📄 লীনা নামক খেজুর বৃক্ষ কর্তন
মহানবী (স)-এর নির্দেশ পাইয়া সাহাবীগণ ইয়াহুদীদের দুর্গের চতুষ্পার্শ্বে যে খেজুর বাগান ছিল উহা হইতে কিছু গাছ কাটিয়া ফেলিলেন। ইহা ছিল এক ধরনের খেজুর গাছ যাহার ফল আরবরা সাধারণত ভক্ষণ করিত না। রাওদাতুল উনুফ গ্রন্থে সুহায়লী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেজুর গাছ কর্তনকে যাহারা শত্রুদের গাছ কাটা জায়েয বলিয়া মনে করেন, ইহা ঠিক নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের অফলবান বৃক্ষ কর্তন করিয়াছিলেন, কোথাও ফলবান উন্নত জাতের গাছ কাটা হয় নাই (সীরাতুন-নবী, শিবলী নো'মানী, পৃ. ২০৫)। আর ইহা হইয়াছিল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশক্রমে। মূলত সমস্ত খেজুর গাছ কাটা হয় নাই। 'লীনা' নামের এক প্রকার বিশেষ ধরনের খেজুর গাছই শুধু কাটা হইয়াছিল। পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত আছে:
مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لَّيْنَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِي الفسقين.
"তুমি যে খেজুর (লীনা) বৃক্ষ কাটিয়াছ এবং যাহা রাখিয়া দিয়াছ সবই আল্লাহ্র হুকুমে হইয়াছে। তাহা এই জন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদেরকে অপমানিত করিবেন" (৫৯:৫)।
গাছ কর্তনের কারণ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (র) মন্তব্য করেন, সম্ভবত গাছের আড়াল হইতে সংবাদ আদান-প্রদান করা হইত, যাহার কারণে উহা পরিষ্কার করিয়া দেওয়ার আবশ্যকতা দেখা দিয়াছিল। ইহা ছাড়া বৃক্ষাদি তখনই কাটা হইয়া থাকে যখন যুদ্ধক্ষেত্রে উহা কাটার প্রয়োজন হইয়া থাকে (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪০৯)। ইবন ইসহাক বলেন, যদি দুশমনরা গাছের আড়ালে অবস্থান লইয়া থাকে তাহা হইলে বৃক্ষ কাটিয়া ফেলা সুন্নাত। তবে এমনও হইতে পারে যে, এই সকল গাছের কাণ্ড দ্বারা তীর নিক্ষেপের সুবিধাজনক ঘাটি বানানো হইয়াছিল। আর ইহাও উদ্দেশ্য ছিল যে, অবরোধের মাঝে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে (শিবলী নো'মানী, সীরাতুন্-নবী, পৃ. ২০৫-২০৬)।
রাসূলুল্লাহ (স) বানু নাযীর গোত্রের খেজুর বাগানগুলি অবরোধ করিয়াছিলেন। তিনি তাহাদের লীনা নামক খেজুর বৃক্ষগুলি কর্তন করার নির্দেশ দিলেন (বুখারী, ২খ, পৃ. ৫৯৪)। উমার ইবন খাত্তাব (রা) বলিয়াছেন যে, এই খেজুর বৃক্ষগুলি তাদের উপাস্যের মত ছিল। ইয়াহুদীরা এই লীনা নামক খেজুর বৃক্ষগুলিকে সম্মান করিত। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদেরকে এই বৃক্ষগুলি কর্তন করার নির্দেশ দিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭৪)।
এই বৃক্ষগুলি কর্তন করার পর ইয়াহুদীরা অবাক হইয়াছিল। তাহারা বলিল, মুহাম্মাদ আমাদের বৃক্ষগুলি কেন কর্তন করিতেছে (সীরাত ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ১৯২)? তাহাদের এই কথা কুরআন শরীফে উল্লেখ হইয়াছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
مَا قَطَعْتُمْ مِّنْ لِّينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ.
