📄 সারিয়্যা জামূম / জামূহ
৬ষ্ঠ হিজরীর রবীউল আখির মাস। রাসূলুল্লাহ (স) হযরত যায়দ ইব্ن হারিছা (রা)-র নেতৃত্বে বানু সুলায়মের বিরুদ্ধে একদল সৈন্য প্রেরণ করেন। হযরত যা'য়দ ইব্ن হারিছা মদীনা হইতে ৪ মাইল দূরে বাতনে নাখলার উত্তর পার্শ্বে জামূম নামক স্থানে যাত্রাবিরতি করিলেন। হালীমা নাম্নী এক মহিলার সঙ্গে তাহাদের সাক্ষাত হইল। তাহারই দিকনির্দেশনায় বানু সুলায়মের জনপদের সন্ধান মিলিল। হযরত যায়দ ইব্ন হারিছা (রা) বানু সুলায়ম-এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করিলেন। শত্রুপক্ষ পরাজিত হইল। প্রচুর পরিমাণে যুদ্ধলব্ধ সামগ্রী ও বন্দী হস্তগত হইল। হযরত যায়েদ ইবন হারিছা যুদ্ধবন্দী ও যুদ্ধলব্ধ সামগ্রী লইয়া রাত্রেই মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিলেন। বন্দীদের মধ্যে হালীমার স্বামীও ছিল। রাসূলুল্লাহ (স) উভয়কে ক্ষমা করিয়াছেন (ইবন সা'দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ৬৮; শায়খ আবদুল হক, মাদারিজুন নুবুওয়াহ, ২খ., পৃ. ৩৩২; মহানবী (স)-এর জীবনী বিশ্বকোষ, ১খ., পৃ. ৩৬৩ ২০০০ সাল; ইবন হিশাম, সীরাতুন নবী, ২খ., প. ২৭; হাফেজ ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১৮০; ইব্ন সায়্যিদিন্নাস, 'উয়ূনুল আছার, ২খ., পৃ. ১৪৪)।
প্রন্থপঞ্জীঃ (১) ইবন সা'দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., দারু সাদির, বৈরূত তা. বি.; (২) শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিছ দিহাবী, মাদারিজুন নুবওয়াহ (উর্দু) ২খ., আদবী দুনিয়া, ৫১০, মাটিয়া মহল, ১৯৯২ খৃ.; (৩) মহানবী (স)-এর জীবনী বিশ্বকোষ, ১খ., দারুল ওয়ানীলা প্রকাশনী, ঢাকা; (৪) ইন্ন হিশাম, সীরাতুন নবী, ২খ., ই'তিকাদ পাবলিশিং হাউস, দিল্লী ১৯৮২; (৫) ইন্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, কায়রো, তা. বি.; (৬) ইন সায়্যিদিন্নাস, 'উয়ুনুল আছার, দারুল কালাম, বৈরূত ১৯৯৩ খৃ.)।
📄 সারিয়্যা আল-ঈস
৬ষ্ঠ হিজরী জুমাদাল উলা মাস। মহানবী (স) জানিতে পারিলেন, কুরায়শদের একটি কাফেলা সিরিয়া হইতে প্রত্যাগমন করিতেছে। তিনি হযরত যায়দ ইবন হারিছার নেতৃত্বে একশত সত্তরজন উষ্ট্রারোহী সাহাবীর একটি দল উক্ত কুরায়শ কাফেলাকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করিলেন। মদীনা হইতে চারি দিনের পথ অতিক্রম করিলে আল-ঈস নামক স্থানে হযরত যায়দ ইবন হারিছার বাহিনী কুরায়শদের 'মুখামুখী হইল। ঝটিকা আক্রমণে মুসলিম বাহিনী কুরায়শদিগকে পর্যুদস্ত করিল। প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সামগ্রী ও বন্দী মুসলমানগণের হস্তগত হইল। যুদ্ধলব্ধ সামগ্রীর মধ্যে রৌপ্য ছিল প্রচুর পরিমাণে। আর সেই রৌপ্যের মালিক ছিল কুরায়শ ধনকুবের সাফওয়ান ইবন উমায়্যা।
