📄 ভৌগোলিক অবস্থান
হুদায়বিয়া মসজিদুল হারাম হইতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এক মনযিল তথা বিশ কিলোমিটার দূরে একটি প্রাচীন কূপের নাম। উক্ত কূপ সংলগ্ন স্থানসমূহও হুদায়বিয়া নামেই প্রসিদ্ধ ছিল। মক্কাভূমিকে পরিবেশষ্টনকারী পাহাড় হুদায়বিয়াতে আসিয়া শেষ হইয়াছে এবং এখান হইতে উপকূলীয় প্রান্তর শুরু হইয়াছে।
বায়তুল্লাহ শরীফ নির্মাণ করার পর হযরত ইবরাহীম (আ) "হারাম"-ই মক্কা-এর চতুষ্পার্শ্বে সীমানা মহান আল্লাহ্র নির্দেশনায় নির্ধারণ করিয়া দেন এবং বিভিন্ন দিকে হারাম শরীফের সীমানা স্তম্ভ তৈয়ার করান। উহার মধ্য হইতে একটি সীমানা হইল হুদায়বিয়া। ইহা হারাম-ই মক্কার পশ্চিম সীমানা। রাসূলুল্লাহ (স) এই সকল প্রাচীন সীমানা স্তম্ভগুলিকে যথাযথ সংরক্ষণ করেন এবং পুনঃ মেরামত করেন (দা. মা. ই, ৭খ., পৃ. ৯৫৭)।
হুদায়বিয়ার পূর্ণ এলাকা হারাম-ই মক্কার অন্তর্ভুক্ত কি না এই বিষয়ে মতবিরোধ রহিয়াছে। ইমাম তাবারী (র)-এর মতে হুদায়বিয়ার বেশীর ভাগ অংশ হারাম-ই মক্কার অন্তর্ভুক্ত আর কিছু অংশ হারামের বাহিরে (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৪৯)।
ইসলাম-পূর্ব যুগ হইতে এইখানে একটি কূপ ছিল যাহা মুসাফির ও হাজ্জীগণ ব্যবহার করিতেন। এখানে কোন মানববসতি ছিল না। ভূ-গর্ভে যথেষ্ট মিঠা পানি ছিল। এই কারণে এই অঞ্চলটি ছিল সবুজ-শ্যামল। তুর্কী যুগে এইখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়। এখন উন্নয়ন ও সাজ-সজ্জার পর উহাতে সুলতান 'আবদুল-আযীয ইব্ন সাউদ নামের একটি উৎকীর্ণ ফলক দেখিতে পাওয়া যায়। মসজিদ বর্তমানে সড়কের পার্শ্বে অবস্থিত।
খিলাফাতে রাশিদার কিছু কাল পরে এই স্থানটি হাজ্জীদের প্রয়োজনে আবাদ হওয়া আরম্ভ হয়। বর্তমানে উহা পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়ি। হারাম-ই মক্কার সীমানা স্তম্ভের বাহিরে একটি হাম্মাম রহিয়াছে। উহাতে তুর্কী যুগের উৎকীর্ণ ফলক পরিদৃষ্ট হয়।
হিজরী অষ্টম শতাব্দী হইতে হুদায়রিয়াকে শুমায়সিয়্যা (شُمَيُسیّه), শুমায়সী (شمیسی) এবং অধুনা সামীসা বলা হয় (দা. ই. মা. ই, উর্দু, ৭খ., পৃ. ৯৫৭; ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৬খ., পৃ. ১০৩)।
হুদায়বিয়া মসজিদুল হারাম হইতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এক মনযিল তথা বিশ কিলোমিটার দূরে একটি প্রাচীন কূপের নাম। উক্ত কূপ সংলগ্ন স্থানসমূহও হুদায়বিয়া নামেই প্রসিদ্ধ ছিল। মক্কাভূমিকে পরিবেশষ্টনকারী পাহাড় হুদায়বিয়াতে আসিয়া শেষ হইয়াছে এবং এখান হইতে উপকূলীয় প্রান্তর শুরু হইয়াছে।