“তোমরা যে খেজুর বৃক্ষ কর্তন করিয়াছ অথবা অক্ষত রাখিয়া দিয়াছ, তাহা তো আল্লাহ্রই অনুমতিক্রমে এবং যাহাতে তিনি ফাসিকগণকে লাঞ্ছিত করেন" (৫৯:৫)।
মহানবী (স)-এর নির্দেশ পাইয়া সাহাবীগণ ইয়াহুদীদের দুর্গের চতুষ্পার্শ্বে যে খেজুর বাগান ছিল উহা হইতে কিছু গাছ কাটিয়া ফেলিলেন। ইহা ছিল এক ধরনের খেজুর গাছ যাহার ফল আরবরা সাধারণত ভক্ষণ করিত না। রাওদাতুল উনুফ গ্রন্থে সুহায়লী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেজুর গাছ কর্তনকে যাহারা শত্রুদের গাছ কাটা জায়েয বলিয়া মনে করেন, ইহা ঠিক নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের অফলবান বৃক্ষ কর্তন করিয়াছিলেন, কোথাও ফলবান উন্নত জাতের গাছ কাটা হয় নাই (সীরাতুন-নবী, শিবলী নো'মানী, পৃ. ২০৫)। আর ইহা হইয়াছিল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশক্রমে। মূলত সমস্ত খেজুর গাছ কাটা হয় নাই। 'লীনা' নামের এক প্রকার বিশেষ ধরনের খেজুর গাছই শুধু কাটা হইয়াছিল। পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত আছে:
"তুমি যে খেজুর (লীনা) বৃক্ষ কাটিয়াছ এবং যাহা রাখিয়া দিয়াছ সবই আল্লাহ্র হুকুমে হইয়াছে। তাহা এই জন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদেরকে অপমানিত করিবেন" (৫৯:৫)।
গাছ কর্তনের কারণ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (র) মন্তব্য করেন, সম্ভবত গাছের আড়াল হইতে সংবাদ আদান-প্রদান করা হইত, যাহার কারণে উহা পরিষ্কার করিয়া দেওয়ার আবশ্যকতা দেখা দিয়াছিল। ইহা ছাড়া বৃক্ষাদি তখনই কাটা হইয়া থাকে যখন যুদ্ধক্ষেত্রে উহা কাটার প্রয়োজন হইয়া থাকে (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪০৯)। ইবন ইসহাক বলেন, যদি দুশমনরা গাছের আড়ালে অবস্থান লইয়া থাকে তাহা হইলে বৃক্ষ কাটিয়া ফেলা সুন্নাত। তবে এমনও হইতে পারে যে, এই সকল গাছের কাণ্ড দ্বারা তীর নিক্ষেপের সুবিধাজনক ঘাটি বানানো হইয়াছিল। আর ইহাও উদ্দেশ্য ছিল যে, অবরোধের মাঝে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে (শিবলী নো'মানী, সীরাতুন্-নবী, পৃ. ২০৫-২০৬)।
📄 দুর্গের ধ্বংসসাধন
যে দুর্গের মধ্যে তাহারা আশ্রয় লইয়াছিল মুসলমানগণ তাহা বাহির হইতে অবরোধ করিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিতে শুরু করিল। আর ভিতর হইতে তাহারা নিজেরা প্রথমত মুসলমানদের প্রতিহত করিবার জন্য স্থানে স্থানে কাঠ ও পাথরের প্রতিবন্ধক বসাইল এবং সেইজন্য নিজেদের ঘর-দরজা ভাঙ্গিয়া আবর্জনা জমা করিল। ইহার পরে যখন তাহারা নিশ্চিত বুঝিতে পারিল যে, এই জায়গা ছাড়িয়া তাহাদেরকে চলিয়া যাইতে হইবে তখন তাহারা নিজেদের হাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করিতে শুরু করিল, যাহাতে উহা মুসলমানদের কোন কাজে না আসে। অথচ এক সময় বড় আগ্রহ করিয়া তাহারা এইসব বাড়িঘর নির্মাণ করিয়াছিল। ইহার পর তাহারা যখন এই শর্তে রাসূলুল্লাহ (স)-এ সহিত সন্ধি করিল যে, তাহাদের প্রাণে বধ করা হইবে না এবং অস্ত্রশস্ত্র ছাড়া আর যাহাই তাহারা লইয়া যাইতে সক্ষম হইবে লইয়া যাইতে পারিবে, তখন যাওয়ার বেলায় তাহারা ঘরের দরজা-জানালা এবং খুঁটি পর্যন্ত উঠাইয়া লইয়া গেল। এমনকি অনেকে ঘরের কড়িকাঠ এবং কাঠের চাল পর্যন্ত উটের পিঠে তুলিয়া লইয়া গেল (সায়ি্যদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৭)। এই সম্পর্কে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
لَا يُقَاتِلُونَكُمْ جَمِيعًا إِلَّا فِي قُرَى مُحَصَّنَةٍ أَوْ مِنْ وَرَاءِ جُدُرٍ بَأْسُهُمْ بَيْنَهُمْ شَدِيدٌ تَحْسَبُهُمْ جَمِيعًا وَقُلُوبُهُمْ شَتّى ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لا يَعْقِلُونَ. كَمَثَلِ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ قَرِيبًا ذَا قُوا وَبَالَ أمرهم وَلَهُمْ عَذاب اليم. كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ اذْ قَالَ للإِنْسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنْكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبُّ الْعَالَمِينَ. فَكَانَ عَاقِبَتَهُمَا أَنَّهُمَا فِي النَّارِ خَالِدَيْنِ فيهَا وَذَلكَ جَزَاؤُا الظَّالِمِينَ.
