📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াহূদীদের ঔদ্ধত্বের কারণ

📄 ইয়াহূদীদের ঔদ্ধত্বের কারণ


বানু নাযীরের ঔদ্ধত্বের বহু কারণ ছিল। তাহারা অত্যন্ত মজবুত দুর্গে অবস্থান করিত, যাহা অবরোধ করা সহজসাধ্য ছিল না। দ্বিতীয়ত, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবাই বার্তা পাঠাইয়াছিল, তোমরা আত্মসমর্পণ করিও না। বানু কুরায়যা তোমাদের সহযোগিতা করিবে এবং আমিও দুই হাজার লোক লইয়া তোমাদের সাহায্যের জন্য আসির (শিবলী নু'মানী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ৪০৮)। আল-কুরআনে এই সম্পর্কে বলা হইয়াছে:
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ تَافَقُوا يَقُولُونَ لِإِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَئِنْ أُخْرِجْتُمْ لَتَخْرُ جَنَّ مَعَكُمْ وَلَا تُطِيعُ فِيكُمْ أَحَدًا أَبَدًا وَإِنْ قُوتِلْتُمْ لَتَنْصُرَنَّكُمْ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ. لَئِنْ أَخْرِجُوا لَا يَخْرُجُونَ مَعَهُمْ وَلَئِنْ قُوتِلُوا لَا يَنْصُرُونَهُمْ وَلَئِنْ نَّصَرُوهُمْ لَيُوَلُنَّ الْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنْصَرُونَ لَا أَنْتُمْ أَشَدُّ رَهْبَةً فِي صُدُورِهِمْ مِنَ اللَّهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ.
"তুমি কি মুনাফিকদিগকে দেখ নাই? উহারা কিতাবীদের মধ্যে যাহারা কুফরী করিয়াছে উহাদের সেইসব সংগীকে বলে, 'তোমরা যদি বহিষ্কৃত হও, আমরা অবশ্যই তোমাদের সংগে দেশত্যাগী হইব এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনও কাহারও কথা মানিব না এবং যদি তোমরা আক্রান্ত হও, আমরা অবশ্যই তোমাদিগকে সাহায্য করিব।' কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিতেছেন যে, উহারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। বস্তুত উহারা বহিষ্কৃত হইলে মুনাফিকগণ তাহাদের সহিত দেশত্যাগ করিবে না এবং উহারা আক্রান্ত হইলে ইহারা উহাদেরকে সাহায্য করিলেও অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিবে; অতঃপর তাহারা কোন সাহায্যই পাইবে না। প্রকৃতপক্ষে ইহাদের অন্তরে আল্লাহ অপেক্ষা তোমাদের ভয়ই অধিকতর। ইহা এইজন্য যে, ইহারা এক অবুঝ সম্প্রদায়" (৫৯:১১-১৩)।

ইয়াহুদীগণ তাহাদের সংখ্যাধিক্য এবং কুরায়শদের সাথে মিত্রতা থাকার কারণে অহংকারী হইয়াছিল (সীরাতুন্নবী, ২খ, পৃ. ২৭৮)।

বানু নাযীরের ঔদ্ধত্বের বহু কারণ ছিল। তাহারা অত্যন্ত মজবুত দুর্গে অবস্থান করিত, যাহা অবরোধ করা সহজসাধ্য ছিল না। দ্বিতীয়ত, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবাই বার্তা পাঠাইয়াছিল, তোমরা আত্মসমর্পণ করিও না। বানু কুরায়যা তোমাদের সহযোগিতা করিবে এবং আমিও দুই হাজার লোক লইয়া তোমাদের সাহায্যের জন্য আসির (শিবলী নু'মানী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ৪০৮)। আল-কুরআনে এই সম্পর্কে বলা হইয়াছে:


“তুমি কি মুনাফিকদিগকে দেখ নাই? উহারা কিতাবীদের মধ্যে যাহারা কুফরী করিয়াছে উহাদের সেইসব সংগীকে বলে, 'তোমরা যদি বহিষ্কৃত হও, আমরা অবশ্যই তোমাদের সংগে দেশত্যাগী হইব এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনও কাহারও কথা মানিব না এবং যদি তোমরা আক্রান্ত হও, আমরা অবশ্যই তোমাদিগকে সাহায্য করিব।' কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিতেছেন যে, উহারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। বস্তুত উহারা বহিষ্কৃত হইলে মুনাফিকগণ তাহাদের সহিত দেশত্যাগ করিবে না এবং উহারা আক্রান্ত হইলে ইহারা উহাদেরকে সাহায্য করিবে আসিলেও অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিবে; অতঃপর তাহারা কোন সাহায্যই পাইবে না। প্রকৃতপক্ষে ইহাদের অন্তরে আল্লাহ অপেক্ষা তোমাদের ভয়ই অধিকতর। ইহা এইজন্য যে, ইহারা এক অবুঝ সম্প্রদায়" (৫৯:১১-১৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াহুদীদের রণপ্রস্তুতি

