📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হুদায়বিয়ায় অবতরণ

📄 হুদায়বিয়ায় অবতরণ


উটটি চলিতে চলিতে হুদাবিয়ার শেষ প্রান্তে আসিয়া পানির একটি অগভীর কূপের নিকট বসিয়া পড়িল। কূপটিতে যৎসামান্য পানি ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কাস্তয়া হইতে অবতরণ করিয়া তাঁবু গাড়িলেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করিয়া সাহাবীগণ পিপাসায় কাতর হইয়া পড়িয়াছেন। কূপ হইতে পানি উঠাইয়া তাঁহারা পিপাসা নিবারণ করিতে লাগিলেন। কিন্তু প্রথমে যাঁহারা পৌঁছিলেন তাঁহারা পানি উঠাইবার পরই কূপের পানি নিঃশেষ হইয়া গেল। অবশিষ্ট সাহাবীগণ পিপাসায় কাতর হইয়া অস্থির হইয়া গেলেন।

উটটি চলিতে চলিতে হুদাবিয়ার শেষ প্রান্তে আসিয়া পানির একটি অগভীর কূপের নিকট বসিয়া পড়িল। কূপটিতে যৎসামান্য পানি ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কাস্তয়া হইতে অবতরণ করিয়া তাঁবু গাড়িলেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করিয়া সাহাবীগণ পিপাসায় কাতর হইয়া পড়িয়াছেন। কূপ হইতে পানি উঠাইয়া তাঁহারা পিপাসা নিবারণ করিতে লাগিলেন। কিন্তু প্রথমে যাঁহারা পৌঁছিলেন তাঁহারা পানি উঠাইবার পরই কূপের পানি নিঃশেষ হইয়া গেল। অবশিষ্ট সাহাবীগণ পিপাসায় কাতর হইয়া অস্থির হইয়া গেলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর কয়েকটি মু'জিযা

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর কয়েকটি মু'জিযা


১. রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পানি নিঃশেষ হওয়ার সংবাদ পাইয়া নিজের তীরদান হইতে একটি তীর বাহির করিয়া তাহাদের হাতে দিয়া বলিলেন: তীরটি উক্ত কূপের ভিতর নিক্ষেপ কর। ইবন ইসহাক রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, হযরত নাজিয়া ইব্‌ন জুনদুব (রা) তীরটি লইয়া কূপের ভিতর অবতরণ করেন এবং তাহা গাড়িয়া দেন। কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, এই সাহাবী হইলেন হযরত বারাআ ইব্‌ন আযিব (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)। তীর গাড়িয়া দেওয়ামাত্র পানিতে কূপ পরিপূর্ণ হইয়া গেল। তাঁহারা নিজেরা পান করিলেন, পশুদিগকে পান করাইলেন। যতদিন তাঁহারা সেখানে ছিলেন ততদিন পর্যন্ত এই পানি তাঁহারা ব্যবহার করিয়াছিলেন। কিন্তু কূপের পানি আর কখনও কমে নাই (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮০; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৫)।
২. হুদায়বিয়ার যাত্রাপথে এক স্থানে কাফেলার উযূ ও খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিল। একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট একটি চামড়ার পাত্রে সামান্য পানি ছিল। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে তাহাদের পানির অভাবের কথা জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার হাত পাত্রের ভিতরে প্রবেশ করাইলেন। আর তখনই তাঁহার আঙ্গুলসমূহের ফাঁক হইতে ঝর্ণার মত পানি উৎসারিত হইয়া প্রবাহিত হইতে লাগিল। জাবির (রা) বলেন, আমরা সেদিন প্রায় পনর শত লোক ছিলাম, সকলেই তৃপ্তিসহকারে পানি পান করিলাম এবং আমাদের উযু, গোসল ও অন্যান্য প্রয়োজন মিটাইলাম। এক লক্ষ লোক হইলেও ঐ পানিতে তাহাদের প্রয়োজন মিটিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
৩. পথিমধ্যে আরেক স্থানে কাফেলা তাঁবু গাড়িল। সেখানে প্রায় পানিশূন্য একটি কূপ ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পাড়ে বসিয়া উযু করিলেন এবং কুলি করিয়া উহার পানি কূপের ভিতরে ফেলিলেন। তৎক্ষণাৎ কূপটির তলদেশ হইতে এত প্রচুর পানি উৎসারিত হইতে লাগিল যে, সাহাবীগণ উহার পাড়ে বসিয়াই সরাসরি হাতে পানি উঠাইয়া লইতে সক্ষম হইলেন, বালতির প্রয়োজন হইল না (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৫; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৮)।

১. রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পানি নিঃশেষ হওয়ার সংবাদ পাইয়া নিজের তীরদান হইতে একটি তীর বাহির করিয়া তাহাদের হাতে দিয়া বলিলেন: তীরটি উক্ত কূপের ভিতর নিক্ষেপ কর। ইবন ইসহাক রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, হযরত নাজিয়া ইব্‌ন জুনদুব (রা) তীরটি লইয়া কূপের ভিতর অবতরণ করেন এবং তাহা গাড়িয়া দেন। কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, এই সাহাবী হইলেন হযরত বারাআ ইব্‌ন আযিব (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)। তীর গাড়িয়া দেওয়ামাত্র পানিতে কূপ পরিপূর্ণ হইয়া গেল। তাঁহারা নিজেরা পান করিলেন, পশুদিগকে পান করাইলেন। যতদিন তাঁহারা সেখানে ছিলেন ততদিন পর্যন্ত এই পানি তাঁহারা ব্যবহার করিয়াছিলেন। কিন্তু কূপের পানি আর কখনও কমে নাই (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮০; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৫)।
২. হুদায়বিয়ার যাত্রাপথে এক স্থানে কাফেলার উযূ ও খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিল। একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট একটি চামড়ার পাত্রে সামান্য পানি ছিল। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে তাহাদের পানির অভাবের কথা জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার হাত পাত্রের ভিতরে প্রবেশ করাইলেন। আর তখনই তাঁহার আঙ্গুলসমূহের ফাঁক হইতে ঝর্ণার মত পানি উৎসারিত হইয়া প্রবাহিত হইতে লাগিল। জাবির (রা) বলেন, আমরা সেদিন প্রায় পনর শত লোক ছিলাম, সকলেই তৃপ্তিসহকারে পানি পান করিলাম এবং আমাদের উযু, গোসল ও অন্যান্য প্রয়োজন মিটাইলাম। এক লক্ষ লোক হইলেও ঐ পানিতে তাহাদের প্রয়োজন মিটিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
৩. পথিমধ্যে আরেক স্থানে কাফেলা তাঁবু গাড়িল। সেখানে প্রায় পানিশূন্য একটি কূপ ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পাড়ে বসিয়া উযু করিলেন এবং কুলি করিয়া উহার পানি কূপের ভিতরে ফেলিলেন। তৎক্ষণাৎ কূপটির তলদেশ হইতে এত প্রচুর পানি উৎসারিত হইতে লাগিল যে, সাহাবীগণ উহার পাড়ে বসিয়াই সরাসরি হাতে পানি উঠাইয়া লইতে সক্ষম হইলেন, বালতির প্রয়োজন হইল না (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৫; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শদের নিকট দূত প্রেরণ

📄 কুরায়শদের নিকট দূত প্রেরণ


হুদায়বিয়ায় তাঁবু গাড়িয়া অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত খিরাশ ইবন উমায়‍্যা (রা)-কে দূতরূপে কুরায়শদের নিকট প্রেরণ করেন। তাঁহার নিদর্শনস্বরূপ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সা'লাব নামক উটটিতে তাহাকে আরোহণ করান। তিনি খিরাশকে বলিলেন, তুমি আমার পক্ষ হইতে মক্কাবাসীদেরকে বল, "আমরা শুধু 'উমরাহ পালনের উদ্দেশে আসিয়াছি, যুদ্ধ করিতে আসি নাই।" কিন্তু দূত মক্কায় পৌঁছিতেই ইকরিমা ইব্‌ন আবূ জাহল উটের পা কাটিয়া দিল এবং দূতকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল। তবে কুরায়শদেরই কিছু লোকের বাধায় দূত প্রাণে রক্ষা পাইলেন এবং হুদায়বিয়ায় ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৫; সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫০)।