"ইহারা সকলে সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদিগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে সমর্থ হইবে না, কিন্তু কেবল সুরক্ষিত জনপদের অভ্যন্তরে অথবা দুর্গ প্রাচীরের অন্তরালে থাকিয়া। পরস্পরের মধ্যে উহাদিগের যুদ্ধ প্রচণ্ড। তুমি মনে কর উহারা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু উহাদিগের মনের মিল নাই। ইহা এইজন্য যে, ইহারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়। ইহারা সেই লোকদের মত যাহারা ইহাদিগের অব্যবহিত পূর্বে নিজদিগের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করিয়াছে, ইহাদিগের জন্য রহিয়াছে মর্মন্তুদ শাস্তি। ইহারা শয়তানের মত, সে মানুষকে বলে, 'কুফরী কর'। অতঃপর যখন সে কুফরী করে শয়তান তখন বলে, 'তোমার সহিত আমার কোন সম্পর্ক নাই, আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।' ফলে উভয়ের পরিণাম হইবে জাহান্নাম। তথায় ইহারা স্থায়ী হইবে এবং ইহাই জালিমদের কর্মফল" (৫৯ : ১৪-১৭)।
অবশেষে যখন তাহারা নিশ্চিত হইল যে, অবরোধ দীর্ঘায়িত হইলে ইহার পরিণাম তাহাদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হইবে, তাহারা ধ্বংস হইয়া যাইবে, তখন তাহারা দূত পাঠাইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে অনুরোধ করিল, “রক্তপাত করিবেন না; বরং আমাদের বহিষ্কার করুন। আমরা আমাদের সব অস্ত্রশস্ত্র রাখিয়া যাইব। অস্থাবর সম্পত্তির যতটুকু প্রত্যেকের উট বহন করিয়া লইয়া যাইতে পারিবে, ততটুকুই লইয়া যাওয়ার অনুমতি দিন।” তিনি বলিলেন, “তোমাদের প্রতি তিনজনে এক উট বোঝাই খাদ্যশস্য ও অন্য যে কোন সম্পদ তোমরা ইচ্ছা করিবে সঙ্গে লইয়া যাইতে পারিবে” (মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)।
বানু নাযীর গোত্রের ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হইতে বাহির হইয়া যাওয়ার জন্য আবেদন করিল। তাহারা মদীনা হইতে বাহির হইয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হইল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদেরকে অনুমতি দিলেন। তিনি তাহাদেরকে শর্ত দিলেন যে, তাহাদের অস্ত্র ছাড়া যাহাকিছু তাহারা উটে বহন করিয়া লইয়া যাইতে পারিবে, তাহাই লইয়া যাইবে (সীরাত ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ১৯২)।
ইয়াহুদীরা তাহাদের ঘরগুলিকে নিজের হাতে ধ্বংস করিতে শুরু করিল। উটের উপর তাহাদের আসবাবপত্র উঠাইয়া লইয়া যাইবার জন্য ধ্বংস করিতেছিল। তাহারা ঘরগুলির ছাদ ভাঙ্গিতেছিল। তাহারা ঘরগুলির দরজা ও দেয়ালগুলি ভাঙ্গিয়া উটের উপর উঠাইতেছিল। আবদুল্লাহ ইবন উবাইর সহযোগীরা তাহাদের সঙ্গে ছিল (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭৩)।
