📄 জুওয়ায়রিয়া (রা)-এর স্বপ্ন
এই যুদ্ধের তিন দিন পূর্বে জুওয়ায়রিয়া (রা) একটি স্বপ্ন দেখেন যাহার তাৎপর্য ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর তাঁহার সহিত বিবাহ। বলা যায়, স্বপ্নটি ছিল এই বিবাহেরই পূর্ব-সুসংবাদ। উরওয়া ইবনুয-যুবায়র হইতে বর্ণিত। জুওয়ায়রিয়া (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) মুরায়সীতে আগমনের তিন দিন পূর্বে আমি স্বপ্নে দেখিলাম যে, ইয়াছরিব হইতে একটি চাঁদ আসিয়া আমার কোলের উপর পতিত হইল। এই স্বপ্ন আমি কাহারও নিকট প্রকাশ করা পছন্দ করিলাম না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে আযাদ করিয়া বিবাহ করিলেন। আমি আমার সম্প্রদায়ের কাহাকেও ইহা বলি নাই। এমনকি মুসলমানগণ তাহাদিগকে আযাদ করিয়া দিল। এই সংবাদ আমি অন্য কোন মাধ্যম হইতে জানিতে পারি নাই, কেবল আমার এক চাচাতো বোনই আমাকে এই সংবাদ দেয়। তখন আমি আল্লাহ্র প্রশংসা করি (ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১৫৯; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৩৪৭; আল-ওয়াকিদী, মাগাযী, ১খ., ৪১২)।
বিবাহের এই সংবাদ মুসলমানদের মধ্যে ছড়াইয়া পড়িলে লোকজন বলাবলি করিতে লাগিল যে, ইহারা তো রাসূলুল্লাহ (স)-এর শ্বশুরের বংশ। তাহারা এই বলিয়া তাহাদের অধীনে যত দাস-দাসী ছিল সবাইকে মুক্ত করিয়া দিল। হযরত আইশা (রা) বলিতেন, তাঁহাকে বিবাহের ফলে বনু মুসতালিক গোত্রের প্রায় এক শত পরিবারকে মুক্ত করিয়া দেওয়া হয়। নিজ কওমের জন্য এমন বরকতসম্পন্না মহিলা আমি আর কখনও দেখি নাই (ইব্ন হিশাম, আস-সীরা, ৩খ., পৃ. ২৪০-৪১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১৫৯; আত-তাবারী, তারীখ, ২খ., পৃ. ৬১০)।
প্রভাবশালী এই গোত্রের গোত্রপতির কন্যাকে রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক বিবাহের ফলে গোত্রের সকলেই মুসলমানদের প্রতি এবং মুসলমানগণও উক্ত গোত্রের প্রতি সদয় হইল। ফলে পারস্পরিক হৃদ্যতা বৃদ্ধি পাইল এবং এই অঞ্চল হইতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতার আশঙ্কা রহিল না। পরবর্তী কালে গোত্রের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করায় মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পাইল। এই সফরেই হযরত আইশা (রা)-এর গলার হার হারাইয়া যায় এবং তাঁহার প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয় (এই ব্যাপারে বিস্তারিত দ্র. 'ইফকের ঘটনা' শীর্ষক পরবর্তী নিবন্ধ)।
গ্রন্থপঞ্জী : (১) আল-কুরআনুল কারীম, সূরা আল-মুনাফিকূন; (২) আল-বুখারী, আস-সাহীহ, দারুস সালাম, রিয়াদ ১৪১৭/ ১৯৯৭, ১ম সং.; (৩) আত-তাবারী, তারীখুল উমাম ওয়াল-মুলুক, বৈরূত তা.বি.; (৪) ইবনুল জাওযী, আল-মুনতাজাম ফী তারীখিল উমাম ওয়াল-মুলুক, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যা, বৈরূত ১৪১২/ ১৯৯২, ১ম সং.; (৫) ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, দারুল ফিক্ আল-আরাবী, জীযা, মিসর ১৩৫১/১৯৩২, ১ম সং.; (৬) ইবনুল আছীর, আল-কামিল ফিত-তারীখ, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যা, বৈরূত ১৪০৭/১৯৮৭, ১ম সং.; (৭) আস-সুহায়লী, আর-রাওদুল উনুফ, দার ইহ্ইয়াউত তুরাছ আল-আরাবী, বৈরূত ১৪১২/১৯৯২, ১ম সং.; (৮) ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, কায়রো ১৪০৮/১৯৮৭, ১ম সং.; (৯) মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আস-সালিহী আশ-শামী, সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ ফী সীরাতি খায়রিল ‘ইবাদ, বৈরূত ১৪১৪/১৯৯৩, ১ম সং.; (১০) আল-ওয়াকিদী, কিতাবুল মাগাযী, ‘আলামুল কুতুব, বৈরূত ১৪০৪/১৯৮৪, ৩য় সং.; (১১) ইব্ন সা'দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, বৈরূত তা.বি.; (১২) আল-কাসতাল্লানী, আল-মাওয়াহিবুল-লাদুন্নিয়্যা, বৈরূত ১৪১২/১৯৯১, ১ম সং.; (১৩) মুহাম্মাদ আবূ যাহরা, খাতামুন-নabiyīn, কায়রো তা.বি.; (১৪) ইব্ন কাছীর, আস-সীরাতুন-নাবাবিয়্যা, দার ইহ্ইয়াউত-তুরাছ আল-আরাবী, বৈরূত তা.বি.; (১৫) ইব্ন সায়্যিদিন নাস, ‘উয়ূনুল আছার ফী ফুনূনিল মাগাযী ওয়াশ-শামাইল ওয়াস-সিয়ার, দারুল কালাম, বৈরূত ১৪১৪/১৯৯৩, ১ম সং.; (১৬) ইব্ন আবদিল বার, আদ-দুরার ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস-সিয়ার, দারুল আন-দালুস আল-খাদরা, কায়রো ১৪১৫/১৯৯৪; (১৭) সাফিয়্যুর রাহমান মুবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতুম, আল-মাকতাবাতুল ‘আসরিয়্যা, বৈরূত ১৪১৭/১৯৯৬, ১ম সং.; (১৮) ড. মুহাম্মাদ সাঈদ রামাদান আল-বৃতী, ফিকহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যা, দারুল ফিক্ আল-মু‘আসির, বৈরূত ১৪১৭/১৯৯৬।