মহানবী (স)-এর কন্যা হযরত যয়নাবের স্বামী ছিল আবুল আস ইব্নুর রবী'। ইব্ن ইসহাক (র) বলেন, আবুল আস বসবাস করিতেন মক্কা নগরীতে। মহানবী (স) স্বীয় কন্যা হযরত যয়নাবকে তাহার সহিত বিবাহ দেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নুবুওয়াত প্রাপ্তির পর ধর্মীয় বিধানানুসারে আবুল আস ও হযরত যয়নাবের বৈবাহিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। হযরত যয়নাব মহানবী (স)-এর নিকট মদীনাতে ফিরিয়া যান।
মক্কা বিজয়ের কিছুদিন পূর্বে আবুল আস বাণিজ্য উপলক্ষ্যে কুরায়শ কাফেলার সহিত সিরিয়া গমন করেন। তাহার নিজস্ব পণ্যসামগ্রী ব্যতীত অন্যান্যদের পণ্যসামগ্রীও তাহার তত্ত্বাবধানে ছিল। বাণিজ্যিক কার্যক্রম সমাপ্তির পর সিরিয়া হইতে প্রত্যাবর্তনকালে কুরায়ش কাফেলা হযরত যায়দ ইব্ن হারিছার বাহিনী কর্তৃক আক্রান্ত হইলে তিনি রাত্রির অন্ধকারে বাহিনীর অগোচরে পালাইয়া প্রাণে রক্ষা পান। তাহার মালামাল বাহিনী কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়। বন্দী ও যুদ্ধলব্ধ সামগ্রী মদীনায় আনয়ন করা হইল। আবুল আস রাত্রির অন্ধকারে মহানবী (س)-এর কন্যা হযرت যয়নাবের নিকট উপস্থিত হইয়া আশ্রয়প্রার্থী হন। তিনি তাহাকে আশ্রয় প্রদান করেন।
ইয়াযীদ ইব্ন রুমমানের বর্ণনানুসারে জানা যায়، হযرت যয়নাব فजर نامায সমাপনান্তে، মহিলাগণের نامায আদায়ের স্থান হইতে উচ্চস্বরে ঘোষণা দেন، 'হে জনতা! তোমরা জানিয়া রাখ، আমি আবুল আসকে আশ্রয় প্রদান করিলাম।' نامায শেষে মহানবী (স) উপস্থিত জনতাকে লক্ষ করিয়া বলিলেন، 'আমি যাহা শুনিয়াছি তোমরাও কি তাহা শুনিয়াছ?' জনগণ সমস্বরে বলিল، হাঁ। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন، 'ওহে জনতা! তোমরা জানিয়া রাখ، যাঁহার হস্তে আমার জীবন তাঁহার শপথ করিয়া বলিতেছি، "মুসলমানদের যে কোন ব্যক্তির জন্য অপর একজনকে আশ্রয় প্রادানের অধিকার রহিয়াছে"। অতঃপর তিনি তাঁহার কন্যার নিকট গমন করিলেন এবং বলিলেন، যয়নাব! আবুল আস তোমার সৌজন্যের অধিকার রাখে। তবে সে তোমার ঐকান্তিকতার অধিকার হইতে বঞ্চিত। এখন সে আর তোমার জন্য হালাল নহে।
হযرت আবদুল্লাহ ইব্ن আবূ বাকر-এর উদ্ধৃতিতে ইन्न ইসহাক বলেন، যাহারা আবুল আসের সম্পদগুলী বণ্টন করিয়া লইয়াছিল، তাহাদিগকে ডাকিয়া মহানবী (স) বলিলেন، "তোমরা উত্তমরূপে জান যে، আবুল আসের সহিত আমার কিরূপ সম্পর্ক। আজ তোমরা তাহার সম্পদগুলি বাজেয়াপ্ত করিয়া নিজেদের মধ্যে বণ্টন করিয়া লইয়াছ। যদি তোমরা তাহার প্রতি সৌজন্য প্রকাশ করিয়া সম্পদগুলি তাহাকে প্রত্যর্পণ কর، তাহা হইলে বিষয়টি আমার খুবই মনঃপূত হইবে। আর যদি তোমরা অস্বীকার কর সেই ক্ষেত্রেও তোমাদের কোন অপরাধ হইবে না। কারণ যুদ্ধলব্ধ সামগ্রীতে তোমাদের অবশ্যই অধিকার রহিয়াছে। সকল সাহাবা কিরামই তাহার সমুদয় সম্পদ ফেরত দিলেন।
ইহার পর আবুল আস তাহার যাবতীয় মালামালসহ মক্কায় পৌছিলেন। অপরের যাহা কিছু তাহার নিকট ছিল তাহাদিগকে তাহা প্রত্যর্পণ করিলেন। অতঃপর তিনি কুরায়شদিগকে ডাকিয়া বলিলেন، “হে কুরায়شগণ! আমার নিকট তোমাদের আর কোন দাবি আছে কি?” তাহারা সমস্বরে বলিল، আল্লাহ তোমাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। তোমার নিকট আমাদের আর কোন প্রাপ্য নাই। এইবার আবুল আস সজোরে ঘোষণা দিলেন، 'এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই، হযرت محمد (س) তাঁহার প্রেরিত রাসূল।'