বানু নাযীর, বানু আওফ ও খাযরাজ গোত্রের কতিপয় ব্যক্তি, যথা আবদুল্লাহ্ ইবন উবাই ইব্ন সলূল, তাহার আমানত রক্ষক মালিক ইব্ন আবু কাওফাল সুওয়াইদ ও দায়িমদের প্রতিশ্রুত সাহায্যের অপেক্ষায় থাকিয়া আত্মসমর্পণ বা মুকাবিলা কোনটাই করিল না। আর শেষ পর্যন্ত কোন সাহায্যও আসিল না। মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবাই দুই হাজার সৈন্য লইয়া আগাইয়া আসে নাই এবং আরবের অন্য কোন গোত্রও তাহাদের এই বিপদে চোখ তুলিয়া তাকায় নাই। আল্লাহ তাহাদের মনে ভীতির সঞ্চার করিয়া দিলেন (সীরাত ইবন হিশাম, পৃ. ২০০)। অবরুদ্ধ অবস্থায় পনের দিন কাটাইবার পর ইয়াহুদীগণ প্রমাদ গণিতে লাগিল। তাহাদের রসদপত্রও ফুরাইয়া আসিল। অন্য বর্ণনায় আসিয়াছে, বিশ দিন পর্যন্ত এই অবরোধ অব্যাহত থাকে (মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, পৃ. ৪০২)। আবার কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী ৪র্থ হিজরী সনের রবীউল আওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের অবরোধ করিলেন। আর এই অবরোধ মাত্র ছয় দিন স্থায়ী ছিল (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১১)।
"ইহারা সকলে সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদিগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে সমর্থ হইবে না, কিন্তু কেবল সুরক্ষিত জনপদের অভ্যন্তরে অথবা দুর্গ প্রাচীরের অন্তরালে থাকিয়া। পরস্পরের মধ্যে উহাদিগের যুদ্ধ প্রচণ্ড। তুমি মনে কর উহারা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু উহাদিগের মনের মিল নাই। ইহা এইজন্য যে, ইহারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়। ইহারা সেই লোকদের মত যাহারা ইহাদিগের অব্যবহিত পূর্বে নিজদিগের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করিয়াছে, ইহাদিগের জন্য রহিয়াছে মর্মন্তুদ শাস্তি। ইহারা শয়তানের মত, সে মানুষকে বলে, 'কুফরী কর'। অতঃপর যখন সে কুফরী করে শয়তান তখন বলে, 'তোমার সহিত আমার কোন সম্পর্ক নাই, আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।' ফলে উভয়ের পরিণাম হইবে জাহান্নাম। তথায় ইহারা স্থায়ী হইবে এবং ইহাই জালিমদের কর্মফল" (৫৯ : ১৪-১৭)।
অবশেষে যখন তাহারা নিশ্চিত হইল যে, অবরোধ দীর্ঘায়িত হইলে ইহার পরিণাম তাহাদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হইবে, তাহারা ধ্বংস হইয়া যাইবে, তখন তাহারা দূত পাঠাইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে অনুরোধ করিল, “রক্তপাত করিবেন না; বরং আমাদের বহিষ্কার করুন। আমরা আমাদের সব অস্ত্রশস্ত্র রাখিয়া যাইব। অস্থাবর সম্পত্তির যতটুকু প্রত্যেকের উট বহন করিয়া লইয়া যাইতে পারিবে, ততটুকুই লইয়া যাওয়ার অনুমতি দিন।” তিনি বলিলেন, “তোমাদের প্রতি তিনজনে এক উট বোঝাই খাদ্যশস্য ও অন্য যে কোন সম্পদ তোমরা ইচ্ছা করিবে সঙ্গে লইয়া যাইতে পারিবে” (মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)।
📄 বানু নাযীরের খায়বার গমন
বানূ নাযীরের প্রস্তাব অনুসারেই অনুমতি দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ (স) এমন বিশ্বাসঘাতকদিগকেও কোন প্রকার শাস্তি না দিয়া ছাড়িয়া দিতে সম্মত হইলেন। শুধু এই শর্তটি জুড়িয়া দিলেন, “দেশত্যাগের সময় যুদ্ধাস্ত্র সঙ্গে লইয়া যাইতে পারিবে না।” সুতরাং তাহারা মালামাল উটের উপর বোঝাই করিয়া মদীনা ছাড়িয়া চলিয়া গেল (ইবন হিশাম, পৃ. ১৯০-১৯১)। তাহারা উটের পিঠে বহনোপযোগী অস্থাবর সম্পদ লইয়া গেল। যাহারা খায়বার