📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বানু নাযীরের খায়বার গমন

📄 বানু নাযীরের খায়বার গমন


বানূ নাযীরের প্রস্তাব অনুসারেই অনুমতি দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ (স) এমন বিশ্বাসঘাতকদিগকেও কোন প্রকার শাস্তি না দিয়া ছাড়িয়া দিতে সম্মত হইলেন। শুধু এই শর্তটি জুড়িয়া দিলেন, “দেশত্যাগের সময় যুদ্ধাস্ত্র সঙ্গে লইয়া যাইতে পারিবে না।” সুতরাং তাহারা মালামাল উটের উপর বোঝাই করিয়া মদীনা ছাড়িয়া চলিয়া গেল (ইবন হিশাম, পৃ. ১৯০-১৯১)। তাহারা উটের পিঠে বহনোপযোগী অস্থাবর সম্পদ লইয়া গেল। যাহারা খায়বার গিয়াছিল তাহাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিল সাল্লাম ইব্‌ন আবুল হুকায়ক, কিনানা ইবন রাবী ইন্ন আবিল হুকায়ক ও হুয়াই ইব্‌ন আখতাব। খায়বারের অধিবাসীরা তাহাদের পূর্ণ সহযোগিতা করিল (সীরাত ইন্ন হিশাম, পৃ. ২০০)। তাহাদের কিছু সংখ্যক খায়বারে বসতি স্থাপন করে আর কিছু সংখ্যক সিরিয়ার এজরাট (আযরিয়াত) জনপদে চলিয়া যায় (মহানবী (স) জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)। খায়বারের লোকেরা তাহাদের এমন সম্মান ও শ্রদ্ধা করিতে আরম্ভ করিল যে, তাহারা খায়বারের সর্দার নিযুক্ত হইল। এই ঘটনা মূলত পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত খায়বার যুদ্ধের সূচনা-পর্ব ছিল (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)।
বানু নাযীর দেশ ছাড়িয়া যাইতেছিল। আর তাহাদের গায়িকারা তবলা বাজাইয়া গান গাহিতে গাহিতে হেলিয়া দুলিয়া চলিতেছিল। তাহাদের পুরুষরা উটের পিঠে চড়িয়া বাজনা বাজাইয়া গায়িকা রমণীদের উৎসাহিত করিতেছিল। মদীনাবাসীদের বক্তব্য, এমন ধন-সম্পদ বহনকারী সওয়ারী ইতোপূর্বে কখনও তাহাদের চোখে পড়ে নাই (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। তাহাদের প্রস্থানের সময় যাহা সমস্যা হইয়া দেখা দিল উহা হইল আনসারদের যে সকল সন্তান-সন্ততি ইয়াহুদী ধর্ম গ্রহণ করিয়াছিল, ইয়াহুদীরা তাহাদিগকে লইয়া যাইতেছিল, আর আনসারগণ তাহাদিগকে যাইতে বাধা দান করিতেছিলেন (সুনান আবু দাউদ, ২খ., পৃ. ৯)। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনের আয়াত নাযিল হয়:
لا اكراه في الدين “দীন সম্পর্কে যবরদস্তি নাই” (২ : ২৫৬)। আবূ দাউদে باب في الاسير يراه على الإسلام শিরোনামে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর বর্ণিত হাদীছে এই ঘটনার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। এই আয়াত অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "ইহাদিগকে আবদ্ধ করিয়া রাখিবার অধিকার তোমাদের নাই। যাহার ইচ্ছা হয় থাকুক, আর যাহার ইচ্ছা হয় ইয়াহুদীদের সঙ্গে চলিয়া যাউক” (সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৬)।

বানু নাযীর গোত্র খায়বার এলাকার দিকে রওয়ানা করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭৪)। খায়বার ছিল ইয়াহুদীদের প্রসিদ্ধ আবাসভূমি (সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন্নবী, ২খ, পৃ. ২৭৫)।

