📄 যুদ্ধে রওয়ানা
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আবূ যার আল-গিফারী (রা), মতান্তরে নুমায়লা ইব্ন আবদিল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-কে মদীনার গভর্নর নিযুক্ত করিয়া মুসলিম যোদ্ধাদের লইয়া রওয়ানা হইলেন। এই যুদ্ধের সফরে বহু মুনাফিক রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত যোগ দেয়, যাহারা ইতোপূর্বে কোন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত অংশগ্রহণ করে নাই। তাহারা এই সফরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত যোগ দিয়াছিল জিহাদে উৎসাহী হইয়া নহে, বরং দুনিয়াবী সম্পদ লাভের আশায়। উপরন্তু উক্ত সফরও ছিল নিকটবর্তী স্থানে। তাই সফরের কষ্টও ইহাতে কম ছিল।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) মদীনার নিকটস্থ শস্য ও কূপ সমৃদ্ধ 'আল-হালায়েক'- মতান্তরে আল-খালায়েক নামক স্থানে অবতরণ করেন। সেখানে আবদুল কায়স গোত্রের এক ব্যক্তি আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে সালাম করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বলিলেন, তোমার পরিবার কোথায়? সে বলিল, আর-রাওহা নামক স্থানে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তুমি কোথায় যাইতেছ? লোকটি বলিল, আপনার নিকটই আসিয়াছি। আমি এইজন্য আসিয়াছি যে, আপনার উপর ঈমান আনয়ন করিব, আপনি যাহা লইয়া আগমন করিয়াছেন তাহা সত্য বলিয়া সাক্ষ্য দিব এবং আপনার সঙ্গে থাকিয়া আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিব। রাসূলুল্লাহ (স) ইহাতে খুশী হইয়া বলিলেন, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্ যিনি তোমাকে ইসলামের প্রতি পথ প্রদর্শন করিয়াছেন। লোকটি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ আমল আল্লাহ্র নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয়? তিনি বলিলেন, প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায় করা (কিতাবুল মাগাযী, ১খ., পৃ. ৪০৫-৪০৬; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৩৪৪)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) মুসলিম বাহিনীসহ পুনরায় রওয়ানা হইলেন। তাহারা মদীনা হইতে ২৪ মাইল দূরে 'বাকআ' নামক স্থানে পৌঁছিলে মুশরিকদের এক গুপ্তচরের সাক্ষাত পাইলেন। মুসলমানগণ তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার পিছনে কি? শত্রু সৈন্যগণ কোথায়? সে বলিল, আমি তাহাদের সম্পর্কে কিছুই জানি না। তাহার এই মিথ্যা কথা শুনিয়া উমার (রা) খুবই রাগান্বিত হইলেন। তিনি বলিলেন, তুমি সত্য কথা বল, নতুবা আমি তোমার গর্দান উড়াইয়া দিব। এই হুমকিতে সে ভয় পাইয়া গেল এবং বলিল, আমি বানুল মুসতালিকের এক লোক। আল-হারিছ ইব্ন আবী দিরারকে এই অবস্থায় দেখিয়া আসিয়াছি যে, সে তোমাদের বিরুদ্ধে বিশাল এক বাহিনী জড়ো করিয়াছে। আরও বহু লোকজন তাহার সহিত আসিয়া যোগ দিতেছে। সে আমাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করিয়াছে তোমাদের খবর সংগ্রহ করিবার জন্য এবং তোমরা মদীনা হইতে বাহির হইয়াছ কিনা তাহা জানিবার জন্য।
