📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর কয়েকটি মু'জিযা

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর কয়েকটি মু'জিযা


১. রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পানি নিঃশেষ হওয়ার সংবাদ পাইয়া নিজের তীরদান হইতে একটি তীর বাহির করিয়া তাহাদের হাতে দিয়া বলিলেন: তীরটি উক্ত কূপের ভিতর নিক্ষেপ কর। ইবন ইসহাক রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, হযরত নাজিয়া ইব্‌ন জুনদুব (রা) তীরটি লইয়া কূপের ভিতর অবতরণ করেন এবং তাহা গাড়িয়া দেন। কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, এই সাহাবী হইলেন হযরত বারাআ ইব্‌ন আযিব (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)। তীর গাড়িয়া দেওয়ামাত্র পানিতে কূপ পরিপূর্ণ হইয়া গেল। তাঁহারা নিজেরা পান করিলেন, পশুদিগকে পান করাইলেন। যতদিন তাঁহারা সেখানে ছিলেন ততদিন পর্যন্ত এই পানি তাঁহারা ব্যবহার করিয়াছিলেন। কিন্তু কূপের পানি আর কখনও কমে নাই (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮০; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৫)।
২. হুদায়বিয়ার যাত্রাপথে এক স্থানে কাফেলার উযূ ও খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিল। একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট একটি চামড়ার পাত্রে সামান্য পানি ছিল। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে তাহাদের পানির অভাবের কথা জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার হাত পাত্রের ভিতরে প্রবেশ করাইলেন। আর তখনই তাঁহার আঙ্গুলসমূহের ফাঁক হইতে ঝর্ণার মত পানি উৎসারিত হইয়া প্রবাহিত হইতে লাগিল। জাবির (রা) বলেন, আমরা সেদিন প্রায় পনর শত লোক ছিলাম, সকলেই তৃপ্তিসহকারে পানি পান করিলাম এবং আমাদের উযু, গোসল ও অন্যান্য প্রয়োজন মিটাইলাম। এক লক্ষ লোক হইলেও ঐ পানিতে তাহাদের প্রয়োজন মিটিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
৩. পথিমধ্যে আরেক স্থানে কাফেলা তাঁবু গাড়িল। সেখানে প্রায় পানিশূন্য একটি কূপ ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পাড়ে বসিয়া উযু করিলেন এবং কুলি করিয়া উহার পানি কূপের ভিতরে ফেলিলেন। তৎক্ষণাৎ কূপটির তলদেশ হইতে এত প্রচুর পানি উৎসারিত হইতে লাগিল যে, সাহাবীগণ উহার পাড়ে বসিয়াই সরাসরি হাতে পানি উঠাইয়া লইতে সক্ষম হইলেন, বালতির প্রয়োজন হইল না (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৫; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৮)।

১. রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পানি নিঃশেষ হওয়ার সংবাদ পাইয়া নিজের তীরদান হইতে একটি তীর বাহির করিয়া তাহাদের হাতে দিয়া বলিলেন: তীরটি উক্ত কূপের ভিতর নিক্ষেপ কর। ইবন ইসহাক রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, হযরত নাজিয়া ইব্‌ন জুনদুব (রা) তীরটি লইয়া কূপের ভিতর অবতরণ করেন এবং তাহা গাড়িয়া দেন। কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, এই সাহাবী হইলেন হযরত বারাআ ইব্‌ন আযিব (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)। তীর গাড়িয়া দেওয়ামাত্র পানিতে কূপ পরিপূর্ণ হইয়া গেল। তাঁহারা নিজেরা পান করিলেন, পশুদিগকে পান করাইলেন। যতদিন তাঁহারা সেখানে ছিলেন ততদিন পর্যন্ত এই পানি তাঁহারা ব্যবহার করিয়াছিলেন। কিন্তু কূপের পানি আর কখনও কমে নাই (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮০; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৫)।