বানূ নাযীরের প্রস্তাব অনুসারেই অনুমতি দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ (স) এমন বিশ্বাসঘাতকদিগকেও কোন প্রকার শাস্তি না দিয়া ছাড়িয়া দিতে সম্মত হইলেন। শুধু এই শর্তটি জুড়িয়া দিলেন, “দেশত্যাগের সময় যুদ্ধাস্ত্র সঙ্গে লইয়া যাইতে পারিবে না।” সুতরাং তাহারা মালামাল উটের উপর বোঝাই করিয়া মদীনা ছাড়িয়া চলিয়া গেল (ইবন হিশাম, পৃ. ১৯০-১৯১)। তাহারা উটের পিঠে বহনোপযোগী অস্থাবর সম্পদ লইয়া গেল। যাহারা খায়বার গিয়াছিল তাহাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিল সাল্লাম ইব্‌ন আবুল হুকায়ক, কিনানা ইবন রাবী ইন্ন আবিল হুকায়ক ও হুয়াই ইব্‌ন আখতাব। খায়বারের অধিবাসীরা তাহাদের পূর্ণ সহযোগিতা করিল (সীরাত ইন্ন হিশাম, পৃ. ২০০)। তাহাদের কিছু সংখ্যক খায়বারে বসতি স্থাপন করে আর কিছু সংখ্যক সিরিয়ার এজরাট (আযরিয়াত) জনপদে চলিয়া যায় (মহানবী (স) জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)। খায়বারের লোকেরা তাহাদের এমন সম্মান ও শ্রদ্ধা করিতে আরম্ভ করিল যে, তাহারা খায়বারের সর্দার নিযুক্ত হইল। এই ঘটনা মূলত পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত খায়বার যুদ্ধের সূচনা-পর্ব ছিল (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)।
বানু নাযীর দেশ ছাড়িয়া যাইতেছিল। আর তাহাদের গায়িকারা তবলা বাজাইয়া গান গাহিতে গাহিতে হেলিয়া দুলিয়া চলিতেছিল। তাহাদের পুরুষরা উটের পিঠে চড়িয়া বাজনা বাজাইয়া গায়িকা রমণীদের উৎসাহিত করিতেছিল। মদীনাবাসীদের বক্তব্য, এমন ধন-সম্পদ বহনকারী সওয়ারী ইতোপূর্বে কখনও তাহাদের চোখে পড়ে নাই (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। তাহাদের প্রস্থানের সময় যাহা সমস্যা হইয়া দেখা দিল উহা হইল আনসারদের যে সকল সন্তান-সন্ততি ইয়াহুদী ধর্ম গ্রহণ করিয়াছিল, ইয়াহুদীরা তাহাদিগকে লইয়া যাইতেছিল, আর আনসারগণ তাহাদিগকে যাইতে বাধা দান করিতেছিলেন (সুনান আবু দাউদ, ২খ., পৃ. ৯)। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনের আয়াত নাযিল হয়:
লা ইকরাহা ফিদ্দিন “দীন সম্পর্কে যবরদস্তি নাই” (২ : ২৫৬)। আবূ দাউদে باب في الاسير يراه على الإسلام শিরোনামে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর বর্ণিত হাদীছে এই ঘটনার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। এই আয়াত অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "ইহাদিগকে আবদ্ধ করিয়া রাখিবার অধিকার তোমাদের নাই। যাহার ইচ্ছা হয় থাকুক, আর যাহার ইচ্ছা হয় ইয়াহুদীদের সঙ্গে চলিয়া যাউক” (সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মহানবী (স)-এর প্রতিপত্তি বৃদ্ধি

📄 মহানবী (স)-এর প্রতিপত্তি বৃদ্ধি


ইহারা দেশান্তরিত হওয়ার ফলে মুসলমানদিগের অসুবিধা দূর হইল। ইসলাম বিরোধী যে শক্তি ভিতরে দানা বাঁধিয়া উঠিতেছিল তাহা তিরোহিত হইল। কুরায়শদের গুপ্ত ষড়যন্ত্র নষ্ট হইয়া গেল। ইহাতে মুসলমানদের প্রতিপত্তিও অনেকখানি বাড়িয়া গেল। তাহাদের পরিত্যক্ত ভূসম্পত্তি ও অস্ত্রশস্ত্র মুসলমানদের অধিকারে আসায় তাহারা যথেষ্ট লাভবান হইল (সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৫)।

