📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ


রাসূলুল্লাহ (স) অতঃপর মসজিদে নববীতে গেলেন এবং মিম্বরে দাঁড়াইয়া আবদুল্লাহ ইব্‌ন উবাই প্রসঙ্গে বলিলেন: يا معشر المسلمين من يعذرني من رجل قد بلغنى اذاه في اهل بيتي فوالله ما علمت على اهلى الا خيرا ولقد ذكروا رجلا ما علمت عليه الا خيرا لا يدخل بيتي قط الا وانا حاضر ولا غبت في سفر الا غاب معي.
“হে মুসলিমগণ! যে ব্যক্তি আমার স্ত্রীর ব্যাপারে বদনাম ও অপবাদ রটাইয়া আমাকে কষ্ট দিয়াছে, তাহার বিরুদ্ধে কে আমাকে সাহায্য করিতে পার? আল্লাহ্র কসম! আমি আমার পরিবার সম্বন্ধে উত্তম বৈ অন্য কিছু অবগত নই। যাহাকে জড়াইয়া কানাঘুষা চলিতেছে তাহার সম্পর্কেও ভাল ছাড়া মন্দ কিছু জানি না। সে আমার সঙ্গে ছাড়া কখনও একাকী আমার ঘরে প্রবেশ করে নাই। আমি সফরে থাকিলে সেও আমার সফরসঙ্গী হইত” (সহীহ বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৯৫; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ৩খ., পৃ. ২৯৮)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণশেষে সা'দ ইব্‌ন মু'আয আনসারী (রা) দাঁড়াইয়া নিবেদন করিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনাকে সাহায্য করিবার জন্য আমি প্রস্তুত। অপবাদ রটনাকারী যদি আওস গোত্রীয় হয় তবে আমি নিজেই তাহার গর্দান উড়াইয়া দিব। আর সে যদি খাযরাজ গোত্রভুক্ত হয় তখন আপনি যেই আদেশ দিবেন আমরা তাহা পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সা'দ ইবন 'উবাদা (রা) খাযরাজ গোত্রের সর্দার। তিনি দাঁড়াইয়া বলিলেন, অপরাধী খাযরাজ গোত্রীয় হওয়ায় সা'দ ইব্‌ন মু'আয এই উক্তি করিয়াছেন। তাঁহাকে সম্বোধন করিয়া সা'দ ইব্‌ন উবাদা বলিলেন, আল্লাহর কসম! আপনি তাহাকে কখনও হত্যা করিতে পারিবেন না। সা'দ ইব্‌ন মু'আযের চাচাত ভাই উসায়দ ইব্‌ন হুদায়র (রা) দাঁড়াইয়া সা'দ ইবন 'উবাদাকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, আপনি ভুল বলিতেছেন। রাসূলুল্লাহ যখন হুকুম করিবেন, আমরা অবশ্য তাহাকে হত্যা করিব, অপরাধী খাযরাজ গোত্রের হউক অথবা অন্য কোন গোত্রের হউক। আমাদের কেহ বাঁধা দিতে পারিবে না। আপনি কি মুনাফিক! কেন মুনাফিকদের পক্ষ অবলম্বন করিতেছেন? এইভাবে কথা কাটাকাটিতে যখন উত্তেজনা বৃদ্ধি পাইল, দাঙ্গা বাঁধিবার উপক্রম হইল আল্লাহ্র রাসূল তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করিয়া উভয় পক্ষকে শান্ত করিলেন (সহীহ বুখারী, ২খ, ৫৯৫; ইব্‌ন হিশাম, সীরাতুন্নবী, ৩খ., পৃ. ২০২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আইশা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর পরামর্শ