২. হুদায়বিয়ার যাত্রাপথে এক স্থানে কাফেলার উযূ ও খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিল। একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট একটি চামড়ার পাত্রে সামান্য পানি ছিল। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে তাহাদের পানির অভাবের কথা জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার হাত পাত্রের ভিতরে প্রবেশ করাইলেন। আর তখনই তাঁহার আঙ্গুলসমূহের ফাঁক হইতে ঝর্ণার মত পানি উৎসারিত হইয়া প্রবাহিত হইতে লাগিল। জাবির (রা) বলেন, আমরা সেদিন প্রায় পনর শত লোক ছিলাম, সকলেই তৃপ্তিসহকারে পানি পান করিলাম এবং আমাদের উযু, গোসল ও অন্যান্য প্রয়োজন মিটাইলাম। এক লক্ষ লোক হইলেও ঐ পানিতে তাহাদের প্রয়োজন মিটিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
৩. পথিমধ্যে আরেক স্থানে কাফেলা তাঁবু গাড়িল। সেখানে প্রায় পানিশূন্য একটি কূপ ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পাড়ে বসিয়া উযু করিলেন এবং কুলি করিয়া উহার পানি কূপের ভিতরে ফেলিলেন। তৎক্ষণাৎ কূপটির তলদেশ হইতে এত প্রচুর পানি উৎসারিত হইতে লাগিল যে, সাহাবীগণ উহার পাড়ে বসিয়াই সরাসরি হাতে পানি উঠাইয়া লইতে সক্ষম হইলেন, বালতির প্রয়োজন হইল না (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৫; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শদের নিকট দূত প্রেরণ

📄 কুরায়শদের নিকট দূত প্রেরণ


হুদায়বিয়ায় তাঁবু গাড়িয়া অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত খিরাশ ইবন উমায়‍্যা (রা)-কে দূতরূপে কুরায়শদের নিকট প্রেরণ করেন। তাঁহার নিদর্শনস্বরূপ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সা'লাব নামক উটটিতে তাহাকে আরোহণ করান। তিনি খিরাশকে বলিলেন, তুমি আমার পক্ষ হইতে মক্কাবাসীদেরকে বল, "আমরা শুধু 'উমরাহ পালনের উদ্দেশে আসিয়াছি, যুদ্ধ করিতে আসি নাই।" কিন্তু দূত মক্কায় পৌঁছিতেই ইকরিমা ইব্‌ন আবূ জাহল উটের পা কাটিয়া দিল এবং দূতকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল। তবে কুরায়শদেরই কিছু লোকের বাধায় দূত প্রাণে রক্ষা পাইলেন এবং হুদায়বিয়ায় ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৫; সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫০)।

হুদায়বিয়ায় তাঁবু গাড়িয়া অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত খিরাশ ইবন উমায়‍্যা (রা)-কে দূতরূপে কুরায়শদের নিকট প্রেরণ করেন। তাঁহার নিদর্শনস্বরূপ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সা'লাব নামক উটটিতে তাহাকে আরোহণ করান। তিনি খিরাশকে বলিলেন, তুমি আমার পক্ষ হইতে মক্কাবাসীদেরকে বল, "আমরা শুধু 'উমরাহ পালনের উদ্দেশে আসিয়াছি, যুদ্ধ করিতে আসি নাই। কিন্তু দূত মক্কায় পৌঁছিতেই ইকরিমা ইব্‌ন আবূ জাহল উটের পা কাটিয়া দিল এবং দূতকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল। তবে কুরায়শদেরই কিছু লোকের বাধায় দূত প্রাণে রক্ষা পাইলেন এবং হুদায়বিয়ায় ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৫; সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত উছমান (রা)-কে মক্কায় প্রেরণ

📄 হযরত উছমান (রা)-কে মক্কায় প্রেরণ


