📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সারিয়‍্যা আবূ বাক্ সিদ্দীক (রা)

📄 সারিয়‍্যা আবূ বাক্ সিদ্দীক (রা)


খায়বার যুদ্ধ হইতে ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স) শাওয়াল মাস পর্যন্ত মদীনায় অতিবাহিত করিলেন। এই সময় তিনি কয়েকটি ছোটখাট অভিযান প্রেরণ করেন। তাহার মধ্যে একটি সারিয়‍্যা প্রেরণ করিলেন নদের কাছাকাছি বানু ফাজারার এলাকায়। তাহার নেতৃত্ব দিলেন হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা)। তাঁহার সহিত ছিলেন হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪৮)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থের বর্ণনামতে, এই অভিযান পরিচালিত হয় ৬ষ্ঠ হিজরীতে কারণ ছিল এই যে, যায়দ (রা) ব্যবসায়ের উদ্দেশে সিরিয়া গমন করেন এবং সংগী-সাথীদের বাণিজ্য-সম্ভারও তাঁহার নিকট ছিল। সেখান হইতে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে ওয়াদিউল কুরায় বানু ফাজারার একটি শাখাগোত্র বানু বদর তাঁহাদের সমস্ত বাণিজ্য সামগ্রী লুণ্ঠন করে। তাঁহারা সংখ্যায় কম ছিলেন। ডাকাত দল তাঁহাদিগকে বেদম প্রহার করে।
তাঁহারা মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাদের সাহায্যার্থে আরও একদল লোক প্রেরণ করেন। এইবার তাঁহারা সেখানে পৌঁছিয়া প্রতিশোধ গ্রহণ করেন, কতিপয় ব্যক্তিকে হত্যা করেন, অবশিষ্ট লোক পলায়ন করে। তাহাদের নারীদেরকে গ্রেফতার করিয়া মদীনায় নিয়া আসা হইল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।
কোন কোন ঐতিহাসিকের বর্ণনামতে হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) অথবা হযরত যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর নেতৃত্বে ষষ্ঠ হিজরীর রমযান মাসে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের কারণ ছিল এই যে, বানু ফাজারা গোত্রের একটি শাখা প্রতারণার আশ্রয় নিয়া আল্লাহর রাসূলকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। তাই আল্লাহর রাসূল (স) হযরত আবূ বাক্সকে প্রেরণ করিয়াছিলেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, অনু., পৃ. ৩৭০)।
হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া বলেন, আমরা ফাজার গোত্রের সহিত যুদ্ধ করিয়াছিলাম। আমাদের আমীর ছিলেন হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে আমাদের আমীর নিযুক্ত করিয়াছিলেন। যখন আমাদের এবং পানির স্থানের মাঝে এক ঘণ্টা সময়ের ব্যবধান ছিল, তখন হযরত আবু বাক্স সিদ্দীক (রা) আমাদিগকে রাতের শেষের দিকে সেখানে অবতরণের নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমরা রাতের শেষাংশেই সেখানে অবতরণ করিলাম। ইহার পর বিভিন্ন দিক হইতে আক্রমণ চালানো হইল। তাহাদিগকে পানি পর্যন্ত পৌঁছানো হইল। যাহাদিগকে সামনে পাওয়া গেল হত্যা করা হইল। কিছু সংখ্যককে বন্দী করা হইল। আমি তাহাদের একটি দলের দিকে তাকাইয়াছিলাম যাহাদের মধ্যে নারী ও শিশুরা ছিল। আমি আশঙ্কা করিলাম যে, তাহারা হয়ত আমার পূর্বেই পাহাড়ে পৌঁছিয়া যাইবে। অতঃপর আমি তাহাদের ও পাহাড়ের মাঝে তীর নিক্ষেপ করিতে লাগিলাম। তাহারা তীর দেখিয়া থামিয়া গেল। তখন আমি তাহাদেরকে হাঁকাইয়া লাইয়া আসিলাম। তাহাদের মধ্যে চামড়ার পোশাক পরিহিত বানু ফাযারার এক মহিলাও ছিল এবং তাহার সহিত তাহার এক কন্যাও ছিল। সে ছিল আরবের অন্যতম সুন্দরী কন্যা। আমি সকলকেই হাঁকাইয়া লইয়া আসিলাম হযরত আবূ বকর (রা)-এর নিকট। তিনি কন্যাটি আমাকে উপঢৌকন হিসাবে প্রদান