📄 আইশা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর পরামর্শ


আইশা (রা) দিবা-রাত্রি কান্নাকাটি করিতেন। তাঁহার মনে হইতেছিল বেদনায় বুঝি হৃৎপিণ্ড বিদীর্ণ হইয়া যাইবে। ভোরবেলা হযরত আবূ বাক্‌র (রা) মেয়ের পাশে উপবেশন করিলেন। ইত্যবসরে আনসারী এক মহিলা আগমন করিলেন। তিনিও তাহাদের সহিত কান্নায় শরীক হইলেন। ঠিক সেই সময় রাসূলুল্লাহ (স) ঘরে প্রবেশ করিয়া সালাম দিলেন এবং আইশা (রা)-র পাশে বসিলেন। অপবাদ রটনার পর হইতে তিনি পাশে বসেন নাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করিয়া বলেনঃ يا عائشة انه بلغني عنك كذا وكذا فان كنت برئية فيبرئك الله وان كنت المت بذنب فاستغفرى الله وتوبى اليه فان العبد اذا اعترف بذنبه ثم تاب تاب الله عليه.
"হে আইশা! লোকেরা যে আজেবাজে কথা বলিতেছে তাহা আমার কানে পৌঁছিয়াছে। তুমি যদি নির্দোষ হও তাহা হইলে আল্লাহ তোমাকে নিশ্চিতভাবে দোষমুক্ত করিবেন। যদি তুমি কোন পাপ করিয়া থাক, তাহা হইলে আল্লাহ্র নিকট তাওবা কর এবং তাঁহার নিকট গুনাহ মাফ চাও। কারণ বান্দা যখন পাপ স্বীকার করিয়া তওবা করে, আল্লাহ তাহা কবুল করেন" (সহীহ বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৯৬; তারীখ তাবারী, ২খ., পৃ. ৬১৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আইশা (রা)-এর ধৈর্য ও দৃঢ়তা

📄 আইশা (রা)-এর ধৈর্য ও দৃঢ়তা


আইশা (রা) বলেন, আল্লাহ্র রাসূল যখন তাঁহার কথা সমাপ্ত করিলেন তখন আমার কান্না থামিয়া গেল। চোখে এক বিন্দু অশ্রুও রহিল না। আমি আমার বাবাকে বলিলাম, আপনি আমার পক্ষে জবাব দিন। বাবা বলিলেন, আমার তো কিছু বুঝে আসিতেছে না, আমি কি জবাব দিব। এইবার মাকে বলিলাম জবাব দেওয়ার জন্য। মাও একই জবাব দিলেন। অগত্যা আমি নিজেই জবাব দিলাম : 'আল্লাহ সম্যক অবগত আছেন যে, আমি নির্দোষ। ঘটনাটি আপনাদের মনে এমনভাবে রেখাপাত করিয়াছে যে, আমি যতই নিজেকে বলি নির্দোষ ও পবিত্র এবং আল্লাহ তাহা ভালভাবে জ্ঞাত আছেন, আপনারা কিন্তু বিশ্বাস করিবেন না। আর যদি অগত্যা আমি স্বীকার করিয়া লই, সেইটা হইবে মিথ্যা! অথচ আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং জানেন যে, আমি নিরপরাধ, আপনারা তাহা বিশ্বাস করিবেন'। আইশা (রা) কাঁদিয়া বলিয়া উঠিলেন: والله لا اتوب الى الله فما ذكرت ابدا .
"আল্লাহ্র কসম! আপনারা যেই ব্যাপার লইয়া বলাবলি করিতেছেন, আমি কখনও সেই ব্যাপারে আল্লাহর কাছে তাওবা করিব না।" আমি কেবল এইটুকু বলিব যাহা ইউসুফ (আ)-এর পিতা বলিয়াছিলেন: فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ.
"সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়। তোমরা যাহা বলিতেছ সেই বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ আমার সাহায্যস্থল” (১২: ১৮; ইব্‌ন হিশাম, সীরাতুন্নবী, ৩খ, ১৯১; তারীখ তাবারী, ২খ., পৃ. ৬১৬)।
এই কথা বলিয়া আইশা (রা) মুখ ফিরাইয়া বিছানায় চুপচাপ শুইয়া পড়িলেন। আইশা (রা) বলেন, 'আল্লাহ তো জানেন যে, সেই মুহূর্তেও আমি পবিত্র। আর আমি ইহাও জানিতাম যে, আল্লাহ আমাকে পবিত্র প্রমাণ করিবেন। তবে আল্লাহ্র কসম! আমি কখনও ধারণা করিয়া নাই যে, আল্লাহ আমার বিষয়ে ওহী নাযিল করিবেন, যাহা পঠিত হইবে। আমার কোন ব্যাপারে আল্লাহ আয়াত নাযিল করিবেন, নিজেকে আমি এতখানি যোগ্য মনে করি নাই; বরং আমি এতটুকু আশা করিতাম যে, তিনি স্বপ্নের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (স)-কে আমার পবিত্রতা সম্পর্কে জানাইয়া দিবেন' (সহীহ্ বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৯৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আল্লাহ্ পক্ষ হইতে সুসংবাদ

