📄 ঘটনার উৎপত্তি
মহানবী (স)-এর বিশটি দুগ্ধবতী উষ্ট্রী ছিল। মদীনার নিকটবর্তী 'গাবা' নামক স্থানে এইগুলিকে চরানো হইত। সেইখানে বুধবার রাত্রিবেলা উয়ায়না ইন্ন হিস্স্স আল-ফাযারী 'গাতাফান' গোত্রের চল্লিশজন অশ্বারোহী লইয়া আক্রমণ চালায়। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উস্ত্রীপালের রাখাল ছিল বানু গিফার গোত্রের একজন লোক। তাহার সঙ্গে তাহার স্ত্রীও ছিল। তাহারা লোকটিকে হত্যা করে এবং তাহার স্ত্রীকে বন্দী করিয়া উস্ত্রীপালের সহিত লইয়া যায়। আর অমনি জীবন বাজি রাখিয়া সর্বপ্রথম যিনি শত্রু বাহিনীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি হইলেন সালামা ইব্ন আমর ইবনুল আকওয়া' আল-আসলামী (মুখতাসার সীরাতি-রাসূল (স), পৃ. ৩২৭)। তিনি বলেন, আমি তখন 'ইয়া সাবাহাহ' (শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্যের আহ্বান) বলিয়া তিনবার জোরে চীৎকার করিয়া মদীনাবাসীদের কানে পৌঁছাইয়া দিলাম। অতঃপর তিনি 'গাবা'-এর দিকে চলিলেন। তখন তাঁহার সহিত ছিল হযরত তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা)-র এক ক্রীতদাস। সে তাহার মনিবের একটি ঘোড়া চরাইতেছিল। অতঃপর তিনি "ছানিয়াতুল-ওয়াদা' নামক পাহাড়ে আরোহণ করিয়া কাফিরদের বাহিনীকে দেখিতে পাইলেন, শত্রুদের পদচিহ্ন অনুসরণ করিয়া অগ্রসর হইতে হইতে তাহাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করিতে থাকিলেন। অবশেষে শত্রুদের নিকট হইতে তিনি ছিনতাইকৃত উটগুলি এবং তাহাদের ত্রিশখানা চাদর ছিনাইয়া লইতে সক্ষম হইলেন (বুখারী, হাদীছ নং ৩৮৭৪)। ইত্যবসরে মদীনায় এই খবর ছড়াইয়া পড়িল এবং মহানবী (স) তাঁহার অশ্বারোহী বাহিনী লইয়া অগ্রসর হইলেন।
📄 ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
একদিন রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার উটগুলি দেখিয়া আসিবার জন্য হযরত রাবাহকে প্রেরণ করিলেন। হযরত সালামা ইব্ন আকওয়া (রা) হযরত তালহার একটি ঘোড়া লইয়া রাবাহ-এর সহিত গেলেন। তাঁহারা পৌঁছিবার পূর্বেই ফাযারা গোত্রের একদল লুণ্ঠনকারী হানা দিয়া রাখালকে হত্যা করে এবং সমস্ত উট লইয়া রওয়ানা হয়। ঐ দলে আবদুর রহমান ইব্ন উয়ায়নার নেতৃত্বে চল্লিশজন লুণ্ঠনকারী ছিল। গাবার নিকটে পৌছিয়া তাহারা যখন দেখিতে পাইলেন যে, লুণ্ঠনকারীরা উট লইয়া যাইতেছে তখন হযরত সালামা আপন সঙ্গী রাবাহকে বলিলেন, আমি তীর নিক্ষেপ করিয়া লুণ্ঠনকারীদিগকে বাধা দিতে চেষ্টা করিব। আর তুমি এই ঘোড়াটি লইয়া মদীনায় যাইয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে সংবাদ জানাও (তফাজ্জল হোসাইন, হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৬৪৩)।
