📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উট বসিয়া পড়িল

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উট বসিয়া পড়িল


সানিয়াতুল মিরার হইতে যখন রাসূলুল্লাহ্ (স) সামনে অগ্রসর হইতে চাহিলেন, তখন তাঁহার কাস্তয়া নামক উটটি বসিয়া পড়িল। সাহাবীগণ উটটিকে উঠাইবার জন্য নানাবিধ চেষ্টা চালাইলেন,, কিন্তু কোন ফল হইল না। শেষ পর্যন্ত সাহাবীগণ বলিতে শুরু করিলেন, উটটি বাঁকিয়া বসিয়াছে, "উটটি ক্লান্ত ও অবসন্ন হইয়া পড়িয়াছে।" রাসূলুল্লাহ্ (স) সকলের ধারণা নাকচ করিয়া বলিলেন: 'কাওয়া' বাঁকিয়া বসে নাই, বাঁকিয়া বসা তাহার অভ্যাস নহে। যিনি আসহাবে ফীলের হাতীগুলিকে বাধা দিয়াছিলেন, তিনিই কাসওয়ার গতিরোধ করিয়াছেন। অর্থাৎ কোনক্রমেই যেন পবিত্র কা'বাঘরের মর্যাদাহানি না ঘটে, তৎপ্রতি লক্ষ্য করিয়াই সে আল্লাহর হুকুমে কা'বার দিকে অগ্রসর হইতে অসম্মতি প্রকাশার্থে বসিয়া পড়িয়াছে। অতঃপর তিনি বলিলেন: "আল্লাহ্র কসম! যাহাতে যুদ্ধ-সংঘাত না ঘটে এবং কা'বার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে, তৎসম্পর্কে তাহারা যে কোন শর্ত পেশ করে, আমি তাহা মানিয়া লইতে প্রস্তুত আছি।” এই কথা বলিয়া তিনি উটটিকে উঠাইবার চেষ্টা করিলেন। তৎক্ষণাৎ উটটি উঠিয়া দাঁড়াইল এবং পথ চলা শুরু করিল, তবে ইহার গতিপথ পরিবর্তন করিয়া হুদায়বিয়ার দিকে চলিল। সাহাবীগণ ইহার অনুগমন করিলেন।

সানিয়াতুল মিরার হইতে যখন রাসূলুল্লাহ্ (স) সামনে অগ্রসর হইতে চাহিলেন, তখন তাঁহার কাস্তয়া নামক উটটি বসিয়া পড়িল। সাহাবীগণ উটটিকে উঠাইবার জন্য নানাবিধ চেষ্টা চালাইলেন,, কিন্তু কোন ফল হইল না। শেষ পর্যন্ত সাহাবীগণ বলিতে শুরু করিলেন, উটটি বাঁকিয়া বসিয়াছে, "উটটি ক্লান্ত ও অবসন্ন হইয়া পড়িয়াছে।" রাসূলুল্লাহ্ (স) সকলের ধারণা নাকচ করিয়া বলিলেন: 'কাওয়া' বাঁকিয়া বসে নাই, বাঁকিয়া বসা তাহার অভ্যাস নহে। যিনি আসহাবে ফীলের হাতীগুলিকে বাধা দিয়াছিলেন, তিনিই কাসওয়ার গতিরোধ করিয়াছেন। অর্থাৎ কোনক্রমেই যেন পবিত্র কা'বাঘরের মর্যাদাহানি না ঘটে, তৎপ্রতি লক্ষ্য করিয়াই সে আল্লাহর হুকুমে কা'বার দিকে অগ্রসর হইতে অসম্মতি প্রকাশার্থে বসিয়া পড়িয়াছে। অতঃপর তিনি বলিলেন: "আল্লাহ্র কসম! যাহাতে যুদ্ধ-সংঘাত না ঘটে এবং কা'বার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে, তৎসম্পর্কে তাহারা যে কোন শর্ত পেশ করে, আমি তাহা মানিয়া লইতে প্রস্তুত আছি।" এই কথা বলিয়া তিনি উটটিকে উঠাইবার চেষ্টা করিলেন। তৎক্ষণাৎ উটটি উঠিয়া দাঁড়াইল এবং পথ চলা শুরু করিল, তবে ইহার গতিপথ পরিবর্তন করিয়া হুদায়বিয়ার দিকে চলিল। সাহাবীগণ ইহার অনুগমন করিলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হুদায়বিয়ায় অবতরণ