অতঃপর উমার (রা) তাহাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট লইয়া গেলেন এবং তাহাকে যাবতীয় বিষয় অবহিত করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। সে তাহা গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিয়া বলিল, আমার কওম কি করে তাহা না দেখা পর্যন্ত আমি আপনাদের দীনের অনুসরণ করিব না। তাহারা যদি আপনাদের দীনে শামিল হয় তবে আমিও তাহাদের একজন হইব। আর যদি তাহারা তাহাদের দীনের উপর অটল থাকে তবে আমিও তাহাদের অন্যতম হইব। এই কথা শুনিয়া উমার (রা) বলিলেন, ইহা রাসূলাল্লাহ! আমি তাহার গর্দান উড়াইয়া দিই! লোকটি যেহেতু মুসলমানদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করিয়াছে এবং ইসলাম গ্রহণ করিতে সরাসরি অস্বীকার করিয়া ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়া হত্যাযোগ্য অপরাধ করিয়াছিল, তাই উমার (রা)-এর প্রস্তাবের পর রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে সম্মুখে বাড়াইয়া দিলেন, অতঃপর তাহাকে হত্যা করা হইল। এই সংবাদ বানুল মুসতালিকের নিকট পৌঁছিয়া গেল। ইহাতে তাহারা ভীষণ ভয় পাইল। তাহাদের মনোবল একেবারে ভাঙ্গিয়া গেল।
এই সম্পর্কে উম্মুল মু'মিনীন হযরত জুওয়ায়রিয়া (রা)-এর বর্ণনা প্রণিধানযোগ্য। পরবর্তী কালে মুসলমান হওয়ার পর তিনি এই ঘটনার স্মৃতিচারণ করিয়া বলিতেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের নিকট আগমন করিবার পূর্বে যখন লোকটির নিহত হওয়ার এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর রওয়ানা হওয়ার সংবাদ আমাদের নিকট পৌঁছিল তখন আমার পিতা ও তাহার সঙ্গীগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হইল এবং তাহারা ভীষণভাবে ভীত হইয়া পড়িল। আরবের শহরতলী ও বিভিন্ন অঞ্চল হইতে আসিয়া যাহারা আমাদের দলে যোগদান করিয়াছিল তাহারাও পৃথক হইয়া গেল। অতঃপর আমাদের নিজেদের দলের লোকজন ছাড়া আর একজন লোকও অবশিষ্ট রহিল না (কিতাবুল মাগাযী, ১খ., পৃ. ৪০৬)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) মুরায়সী' নামক স্থানে পৌঁছিলেন। সেখানে অবতরণ করিয়া তাঁহার জন্য একটি চামড়ার তাঁবু নির্মাণ করা হইল। তাঁহার সঙ্গে উম্মুল মু'মিনীনদের মধ্যে হযরত 'আইশা ও উম্মু সালামা (রা) ছিলেন। তাহারা পানির নিকটই সমবেত হইলেন এবং যুদ্ধের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সৃঙ্গীদের লাইন সোজা করিয়া দিলেন। অতঃপর মুহাজিরদের পতাকা হযরত আবূ বাক্র সিদ্দীক (রা)-এর হাতে, মতান্তরে আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)-এর হাতে অর্পণ করিলেন এবং আনসারদের পতাকা অর্পণ করিলেন হযরত সা'দ ইব্ন উবাদা (রা)-এর হাতে (ইন্ন কায়্যিম আল-জাওযিয়্যা, আল-মুনতাজাম, ৩খ., পৃ. ২১৯; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ১৫)। সেই দিন মুসলমানদের বিশেষ সংকেত ছিল, "ইয়া মানসূর! আমিত, আমিত” “হে সাহায্যপ্রাপ্ত! মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছাইয়া দাও, মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছাইয়া দাও" (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৩৪৫)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-কে ঘোষণা দিতে নির্দেশ দিলেন : "তোমরা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বল, তাহা হইলে তোমরা তোমাদের জান-মালের হেফাজত করিতে পারিবে।” কিন্তু বানুল মুসতালিক ইহা বলিতে অস্বীকার করিল এবং প্রথমে তাহাদের মধ্য হইতে এক ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ করিল। ইহার প্রতিউত্তরে মুসলমানগণও কিছুক্ষণ তীর নিক্ষেপ করিলেন। ফলে উভয় পক্ষে তীর নিক্ষেপ শুরু হইয়া গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবায়ে কিরামকে আক্রমণ পরিচালনার নির্দেশ দিলেন। মুসলিম বাহিনী একযোগে আক্রমণ করিল। ফলে শত্রু সৈন্যদের একজনও পলায়ন করিতে পারিল না। বেশীক্ষণ যুদ্ধ করার প্রয়োজন হইল না, অল্পতেই শত্রুগণ কাবু হইয়া গেল। তাহাদের দশজন লোক নিহত হইল এবং সকলেই বন্দী হইল। নারী-পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে সকলকেই রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশে বন্দী করা হইল। উট, ঘোড়া ও বকরী গনীমতের সম্পদ হিসাবে গ্রহণ করা হইল। দুই হাজার উট ও পাঁচ হাজার বকরী মুসলমানগণ গনীমত হিসাবে লাভ করিলেন। বন্দী মহিলার সংখ্যা ছিল দুই শত। রাসূলুল্লাহ (স) আবূ নাদলা আত-তাঈকে এই যুদ্ধের বিজয় সংবাদ দিয়া মদীনায় প্রেরণ করেন (আল-মুনতাজাম, ৩খ., পৃ. ২১৯)। এই যুদ্ধে হযরত আলী (রা) বনী মুসতালিকের মালিক নামে এক ব্যক্তি ও তাহার পুত্রকে হত্যা করেন। আর আবদুর রহমান ইব্ন আওফ (রা) একজন অশ্বারোহীকে হত্যা করেন যাহার নাম ছিল আহসার, মতান্তরে উহায়সির (ইন্ন হিশাম, আস-সীরা, ৩খ., পৃ. ২৪০)।
এই যুদ্ধে আল্লাহ্ তা'আলা ফেরেশতা প্রেরণ করিয়া মুসলমানদিগকে সাহায্য করিয়াছিলেন যাহা দেখিয়া শত্রু সৈন্যগণ ঘাবড়াইয়া গিয়াছিল এবং সম্পূর্ণরূপে মনোবল হারাইয়া ফেলিয়াছিল। উম্মুল মুমিনীন হযরত জুওয়ায়রিয়া (রা) বলেন, আমরা মুরায়সী'তে অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে আগমন করিলে আমার পিতাকে আমি বলিতে শুনিলাম, "তিনি এমন শক্তি লইয়া আসিয়াছেন যাহার মোকাবিলা করা আমাদের সাধ্য নাই"।
অতঃপর আমি মুসলমানদের সেনা সদস্য ও ঘোড়া এত অধিক সংখ্যক দেখিলাম যাহা বর্ণনাতীত। অতঃপর আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করিলাম আর রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বিবাহ করিলেন এবং আমরা ফিরিয়া চলিলাম তখন আমি মুসলমানদের দিকে তাকাইয়া দেখিতেছিলাম; কিন্তু পূর্বে আমি যেরূপ দেখিয়াছিলাম সেরূপ কিছুই দেখিতে পাইলাম না। তখন আমি বুঝিতে পারিলাম যে, উহা ছিল মুশরিকদের অন্তরে আল্লাহ্র পক্ষ হইতে দেওয়া ভীতি (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৩৪৫)।
ফেরেশতা অবতরণের বিষয়টি আর একটি রিওয়ায়াত দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয়। মুশরিক বাহিনীরই এক ব্যক্তি, যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং খাঁটি মুসলমানরূপে জীবন যাপন করিয়াছিলেন, তিনি বলিতেন, যুদ্ধের ময়দানে আমরা সাদা-কালো মিশ্রিত রংয়ের অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণকারী সাদা পোশাক পরিহিত পুরুষ সৈন্যদেরকে দেখিয়াছিলাম, তাহাদিগকে আমরা পূর্বেও কখনও দেখি নাই, পরেও না (কিতাবুল মাগাযী, ১খ., ৪০৮-৪০৯; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৩৪৫)।
এই যুদ্ধে মুসলমানদের একজন সৈন্যও কাফিরদের হাতে শাহাদাত বরণ করে নাই। কেবল হিশাম ইব্ন সুবাবা, মতান্তরে হাশিম ইন্ন দুবাবা নামক একজন মুহাজির সাহাবী, কালব ইন্ন আওফ ইব্ন আমের গোত্রের লোক, ভুলক্রমে মুসলমানদের হাতে নিহত হন (তারীখুল উমাম ওয়াল মুলুক, ২খ., ৬০৪)। তিনি শত্রু সৈন্যের সন্ধানে বাহির হইয়াছিলেন। ফিরিবার সময় প্রচণ্ড বায়ু প্রবাহিত হইতেছিল এবং সেই সঙ্গে ধূলাবালু উড়িতেছিল। উবাদা ইবনুস সামিত (রা)-এর দলের আওস নামক একজন আনসার সাহাবী তাঁহাকে শত্রুসৈন্য মনে করিয়া হত্যা করেন (আল-ওয়াকিদী, প্রাগুক্ত, ১খ., ৪০৭-৪০৮)।