মাত্র তিনদিন হইল রাসূলুল্লাহ্ (স) হুদায়বিয়া হইতে মদীনায় প্রত্যাগমন করিয়াছেন। এইদিকে মদীনার অলিতে-গলিতে খবর পৌঁছিয়া গিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর উষ্ট্রপাল আক্রান্ত হইয়াছে। মুহূর্তের মধ্যে সাহাবীগণ দলে দলে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর কাছে এই সংবাদ লইয়া আসিতে লাগিলেন। অশ্বারোহী যোদ্ধাদের মধ্য হইতে সর্বপ্রথম যিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এই সংবাদ লইয়া আসিয়াছিলেন তিনি হইলেন হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)।
ইবন ইসহাক বলেন, মিকদাদের ঘোড়ার নাম ছিল 'বা' যাজাহ' অর্থাৎ আক্রমণের ক্ষেত্রে দ্রুতগামী (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ. ১৮১)। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে তাহার বর্শার অগ্রভাবে পতাকা বাঁধিয়া দিয়া বলিয়াছিলেন, "তুমি রওয়ানা হইয়া যাও। অশ্বারোহী বাহিনী গিয়া তোমার সঙ্গিমিলিত হইবে। আমরাও তোমার পিছনে আসিতেছি” (যাদুল মা'আদ, ৩খ., ২৭৮)। মিকদাদের পরপর রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট আসিয়াছিলেন 'আব্বাদ ইব্ন বিশ্র আল-আশহালী, সা'দ ইব্ন যায়দ, উসায়দ ইব্ন যুহায়র, উক্বাশা ইব্ন মিহসান, মুহরিয ইবন নাদুল্লাহ আল-আসাদী আল-আখরাম, আবু কাতাদা আল-হারিছ ইবনুর রাবী এবং আবূ আয়্যাশ উবায়দ ইব্ন যায়দ ইবনুস সামিত আয-যুরায়কী প্রমুখ সাহাবী। রাসূলুল্লাহ (স) হযরত সা'দ ইবন যায়দ আল-আশহালীকে তাঁহাদের আমীর বানাইয়া দিয়া বলিলেন, শত্রুর খোঁজে বাহির হইয়া পড়। আমিও আসিয়া তোমাদের সহিত মিলিত হইব (আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৭৯)।
ইবন হিশাম আরও বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) সেই দিন হযরত আবূ আয়্যাশ (রা)-এর ঘোড়াটি মু'আয ইব্ন মাইস অথবা আইয ইন্ন মাইসকে দিয়াছিলেন। কেননা তিনি ছিলেন অশ্ব পরিচালনায় আবূ আয়্যাশের তুলনায় অধিক পারদর্শী।
এই গাযওয়ায় হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) অশ্বরোহী ছিলেন না, পদাতিক ছিলেন এবং তিনিই ছিলেন এই গাযওয়ার অগ্নিপুরুষ। তীর নিক্ষেপে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সিদ্ধহস্ত। ঘোড়াটি হযরত রাবাহকে দিয়া তিনি পদব্রজে শত্রুদের পশ্চাদ্ধাবন করিলেন। ইতোমধ্যে শত্রুবাহিনীর কাছে পৌঁছিয়া তিনি তাহাদের উপর তীরের পর তীর নিক্ষেপ করিতে লাগিলেন এবং প্রতি তীরের আঘাতেই কোন না কোন শত্রু আহত হইতে লাগিল। অবস্থা এমন হইল যে, তিনি একাই চল্লিশজন লুন্ঠনকারীকে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিলেন। তাহারা ফিরিয়া তাহাকে আক্রমণ করিলে তিনি কখনও বা গাছের আড়ালে, কখনও বা পাথরের আড়ালে আত্মগোপন করিয়া শত্রুদের নাকেমুখে তীর নিক্ষেপ করিতেন এবং তাহাদিগকে ভর্ৎসনা করিয়া বীরগর্বে বলিতেন : خُذْهَا وَأَنَا ابْنُ الأَكْوع - اليوم الرضع.
