📄 মদীনা হইতে রওয়ানা
রাসূলুল্লাহ (স) গৃহাভ্যন্তরে গোসল সমাপন করিবার পর দুইখানা ইহরামের কাপড় পরিধান করিয়া ঘর হইতে বাহির হইয়া আসিলেন। তাঁহার স্ত্রী হযরত উম্মু সালামা (রা)ও তাঁহার সফরসঙ্গী ছিলেন। মক্কাভিমুখে রওয়ানা করিবার উদ্দেশে মুহাজির-আনসারগণের চৌদ্দ শতের এক বিরাট কাফেলা তাঁহার সফরসঙ্গী হইলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্ত্রী হযরত উম্মু সালামা ছাড়াও আরও তিনজন মহিলা সাহাবী তাঁহাদের মাহরামদের সহিত এই কাফেলায় শরীক হইয়াছিলেন, যথা উম্মু উমারা, উম্মু মানী' ও উম্মু আমের (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) সকলকে পরিষ্কার ভাষায় জানাইয়া দিলেন, আমরা উমরা পালনার্থে যাত্রা করিতেছি, যুদ্ধ করিতে নয়। কাজেই যুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র সঙ্গে লইবার কোনও প্রয়োজন নাই। শুধু কোষবদ্ধ তরবারি ও তীর লইতে পার। উল্লেখ্য যে, বিদেশে যাত্রা করিলে তরবারি ও তীর রাখা আরবদের সাধারণ নিয়ম ছিল। এমনকি মেষ চরাইতে গেলেও কিংবা অন্য কোন প্রয়োজনে মাঠে বাহির হইলেও আকস্মিক বিপদ-আপদ হইতে আত্মরক্ষার জন্য তাহারা সঙ্গে তীর-তরবারি রাখিত (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৭৮)। অবশ্য কোন কোন বর্ণনামতে কিছু দূর যাওয়ার পর হযরত উমার (রা)-এর পরামর্শক্রমে সাবধানতাবশত অস্ত্রের সরকারী ভাণ্ডার আনয়ন করা হয়, কিন্তু উহা বন্ধও রাখা হয় (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৬খ., ১০৪)।
আল-কাস্তয়ার পৃষ্ঠে আরোহণ করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) আগে আগে চলিলেন। সাহাবাগণ তাঁহার অনুগমন করিতে লাগিলেন। হযরত 'আব্বাদ ইব্ন বিশ্র (রা)-এর নেতৃত্বে বিশজনের একটি অশ্বারোহী বাহিনীকে কাফেলার সম্মুখে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিন্তকরণের জন্য অগ্রে চলিতে নির্দেশ দেন। এই অগ্রবর্তী দলে মিকদাদ, খাব্বাব ও মুহাম্মাদ ইব্ন মাসলামা (রা) প্রমুখ সাহাবী শরীক ছিলেন (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৪)।
রাসূলুল্লাহ (স) কুরবানীর জন্য সাথে সত্তরটি উট লইলেন। তন্মধ্যে আবূ জাহলের সেই উটটিও ছিল যাহা বদর যুদ্ধে গনীতমরূপে তাঁহার অধিকারে আসিয়াছিল। উটটির নাকে একটি চাঁদির রিং ছিল। সাহাবীগণের মধ্যে সামর্থবান অনেকেই সাথে কুরবানীর পশু লইয়াছিলেন। যথা হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক, উছমান, আবদুর রহমান ইব্ন আওফ, সা'দ ইব্ন উবাদা, তালহা ইব্ন আবদিল্লাহ (রা) প্রমুখ (কিবতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৩; তাফসীর ইব্ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৮৫)।
এই সফরকালে রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার অবর্তমানে মদীনার প্রশাসন ও নামাযের ইমামতির জন্য আবদুল্লাহ ইব্ন উম্মে মাকতুম (রা)-কে দায়িত্ব প্রদান করেন (কিতাবুল-মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৪)। কেহ কেহ রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, এই সফরকালে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত হইয়াছিলেন হযরত নুমায়লা ইব্ন আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫২)।