হযرت ইব্ن আব্বাস সূত্রে ইন্ন ইসহাক বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদের সুদীর্ঘ ছয় বৎসর পর আবুল আস মুসলমান হলে মহানবী (স) তাঁর কন্যা যয়নব ও আবুল আসের পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখেন। হযরত যয়নব পুনরায় স্বামীগৃহে গমন করেন।
📄 সারিয়্যা তারাফ
৬ষ্ঠ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে রাসূলুল্লাহ্ (স) যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-কে তুর্ক বা তারাফ অভিমুখে প্রেরণ করেন। তারাফ বানু সালামার একটি কূপের নাম। ইহা মদীনা হইতে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত। যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর আগমন টের পাইয়া কাফিরগণ ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া পলায়ন করে। তাহাদের সম্পদের মধ্যে কুড়িটি উট পাওয়া যায়। তাহা লইয়া যায়দ ইবন হারিছা (রা) মদীনায় চলিয়া আসেন (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৫৫; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৯১)।
যাদুল মা'আদ প্রণেতা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত যায়দ ইবন হারিছা (রা)-এর অধিনায়কত্বে পনর জন সাহাবীকে প্রেরণ করেন। অনেক বকরী ও বিশটি উট মুসলিম বাহিনীর হস্তগত হয় (কিতাবুল মাগাযী, ২খ., পৃ. ৫৫৫; যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১২০-২১)।
আর-রাহীকুল মাখতুম প্রণেতা বলেন, এই অভিযান সংঘটিত হইয়াছিল জুমাদাছ ছানীতে তারাফ বা তারাক নামক এলাকায়। ইবন ইসহাক বলেন, ইহা ছিল নাখল-এর নিকটবর্তী তারাফ নামক স্থানে। ইহা ইরাকগামী রাস্তার পার্শ্বে অবস্থিত। বেদুঈনরা ধারণা করিয়াছিল যে, রাসূলুল্লাহ (স) স্বয়ং এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়াছেন। তাই তাহারা ভয়ে পালাইয়া যায়। হযরত যায়দ (রা) সেখান হইতে চারটি উট অধিকার করেন এবং চারিদিন পর মদীনায় ফিরিয়া আসেন (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৪খ, ১৯৫; আর-রাহীকুল মাখতুম, বাংলা অনু. পৃ. ৩৫৭, ৩৫৮)।
গ্রন্থপঞ্জী : (১) ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৪খ., বৈরূত ১৯৭৫ খৃ.; (২) হাফিজ ইবনুল কায়ি্যম, যাদুল মা'আদ, ২খ., দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যা, বৈরূত, তা. বি.; (৩) আবুল বারাকাত আবদুর রউফ দানাপুরী, আসাহহুস সিয়ার, কুতুবখানা রহীমিয়া, দেওবন্দ ১৯৩২ খৃ. ১৩৫২ হি.; (৪) ছফিউর রহমান মুবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতুম, অনু. খাদিজা আখতার রেজায়ী, আল-কুরআন একাডেমী, লন্ডন, বাংলাদেশ কার্যালয়; (৫) আল-ওয়াকিদী, কিতাবুল মাগাযী, ২খ., অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৪/১৪০৪ হি.; (৬) ইবন সা'দ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ৮৭, দারু সাদির, বৈরূত, তা. বি.।