📄 হিশাম ইব্ন সুবাবার ভ্রাতা মিক্সাসের ধোঁকা ও তাহার পরিণাম
হিশাম ইব্ন সুবাবা (রা)-এর নিহত হওয়ার সংবাদ পাইয়া তাহার কাফির ভ্রাতা মিয়াস ইন্ন সুবাবা বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করার কথা প্রকাশ করিয়া মক্কা হইতে আগমন করে এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট স্বীয় ভ্রাতার রক্তপণ (দিয়াত) দাবি করিয়া বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ইসলাম গ্রহণ করিয়া আপনার নিকট আগমন করিয়াছি। আমি আমার ভ্রাতার রক্তপণ দাবি করিতে আসিয়াছি, যে ভুলবশত নিহত হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে তাহার ভ্রাতার রক্ত পণ প্রদানের নির্দেশ দিলেন। উহা গ্রহণ করিয়া সে অল্প কয়েক দিন রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অবস্থান করে। অতঃপর সুযোগ পাইয়া সে তাহার ভ্রাতার হত্যাকারীকে হত্যা এবং মুরতাদ্দ হইয়া পলায়ন করিয়া মক্কায় চলিয়া যায় (আত-তাবারী, তারীখ, ২খ., পৃ. ৬০৯)। এই বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার কারণে রাসূলুল্লাহ (স) তাহার উপর ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হন। এইজন্যই পরবর্তী কালে মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (স) চার ব্যক্তিকে যেখানেই পাওয়া যায় সেখানেই হত্যা করার নির্দেশ দেন। এমনকি তাহাদেরকে কা'বা শরীফের গিলাফ আঁকড়াইয়া ধরা অবস্থায় পাওয়া গেলেও। এই মিয়াস ইব্ন সুবাবা ছিল উক্ত চারজনের অন্তর্ভুক্ত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ১৬৭)। অতঃপর মক্কা বিজয়ের দিনই নুমায়লা (রা) তাহাকে হত্যা করেন (আল-ওয়াকিদী, প্রাগুক্ত, ১খ, ৪০৮; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ, ৩৪৫)।
📄 মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ
এই যুদ্ধে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা সংঘটিত হয়, তন্মধ্যে একটি হইল মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সাময়িক বিবাদ। যুদ্ধ বন্ধ হইবার পর মুসলমানগণ মুরায়সী' কূপের নিকট অবস্থান করিতেছিলেন। কূপে পানি অল্প থাকায় সেখানে খুবই ভীড় ছিল। সকলেই বালতি দ্বারা পানি উঠাইতেছিল। হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর সহিত তাঁহার ভৃত্য ছিল গিফার গোত্রের জাহজাহ ইব্ন্ন মাসউদ, মতান্তরে সা'দ (রা)। তিনি উমার (রা)-এর ঘোড়ার লাগাম ধরিয়া টানিয়া লইয়া যাইতেছিলেন। তিনি কূপ হইতে বালতি দ্বারা পানি উঠাইতে গেলেন। অপরদিকে আওফ ইবনুল খাযরাজ গোত্রের মিত্র সিনান ইব্ন ওয়ার আল-জুহানী (রা)-ও পানি উঠাইবার জন্য তাহার বালতি কূপে ফেলিলেন। উভয়ের বালতি টক্কর লাগায় এক বালতিতে পানি উঠিল যাহা উভয়ে দাবি করিতে লাগিলেন। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে জাহজাহ (রা) হাত দ্বারা সিনান (রা)-কে আঘাত করিলেন এবং ইহাতে আহত হইয়া তাহার দেহ হইতে রক্ত প্রবাহিত হইতে লাগিল আল-জুহানী চীৎকার করিয়া বলিলেন, হে আনসার দল! আর জাহজাহ (রা) চীৎকার করিযা ডাকিলেন, হে মুহাজির দল!