করিলেন। ইহার পর আমি মদীনায় ফিরিয়া আসিলাম। আমি তখনও তাহার বস্ত্র উন্মোচন করি নাই। পরে বাজারে আমার সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাক্ষাৎ হইলে তিনি বলিলেন, হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়া দাও। আমি বলিলাম, তাহাকে আমার খুবই পসন্দ হইয়াছে এবং এখনও আমি তাহার বস্ত্র উন্মোচন করি নাই। পরের দিন আবারও বাজারে আমার সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাক্ষাৎ হইলে তিনি বলিলেন, হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়া দাও। আল্লাহ তোমার পিতার কল্যাণ করুন। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আপনার জন্যই। আল্লাহ্র কসম! আমি তাহার বস্ত্র উন্মোচন করি নাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) ঐ কন্যাটিকে মক্কায় পাঠাইয়া দিয়া তাহার বিনিময়ে কয়েকজন মুসলমান বন্দীকে মুক্ত করিয়া আনিলেন যাহারা মক্কায় বন্দী অবস্থায় ছিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২৫০-৫১; মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস-সিয়ার ২ খ., পৃ. ৮৯)।
ইবন হিশামের বর্ণনা কিছুটা ভিন্নরকম। তিনি বলেন, বানু ফাযারার সহিত যুদ্ধ করেন যায়দ ইবন হারিছা (রা)। এই যুদ্ধে তাঁহার অনেক সঙ্গীসাথী নিহত হন। যায়দকেও নিহতদের মধ্য হইতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই যুদ্ধে সা'দ ইব্‌ন হু্যায়ল, ওয়ারদ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন মা'দান নিহত হন। বানু বদরের জনৈক ব্যক্তি তাহাকে আঘাত করিয়াছিল। ইবন ইসহাক বলেন, যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) ফিরিয়া আসিয়া শপথ করিলেন যে, বানু ফাযারার সহিত যুদ্ধ না করিয়া স্ত্রী গমন জনিত গোসল করিবেন না। তাঁহার যখম ভাল হওয়ার পর অর্থাৎ তিনি সুস্থ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স) একদল সৈন্যসহ তাঁহাকে বানু ফাযারার বিরুদ্ধে প্রেরণ করিলেন। তিনি ওয়াদিউল কুরায় পৌঁছিয়া তাহাদিগকে আঘাত করিলেন, তাহাদিগকে চরমভাবে নাজেহাল করিয়া ছাড়িলেন। কায়স ইব্‌ন মুসাহ্হার ইয়া'মূরী (রা) মাস্'আদা ইব্‌ন হাকামা ইবন মালিক ইবন হুযায়ফা ইব্‌ন বাদ্রকে হত্যা করেন। উম্মু কিরফা ফাতিমা বিন্ত রবীআ ইব্‌ন বদরকে বন্দী করেন। এই অশীতিপর বৃদ্ধা ছিল মালিক ইবন হুযায়ফা ইব্‌ন বদরের স্ত্রী। তাহার এক কন্যাও তাহার সহিত বন্দী হয়। আরও বন্দী হইয়াছিল আবদুল্লাহ ইবন মাসআদা। যায়দ ইব্‌ن হারিছা (রা) উন্মু কিরফাকে হত্যা করার জন্য কায়স ইব্‌ন মুসাহহারকে নির্দেশ দিলেন। তিনি তাহাকে কঠোরভাবে হত্যা করিলেন। ইহার পর তাহারা উম্মু কিরফার কন্যা ও আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাস'আদকে নিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উপস্থিত হইলেন। উম্মু কিরফার মেয়েটি সালামা ইবনুল আকওয়া (রা)-এব ভাগে পড়িয়াছিল। তিনিই তাহাকে বন্দী করিয়াছিলেন। সে ছিল তাহাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী রমণী। সালামা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হইতে তাহাকে চাহিয়া নিয়া স্বীয় মামা হাসন ইব্‌ন আবূ ওয়াহ্ একে দান করিলেন। তাহার গর্ভেই আবদুর রহমান ইবন হাযনের জন্ম।
কায়স ইবন মুসাহ্হার (রা) মাস'আদা হত্যা সম্পর্কে বলেন, سعیت بورد مثل سعی ابن امه + وانی بورد في الحياه لثائر. كررت عليه المهر لما رأيته + على بطل من ال بدر مفاور. فركيت فيه تعصبيا كانه + شهار بمعراة يزكي لناظر.