বানু নাযীর গোত্রের ইয়াহুদীগণকে মদীনা হইতে বহিষ্কার করার পরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাইয়াছিল (সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন্নবী, ২খ, পৃ. ২৭৫)।

ইহারা দেশান্তরিত হওয়ার ফলে মুসলমানদিগের অসুবিধা দূর হইল। ইসলাম বিরোধী যে শক্তি ভিতরে দানা বাঁধিয়া উঠিতেছিল তাহা তিরোহিত হইল। কুরায়শদের গুপ্ত ষড়যন্ত্র নষ্ট হইয়া গেল। ইহাতে মুসলমানদের প্রতিপত্তিও অনেকখানি বাড়িয়া গেল। তাহাদের পরিত্যক্ত ভূসম্পত্তি ও অস্ত্রশস্ত্র মুসলমানদের অধিকারে আসায় তাহারা যথেষ্ট লাভবান হইল (সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মহানবী (স)-এর ওহী লেখক পরিবর্তন

📄 মহানবী (স)-এর ওহী লেখক পরিবর্তন


এতদিন মহানবী (স)-এর ওহী লেখক ছিল একজন ইয়াহুদী যুবক। সে হিব্রু ও সুরিয়ানী ভাষায় মহানবী (স)-এর চিঠিপত্র লিখিত। কিন্তু বানু নাযীরের সঙ্গে এই লোকটিও দেশত্যাগ করিয়া চালিয়া গেল। ইহা ছাড়া মহানবী (স) ওহী লেখার ব্যাপারে কোন অমুসলিমের উপর নির্ভর করা সমীচীন মনে করিলেন না। তিনি হযরত যায়দ ইব্‌ন্ন হাবিতকে হিব্রু ও সুরিয়ানী ভাষা শিখিয়া লইবার নির্দেশ দিলেন (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কাল, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪০৪)।

এই যুদ্ধের পরে মহানবী (স) ওহী লেখক হিসাবে উবাই ইবন কা'ব (রা)-এর স্থলে যায়দ ইবন ছাবিত (রা)-কে নিযুক্ত করেন (সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন্নবী, ২খ, পৃ. ২৮৪)।

এতদিন মহানবী (স)-এর ওহী লেখক ছিল একজন ইয়াহুদী যুবক। সে হিব্রু ও সুরিয়ানী ভাষায় মহানবী (স)-এর চিঠিপত্র লিখিত। কিন্তু বানু নাযীরের সঙ্গে এই লোকটিও দেশত্যাগ করিয়া চালিয়া গেল। ইহা ছাড়া মহানবী (স) ওহী লেখার ব্যাপারে কোন অমুসলিমের উপর নির্ভর করা সমীচীন মনে করিলেন না। তিনি হযরত যায়দ ইব্‌ন্ন হাবিতকে হিব্রু ও সুরিয়ানী ভাষা শিখিয়া লইবার নির্দেশ দিলেন (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কাল, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪০৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফায় লাভ ও কুরআনের বাণী