📄 হুদায়বিয়ায় অবতরণ


উটটি চলিতে চলিতে হুদাবিয়ার শেষ প্রান্তে আসিয়া পানির একটি অগভীর কূপের নিকট বসিয়া পড়িল। কূপটিতে যৎসামান্য পানি ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কাস্তয়া হইতে অবতরণ করিয়া তাঁবু গাড়িলেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করিয়া সাহাবীগণ পিপাসায় কাতর হইয়া পড়িয়াছেন। কূপ হইতে পানি উঠাইয়া তাঁহারা পিপাসা নিবারণ করিতে লাগিলেন। কিন্তু প্রথমে যাঁহারা পৌঁছিলেন তাঁহারা পানি উঠাইবার পরই কূপের পানি নিঃশেষ হইয়া গেল। অবশিষ্ট সাহাবীগণ পিপাসায় কাতর হইয়া অস্থির হইয়া গেলেন।

উটটি চলিতে চলিতে হুদাবিয়ার শেষ প্রান্তে আসিয়া পানির একটি অগভীর কূপের নিকট বসিয়া পড়িল। কূপটিতে যৎসামান্য পানি ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কাস্তয়া হইতে অবতরণ করিয়া তাঁবু গাড়িলেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করিয়া সাহাবীগণ পিপাসায় কাতর হইয়া পড়িয়াছেন। কূপ হইতে পানি উঠাইয়া তাঁহারা পিপাসা নিবারণ করিতে লাগিলেন। কিন্তু প্রথমে যাঁহারা পৌঁছিলেন তাঁহারা পানি উঠাইবার পরই কূপের পানি নিঃশেষ হইয়া গেল। অবশিষ্ট সাহাবীগণ পিপাসায় কাতর হইয়া অস্থির হইয়া গেলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর কয়েকটি মু'জিযা

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর কয়েকটি মু'জিযা


১. রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পানি নিঃশেষ হওয়ার সংবাদ পাইয়া নিজের তীরদান হইতে একটি তীর বাহির করিয়া তাহাদের হাতে দিয়া বলিলেন: তীরটি উক্ত কূপের ভিতর নিক্ষেপ কর। ইবন ইসহাক রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, হযরত নাজিয়া ইব্‌ন জুনদুব (রা) তীরটি লইয়া কূপের ভিতর অবতরণ করেন এবং তাহা গাড়িয়া দেন। কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, এই সাহাবী হইলেন হযরত বারাআ ইব্‌ন আযিব (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)। তীর গাড়িয়া দেওয়ামাত্র পানিতে কূপ পরিপূর্ণ হইয়া গেল। তাঁহারা নিজেরা পান করিলেন, পশুদিগকে পান করাইলেন। যতদিন তাঁহারা সেখানে ছিলেন ততদিন পর্যন্ত এই পানি তাঁহারা ব্যবহার করিয়াছিলেন। কিন্তু কূপের পানি আর কখনও কমে নাই (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮০; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৫)।
২. হুদায়বিয়ার যাত্রাপথে এক স্থানে কাফেলার উযূ ও খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিল। একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট একটি চামড়ার পাত্রে সামান্য পানি ছিল। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে তাহাদের পানির অভাবের কথা জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার হাত পাত্রের ভিতরে প্রবেশ করাইলেন। আর তখনই তাঁহার আঙ্গুলসমূহের ফাঁক হইতে ঝর্ণার মত পানি উৎসারিত হইয়া প্রবাহিত হইতে লাগিল। জাবির (রা) বলেন, আমরা সেদিন প্রায় পনর শত লোক ছিলাম, সকলেই তৃপ্তিসহকারে পানি পান করিলাম এবং আমাদের উযু, গোসল ও অন্যান্য প্রয়োজন মিটাইলাম। এক লক্ষ লোক হইলেও ঐ পানিতে তাহাদের প্রয়োজন মিটিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
৩. পথিমধ্যে আরেক স্থানে কাফেলা তাঁবু গাড়িল। সেখানে প্রায় পানিশূন্য একটি কূপ ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পাড়ে বসিয়া উযু করিলেন এবং কুলি করিয়া উহার পানি কূপের ভিতরে ফেলিলেন। তৎক্ষণাৎ কূপটির তলদেশ হইতে এত প্রচুর পানি উৎসারিত হইতে লাগিল যে, সাহাবীগণ উহার পাড়ে বসিয়াই সরাসরি হাতে পানি উঠাইয়া লইতে সক্ষম হইলেন, বালতির প্রয়োজন হইল না (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৫; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৮)।

১. রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পানি নিঃশেষ হওয়ার সংবাদ পাইয়া নিজের তীরদান হইতে একটি তীর বাহির করিয়া তাহাদের হাতে দিয়া বলিলেন: তীরটি উক্ত কূপের ভিতর নিক্ষেপ কর। ইবন ইসহাক রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, হযরত নাজিয়া ইব্‌ন জুনদুব (রা) তীরটি লইয়া কূপের ভিতর অবতরণ করেন এবং তাহা গাড়িয়া দেন। কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, এই সাহাবী হইলেন হযরত বারাআ ইব্‌ন আযিব (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)। তীর গাড়িয়া দেওয়ামাত্র পানিতে কূপ পরিপূর্ণ হইয়া গেল। তাঁহারা নিজেরা পান করিলেন, পশুদিগকে পান করাইলেন। যতদিন তাঁহারা সেখানে ছিলেন ততদিন পর্যন্ত এই পানি তাঁহারা ব্যবহার করিয়াছিলেন। কিন্তু কূপের পানি আর কখনও কমে নাই (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৮০; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৭৫)।
২. হুদায়বিয়ার যাত্রাপথে এক স্থানে কাফেলার উযূ ও খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিল। একমাত্র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট একটি চামড়ার পাত্রে সামান্য পানি ছিল। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে তাহাদের পানির অভাবের কথা জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার হাত পাত্রের ভিতরে প্রবেশ করাইলেন। আর তখনই তাঁহার আঙ্গুলসমূহের ফাঁক হইতে ঝর্ণার মত পানি উৎসারিত হইয়া প্রবাহিত হইতে লাগিল। জাবির (রা) বলেন, আমরা সেদিন প্রায় পনর শত লোক ছিলাম, সকলেই তৃপ্তিসহকারে পানি পান করিলাম এবং আমাদের উযু, গোসল ও অন্যান্য প্রয়োজন মিটাইলাম। এক লক্ষ লোক হইলেও ঐ পানিতে তাহাদের প্রয়োজন মিটিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৯)।
৩. পথিমধ্যে আরেক স্থানে কাফেলা তাঁবু গাড়িল। সেখানে প্রায় পানিশূন্য একটি কূপ ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) কূপের পাড়ে বসিয়া উযু করিলেন এবং কুলি করিয়া উহার পানি কূপের ভিতরে ফেলিলেন। তৎক্ষণাৎ কূপটির তলদেশ হইতে এত প্রচুর পানি উৎসারিত হইতে লাগিল যে, সাহাবীগণ উহার পাড়ে বসিয়াই সরাসরি হাতে পানি উঠাইয়া লইতে সক্ষম হইলেন, বালতির প্রয়োজন হইল না (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৬৫; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শদের নিকট দূত প্রেরণ

📄 কুরায়শদের নিকট দূত প্রেরণ


হুদায়বিয়ায় তাঁবু গাড়িয়া অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত খিরাশ ইবন উমায়‍্যা (রা)-কে দূতরূপে কুরায়শদের নিকট প্রেরণ করেন। তাঁহার নিদর্শনস্বরূপ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সা'লাব নামক উটটিতে তাহাকে আরোহণ করান। তিনি খিরাশকে বলিলেন, তুমি আমার পক্ষ হইতে মক্কাবাসীদেরকে বল, "আমরা শুধু 'উমরাহ পালনের উদ্দেশে আসিয়াছি, যুদ্ধ করিতে আসি নাই।" কিন্তু দূত মক্কায় পৌঁছিতেই ইকরিমা ইব্‌ন আবূ জাহল উটের পা কাটিয়া দিল এবং দূতকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল। তবে কুরায়শদেরই কিছু লোকের বাধায় দূত প্রাণে রক্ষা পাইলেন এবং হুদায়বিয়ায় ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৫; সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫০)।

হুদায়বিয়ায় তাঁবু গাড়িয়া অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত খিরাশ ইবন উমায়‍্যা (রা)-কে দূতরূপে কুরায়শদের নিকট প্রেরণ করেন। তাঁহার নিদর্শনস্বরূপ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সা'লাব নামক উটটিতে তাহাকে আরোহণ করান। তিনি খিরাশকে বলিলেন, তুমি আমার পক্ষ হইতে মক্কাবাসীদেরকে বল, "আমরা শুধু 'উমরাহ পালনের উদ্দেশে আসিয়াছি, যুদ্ধ করিতে আসি নাই। কিন্তু দূত মক্কায় পৌঁছিতেই ইকরিমা ইব্‌ন আবূ জাহল উটের পা কাটিয়া দিল এবং দূতকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল। তবে কুরায়শদেরই কিছু লোকের বাধায় দূত প্রাণে রক্ষা পাইলেন এবং হুদায়বিয়ায় ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৫; সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৫০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00