"এই লও আমার তীর। আমি আকওয়া'-এর সুযোগ্য পুত্র। আজকের এই দিন কঠিন পরীক্ষার দিন; যে বেশী মাতৃদুগ্ধ পান করিয়াছে তাহার দিন।"
এইভাবে তিনি শত্রুবাহিনীর তাড়া খাইয়া নিজেকে লুকাইয়া ফেলেন এবং পুনরায় সুযোগ বুঝিয়া আক্রমণ চালাইতে থাকেন (আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ, ১৭৯)।
লুণ্ঠনকারীরা দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সঙ্কীর্ণ গিরিপথে প্রবেশ করিল। এইবার হযরত সালামা (রা) পাহাড়ের উপরে আরোহণ করিয়া তাহাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করিতে লাগিলেন। ডাকাতরা তাঁহার আক্রমণ হইতে কোন প্রকারেই নিষ্কৃতি লাভ করিতে না পারিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর উটগুলি ছাড়িয়া যাইতে বাধ্য হইল। হযরত সালামা (রা) বলেন, আমি উটগুলিকে মদীনাভিমুখে তাড়াইয়া দিয়া শত্রুদের পশ্চাদ্ধাবন করিলাম এবং পর্যায়ক্রমে তীর নিক্ষেপ করিয়া চলিলাম। শত্রুরা পালাইতে না পারিয়া এক একটি করিয়া গায়ের চাদর ফেলিয়া দিয়া হালকা হইতে লাগিল এবং প্রাণপণে দৌঁড়াইতে লাগিল। আমি চিহ্নস্বরূপ প্রত্যেকটি চাদরের উপর একটি পাথর রাখিয়া দিয়া শত্রুদের পিছনে পিছনে ধাবিত হইয়া তীর নিক্ষেপ করিতে থাকিলাম। অবশেষে তাহারা নিজেদের হাতের বর্শাগুলিও ফেলিয়া দিয়া বোঝা আরও হালকা করিতে লাগিল। তাহারা প্রায় ত্রিশটির বেশী চাদর এবং সম সংখ্যক বর্শা ফেলিয়া গেল। কিন্তু আমি ফিরিয়া না আসিয়া তাহাদিগকে পেছন হইতে তাড়া করিতে লাগিলাম (তফাজ্জল হোছাইন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৬৪৪)।
ইতিমধ্যে হযরত রাবাহ (রা)-এর নিকট সংবাদ পাইয়া সেইখানে মুসলমানদের অশ্বারোহী বাহিনী আসিয়া পৌছিল। মহানবী (স) নিজেও ইব্ن উম্মে মাকতুম (রা)-কে মদীনার দায়িত্বে রাখিয়া রওয়ানা হইলেন। হযরত সালামা বলেন, আমি শত্রুদের পিছনে তীর নিক্ষেপ করিতে করিতে অগ্রসর হইতেছিলাম। এমন সময় ফাযারা গোত্রের একটি লোক আসিয়া তাহাদের সঙ্গী হইল এবং তাহারা সকলে মিলিয়া আহার করিতে বসিল। এই সুযোগে আমিও তাহাদের অনতিদূরে বসিয়া নিজের সঙ্গের রুটি খাইতে লাগিলাম। আগন্তুক লোকটি সম্ভবত তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিল, তোমাদিগকে এত অস্থির দেখিতেছি কেন? তাহারা আমার দিকে ইঙ্গিত করিয়া বলিল, এই লোকটি আজ আমাদিগকে তীর নিক্ষেপ করিতে করিতে অস্থির করিয়া ফেলিয়াছে। আমাদের সাথে যাহা কিছু ছিল সব ফেলিয়া আসিয়াছি। তথাপি সে আমাদের পিছন ছাড়িতেছে না।