রাসূলুল্লাহ (স) গৃহাভ্যন্তরে গোসল সমাপন করিবার পর দুইখানা ইহরামের কাপড় পরিধান করিয়া ঘর হইতে বাহির হইয়া আসিলেন। তাঁহার স্ত্রী হযরত উম্মু সালামা (রা)ও তাঁহার সফরসঙ্গী ছিলেন। মক্কাভিমুখে রওয়ানা করিবার উদ্দেশে মুহাজির-আনসারগণের চৌদ্দ শতের এক বিরাট কাফেলা তাঁহার সফরসঙ্গী হইলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্ত্রী হযরত উম্মু সালামা ছাড়াও আরও তিনজন মহিলা সাহাবী তাঁহাদের মাহরামদের সহিত এই কাফেলায় শরীক হইয়াছিলেন, যথা উম্মু উমারা, উম্মু মানী' ও উম্মু আমের (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৫)।
রাসূলুল্লাহ (স) সকলকে পরিষ্কার ভাষায় জানাইয়া দিলেন, আমরা উমরা পালনার্থে যাত্রা করিতেছি, যুদ্ধ করিতে নয়। কাজেই যুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র সঙ্গে লইবার কোনও প্রয়োজন নাই। শুধু কোষবদ্ধ তরবারি ও তীর লইতে পার। উল্লেখ্য যে, বিদেশে যাত্রা করিলে তরবারি ও তীর রাখা আরবদের সাধারণ নিয়ম ছিল। এমনকি মেষ চরাইতে গেলেও কিংবা অন্য কোন প্রয়োজনে মাঠে বাহির হইলেও আকস্মিক বিপদ-আপদ হইতে আত্মরক্ষার জন্য তাহারা সঙ্গে তীর-তরবারি রাখিত (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৭৮)। অবশ্য কোন কোন বর্ণনামতে কিছু দূর যাওয়ার পর হযরত উমার (রা)-এর পরামর্শক্রমে সাবধানতাবশত অস্ত্রের সরকারী ভাণ্ডার আনয়ন করা হয়, কিন্তু উহা বন্ধও রাখা হয় (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৬খ., ১০৪)।
আল-কাস্তয়ার পৃষ্ঠে আরোহণ করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) আগে আগে চলিলেন। সাহাবাগণ তাঁহার অনুগমন করিতে লাগিলেন। হযরত 'আব্বাদ ইব্ন বিশ্র (রা)-এর নেতৃত্বে বিশজনের একটি অশ্বারোহী বাহিনীকে কাফেলার সম্মুখে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিন্তকরণের জন্য অগ্রে চলিতে নির্দেশ দেন। এই অগ্রবর্তী দলে মিকদাদ, খাব্বাব ও মুহাম্মাদ ইব্ন মাসলামা (রা) প্রমুখ সাহাবী শরীক ছিলেন (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৪)।
রাসূলুল্লাহ (স) কুরবানীর জন্য সাথে সত্তরটি উট লইলেন। তন্মধ্যে আবূ জাহলের সেই উটটিও ছিল যাহা বদর যুদ্ধে গনীতমরূপে তাঁহার অধিকারে আসিয়াছিল। উটটির নাকে একটি চাঁদির রিং ছিল। সাহাবীগণের মধ্যে সামর্থবান অনেকেই সাথে কুরবানীর পশু লইয়াছিলেন। যথা হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক, উছমান, আবদুর রহমান ইব্ন আওফ, সা'দ ইব্ন উবাদা, তালহা ইব্ন আবদিল্লাহ (রা) প্রমুখ (কিবতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৩; তাফসীর ইব্ন কাছীর, ৪খ., পৃ. ১৮৫)।
এই সফরকালে রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার অবর্তমানে মদীনার প্রশাসন ও নামাযের ইমামতির জন্য আবদুল্লাহ ইব্ন উম্মে মাকতুম (রা)-কে দায়িত্ব প্রদান করেন (কিতাবুল-মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৪)। কেহ কেহ রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, এই সফরকালে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত হইয়াছিলেন হযরত নুমায়লা ইব্ন আবদুল্লাহ আল-লায়ছী (রা) (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫২)।
