📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কয়েকটি বিষয়ে মতভেদ

📄 কয়েকটি বিষয়ে মতভেদ


ইবন ইসহাক বলেন, এই গোত্রদ্বয়ের মদীনা আগমনের ঘটনা ৬ষ্ঠ হিজরী সনে যী-কারাদ )ذی قرد( যুদ্ধের পর জুমাদাল উখরা মাসে ঘটিয়াছিল। ইমাম বুখারীর মতে হুদায়বিয়ার সন্ধির পর ৬ষ্ঠ হিজরীর যুলকাদা মাসে, মুহাম্মাদ ইব্‌ন উমার বলেন, ৬ষ্ঠ হিজরীর শাওওয়াল মাসে। ইবন সা'দ ইব্‌ন হিব্বান ও অন্যান্য ঐতিহাসিকগণ শেষোক্ত মতই পোষণ করেন (প্রাগুক্ত)।
এই সারিয়‍্যার সেনাপতি চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে মতবিরোধ রহিয়াছে। ইব্‌ন ইস্হাকসহ অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতানুযায়ী কুরয ইব্‌ন জাবির আল-ফিহ্‌রী (রা), পক্ষান্তরে মূসা ইব্‌ন উকবা বলেন, সাঈদ ইব্‌ন যায়দ আল-আনসারী আল-আশহালী (রা), অন্যান্যরা সাঈদ-এর পরিবর্তে সা'দ বলিয়াছেন। উল্লিখিত পরস্পরবিরোধী দুই বর্ণনার জট নিরসনে হাফিয ইব্‌ন হাজার বলেন, সম্ভবত কুরয পূর্ণ দলের আমীর ছিলেন, আর সাঈদ বা সা'দ দলের আনসারী সাহাবাদের নেতা ছিলেন। কেহ কেহ জারীর ইব্‌ন আব্দিল্লাহ্ আল-বাজালী (রা)-কে সেনাপতি বলিয়া ধারণা করেন। অথচ এই মত প্রত্যাখ্যানযোগ্য। কেননা তিনি উক্ত সারিয়‍্যার প্রায় চার বৎসর পর ইসলাম গ্রহণ করেন (প্রাগুক্ত)।
বিভিন্ন বর্ণনার দ্বারা দৃশ্যত ইহা বুঝা যায় যে, উষ্ট্রসমূহ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর মালিকানাভুক্ত ছিল। বুখারী শরীফের এক বর্ণনায়ও স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হইয়াছে, 'তোমরা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর উটের সহিত অবস্থান করিতে থাক'। পক্ষান্তরে অন্য বর্ণনায় রহিয়াছে, 'তোমরা সাদাকার উষ্ট্রসমূহের নিকট অবস্থান কর'। এই বিরোধী দুই বর্ণনায় সমাধান এই যে, সাদাকার উষ্ট্রসমূহ পূর্ব হইতেই মদীনার উপকণ্ঠে চরানো হইত এবং উক্‌ল ও উরায়নার লোকেরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর উষ্ট্রপালসহ সাদাকার উষ্ট্রসমূহের সহিত মিলিত হইয়াছিল। এইভাবে উভয় বর্ণনার বৈষম্য দূরীভূত হইয়া যায় (প্রাগুক্ত)।
বুখারী শরীফের সমস্ত বর্ণনায় এই বিষয়ে অভিন্ন বক্তব্য রহিয়াছে যে, বিদ্রোহীরা শুধু রাসূলুল্লাহ (স)-এর রাখালকেই হত্যা করিয়াছিল। মুসলিম শরীফের বর্ণনাসমূহের বক্তব্যও অনুরূপ। তবে আব্দুল আযীয ইব্‌ন সুহায়ব আনাস (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, "অতঃপর তাহারা রাখালদের উপর আক্রমণ চালাইয়া তাহাদিগকে হত্যা করিল"। এই সূত্রে রাখালের বহুবচন ব্যবহার করা হইয়াছে। উল্লিখিত বর্ণনাদ্বয়ের বৈপরীত্ব সমাধানকল্পে বলা যায়, সম্ভবত সাদাকার উষ্ট্রপালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কয়েকজন রাখাল ছিল, তন্মধ্যে কতককে হত্যা করা হইয়াছিল। কিন্তু কোন বর্ণনাকারী শুধু রাসূলুল্লাহ (স)-এর রাখাল হত্যার কথাই উল্লেখ করিয়াছেন, পক্ষান্তরে অন্য বর্ণনাকারী সাদাকার রাখাল হত্যার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন। কিংবা এইরূপ বলা যায় যে, যাহারা বহুবচনে বর্ণনা করিয়াছেন তাহারা মূলত অর্থের ( رواية ( بالمعنى) দিকে লক্ষ করিয়া করিয়াছেন। কেননা কোন সময় বহুবচন বলিয়া পরোক্ষভাবে একবচন উদ্দেশ্য করা হয়। হাফিজ ইব্‌ন্ন হাজার বলেন, ইহাই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বক্তব্য। কেননা মাগাযীর (যুদ্ধ সংক্রান্ত) হাদীছের পণ্ডিতগণ কেহই ইয়াসার ব্যতীত অন্যের নিহত হওয়ার বিষয়টি জোর দিয়া বলেন নাই (প্রাগুক্ত)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00