এই কথা বলিতে না বলিতেই তাহারা দেখিতে পাইল যে, মুসলমান সৈন্যগণ আসিতেছে। তাঁহাদিগকে দেখিবামাত্রই লুণ্ঠনকারীরা উঠিয়া পালাইতে লাগিল। হযরত সালামা (রা) বলেন, সর্বাগ্রে মুসলিম অশ্বারোহী বাহিনীর মুহরিয ইবন নাদলা আল-আখরাম (রা) আমাকে অতিক্রম করিয়া লুণ্ঠনকারীদিগকে আক্রমণ করিবার জন্য অগ্রসর হইতেছিলেন। আমি তাহার ঘোড়ার লাগাম ধরিয়া বলিলাম, আপনি একা যাইবেন না, রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে আসিতে দিন। তিনি বলিলেন, হে সালামা! তুমি যদি আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনিয়া থাক এবং বেহেশত ও দোযখকে সত্য বলিয়া বিশ্বাস কর তবে আমাকে বাধা দিও না। শহীদ হইয়া বেহেশতে প্রবেশ করিবার সুযোগ দাও। এই কথা শুনিয়া আমি ঘোড়ার লাগাম ছাড়িয়া দিলাম। তিনি অগ্রসর হইয়া লুণ্ঠনকারীদের দলপতি 'আবদুর-রহমানকে আক্রমণ করিলেন। উভয়ের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ বাঁধিয়া গেল। অল্পক্ষণের মধ্যেই শাহাদাতের পেয়ালা পান করিয়া তিনি স্বীয় উদ্দেশ্যে সফলকাম হইলেন।
এইবার আবু কাতাদা (রা) অগ্রসর হইয়া আখরামের (রা) হত্যাকারী আবদুর রহমানকে তরবারির এক আঘাতেই হত্যা করিলেন। ইহাতে মুশরিক বাহিনী মনোবল হারাইয়া পিছু হটিতে লাগিল। হযরত সালামা বলেন, 'আমি আবার পূর্ণোদ্যমে তাহাদের পশ্চাদ্ধাবন করিলাম। অবশেষে তাহারা পিপাসায় কাতর হইয়া যু-কারাদ জলাশয় হইতে পানি পান করিতে চাহিল। কিন্তু আমার বিরামহীন তীর বর্ষণের ফলে তাহারা পানিও পান করিতে পারিল না। সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা তাহাদিগকে তাড়া করিতে থাকিলাম এবং আরও দুইটি অশ্ব তাহাদের নিকট হইতে কাড়িয়া লইলাম।
সন্ধ্যার পরক্ষণে রাসূলুল্লাহ্ (স) আসিয়া আমাদের সহিত মিলিত হইলেন। আমি বলিলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! শত্রুগণ ক্ষুৎ-পিপাসায় অত্যন্ত কাতর হইয়া পড়িয়াছে। আপনি আমাকে এক শত সৈন্য দিন। আমি শত্রুদলের সকলকে হত্যা করিয়া তাহাদের বাহনগুলি ছিনাইয়া লই। রাসূলুল্লাহ (স) হাসিয়া বলিলেন: "তুমি যখন জয়ী হইয়াছ তখন সদয় হও।" إذا ملكت فاسجح
তৎসঙ্গে তিনি ইহাও বলিলেন: নিশ্চয় তাহারা এতক্ষণে গাতাফানে পৌছিয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিতেছে (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৩৬৩)।
ইবন ইসহাক বলেন, এই গাযওয়ায় আটজন অশ্বarোহী মুজাহিদ ছিলেন। নিজ নিজ ঘোড়ার নামসহ তাঁহাদের তালিকা নিম্নরূপ:
(১) মাহমূদ ইবন মাসলামা। তাঁহার ঘোড়ার নাম ছিল যাল-লাম্মাহ্ বা কঠোর। (২) সা'দ ইব্ন যায়দ; তাঁহার ঘোড়ার নাম ছিল 'লাহিক' বা অগ্রবর্তী বস্তুর পশ্চাদ অনুসরণকারী। (৩) মিকদাদ ইবন 'আমর; তাঁহার ঘোড়ার নাম ছিল 'আযজা' বা দ্রুত আক্রমণকারী। উহাকে সাবহা (سبحة)-ও বলা হইত। (৪) উক্বাশা ইন্ন মিহসান; তাঁহার ঘোড়ার নাম ছিল 'যুল-লাম্মাহ' বা কঠোর। (৫) আবু কাতাদা হারিছ ইব্ন রিব'ঈ; তাঁহার ঘোড়ার নাম ছিল 'হাযরাহ' বা যে শত্রুকে ভীত-সন্ত্রস্ত করিয়া তোলে। (৬) 'আব্বাদ ইব্ন বিশর; তাঁহার ঘোড়ার নাম ছিল 'লুম্মা' বা উজ্জল। (৭) উসায়দ ইবন হুদায়র; তাঁহার ঘোড়ার নাম ছিল 'মাসনূন' বা তীক্ষ্ণ। (৮) আবূ আয়্যাশ 'উবায়দ ইব্ন যায়দ; তাঁহার ঘোড়ার নাম ছিল 'জালওয়াহ্' বা যে তাহার প্রভুর দুশ্চিন্তা দূরীভূত করে (ইন্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ, ১৮১)।
রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার উদ্ধারকৃত উন্ত্রীপাল হইতে একটি উন্ত্রী যবেহ করিলেন এবং সেই স্থানে একদিন একরাত্রি অবস্থান করিয়া মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিলেন। উষ্ট্রীপালের রাখাল গিফারীর স্ত্রী মদীনায় আসিয়া তথা হইতে একটি উন্ত্রী যবেহ করিবার মানত করিল। কিন্তু উষ্ট্রীর প্রকৃত মালিক সে ছিল না। তাই রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাকে জানাইয়া দিলেন যে, আল্লাহর নাফরমানী করিয়া কাহারও কোন মানত করিবার সুযোগ নাই এবং যে বস্তুর সে মালিক নহে, তাহাতেও কোন মানত চলিবে না।
মহানবী (স) এই গাযওয়ায় প্রাপ্ত 'মাল' মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেন। হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) আমাকে দুইটি অংশ দিয়াছেনঃ একটি পদাতিক যোদ্ধার অংশ এবং অপরটি অশ্বরোহী যোদ্ধার অংশ। মদীনায় ফিরিবার সময় তিনি আমাকে তাঁহার সহিত তাঁহার 'আদবা' নামক বাহনে চড়াইয়া সম্মানিত করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন: আজিকার দিন আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী যোদ্ধা হইল আবু কাতাদা। আর সর্বশ্রেষ্ট পদাতিক যোদ্ধা হইল সালামা ইবনুল আকওয়া' (রা) (মুবারকপুরী, প্রাগুক্ত)।
গ্রন্থপঞ্জী ঃ (১) আল-বুখারী, আস-সাহীহ, আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়া, ইস্তাম্বুল, ১৯৮১ খৃ., ৫খ.; (২) মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশায়রী, আস-সাহীহ, দারুল হাদীছ, কায়রো ১৯৯১ খৃ, ৩খ.; (৩) ইব্ن হাজার আল-'আসকালানী, ফাতহুল বারী, দারুর রায়্যান লিত-তুরাছ, কায়রো ১৯৮৬ খৃ., ৭খ.; (৪) বদরুদ্দীন আল-'আয়নী, উমদাতুল কারী, ইহয়া আত-তুরাছ আল-আরাবী, বৈরূত তা. বি., ১৭খ.; (৫) ইব্ن কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, দারুল রায়্যান লিত-তুরাছ, কায়রো ১৯৮৮ খৃ., ৪খ.; (৬) ইব্ن হিশাম, আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, দারুল মানار, কায়রো ১৯৯০ খৃ., ৩খ.; (৭) ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যা, যাদুল মা'আদ, মুআস্সাসাতুর রিসালা, বৈরূত ১৯৮৭ খৃ., ৩খ.; (৮) সফীউর রহমান মুবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতুম, মুআস্সাসাতুর রায়্যান, বৈরূত ১৯৯৭ খৃ.; (৯) ইমাম মুহাম্মাদ ইব্ন আবদিল ওয়াহহাব, মুখতাসারু সীরাতির রাসূল (স), মাকতাবাতু দারিস সালাম, রিয়াদ ১৯৯৭ খৃ.; (১০) মাওলানা মুহাম্মদ তফাজ্জল হোছাইন, হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, ইসলামিক রিসার্চ ইনষ্টিটিউট বাংলাদেশ, ঢাকা, ২০০১ খৃ.।