📄 ফায় লাভ ও কুরআনের বাণী


বানু নাষীরের নির্বাসনের পর অনেকগুলি খাদ্যশস্য ভর্তি গোলা, ফলের বাগান ও আবাদি জমি মুসলমানদের হস্তগত হয়। ইহা ছাড়া ৫০টি বর্ম এবং তিন শত চল্লিশটি তরবারি পাওয়া যায় (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কাল, পৃ. ৪০৩)। শিবলী নো'মানীও তাঁহার সীরাতুন্নবীতে একই সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছেন (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। এইসব সম্পত্তি মহানবী (স)-এর ইচ্ছার উপর ছাড়িয়া দেওয়া হয়। তিনি বানু নাষীর হইতে প্রাপ্ত ধন-সম্পদও মুহাজিরদিগের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিলেন যেন আনসার সাহাবীদের উপর তাহাদের ভরণ-পোষণের ভার লাঘব হয়। ইহার কিছু অংশ হযরত মুহাম্মাদ (স) বায়তুল মালে (রাষ্ট্রীয় কোষাগারে) রাখিয়া দিলেন (সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ, ২খ., পৃ. ১০৯)। ইহা ছাড়া ঐ সকল লোকদিগকেও কিছু অংশ দিলেন যাহারা মক্কা শরীফে ও আরবের অন্যান্য এলাকা হইতে ইসলাম গ্রহণের কারণে বহিষ্কৃত হইয়াছিলেন (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৯)।
বানু নাযীর গোত্রের এলাকা বিজিত হওয়া পর্যন্ত এই সকল মুহাজিরের জীবন যাপনের কোন স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল না। বানু নাযীরের এলাকা বিজিত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এখন একটা বন্দোবস্ত হইতে পারে এইভাবে যে, তোমাদের বিষয় সম্পদ এবং ইয়াহুদীদের পরিত্যক্ত ফল-ফলাদি ও খেজুর বাগান মিলাইয়া একত্র করিয়া সম্পূর্ণটি তোমাদের ও মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করিয়া দাও। আরেকটা বন্দোবস্ত হইতে পারে এইভাবে যে, তোমাদের বিষয়-সম্পদ নিজেরাই ভোগ দখল কর। আর পরিত্যক্ত এসব ভূমি মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করিয়া দাও। আনসারগণ সমস্বরে বলিলেন, এই সকল সহায়-সম্পদ আপনি মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করুন। আর চাহিলে আমাদের বিষয়-সম্পদের যতটাই ইচ্ছা তাহাদের দিয়া দিতে পারেন। ইহাতে হযরত আবূ বাক্স (রা) উচ্চস্বরে বলিলেন, "জাযাকুমুল্লাছ ইয়া মা'শারাল আনসারি খায়রান" হে আনসারগণ! আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন (ইয়াহইয়া ইব্‌ন আদম, বালাযুরী)। এইভাবে আনসারদের সম্মতির ভিত্তিতেই ইয়াহুদীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইল (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩০)।
অবশ্য আনসারদের মধ্যে হযরত আবূ দুজানা এবং সাহল ইবন হুনায়ফকেও মুহাজিরদের সমপরিমাণ অংশ দেওয়া হয়। কারণ তাঁহাদের আর্থিক অবস্থাও ভাল ছিল না। এই সময় দুইজন ইয়াহুদী দীন ইসলাম গ্রহণ করিল। তাহাদের সম্পত্তি তাহাদিগকে ভোগ করিতে দেওয়া হইল (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হারকাল, মহানবীর (স) জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)। কাহার কাহার বর্ণনা অনুসারে হযরত হারিছ ইব্‌ন নেসাকে অংশ দেওয়া হইয়াছিল। কারণ তিনিও অত্যন্ত গরীব ছিলেন (বালাযুরী, ইবন হিশাম, রূহুল মা'আনী)।

রাসূলুল্লাহ (স) বানু নাযীর গোত্রের নিকট হইতে অনেক ফায় লাভ করিয়াছিলেন। ইহা ছিল আল্লাহ্র পক্ষ হইতে মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ.
"এবং এই ধন-সম্পদের জন্য তোমরা অশ্ব কিংবা উষ্ট্র পরিচালনা কর নাই, কিন্তু আল্লাহ্ যাহাকে ইচ্ছা তাহার উপর স্বীয় রাসূলগণকে ক্ষমতা দান করেন। আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। জনপদবাসীদের নিকট হইতে আল্লাহ্ তাঁহার রাসূলকে যাহা কিছু ফায় হিসাবে দান করিয়াছেন, তাহা আল্লাহ্, তাঁহার রাসূল, রাসূলের আত্মীয়স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন ও পথচারীদিগের জন্য, যাহাতে ধন-সম্পদ তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়। রাসূল তোমাদিগকে যাহা দেন, তাহা গ্রহণ কর এবং যাহা হইতে তোমাদিগকে নিষেধ করেন, তাহা হইতে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ্ শাস্তি দানে কঠোর" (৫৯:৬-৭)।