হুদায়বিয়ায় তাঁবু গাড়িয়া অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত খিরাশ ইবন উমায়‍্যা (রা)-কে দূতরূপে কুরায়শদের নিকট প্রেরণ করেন। তাঁহার নিদর্শনস্বরূপ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সা'লাব নামক উটটিতে তাহাকে আরোহণ করান। তিনি খিরাশকে বলিলেন, তুমি আমার পক্ষ হইতে মক্কাবাসীদেরকে বল, "আমরা শুধু 'উমরাহ পালনের উদ্দেশে আসিয়াছি, যুদ্ধ করিতে আসি নাই। কিন্তু দূত মক্কায় পৌঁছিতেই ইকরিমা ইব্‌ন আবূ জাহল উটের পা কাটিয়া দিল এবং দূতকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল। তবে কুরায়শদেরই কিছু লোকের বাধায় দূত প্রাণে রক্ষা পাইলেন এবং হুদায়বিয়ায় ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৫; সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত উছমান (রা)-কে মক্কায় প্রেরণ

📄 হযরত উছমান (রা)-কে মক্কায় প্রেরণ


ইহার পরও রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার আগমনের উদ্দেশ্য কুরায়শদেরকে অবহিত করার জন্য একজন বিশিষ্ট সাহাবীকে সক্কায় প্রেরণ করার সংকল্প করিলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি হযরত উমার (রা)-কে পাঠাইবার ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! মক্কায় বনী আদিয়্যি ইব্‌ন কা'ব গোত্রের এমন একটি লোকও নাই যাহারা আমাকে কুরায়শদের আক্রোশ হইতে রক্ষা করিতে আগাইয়া আসিতে পারে। আপনি বরং উছমান ইব্‌ন আফ্ফান (রা)-কে পাঠাইতে পারেন। কেননা সেখানে তাঁহার গোটা খান্দানই বর্তমান রহিয়াছে। তিনি বার্তা বহনের দায়িত্ব বেশ ভালভাবেই আঞ্জাম দিতে পারিবেন। তাঁহার এই পরামর্শ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর মনঃপূত হইল। তিনি হযরত উছমান (রা)-কে ডাকিয়া বলিলেন, "তুমি মক্কায় যাও। কুরায়শদেরকে বল, আমরা যুদ্ধ করার জন্য আসি নাই। আমরা একমাত্র 'উমরাহ-এর উদ্দেশ্যে আসিয়াছি। আর মক্কার দুর্বল ও পীড়িত লোকদেরকে বলিও, শীঘ্রই মক্কা নগরীতে ইসলামের অপ্রতিহত প্রভাব বিস্তার লাভ করিবে। তোমরা আর কিছু দিন ধৈর্য ধারণ কর।"
হযরত উছমান (রা) মক্কার উদ্দেশে রওয়ানা হইয়া গেলেন। পথে তাঁহার সহিত আবান ইবন সাঈদ নামক জনৈক পূর্ব-পরিচিত মক্কাবাসীর সাক্ষাত হইল। আবান তাঁহার নিরাপত্তার দায়িত্বভার গ্রহণ করিয়া তাঁহাকে স্বীয় অশ্বের পৃষ্ঠে বসাইয়া মক্কায় লইয়া গেল। তিনি মক্কায় পৌঁছিয়া কুরায়শ নেতা আবু সুফ্যান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পয়গাম শুনাইলেন। তাহারা বলিল, "আমরা মুহাম্মাদকে মক্কায় প্রবেশ করিতে দিব না। হে উছমান! যদি তোমার তাওয়াফ করিবার স্পৃহা থাকে তবে তুমি তওয়াফ করিয়া লও।” উছমান (রা) বলিলেন, "রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে ছাড়িয়া আমি একা তাওয়াফ করিব, ইহা কখনও হইতে পারে না।” তৎপর কুরায়শগণ হযরত উছমান (রা)-কে মক্কায় আটক করিয়া রাখিল। তাহারা তিন দিন পর্যন্ত তাঁহাকে আটক করিয়া রাখিল। তাঁহার প্রত্যাবর্তনে বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া কাফেলার মুসলমানগণ পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, সম্ভবত হযরত উছমান আমাদেরকে রাখিয়াই তাওয়াফ করিতেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "আমরা এখানে বাধাগ্রস্ত। আর সে আমাদের রাখিয়া তাওয়াফ করিবে বলিয়া মনে হয় না"। তাঁহার ফিরিতে অধিক বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া সকলেই চিন্তিত হইয়া পড়িলেন। ইতোমধ্যে গুজব রটিয়া গেল যে, হযরত উছমান (রা) কুরায়শদের হাতে নিহত হইয়াছেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮৩)।