বায়তুল্লাহ শরীফ নির্মাণ করার পর হযরত ইবরাহীম (আ) "হারাম"-ই মক্কা-এর চতুষ্পার্শ্বে সীমানা মহান আল্লাহ্র নির্দেশনায় নির্ধারণ করিয়া দেন এবং বিভিন্ন দিকে হারাম শরীফের সীমানা স্তম্ভ তৈয়ার করান। উহার মধ্য হইতে একটি সীমানা হইল হুদায়বিয়া। ইহা হারাম-ই মক্কার পশ্চিম সীমানা। রাসূলুল্লাহ (স) এই সকল প্রাচীন সীমানা স্তম্ভগুলিকে যথাযথ সংরক্ষণ করেন এবং পুনঃ মেরামত করেন (দা. মা. ই, ৭খ., পৃ. ৯৫৭)।
হুদায়বিয়ার পূর্ণ এলাকা হারাম-ই মক্কার অন্তর্ভুক্ত কি না এই বিষয়ে মতবিরোধ রহিয়াছে। ইমাম তাবারী (র)-এর মতে হুদায়বিয়ার বেশীর ভাগ অংশ হারাম-ই মক্কার অন্তর্ভুক্ত আর কিছু অংশ হারামের বাহিরে (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৪৯)।
ইসলাম-পূর্ব যুগ হইতে এইখানে একটি কূপ ছিল যাহা মুসাফির ও হাজ্জীগণ ব্যবহার করিতেন। এখানে কোন মানববসতি ছিল না। ভূ-গর্ভে যথেষ্ট মিঠা পানি ছিল। এই কারণে এই অঞ্চলটি ছিল সবুজ-শ্যামল। তুর্কী যুগে এইখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়। এখন উন্নয়ন ও সাজ-সজ্জার পর উহাতে সুলতান 'আবদুল-আযীয ইব্ন সাউদ নামের একটি উৎকীর্ণ ফলক দেখিতে পাওয়া যায়। মসজিদ বর্তমানে সড়কের পার্শ্বে অবস্থিত।
খিলাফাতে রাশিদার কিছু কাল পরে এই স্থানটি হাজ্জীদের প্রয়োজনে আবাদ হওয়া আরম্ভ হয়। বর্তমানে উহা পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়ি। হারাম-ই মক্কার সীমানা স্তম্ভের বাহিরে একটি হাম্মাম রহিয়াছে। উহাতে তুর্কী যুগের উৎকীর্ণ ফলক পরিদৃষ্ট হয়।
হিজরী অষ্টম শতাব্দী হইতে হুদায়রিয়াকে শুমায়সিয়্যা (شُمَيُسیّه), শুমায়সী (شمیسی) এবং অধুনা সামীসা বলা হয় (দা. ই. মা. ই, উর্দু, ৭খ., পৃ. ৯৫৮; ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৬খ., পৃ. ১০৩)।
হুদায়বিয়া মসজিদুল হারাম হইতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এক মনযিল তথা বিশ কিলোমিটার দূরে একটি প্রাচীন কূপের নাম। উক্ত কূপ সংলগ্ন স্থানসমূহও হুদায়বিয়া নামেই প্রসিদ্ধ ছিল। মক্কাভূমিকে পরিবেশষ্টনকারী পাহাড় হুদায়বিয়াতে আসিয়া শেষ হইয়াছে এবং এখান হইতে উপকূলীয় প্রান্তর শুরু হইয়াছে।
বায়তুল্লাহ শরীফ নির্মাণ করার পর হযরত ইবরাহীম (আ) "হারাম"-ই মক্কা-এর চতুষ্পার্শ্বে সীমানা মহান আল্লাহ্র নির্দেশনায় নির্ধারণ করিয়া দেন এবং বিভিন্ন দিকে হারাম শরীফের সীমানা স্তম্ভ তৈয়ার করান। উহার মধ্য হইতে একটি সীমানা হইল হুদায়বিয়া। ইহা হারাম-ই মক্কার পশ্চিম সীমানা। রাসূলুল্লাহ (স) এই সকল প্রাচীন সীমানা স্তম্ভগুলিকে যথাযথ সংরক্ষণ করেন এবং পুনঃ মেরামত করেন (দা. মা. ই, ৭খ., পৃ. ৯৫৭)।