📄 আল্লাহ্ পক্ষ হইতে সুসংবাদ


রাসূলুল্লাহ (স) স্থান ছাড়িয়া তখনও উঠেন নাই, ওহী নাযিল হওয়ার লক্ষণ দেখা দিল। তাঁহাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করা হইল, তাঁহার মাথার নিচে চামড়ার তৈরী বালিশ দেওয়া হইল। শীতের মৌসুমেও তাঁহার চেহারা মুবারক হইতে মুক্তার দানার মত ঘাম ঝরিতেছিল। আইশা (রা) বলেন: فاما انا فوالله ما فزعت ولا باليت قد عرفت انى برئية وان الله غير ظالمي واما ابواى فما سرى عن رسول الله ﷺ حتى ظننت لتخرجن انفسهما خرقا من ان ياتي من الله تحقيق ما قال الناس.
“যেই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর ওহী নাযিল শুরু হইল, আল্লাহ্র কসম! আমি মোটেও ভীত হই নাই। কারণ আমি জানি যে, আমি দোষমুক্ত এবং আল্লাহ আমার উপর যুলুম করিবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (স)-এর সেই বিশেষ অবস্থার অবসান না ঘটিতেছিল ততক্ষণ কিন্তু ভয়ে আমার মা-বাবার এমন অবস্থা হইয়াছিল যে, আমার আশংকা ছিল যদি তাঁহারা প্রাণ হারান। লোকেরা যাহা বলাবলি করিতেছে তাহার সত্যতা বর্ণনা করিয়া যদি আল্লাহ ওহী নাযিল করেন ইহাই ছিল তাঁহাদের ভয়ের কারণ" (ইবন হিশাম, সীরাতুন্নবী, ৩খ, ১৯১; তারীখ তাবারী, ২খ., পৃ. ৬১৬)।
হযরত আবূ বাক্‌র (রা) একবার রাসূলুল্লাহ (স)-এর দিকে, আরেকবার আইশা (র)-এর দিকে তাকাইতে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর দিকে যখন তাকাইতেন তখন আশংকা করিতেন, না জানি আসমান হইতে কি ফয়সালা অবতীর্ণ হইতেছে, যাহা কিয়ামত পর্যন্ত থাকিবে অম্লান ও অক্ষয়। আইশা (রা)-এর প্রতি তাকাইলে কিছুটা আশার আলো দেখিতেন। আইশা সিদ্দীকা (রা) ছাড়া ঘরের অন্যান্য মানুষেরা আশা- নিরাশার দোলায় হিমশিম খাইতে থাকেন। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ওহী অবতরণ সমাপ্ত হইল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর পবিত্র চেহারায় আনন্দ ও খুশীর লক্ষণ পরিস্ফুটিত হইল। ললাটের ঘাম মুছিতে মুছিতে রাসূলুল্লাহ (স) আইশা (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন: ابشري يا عائشة فقد انزل الله برائك.
৪৩ "হে আইশা! সুসংবাদ গ্রহণ কর। মহান আল্লাহ তোমার নির্দোষিতার কথা নাযিল করিয়াছেন” (সহীহ বুখারী, ২খ., পৃ. ৭০০; ইব্‌ন হিশাম, সীরাতুন্নবী, ৩খ, ১৯১-২)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) সূরা নূরের নিম্নলিখিত দশটি আয়াত তিলাওয়াত করিয়া শুনাইলেনঃ إِنَّ الَّذِينَ جَاءُو بِالافْكِ عُصْبَةٌ مِّنْكُمْ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًا لَكُمْ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ مَّا اكْتَسَبَ مِنَ الإِثْمِ وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ. لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنتُ بِأَنْفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا هذا افْكَ مُّبِينٌ. لَوْلَا جَاءُوْ عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاء فَأُولَئِكَ عِنْدَ اللهِ هُمُ الكَذِبُونَ. وَلَوْلا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ إِذْ تَلَقُونَهُ بِالْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ مَّا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ. وَلَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُمْ مَّا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَتَكَلَّمَ بهذا سُبْحَنَكَ هذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ. يَعِظُكُمُ اللَّهُ أَنْ تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَدًا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ. وَيُبَيِّنَ الله لَكُمُ الايتِ وَاللَّهُ عَلِيْمٌ حَكِيمٌ إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ. وَلَوْلا فَضْلُ اللهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ وَأَنَّ اللَّهَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ.