গিয়াছিল তাহাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিল সাল্লাম ইব্ন আবুল হুকায়ক, কিনানা ইবন রাবী ইন্ন আবিল হুকায়ক ও হুয়াই ইব্ন আখতাব। খায়বারের অধিবাসীরা তাহাদের পূর্ণ সহযোগিতা করিল (সীরাত ইন্ন হিশাম, পৃ. ২০০)। তাহাদের কিছু সংখ্যক খায়বারে বসতি স্থাপন করে আর কিছু সংখ্যক সিরিয়ার এজরাট (আযরিয়াত) জনপদে চলিয়া যায় (মহানবী (স) জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)। খায়বারের লোকেরা তাহাদের এমন সম্মান ও শ্রদ্ধা করিতে আরম্ভ করিল যে, তাহারা খায়বারের সর্দার নিযুক্ত হইল। এই ঘটনা মূলত পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত খায়বার যুদ্ধের সূচনা-পর্ব ছিল (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)।
বানু নাযীর দেশ ছাড়িয়া যাইতেছিল। আর তাহাদের গায়িকারা তবলা বাজাইয়া গান গাহিতে গাহিতে হেলিয়া দুলিয়া চলিতেছিল। তাহাদের পুরুষরা উটের পিঠে চড়িয়া বাজনা বাজাইয়া গায়িকা রমণীদের উৎসাহিত করিতেছিল। মদীনাবাসীদের বক্তব্য, এমন ধন-সম্পদ বহনকারী সওয়ারী ইতোপূর্বে কখনও তাহাদের চোখে পড়ে নাই (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। তাহাদের প্রস্থানের সময় যাহা সমস্যা হইয়া দেখা দিল উহা হইল আনসারদের যে সকল সন্তান-সন্ততি ইয়াহুদী ধর্ম গ্রহণ করিয়াছিল, ইয়াহুদীরা তাহাদিগকে লইয়া যাইতেছিল, আর আনসারগণ তাহাদিগকে যাইতে বাধা দান করিতেছিলেন (সুনান আবু দাউদ, ২খ., পৃ. ৯)। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনের আয়াত নাযিল হয়:
لا اكراه في الدين “দীন সম্পর্কে যবরদস্তি নাই” (২ : ২৫৬)। আবূ দাউদে باب في الاسير يراه على الإسلام শিরোনামে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা)-এর বর্ণিত হাদীছে এই ঘটনার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। এই আয়াত অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "ইহাদিগকে আবদ্ধ করিয়া রাখিবার অধিকার তোমাদের নাই। যাহার ইচ্ছা হয় থাকুক, আর যাহার ইচ্ছা হয় ইয়াহুদীদের সঙ্গে চলিয়া যাউক” (সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৬)।
বানু নাযীর গোত্র খায়বার এলাকার দিকে রওয়ানা করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭৪)। খায়বার ছিল ইয়াহুদীদের প্রসিদ্ধ আবাসভূমি (সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন্নবী, ২খ, পৃ. ২৭৫)।
বানূ নাযীরের প্রস্তাব অনুসারেই অনুমতি দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ (স) এমন বিশ্বাসঘাতকদিগকেও কোন প্রকার শাস্তি না দিয়া ছাড়িয়া দিতে সম্মত হইলেন। শুধু এই শর্তটি জুড়িয়া দিলেন, “দেশত্যাগের সময় যুদ্ধাস্ত্র সঙ্গে লইয়া যাইতে পারিবে না।” সুতরাং তাহারা মালামাল উটের উপর বোঝাই করিয়া মদীনা ছাড়িয়া চলিয়া গেল (ইবন হিশাম, পৃ. ১৯০-১৯১)। তাহারা উটের পিঠে বহনোপযোগী অস্থাবর সম্পদ লইয়া গেল। যাহারা খায়বার গিয়াছিল তাহাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিল সাল্লাম ইব্ন আবুল হুকায়ক, কিনানা ইবন রাবী ইন্ন আবিল হুকায়ক ও হুয়াই ইব্ন আখতাব। খায়বারের