"আমি ওয়ারদের বদলা নিতে তেমনই চেষ্টা করিয়াছি, যেমন চেষ্টা করিয়াছে তাহার সহোদর। আমি তো তাহার রক্তের প্রতিশোধ এই জীবনেই লইতে চাহিয়াছিলাম। আমি যখন তাহাকে দেখিলাম উপর্যুপরি হাঁকাইলাম তাহার উপর আমার নবীন শ্ব। বদর খান্দানের এক লড়াকু বীরের উপর আমি তাহার দেহের অনাবৃত অংশে বিদ্ধ করিলাম চকচকে বর্শা, উজ্জ্বল তারকার মত, ধাঁধাঁইয়া দেয় যাহা দর্শকের চোখ (ইব্‌ন হিশাম, আস্-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৪খ., পৃ. ১৯০)।"
আর-রাহীকুল মাখতূম প্রণেতা বলেন, উন্মু বিরফা ছিল চক্রান্তকারী নারী। সে রাসূলুল্লাহ (স)-কে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকিত। রাসূলুল্লাহ (স)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে সে তাহার গোত্রের ত্রিশজন সওয়ারকে প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছিল। এই অভিযানে সে যথার্থ বদলা পাইয়াছিল এবং তাহার ত্রিশজন সওয়ার নিহত হইয়াছিল (আর-রাহীকুল মাতৃম, বাংলা অনু., পৃ. ৩৭১)।

খায়বার যুদ্ধ হইতে ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স) শাওয়াল মাস পর্যন্ত মদীনায় অতিবাহিত করিলেন। এই সময় তিনি কয়েকটি ছোটখাট অভিযান প্রেরণ করেন। তাহার মধ্যে একটি সারিয়‍্যা প্রেরণ করিলেন নদের কাছাকাছি বানু ফাজারার এলাকায়। তাহার নেতৃত্ব দিলেন হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা)। তাঁহার সহিত ছিলেন হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১৪৮)। আসাহহুস সিয়ার গ্রন্থের বর্ণনামতে, এই অভিযান পরিচালিত হয় ৬ষ্ঠ হিজরীতে কারণ ছিল এই যে, যায়দ (রা) ব্যবসায়ের উদ্দেশে সিরিয়া গমন করেন এবং সংগী-সাথীদের বাণিজ্য-সম্ভারও তাঁহার নিকট ছিল। সেখান হইতে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে ওয়াদিউল কুরায় বানু ফাজারার একটি শাখাগোত্র বানু বদর তাঁহাদের সমস্ত বাণিজ্য সামগ্রী লুণ্ঠন করে। তাঁহারা সংখ্যায় কম ছিলেন। ডাকাত দল তাঁহাদিগকে বেদম প্রহার করে।
তাঁহারা মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাদের সাহায্যার্থে আরও একদল লোক প্রেরণ করেন। এইবার তাঁহারা সেখানে পৌঁছিয়া প্রতিশোধ গ্রহণ করেন, কতিপয় ব্যক্তিকে হত্যা করেন, অবশিষ্ট লোক পলায়ন করে। তাহাদের নারীদেরকে গ্রেফতার করিয়া মদীনায় নিয়া আসা হইল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯৫)।
কোন কোন ঐতিহাসিকের বর্ণনামতে হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা) অথবা হযরত যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর নেতৃত্বে ষষ্ঠ হিজরীর রমযান মাসে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের কারণ ছিল এই যে, বানু ফাজারা গোত্রের একটি শাখা প্রতারণার আশ্রয় নিয়া আল্লাহর রাসূলকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। তাই আল্লাহর রাসূল (স) হযরত আবূ বাক্সকে প্রেরণ করিয়াছিলেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, অনু., পৃ. ৩৭০)।
হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া বলেন, আমরা ফাজার গোত্রের সহিত যুদ্ধ করিয়াছিলাম। আমাদের আমীর ছিলেন হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে আমাদের আমীর নিযুক্ত করিয়াছিলেন। যখন আমাদের এবং পানির স্থানের মাঝে এক ঘণ্টা সময়ের ব্যবধান ছিল, তখন হযরত আবু বাক্স সিদ্দীক (রা) আমাদিগকে রাতের শেষের দিকে সেখানে অবতরণের নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমরা রাতের শেষাংশেই সেখানে অবতরণ করিলাম। ইহার পর বিভিন্ন দিক হইতে আক্রমণ চালানো হইল। তাহাদিগকে পানি পর্যন্ত পৌঁছানো হইল। যাহাদিগকে সামনে পাওয়া গেল হত্যা করা হইল। কিছু সংখ্যককে বন্দী করা হইল।
