📄 একটি বিধান
স্বামী-স্ত্রী উভয়ে যদি দারুল হারবের (শত্রু রাষ্ট্রের) অধিবাসী হয় এবং স্বামীর পূর্বে স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করে, তাহা হইলে স্ত্রীর ইদ্দতকালের মধ্যে স্বামী মুসলমান হইলে উভয়ের মধ্যে বিবাহ বন্ধন অটুট থাকিবে। আর ইদ্দতকাল অতিক্রান্ত হইলে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিবে, ইহাই সর্বসম্মত অভিমত।
হযরত যয়নব (রা) সংক্রান্ত দুইটি হাদীছের একটি হযরত আমর ইব্ন শু'আয়ব (র) ও অপরটি হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) কতৃক বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন, আমর ইব্ن শু'আয়ب তাঁহার পিতা হইতে, তিনি তাহার দাদা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, "রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার কন্যা যয়নাবকে আবুল আসের নিকট দেনমোহর ধার্যপূর্বক পুনর্বিবাহের মাধ্যমে সমর্পণ করিয়াছিলেন"। এই হাদীছের আলোকে ফকীহগণ অভিমত প্রকাশ করেন যে, স্বামীর পূর্বে স্ত্রী যদি ইসলাম গ্রহণ করে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই স্বামীও মুসলমান হয় তবে এই স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অধিকার অধিক থাকিবে، পূর্ব বিবাহ বহাল থাকিবে। এইরূপ অভিমত প্রকাশ করিয়াছেন মালেক ইব্ন আনাস، আওযাঈ، শাফিঈ، আহমাদ ও ইসহাক (র) প্রমুখ।
হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) কর্তৃক বর্ণিত হইয়াছে، "রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার কন্যা যয়নবকে সুদীর্ঘ ছয় বৎসর পর আবুল আসের নিকট সমর্পن করিয়াছিলেন، নতুন ভাবে কোন বিবাহ চুক্তি করেন নাই"। ইমাম তিরমিযী বলেন، হযরত আমর ইবন শু'আয়বের হাদীছ অপেক্ষা হযرت ইبن আব্বাসের হাদীছ সমধিক গ্রহণযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ফকীহগণ হযرت আমর ইব্ শু'আয়বের হাদীছকেই বিধানের উৎস হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন। হযرت যয়নবের اسلام গ্রহণের পর তাঁহার ইद्दতকালের সময়সীমা পর্যন্ত আবুল আস অমুসলিম অবস্থায় দারুল হারب مক্কার অতবাহিত করেন। সুতরাং حضرت یয়নবের ইদ্দতকাল অতিক্রান্ত হওয়ায় উমায়র বিবাহ বিচ্ছেদ ও पुनर्विवाह অনিবার্য হয়। মুসলমান হওয়ার পর মহানবী (স)-ও তাঁকে নূতন মোহর ধার্য ও पुनर्विवाहের মাধ্যমে حضرت আবুল আসের নিকট সমর্পণ করেন। হযرت ইব্ন আব্বাসের হাদীছতে উল্লেখ আছে، "উভয়ের মধ্যে নূতনভাবে কোন বিবাহ চুক্তি করেন নাই”।
এই জটিলতা নিরসনে ফকীহগণ বলিয়াছেন، 'সুদীর্ঘ এই ছয় বৎসরের মধ্যে মহানবী (স) তাঁহার কন্যাকে অপর কাহারও সহিত বিবাহ দেন নাই অথবা বলা যায়، উভয়ের মধ্যে নূতন কোন বিবাহ চুক্তি করেন নাই' কথাটি বর্ণনাকারীর মূল হাদীছের অংশ নহে।
আর যদি ধরিয়া লওয়া হয়، মহানবী (স) তাঁহার কন্যাকে পুনর্বিবাহ ব্যতিরেকে আবুল আসকে সমর্পণ করিয়াছিলেন، সেই ক্ষেত্রে খাত্তাবী বলেন، হযرت যয়নব সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছগুলিতে উভয়ের বিচ্ছেদের সময়সীমা ছয় বৎসর، তিন বৎসর ও দুই বৎসর কয়েক মাস উল্লেখ করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে، বর্ণনা বৈষম্যের সামঞ্জস্যে বলা যায়، হযরত যয়নব ও আবুল আসের ইসলাম গ্রহণের মধ্যকার ব্যবধানে ছিল ছয় বৎসর। 'মুসলিম নারী অমুসলিম পুরুষের জন্য বৈধ নহে' বিধানটি অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মহানবী (স) তাঁহার কন্যার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটান নাই। বিধানটি অবতীর্ণ হইলে সম্ভবত তিনি তাঁহার কন্যাকে বলেন، এখন তুমি আর আবুল আসের জন্য বৈধ নও। এখন তুমি ইদ্দত পালন কর। তাঁহার ইদ্দতকাল পূরণ হওয়ার পূর্বেই আবুল আস ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন বিধায় মহানবী (স)-ও তাহাদের বিবাহ বন্ধন অটুট রাখিয়াছিলেন (আত্-তাবাকাত، ২খ.، পৃ. ৮৭؛ ইবন হিশام، سীরাতুন নবী، ১খ.، পৃ. ৭৫৭؛ مাদারিজুন نوبوۃ، ২খ.، পৃ. ৩৩২؛ মহানবী (س)-এর জীবনী বিশ্বকোষ، ১খ.، পৃ. ৩৬৪؛ আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া، ৪খ.، পৃ. ২০০؛ উیونول آثر، ২খ.، পৃ. ১৪৫؛ جامعوۃ ترمذی، تکریرۃ ترمذی، পৃ. ৩৬؛ توہفۃ الاحوذی، ৪খ.، পৃ. ২৬৮-৪৫২)।
গ্রন্থপঞ্জী : (১) ইবন সা'د، أت-توبکاتول کبرا، দারو سادر، বৈরুত، تا. বি.؛ (২) ইবন হিশام، سীরাتون নবী، ایتکد پبلشنگ ہاؤس، سوئولان، دہلی، 1982 খৃ.؛ (3) حافظ ابن کثیر، أَل-بیدیہ وآن-نیہایہ، دار و ہیاۃ تورہات، قاہرہ تا. بی.؛ (4) شائخو ابدુલ حق، مادریضون نوبوۃ، ادب دانیہ، 150 میٹیامھل، 1992 خृ.؛ (5) مہانبی (س)-ار جیوبنی বিশ্বکوش، دارول وسیلۃ প্রকাশনী، ڈاکا 2000؛ (6) ابن سایدن الناس، اویونول اثر، দারুল কলম، বৈরূত 1993 খৃ.)।