📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফাদাকে ৩য় অভিযান

📄 ফাদাকে ৩য় অভিযান


হিজরী সপ্তম সনের শা'بان মাস। হযرت বাশীর ইবন সা'د আল-আনসারী (র)-এর নেতৃত্বে এই সারিয়‍্যা পরিচালিত হয়। রাসূলুল্লাহ (স) ত্রিশজন সৈন্যের একটি বাহিনীসহ বাশীর ইবন সা'দ (রা)-কে ফাদাকের বানু মুররা গোত্রের প্রতি প্রেরণ করিলেন। তাহারা ফাদাকে বানূ মুররার চারণভূমিতে পৌঁছিয়া প্রথমেই তাহাদের পশুপালে হানা দিয়া বেশ কিছু উট ও মেষ হস্তগত করেন। বানু মুররা সংগঠিত হইয়া প্রতি-আক্রমণের উদ্দেশ্যে মুসলমানদের পশ্চাদ্ধাবন করিল। পথে উভয় বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই হইল। কতিপয় শত্রুসৈন্য বন্দী হইল، কতিপয় পলায়ন করে। মুসলমানগণ গনীমত লইয়া মদীনায় ফিরিলেন। তবে সেনাপতি বাশীর ইব ن سا'দ (را) গুরুতর আহত হইয়া فاداکের এক ইয়াহুদীর পরিচর্যায় রহিয়া গেলেন। পরে তিনি সুস্থ হইয়া মদীনায় ফিরিয়া আসেন (آسححوس سیر، ص. ۲۱۷)۔
অধিকাংশ سীরাত গ্রন্থের বর্ণনা এই যে، এই অভিযানে مسلم বাহিনী পর্যুদস্থ হইয়াছিল। کতিপয় مسلم শহীদ হইয়াছিলেন، کতিপয় پলায়ন করিতে সক্ষম হন। অবশিষ্ট সাহাবী کافرদের হাতে বন্দী হন (محمد رضا، محمد رسول اللہ، دارول کتب، বৈরুত، ص. ۲۸۵)۔