আমি তাহাদের একটি দলের দিকে তাকাইয়াছিলাম যাহাদের মধ্যে নারী ও শিশুরা ছিল। আমি আশঙ্কা করিলাম যে, তাহারা হয়ত আমার পূর্বেই পাহাড়ে পৌঁছিয়া যাইবে। অতঃপর আমি তাহাদের ও পাহাড়ের মাঝে তীর নিক্ষেপ করিতে লাগিলাম। তাহারা তীর দেখিয়া থামিয়া গেল। তখন আমি তাহাদেরকে হাঁকাইয়া লাইয়া আসিলাম। তাহাদের মধ্যে চামড়ার পোশাক পরিহিত বানু ফাযারার এক মহিলাও ছিল এবং তাহার সহিত তাহার এক কন্যাও ছিল। সে ছিল আরবের অন্যতম সুন্দরী কন্যা। আমি সকলকেই হাঁকাইয়া লইয়া আসিলাম হযরত আবূ বকর (রা)-এর নিকট। তিনি কন্যাটি আমাকে উপঢৌকন হিসাবে প্রদান করিলেন। ইহার পর আমি মদীনায় ফিরিয়া আসিলাম। আমি তখনও তাহার বস্ত্র উন্মোচন করি নাই। পরে বাজারে আমার সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাক্ষাৎ হইলে তিনি বলিলেন, হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়া দাও। আমি বলিলাম, তাহাকে আমার খুবই পসন্দ হইয়াছে এবং এখনও আমি তাহার বস্ত্র উন্মোচন করি নাই। পরের দিন আবারও বাজারে আমার সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাক্ষাৎ হইলে তিনি বলিলেন, হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়া দাও। আল্লাহ তোমার পিতার কল্যাণ করুন। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আপনার জন্যই। আল্লাহ্র কসম! আমি তাহার বস্ত্র উন্মোচন করি নাই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) ঐ কন্যাটিকে মক্কায় পাঠাইয়া দিয়া তাহার বিনিময়ে কয়েকজন মুসলমান বন্দীকে মুক্ত করিয়া আনিলেন যাহারা মক্কায় বন্দী অবস্থায় ছিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২৫০-৫১; মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস-সিয়ার ২ খ., পৃ. ৮৯)।
ইবন হিশামের বর্ণনা কিছুটা ভিন্নরকম। তিনি বলেন, বানু ফাযারার সহিত যুদ্ধ করেন যায়দ ইবন হারিছা (রা)। এই যুদ্ধে তাঁহার অনেক সঙ্গীসাথী নিহত হন। যায়দকেও নিহতদের মধ্য হইতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই যুদ্ধে সা'দ ইব্‌ন হু্যায়ল, ওয়ারদ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন মা'দান নিহত হন। বানু বদরের জনৈক ব্যক্তি তাহাকে আঘাত করিয়াছিল। ইবন ইসহাক বলেন, যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) ফিরিয়া আসিয়া শপথ করিলেন যে, বানু ফাযারার সহিত যুদ্ধ না করিয়া স্ত্রী গমন জনিত গোসল করিবেন না। তাঁহার যখম ভাল হওয়ার পর অর্থাৎ তিনি সুস্থ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (স) একদল সৈন্যসহ তাঁহাকে বানু ফাযারার বিরুদ্ধে প্রেরণ করিলেন। তিনি ওয়াদিউল কুরায় পৌঁছিয়া তাহাদিগকে আঘাত করিলেন, তাহাদিগকে চরমভাবে নাজেহাল করিয়া ছাড়িলেন। কায়স ইব্‌ন মুসাহ্হার ইয়া'মূরী (রা) মাস্'আদা ইব্‌ন হাকামা ইবন মালিক ইবন হুযায়ফা ইব্‌ন বাদ্রকে হত্যা করেন। উম্মু কিরফা ফাতিমা বিন্ত রবীআ ইব্‌ন বদরকে বন্দী করেন। এই অশীতিপর বৃদ্ধা ছিল মালিক ইবন হুযায়ফা ইব্‌ন বদরের স্ত্রী। তাহার এক কন্যাও তাহার সহিত বন্দী হয়। আরও বন্দী হইয়াছিল আবদুল্লাহ ইবন মাসআদা। যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) উন্মু কিরফাকে হত্যা করার জন্য কায়স ইব্‌ন মুসাহহারকে নির্দেশ দিলেন। তিনি তাহাকে কঠোরভাবে হত্যা করিলেন। ইহার পর তাহারা উম্মু কিরফার কন্যা ও আবদুল্লাহ ইব্‌ন
মাস'আদকে নিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উপস্থিত হইলেন। উম্মু কিরফার মেয়েটি সালামা ইবনুল আকওয়া (রা)-এব ভাগে পড়িয়াছিল। তিনিই তাহাকে বন্দী করিয়াছিলেন। সে ছিল তাহাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী রমণী। সালামা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হইতে তাহাকে চাহিয়া নিয়া স্বীয় মামা হাসন ইব্‌ন আবূ ওয়াহ্ একে দান করিলেন। তাহার গর্ভেই আবদুর রহমান ইবন হাযনের জন্ম।
কায়স ইবন মুসাহ্হার (রা) মাস'আদা হত্যা সম্পর্কে বলেন, سعیت بورد مثل سعی ابن امه + وانی بورد في الحياه لثائر. كررت عليه المهر لما رأيته + على بطل من ال بدر مفاور. فركيت فيه تعصبيا كانه + شهار بمعراة يزكي لناظر.