এই চীৎকার শুনিয়া উভয় দলের লোকজন জড়ো হইয়া গেল। মুহাজিরদের কিছু লোক সিনান (রা)-কে তাহার দাবি ত্যাগ করিতে অনুরোধ করিল। অতঃপর উভয় দলের মধস্থতায় সে তাহার দাবি ত্যাগ করিল এবং বিষয়টির মীমাংসা হইয়া গেল।
এই অবস্থা দেখিয়া মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইব্ন সাল্ল ক্রোধান্বিত হইয়া পড়িল। তাহার নিকট তাহার কওমের কিছু লোক ছিল। তাহারা হইলঃ মালিক, দা'ইস, সুওয়ায়দ, আওস ইব্ন কায়জী, মু'আত্তিব ইন্ন কুশায়র, যায়দ ইবনুল লুসায়ত বা সালত ও আবদুল্লাহ ইব্ নাবতাল (আল-ওয়াকিদী, প্রাগুক্ত, ২খ, ৪১৬)। ইহাদের মধ্যে খাঁটি মুসলমান তরুণ যুবক যায়দ ইব্ন আরকাম (রা)-ও ছিল।
আবদুল্লাহ ইবন উবাই বলিল, উহারা এইরূপ আচরণ করিল! অথচ তাহারা আমাদের নিকট আসিয়া আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছে এবং আমাদের দেশে আমাদের চাইতে সংখ্যায় বেশী হইয়া গিয়াছে। আল্লাহ্র কসম! আমি আমাদিগকে ও কুরায়শের এই ময়লা কাপড়গুলিকে সেইরূপই মনে করি যেমন পূর্বকালের কেহ বলিয়াছে, "তোমাদের কুকুরকে খাওয়াইয়া মোটাতাজা কর, সে তোমাকে খাইয়া ফেলিবে।" আল্লাহ্র কসম! আমরা মদীনায় ফিরিয়া গেলে আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ তথা হইতে অপদস্থদেরকে তাড়াইয়া দিবে। উল্লেখ্য যে, উবাই এখানে সম্মানিত বলিতে নিজকে ও মদীনার আনসারদেরকে বুঝাইয়াছে এবং অপদস্থ বলিতে রাসূলুল্লাহ (স) ও মুহাজির সাহাবীদেরকে বুঝাইয়াছে। অতঃপর সে তাহার কওমের যাহারা সেখানে উপস্থিত ছিল তাহাদের নিকট গিয়া বলিল, ইহা তোমদের কৃতকর্মেরই ফসল। তোমরা তাহাদিগেকে তোমাদের দেশে জায়গা দিয়াছ এবং তোমাদের সম্পদ তাহাদিগকে বণ্টন করিয়া দিয়াছ। আল্লাহ্র কসম! তোমাদের নিকট যাহা আছে তাহা যদি তাহাদিগকে দেওয়া বন্ধ করিয়া দাও তাহা হইলে অবশ্যই তাহারা তোমাদের দেশ হইতে অন্যত্র চলিয়া যাইবে।
যায়দ ইব্ন আরকাম (রা) ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গিয়া সব কথা বলিয়া দিল। রাসূলুল্লাহ (স) এই সংবাদ অপছন্দ করিলেন। তাঁহার চেহারা বিবর্ণ হইয়া গেল। তিনি বলিলেন, হে বালক! তুমি হয়তো বা তাহার প্রতি রাগান্বিত হইয়াছ। সে বলিল, না, আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহা আমি তাহার নিকট শুনিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, সম্ভবত তোমার কান ভুল শুনিয়াছে। সে বলিল, না, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহ্র কসম! তিনি বলিলেন তাহা হইলে অন্য কেহ উহা বলিয়াছে। সে বলিল, না, আল্লাহর কসম! ইয়া রাসূলাল্লাহ!