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফাদাকে ৪র্থ অভিযান

📄 ফাদাকে ৪র্থ অভিযান


হিজরী অষ্টম সনের সফর মাস। হযرت غالیب ইب ن আবদিллаہ (را)-এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সপ্তম হিজরীর শা'بان মাসে বাশীর ইবন ساد-এর সারিয়‍্যার বিপর্যয়ের পর উহার প্রতিশোধ গ্রহণকল্পে রাসূলুল্লাহ (س) হযرت غالیب ইب ن আবদিллаہ (را)-কে দুই শত সৈন্যসহ فاداکের বানু মুররা-এর উদ্দেশে প্রেরণ করেন। তিনি সেনাপতি غالیب ইب ن আবদিллаہ (را)-এর হাতে একটি পতাকা তুলিয়া দিয়া বলিলেন، اگر আল্লাহ তা'آলা তোমাদিগকে বিজয় দান করেন তাহা হইলে সেইখানে যুদ্ধের পর আর অবস্থান করিবে না (کتب المغازی، ۲خ.، ص. ۷۲۵)۔
مسلمগণ শত্রু ভূখণ্ডে গিয়া পৌছিলে کافرগণ উলبا ইব ন যায়د-এর নেতৃত্বে প্রতিরোধে আগাইয়া আসিল। প্রচণ্ড লড়াই হইল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর مسلمগণ বিজয়ী হইলেন। বিপুল পরিমাণ گنیمت মুসলমানদের হস্তগত হইল। বহু کافر সৈন্য নিহত হইল।
এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্যতম সাহাবী حضرت मुहयासा ইবন মাসউদ (রা) বলেন، রাসূলুল্লাহ (স) غالیب ইবন আবদিल्लाہ (রা)-এর সাথে আমাকেও فাদاکে প্রেরণ করিয়াছিলেন। আমরা প্রত্যূষে তাহাদের উপর আক্রমণ করিলাম। আল্লাহ আমাদিগকে বিজয় দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (س) আমাদিগকে বলিলেন، তোমরা মতবিরোধ করিও না، আমার অবাধ্য হইও না। কেননা আমি আল্লাহ্র রাসূল। শোন! যেই ব্যক্তি আমার নিযুক্ত আমীরকে মানিয়া চলিল، সে আমাকেই মানিয়া চলিল। আর যেই ব্যক্তি আমার নিযুক্ত আমীরর অবাধ্য হইল، সে আমারই অবাধ্য হইল (طبقات ابن سعد، ۲خ.، ص. ۱۲۶)۔
এই যুদ্ধে حضرت اسامہ ইবন যায়د (রা) نہیک ইन्न মিরদাস নামক এক کافر শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করেন। লোকটি উচ্চস্বরে کلمہ شهادۃ পড়িতে লাগিল। কিন্তু حضرت اسامہ ইবন যায়د (را) এই মুহূর্তে তাহার کلمہ পড়াকে چতুরতা و প্রতারণা মনে করিয়া তাহার উপর হামলা করিয়া তাহাকে হত্যা করেন। এই সংবাদ সেনাপতি غالیب ইन्न ابدیللہ (را) অবহিত হইয়া اسامہ ইব ن যায়দকে তিরস্কার করিলেন এবং যুদ্ধ হইতে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিবার পর বিষয়টি رسول اللہ (س)-এর দরবারে উপস্থাপন করিলেন। رسول اللہ (س) ঘটনার বৃত্তান্ত শুনিয়া حضرت اسامہ (را)-কে খুব بھاڑنا করিলেন اور بولے، کلمہ پڑھنے کے بعد تم نے ایک شخص کو قتل کیا! تم اس کی "لا الہ الا اللہ" کا کیا جواب دو گے؟ حضرت اسامہ (را) عرض کی، حضرت! وہ شخص سچے دل سے کلمہ نہیں پڑھا تھا، صرف جان بچانے کے لیے پڑھا تھا۔ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم بار بار فرماتے رہے، تم اس کی "لا الہ الا اللہ" کا کیا جواب دو گے؟ حضرت اسامہ (را) بھئے کانپتے ہوئے بولے، ہائے افسوس! میں اگر آج سے پہلے مسلمان نہ ہوتا۔ کیے گئے کام کے افسوس میں وہ بہت غمگین ہو گئے اور بولے، حضور! میں اب کبھی ایسا کام نہیں کروں گا۔ (کتاب المغازی، 2خ.، ص. 725; الرحیق المختوم، دار التدمریا، ص. 383)۔
এই যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গনীমত লাভ হইল। প্রত্যেক মুজাহিদ দশটি উট এবং সম-পরিমাণ মেষ ও বকরী ভাগে পাইয়াছিলেন (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৭২৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফাদাকবাসীদের ইসলাম গ্রহণ

📄 ফাদাকবাসীদের ইসলাম গ্রহণ


ফাদাকের বাসিন্দা বানু সা'د ইব ن বাক্স এবং বানু মুররা হিজরী নবম বৎসরে ইসলাম গ্রহণ করে। হিজরতের নবম বৎসরকে 'আমূল উফুদ (প্রতিনিধি দলের সমাগমের বৎসর) বলা হয়। এই বৎসর বানু সা'د ইব ن বাক্স যিমাম ইব ن ছার্জাবাকে প্রতিনিধি বানাইয়া মদীনায় প্রেরণ করিল। যিমام মদীনা হইতে স্বগোত্রে ফিরিয়া সকলকে বলিলেন، لات ও 'উযযার কোন ক্ষমতা নাই। ইহারা কোন ক্ষতি করিতে পারে না، কোন উপকারও করিতে পারে না। তাহার এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের ফলে গোত্রের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলে সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বেই মুসলমান হইয়া গেল (ابن ہشام، أس-سیرۃ ألن بابیۃ، ص. ۵۷۵)۔
এই বৎসর বানু মুররার তেরজনের একটি প্রতিনিধি দল حارث ইبن 'আওف-এর নেতৃত্বে মদীনায় আগমন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের এলাকার খবরাখবর জিজ্ঞাসা করিলেন। তাহারা বলিল، حضرت! অনাবৃষ্টি আর খরায় দেশ ধ্বংসপ্রায়। আপনি বৃষ্টির জন্য দু'আ করুন। রাসূলুল্লাহ (س) দু'আ করিলেন। তাহারা কয়েক দিন মদীনায় অবস্থান করিয়া দেশে প্রত্যাবর্তন করিবার জন্য নবী کرীম (স)-এর নিকট বিদায় গ্রহণ করিতে আসিল। নবী کرীম (س) بلال (را)-কে বলিলেন، ইহাদের প্রত্যেককে দশ উকিয়া (৪০ دِرهم অর্থাৎ ১০ তোলা) পরিমাণ রৌপ্য দাও। তাহারা দেশে পৌঁছিয়া জানিতে পারিল যে، رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم ঠিক যেই دن বৃষ্টির دوآ করেছিলেন، اسی دن بارش ہوئی تھی۔ (اصح السیر، ص ۴۴۳)

