📄 সাহাবীগণের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স)-এর পরামর্শ
রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবীগণের সহিত পরামর্শ করিলেন, এখন আমাদের কী কর। উচিৎ? আমরা কি ঐ সকল গোত্রগুলির বসতি আক্রমণ করিব, যাহারা কুরায়শদের সহযোগিতা করার জন্য বাহির হইয়াছে? ইহা হইলে তাহারা বিক্ষিপ্ত হইয়া প্রতিরোধ হইতে পশ্চাদপদ হইতে পারে। অথবা আমরা মক্কাভিমুখে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখিব, কেহ প্রতিরোধে আগাইয়া আসিলে তাহাকে প্রতিহত করিব? তোমরা পরামর্শ দাও, এই দুইটির কোন পথ আমরা অবলম্বন করিব? হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) বলিলেন, আমরা যুদ্ধ করিতে আসি নাই। কিন্তু যদি কেহ আমাদেরকে কা'বাগৃহে গমন করিতে বাধা প্রদান করে, তবে নিশ্চয় আমরা তাহার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিব। রাসূলুল্লাহ্ (স) অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখিবার সিদ্ধান্ত দিয়া বলিলেন, খালিদের সৈন্যদল কুরাউল গামীমে আমাদের অপেক্ষা করিতেছে। কাজেই সোজা পথে না গিয়া শত্রুদের চোখ এড়াইয়া ডানদিকে পথ চল। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কে আছে আমাদেরকে নিরাপদ রাস্তায় পথ দেখাইয়া মক্কায় লইয়া যাইবে? বানু আসলাম গোত্রের এক লোক বলিল, আমি প্রস্তুত আছি (আল্-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)।
রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবীগণের সহিত পরামর্শ করিলেন, এখন আমাদের কী কর। উচিৎ? আমরা কি ঐ সকল গোত্রগুলির বসতি আক্রমণ করিব, যাহারা কুরায়শদের সহযোগিতা করার জন্য বাহির হইয়াছে? ইহা হইলে তাহারা বিক্ষিপ্ত হইয়া প্রতিরোধ হইতে পশ্চাদপদ হইতে পারে। অথবা আমরা মক্কাভিমুখে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখিব, কেহ প্রতিরোধে আগাইয়া আসিলে তাহাকে প্রতিহত করিব? তোমরা পরামর্শ দাও, এই দুইটির কোন পথ আমরা অবলম্বন করিব? হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) বলিলেন, আমরা যুদ্ধ করিতে আসি নাই। কিন্তু যদি কেহ আমাদেরকে কা'বাগৃহে গমন করিতে বাধা প্রদান করে, তবে নিশ্চয় আমরা তাহার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিব। রাসূলুল্লাহ্ (স) অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখিবার সিদ্ধান্ত দিয়া বলিলেন, খালিদের সৈন্যদল কুরাউল গামীমে আমাদের অপেক্ষা করিতেছে। কাজেই সোজা পথে না গিয়া শত্রুদের চোখ এড়াইয়া ডানদিকে পথ চল। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কে আছে আমাদেরকে নিরাপদ রাস্তায় পথ দেখাইয়া মক্কায় লইয়া যাইবে? বানু আসলাম গোত্রের এক লোক বলিল, আমি প্রস্তুত আছি (আল্-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)।
📄 মক্কাভিমুখে পুনযাত্রা
বানু আসলাম গোত্রের রাহবার দুর্গম আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথে কাফেলা লইয়া অগ্রসর হইল। দুর্গম শিলাময় গিরিপথে চলিতে সাহাবা-ই কিরামের চরম কষ্ট হইতেছিল। বেশ কিছু সময় পথ চলার পর তাঁহারা একটি প্রান্তরের শেষ সীমান্তে আসিয়া একটি সমতল ভূমিতে উপনীত হইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, তোমরা বল, 'আস্তাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ, ওয়া আতুবু ইলায়হি' (আমরা আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাহিতেছি এবং তাঁহার নিকট তওবা করিতেছি)। তিনি আরও বলিলেন, বনী ইসরাঈলকে ইহা পাঠ করিতে বলা হইলে তাহারা ইহা পাঠ করে নাই (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৮৪)।