বানু নাষীরের নির্বাসনের পর অনেকগুলি খাদ্যশস্য ভর্তি গোলা, ফলের বাগান ও আবাদি জমি মুসলমানদের হস্তগত হয়। ইহা ছাড়া ৫০টি বর্ম এবং তিন শত চল্লিশটি তরবারি পাওয়া যায় (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কাল, পৃ. ৪০৩)। শিবলী নো'মানীও তাঁহার সীরাতুন্নবীতে একই সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছেন (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। এইসব সম্পত্তি মহানবী (স)-এর ইচ্ছার উপর ছাড়িয়া দেওয়া হয়। তিনি বানু নাষীর হইতে প্রাপ্ত ধন-সম্পদও মুহাজিরদিগের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিলেন যেন আনসার সাহাবীদের উপর তাহাদের ভরণ-পোষণের ভার লাঘব হয়। ইহার কিছু অংশ হযরত মুহাম্মাদ (স) বায়তুল মালে (রাষ্ট্রীয় কোষাগারে) রাখিয়া দিলেন (সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ, ২খ., পৃ. ১০৯)। ইহা ছাড়া ঐ সকল লোকদিগকেও কিছু অংশ দিলেন যাহারা মক্কা শরীফে ও আরবের অন্যান্য এলাকা হইতে ইসলাম গ্রহণের কারণে বহিষ্কৃত হইয়াছিলেন (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৯)।
বানু নাযীর গোত্রের এলাকা বিজিত হওয়া পর্যন্ত এই সকল মুহাজিরের জীবন যাপনের কোন স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল না। বানু নাযীরের এলাকা বিজিত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এখন একটা বন্দোবস্ত হইতে পারে এইভাবে যে, তোমাদের বিষয় সম্পদ এবং ইয়াহুদীদের পরিত্যক্ত ফল-ফলাদি ও খেজুর বাগান মিলাইয়া একত্র করিয়া সম্পূর্ণটি তোমাদের ও মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করিয়া দাও। আরেকটা বন্দোবস্ত হইতে পারে এইভাবে যে, তোমাদের বিষয়-সম্পদ নিজেরাই ভোগ দখল কর। আর পরিত্যক্ত এসব ভূমি মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করিয়া দাও। আনসারগণ সমস্বরে বলিলেন, এই সকল সহায়-সম্পদ আপনি মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করুন। আর চাহিলে আমাদের বিষয়-সম্পদের যতটাই ইচ্ছা তাহাদের দিয়া দিতে পারেন। ইহাতে হযরত আবূ বাক্স (রা) উচ্চস্বরে বলিলেন, "জাযাকুমুল্লাছ ইয়া মা'শারাল আনসারি খায়রান" হে আনসারগণ! আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন (ইয়াহইয়া ইব্‌ন আদম, বালাযুরী)। এইভাবে আনসারদের সম্মতির ভিত্তিতেই ইয়াহুদীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দেওয়া হইল (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩০)।
অবশ্য আনসারদের মধ্যে হযরত আবূ দুজানা এবং সাহল ইবন হুনায়ফকেও মুহাজিরদের সমপরিমাণ অংশ দেওয়া হয়। কারণ তাঁহাদের আর্থিক অবস্থাও ভাল ছিল না। এই সময় দুইজন ইয়াহুদী দীন ইসলাম গ্রহণ করিল। তাহাদের সম্পত্তি তাহাদিগকে ভোগ করিতে দেওয়া হইল (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হারকাল, মহানবীর (স) জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)। কাহার কাহার বর্ণনা অনুসারে হযরত হারিছ ইব্‌ন নেসাকে অংশ দেওয়া হইয়াছিল। কারণ তিনিও অত্যন্ত গরীব ছিলেন (বালাযুরী, ইবন হিশাম, রূহুল মা'আনী)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00