"আমি ওয়ারদের বদলা নিতে তেমনই চেষ্টা করিয়াছি, যেমন চেষ্টা করিয়াছে তাহার সহোদর। আমি তো তাহার রক্তের প্রতিশোধ এই জীবনেই লইতে চাহিয়াছিলাম।
আমি যখন তাহাকে দেখিলাম উপর্যুপরি হাঁকাইলাম তাহার উপর আমার নবীন শ্ব। বদর খান্দানের এক লড়াকু বীরের উপর আমি তাহার দেহের অনাবৃত অংশে বিদ্ধ করিলাম চকচকে বর্শা, উজ্জ্বল তারকার মত, ধাঁধাঁইয়া দেয় যাহা দর্শকের চোখ (ইব্‌ন হিশাম, আস্-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৪খ., পৃ. ১৯০)।
আর-রাহীকুল মাখতূম প্রণেতা বলেন, উন্মু বিরফা ছিল চক্রান্তকারী নারী। সে রাসূলুল্লাহ (স)-কে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকিত। রাসূলুল্লাহ (স)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে সে তাহার গোত্রের ত্রিশজন সওয়ারকে প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছিল। এই অভিযানে সে যথার্থ বদলা পাইয়াছিল এবং তাহার ত্রিশজন সওয়ার নিহত হইয়াছিল (আর-রাহীকুল মাতৃম, বাংলা অনু., পৃ. ৩৭১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সারিয়‍্যা 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)

📄 সারিয়‍্যা 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)


৭ম হিজরী সনের শা'বান মাসে রাসূলুল্লাহ (স) হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-কে হাওয়াযিন গোত্রের উদ্দেশ্যে "তুরবা” নামক স্থানের দিকে প্রেরণ করেন। এলাকাটি ছিল সান'আ' এবং নাজরানের পথে হযরত 'উমার (রা) ত্রিশজন সাহাবী সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইলেন। ইহাতে প্রধানত তাঁহারা তীর-ধনুক বহন করেন। ইহা ছাড়াও সাথে নেওয়া হয় হিলাল গোত্রের প্রাজ্ঞ পথ-প্রদর্শক। পথিমধ্যে সকলেই রাত্রে ভ্রমণ করিতেন এবং দিনে বিশ্রাম নিতেন। এমনিভাবে তাহারা হাওয়াযিন গোত্রের সীমানায় পদার্পণ করিলেন এবং দেখিলেন যে, অনেকেই পালাইয়া গিয়াছে। এমনকি তাহারা ব্যবহার্য বহু পণ্যও সাথে নিয়া গিয়াছিল। হযরত 'উমার (রা) ও তাঁহাব দলবল তাহাদিগকে না পাইয়া ও তাহাদের কোন নিদর্শন না দেখিয়া মদীনার দিকে রওয়ানা হন। ইহাতে উল্লেখযোগ্য কোন আক্রমণ বা সংঘর্ষ হয় নাই (আল-হাসান ইব্‌ন উমর ইবন হাবীব, আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা, ১খ., পৃ. ১৮২)।
এই প্রসঙ্গে আল-ওয়াকিদী হইতে ধারাবাহিক সূত্রে ইমাম বায়হাকী (র) একটি হাদীছ উল্লেখ করিয়াছেন: রাসূলুল্লাহ (স) ত্রিশজন অশ্বারোহী সৈন্যসহ হযরত 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-কে তুরবা-এর দিকে প্রেরণ করেন। তাঁহার সাথে হিলাল গোত্রের একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন। তাঁহারা রাত্রে পথ চলিতেন আর দিনে বিশ্রাম নিতেন। যখন শত্রুভূমিতে তাঁহারা আগমন করিলেন, তখন শত্রুরা টের পাইয়া দ্রুত পালাইয়া যায়। হযরত 'উমার (রা) অতঃপর মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হন। তখন তাঁহাকে বলা হয়, আপনি কি "খাছ'আম-এর প্রতি আক্রমণ করিতে চান না? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে শুধু হাওয়াযিন গোত্রের সহিত যুদ্ধ করার জন্য পাঠাইয়াছেন, খাছ'আম গোত্রের সথে যুদ্ধ করিতে বলা হয় নাই। শুধু হাওয়াযিনদের অঞ্চলেই এই অভিযান সীমিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২২১)।

