্গাস ও ইয়াকীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকিবেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৭৫)।

যাঁহারা বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য লাভ করিয়াছিলেন, তাঁহাদের ফzilaত ও মর্যাদা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (স) ইরশাদ করেন:
لا يدخل احد الناران شاء الله من اصحاب الشجرة الذين بايعوا تحتها
"ইনশাআল্লাহ্! এই বৃক্ষের নিচে যাহারা বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, তাহাদের কেহই জাহান্নামে প্রবেশ করিবে না" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
একথা শুনিয়া হযরত হাফসা (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছেন:
وَإِنْ مِّنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا.
"তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে। ইহা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত” (১৯: ৭১)।
সুতরাং বায়'আতে রিদওয়ানের কাহাকেও জাহান্নাম অতিক্রম করিতে হইবে না- কথাটির তাৎপর্য কি? আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা তো ইহাও বলিয়াছেন,
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا. "অতঃপর আমি মুত্তাকীদেরকে উদ্ধার করিব” (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭০)।
হযরত জাবির (রা) রিওয়ায়াত করিয়াছেন, হযরত হাতিব (রা)-এর এক ক্রীতদাস একদা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সমীপে হাযির হইয়া হযরত হাতিব সম্বন্ধে অভিযোগ করিয়া ক্ষোভের সহিত বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! হাতিব অবশ্যই জাহান্নামে যাইবে। আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, তুমি মিথ্যা বলিতেছ। সে জাহান্নামে যাইবে না। সে তো বন্দর ও হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণ করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
যাঁহারা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর হাতে বায়'আতে রিদওয়ানে শরীক হইয়াছিলেন, তাঁহাদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহার সন্তুষ্টি ঘোষণা করিয়াছেন:
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ. "যাহারা গাছের নিচে আপনার নিকট বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, আল্লাহ্ তাঁহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন" (৪৮:১৮)।
আল্লাহ্ তাঁহাদের ইখলাস ও নিষ্ঠার সাক্ষ্য দিয়া বলিয়াছেন, فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ “তিনি তাঁহাদের অন্তরে যাহা ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন" (৪৮: ১৮)।
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহাদের ঈমান ও ইয়াকীনের স্বীকৃতি দিয়াছেন, فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ "আল্লাহ্ তাহাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করিয়াছেন”। ইহাতে ইঙ্গিত রহিয়াছে যে, তাঁহারা আমৃত্যু ঈমান, ইঙ্গাস ও ইয়াকীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকিবেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৭৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত উছমান (রা)-এর প্রত্যাবর্তন

📄 হযরত উছমান (রা)-এর প্রত্যাবর্তন


দারুণ উদ্দীপনার মধ্য দিয়া বায়'আত সমাপ্ত হইয়া গেল। প্রচণ্ড উত্তেজনার মধ্যে সকলে আসন্ন বিপদের সম্মুখীন হইবার জন্য প্রস্তুত হইতেছেন। এমন সময় সকলেই দেখিতে পাইলেন হযরত উছমান (রা) মক্কা হইতে ফিরিয়া আসিতেছেন। তাঁহাকে নিজেদের মধ্যে পাইয়া সাহাবীগণের অশান্তি ও উদ্বেগ দূর হইল।
হযরত উছমান (রা) একাকী 'উমরাহ করিতে অস্বীকার করায় কুরায়শগণ ক্ষুব্ধ হইয়া তাঁহাকে আটক করিয়া রাখিয়াছিল। পরে যখন তাহারা শুনিতে পাইল যে, মুসলমানগণ উত্তেজিত হইয়া মরণপণ জিহাদের বায়'আত গ্রহণ করিতেছে, তখন তাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া দেয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭০)।
হযরত উছমান (রা) উপস্থিত হইলে সাহাবীগণ উৎসুক্যবশত তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি তাওয়াফ করিয়াছেন কি? তিনি বলিলেন, কুরায়শগণ আমাকে তাওয়াফ করিতে বলিয়াছিল, কিন্তু আমি তাহা করি নাই। যাঁহার হস্তে আমার জীবন, তাঁহার শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি আমাকে এক বৎসরও মক্কায় থাকিতে হইত তবুও রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে ছাড়িয়া আমি একা কখনও তাওয়াফ করিতে রাযী হইতাম না (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৬৯)।