হুদায়বিয়ার পূর্ণ এলাকা হারাম-ই মক্কার অন্তর্ভুক্ত কি না এই বিষয়ে মতবিরোধ রহিয়াছে। ইমাম তাবারী (র)-এর মতে হুদায়বিয়ার বেশীর ভাগ অংশ হারাম-ই মক্কার অন্তর্ভুক্ত আর কিছু অংশ হারামের বাহিরে (সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৪৯)।
ইসলাম-পূর্ব যুগ হইতে এইখানে একটি কূপ ছিল যাহা মুসাফির ও হাজ্জীগণ ব্যবহার করিতেন। এখানে কোন মানববসতি ছিল না। ভূ-গর্ভে যথেষ্ট মিঠা পানি ছিল। এই কারণে এই অঞ্চলটি ছিল সবুজ-শ্যামল। তুর্কী যুগে এইখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়। এখন উন্নয়ন ও সাজ-সজ্জার পর উহাতে সুলতান 'আবদুল-আযীয ইব্ন সাউদ নামের একটি উৎকীর্ণ ফলক দেখিতে পাওয়া যায়। মসজিদ বর্তমানে সড়কের পার্শ্বে অবস্থিত।
খিলাফাতে রাশিদার কিছু কাল পরে এই স্থানটি হাজ্জীদের প্রয়োজনে আবাদ হওয়া আরম্ভ হয়। বর্তমানে উহা পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়ি। হারাম-ই মক্কার সীমানা স্তম্ভের বাহিরে একটি হাম্মাম রহিয়াছে। উহাতে তুর্কী যুগের উৎকীর্ণ ফলক পরিদৃষ্ট হয়।
হিজরী অষ্টম শতাব্দী হইতে হুদায়রিয়াকে শুমায়সিয়্যা (شُمَيُسیّه), শুমায়সী (شمیمی) এবং অধুনা সামীসা বলা হয় (দা. ই. মা. ই, উর্দু, ৭খ., পৃ. ৯৫৮; ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৬খ., পৃ. ১০৩)।
📄 হুদায়বিয়ার সন্ধির সন-তারিখ
৬ষ্ঠ হিজরারী যুল-কা'দা মাসের পহেলা তারিখ সোমবার (৬ মার্চ, ৬২৮ খৃ.) রাসূলুল্লাহ (স) এই সফরে রওয়ানা হন। ইমাম যুহরী, মূসা ইব্ন্ন উকবা ও কাতাদা প্রমুখ (র) এইরূপ বর্ণনা করিয়াছেন (বায়হাকী, দালাইলুন নুবুওয়াত, ৩খ., পৃ. ৯১)। কিন্তু হিশাম ইব্ন উরওয়া হযরত উরওয়া (র) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) মদীনা মুনাওয়ারা হইতে রমযান মাসে রওয়ানা হন এবং শাওওয়াল মাসে হুদায়বিয়াতে গিয়া পৌঁছেন। কিতাবুল খারাজে ইমাম আবূ ইউসুফ (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির দস্তখতের তারিখ ছিল রমযান মাস। মাওলানা আবদুর রউফ দানাপুরী লিখিয়াছেন, হিশামের এই রিওয়ায়াত শুদ্ধ নহে। কারণ স্বয়ং উরওয়া হইতেই আবুল আসওয়াদ যুল-কা'দা মাসের কথা বর্ণনা করিয়াছেন। উপরন্তু ইমাম বুখারী ও মুসলিম (র) হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) চারটি উমরা করিয়াছেন। ইহার সব কয়টি যুল-কা'দা মাসে। তিনি ইহার মধ্যে হুদায়বিয়ার (মূলতবী) উমরাহও উল্লেখ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৬৭)।