৭ম হিজরী সনের শা'বান মাসে রাসূলুল্লাহ (স) হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-কে হাওয়াযিন গোত্রের উদ্দেশ্যে "তুরবা” নামক স্থানের দিকে প্রেরণ করেন। এলাকাটি ছিল সান'আ' এবং নাজরানের পথে হযরত 'উমার (রা) ত্রিশজন সাহাবী সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইলেন। ইহাতে প্রধানত তাঁহারা তীর-ধনুক বহন করেন। ইহা ছাড়াও সাথে নেওয়া হয় হিলাল গোত্রের প্রাজ্ঞ পথ-প্রদর্শক। পথিমধ্যে সকলেই রাত্রে ভ্রমণ করিতেন এবং দিনে বিশ্রাম নিতেন। এমনিভাবে তাহারা হাওয়াযিন গোত্রের সীমানায় পদার্পণ করিলেন এবং দেখিলেন যে, অনেকেই পালাইয়া গিয়াছে। এমনকি তাহারা ব্যবহার্য বহু পণ্যও সাথে নিয়া গিয়াছিল। হযরত 'উমার (রা) ও তাঁহাব দলবল তাহাদিগকে না পাইয়া ও তাহাদের কোন নিদর্শন না দেখিয়া মদীনার দিকে রওয়ানা হন। ইহাতে উল্লেখযোগ্য কোন আক্রমণ বা সংঘর্ষ হয় নাই (আল-হাসান ইব্‌ন উমর ইবন হাবীব, আল-মুকতাফা মিন সীরাতিল মুসতাফা, ১খ., পৃ. ১৮২)।
এই প্রসঙ্গে আল-ওয়াকিদী হইতে ধারাবাহিক সূত্রে ইমাম বায়হাকী (র) একটি হাদীছ উল্লেখ করিয়াছেন: রাসূলুল্লাহ (স) ত্রিশজন অশ্বারোহী সৈন্যসহ হযরত 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-কে তুরবা-এর দিকে প্রেরণ করেন। তাঁহার সাথে হিলাল গোত্রের একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন। তাঁহারা রাত্রে পথ চলিতেন আর দিনে বিশ্রাম নিতেন। যখন শত্রুভূমিতে তাঁহারা আগমন করিলেন, তখন শত্রুরা টের পাইয়া দ্রুত পালাইয়া যায়। হযরত 'উমার (রা) অতঃপর মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হন। তখন তাঁহাকে বলা হয়, আপনি কি "খাছ'আম-এর প্রতি আক্রমণ করিতে চান না? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে শুধু হাওয়াযিন গোত্রের সহিত যুদ্ধ করার জন্য পাঠাইয়াছেন, খাছ'আম গোত্রের সথে যুদ্ধ করিতে বলা হয় নাই। শুধু হাওয়াযিনদের অঞ্চলেই এই অভিযান সীমিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ২২১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সারিয়‍্যা মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)

📄 সারিয়‍্যা মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)


রাসূলুল্লাহ (স) ষষ্ঠ হিজরী সনের ১০ মুহাররম হযরত মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা আনসারী আল্হালী (রা)-এর অধীনে ত্রিশজন অশ্বারোহীর একটি সৈন্যদল 'কুরতা' নামক স্থানে প্রেরণ করেন (কুরতা বনূ বাক্স গোত্রের একটি শাখা। বসরা হইতে মক্কা গমনের পথে অবস্থিত দারিবা (ضرية) অঞ্চলে ছিল তাহাদের বসতি। মদীনা হইতে এই স্থানটির দূরত্ব ছিল ৭ (সাত) দিনের (যুরকানী, শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ১৪৩)। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে রাত্রিতে ভ্রমণ এবং দিবসে আত্মগোপন করিয়া থাকার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশমত মুসলিম সৈন্যদলটি সেই অঞ্চলে পৌঁছিয়া কুরতার লোকদিগের উপর আক্রমণ চালাইল (ইবন সা'দ, তাবাকাত, উর্দু, ১খ., পৃ. ৩৮৭)। ঐতিহাসিক ওয়াকিদীর মতে এই অভিযানে কাফির পক্ষের মোট দশজন লোক নিহত হইল এবং অবশিষ্টগণ পালাইয়া গেল। এই যুদ্ধে দেড় শত (১৫০টি) উষ্ট্র এবং তিন সহস্র বকরী যুদ্ধলব্ধ মাল হিসাবে মুসলমানগুণের হস্তগত হইল। অভিযান সমাপ্তির পর যুদ্ধলব্ধ সমুদয় মাল লইয়া মুসলিম মুজাহিদগণ মদীনায় রওয়ানা হইলেন। দীর্ঘ ঊনিশ দিনের পথ পরিক্রমার পর উনত্রিশ মুহাররম তাহারা মদীনায় প্রত্যাগমন করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধলব্ধ সমুদয় মালের এক-পঞ্চমাংশ বায়তুল মালের জন্য রাখিয়া অবশিষ্ট মাল মুজাহিদগণের মাঝে বণ্টন করিয়া দেন। তিনি একটি উষ্ট্রকে দশটি বকরীর সমতুল্য গণ্য করিয়াছিলেন (ইদরীস কান্ধলবী, সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৩৭)। ফিরার পথে হযরত ইবন মাসলামা ইয়ামামার বনূ হানীফা গোত্রের ছুমামা ইব্‌ন উছাল নামীয় এক ব্যক্তিকে পথিমধ্যে গ্রেফতার করিয়া মদীনায় লইয়া আসেন। রাসূলের সংশ্রবে আসিয়া ছুমামা ইব্‌ন উছাল মাত্র তিন দিনে তাঁহার একনিষ্ঠ অনুচরে পরিণত হইয়াছিলেন (যুরকানী, শারহুল মাওয়াহিব, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৪৪)।

