📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সারিয়‍্যা বাশীর ইবন সা'দ আল-আনসারী (রা)

📄 সারিয়‍্যা বাশীর ইবন সা'দ আল-আনসারী (রা)


৭ম হিজরীর শা'বান/৬২৮ খৃস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে হযরত বাশীর ইবন সা'দ আল-আনসারী (রা)-এর নেতৃত্বে ৩০ জন সৈন্যের একটি বাহিনীর ফাদাকের নিকটবর্তী বানু মুররা এলাকায় একটি অভিযান পরিচালিত হইয়াছিল (তারীখ, তাবারী ৩খ., পৃ. ৯৯, তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১১৮, ১১৯; আল-মাওয়াহিব, ১খ., পৃ. ১৪১; সীরাত হালাবী, ৩খ., পৃ. ১৮৬; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২৫২)। ফাদাক ছিল খায়বারের পার্শ্ববর্তী একটি কৃষি প্রধান ইয়াহুদী বসতি। মদীনা হইতে ইহার দূরত্ব দুই অথবা তিন দিনের পথ (মু'জামুল বুলদান, ৪খ., পৃ. ২৩৮; আল-মুনজিদ ফিল-আলাম, পৃ. ৫২০)। মুসলিম সৈন্যগণ বানু মুররার এলাকায় পৌঁছিলে সেখানে বহু সংখ্যক পশুসহ রাখালদিগকে দেখিতে পাইলেন, গোত্রের লোকজনকে দেখিতে পাইলেন না। রাখালদের নিকট তাহাদের সন্ধান চাওয়া হইলে তাহারা জানাইল যে, তাহারা বিভিন্ন স্থানে তাহাদের কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত আছে। তাহারা আজ এই জলাশয় কেন্দ্রিক বসতিতে অবস্থান করিতেছে না (শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ২৫০; সীরাত হালাবী, ২খ., পৃ. ১৮৬; তাবাকাত ইবন সা'দ, ২খ., পৃ. ১১৯)। অগত্যা হযরত বাশীর (রা)-এর বাহিনী তাহাদের বকরী ও উস্ত্রীসমূহ হাঁকাইয়া লইয়া মদীনা মুনাওয়ারার দিকে ফিরিয়া চলিলেন।
ইতোমধ্যে তাহাদের সতর্ককারীর বিকট চিৎকারে মুররা গোত্রের লোকজন ঐক্যবদ্ধ হইয়া (হযরত বাশীর (রা)-এর বাহিনীর) পশ্চাদ্ধাবন করিল এবং সন্ধ্যার দিকে তাহাদের নাগাল পাইয়া তীর বর্ষণ আরম্ভ করিল। দুই পক্ষের মধ্যে সারারাত্রি তীর-ধনুকের তুমুল সংঘর্ষ চলিল। এক পর্যায়ে হযরত বাশীর (রা)-এর বাহিনীর সকল তীর নিঃশেষিত হইয়া গেল। অতি প্রত্যূষে তাহারা একযোগে কঠিন আক্রমণ চালাইয়া বাশীর (রা)-এর অধিকাংশ সৈন্যকে, মতান্তরে কিছু সংখ্যক সৈন্যকে শহীদ করিল (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪৮; কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৭২৩; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২৫০; সীরাত আল-হালাবী, ৩খ., পৃ. ১৮৬; হযরত মুহাম্মাদ, পৃ. ২৮৫; আয়নুল ইয়াকীন, পৃ. ১১০; নূরুল ইয়াকীন, পৃ. ২৩৪; তাবাকাত ইবন সা'দ, ২খ., পৃ. ১১৯) হযরত বাশীর ইবন সা'দ (রা) প্রাণপণ যুদ্ধ করিয়া মারাত্মকভাবে আহত হইলেন এবং লাশের সারিতে মৃতবৎ পড়িয়া রহিলেন। তাহারা তাঁহার পায়ের গোড়ালীতে প্রচণ্ড আঘাত করিলেও তিনি বিন্দুমাত্র নড়াচড়া করিলেন না। তাহারা মনে করিল, তিনি জীবিত নাই। তাহারা তাহাদের বকরী ও উস্ত্রীসমূহ লইয়া নিজেদের এলাকায় ফিরিয়া গেল (তাবাকাত ইবন সা'দ, ২খ., পৃ. ১১৯)।