এই মতপার্থক্যের আরও একটি ব্যাখ্যা এই যে, আরবগণ জাহিলী যুগে হারাম মাসকে পিছাইয়া দিত (দ্র. আল-কুরআন, ৯: ৩৭)। ৬ষ্ঠ হিজরী পর্যন্ত মাসকে পিছাইয়া দেওয়া সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয় নাই। তাই ৬ষ্ঠ হিজরী এবং ৯ম হিজরীর সমাপ্তিতে লীপ ইয়ারের একটি মাস বৃদ্ধি করা হইয়াছিল। দশম হিজরীতে মাসকে পিছাইয়া দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়। এখন যদি খাঁটি চান্দ্র বৎসর হইতে উপরের দিকে গণনা করা হয় তবে ৬ষ্ঠ হিজরীর যুল-কা'দা মাস ৬ষ্ঠ হিজরীর রমযান মাস হইয়া যায় (যাহা ইমাম আবূ ইউসুফ গ্রহণ করিয়াছেন এবং উরওয়া হইতে এক রিওয়ায়াত রহিয়াছে)। সম্ভবত সন্ধির আলোচনা সমাপ্তি পর্যন্ত উক্ত মাস শেষ হইয়া গিয়াছিল। তাই দস্তখতের তারিখ ছিল শাওওয়াল মাস যাহা উরওয়া বর্ণনা করিয়াছেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৬খ., পৃ. ১০৩)।
৬ষ্ঠ হিজরারী যুল-কা'দা মাসের পহেলা তারিখ সোমবার (৬ মার্চ, ৬২৮ খৃ.) রাসূলুল্লাহ (স) এই সফরে রওয়ানা হন। ইমাম যুহরী, মূসা ইব্ন্ন উকবা ও কাতাদা প্রমুখ (র) এইরূপ বর্ণনা করিয়াছেন (বায়হাকী, দালাইলুন নুবুওয়াত, ৩খ., পৃ. ৯১)। কিন্তু হিশাম ইব্ন উরওয়া হযরত উরওয়া (র) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) মদীনা মুনাওয়ারা হইতে রমযান মাসে রওয়ানা হন এবং শাওওয়াল মাসে হুদায়বিয়াতে গিয়া পৌঁছেন। কিতাবুল খারাজে ইমাম আবূ ইউসুফ (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির দস্তখতের তারিখ ছিল রমযান মাস। মাওলানা আবদুর রউফ দানাপুরী লিখিয়াছেন, হিশামের এই রিওয়ায়াত শুদ্ধ নহে, কারণ স্বয়ং উরওয়া হইতেই আবুল আসওয়াদ যুল-কা'দা মাসের কথা বর্ণনা করিয়াছেন। উপরন্তু ইমাম বুখারী ও মুসলিম (র) হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) চারটি উমরা করিয়াছেন। ইহার সব কয়টি যুল-কা'দা মাসে। তিনি ইহার মধ্যে হুদায়বিয়ার (মূলতবী) উমরাহও উল্লেখ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৬৭)।
এই মতপার্থক্যের আরও একটি ব্যাখ্যা এই যে, আরবগণ জাহিলী যুগে হারাম মাসকে পিছাইয়া দিত (দ্র. আল-কুরআন, ৯: ৩৭)। ৬ষ্ঠ হিজরী পর্যন্ত মাসকে পিছাইয়া দেওয়া সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয় নাই। তাই ৬ষ্ঠ হিজরী এবং ৯ম হিজরীর সমাপ্তিতে লীপ ইয়ারের একটি মাস বৃদ্ধি করা হইয়াছিল। দশম হিজরীতে মাসকে পিছাইয়া দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়। এখন