রাসূলুল্লাহ (স) ষষ্ঠ হিজরী সনের ১০ মুহাররম হযরত মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা আনসারী আল্হালী (রা)-এর অধীনে ত্রিশজন অশ্বারোহীর একটি সৈন্যদল 'কুরতা' নামক স্থানে প্রেরণ করেন (কুরতা বনূ বাক্স গোত্রের একটি শাখা। বসরা হইতে মক্কা গমনের পথে অবস্থিত দারিবা (ضرية) অঞ্চলে ছিল তাহাদের বসতি। মদীনা হইতে এই স্থানটির দূরত্ব ছিল ৭ (সাত) দিনের (যুরকানী, শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ১৪৩)। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে রাত্রিতে ভ্রমণ এবং দিবসে আত্মগোপন করিয়া থাকার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশমত মুসলিম সৈন্যদলটি সেই অঞ্চলে পৌঁছিয়া কুরতার লোকদিগের উপর আক্রমণ চালাইল (ইবন সা'দ, তাবাকাত, উর্দু, ১খ., পৃ. ৩৮৭)। ঐতিহাসিক ওয়াকিদীর মতে এই অভিযানে কাফির পক্ষের মোট দশজন লোক নিহত হইল এবং অবশিষ্টগণ পালাইয়া গেল। এই যুদ্ধে দেড় শত (১৫০টি) উষ্ট্র এবং তিন সহস্র বকরী যুদ্ধলব্ধ মাল হিসাবে মুসলমানগুণের হস্তগত হইল। অভিযান সমাপ্তির পর যুদ্ধলব্ধ সমুদয় মাল লইয়া মুসলিম মুজাহিদগণ মদীনায় রওয়ানা হইলেন। দীর্ঘ ঊনিশ দিনের পথ পরিক্রমার পর উনত্রিশ মুহাররম তাহারা মদীনায় প্রত্যাগমন করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধলব্ধ সমুদয় মালের এক-পঞ্চমাংশ বায়তুল মালের জন্য রাখিয়া অবশিষ্ট মাল মুজাহিদগণের মাঝে বণ্টন করিয়া দেন। তিনি একটি উষ্ট্রকে দশটি বকরীর সমতুল্য গণ্য করিয়াছিলেন (ইদরীস কান্ধলবী, সীরাতুল মুস্তাফা, ২খ., পৃ. ৩৩৭)। ফিরার পথে হযরত ইবন মাসলামা ইয়ামামার বনূ হানীফা গোত্রের ছুমামা ইব্‌ন উছাল নামীয় এক ব্যক্তিকে পথিমধ্যে গ্রেফতার করিয়া মদীনায় লইয়া আসেন। রাসূলের সংশ্রবে আসিয়া ছুমামা ইব্‌ন উছাল মাত্র তিন দিনে তাঁহার একনিষ্ঠ অনুচরে পরিণত হইয়াছিলেন (যুরকানী, শারহুল মাওয়াহিব, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৪৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সারিয়‍্যা যুল-কাসসা

📄 সারিয়‍্যা যুল-কাসসা


ষষ্ঠ হিজরী সনের রবী'উল আওওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ (স) হযরত মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-কে দশজন মুসলিম মুজাহিদের একটি ক্ষুদ্র দলের সেনাপতি করিয়া যুল-কাস্সা নামক স্থানে প্রেরণ করেন। উদ্দেশ্য সেই অঞ্চলের অধিবাসী বনূ ছা'লাবা ও বনু 'উওয়াল (بنو عوال)-কে শায়েস্তা করা। উল্লেখ্য যে, যুল-কাস্সা (ذوا القصه) ছিল মদীনা হইতে ২০ (বিশ) মাইল দূরত্বে অবস্থিত একটি স্থানের নাম (যুরকানী, শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ১৫৪)।
মুসলিম মুজাহিদগণ যখন তথায় পৌঁছেন, তখন সেই এলাকা ছিল জনশূন্য। ততক্ষণে তাহারা (অর্থাৎ কাফিরগণ) আগাম মুসলমানগণের অভিযানের বিষয়ে জানিতে পারিয়া আত্মগোপন করিয়া রহিল। শত্রু পক্ষের কোন লোকজন না দেখিয়া রাত্রিবেলা বিশ্রামের জন্য যখন মুসলমানগণ শয়ন করিলেন, ঠিক তখনই কাফিরগণ তাহাদের উপর অতর্কিত হামলা চালাইল। তাহারা হযরত মুহাম্মদ ইবন মাসলামার সঙ্গীগণের সকলকেই শহীদ করিল এবং তাহাদিগকে উলঙ্গ করিয়া তাহাদের পরিধেয় বস্ত্রাদিসহ সমুদয় মালামাল লুট করিয়া লইয়া গেল। পায়ের গিরায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া ইবন মাসলামা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়িয়া রহিলেন। কাফিরগণ তাহাকে মৃত ভাবিয়া সেই অবস্থায়ই ফেলিয়া চলিয়া গেল। এক মুসলিম পথিক মুসলিম মুজাহিদগণের এই নির্মম পরিণতি দেখিয়া চিৎকার করিয়া ইন্নালিল্লাহ্ বলিয়া উঠিলেন। আওয়াজ শুনিয়া হযরত মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) নড়িয়া উঠিলেন। কিন্তু পায়ের গিরার আঘাতের কারণে তিনি উঠিয়া দাঁড়াইতে পারিলেন না। পথিক তখন তাঁহাকে আপন পৃষ্ঠে উঠাইয়া লইলেন এবং তাঁহাকে লইয়া মদীনায় আসিলেন (আসাহ্হুস্ সিয়ার, পৃ. ১৫৯)।