"যাহারা এই অপবাদ রটনা করিয়াছে, তাহারাতো তোমাদেরই একটি দল। ইহাকে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করিও না, বরং ইহা তো তোমাদের জন্য কল্যাণকর, উহাদের প্রত্যেকের জন্য আছে উহাদের কৃত পাপকর্মের ফল এবং উহাদের মধ্যে যে এই ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছে, তাহার জন্য আছে মহাশাস্তি। যখন তাহারা ইহা শুনিল তখন মু'মিন পুরুষ এবং মু'মিন নারিগণ আপন লোকদের সম্পর্কে কেন ভাল ধারণা করিল না এবং বলিল না, 'ইহা তো সুস্পষ্ট অপবাদ।' তাহারা কেন এই ব্যাপারে চারিজন সাক্ষী উপস্থিত করে নাই? যেহেতু তাহারা সাক্ষী উপস্থিত করে নাই, সে কারণে তাহারা আল্লাহ্র নিকট মিথ্যাবাদী। দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকিলে তোমরা যাহাতে লিপ্ত ছিলে তজ্জন্য মহাশাস্তি তোমাদিগকে স্পর্শ করিত। যখন তোমরা মুখে মুখে ইহা ছড়াইতেছিলে এবং এমন বিষয় মুখে উচ্চারণ করিতেছিলে যাহার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না এবং তোমরা ইহাকে তুচ্ছ গণ্য করিয়াছিলে, যদিও আল্লাহ্র নিকট ইহা ছিল গুরুতর বিষয়। এবং তোমরা যখন ইহা শ্রবণ করিলে তখন কেন বলিলে না, এ বিষয়ে বলাবলি করা আমাদের উচিত নহে; আল্লাহ পবিত্র মহান। ইহা তো এক গুরুতর অপরাধ। আল্লাহ তোমাদিগকে উপদেশ দিতেছেন, তোমরা যদি মু'মিন হও তবে কখনও অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি করিও না। আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। যাহারা মু'মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাহাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জাননা। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকিলে তোমাদের কেহই অব্যাহতি পাইতে না এবং আল্লাহ দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু" (২৪ঃ ১১-২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) যখন আইশা (রা)-র পবিত্রতা ও দোষমুক্তি সম্পর্কিত পবিত্র কুরআনের উপরিউক্ত দশটি আয়াত তিলাওয়াত সমাপ্ত করিলেন, হযরত আবূ বাক্‌র (রা) আনন্দে উচ্ছসিত হইয়া তৎক্ষণাৎ স্বীয় কন্যা আইশা (রা)-র কপালে চুমা দিলেন। আইশা (রা) বলেন, فلا عزرتنی "আপনি প্রথমেই আমাকে নিরপরাধ ও নির্দোষ মনে করেন নাই কেন"?
এই কথা শুনিয়া হযরত আবূ বাক্‌র সিদ্দীক (রা), যিনি সততা ও ধৈর্যের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছেন, জবাব দিলেন: أى السماء تظلني واى ارض تقلني اذا قلت مالم اعلم واجيب.
"কোন্ আসমান আমাকে ছায়া দান করিবে কান্ যমীন আমাকে ধারণ করিবে, যদি আমি এমন কথা বলি যাহা আমি মোটেই জানি না।" (সায়‍্যদ মাহমূদ আলুসী বাগদাদী, রূহুল মা'আনী, ১৮খ., পৃ. ১০৯)।
হযরত আইশা (রা)-র মা উম্ম কাহারও শুকরিয়া আদায় করিব না। কুলের প্রতি শোকরিয়া জ্ঞাপন কর। আইশা (রা) জলাল করিয়াছেন" (সহীহ বুখারী, ২খ., আল্লাহ্র কসম! আমি উঠিব না, যে কারণে আল্লাহ আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করিয়াছেন" (বুখারী, পৃ. ৫৯৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00