📄 সারিয়্যা হিসমী
ইবনুল আছীর উল্লেখ করেন যে, 'হা' ও 'সীন' হরফবিশিষ্ট বনী জুযামের একটি নগরের নাম। আর "মাদারিজুন নুবৃওয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করা হইয়াছে যে, ইহা ওয়াদিল কুরার পূর্ববর্তী একটি স্থানের নাম। আল-ওয়াকিদী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-কে হিসমী অভিমুখে প্রেরণ করেন।
অভিযানের কারণ : রাসূলুল্লাহ্ (স) দিহ্ইয়া ইব্ন খলীফা আল-কালবী (রা)-কে ইসলামের দাওয়াত সম্বলিত একটি পত্রসহ রোম সম্রাট কায়সারের নিকট প্রেরণ করেন। তিনি পত্র হস্তান্তর করিয়া প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁহার সহিত ছিল রোম সম্রাট কর্তৃক প্রদত্ত উপঢৌকন সামগ্রী। পথিমধ্যে হাসমীগণ তাঁহার সবকিছু লুণ্ঠন করে। তিনি ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই সংবাদ প্রদান করেন। রাসূলুল্লাহ (স) যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-কে হিসমী অভিমুখে প্রেরণ করেন এবং দিহ্ইয়া ইব্ন খলীফা আল-কালবী (রা)-কেও তাঁহার সহিত প্রেরণ করেন। তাঁহারা সেখানে পৌঁছিয়া প্রতিশোধ গ্রহণ করেন এবং উপঢৌকন সামগ্রী উদ্ধার করেন। তাহারা তাহাদের গবাদিপশু ও বন্দীদের লইয়া আসেন।
এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে হুদায়বিয়ার সন্ধির পরে সংঘটিত হইয়াছিল। কারণ রাসূলুল্লাহ্ (স) হুদায়বিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া সপ্তম হিজরী সনে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের নিকট ইসলামের দাওয়াত সংক্রান্ত পত্রসহ ছয়জন দূত প্রেরণ করেন। তাঁহাদের মধ্যে দিহ্ইয়া ইব্ন খলীফা আল-কালবীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন، যিনি রোম সম্রাটের নিকট রাসূলুল্লাহ্ (س)-এর পত্র প্রদানের নিমিত্ত গমন করেন (আসাহ্হুস সিয়ার، পৃ. ১৯৪-৯৫)।
ইব্ন হিশام উল্লেখ করেন، ইب ন ইসহাক বলেন، জুযام-এর کতিপয় লোক، যাহাদের প্রতি আমার কোন সন্দেহ নাই এবং যাহারা এই অভিযান সম্পর্কে অবগত ছিলেন، তাহারা বর্ণনা দিয়াছেন، ریفاআ ইব্ন যায়د আল-জুযامی রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট হইতে যখন তাঁহার পত্র নিয়া তাহাদের নিকট ফিরিয়া আসিলেন، যাহাতে রাসূলুল্লাহ (س) তাহাদিগকে ইসলাম গ্রহণের আহ্হ্বান জানাইয়াছেন، তখন তাহারা তাহাতে সাড়া দিল। ইহার মধ্যে দিহ্ইয়া ইব্ن خلیفہ الکلبی (را) روم بادشاہ קייסر کے پاس سے واپس آ رہے تھے، تو روم بادشاہ نے انہیں بہت سی دولت اور لباس دی تھی۔ جب وہ شامر নামক উপत्यকায় پہنچے، تو حُنایت ابن 'اوس اور ان کے بیٹے 'اوس ابن حُنایت نے ان پر حملہ کیا تھا. حُنایت اور 'اوس دلای গোत्र के लोग थे, जो جُذام गोत्र کی ایک ذیلی شاخ تھی۔ انہوں نے دیہایہ (رضی اللہ عنہ) کا سارا سامان لوٹ لیا تھا.
