📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফাদাকে ২য় অভিযান

📄 ফাদাকে ২য় অভিযান


ঈসা ইবন আলীনাহ তাহার দাদা হইতে বর্ণনা করেন, সেই দিন আমি হামাজ পল্লী হইতে বাদী পল্লীর দিকে যাইতেছিলাম। দেখিলাম, বানু সাদের নেতা ওয়াবার ইব্‌ন উলায়ম (ویر بن علیم) লোকজনসহ উর্দ্ধশ্বাসে পলায়ন করিতেছে। আমি বলিলাম, কি হইল, পালাইতেছ কেন? সে বলিল, আরে মুহাম্মাদের বাহিনী আসিতেছে! তাহাদিগকে মুকাবিলা করিবার শক্তি আমাদের নাই (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৬৩)। এই অভিযানে মুসলমানদের কোনরূপ ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই। ইহার পরও ফাদাক অভিমুখে আরও তিনটি সারিয়‍্যা প্রেরিত হয়— যথাক্রমে হিজরী সপ্তম সনের মুহাররম ও শা'بان মাসে এবং অষ্টম সনের সফর মাসে।
হিজরী সপ্তম সনের মুহাররম মাস মুতাবিক আগস্ট ৬২৮ খৃ. রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার অভিযানে বাহির হইলেন। খায়বারের নিকটবর্তী পৌছিয়া রাসূলুল্লাহ্ (সা) হযরত মুহায়্যাসা ইবন মাসউদ (محيصة بن مسعود) (রা)-কে ফাদাকবাসীদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করিবার জন্য প্রেরণ করিলেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৭৭)। ইবন হাযমের মতে হযরত আলী (র)-কেও পাঠানো হইয়াছিল (ইসলামী ইনসাইক্লোপেডিয়া, সায়্যিদ কাসিম মাহমূদ সম্পাদিত, পৃ. ১১৪৫)। ফাদাকের দাম্ভিক ইয়াহুদীরা তাঁহার কথায় বর্ণপাত করিল না। তাহারা বলিল, খায়বারে দশ সহস্র বীর যোদ্ধা আছে। তাহাদের ধারণা এই যে, খায়বারের প্রাসিদ্ধ বীর আমের, মারহাব প্রমুখের সম্মুখে রাসূলুল্লাহ্ (স) দাঁড়াইতেই পারিবেন না। হযরত মুহায়‍্যাসা ইবন মাসউদ (রা) সেইখানে দুই দিন অবস্থান করিলেন। তাহাদিগকে বারবার ইসলামের আহ্বান জানাইলেন।
অবশেষ খায়বারের মুসলিম কাফেলা ফিরিয়া যাইবার জন্য উদ্যত হইল। এমন সময় সংবাদ আসিল যে, খায়বার বিজিত হইয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া ফাদাক বাসীগণ প্রমাদ গুনিল এবং সন্ধির জন্য রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সমীপে তাহাদের নেতা ইউশা ইব্‌ন নূনকে পাঠাইল। ইউশা ইব্‌ন নূন খায়বারে রাসূলুল্লাহ্ (س)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করিয়া বলিল، আমরা আপনার সহিত যুদ্ধ করিতে চাহি না، আপনি অনুগ্রহপূর্বক অনুরূপ শর্তে আমাদের সহিত সন্ধি করিতে সম্মত হউন، যেইরূপ শর্তে খায়বারবাসীদের সহিত সন্ধি করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ্ (س) তাহাদের আবেদন মঞ্জুর করে সন্ধির বিষয়ে মধ্যস্থতা করিবার জন্য হযرت মুহায়্যাসা ইবন মাসউদ (را)-কে পুনরায় فاداکে প্রেরণ করিলেন। তিনি فاداکবাসীদের সহিত আলাপ-আলোচনার পর অনুরূপ শর্তে সন্ধি করিয়া খায়বার প্রত্যাবর্তন করিলেন। শর্তগুলি ছিল এই :