এই খবর সেনাবাহিনীর মধ্যে ছড়াইয়া পড়িল। কওমের সকলে কেবল এই আলোচনাই করিতে লাগিল।
আনসারদের একদল লোক যায়দ ইব্ন আরকাম (রা)-কে তিরস্কার করিতে লাগিল যে, তুমি গোত্রপতিকে অপমান করিয়াছ, সে যাহা বলে নাই তাহার অভিযোগ করিয়াছ। ইহার ফলে তুমি জুলুম করিয়াছ এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করিয়াছ। যায়দ ইব্ন আরকাম বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! সে যাহা বলিয়াছে আমি তাহাই শুনিয়াছি। আল্লাহ্র কসম! খাযরাজ গোত্রের মধ্যে আমার নিকট তদপেক্ষা প্রিয় ব্যক্তি আর কেহ ছিল না। আল্লাহ্র কসম! এই কথাগুলি যদি আমি আমার পিতার নিকট হইতে শুনিতাম তবুও আমি উহা রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতাম। আমি আশা করি আল্লাহ তাঁহার রাসূলের উপর এমন কিছু নাযিল করিবেন যদ্বারা আমার কথা সত্য বলিয়া প্রমাণিত হয় (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ, ২৪৮-৪৯)।
যায়দ ইব্ন আরকাম (রা) যখন রাসূলুল্লাহ (স)-কে বিষয়টি অবহিত করেন তখন উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) তাঁহার নিকট ছিলেন। ইহা শুনিয়া রাগান্বিত হইয়া তিনি বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আব্বাদ ইন্ন বিশরকে নির্দেশ দিন— সে তাহাকে হত্যা করুক। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহা কিভাবে হয়, হে উমর! লোকে বলিবে, মুহাম্মাদ তাঁহার সঙ্গীদিগকে হত্যা করে, ইহা হইতে পারে না। তুমি বরং এখান হইতে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা প্রদান কর। ইহা এমন একটি সময় ছিল যখন সাধারণত রাসূলুল্লাহ (স) কোথায়ও রওয়ানা হইতেন না।
অতঃপর লোকজন সকলেই রওয়ানা হইল।
আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল যখন জানিতে পারিল যে, যায়দ ইব্ন আরকাম তাহার নিকট হইতে যাহা কিছু শুনিয়াছে তাহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌছাইয়া দিয়াছে তখন সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গমন করিয়া আল্লাহ্র কসম করিয়া বলিল, আমি উহা কখনও বলি নাই বা কোনরূপ আলোচনাও করি নাই। আবদুল্লাহ ইব্ন উবাই তাহার কওমের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ও প্রতাপশালী লোক ছিল। আনসারদের মধ্যে তাহার সঙ্গী যাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উপস্থিত ছিল তাহারা আবদুল্লাহ ইবন উবাই-এর প্রতি দয়াপরবশ হইয়া তাহাকে দোষ হইতে রক্ষা করিবার জন্য বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বালকটি হয়তোবা তাহার কথা ভালোমত বুঝিতে পারে নাই এবং স্মরণ রাখিতে পারে নাই। কিন্তু যায়দ ইব্ন আরকাম সর্বদাই তাহার কথার উপর অটল ছিলেন। তিনি বলিতেছিলেন, আমি ঠিক শুনিয়াছি।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) যখন রওয়ানা হইলেন তখন উসায়দ ইবন হুদায়র (রা) তাঁহার সহিত সাক্ষাত করিয়া ইসলামী কায়দায় স্বাগতম জানাইলেন এবং বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অসময়ে রওয়ানা করিয়াছেন যখন আপনি সাধারণত রওয়ানা করেন না। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বলিলেন, তোমাদের সঙ্গী কি বলিয়াছে সে খবর কি তোমার কাছে পৌছে নাই? উসায়দ (রা) বলিলেন, কোন সঙ্গী ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলিলেন, আবদুল্লাহ ইবন উবাই। উসায়দ (রা) বলিলেন, সে কী বলিয়াছে? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, সে ধারণা করে যে, মদীনায় ফিরিয়া গেলে সম্মানী লোকেরা অপদস্থ লোকদের তথা হইতে বিতাড়িত করিয়া দিবে। উসায়দ (রা) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্র কসম! সে-ই অপদস্থ এবং আপনি সম্মানিত। অতঃপর তিনি আবদুল্লাহ ইবন উবাই-এর জন্য সুপারিশ করিয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহার প্রতি একটু সদয় হউন। আল্লাহ্র কসম! আল্লাহ্ আপনাকে আমাদের মধ্যে আনিয়া দিয়াছেন। অথচ এক সময় আমাদের কওমের লোকজন তাহাকে রাজমুকুট পরাইবার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত ছিল (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন-নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৩৬-৩৭; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১৫৭)।
রাসূলুল্লাহ (স) লোকজনসহ সারাদিন ও সারারাত্র পথ চলিলেন। পরদিন সকাল বেলাও তিনি চলিতে থাকিলেন। বেলা বাড়িয়া গেলে রৌদ্রের প্রখরতার কারণে চলিতে কষ্ট হওয়ায় তিনি যাত্রা বিরতি করিলেন। ভূমিতে অবতরণ করিতেই দীর্ঘ সফরের ক্লান্তিতে সকলে ঘুমাইয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (স) এইরূপ এইজন্য করিয়াছিলেন যাহাতে লোকজনের মনোযোগ পূর্বদিনের আলোচিত আবদুল্লাহ ইব্ন উবাইর কথা হইতে অন্যদিকে ফিরিয়া যায়।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) লোকজনসহ আবার চলিতে শুরু করিলেন এবং হিজাযের মধ্য দিয়া চলিলেন। এই সময় তিনি হিজায-এর সামান্য উপরিভাগে অবতরণ করিলেন যাহাকে 'বাকআ', মতান্তরে 'নাকআ' বলা হইত। রাসূলুল্লাহ (স) যখন সেখানে বিশ্রাম লইতেছিলেন তখন প্রচণ্ড এক ঝড় প্রবাহিত হইল। ইহাতে সকলের কষ্ট হইল এবং তাহারা ভীত হইয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা ভয় পাইও না। কাফিরদের বড় কোন এক নেতার মৃত্যুতে এই বাতাস প্রবাহিত হইয়াছে। পরে তাহারা মদীনায় পৌঁছিয়া জানিতে পারিলেন যে, কায়নুকা নামক ইয়াহুদী গোত্রের বড় নেতা এবং মুনাফিকদের সাহায্যকারী রিফাআ ইবন যায়দ ইবনুত তাবূত যেদিন ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হইয়াছিল ঠিক সেইদিন মারা গিয়াছে (ইবন হিশাম, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ২৩৮; আত-তাবারী, তারীখ, ২খ., ৬০৭)।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আবদুল্লাহ ইব্ন উবাই ও তাহার সঙ্গী মুনাফিকগণের প্রকৃত অবস্থা জানাইয়া একটি সূরা নাযিল করেন যাহা সূরা আল-মুনাফিকূন নামে পরিচিত। ইহার ফলে মুনাফিকদের স্বরূপ প্রকাশিত হইয়া পড়িল এবং বালক যায়দ ইব্ন আরকাম-এর সততা প্রমাণিত হইল। এই সূরা নাযিল হইলে রাসূলুল্লাহ (স) স্নেহভরে যায়দ ইব্ন আরকাম-এর কান ধরিয়া বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা ইহার কান রক্ষা করিয়াছেন।
মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ ইবন উবাই-এর পুত্র, যাঁহার নামও ছিল আবদুল্লাহ, খাঁটি মুসলমান ছিলেন। তাঁহার পিতার এই সংবাদ যখন তাঁহার নিকট পৌঁছিল তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গিয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি শুনিয়াছি যে, আবদুল্লাহ ইব্ন উবাই সম্পর্কে আপনার নিকট যে সংবাদ পৌঁছিয়াছে তাহার কারণে আপনি তাহাকে হত্যা করিতে মনস্থ করিয়াছেন। আপনি যদি তাহাই করেন তবে সেই দায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করুন। আমিই তাহার মস্তক আপনার নিকট আনিয়া দিব। আল্লাহ্র কসম! খাযরাজ গোত্র জানে যে, তাহাদের মধ্যে পিতার প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি আমার তুলনায় আর কেহ নাই। আমি আশঙ্কা করিতেছি যে, আপনি তাহাকে হত্যা করার জন্য অন্যকে নির্দেশ দিলে সে যদি তাহাকে হত্যা করে তবে আবদুল্লাহ ইবন উবাই-এর হত্যাকারীকে লোকের মধ্যে চলাফেরা করিতে দেখিয়া আমি নিজকে সংবরণ করিতে পারিব না। ফলে তাহাকে হত্যা করিয়া ফেলিব। তখন কাফিরের বিনিময়ে একজন মুমিনকে হত্যা করার দায়ে আমি জাহান্নামের অধিবাসী হইব। এই কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমরা তাহার সহিত নম্র আচরণ করিব এবং তাহার সহিত সদ্ব্যবহার করিব যতদিন সে আমাদের সঙ্গে থাকে (ইন্ন হিশাম, প্রাগুক্ত; আত-তাবারী, প্রাগুক্ত, ২খ., পৃ. ৬০৮; আল-ওয়াকিদী, প্রাগুক্ত, ২খ., ৪২০-২১)।
ইহার পর হইতে যখনই সে কোন অঘটন ঘটাইত তখন তাহার কওম উহার জন্য তাহাকেই দোষারোপ করিত এবং তিরস্কার করিত। তাহাদের এই অবস্থা অবগত হইয়া রাসূলুল্লাহ (স) উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-কে বলিয়াছিলেন, কেমন বুঝিতেছ হে উমার! তুমি সেদিন তাহাকে হত্যা করিতে বলিয়াছিলে। সেই দিন যদি আমি তাহাকে হত্যা করিতাম তবে অনেকেই তাহাতে শোকাহত হইত। আর আজ যদি আমি তাহাকে হত্যা করার নির্দেশ দেই তবে তাহার গোত্রের লোকজনই তাহাকে হত্যা করিবে। উমার (রা) বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! আমি বুঝিতে পারিয়াছি যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর পদক্ষেপ আমার পদক্ষেপ হইতে বেশী বরকতময় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১৫৮; আত-তাবারী, তারীখ, ২খ., পৃ. ৬০৮-৬০৯)।
ইকরিমা ও ইন্ন যায়দ প্রমুখ বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উবাই-এর পুত্র আবদুল্লাহ (রা) মদীনার সরু প্রবেশপথে তাঁহার পিতার পথ আগলাইয়া দাঁড়াইয়াছিলেন এবং পিতাকে বলিয়াছিলেন, এইখানে দাঁড়াইয়া থাকুন। আল্লাহ্র কসম! রাসূলুল্লাহ (স) যতক্ষণ আপনাকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি প্রদান না করিবেন ততক্ষণ আপনি মদীনায় প্রবেশ করিতে পারিবেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে পৌঁছিয়া তাহাকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দিলে আবদুল্লাহ তাহার পথ ছাড়িয়া দেন এবং সে মদীনায় প্রবেশ করে (ইব্ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৪খ., ১৫৮)।
📄 গনীমত বণ্টন
যুদ্ধশেষে রাসূলুল্লাহ (স) গনীমত সম্পদ মুসলিম যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করার নির্দেশ দেন। বন্দীদের বণ্টনের দায়িত্ব প্রদান করেন বুরায়দা ইবনুল খাসীব (রা)-কে আসবাবপত্র, অস্ত্রপাতি, উট, বকরী প্রভৃতি বণ্টনের দায়িত্ব দেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্তদাস শুকরান (রা)-এর উপর, এক পঞ্চমাংশ (খুমুস) বণ্টনের দায়িত্ব দেন মাহমিয়া ইন্ন জায (রা)-এর উপর ('উয়ুনুল আছার, ২খ., পৃ. ১২৯; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৩৪৬)।