📄 ফায় লাভ ও কুরআনের বাণী
বানু নাষীরের নির্বাসনের পর অনেকগুলি খাদ্যশস্য ভর্তি গোলা, ফলের বাগান ও আবাদি জমি মুসলমানদের হস্তগত হয়। ইহা ছাড়া ৫০টি বর্ম এবং তিন শত চল্লিশটি তরবারি পাওয়া যায় (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কাল, পৃ. ৪০৩)। শিবলী নো'মানীও তাঁহার সীরাতুন্নবীতে একই সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছেন (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। এইসব সম্পত্তি মহানবী (স)-এর ইচ্ছার উপর ছাড়িয়া দেওয়া হয়। তিনি বানু নাষীর হইতে প্রাপ্ত ধন-সম্পদও মুহাজিরদিগের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিলেন যেন আনসার সাহাবীদের উপর তাহাদের ভরণ-পোষণের ভার লাঘব হয়। ইহার কিছু অংশ হযরত মুহাম্মাদ (স) বায়তুল মালে (রাষ্ট্রীয় কোষাগারে) রাখিয়া দিলেন (সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ, ২খ., পৃ. ১০৯)। ইহা ছাড়া ঐ সকল লোকদিগকেও কিছু অংশ দিলেন যাহারা মক্কা শরীফে ও আরবের অন্যান্য এলাকা হইতে ইসলাম গ্রহণের কারণে বহিষ্কৃত হইয়াছিলেন (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৯)।
বানু নাযীর গোত্রের এলাকা বিজিত হওয়া পর্যন্ত এই সকল মুহাজিরের জীবন যাপনের কোন স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল না। বানু নাযীরের এলাকা বিজিত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এখন একটা বন্দোবস্ত হইতে পারে এইভাবে যে, তোমাদের বিষয় সম্পদ এবং ইয়াহুদীদের পরিত্যক্ত ফল-ফলাদি ও খেজুর বাগান মিলাইয়া একত্র করিয়া সম্পূর্ণটি তোমাদের ও মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করিয়া দাও। আরেকটা বন্দোবস্ত হইতে পারে এইভাবে যে, তোমাদের বিষয়-সম্পদ নিজেরাই ভোগ দখল কর। আর পরিত্যক্ত এসব ভূমি মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করিয়া দাও। আনসারগণ সমস্বরে বলিলেন, এই সকল সহায়-সম্পদ আপনি মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করুন। আর চাহিলে আমাদের বিষয়-সম্পদের যতটাই ইচ্ছা তাহাদের দিয়া দিতে পারেন। ইহাতে হযরত আবূ বাক্স (রা) উচ্চস্বরে বলিলেন, "জাযাকুমুল্লাছ ইয়া মা'শারাল আনসারি খায়রান" হে আনসারগণ! আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন (ইয়াহইয়া ইব্ন আদম, বালাযুরী)। এইভাবে আনসারদের সম্মতির ভিত্তিতেই ইয়াহুদীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইল (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩০)।
অবশ্য আনসারদের মধ্যে হযরত আবূ দুজানা এবং সাহল ইবন হুনায়ফকেও মুহাজিরদের সমপরিমাণ অংশ দেওয়া হয়। কারণ তাঁহাদের আর্থিক অবস্থাও ভাল ছিল না। এই সময় দুইজন ইয়াহুদী দীন ইসলাম গ্রহণ করিল। তাহাদের সম্পত্তি তাহাদিগকে ভোগ করিতে দেওয়া হইল (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হারকাল, মহানবীর (স) জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)। কাহার কাহার বর্ণনা অনুসারে হযরত হারিছ ইব্ন নেসাকে অংশ দেওয়া হইয়াছিল। কারণ তিনিও অত্যন্ত গরীব ছিলেন (বালাযুরী, ইবন হিশাম, রূহুল মা'আনী)।
রাসূলুল্লাহ (স) বানু নাযীর গোত্রের নিকট হইতে অনেক ফায় লাভ করিয়াছিলেন। ইহা ছিল আল্লাহ্র পক্ষ হইতে মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ.