📄 যুল-হুলায়ফায় যাত্রাবিরতি
মদীনার বাহিরে পাঁচ-ছয় মাইল দূরের একটি মরু এলাকা যুল-হুলায়ফা। রাসূলুল্লাহ (স) কাফেলাসহ এইখানে অবতরণ করিলেন এবং ইহরাম বাঁধিবার নির্দেশ দিলেন। সকলেই ইহরাম বাঁধিলেন এবং তালবিয়ার (লাব্বায়ক আল্লাহুম্মা লাব্বায়ক) ধ্বনিতে আকাশ-বাতাশ মুখরিত করিলেন।
তৎপর রাসূলুল্লাহ্ (স) কুরবানীর উটগুলিকে কুরবানীর নিদর্শন লাগাইতে আদেশ করিলেন। সাহাবীগণ কতিপয় উটের গলায় ফিতা, চামড়া বা জীর্ণ পাদুকা ঝুলাইয়া দিলেন। ইহাকে আরবীতে কালাদা বলা হয়। আর কুরবানীর নিদর্শনস্বরূপ উটের পিঠের উপর কবরাকৃতির ঝুঁটির উভয় পার্শ্বে ক্ষতচিহ্ন করিয়া দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ্ (স) নিজহাতে কিছু উটের গায়ে এবং অবশিষ্টগুলিতে হযরত নাজিয়া ইব্ন জুনদুব (রা) তাঁহার নির্দেশে চিহ্ন লাগাইয়া দেন। উদ্দেশ্য ছিল, কেহ দূর হইতে দেখিয়া যেন অনায়াসে বুঝিতে পারে যে, ইহা কুরবানীর উট এবং এই কাফেলা হজ্জের কাফেলা (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৪)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) কুরবানীর পশুগুলির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বভার নাজিয়া ইব্ন জুনদুব (রা)-এর উপর অর্পণ করিলেন। তিনি উটগুলি লইয়া কাফেলার আগে আগে চলিতে লাগিলেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৭৯)।
মদীনার বাহিরে পাঁচ-ছয় মাইল দূরের একটি মরু এলাকা যুল-হুলায়ফা। রাসূলুল্লাহ (স) কাফেলাসহ এইখানে অবতরণ করিলেন এবং ইহরাম বাঁধিবার নির্দেশ দিলেন। সকলেই ইহরাম বাঁধিলেন এবং তালবিয়ার (লাব্বায়ক আল্লাহুম্মা লাব্বায়ক) ধ্বনিতে আকাশ-বাতাশ মুখরিত করিলেন।
তৎপর রাসূলুল্লাহ্ (স) কুরবানীর উটগুলিকে কুরবানীর নিদর্শন লাগাইতে আদেশ করিলেন। সাহাবীগণ কতিপয় উটের গলায় ফিতা, চামড়া বা জীর্ণ পাদুকা ঝুলাইয়া দিলেন। ইহাকে আরবীতে কালাদা বলা হয়। আর কুরবানীর নিদর্শনস্বরূপ উটের পিঠের উপর কবরাকৃতির ঝুঁটির উভয় পার্শ্বে ক্ষতচিহ্ন করিয়া দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ্ (স) নিজহাতে কিছু উটের গায়ে এবং অবশিষ্টগুলিতে হযরত নাজিয়া ইব্ন জুনদুব (রা) তাঁহার নির্দেশে চিহ্ন লাগাইয়া দেন। উদ্দেশ্য ছিল, কেহ দূর হইতে দেখিয়া যেন অনায়াসে বুঝিতে পারে যে, ইহা কুরবানীর উট এবং এই কাফেলা হজ্জের কাফেলা (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৭৪)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) কুরবানীর পশুগুলির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বভার নাজিয়া ইব্ন জুনদুব (রা)-এর উপর অর্পণ করিলেন। তিনি উটগুলি লইয়া কাফেলার আগে আগে চলিতে লাগিলেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৭৯)।
📄 মক্কাভিমুখে গোয়েন্দা প্রেরণ