গ্রন্থپঞ্জی : (1) البخاری، الجامع الصحیح، 1، 3 و 4খ.، قاہرہ 1372 ھ؛ (2) مسلم، الجامع الصحیح، 2খ.، قاہرہ؛ (3) الترمذی، الجامع، قاہرہ، 4খ.؛ (4) الترمذی، الشمائل النبویہ (س)، دہلی 1302 ھ؛ (5) ابو داؤد، السنن، قاہرہ، 3خ.؛ (6) احمد، المسند، مصر 1365 ھ؛ (7) ابن حجر العسقلانی، فتح الباری، 6خ.، قاہرہ 1348 ھ؛ (8) ابن ہشام، السیرۃ النبویۃ، 2خ.، قاہرہ 1860 خृ.؛ (9) ابن القیم، زاد المعاد، 2خ.، قاہرہ 1324 ھ؛ (10) حافظ وهابہ، جزیرۃ العرب فی القرن العشرین، اولیٰ، 1354 ھ؛ (11) ابن سعد، الطبقات، 1خ.، برلن 1330 ھ؛ (12) ابن کثیر، البدایہ والنہایہ، 1966 خृ.، 6خ.، ص. 333؛ (13) الطباری، تاریخ الرسل والملوک، 3خ.، قاہرہ 1362 ھ؛ (14) البلذری، فتوح البلدان، قاہرہ، 1خ.؛ (15) بدر الدین العینی، عمدہ القاری، 15خ.، قاہرہ 1956 خृ.؛ (16) شبلی نعمانی، الفاروق، 2خ.، لاہور؛ (17) سعید احمد اکبرآبادی، صدیق اکبر، دہلی 1947 خृ.؛ (18) احمد شاہ بخاری، تحقیق فاداک، 3ی، سرتادے مطبوعہ؛ (19) ابن ہشام، جوامیع السیر، ص. 18-24-218؛ (20) محمود احمد رضوانی، مسئلہ فاداک، لاہور سامیع؛ (21) اسلامی বিশ্বকোষ، اسلامی فاؤنڈیشن بنگلہ دیش، 14خ.، ص. 618، شرو، فاداک؛ (22) عبدالرؤوف دانابوری، اصح السیر، مکتبہ تھانوی، دیوبند 1351 ھ، ص. 164، 196، 210، 217، 369؛ (23) ادریس کاندھلوی، سیرت المصطفى، 2خ.، اشرفی بک ڈپو، دہلی، ص. 424، 449، 344، 3خ.، ص. 135، 128، 238، 242؛ (24) صفی الرحمٰن مبارکپوری، الرہیق المختوم، دار التدمریا، سعودی عرب، ص. 289، 377، 383؛ (25) شبلی نعمانی، سیرت النبی، 1خ.، ص. 289، 338؛ (26) ابن الاثیر الجزری، الکامل فی التاریخ، 2خ، ص. 104؛ (27) الواقدی، کتاب المغازی، 2خ.، ص. 562، 563، 707، 725؛ (28) عبد الحق محدث دہلوی، مدارج النبوۃ، ادب دنیا، دہلی 1992 خृ.، 2خ.، ص. 336، 440، 452.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00