১. রাসূলুল্লাহ্ (س) তাহাদিগকে হত্যা করিবেন না؛ (২) فاداکের ভূ-সম্পত্তির মালিক রাসূলুল্লাহ্ (س)। যখন তিনি চাহিবে তখনই তাহাদিগকে নির্বাসিত করিতে পারিবেন؛ (৩) فاداکবাসিগণ বর্গা হিসাবে فاداکের জমি চাষাবাদ করিবে এবং উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক রাসূলুল্লাহ্ (س)-কে প্রদান করিবে।
যেহেতু বিনা যুদ্ধে فاداک অধিকৃত হইয়াছিল، তাই রাসূলুল্লাহ্ (س) এককভাবে فاداکের ভূ-সম্পত্তির স্বত্বাধিকারী হইয়াছিলেন، ইহা সৈন্যদের মধ্যে বণ্টন করেন নাই। তিনি ইহার আমদানী নিজের কাজে এবং বনু هاشم-এর ইয়াতীম ও বিধবাদের লালন-পালন ও ভরণ-পোষণ এবং মুসাফিরদের কল্যাণে ব্যয় করিতেন (فتحول بلدان، পৃ. ৩৪)।
তবে فاداکবাসীদের সহিত সন্ধির মধ্যস্থতার কাজে বিশেষ ভূমিকার কারণে সৌজন্য স্বরূপ রাসূলুল্লাহ্ (س) হযرت মুহায়্যাসা ইবন মাসউদ (রা)-এর জন্য فاداکের আমদানী হইতে প্রতি বৎসর ত্রিশ واساک کھجور اور ত্রিশ واساک یاب برابر تھے۔ (آسححوس سیر، ص. ۱۹۶)
ফاداک বিজয়ের পর রাসূল اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے حضرت حکیم ابن سعید رضی اللہ عنہ کو فاداک اور اس سے ملحقہ علاقوں (عریہ کے دیہات) کا انتظام مقرر کیا۔ (جوامیوس سیرا، ص. 24)
تاہم، فاداک کی زمین کے بارے میں اوپر ذکر کردہ روایت کے برعکس ایک اور روایت یہ ہے کہ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے صلح کے ذریعے فاداک کی زمین کا نصف حصہ حاصل کیا تھا۔ باقی نصف ان کی ملکیت میں چھوڑ دیا گیا تھا۔ عبدالرؤوف دانابوری نے لکھا ہے کہ یہ دوسری روایت زیادہ صحیح ہے۔ اس کا ثبوت یہ ہے کہ حضرت عمر رضی اللہ عنہ نے اپنی خلافت کے دور میں جب یہودیوں کو حجاز سے بے دخل کیا تو خیبر کے یہودیوں کو ان کی زمین کی کوئی قیمت ادا نہیں کی تھی۔ لیکن فاداک کے باشندوں کو ان کی آدھی زمین کی قیمت ادا کی تھی۔ (اساحح السیر، ص. 210) ادا کی گئی قیمت پچاس ہزار درہم تھی۔ (كتاب المغازی، 2খ.، ص. 700)
رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کی وفات کے بعد فاداک کی زمین اور باغات کے بارے میں صحابہ کرام رضی اللہ عنہم کے درمیان اختلاف پیدا ہوا۔ ایک طرف رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کی ازواج مطہرات نے خلیفہ حضرت ابوبکر رضی اللہ عنہ سے مطالبہ کیا کہ انہیں رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کی متروکہ جائیداد سے میراث کا حصہ دیا جائے۔ دوسری طرف رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے چچا حضرت عباس ابن عبدالمطلب اور رسول اللہ کی بیٹی حضرت فاطمہ رضی اللہ عنہا نے مطالبہ کیا کہ خیبر اور فاداک کی زمین کی میراث ان کے درمیان تقسیم کی جائے۔ بعد میں حضرت علی رضی اللہ عنہ نے بھی حضرت فاطمہ رضی اللہ عنہا کے مطالبے کی حمایت کرتے ہوئے خلیفہ حضرت ابوبکر صدیق رضی اللہ عنہ کو درخواست پیش کی۔ اکثر حدیث اور تاریخ کے حوالوں سے ثابت ہے کہ حضرت ابوبکر صدیق رضی اللہ عنہ نے ایک شرعی اصول کی بنیاد پر (اصول کی بنیاد یہ حدیث تھی: نحن الانبیاء لا نورث ولا نورث ما تركنا صدقة) (علیہ السلام) کسی کا وارث نہیں ہوتے اور نہ ہی ہمارے کوئی وارث ہوتے ہیں۔ جو کچھ ہم چھوڑ جاتے ہیں، وہ صدقہ کے طور پر شمار ہوتا ہے۔ (البخاری، الصحیح، باب فرض الخمس، 1/435) ان کے مطالبے کو رد کر دیا۔ انہوں نے کہا، یہ زمینیں اسی طرح خرچ کی جائیں گی جس طرح رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے اپنی زندگی میں خود خرچ کی تھیں۔ حضرت ابوبکر صدیق رضی اللہ عنہ پہلے کی طرح ان زمینوں کی پیداوار نبی صلی اللہ علیہ وسلم کی ازواج مطہرات اور نبی کے خاندان میں تقسیم کرتے تھے اور رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے دیگر اخراجات میں خرچ کرتے تھے۔ اسی طرح رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کی طرح حضرت فاطمہ رضی اللہ عنہا سمیت تمام اہل بیت کے گزر بسر کے اخراجات کی ذمہ داری قبول کرنا بھی ان کا ایک فرض تھا۔ اس کے بعد حضرت فاطمہ رضی اللہ عنہا نے اپنا یہ مطالبہ ترک کر دیا اور زندگی کے آخری دن تک یہ سوال کبھی نہیں اٹھایا (فتوح البلدان، 2/33)۔
حضرت عمر رضی اللہ عنہ اور حضرت عثمان رضی اللہ عنہ سمیت اکثر صحابہ نے حضرت ابوبکر صدیق رضی اللہ عنہ کے اس اصول کی حمایت کی۔ بعد میں حضرت علی رضی اللہ عنہ اور حضرت حسن ابن علی رضی اللہ عنہ نے بھی اپنی خلافت کے دور میں اس فیصلے کو برقرار رکھا تھا (فتوح البلدان، ص. 37)۔ اس سے ثابت ہوتا ہے کہ ابتدائی دور میں نبی صلی اللہ علیہ وسلم کی میراث کے بارے میں کچھ اختلاف تھا، لیکن بعد میں یہ مسئلہ اجماع میں بدل گیا اور یہ صحابہ کرام کے دور میں ہی ہوا۔ لہذا صحابہ کے بعد کے دور سے لے کر اب تک نبی کی میراث کے بارے میں شیعہ فرقے کے اعتراضات اور الزامات اور اس کے بہانے حضرت ابوبکر صدیق رضی اللہ عنہ اور حضرت عمر فاروق رضی اللہ عنہ کو مورد الزام ٹھہرانا بے معنی اور انصاف کے منافی ہے۔
اوپر ذکر کردہ اس مسئلے کی وجہ سے حضرت فاطمہ رضی اللہ عنہا پہلے حضرت ابوبکر صدیق رضی اللہ عنہ سے عارضی طور پر ناراض ہوئیں، لیکن بعد میں انہوں نے ان کے فیصلے کو صحیح تسلیم کیا اور بیماری کے دوران انہوں نے حضرت ابوبکر صدیق رضی اللہ عنہ کو بلوا کر ان سے اپنی رضا مندی کا اظہار کیا۔ اس وقت حضرت ابوبکر صدیق رضی اللہ عنہ نے جذباتی آواز میں کہا، میں نے تو گھر، جائیداد، خاندان، سب کچھ صرف اللہ اور اس کے رسول صلی اللہ علیہ وسلم کی رضا کے لیے اور اے اہل بیت! آپ کی رضا کے لیے قربان کر دیا ہے (البدایہ والنہایہ، 6/333)۔