কাফেলা মক্কাভিমুখে চলিতেছে। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, তোমরা হাম্সকে পশ্চাতে রাখিয়া ছানিয়াতুল মিরার-এর দিকে অগ্রসর হও। ইহা ছিল হুদায়বিয়ার অবতরণভূমি, মক্কার নিম্নদেশে অবস্থিত। কুরায়শগণ যখন দেখিল, মুসলমানগণ রাজপথ ছাড়িয়া গিরিপথে মক্কাভিমুখে অগ্রসর হইতেছেন, তখন তাহারা দ্রুত মক্কায় ফিরিয়া গেল যাহাতে মুসলমানগণ মক্কায় প্রবেশ করিতে চাহিলে তাহারা প্রতিরোধ করিতে পারে।
বানু আসলাম গোত্রের রাহবার দুর্গম আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথে কাফেলা লইয়া অগ্রসর হইল। দুর্গম শিলাময় গিরিপথে চলিতে সাহাবা-ই কিরামের চরম কষ্ট হইতেছিল। বেশ কিছু সময় পথ চলার পর তাঁহারা একটি প্রান্তরের শেষ সীমান্তে আসিয়া একটি সমতল ভূমিতে উপনীত হইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, তোমরা বল, 'আস্তাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ, ওয়া আতুবু ইলায়হি' (আমরা আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাহিতেছি এবং তাঁহার নিকট তওবা করিতেছি)। তিনি আরও বলিলেন, বনী ইসরাঈলকে ইহা পাঠ করিতে বলা হইলে তাহারা ইহা পাঠ করে নাই (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৮৪)।
কাফেলা মক্কাভিমুখে চলিতেছে। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, তোমরা হাম্সকে পশ্চাতে রাখিয়া ছানিয়াতুল মিরার-এর দিকে অগ্রসর হও। ইহা ছিল হুদায়বিয়ার অবতরণভূমি, মক্কার নিম্নদেশে অবস্থিত। কুরায়শগণ যখন দেখিল, মুসলমানগণ রাজপথ ছাড়িয়া গিরিপথে মক্কাভিমুখে অগ্রসর হইতেছেন, তখন তাহারা দ্রুত মক্কায় ফিরিয়া গেল যাহাতে মুসলমানগণ মক্কায় প্রবেশ করিতে চাহিলে তাহারা প্রতিরোধ করিতে পারে।
📄 সালাতুল খাওফ আদায়
রাসূলুল্লাহ্ (স) ছানিয়াতুল মিরার-এ অবস্থানকালে যুহরের নামাযের সময় হইল। তিনি সাহাবীগণকে সাথে লইয়া জামাআতে নামায আদায় করিলেন। ইকরিমা ও খালিদের নেতৃত্বাধীন কুরায়শ বাহিনী বিষয়টি লক্ষ্য করিল এবং পরবর্তী নামায আদায়কালে মুসলমানদের উপর আকস্মিক আক্রমণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করিল। কিন্তু আসরের নামাযের পূর্বেই আল্লাহ তা'আলা হযরত জিবরাঈল (আ)-কে প্রেরণ করিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে কাফিরদের এই দুরভিসন্ধির কথা অবহিত করিলেন এবং সালাতুল খাওফের নির্দেশ নাযিল করিলেন:
وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلوةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةً مِّنْهُمْ مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِنْ وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِدْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُوْنَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَامْتَعَتِكُمْ فَيَمِيلُوْنَ عَلَيْكُمْ ميله واحدةً.