এই যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যগণের বিপর্যয়ের সংবাদ লইয়া হযরত উল্লা ইন্ন যায়দ আল-হারিছী আল-আওসী যথাশীঘ্র রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট চলিয়া আসিলেন (আল-ইসাবা, ২খ., পৃ. ৪৯৯; আল-ইসতী'আব, ৩খ., পৃ. ১২৪৫; শারহু আল-মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ২৫০)। এদিকে যুদ্ধাহত হযরত বাশীর (রা) লাশের সারি হইতে উঠিয়া চুপিসারে পথ চলিয়া ফাদাক পৌঁছাইলেন এবং তাঁহার একজন ইয়াহুদী বন্ধুর নিকট আশ্রয় লইলেন। ফাদাকে এক রাত্র, মতান্তরে কয়েক রাত্র অবস্থানের পর কিছু সুস্থ হইয়া তিনি মদীনায় ফিরিয়া আসিলেন (আল-মাগাযী, ২খ., পৃ. ৭২৩; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২৫২; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪৮; আর-রাহীক আল-মাখতুম, ৪২৯; আসাহ্হুস্ সিয়ার, পৃ. ২১৭)।
বানু মুররা এলাকায় যুদ্ধ শেষ করিয়া যুদ্ধাহত সেনাধ্যক্ষ হযরত বাশীর (রা) ঘটনাক্রমে ফাদাকে পৌঁছাইয়াছিলেন বলিয়া এই যুদ্ধাভিযানের সহিত ফাদাক নামক স্থানটির উল্লেখ করা হইয়া থাকে। প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধক্ষেত্র তথা বানু মুররা এলাকা এবং ফাদাক এলাকা অভিন্ন নহে। এই কারণে ফাদাককে যুদ্ধস্থান শনাক্ত না করিয়া ফাদাক-এর নিকটবর্তী বানু মুররা এলাকাকে যুদ্ধস্থান শনাক্ত করা অধিকতর সহীহ। মুররা গোত্র ফাদাকে বসবাস করিত না, তাহারা বসবাস করিত ফাদাক-এর কাছাকাছি এক এলাকায় (সীরাত আল-হালাবী, ৩খ., পৃ. ১৮৬; শারহু আল-মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ২৫০)।
বানু মুররা কর্তৃক হযরত বাশীর (রা) ও তাঁহার সৈনিকগণের আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ শুনিবার পর রাসূলুল্লাহ (স) ইহার প্রতিশোধ গ্রহণের নিমিত্তে হযরত গালিব ইব্‌ন আবদিল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-এর নেতৃত্বে ২০০ সৈন্যের একটি শক্তিশালী বাহিনী উক্ত এলাকায় যথাশীঘ্র প্রেরণ করিলেন (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৭২৪; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২৫২; রাসূল মুহাম্মদ (স)-এর সরকার কাঠামো, পৃ. ৩৫২)। ভিন্নমতে হযরত বাশীর (রা)-এর অভিযানের প্রায় দুই মাস পর অর্থাৎ ৮ম হিজরীর সাফার/ ৬২৯ খৃস্টাব্দের জুন মাসে রাসূলুল্লাহ (সা) হযরত গালিব (রা)-কে (দ্র. ফাদাক-এর বানু মুররা এলাকায় হযরত গালিব ইব্‌ন আবদিল্লাহ আল-লায়ছী (রা)-এর অভিযান) উক্ত এলাকায় প্রেরণ করিয়াছিলেন (তাবাকাত ইন সা'দ, ২খ., পৃ. ১২৬; সীরাত হালাবী, ৩খ., পৃ. ১৮৯; আল-মাওয়াহিব, ১খ., পৃ. ১৪৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সারিয়‍্যা ইবন আবিল 'আওজা