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফাদাকে ৩য় অভিযান

📄 ফাদাকে ৩য় অভিযান


হিজরী সপ্তম সনের শা'بان মাস। হযرت বাশীর ইবন সা'د আল-আনসারী (র)-এর নেতৃত্বে এই সারিয়‍্যা পরিচালিত হয়। রাসূলুল্লাহ (স) ত্রিশজন সৈন্যের একটি বাহিনীসহ বাশীর ইবন সা'দ (রা)-কে ফাদাকের বানু মুররা গোত্রের প্রতি প্রেরণ করিলেন। তাহারা ফাদাকে বানূ মুররার চারণভূমিতে পৌঁছিয়া প্রথমেই তাহাদের পশুপালে হানা দিয়া বেশ কিছু উট ও মেষ হস্তগত করেন। বানু মুররা সংগঠিত হইয়া প্রতি-আক্রমণের উদ্দেশ্যে মুসলমানদের পশ্চাদ্ধাবন করিল। পথে উভয় বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই হইল। কতিপয় শত্রুসৈন্য বন্দী হইল، কতিপয় পলায়ন করে। মুসলমানগণ গনীমত লইয়া মদীনায় ফিরিলেন। তবে সেনাপতি বাশীর ইব ن سا'দ (را) গুরুতর আহত হইয়া فاداکের এক ইয়াহুদীর পরিচর্যায় রহিয়া গেলেন। পরে তিনি সুস্থ হইয়া মদীনায় ফিরিয়া আসেন (آسححوس سیر، ص. ۲۱۷)۔
অধিকাংশ سীরাত গ্রন্থের বর্ণনা এই যে، এই অভিযানে مسلم বাহিনী পর্যুদস্থ হইয়াছিল। کতিপয় مسلم শহীদ হইয়াছিলেন، کতিপয় پলায়ন করিতে সক্ষম হন। অবশিষ্ট সাহাবী کافرদের হাতে বন্দী হন (محمد رضا، محمد رسول اللہ، دارول کتب، বৈরুত، ص. ۲۸۵)۔