দারুণ উদ্দীপনার মধ্য দিয়া বায়'আত সমাপ্ত হইয়া গেল। প্রচণ্ড উত্তেজনার মধ্যে সকলে আসন্ন বিপদের সম্মুখীন হইবার জন্য প্রস্তুত হইতেছেন। এমন সময় সকলেই দেখিতে পাইলেন হযরত উছমান (রা) মক্কা হইতে ফিরিয়া আসিতেছেন। তাঁহাকে নিজেদের মধ্যে পাইয়া সাহাবীগণের অশান্তি ও উদ্বেগ দূর হইল।
হযরত উছমান (রা) একাকী 'উমরাহ করিতে অস্বীকার করায় কুরায়শগণ ক্ষুব্ধ হইয়া তাঁহাকে আটক করিয়া রাখিয়াছিল। পরে যখন তাহারা শুনিতে পাইল যে, মুসলমানগণ উত্তেজিত হইয়া মরণপণ জিহাদের বায়'আত গ্রহণ করিতেছে, তখন তাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া দেয় (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৭০)।
হযরত উছমান (রা) উপস্থিত হইলে সাহাবীগণ উৎসুক্যবশত তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি তাওয়াফ করিয়াছেন কি? তিনি বলিলেন, কুরায়শগণ আমাকে তাওয়াফ করিতে বলিয়াছিল, কিন্তু আমি তাহা করি নাই। যাঁহার হস্তে আমার জীবন, তাঁহার শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি আমাকে এক বৎসরও মক্কায় থাকিতে হইত তবুও রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে ছাড়িয়া আমি একা কখনও তাওয়াফ করিতে রাযী হইতাম না (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৬৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বায়'আতে রিদওয়ানের সেই বৃক্ষটি

📄 বায়'আতে রিদওয়ানের সেই বৃক্ষটি


যেই বৃক্ষের নিচে "বায়'আতে রিদওয়ান” অনুষ্ঠিত হয় উহা ছিল একটি বাবলা বৃক্ষ। রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর ওফাতের পর কিছু লোক সেখানে গমন করিতে এবং পরম ভক্তি-শ্রদ্ধা লইয়া উহাকে যিয়ারত করিতে আরম্ভ করে। তখন হযরত উমার ফারূক (রা) আশঙ্কা করিলেন যে, ভবিষ্যতে অজ্ঞ লোকেরা পূর্ববর্তী উম্মাতের ন্যায় এই বৃক্ষের পূজা শুরু করিয়া দিতে পারে। এই আশঙ্কায় তিনি বৃক্ষটি কাটিয়া ফেলেন। পরে সেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়। তুর্কী শাসনামলে মসজিদটি পুনঃসংস্কার করা হয়। বর্তমানে "গারদেপুশ” সড়কের পাশে মসজিদটি অবস্থিত (দা. মা. ই., উর্দু, ৭খ., পৃ. ৯৫৮)।
কিন্তু বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াতে হযরত তারিক ইব্‌ন আবদুর রহমান বলেন, আমি একবার হজ্জে যাওয়ার পথে এক জায়গায় দেখিলাম, কিছু লোক একত্র হইয়া নামায পড়িতেছে। আমি তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহা কোন মসজিদ? তাহারা বলিল, ইহা সেই বৃক্ষ, যাহার নিচে আল্লাহ্র রাসূল বায়'আতে রিদওয়ান গ্রহণ করিয়াছিলেন। আমি পরে হযরত সা'ঈদ ইবনুল মুসায়‍্যাব (র)-এর নিকট উপস্থিত হই এবং এই ঘটনা বর্ণনা করি। তিনি বলিলেন, আমার পিতা বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আমাকে বলিয়াছেন, আমরা যখন পরবর্তী বৎসর অর্থাৎ 'উমরাতুল-কাযার বৎসর মক্কায় উপস্থিত হই, তখন অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বৃক্ষটির সন্ধান পাই নাই। অতঃপর হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়‍্যাব বলিলেন, রাসলুল্লাহ (স)-এর যে সকল সাহাবী এই বায়'আতে শরীক ছিলেন তাঁহারা তো এই বৃক্ষের সন্ধান পাইলেন না, আর তুমি কিনা সেই বৃক্ষের সন্ধান জানিয়া ফেলিয়াছ? আশ্চর্যের বিষয় বটে! তুমি কি তাঁহাদের চাইতেও অধিক জ্ঞাত? (তাফসীর রূহুল মা'আনী, ১৪খ., পৃ. ১৬২)।
ইহা হইতে জানা গেল যে, পরবর্তী কালে লোকেরা নিছক অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া কোন একটি বৃক্ষকে বায়'আতে রিদওয়ানের বৃক্ষ বলিয়া নির্দিষ্ট করিয়া লইয়াছিল এবং উহার নিচে জমায়েত হইয়া নামায পড়া শুরু করিয়াছিল। হযরত উমার ফারূক (রা) জানিতেন যে, ইহা সেই বৃক্ষটি নহে। তাই ইহা সম্ভব যে, তিনি একটি ভ্রান্তি ও শিরকের আশঙ্কাবোধ করিয়া সেই বৃক্ষটিও কাটিয়া ফেলেন (তাফসীর মা'আরিফুল কুরআন, ৮খ., পৃ. ৮১)।