📄 সারিয়‍্যা ইবন আবিল 'আওজা


আল-ওয়াকিদীর বর্ণনা অনুসারে সপ্তম হিজরী সনের যুল-কা'দা (মতান্তরে যুল-হিজ্জা, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২৬৮) মাসে, "উমরাতুল কাযা” সমাপনের পর মক্কা হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) হযরত আখরাম ইব্‌ন আবিল 'আওজা আস-সুলামী (রা)-এর অধীনে পঞ্চাশ জন অশ্বারোহীর একটি দল তাহারই গোত্র বানু সুলায়মের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য প্রেরণ করেন। গুপ্তচরের মাধ্যমে মুসলমানদের এই অভিযানের আগাম সংবাদ পাইয়া সেই গোত্রের অনেক লোক একত্র হইল। ইতোমধ্যে হযরত ইব্‌ন আবিল 'আওজাও তথায় পৌঁছিলেন। তিনি গোত্রের লোকদিগকে তথায় একত্র দেখিতে পাইয়া তাহাদিগকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। কিন্তু তখন তাহারা ছিল মুসলমানদের মুকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অতএব তাহারা দাওয়াত অগ্রাহ্য করিল এবং বলিল, “যেই জিনিসের দাওয়াত তোমরা আমাদিগকে দিয়াছ, উহার কোন প্রয়োজন আমাদের নাই"।
অতঃপর তাহারা মুসলমানদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করা আরম্ভ করিল। নিরুপায় হইয়া তখন মুসলমানগণ যুদ্ধে লিপ্ত হইলেন। উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ তীর বিনিময় হইল। ইহার মধ্যে বানু সুলায়ম গোত্রের লোকদের জন্য পিছন হইতে সাহায্য আসিতে লাগিল। এক পর্যায়ে তাহারা মুসলমানদের ক্ষুদ্র এই দলটিকে ঘিরিয়া ফেলিল। হযরত ইব্‌ন আলি 'আওজা (রা) তখন প্রচণ্ডভাবে তাহাদের উপর আক্রমণ করিলেন। তিনি তাহাদিগকে প্রতিরোধ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করিলেন। কিন্তু ফল কিছুই হইল না। কারণ বিরোধী পক্ষের তুলনায় মুসলমানদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য।
শেষ পর্যন্ত ঐ যুদ্ধে হযরত ইব্‌ন আবিল 'আওজার সঙ্গীদের প্রায় সকলেই শহীদ হইলেন। তিনি নিজেও গুরুতর আহত হইলেন। কাফিরগণ তাঁহাকে মৃত ভাবিয়া ত্যাগ করিয়া চলিয়া গেলে তিনি তাহার অবশিষ্ট সঙ্গীদেরকে লইয়া অতিকষ্টে অষ্টম হিজরী সনের সফর মাসের প্রথম তারিখে মদীনায় পৌঁছেন (তাবাকাত, ২খ., পৃ. ১২৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সারিয়‍্যা যাতু আল্লাহ্

📄 সারিয়‍্যা যাতু আল্লাহ্


রাসূলুল্লাহ (স) অষ্টম হিজরী সনের রবী'উল আওয়াল মাসে হযরত কা'ব ইবন 'উমায়র আল-গিফারী (রা)-এর নেতৃত্বে পনর জনের একটি দল সিরিয়ার "যাতু আল্লাহ" অঞ্চলে প্রেরণ করেন। এই স্থানটি সিরিয়ার সীমান্ত এলাকা 'ওয়াদিল কুরা"-এর পশ্চাতে অবস্থিত। সেইখানে পৌছিয়া হযরত কা'ব কাফিরদের একটি বিরাট দল দেখিতে পাইলেন। তিনি তাহাদিগকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। কিন্তু কাফিররা উহা গ্রহণ করিতে অস্বীকৃতি জানাইল এবং মুসলমানদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করিতে আরম্ভ করিল। তখন মুসলমানগণও নিরুপায় হইয়া যুদ্ধে অবতীর্ণ হইলেন।
এই যুদ্ধে মাত্র একজন গুরুতর আহত ব্যক্তি ব্যতীত (যাঁহাকে কাফিররা মৃত মনে করিয়া ফেলিয়া গিয়াছিল) মুসলমানদের বাকী সকলেই শহীদ হইলেন। রাত্রির অন্ধকার ও নিস্তব্ধতা যখন চতুর্দিকে ছাইয়া গেল, তখন তিনি (অর্থাৎ সেই আহত ব্যক্তি) অতি কষ্টে উঠিয়া সেই স্থান ত্যাগ করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২৪৭)। তিনি মদীনায় পৌছিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহার নিকট হইতে এই মর্মবিদারক কাহিনী শুনিতে পাইলেন। তিনি (স) উহার প্রতিশোধ লইতে মনস্থ করিয়াছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে কাফিররা সেই স্থান ত্যাগ করিয়া অন্যত্র চলিয়া গিয়াছে। তাই রাসূলুল্লাহ (স) সেইদিকে আর অভিযান প্রেরণ করেন নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গাযওয়া মু'তা

📄 গাযওয়া মু'তা


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00