اس خبر کے بعد بنو دبایب کے پاس یہ خبر پہنچی۔ ریفاا بن زید، جو رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کی دعوت پر اسلام قبول کر چکے تھے، بنو دبایب ہی کے قبیلے سے تھے۔ نومن بن ابی جیل سمیت اس قبیلے کے لوگوں نے حُنایت اور اس کے بیٹے کا پیچھا کیا اور ان سے مقابلہ کیا. اس وقت بنو دبایب کے قروبہ بن اشقر دابای نے اپنی خاندانی پہچان بتاتے ہوئے کہا، 'میں لُبنہ کا بیٹا ہوں'. یہ کہتے ہوئے اس نے نومن بن ابی جیل پر ایک تیر پھینکا۔ وہ اس کے گھٹنے میں لگا. تب اباب نے کہا، یہ لے، میں لُبنہ کا بیٹا ہوں۔ لُبنہ اس کی ماں کا عرفی نام تھا۔ اس سے پہلے بنو دبایب کے حسن بن ملا نے دیہایہ بن خلیفہ کا ساتھ حاصل کیا تھا اور اس نے اسے سورہ فاتحہ سکھائی تھی۔
ابن ہشام کہتے ہیں، قرہ بن اشکر کو قرہ بن اشکر ظفاری اور حسان بن ملا کو حیان بن ملا بھی کہا جاتا ہے۔ ابن اسحاق مزید کہتے ہیں، مجھے جس شخص پر شک نہیں ہے، جذام قبیلے کے بعض افراد سے اس نے مجھے بیان کیا کہ، انہوں نے حُنایت اور اس کے بیٹے کے ہاتھوں سے سارا سامان چھڑا کر دیہایہ کو واپس کر دیا تھا۔ دیہایہ (رضی اللہ عنہ) وہ سامان لے کر چلے گئے اور رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے پاس حاضر ہوئے۔ اس کے بعد انہوں نے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کو ساری تفصیلات بتائیں اور حُنایت اور اس کے بیٹے کو قتل کرنے کا انتظام کرنے کو کہا۔ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) کو ان کے خلاف بھیجا۔ یہی حیسم نامی جگہ پر جذام قبیلے کے خلاف زید بن حارثہ کے حملے کا پس منظر تھا۔
رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے زید کے ساتھ ایک دستہ بھی بھیجا۔ جب ریفاا بن زید رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کا خط لے کر اپنے قبیلے کے پاس پہنچے تو بنو جذام کی شاخ بنو غطفان، بنو وائل، بنو سالمان کے لوگ اور بنو سعد بن حُزیم وہاں سے نکل کر حراہ میں چلے گئے تھے۔ یہ رِجلا کا حراہ تھا۔ اس وقت ریفاا بن زید قراو ربّہ میں تھے. وہ یہ نہیں جانتے تھے۔ ان کے ساتھ بنو دبایب کے بھی بعض لوگ تھے. بنو دبایب کے دوسرے تمام لوگ حراہ کے کنارے مدن وادی میں تھے۔ ابن حارثہ (رضی اللہ عنہ) کا دستہ اولاد کے طرف سے آگے بڑھ کر حراہ کی طرف سے مقیس پر حملہ کیا۔ انہوں نے مال و دولت اور انسان، جو کچھ بھی ملا، سب پر قبضہ کر لیا اور حُنایت اور اس کے بیٹے اور بنو اَجنف کے دو لوگوں کو قتل کر دیا۔ ابن ہشام کہتے ہیں، وہ دونوں بنو اَجنف کے تھے۔
ابن اسحاق اپنی روایت میں کہتے ہیں، اس کے علاوہ انہوں نے بنو خاصیب کے ایک شخص کو بھی قتل کیا تھا۔ بنو دبایب کے لوگوں کو جب یہ خبر ملی تو ان کا ایک گروہ تیار ہو گیا۔ زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) کا دستہ اس وقت مدن کے کنارے پر تھا۔ بنو دبایب میں سے جو گھوڑوں پر سوار ہو کر نکلے تھے، ان میں سے ایک حسان بن ملا تھا۔ وہ سوید بن زید کے ایک گھوڑے پر سوار تھا۔ گھوڑے کا نام 'عجاجہ' تھا۔ اس کا بھائی اونایف بن ملا اپنے باپ ملا کے گھوڑے رِجل پر سوار تھا۔ ان کے ساتھ ابو زید بن عمرو بھی تھے۔ وہ شمیر نامی ایک گھوڑے پر سوار تھے۔
وہ نکل کر زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) کے دستے کے قریب پہنچے تو ابو زید اور حسن نے اونایف بن ملا کو کہا، تم ہمارے قریب نہ آؤ، بلکہ واپس چلے جاؤ۔ کیونکہ ہم تمہارے چہرے سے ڈرتے ہیں۔ لہذا وہ رک گیا۔ لیکن وہ دونوں کچھ دور بھی نہیں گئے تھے کہ گھوڑا پاؤں سے زمین کھودنے لگا اور اچھلنے لگا۔ تب اس نے کہا، 'تو گھوڑوں کی جتنی بھی لت رکھتا ہے، میں اس سے زیادہ ان دونوں افراد کی لت رکھتا ہوں.' یہ کہہ کر اس نے لگام ڈھیلی دی اور ان دونوں کو پکڑ لیا. انہوں نے اسے کہا، 'اب جب تم آ گئے ہو، تو کم از کم اپنی زبان کو ہم سے روکو۔ آج کے لیے کم از کم ہماری بدقسمتی کا سبب نہ بنو.'