ইহার পরও রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার আগমনের উদ্দেশ্য কুরায়শদেরকে অবহিত করার জন্য একজন বিশিষ্ট সাহাবীকে সক্কায় প্রেরণ করার সংকল্প করিলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি হযরত উমার (রা)-কে পাঠাইবার ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! মক্কায় বনী আদিয়্যি ইব্‌ন কা'ব গোত্রের এমন একটি লোকও নাই যাহারা আমাকে কুরায়শদের আক্রোশ হইতে রক্ষা করিতে আগাইয়া আসিতে পারে। আপনি বরং উছমান ইব্‌ন আফ্ফান (রা)-কে পাঠাইতে পারেন। কেননা সেখানে তাঁহার গোটা খান্দানই বর্তমান রহিয়াছে। তিনি বার্তা বহনের দায়িত্ব বেশ ভালভাবেই আঞ্জাম দিতে পারিবেন। তাঁহার এই পরামর্শ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর মনঃপূত হইল। তিনি হযরত উছমান (রা)-কে ডাকিয়া বলিলেন, "তুমি মক্কায় যাও। কুরায়শদেরকে বল, আমরা যুদ্ধ করার জন্য আসি নাই। আমরা একমাত্র 'উমরাহ-এর উদ্দেশ্যে আসিয়াছি। আর মক্কার দুর্বল ও পীড়িত লোকদেরকে বলিও, শীঘ্রই মক্কা নগরীতে ইসলামের অপ্রতিহত প্রভাব বিস্তার লাভ করিবে। তোমরা আর কিছু দিন ধৈর্য ধারণ কর।"
হযরত উছমান (রা) মক্কার উদ্দেশে রওয়ানা হইয়া গেলেন। পথে তাঁহার সহিত আবান ইবন সাঈদ নামক জনৈক পূর্ব-পরিচিত মক্কাবাসীর সাক্ষাত হইল। আবান তাঁহার নিরাপত্তার দায়িত্বভার গ্রহণ করিয়া তাঁহাকে স্বীয় অশ্বের পৃষ্ঠে বসাইয়া মক্কায় লইয়া গেল। তিনি মক্কায় পৌঁছিয়া কুরায়শ নেতা আবু সুফ্যান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পয়গাম শুনাইলেন। তাহারা বলিল, "আমরা মুহাম্মাদকে মক্কায় প্রবেশ করিতে দিব না। হে উছমান! যদি তোমার তাওয়াফ করিবার স্পৃহা থাকে তবে তুমি তওয়াফ করিয়া লও।” উছমান (রা) বলিলেন, "রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে ছাড়িয়া আমি একা তাওয়াফ করিব, ইহা কখনও হইতে পারে না।” তৎপর কুরায়শগণ হযরত উছমান (রা)-কে মক্কায় আটক করিয়া রাখিল। তাহারা তিন দিন পর্যন্ত তাঁহাকে আটক করিয়া রাখিল। তাঁহার প্রত্যাবর্তনে বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া কাফেলার মুসলমানগণ পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, সম্ভবত হযরত উছমান আমাদেরকে রাখিয়াই তাওয়াফ করিতেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "আমরা এখানে বাধাগ্রস্ত। আর সে আমাদের রাখিয়া তাওয়াফ করিবে বলিয়া মনে হয় না"। তাঁহার ফিরিতে অধিক বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া সকলেই চিন্তিত হইয়া পড়িলেন। ইতোমধ্যে গুজব রটিয়া গেল যে, হযরত উছমান (রা) কুরায়শদের হাতে নিহত হইয়াছেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮৩)।

ইহার পরও রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার আগমনের উদ্দেশ্য কুরায়শদেরকে অবহিত করার জন্য একজন বিশিষ্ট সাহাবীকে সক্কায় প্রেরণ করার সংকল্প করিলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি হযরত উমার (রা)-কে পাঠাইবার ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! মক্কায় বনী আদিয়্যি ইব্‌ন কা'ব গোত্রের এমন একটি লোকও নাই যাহারা আমাকে কুরায়শদের আক্রোশ হইতে রক্ষা করিতে আগাইয়া আসিতে পারে। আপনি বরং উছমান ইব্‌ন আফ্ফান (রা)-কে পাঠাইতে পারেন। কেননা সেখানে তাঁহার গোটা খান্দানই বর্তমান রহিয়াছে। তিনি বার্তা বহনের দায়িত্ব বেশ ভালভাবেই আঞ্জাম দিতে পারিবেন। তাঁহার এই পরামর্শ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর মনঃপূত হইল। তিনি হযরত উছমান (রা)-কে ডাকিয়া বলিলেন, "তুমি মক্কায় যাও। কুরায়শদেরকে বল, আমরা যুদ্ধ করার জন্য আসি নাই। আমরা একমাত্র 'উমরাহ-এর উদ্দেশ্যে আসিয়াছি। আর মক্কার দুর্বল ও পীড়িত লোকদেরকে বলিও, শীঘ্রই মক্কা নগরীতে ইসলামের অপ্রতিহত প্রভাব বিস্তার লাভ করিবে। তোমরা আর কিছু দিন ধৈর্য ধারণ কর।"