"এবং এই ধন-সম্পদের জন্য তোমরা অশ্ব কিংবা উষ্ট্র পরিচালনা কর নাই, কিন্তু আল্লাহ্ যাহাকে ইচ্ছা তাহার উপর স্বীয় রাসূলগণকে ক্ষমতা দান করেন। আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। জনপদবাসীদের নিকট হইতে আল্লাহ্ তাঁহার রাসূলকে যাহা কিছু ফায় হিসাবে দান করিয়াছেন, তাহা আল্লাহ্, তাঁহার রাসূল, রাসূলের আত্মীয়স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন ও পথচারীদিগের জন্য, যাহাতে ধন-সম্পদ তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়। রাসূল তোমাদিগকে যাহা দেন, তাহা গ্রহণ কর এবং যাহা হইতে তোমাদিগকে নিষেধ করেন, তাহা হইতে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ শাস্তি দানে কঠোর" (৫৯:৬-৭)।
বানু নাষীরের নির্বাসনের পর অনেকগুলি খাদ্যশস্য ভর্তি গোলা, ফলের বাগান ও আবাদি জমি মুসলমানদের হস্তগত হয়। ইহা ছাড়া ৫০টি বর্ম এবং তিন শত চল্লিশটি তরবারি পাওয়া যায় (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কাল, পৃ. ৪০৩)। শিবলী নো'মানীও তাঁহার সীরাতুন্নবীতে একই সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছেন (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। এইসব সম্পত্তি মহানবী (স)-এর ইচ্ছার উপর ছাড়িয়া দেওয়া হয়। তিনি বানু নাষীর হইতে প্রাপ্ত ধন-সম্পদও মুহাজিরদিগের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিলেন যেন আনসার সাহাবীদের উপর তাহাদের ভরণ-পোষণের ভার লাঘব হয়। ইহার কিছু অংশ হযরত মুহাম্মাদ (স) বায়তুল মালে (রাষ্ট্রীয় কোষাগারে) রাখিয়া দিলেন (সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ, ২খ., পৃ. ১০৯)। ইহা ছাড়া ঐ সকল লোকদিগকেও কিছু অংশ দিলেন যাহারা মক্কা শরীফে ও আরবের অন্যান্য এলাকা হইতে ইসলাম গ্রহণের কারণে বহিষ্কৃত হইয়াছিলেন (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৯)।
বানু নাযীর গোত্রের এলাকা বিজিত হওয়া পর্যন্ত এই সকল মুহাজিরের জীবন যাপনের কোন স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল না। বানু নাযীরের এলাকা বিজিত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এখন একটা বন্দোবস্ত হইতে পারে এইভাবে যে, তোমাদের বিষয় সম্পদ এবং ইয়াহুদীদের পরিত্যক্ত ফল-ফলাদি ও খেজুর বাগান মিলাইয়া একত্র করিয়া সম্পূর্ণটি তোমাদের ও মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করিয়া দাও। আরেকটা বন্দোবস্ত হইতে পারে এইভাবে যে, তোমাদের বিষয়-সম্পদ নিজেরাই ভোগ দখল কর। আর পরিত্যক্ত এসব ভূমি মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করিয়া দাও। আনসারগণ সমস্বরে বলিলেন, এই সকল সহায়-সম্পদ আপনি মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করুন। আর চাহিলে আমাদের বিষয়-সম্পদের যতটাই ইচ্ছা তাহাদের দিয়া দিতে পারেন। ইহাতে হযরত আবূ বাক্স (রা) উচ্চস্বরে বলিলেন, "জাযাকুমুল্লাছ ইয়া মা'শারাল আনসারি খায়রান" হে আনসারগণ! আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন (ইয়াহইয়া ইব্ন আদম, বালাযুরী)। এইভাবে আনসারদের সম্মতির ভিত্তিতেই ইয়াহুদীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইল (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩০)।
অবশ্য আনসারদের মধ্যে হযরত আবূ দুজানা এবং সাহল ইবন হুনায়ফকেও মুহাজিরদের সমপরিমাণ অংশ দেওয়া হয়। কারণ তাঁহাদের আর্থিক অবস্থাও ভাল ছিল না। এই সময় দুইজন ইয়াহুদী দীন ইসলাম গ্রহণ করিল। তাহাদের সম্পত্তি তাহাদিগকে ভোগ করিতে দেওয়া হইল (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হারকাল, মহানবীর (স) জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)। কাহার কাহার বর্ণনা অনুসারে হযরত হারিছ ইব্ন নেসাকে অংশ দেওয়া হইয়াছিল। কারণ তিনিও অত্যন্ত গরীব ছিলেন (বালাযুরী, ইবন হিশাম, রূহুল মা'আনী)।