انہوں نے بات چیت کرکے طے کیا کہ حسان بن ملا کے علاوہ ان میں سے کوئی بات نہیں کرے گا۔ اسلامی دور سے پہلے ان کے درمیان ایک لفظ رائج تھا. وہ آپس میں اس کا مطلب سمجھتے تھے۔ ان میں سے جب کوئی تلوار سے وار کرنا چاہتا تو کہتا 'بوری' (نوری) یا 'ثوری' (صوری)۔ خلاصہ یہ کہ، وہ زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) کے دستے کے قریب پہنچتے ہی دستے کے لوگوں نے ان کی طرف کوچ کیا. حسان نے انہیں کہا، ہم مسلمان ہیں۔ سب سے پہلے جو شخص ان کے سامنے آیا، وہ ایک کالے گھوڑے پر سوار تھا۔ وہ انہیں پیچھے سے ہانکتا ہوا لایا. تب اونایف نے کہا، 'بوری'. حسان نے کہا، آہستہ۔ اس طرح وہ زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) کے سامنے کھڑے ہوئے۔ حسان کو دیکھ کر کہا، ہم مسلمان ہیں۔ زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) نے کہا، تو سورہ فاتحہ پڑھ کر سناؤ. حسان نے سورہ فاتحہ پڑھی۔ زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) نے کہا، فوجیوں میں اعلان کر دو کہ، یہ قبیلہ جس سرحد پر رہتا ہے، اس سرحد کو اللہ تعالی نے ہمارے لیے حرام کر دیا ہے۔ لیکن جو شخص عہد شکنی کرے گا، اس کی بات الگ ہے۔
ابن اسحاق کہتے ہیں، حسان بن ملاح کی بہن قیدیوں میں تھی۔ وہ ابو وابر بن ادی بن امیہ بن دبایب کی بیوی تھی۔ زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) نے حسان کو کہا، اپنی بہن کو لے جاؤ۔ وہ اس وقت بھائی کی کمر سے چمٹی ہوئی تھی۔ ام الفِضر نامی ان کی ایک خاتون نے کہا، تم اپنی بہنوں کو لے جا رہے ہو، اور ہمیں چھوڑے جا رہے ہو؟ تب بنو خاصیر کے ایک شخص نے تبصرہ کیا، وہ بنو دبایب ہیں، ان کی زبان کا جادو ہر دور میں مؤثر رہا ہے۔ فوجیوں میں سے ایک نے یہ بات سن لی اور زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) کو بتا دیا۔ اس نے حسان کی بہن کو چھوڑنے کا حکم دیا۔ تب اس کا ہاتھ بھائی کی کمر سے چھڑا لیا گیا. اس نے اسے کہا، تم اپنی چچازاد بہنوں کے ساتھ رہو، جب تک اللہ تعالی تمہارے بارے میں کوئی فیصلہ نہ کرے۔ زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) نے اپنے دستے کو اس وادی میں اترنے سے منع کر دیا، جہاں سے وہ آئے تھے۔ وہ واپس جا کر اپنے خاندان کے درمیان شام تک رکے اور سوید بن زید کا اونٹنی کا دودھ کب آئے گا، اس کا انتظار کیا۔ دودھ پینے کے بعد وہ ریفاا بن زید کے پاس آئے. اس رات ریفاا سے مزید ملاقات کی ابو زید بن عمرو، ابو شمّاس بن عمرو، سوید بن زید، باজা بن زید، بارزا بن زید، ثعلبہ بن زید، مخربہ بن ادی، اونایف بن ملا اور حسن بن ملا۔ انہوں نے 'کُراو ربّار' نامی جگہ پر ریفاا کے ساتھ رات گزاری تھی. یہ جگہ حراہ کے درمیان تھی۔ حراہِ لیلی کے ایک کنویں کے قریب تھی۔ حسن بن ملا نے ریفاا کو کہا، جذام کی عورتیں دوسروں کے ہاتھوں قیدی ہیں، اور تم بیٹھے بیٹھے اونٹنی کا دودھ دھو رہے ہو؟ جو خط تم لائے ہو، وہ جذام والوں کے ساتھ دھوکہ کر چکا ہے. یہ سن کر ریفاا بن زید نے ایک اونٹ لایا اور اس کی پیٹھ پر ہودہ لگاتے ہوئے پڑھا:
"کیا تم زندہ ہو یا زندہ کو پکار رہے ہو؟"
اس کے بعد وہ اپنے ساتھیوں کے ساتھ خاصیب قبیلے کے مقتول شخص کے بھائی امیہ بن دافارہ کے پاس پہنچے۔ اس وقت صبح کی روشنی پھیل رہی تھی۔ لگاتار تین دن چلنے کے بعد وہ مدینہ پہنچے۔ مدینہ میں داخل ہو کر جب وہ مسجد کے قریب پہنچے تو ایک شخص نے انہیں دیکھ کر کہا، تم یہاں اونٹ مت بٹھاؤ۔ لہذا وہ اونٹ کھڑے کر کے نیچے اتر گئے۔ اس کے بعد وہ مسجد کے اندر رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے پاس داخل ہوئے۔ انہوں نے انہیں دیکھ کر اشارے سے کہا، لوگوں کے پیچھے سے آؤ۔ ریفاا بن زید نے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم سے بات کرنا شروع کی تو ایک شخص نے کہا، یا رسول اللہ! یہ جادوگر قبیلہ ہے۔ یہ بات اس نے دو بار کہی۔ تب ریفاا بن زید نے کہا، اللہ تعالی اس شخص پر رحم کرے، جس نے ہمیں اچھائی کے سوا کچھ نہیں دیا۔ اس کے بعد انہوں نے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کا وہ خط ان کے ہاتھ میں واپس کر دیا۔ اس نے کہا، یا رسول اللہ! یہ خط واپس لے لیجیے جو آپ نے میرے لیے لکھا تھا۔ اس خط کی تحریر پرانی ہے، لیکن اس کی مخالفت نئی ہے۔ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے کہا، اے جوان! اسے بلند آواز میں پڑھو۔ جب اس نے خط پڑھ کر ختم کیا تو رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے واقعہ جاننا چاہا. آنے والے دستے نے کہا، ہم مسلمان ہیں۔ اس کے باوجود حضرت زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) نے ہمارے بعض لوگوں کو قتل کیا ہے اور ہمارا سب کچھ چھین لیا ہے۔ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے کہا، میں مقتولین کے بارے میں کیا کروں؟ ریفاا (رضی اللہ عنہ) نے کہا، جو زندہ ہیں انہیں آزاد کر دیجیے۔ جو قتل ہو گئے ہیں ان کے بارے میں کیا کیا جا سکتا ہے۔ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے کہا، "وہ سچ ہے۔" انہوں نے کہا، "ہمیں کسی کو بھیج دیجیے تاکہ وہ ہمارا لوٹا ہوا سامان واپس کر دے۔" رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے علی (رضی اللہ عنہ) کو ان کے ساتھ بھیجا۔ ان کے ساتھ ایک تلوار بھی دی۔ علی (رضی اللہ عنہ) زید (رضی اللہ عنہ) کے پاس جا کر ساری تفصیلات بتائیں تو اس نے پوچھا، اس کا کیا ثبوت ہے؟ حضرت علی (رضی اللہ عنہ) نے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کی تلوار دکھائی۔ اس پر حضرت زید (رضی اللہ عنہ) نے قیدیوں کو آزاد کر دیا اور ان کا سامان واپس کر دیا۔ ان کا جو کچھ بھی تھا، سب انہوں نے سمجھ لیا۔ یہاں تک کہ خاتون کے ہودے کے نیچے کا کپڑا بھی انہوں نے کھول لیا. ان کا یہ کام ختم ہو جانے کے بعد ابو جیال نے پڑھا: وعاذلة ولم تعذل بطب ولو نحن حش بها السعير تدافع في الاساري بابنتيها ولا يرجى لها عتق يسير ولو وكلت الى عوص وأوس لحاربها عن العتق الامور ولو شهدت ركائبنا بمصر تحاذر أن يعل بها المسير وردنا ماء يثرب عن حفاظ لو بع انه قرب ضرير بكل مجرب كالسيد نهد على افتاد ناجيه صبور فدى لابی سلیمی کل جيش بيثرب اذ تناطحت النحور غداة ترى المجرب مستكينا خلاف القوم ما منه تدور
"کتنی ہی ملامت کرنے والیاں ہیں جن کی ملامت کی زبان بالکل نرم نہیں ہے. اگر ہم نہ ہوتے تو انہیں جنگ کی آگ میں جلا دیا جاتا۔ وہ عورت اپنی دو بیٹیوں سمیت قیدیوں میں سے تو کوشش کر چکی تھی، لیکن آزادی کی کوئی امید نہیں تھی۔ اگر اسے اوس اور اوس کے حوالے کیا جاتا تو وہ آزادی کے لیے حالات سے لڑتی۔ اگر وہ ہمارے گھوڑوں کو شہر میں دیکھتی تو انہیں دوبارہ سفر کرنے پر سخت پریشانی ہوتی۔ ہم یثرب کے پانی کے پاس حفاظت کے لیے اترے۔ اگر یہ سمجھا جاتا کہ وہ قریب ہے تو وہ پریشان ہو جاتی۔ ہر تجربہ کار، جیسے کہ ایک جوان، سرکش اونٹنی پر سوار، جو سخت جان ہے، فدیہ ہے ابو سلیمی کے ہر لشکر کے لیے یثرب میں، جب سینے ایک دوسرے سے ٹکراتے تھے، اس صبح جب تجربہ کار کو قوم کے خلاف بے بس دیکھا جاتا ہے، وہ اس کی طرف نہیں مڑتی۔" (ابن ہشام، السیرۃ النبویۃ، 4/191-195)۔
حافظ ابن القیم کہتے ہیں، یہ واقعہ حدیبیہ کی صلح کے بعد کا ہے، اس میں کوئی شک نہیں۔ وہ کہتے ہیں، 'دیہایہ بن خلیفہ الثعلبی رومن شہنشاہ کے پاس سے واپس آ رہے تھے، تو رومن شہنشاہ نے انہیں بہت سی دولت اور لباس دی تھی۔ جب وہ حمص میں پہنچے تو جذام کے ایک گروہ نے ان کا سارا سامان لوٹ لیا تھا۔ انہوں نے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کو یہ خبر دی تھی. رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے زید بن حارثہ (رضی اللہ عنہ) کی قیادت میں وہاں ایک دستہ بھیجا تھا.' (زاد المعاد، 2/122).
গ্রন্থپঞ্জী: (1) ابن ہشام، السیرۃ النبویۃ، 4/بیرو، 1975; (2) حکیم ابو البرکات عبد الرؤوف دانابوری (رحمہ اللہ علیہ)، أساهھوس سیر، کتب خانہ رحیمیہ، دیوبند 1932/1351 हिजरी; (3) حافظ ابن القیم، زاد المعاد، 2/بیرو، دار الكتب العلمیہ، ط. ب.; (4) الواقدی، کتاب المغازی، 2/جونس، آکسفورڈ یونیورسٹی پریس، 1984/1404 ہجری; (5) ابن سعد، الطبقات الكبرى، 2/دار صادر، بیروت، ط. ب.