হযরত উছমান (রা) মক্কার উদ্দেশে রওয়ানা হইয়া গেলেন। পথে তাঁহার সহিত আবান ইবন সাঈদ নামক জনৈক পূর্ব-পরিচিত মক্কাবাসীর সাক্ষাত হইল। আবান তাঁহার নিরাপত্তার দায়িত্বভার গ্রহণ করিয়া তাঁহাকে স্বীয় অশ্বের পৃষ্ঠে বসাইয়া মক্কায় লইয়া গেল। তিনি মক্কায় পৌঁছিয়া কুরায়শ নেতা আবু সুফ্যান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পয়গাম শুনাইলেন। তাহারা বলিল, "আমরা মুহাম্মাদকে মক্কায় প্রবেশ করিতে দিব না। হে উছমান! যদি তোমার তাওয়াফ করিবার স্পৃহা থাকে তবে তুমি তওয়াফ করিয়া লও।" উছমান (রা) বলিলেন, "রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে ছাড়িয়া আমি একা তাওয়াফ করিব, ইহা কখনও হইতে পারে না।" তৎপর কুরায়শগণ হযরত উছমান (রা)-কে মক্কায় আটক করিয়া রাখিল। তাহারা তিন দিন পর্যন্ত তাঁহাকে আটক করিয়া রাখিল। তাঁহার প্রত্যাবর্তনে বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া কাফেলার মুসলমানগণ পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, সম্ভবত হযরত উছমান আমাদেরকে রাখিয়াই তাওয়াফ করিতেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "আমরা এখানে বাধাগ্রস্ত। আর সে আমাদের রাখিয়া তাওয়াফ করিবে বলিয়া মনে হয় না"। তাঁহার ফিরিতে অধিক বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া সকলেই চিন্তিত হইয়া পড়িলেন। ইতোমধ্যে গুজব রটিয়া গেল যে, হযরত উছমান (রা) কুরায়শদের হাতে নিহত হইয়াছেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বায়'আতে রিদওয়ান

📄 বায়'আতে রিদওয়ান


"হযরত উছমান (রা) কুরায়শদের হাতে নিহত হইয়াছেন" এই দুঃসংবাদে মুসলমানগণ অত্যন্ত মর্মাহত হইলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) একটি বাবলা গাছের ছায়ায় বসিয়া বিশ্রাম করিতেছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ উঠিয়া সাহাবীগণকে সম্বোধন করিয়া বলিসেন, উছমানের খুনের প্রতিশোধ গ্রহণ করিতেই হইবে। যতক্ষণ না তাহাদের সহিত লড়িব, এখান হইতে ফিরিয়া যাইব না। আইস, আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করিয়া মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য আল্লাহর নামে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হও”। এই কথা বলিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স) বায়'আতের জন্য লোকজনকে আহ্বান করিলেন। চৌদ্দ শত সাহাবী আওয়াজ শুনিবামাত্র চতুর্দিক হইতে ছুটিয়া আসিয়া আল্লাহ্র রাসূলকে বেষ্টন করিয়া দাঁড়াইলেন এবং তাঁহার হাতে হাত রাখিয়া জীবন উৎসর্গ করার শপথ গ্রহণ করিলেন (তাফসীর ইবন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৮)।
বায়'আতের জন্য সর্বপ্রথম হাত বাড়াইয়া দিলেন হযরত আবূ সিনান (রা)। তাঁহার প্রকৃত নাম ওয়াত্বাহ ইব্‌ন মিহসান। ইনি হইলেন প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উক্বাশা ইব্‌ন মিহসান (রা)-এর সহোদর। অবশ্য কেহ কেহ রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, সর্বপ্রথম বায়'আত গ্রহণকারী সাহাবী হইলেন হযরত সিনান ইব্‌ন আবী সিনান (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৬১)। এই শপথই ইসলামী ইতিহাসে "বায়'আতে রিদওয়ান” নামে প্রসিদ্ধ। এই সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন:
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا .
"মু'মিনগণ যখন বৃক্ষের নিচে আপনার হাতে হাত রাখিয়া বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, তখন আল্লাহ্ তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন। তিনি তাহাদের হৃদয়ে যাহা ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন। সুতরাং তিনি তাহাদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং তাহাদেরকে দিলেন আসন্ন বিজয়” (৪৮:১৮)।
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللهَ يَدُ اللهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُتُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهِ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا.
"যাহারা তোমার হাতে বায়'আত করে তাহারা তো আল্লাহ্ই হাতে বায়'আত করে। আল্লাহ্ হাত তাহাদের হাতের উপর। অতঃপর যে উহা ভঙ্গ করে, উহা ভঙ্গ করিবার পরিণাম তাহারই এবং যে আল্লাহ্র সহিত-কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তিনি অবশ্যই তাহাকে মহাপুরস্কার দেন" (৪৮:১০)।
হুদায়বিয়ায় উপস্থিত নর-নারী নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমান প্রবল উদ্দীপনার সহিত এই বায়'আতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। শুধু বানূ সালামা গোত্রের "জাদ্দ ইব্‌ন কায়স” নামক এক মুনাফিক বায়'আত গ্রহণ হইতে বিরত রহিল। জাবির (রা) বলেন, আমি জাদ্দ ইব্‌ন কায়সকে দেখিলাম সে বায়'আতের সময় একটি উটের আড়ালে আত্মগোপন করিয়া রহিয়াছে (আল্-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৬)।
হযরত জাবির (রা) আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, এই বৃক্ষের নিচে যাহারা বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করিবে, তবে লাল উটের মালিক নহে। তাঁহার এ কথার পর আমরা তালাশ করিয়া দেখিলাম এক ব্যক্তি তাহার উট হারাইয়া তাহা খোঁজ করিতেছে। আমরা তাহাকে বলিলাম, তুমি বায়'আত গ্রহণ করিয়াছ কি? সে বলিল, “বায়'আতের চাইতে আমার হারানো উট খুঁজিয়া পাওয়া আমার নিকট শ্রেয়” (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭০)।
হযরত উছমান (রা) উপস্থিত থাকিলে তিনিও নিঃসন্দেহে বায়'আতে যোগদান করিতেন। তাই রাসূলুল্লাহ্ (স) সাহাবীগণকে তাঁহার একটি হাত দেখাইয়া বলিলেন, ইহা উছমানের হাত। তৎপর এই হাতটি অপর হাতের উপর রাখিয়া হযরত উছমানের পক্ষে বায়'আত করিলেন (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮২)। হযরত উছমান (রা)-এর প্রতি আল্লাহ্র রাসূলের এতই গভীর আস্থা ছিল যে, স্বীয় হাতকে উছমানের হাত এবং স্বীয় অঙ্গীকারকে উছমানের অঙ্গীকার বলিয়া গ্রহণ করিলেন।
বায়'আতের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (স) আহ্বান জানাইলে হযরত আবূ সিনান আল-আসাদী (রা) সর্বাগ্রে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে বায়'আত করুন। আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, কিসের উপর বায়'আত করিবে? আবূ সিনান বলিলেন, আমার মনে যাহা জাগিতেছে তাহার উপর আমি বায়'আত করিব। আল্লাহর রাসূল বলিলেন, তোমার মনে কি জাগিতেছে? আবূ সিনান বলিলেন, আমার মনে জাগিতেছে, “আল্লাহ আপনাকে বিজয়ী না করা পর্যন্ত আপনার অগ্রে থাকিয়া তরবারি চালনা করিব অথবা শহীদ হইব।” রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাকে একথার উপর বায়'আত করিলে একথার উপরই বাকী সকলে বায়'আত করিলেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫২)।
হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) তিনবার বায়'আত করেনঃ একবার প্রারম্ভে, একবার মধ্যে আর একবার সর্বশেষে। হযরত মা'কিল ইব্‌ন ইয়াসার (রা) বলেন, বায়'আতের সময় রাসূলে কারীম (স) একটি বাবলা গাছের নিচে উপবিষ্ট ছিলেন। আমি পিছনে দাঁড়াইয়া গাছের ঝুলিয়া পড়া ডালাগুলি উঁচু করিয়া ধরিয়া রাখিয়াছিলাম (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৯)।

"হযরত উছমান (রা) কুরায়শদের হাতে নিহত হইয়াছেন" এই দুঃসংবাদে মুসলমানগণ অত্যন্ত মর্মাহত হইলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) একটি বাবলা গাছের ছায়ায় বসিয়া বিশ্রাম করিতেছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ উঠিয়া সাহাবীগণকে সম্বোধন করিয়া বলিসেন, উছমানের খুনের প্রতিশোধ গ্রহণ করিতেই হইবে। যতক্ষণ না তাহাদের সহিত লড়িব, এখান হইতে ফিরিয়া যাইব না। আইস, আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করিয়া মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য আল্লাহর নামে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হও”। এই কথা বলিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স) বায়'আতের জন্য লোকজনকে আহ্বান করিলেন। চৌদ্দ শত সাহাবী আওয়াজ শুনিবামাত্র চতুর্দিক হইতে ছুটিয়া আসিয়া আল্লাহ্র রাসূলকে বেষ্টন করিয়া দাঁড়াইলেন এবং তাঁহার হাতে হাত রাখিয়া জীবন উৎসর্গ করার শপথ গ্রহণ করিলেন (তাফসীর ইবন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৮)।
বায়'আতের জন্য সর্বপ্রথম হাত বাড়াইয়া দিলেন হযরত আবূ সিনান (রা)। তাঁহার প্রকৃত নাম ওয়াত্বাহ ইব্‌ন মিহসান। ইনি হইলেন প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উক্বাশা ইব্‌ন মিহসান (রা)-এর সহোদর। অবশ্য কেহ কেহ রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, সর্বপ্রথম বায়'আত গ্রহণকারী সাহাবী হইলেন হযরত সিনান ইব্‌ন আবী সিনান (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৬১)। এই শপথই ইসলামী ইতিহাসে "বায়'আতে রিদওয়ান” নামে প্রসিদ্ধ। এই সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন:
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا .
"মু'মিনগণ যখন বৃক্ষের নিচে আপনার হাতে হাত রাখিয়া বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে, তখন আল্লাহ্ তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন। তিনি তাহাদের হৃদয়ে যাহা ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন। সুতরাং তিনি তাহাদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং তাহাদেরকে দিলেন আসন্ন বিজয়” (৪৮:১৮)।
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللهَ يَدُ اللهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُتُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهِ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا.