যদি খাঁটি চান্দ্র বৎসর হইতে উপরের দিকে গণনা করা হয় তবে ৬ষ্ঠ হিজরীর যুল-কা'দা মাস ৬ষ্ঠ হিজরীর রমযান মাস হইয়া যায় (যাহা ইমাম আবূ ইউসুফ গ্রহণ করিয়াছেন এবং উরওয়া হইতে এক রিওয়ায়াত রহিয়াছে)। সম্ভবত সন্ধির আলোচনা সমাপ্তি পর্যন্ত উক্ত মাস শেষ হইয়া গিয়াছিল। তাই দস্তখতের তারিখ ছিল শাওওয়াল মাস যাহা উরওয়া বর্ণনা করিয়াছেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৬খ., পৃ. ১০৩)।
৬ষ্ঠ হিজরারী যুল-কা'দা মাসের পহেলা তারিখ সোমবার (৬ মার্চ, ৬২৮ খৃ.) রাসূলুল্লাহ (স) এই সফরে রওয়ানা হন। ইমাম যুহরী, মূসা ইব্ন্ন উকবা ও কাতাদা প্রমুখ (র) এইরূপ বর্ণনা করিয়াছেন (বায়হাকী, দালাইলুন নুবুওয়াত, ৩খ., পৃ. ৯১)। কিন্তু হিশাম ইব্ن উরওয়া হযরত উরওয়া (র) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) মদীনা মুনাওয়ারা হইতে রমযান মাসে রওয়ানা হন এবং শাওওয়াল মাসে হুদায়বিয়াতে গিয়া পৌঁছেন। কিতাবুল খারাজে ইমাম আবূ ইউসুফ (র) বর্ণনা করিয়াছেন যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির দস্তখতের তারিখ ছিল রমযান মাস। মাওলানা আবদুর রউফ দানাপুরী লিখিয়াছেন, হিশামের এই রিওয়ায়াত শুদ্ধ নহে, কারণ স্বয়ং উরওয়া হইতেই আবুল আসওয়াদ যুল-কা'দা মাসের কথা বর্ণনা করিয়াছেন। উপরন্তু ইমাম বুখারী ও মুসলিম (র) হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) চারটি উমরা করিয়াছেন। ইহার সব কয়টি যুল-কা'দা মাসে। তিনি ইহার মধ্যে হুদায়বিয়ার (মূলতবী) উমরাহও উল্লেখ করিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৬৭)।
এই মতপার্থক্যের আরও একটি ব্যাখ্যা এই যে, আরবগণ জাহিলী যুগে হারাম মাসকে পিছাইয়া দিত (দ্র. আল-কুরআন, ৯: ৩৭)। ৬ষ্ঠ হিজরী পর্যন্ত মাসকে পিছাইয়া দেওয়া সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয় নাই। তাই ৬ষ্ঠ হিজরী এবং ৯ম হিজরীর সমাপ্তিতে লীপ ইয়ারের একটি মাস বৃদ্ধি করা হইয়াছিল। দশম হিজরীতে মাসকে পিছাইয়া দেওয়া নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়। এখন যদি খাঁটি চান্দ্র বৎসর হইতে উপরের দিকে গণনা করা হয় তবে ৬ষ্ঠ হিজরীর যুল-কা'দা মাস ৬ষ্ঠ হিজরীর রমযান মাস হইয়া যায় (যাহা ইমাম আবূ ইউসুফ গ্রহণ করিয়াছেন এবং উরওয়া হইতে এক রিওয়ায়াত রহিয়াছে)। সম্ভবত সন্ধির আলোচনা সমাপ্তি পর্যন্ত উক্ত মাস শেষ হইয়া গিয়াছিল। তাই দস্তখতের তারিখ ছিল শাওওয়াল মাস যাহা উরওয়া বর্ণনা করিয়াছেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৬খ., পৃ. ১০৩)।