ইহার পরও রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার আগমনের উদ্দেশ্য কুরায়শদেরকে অবহিত করার জন্য একজন বিশিষ্ট সাহাবীকে সক্কায় প্রেরণ করার সংকল্প করিলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি হযরত উমার (রা)-কে পাঠাইবার ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! মক্কায় বনী আদিয়্যি ইব্‌ন কা'ব গোত্রের এমন একটি লোকও নাই যাহারা আমাকে কুরায়শদের আক্রোশ হইতে রক্ষা করিতে আগাইয়া আসিতে পারে। আপনি বরং উছমান ইব্‌ন আফ্ফান (রা)-কে পাঠাইতে পারেন। কেননা সেখানে তাঁহার গোটা খান্দানই বর্তমান রহিয়াছে। তিনি বার্তা বহনের দায়িত্ব বেশ ভালভাবেই আঞ্জাম দিতে পারিবেন। তাঁহার এই পরামর্শ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর মনঃপূত হইল। তিনি হযরত উছমান (রা)-কে ডাকিয়া বলিলেন, "তুমি মক্কায় যাও। কুরায়শদেরকে বল, আমরা যুদ্ধ করার জন্য আসি নাই। আমরা একমাত্র 'উমরাহ-এর উদ্দেশ্যে আসিয়াছি। আর মক্কার দুর্বল ও পীড়িত লোকদেরকে বলিও, শীঘ্রই মক্কা নগরীতে ইসলামের অপ্রতিহত প্রভাব বিস্তার লাভ করিবে। তোমরা আর কিছু দিন ধৈর্য ধারণ কর।"
হযরত উছমান (রা) মক্কার উদ্দেশে রওয়ানা হইয়া গেলেন। পথে তাঁহার সহিত আবান ইবন সাঈদ নামক জনৈক পূর্ব-পরিচিত মক্কাবাসীর সাক্ষাত হইল। আবান তাঁহার নিরাপত্তার দায়িত্বভার গ্রহণ করিয়া তাঁহাকে স্বীয় অশ্বের পৃষ্ঠে বসাইয়া মক্কায় লইয়া গেল। তিনি মক্কায় পৌঁছিয়া কুরায়শ নেতা আবু সুফ্যান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পয়গাম শুনাইলেন। তাহারা বলিল, "আমরা মুহাম্মাদকে মক্কায় প্রবেশ করিতে দিব না। হে উছমান! যদি তোমার তাওয়াফ করিবার স্পৃহা থাকে তবে তুমি তওয়াফ করিয়া লও।" উছমান (রা) বলিলেন, "রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে ছাড়িয়া আমি একা তাওয়াফ করিব, ইহা কখনও হইতে পারে না।" তৎপর কুরায়শগণ হযরত উছমান (রা)-কে মক্কায় আটক করিয়া রাখিল। তাহারা তিন দিন পর্যন্ত তাঁহাকে আটক করিয়া রাখিল। তাঁহার প্রত্যাবর্তনে বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া কাফেলার মুসলমানগণ পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, সম্ভবত হযরত উছমান আমাদেরকে রাখিয়াই তাওয়াফ করিতেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "আমরা এখানে বাধাগ্রস্ত। আর সে আমাদের রাখিয়া তাওয়াফ করিবে বলিয়া মনে হয় না"। তাঁহার ফিরিতে অধিক বিলম্ব হইতেছে দেখিয়া সকলেই চিন্তিত হইয়া পড়িলেন। ইতোমধ্যে গুজব রটিয়া গেল যে, হযরত উছমান (রা) কুরায়শদের হাতে নিহত হইয়াছেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00