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফাদাকে ৪র্থ অভিযান

📄 ফাদাকে ৪র্থ অভিযান


হিজরী অষ্টম সনের সফর মাস। হযرت غالیب ইب ن আবদিллаہ (را)-এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সপ্তম হিজরীর শা'بان মাসে বাশীর ইবন ساد-এর সারিয়‍্যার বিপর্যয়ের পর উহার প্রতিশোধ গ্রহণকল্পে রাসূলুল্লাহ (س) হযرت غالیب ইب ن আবদিллаہ (را)-কে দুই শত সৈন্যসহ فاداکের বানু মুররা-এর উদ্দেশে প্রেরণ করেন। তিনি সেনাপতি غالیب ইب ن আবদিллаہ (را)-এর হাতে একটি পতাকা তুলিয়া দিয়া বলিলেন، اگر আল্লাহ তা'آলা তোমাদিগকে বিজয় দান করেন তাহা হইলে সেইখানে যুদ্ধের পর আর অবস্থান করিবে না (کتب المغازی، ۲خ.، ص. ۷۲۵)۔
مسلمগণ শত্রু ভূখণ্ডে গিয়া পৌছিলে کافرগণ উলبا ইব ন যায়د-এর নেতৃত্বে প্রতিরোধে আগাইয়া আসিল। প্রচণ্ড লড়াই হইল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর مسلمগণ বিজয়ী হইলেন। বিপুল পরিমাণ گنیمت মুসলমানদের হস্তগত হইল। বহু کافر সৈন্য নিহত হইল।
এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্যতম সাহাবী حضرت मुहयासा ইবন মাসউদ (রা) বলেন، রাসূলুল্লাহ (স) غالیب ইবন আবদিल्लाہ (রা)-এর সাথে আমাকেও فাদاکে প্রেরণ করিয়াছিলেন। আমরা প্রত্যূষে তাহাদের উপর আক্রমণ করিলাম। আল্লাহ আমাদিগকে বিজয় দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (س) আমাদিগকে বলিলেন، তোমরা মতবিরোধ করিও না، আমার অবাধ্য হইও না। কেননা আমি আল্লাহ্র রাসূল। শোন! যেই ব্যক্তি আমার নিযুক্ত আমীরকে মানিয়া চলিল، সে আমাকেই মানিয়া চলিল। আর যেই ব্যক্তি আমার নিযুক্ত আমীরর অবাধ্য হইল، সে আমারই অবাধ্য হইল (طبقات ابن سعد، ۲خ.، ص. ۱۲۶)۔
এই যুদ্ধে حضرت اسامہ ইবন যায়د (রা) نہیک ইन्न মিরদাস নামক এক کافر শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করেন। লোকটি উচ্চস্বরে کلمہ شهادۃ পড়িতে লাগিল। কিন্তু حضرت اسامہ ইবন যায়د (را) এই মুহূর্তে তাহার کلمہ পড়াকে چতুরতা و প্রতারণা মনে করিয়া তাহার উপর হামলা করিয়া তাহাকে হত্যা করেন। এই সংবাদ সেনাপতি غالیب ইन्न ابدیللہ (را) অবহিত হইয়া اسامہ ইব ن যায়দকে তিরস্কার করিলেন এবং যুদ্ধ হইতে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিবার পর বিষয়টি رسول اللہ (س)-এর দরবারে উপস্থাপন করিলেন। رسول اللہ (س) ঘটনার বৃত্তান্ত শুনিয়া حضرت اسامہ (را)-কে খুব بھاڑنا করিলেন اور بولے، کلمہ پڑھنے کے بعد تم نے ایک شخص کو قتل کیا! تم اس کی "لا الہ الا اللہ" کا کیا جواب دو گے؟ حضرت اسامہ (را) عرض کی، حضرت! وہ شخص سچے دل سے کلمہ نہیں پڑھا تھا، صرف جان بچانے کے لیے پڑھا تھا۔ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم بار بار فرماتے رہے، تم اس کی "لا الہ الا اللہ" کا کیا جواب دو گے؟ حضرت اسامہ (را) بھئے کانپتے ہوئے بولے، ہائے افسوس! میں اگر آج سے پہلے مسلمان نہ ہوتا۔ کیے گئے کام کے افسوس میں وہ بہت غمگین ہو گئے اور بولے، حضور! میں اب کبھی ایسا کام نہیں کروں گا۔ (کتاب المغازی، 2خ.، ص. 725; الرحیق المختوم، دار التدمریا، ص. 383)۔
এই যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গনীমত লাভ হইল। প্রত্যেক মুজাহিদ দশটি উট এবং সম-পরিমাণ মেষ ও বকরী ভাগে পাইয়াছিলেন (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৭২৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফাদাকবাসীদের ইসলাম গ্রহণ

📄 ফাদাকবাসীদের ইসলাম গ্রহণ


ফাদাকের বাসিন্দা বানু সা'د ইব ن বাক্স এবং বানু মুররা হিজরী নবম বৎসরে ইসলাম গ্রহণ করে। হিজরতের নবম বৎসরকে 'আমূল উফুদ (প্রতিনিধি দলের সমাগমের বৎসর) বলা হয়। এই বৎসর বানু সা'د ইব ن বাক্স যিমাম ইব ن ছার্জাবাকে প্রতিনিধি বানাইয়া মদীনায় প্রেরণ করিল। যিমام মদীনা হইতে স্বগোত্রে ফিরিয়া সকলকে বলিলেন، لات ও 'উযযার কোন ক্ষমতা নাই। ইহারা কোন ক্ষতি করিতে পারে না، কোন উপকারও করিতে পারে না। তাহার এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের ফলে গোত্রের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলে সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বেই মুসলমান হইয়া গেল (ابن ہشام، أس-سیرۃ ألن بابیۃ، ص. ۵۷۵)۔
এই বৎসর বানু মুররার তেরজনের একটি প্রতিনিধি দল حارث ইبن 'আওف-এর নেতৃত্বে মদীনায় আগমন করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের এলাকার খবরাখবর জিজ্ঞাসা করিলেন। তাহারা বলিল، حضرت! অনাবৃষ্টি আর খরায় দেশ ধ্বংসপ্রায়। আপনি বৃষ্টির জন্য দু'আ করুন। রাসূলুল্লাহ (س) দু'আ করিলেন। তাহারা কয়েক দিন মদীনায় অবস্থান করিয়া দেশে প্রত্যাবর্তন করিবার জন্য নবী کرীম (স)-এর নিকট বিদায় গ্রহণ করিতে আসিল। নবী کرীম (س) بلال (را)-কে বলিলেন، ইহাদের প্রত্যেককে দশ উকিয়া (৪০ دِرهم অর্থাৎ ১০ তোলা) পরিমাণ রৌপ্য দাও। তাহারা দেশে পৌঁছিয়া জানিতে পারিল যে، رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم ঠিক যেই دن বৃষ্টির دوآ করেছিলেন، اسی دن بارش ہوئی تھی۔ (اصح السیر، ص ۴۴۳)