মক্কার বানু খুযা'আ গোত্রের বিশর ইব্ন সুফ্যান নামক একজন নও-মুসলিমও রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে ছিলেন। তিনি যে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন একথা মক্কাবাসীদের সম্পূর্ণ অবিদিত ছিল। কুরায়শদের হাবভাব অবগত হওয়ার জন্য যুল-হুলায়ফা হইতেই রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে গোয়েন্দারূপে মক্কায় প্রেরণ করিলেন।
কাফেলা যখন উসফান নামক স্থানে পৌঁছিল, তখন হযরত বিশর ইব্ন সুফ্যান মক্কা হইতে ফেরৎ আসিলেন। উসফান মক্কা হইতে দুই মনযিল দূরে মক্কা-মদীনার পথে একটি জনপদের নাম। তিনি খবর দিলেন যে, কুরায়শগণ আপনার আগমনের সংবাদ পাইয়া সকল গোত্রের লোকজনকে সমবেত করিয়া যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত হইয়া আছে। তাহারা আপনাকে কোন অবস্থাতেই মক্কায় প্রবেশ করিতে দিবে না। তাহাদের বিরাট প্রতিরোধ বাহিনী মক্কার বাহিরে ইয়ালদাহ নামক স্থানে আপনাদের অপেক্ষা করিতেছে। ওয়ালীদের পুত্র খালিদ এবং আবূ জাহলের পুত্র ইকরিমা দুই শত অশ্বারোহী সৈন্য লইয়া অগ্রসর হইয়া রাবিগ ও জুহফার মধ্যবর্তী কুরাউল গামীম পর্যন্ত পৌঁছিয়া গিয়াছে (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮০)। এই স্থানটি ছিল উসফান হইতে আট মাইল দূরে।
গোয়েন্দা আরও জানাইলেন যে, যুদ্ধ-বিগ্রহে কুরায়শদের সহযোগী পুরাতন মিত্র কা'ব ইব্ন লুওয়াই গোত্র আপনাকে প্রতিরোধ করার জন্য আহাবীশকে একত্র করিয়া রাখিয়াছে (আহাবীশ হইল কতিপয় যুদ্ধবাজ লোক, সাহারা বিভিন্ন গোত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল)। তাহারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফৌজ একত্র করিয়াছে। তাহাদের ইচ্ছা হইল, যুদ্ধ করিয়া হইলেও আপনাকে এবং আপনার সঙ্গীগণকে মক্কায় পৌঁছিতে বাধা প্রদান করা (আসাহ্হুস্ সিয়ার, পৃ. ১৬৮)।
মক্কার বানু খুযা'আ গোত্রের বিশর ইব্ন সুফ্যান নামক একজন নও-মুসলিমও রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে ছিলেন। তিনি যে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন একথা মক্কাবাসীদের সম্পূর্ণ অবিদিত ছিল। কুরায়শদের হাবভাব অবগত হওয়ার জন্য যুল-হুলায়ফা হইতেই রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে গোয়েন্দারূপে মক্কায় প্রেরণ করিলেন।
কাফেলা যখন উসফান নামক স্থানে পৌঁছিল, তখন হযরত বিশর ইব্ন সুফ্যান মক্কা হইতে ফেরৎ আসিলেন। উসফান মক্কা হইতে দুই মনযিল দূরে মক্কা-মদীনার পথে একটি জনপদের নাম। তিনি খবর দিলেন যে, কুরায়শগণ আপনার আগমনের সংবাদ পাইয়া সকল গোত্রের লোকজনকে সমবেত করিয়া যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত হইয়া আছে। তাহারা আপনাকে কোন অবস্থাতেই মক্কায় প্রবেশ করিতে দিবে না। তাহাদের বিরাট প্রতিরোধ বাহিনী মক্কার বাহিরে ইয়ালদাহ নামক স্থানে আপনাদের অপেক্ষা করিতেছে। ওয়ালীদের পুত্র খালিদ এবং আবূ জাহলের পুত্র ইকরিমা দুই শত অশ্বারোহী সৈন্য লইয়া অগ্রসর হইয়া রাবিগ ও জুহফার মধ্যবর্তী কুরাউল গামীম পর্যন্ত পৌঁছিয়া গিয়াছে (যাদুল মা'আদ, ১খ., পৃ. ৩৮০)। এই স্থানটি ছিল উসফান হইতে আট মাইল দূরে।