"তুমি যখন তাহাদের মধ্যে অবস্থান করিবে ও তাহাদের সহিত নামায আদায় করিবে, তখন তাহাদের একদল তোমার সহিত যেন নামাযে দাঁড়ায় এবং তাহারা যেন সশস্ত্র থাকে। তাহাদের সিজদা করা হইলে তাহারা যেন তোমাদের গিছনে অবস্থান করে। আর অপর একদল যাহারা নামাযে শরীক হয় নাই, তাহারা তোমার সহিত যেন নামাযে শরীক হয় এবং তাহারা যেন সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে। কাফিরগণ কামনা করে যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক যাহাতে তাহারা তোমাদের উপর একেবারে ঝাঁপাইয়া পড়িতে পারে (৪:১০২)।
এই বিধান নাযিল হইলে রাসূলুল্লাহ্ (স) আসরের নামায উক্ত পদ্ধতিতে আদায় করেন। ফলে কাফিরদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হইয়া যায় (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৮২)।
ইব্ন কাছীর বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) দুইবার সালাতুল খাওফ আদায় করেনঃ একবার উসফানে, আরেকবার বনী সুলায়ম গোত্রের এলাকায় (তাফসীর, ১খ., ৪৩২; বিস্তারিত বিবরণের জন্য দ্র. আসাহহুস সিয়ার)।
রাসূলুল্লাহ্ (স) ছানিয়াতুল মিরার-এ অবস্থানকালে যুহরের নামাযের সময় হইল। তিনি সাহাবীগণকে সাথে লইয়া জামাআতে নামায আদায় করিলেন। ইকরিমা ও খালিদের নেতৃত্বাধীন কুরায়শ বাহিনী বিষয়টি লক্ষ্য করিল এবং পরবর্তী নামায আদায়কালে মুসলমানদের উপর আকস্মিক আক্রমণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করিল। কিন্তু আসরের নামাযের পূর্বেই আল্লাহ তা'আলা হযরত জিবরাঈল (আ)-কে প্রেরণ করিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে কাফিরদের এই দুরভিসন্ধির কথা অবহিত করিলেন এবং সালাতুল খাওফের নির্দেশ নাযিল করিলেন:
وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلوةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةً مِّنْهُمْ مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِنْ وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِدْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُوْنَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَامْتَعَتِكُمْ فَيَمِيلُوْنَ عَلَيْكُمْ ميله واحدةً.
"তুমি যখন তাহাদের মধ্যে অবস্থান করিবে ও তাহাদের সহিত নামায আদায় করিবে, তখন তাহাদের একদল তোমার সহিত যেন নামাযে দাঁড়ায় এবং তাহারা যেন সশস্ত্র থাকে। তাহাদের সিজদা করা হইলে তাহারা যেন তোমাদের গিছনে অবস্থান করে। আর অপর একদল যাহারা নামাযে শরীক হয় নাই, তাহারা তোমার সহিত যেন নামাযে শরীক হয় এবং তাহারা যেন সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে। কাফিরগণ কামনা করে যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক যাহাতে তাহারা তোমাদের উপর একেবারে ঝাঁপাইয়া পড়িতে পারে (৪:১০২)।
এই বিধান নাযিল হইলে রাসূলুল্লাহ্ (স) আসরের নামায উক্ত পদ্ধতিতে আদায় করেন। ফলে কাফিরদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হইয়া যায় (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৮২)।
ইব্ন কাছীর বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) দুইবার সালাতুল খাওফ আদায় করেনঃ একবার উসফানে, আরেকবার বনী সুলায়ম গোত্রের এলাকায় (তাফসীর, ১খ., ৪৩২; বিস্তারিত বিবরণের জন্য দ্র. আসাহহুস সিয়ার)।
📄 কুরায়শদের প্রতিরোধের কারণ
প্রথমত, তাহারা ইতোপূর্বে মক্কা ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকায় অপপ্রচার করিতেছিল যে, মুসলমানদের অন্তরে বায়তুল্লাহ্র প্রতি কোন শ্রদ্ধা ও অনুরাগ নাই। অতঃপর যখন তাহারা এই সংবাদ শুনিল যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) সদলবলে 'উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কাভিমুখে রওয়ানা হইয়াছেন, তখন তাহারা এক মহাসংকটে পড়িয়া গেল। কারণ ইহাতে তাহাদের পূর্বের প্রচারণা মিথ্যা প্রমাণিত হইবে।