গ্রন্থپঞ্জی : (1) البخاری، الجامع الصحیح، 1، 3 و 4খ.، قاہرہ 1372 ھ؛ (2) مسلم، الجامع الصحیح، 2খ.، قاہرہ؛ (3) الترمذی، الجامع، قاہرہ، 4খ.؛ (4) الترمذی، الشمائل النبویہ (س)، دہلی 1302 ھ؛ (5) ابو داؤد، السنن، قاہرہ، 3خ.؛ (6) احمد، المسند، مصر 1365 ھ؛ (7) ابن حجر العسقلانی، فتح الباری، 6خ.، قاہرہ 1348 ھ؛ (8) ابن ہشام، السیرۃ النبویۃ، 2خ.، قاہرہ 1860 خृ.؛ (9) ابن القیم، زاد المعاد، 2خ.، قاہرہ 1324 ھ؛ (10) حافظ وهابہ، جزیرۃ العرب فی القرن العشرین، اولیٰ، 1354 ھ؛ (11) ابن سعد، الطبقات، 1خ.، برلن 1330 ھ؛ (12) ابن کثیر، البدایہ والنہایہ، 1966 خृ.، 6خ.، ص. 333؛ (13) الطباری، تاریخ الرسل والملوک، 3خ.، قاہرہ 1362 ھ؛ (14) البلذری، فتوح البلدان، قاہرہ، 1خ.؛ (15) بدر الدین العینی، عمدہ القاری، 15خ.، قاہرہ 1956 خृ.؛ (16) شبلی نعمانی، الفاروق، 2خ.، لاہور؛ (17) سعید احمد اکبرآبادی، صدیق اکبر، دہلی 1947 خृ.؛ (18) احمد شاہ بخاری، تحقیق فاداک، 3ی، سرتادے مطبوعہ؛ (19) ابن ہشام، جوامیع السیر، ص. 18-24-218؛ (20) محمود احمد رضوانی، مسئلہ فاداک، لاہور سامیع؛ (21) اسلامی বিশ্বকোষ، اسلامی فاؤنڈیشن بنگلہ دیش، 14خ.، ص. 618، شرو، فاداک؛ (22) عبدالرؤوف دانابوری، اصح السیر، مکتبہ تھانوی، دیوبند 1351 ھ، ص. 164، 196، 210، 217، 369؛ (23) ادریس کاندھلوی، سیرت المصطفى، 2خ.، اشرفی بک ڈپو، دہلی، ص. 424، 449، 344، 3خ.، ص. 135، 128، 238، 242؛ (24) صفی الرحمٰن مبارکپوری، الرہیق المختوم، دار التدمریا، سعودی عرب، ص. 289، 377، 383؛ (25) شبلی نعمانی، سیرت النبی، 1خ.، ص. 289، 338؛ (26) ابن الاثیر الجزری، الکامل فی التاریخ، 2خ، ص. 104؛ (27) الواقدی، کتاب المغازی، 2خ.، ص. 562، 563، 707، 725؛ (28) عبد الحق محدث دہلوی، مدارج النبوۃ، ادب دنیا، دہلی 1992 خृ.، 2خ.، ص. 336، 440، 452.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00