গোয়েন্দা আরও জানাইলেন যে, যুদ্ধ-বিগ্রহে কুরায়শদের সহযোগী পুরাতন মিত্র কা'ব ইব্ন লুওয়াই গোত্র আপনাকে প্রতিরোধ করার জন্য আহাবীশকে একত্র করিয়া রাখিয়াছে (আহাবীশ হইল কতিপয় যুদ্ধবাজ লোক, সাহারা বিভিন্ন গোত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল)। তাহারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফৌজ একত্র করিয়াছে। তাহাদের ইচ্ছা হইল, যুদ্ধ করিয়া হইলেও আপনাকে এবং আপনার সঙ্গীগণকে মক্কায় পৌঁছিতে বাধা প্রদান করা (আসাহ্হুস্ সিয়ার, পৃ. ১৬৮)।
📄 সাহাবীগণের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স)-এর পরামর্শ
রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবীগণের সহিত পরামর্শ করিলেন, এখন আমাদের কী কর। উচিৎ? আমরা কি ঐ সকল গোত্রগুলির বসতি আক্রমণ করিব, যাহারা কুরায়শদের সহযোগিতা করার জন্য বাহির হইয়াছে? ইহা হইলে তাহারা বিক্ষিপ্ত হইয়া প্রতিরোধ হইতে পশ্চাদপদ হইতে পারে। অথবা আমরা মক্কাভিমুখে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখিব, কেহ প্রতিরোধে আগাইয়া আসিলে তাহাকে প্রতিহত করিব? তোমরা পরামর্শ দাও, এই দুইটির কোন পথ আমরা অবলম্বন করিব? হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) বলিলেন, আমরা যুদ্ধ করিতে আসি নাই। কিন্তু যদি কেহ আমাদেরকে কা'বাগৃহে গমন করিতে বাধা প্রদান করে, তবে নিশ্চয় আমরা তাহার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিব। রাসূলুল্লাহ্ (স) অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখিবার সিদ্ধান্ত দিয়া বলিলেন, খালিদের সৈন্যদল কুরাউল গামীমে আমাদের অপেক্ষা করিতেছে। কাজেই সোজা পথে না গিয়া শত্রুদের চোখ এড়াইয়া ডানদিকে পথ চল। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কে আছে আমাদেরকে নিরাপদ রাস্তায় পথ দেখাইয়া মক্কায় লইয়া যাইবে? বানু আসলাম গোত্রের এক লোক বলিল, আমি প্রস্তুত আছি (আল্-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)।
রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবীগণের সহিত পরামর্শ করিলেন, এখন আমাদের কী কর। উচিৎ? আমরা কি ঐ সকল গোত্রগুলির বসতি আক্রমণ করিব, যাহারা কুরায়শদের সহযোগিতা করার জন্য বাহির হইয়াছে? ইহা হইলে তাহারা বিক্ষিপ্ত হইয়া প্রতিরোধ হইতে পশ্চাদপদ হইতে পারে। অথবা আমরা মক্কাভিমুখে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখিব, কেহ প্রতিরোধে আগাইয়া আসিলে তাহাকে প্রতিহত করিব? তোমরা পরামর্শ দাও, এই দুইটির কোন পথ আমরা অবলম্বন করিব? হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) বলিলেন, আমরা যুদ্ধ করিতে আসি নাই। কিন্তু যদি কেহ আমাদেরকে কা'বাগৃহে গমন করিতে বাধা প্রদান করে, তবে নিশ্চয় আমরা তাহার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিব। রাসূলুল্লাহ্ (স) অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখিবার সিদ্ধান্ত দিয়া বলিলেন, খালিদের সৈন্যদল কুরাউল গামীমে আমাদের অপেক্ষা করিতেছে। কাজেই সোজা পথে না গিয়া শত্রুদের চোখ এড়াইয়া ডানদিকে পথ চল। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কে আছে আমাদেরকে নিরাপদ রাস্তায় পথ দেখাইয়া মক্কায় লইয়া যাইবে? বানু আসলাম গোত্রের এক লোক বলিল, আমি প্রস্তুত আছি (আল্-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৫৫৩)।