যেই বৃক্ষের নিচে "বায়'আতে রিদওয়ান” অনুষ্ঠিত হয় উহা ছিল একটি বাবলা বৃক্ষ। রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর ওফাতের পর কিছু লোক সেখানে গমন করিতে এবং পরম ভক্তি-শ্রদ্ধা লইয়া উহাকে যিয়ারত করিতে আরম্ভ করে। তখন হযরত উমার ফারূক (রা) আশঙ্কা করিলেন যে, ভবিষ্যতে অজ্ঞ লোকেরা পূর্ববর্তী উম্মাতের ন্যায় এই বৃক্ষের পূজা শুরু করিয়া দিতে পারে। এই আশঙ্কায় তিনি বৃক্ষটি কাটিয়া ফেলেন। পরে সেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়। তুর্কী শাসনামলে মসজিদটি পুনঃসংস্কার করা হয়। বর্তমানে "গারদেপুশ” সড়কের পাশে মসজিদটি অবস্থিত (দা. মা. ই., উর্দু, ৭খ., পৃ. ৯৫৮)।
কিন্তু বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াতে হযরত তারিক ইব্‌ন আবদুর রহমান বলেন, আমি একবার হজ্জে যাওয়ার পথে এক জায়গায় দেখিলাম, কিছু লোক একত্র হইয়া নামায পড়িতেছে। আমি তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহা কোন মসজিদ? তাহারা বলিল, ইহা সেই বৃক্ষ, যাহার নিচে আল্লাহ্র রাসূল বায়'আতে রিদওয়ান গ্রহণ করিয়াছিলেন। আমি পরে হযরত সা'ঈদ ইবনুল মুসায়‍্যাব (র)-এর নিকট উপস্থিত হই এবং এই ঘটনা বর্ণনা করি। তিনি বলিলেন, আমার পিতা বায়'আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আমাকে বলিয়াছেন, আমরা যখন পরবর্তী বৎসর অর্থাৎ 'উমরাতুল-কাযার বৎসর মক্কায় উপস্থিত হই, তখন অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বৃক্ষটির সন্ধান পাই নাই। অতঃপর হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়‍্যাব বলিলেন, রাসলুল্লাহ (স)-এর যে সকল সাহাবী এই বায়'আতে শরীক ছিলেন তাঁহারা তো এই বৃক্ষের সন্ধান পাইলেন না, আর তুমি কিনা সেই বৃক্ষের সন্ধান জানিয়া ফেলিয়াছ? আশ্চর্যের বিষয় বটে! তুমি কি তাঁহাদের চাইতেও অধিক জ্ঞাত? (তাফসীর রূহুল মা'আনী, ১৪খ., পৃ. ১৬২)।
ইহা হইতে জানা গেল যে, পরবর্তী কালে লোকেরা নিছক অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া কোন একটি বৃক্ষকে বায়'আতে রিদওয়ানের বৃক্ষ বলিয়া নির্দিষ্ট করিয়া লইয়াছিল এবং উহার নিচে জমায়েত হইয়া নামায পড়া শুরু করিয়াছিল। হযরত উমার ফারূক (রা) জানিতেন যে, ইহা সেই বৃক্ষটি নহে। তাই ইহা সম্ভব যে, তিনি একটি ভ্রান্তি ও শিরকের আশঙ্কাবোধ করিয়া সেই বৃক্ষটিও কাটিয়া ফেলেন (তাফসীর মা'আরিফুল কুরআন, ৮খ., পৃ. ৮১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00