দ্বিতীয়ত, মাত্র কয়েক মাস আগে তাহারা মদীনাকে বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে সম্মিলিত বাহিনীসহ মদীনা অবরোধ করিয়াছিল। তখন মুসলমানগণ খন্দক খননের মাধ্যমে তাহাদের সেই স্বপ্ন ব্যর্থ করিয়া দিয়াছিলেন। তাহারা সম্মিলিত বাহিনী লইয়াও মদীনায় প্রবেশ করিতে পারে নাই, বরং চরম অপমান ও লাঞ্ছনার বোঝা মাথায় লইয়া মক্কায় প্রত্যাবর্তন করিয়াছিল। এই সকল কারণে কুরায়শগণ মক্কার আশেপাশে বসবাসকারী গোত্র ও সম্প্রদায়ের নিকট লজ্জিত ছিল। তাই এখন যদি তাহারা মুসলমানদেরকে মক্কায় প্রবেশের সুযোগ দেয়, তাহা হইলে ভবিষ্যতে তাহারা আর মুখ দেখাইতে পারিবে না। সুতরাং তাহারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিল যে, যে কোন মূল্যে মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশ প্রতিহত করিতেই হইবে।
তৃতীয়ত, মুসলমানদেরকে মক্কায় প্রবেশ করিতে দিলে সাধারণ মক্কাবাসীদের নিকট মুসলমানগণের শৌর্য-বীর্য এবং কুরায়শদের দুর্বলতা স্পষ্ট হইয়া উঠিবে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের প্রতি দুর্বল ও অনুরক্ত হইয়া পড়িবে। ফল এই দাঁড়াইবে যে, সাধারণ জনগোষ্ঠী আজ কুরায়শদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে সাহায্য-সহযোগিতা করিতেছে তাহা আর করিবে না। এই সকল বিষয় বিবেচনা করিয়া কুরায়শগণ রাসূলুল্লাহ্ (স) ও তাঁহার অনুসারিগণের মক্কায় প্রবেশ প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ইহার জন্য সমরায়োজন করিয়া রাখে।
প্রথমত, তাহারা ইতোপূর্বে মক্কা ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকায় অপপ্রচার করিতেছিল যে, মুসলমানদের অন্তরে বায়তুল্লাহ্র প্রতি কোন শ্রদ্ধা ও অনুরাগ নাই। অতঃপর যখন তাহারা এই সংবাদ শুনিল যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) সদলবলে 'উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কাভিমুখে রওয়ানা হইয়াছেন, তখন তাহারা এক মহাসংকটে পড়িয়া গেল। কারণ ইহাতে তাহাদের পূর্বের প্রচারণা মিথ্যা প্রমাণিত হইবে।
দ্বিতীয়ত, মাত্র কয়েক মাস আগে তাহারা মদীনাকে বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে সম্মিলিত বাহিনীসহ মদীনা অবরোধ করিয়াছিল। তখন মুসলমানগণ খন্দক খননের মাধ্যমে তাহাদের সেই স্বপ্ন ব্যর্থ করিয়া দিয়াছিলেন। তাহারা সম্মিলিত বাহিনী লইয়াও মদীনায় প্রবেশ করিতে পারে নাই, বরং চরম অপমান ও লাঞ্ছনার বোঝা মাথায় লইয়া মক্কায় প্রত্যাবর্তন করিয়াছিল। এই সকল কারণে কুরায়শগণ মক্কার আশেপাশে বসবাসকারী গোত্র ও সম্প্রদায়ের নিকট লজ্জিত ছিল। তাই এখন যদি তাহারা মুসলমানদেরকে মক্কায় প্রবেশের সুযোগ দেয়, তাহা হইলে ভবিষ্যতে তাহারা আর মুখ দেখাইতে পারিবে না। সুতরাং তাহারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিল যে, যে কোন মূল্যে মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশ প্রতিহত করিতেই হইবে।
তৃতীয়ত, মুসলমানদেরকে মক্কায় প্রবেশ করিতে দিলে সাধারণ মক্কাবাসীদের নিকট মুসলমানগণের শৌর্য-বীর্য এবং কুরায়শদের দুর্বলতা স্পষ্ট হইয়া উঠিবে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের প্রতি দুর্বল ও অনুরক্ত হইয়া পড়িবে। ফল এই দাঁড়াইবে যে, সাধারণ জনগোষ্ঠী আজ কুরায়শদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে সাহায্য-সহযোগিতা করিতেছে তাহা আর করিবে না। এই সকল বিষয় বিবেচনা করিয়া কুরায়শগণ রাসূলুল্লাহ্ (স) ও তাঁহার অনুসারিগণের মক্কায় প্রবেশ প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ইহার জন্য সমরায়োজন করিয়া রাখে।