"যাহারা তোমার হাতে বায়'আত করে তাহারা তো আল্লাহ্ই হাতে বায়'আত করে। আল্লাহ্ হাত তাহাদের হাতের উপর। অতঃপর যে উহা ভঙ্গ করে, উহা ভঙ্গ করিবার পরিণাম তাহারই এবং যে আল্লাহ্র সহিত-কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তিনি অবশ্যই তাহাকে মহাপুরস্কার দেন" (৪৮:১০)।
হুদায়বিয়ায় উপস্থিত নর-নারী নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমান প্রবল উদ্দীপনার সহিত এই বায়'আতে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। শুধু বানূ সালামা গোত্রের "জাদ্দ ইব্‌ন কায়স” নামক এক মুনাফিক বায়'আত গ্রহণ হইতে বিরত রহিল। জাবির (রা) বলেন, আমি জাদ্দ ইব্‌ন কায়সকে দেখিলাম সে বায়'আতের সময় একটি উটের আড়ালে আত্মগোপন করিয়া রহিয়াছে (আল্-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৬)।
হযরত জাবির (রা) আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, এই বৃক্ষের নিচে যাহারা বায়'আত গ্রহণ করিয়াছে সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করিবে, তবে লাল উটের মালিক নহে। তাঁহার এ কথার পর আমরা তালাশ করিয়া দেখিলাম এক ব্যক্তি তাহার উট হারাইয়া তাহা খোঁজ করিতেছে। আমরা তাহাকে বলিলাম, তুমি বায়'আত গ্রহণ করিয়াছ কি? সে বলিল, “বায়'আতের চাইতে আমার হারানো উট খুঁজিয়া পাওয়া আমার নিকট শ্রেয়” (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭০)।
হযরত উছমান (রা) উপস্থিত থাকিলে তিনিও নিঃসন্দেহে বায়'আতে যোগদান করিতেন। তাই রাসূলুল্লাহ্ (স) সাহাবীগণকে তাঁহার একটি হাত দেখাইয়া বলিলেন, ইহা উছমানের হাত। তৎপর এই হাতটি অপর হাতের উপর রাখিয়া হযরত উছমানের পক্ষে বায়'আত করিলেন (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮২)। হযরত উছমান (রা)-এর প্রতি আল্লাহ্র রাসূলের এতই গভীর আস্থা ছিল যে, স্বীয় হাতকে উছমানের হাত এবং স্বীয় অঙ্গীকারকে উছমানের অঙ্গীকার বলিয়া গ্রহণ করিলেন।
বায়'আতের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (স) আহ্বান জানাইলে হযরত আবূ সিনান আল-আসাদী (রা) সর্বাগ্রে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে বায়'আত করুন। আল্লাহ্র রাসূল বলিলেন, কিসের উপর বায়'আত করিবে? আবূ সিনান বলিলেন, আমার মনে যাহা জাগিতেছে তাহার উপর আমি বায়'আত করিব। আল্লাহর রাসূল বলিলেন, তোমার মনে কি জাগিতেছে? আবূ সিনান বলিলেন, আমার মনে জাগিতেছে, “আল্লাহ আপনাকে বিজয়ী না করা পর্যন্ত আপনার অগ্রে থাকিয়া তরবারি চালনা করিব অথবা শহীদ হইব।” রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাকে একথার উপর বায়'আত করিলে একথার উপরই বাকী সকলে বায়'আত করিলেন (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫২)।
হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) তিনবার বায়'আত করেনঃ একবার প্রারম্ভে, একবার মধ্যে আর একবার সর্বশেষে। হযরত মা'কিল ইব্‌ন ইয়াসার (রা) বলেন, বায়'আতের সময় রাসূলে কারীম (স) একটি বাবলা গাছের নিচে উপবিষ্ট ছিলেন। আমি পিছনে দাঁড়াইয়া গাছের ঝুলিয়া পড়া ডালাগুলি উঁচু করিয়া ধরিয়া রাখিয়াছিলাম (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00