অধিবাসীরা তাহাদের পূর্ণ সহযোগিতা করিল (সীরাত ইন্ন হিশাম, পৃ. ২০০)। তাহাদের কিছু সংখ্যক খায়বারে বসতি স্থাপন করে আর কিছু সংখ্যক সিরিয়ার এজরাট (আযরিয়াত) জনপদে চলিয়া যায় (মহানবী (স) জীবন চরিত, পৃ. ৪০৩)। খায়বারের লোকেরা তাহাদের এমন সম্মান ও শ্রদ্ধা করিতে আরম্ভ করিল যে, তাহারা খায়বারের সর্দার নিযুক্ত হইল। এই ঘটনা মূলত পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত খায়বার যুদ্ধের সূচনা-পর্ব ছিল (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)।
বানু নাযীর দেশ ছাড়িয়া যাইতেছিল। আর তাহাদের গায়িকারা তবলা বাজাইয়া গান গাহিতে গাহিতে হেলিয়া দুলিয়া চলিতেছিল। তাহাদের পুরুষরা উটের পিঠে চড়িয়া বাজনা বাজাইয়া গায়িকা রমণীদের উৎসাহিত করিতেছিল। মদীনাবাসীদের বক্তব্য, এমন ধন-সম্পদ বহনকারী সওয়ারী ইতোপূর্বে কখনও তাহাদের চোখে পড়ে নাই (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। তাহাদের প্রস্থানের সময় যাহা সমস্যা হইয়া দেখা দিল উহা হইল আনসারদের যে সকল সন্তান-সন্ততি ইয়াহুদী ধর্ম গ্রহণ করিয়াছিল, ইয়াহুদীরা তাহাদিগকে লইয়া যাইতেছিল, আর আনসারগণ তাহাদিগকে যাইতে বাধা দান করিতেছিলেন (সুনান আবু দাউদ, ২খ., পৃ. ৯)। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনের আয়াত নাযিল হয়:
লা ইকরাহা ফিদ্দিন “দীন সম্পর্কে যবরদস্তি নাই” (২ : ২৫৬)। আবূ দাউদে باب في الاسير يراه على الإسلام শিরোনামে আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা)-এর বর্ণিত হাদীছে এই ঘটনার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪১০)। এই আয়াত অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, "ইহাদিগকে আবদ্ধ করিয়া রাখিবার অধিকার তোমাদের নাই। যাহার ইচ্ছা হয় থাকুক, আর যাহার ইচ্ছা হয় ইয়াহুদীদের সঙ্গে চলিয়া যাউক” (সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৬)।
📄 মহানবী (স)-এর প্রতিপত্তি বৃদ্ধি
ইহারা দেশান্তরিত হওয়ার ফলে মুসলমানদিগের অসুবিধা দূর হইল। ইসলাম বিরোধী যে শক্তি ভিতরে দানা বাঁধিয়া উঠিতেছিল তাহা তিরোহিত হইল। কুরায়শদের গুপ্ত ষড়যন্ত্র নষ্ট হইয়া গেল। ইহাতে মুসলমানদের প্রতিপত্তিও অনেকখানি বাড়িয়া গেল। তাহাদের পরিত্যক্ত ভূসম্পত্তি ও অস্ত্রশস্ত্র মুসলমানদের অধিকারে আসায় তাহারা যথেষ্ট লাভবান হইল (সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৫)।
বানু নাযীর গোত্রের ইয়াহুদীগণকে মদীনা হইতে বহিষ্কার করার পরে রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাইয়াছিল (সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন্নবী, ২খ, পৃ. ২৭৫)।
ইহারা দেশান্তরিত হওয়ার ফলে মুসলমানদিগের অসুবিধা দূর হইল। ইসলাম বিরোধী যে শক্তি ভিতরে দানা বাঁধিয়া উঠিতেছিল তাহা তিরোহিত হইল। কুরায়শদের গুপ্ত ষড়যন্ত্র নষ্ট হইয়া গেল। ইহাতে মুসলমানদের প্রতিপত্তিও অনেকখানি বাড়িয়া গেল। তাহাদের পরিত্যক্ত ভূসম্পত্তি ও অস্ত্রশস্ত্র মুসলমানদের অধিকারে আসায় তাহারা যথেষ্ট লাভবান হইল (সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৫)।