যুরকানীর বর্ণনা অনুসারে এই যুদ্ধে কাফির পক্ষের এক শত সশস্ত্র ব্যক্তি প্রথমে মুসলমানগণের ঘুমন্ত এই ক্ষুদ্র দলটিকে ঘিরিয়া ফেলে এবং তাঁহাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করিতে থাকে। অতঃপর মুসলমানগণ জাগ্রত হইয়া পাল্টা আক্রমণ করেন। অতঃপর বর্শা-বল্লম লইয়া বেদুঈন কাফিরগণ মুসলমানদিগের উপর আক্রমণ করিল। ইহাতে মুসলমানগণের মধ্য হইতে তিনজন শহীদ হইলেন। তখন মুসলমানগণ ইবন মাসলামার নিকট জড় হইলেন এবং একযোগে কাফিরগণের উপর আক্রমণ চালাইলেন। ইহাতে কাফির পক্ষের এক ব্যক্তি নিহত হইল। অতঃপর কাফিরগণ পাল্টা আক্রমণ করিয়া ইবন মাসলামা ব্যতীত বাকী সকলকেই শহীদ করিল (শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ১৫৪)।

ষষ্ঠ হিজরী সনের রবী'উল আওওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ (স) হযরত মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-কে দশজন মুসলিম মুজাহিদের একটি ক্ষুদ্র দলের সেনাপতি করিয়া যুল-কাস্সা নামক স্থানে প্রেরণ করেন। উদ্দেশ্য সেই অঞ্চলের অধিবাসী বনূ ছা'লাবা ও বনু 'উওয়াল (بنو عوال)-কে শায়েস্তা করা। উল্লেখ্য যে, যুল-কাস্সা (ذوا القصه) ছিল মদীনা হইতে ২০ (বিশ) মাইল দূরত্বে অবস্থিত একটি স্থানের নাম (যুরকানী, শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ১৫৪)।
মুসলিম মুজাহিদগণ যখন তথায় পৌঁছেন, তখন সেই এলাকা ছিল জনশূন্য। ততক্ষণে তাহারা (অর্থাৎ কাফিরগণ) আগাম মুসলমানগণের অভিযানের বিষয়ে জানিতে পারিয়া আত্মগোপন করিয়া রহিল। শত্রু পক্ষের কোন লোকজন না দেখিয়া রাত্রিবেলা বিশ্রামের জন্য যখন মুসলমানগণ শয়ন করিলেন, ঠিক তখনই কাফিরগণ তাহাদের উপর অতর্কিত হামলা চালাইল। তাহারা হযরত মুহাম্মদ ইবন মাসলামার সঙ্গীগণের সকলকেই শহীদ করিল এবং তাহাদিগকে উলঙ্গ করিয়া তাহাদের পরিধেয় বস্ত্রাদিসহ সমুদয় মালামাল লুট করিয়া লইয়া গেল। পায়ের গিরায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া ইবন মাসলামা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়িয়া রহিলেন। কাফিরগণ তাহাকে মৃত ভাবিয়া সেই অবস্থায়ই ফেলিয়া চলিয়া গেল। এক মুসলিম পথিক মুসলিম মুজাহিদগণের এই নির্মম পরিণতি দেখিয়া চিৎকার করিয়া ইন্নালিল্লাহ্ বলিয়া উঠিলেন। আওয়াজ শুনিয়া হযরত মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা) নড়িয়া উঠিলেন। কিন্তু পায়ের গিরার আঘাতের কারণে তিনি উঠিয়া দাঁড়াইতে পারিলেন না। পথিক তখন তাঁহাকে আপন পৃষ্ঠে উঠাইয়া লইলেন এবং তাঁহাকে লইয়া মদীনায় আসিলেন (আসাহ্হুস্ সিয়ার, পৃ. ১৫৯)।
যুরকানীর বর্ণনা অনুসারে এই যুদ্ধে কাফির পক্ষের এক শত সশস্ত্র ব্যক্তি প্রথমে মুসলমানগণের ঘুমন্ত এই ক্ষুদ্র দলটিকে ঘিরিয়া ফেলে এবং তাঁহাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করিতে থাকে। অতঃপর মুসলমানগণ জাগ্রত হইয়া পাল্টা আক্রমণ করেন। অতঃপর বর্শা-বল্লম লইয়া বেদুঈন কাফিরগণ মুসলমানদিগের উপর আক্রমণ করিল। ইহাতে মুসলমানগণের মধ্য হইতে তিনজন শহীদ হইলেন। তখন মুসলমানগণ ইবন মাসলামার নিকট জড় হইলেন এবং একযোগে কাফিরগণের উপর আক্রমণ চালাইলেন। ইহাতে কাফির পক্ষের এক ব্যক্তি নিহত হইল। অতঃপর কাফিরগণ পাল্টা আক্রমণ করিয়া ইবন মাসলামা ব্যতীত বাকী সকলকেই শহীদ করিল (শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ. ১৫৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00