📄 ইয়াহুদীদের রণপ্রস্তুতি


ইয়াহুদী নেতা হুয়াই ইব্‌ন আখতাব তাহার সঙ্গী-সাথীদের লইয়া দুর্গবন্দী হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করিল এবং তাহার সঙ্গী-সাথীদেরকে বলিল, "আস! আমরা সবাই নিজ নিজ দুর্গ মজবুত করিয়া সেখানে বসিয়া পড়ি। দুর্গ অবরোধকারীদের উপর ছুড়িয়া মারিবার জন্য ছাদে ছাদে পাথরের টুকরা জমা করিয়া রাখিতে হইবে। আমাদের অবরোধ করা হইলে তাহাতে ভয়ের কিছু নাই। কারণ আমাদের গোলাভরা খাদ্যশস্য রহিয়াছে। এক বৎসরেও এইসব শেষ হইবে না। পানির প্রাকৃতিক উৎসও আমাদের দখলে রহিয়াছে। মুহাম্মাদ (স) এক বৎসর পর্যন্ত আমাদের অবরোধ করিয়া রাখিতে পারিবে না" (মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, পৃ. ৪০২)।

রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইলেন। তিনি তাহাদের নিকট হইতে বাহির হইবার পর মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-কে বানু নাযীর গোত্রের নিকট পাঠাইলেন। তিনি তাহাদেরকে দশ দিনের মধ্যে মদীনা হইতে বাহির হইয়া যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তাহারা ইহা গ্রহণ করিল। কিন্তু আবদুল্লাহ ইবন উবাই তাহাদেরকে উৎসাহিত করিল যে, তোমরা মদীনা হইতে বাহির হইবে না। আমি তোমাদেরকে সাহায্য করিব। কুরায়শ গোত্রও তোমাদেরকে সাহায্য করিবে। বানু নাযীর গোত্র অহংকারী হইয়া উঠিল। তাহারা যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হইল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭৪)।
রাসূলুল্লাহ (স) বানু নাযীর গোত্রের নিকট হইতে ফিরিয়া আসার পর তাহাদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত দেখিতে পাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হইলেন (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭২)।

ইয়াহুদী নেতা হুয়াই ইব্‌ন আখতাব তাহার সঙ্গী-সাথীদের লইয়া দুর্গবন্দী হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করিল এবং তাহার সঙ্গী-সাথীদেরকে বলিল, "আস! আমরা সবাই নিজ নিজ দুর্গ মজবুত করিয়া সেখানে বসিয়া পড়ি। দুর্গ অবরোধকারীদের উপর ছুড়িয়া মারিবার জন্য ছাদে ছাদে পাথরের টুকরা জমা করিয়া রাখিতে হইবে। আমাদের অবরোধ করা হইলে তাহাতে ভয়ের কিছু নাই। কারণ আমাদের গোলাভরা খাদ্যশস্য রহিয়াছে। এক বৎসরেও এইসব শেষ হইবে না। পানির প্রাকৃতিক উৎসও আমাদের দখলে রহিয়াছে। মুহাম্মাদ (স) এক বৎসর পর্যন্ত আমাদের অবরোধ করিয়া রাখিতে পারিবে না" (মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, পৃ. ৪০২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক বানু নাযীরকে অবরোধ

📄 রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক বানু নাযীরকে অবরোধ


রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাঁধিয়া দেওয়া দশ দিন সময় শেষ হইয়া গেল। এইদিকে ইয়াহুদীরা তাহাদের নিজ নিজ ঘর হইতে আর বাহির হইল না। রাসূলুল্লাহ (স) হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন উম্মে মাকতূমকে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করিলেন (হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৫)। মহানবী (স)-এর নির্দেশে মুসলমানগণ অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হইয়া ইয়াহুদী বসতি অবরোধ করিলেন। ইতোমধ্যে মুসলমানগণ ইয়াহুদীদের কোন বাড়ি বা ইমারত দখল করিলে ইয়াহুদীরা উহা ছাড়িয়া দিয়া অন্য ইমারত বা বাড়িতে যাইয়া আশ্রয় নেওয়া শুরু করিল। অবশেষে মহানবী (স) নির্দেশ দিলেন তাহাদের খেজুরের বাগানগুলি কাটিয়া জ্বালাইয়া দাও। ইহাতে আর্থিক ক্ষতির চিন্তায় তাহারা শক্তি ও সাহস হারাইয়া ফেলিবে। এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ইয়াহুদীরা অত্যন্ত বিচলিত হইয়া পড়িল। তাহারা ফরিয়াদ করিয়া বলিল, “হে মুহাম্মাদ! আপনি তো অন্যদের বিশৃংখল হইতে বারণ করেন, এখন আপনি নিজেই আমাদের খেজুরের বাগানগুলি কাটিয়া জ্বালাইয়া দিতেছেন। ইহা কোন ধরনের ইনসাফ? (মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, পৃ. ৪০২)।

রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য রওয়ানা করিলেন। তিনি তাহাদের খেজুর বাগানগুলি অবরোধ করিলেন। এই অবরোধ পনের দিন অথবা একুশ দিন ছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭৪)।
তিনি আবদুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুম (রা)-কে মদীনার আমির নিযুক্ত করিয়াছিলেন (সীরাত ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ১৯২)।

রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাঁধিয়া দেওয়া দশ দিন সময় শেষ হইয়া গেল। এইদিকে ইয়াহুদীরা তাহাদের নিজ নিজ ঘর হইতে আর বাহির হইল না। রাসূলুল্লাহ (স) হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন উম্মে মাকতূমকে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করিলেন (হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৫)। মহানবী (স)-এর নির্দেশে মুসলমানগণ অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হইয়া ইয়াহুদী বসতি অবরোধ করিলেন। ইতোমধ্যে মুসলমানগণ ইয়াহুদীদের কোন বাড়ি বা ইমারত দখল করিলে ইয়াহুদীরা উহা ছাড়িয়া দিয়া অন্য ইমারত বা বাড়িতে যাইয়া আশ্রয় নেওয়া শুরু করিল। অবশেষে মহানবী (স) নির্দেশ দিলেন তাহাদের খেজুরের বাগানগুলি কাটিয়া জ্বালাইয়া দাও। ইহাতে আর্থিক ক্ষতির চিন্তায় তাহারা শক্তি ও সাহস হারাইয়া ফেলিবে। এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ইয়াহুদীরা অত্যন্ত বিচলিত হইয়া পড়িল। তাহারা ফরিয়াদ করিয়া বলিল, “হে মুহাম্মাদ! আপনি তো অন্যদের বিশৃংখল হইতে বারণ করেন, এখন আপনি নিজেই আমাদের খেজুরের বাগানগুলি কাটিয়া জ্বালাইয়া দিতেছেন। ইহা কোন ধরনের ইনসাফ? (মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, পৃ. ৪০২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 লীনা নামক খেজুর বৃক্ষ কর্তন

📄 লীনা নামক খেজুর বৃক্ষ কর্তন


মহানবী (স)-এর নির্দেশ পাইয়া সাহাবীগণ ইয়াহুদীদের দুর্গের চতুষ্পার্শ্বে যে খেজুর বাগান ছিল উহা হইতে কিছু গাছ কাটিয়া ফেলিলেন। ইহা ছিল এক ধরনের খেজুর গাছ যাহার ফল আরবরা সাধারণত ভক্ষণ করিত না। রাওদাতুল উনুফ গ্রন্থে সুহায়লী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেজুর গাছ কর্তনকে যাহারা শত্রুদের গাছ কাটা জায়েয বলিয়া মনে করেন, ইহা ঠিক নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের অফলবান বৃক্ষ কর্তন করিয়াছিলেন, কোথাও ফলবান উন্নত জাতের গাছ কাটা হয় নাই (সীরাতুন-নবী, শিবলী নো'মানী, পৃ. ২০৫)। আর ইহা হইয়াছিল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশক্রমে। মূলত সমস্ত খেজুর গাছ কাটা হয় নাই। 'লীনা' নামের এক প্রকার বিশেষ ধরনের খেজুর গাছই শুধু কাটা হইয়াছিল। পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত আছে:
مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لَّيْنَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِي الفسقين.
"তুমি যে খেজুর (লীনা) বৃক্ষ কাটিয়াছ এবং যাহা রাখিয়া দিয়াছ সবই আল্লাহ্র হুকুমে হইয়াছে। তাহা এই জন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদেরকে অপমানিত করিবেন" (৫৯:৫)।
গাছ কর্তনের কারণ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (র) মন্তব্য করেন, সম্ভবত গাছের আড়াল হইতে সংবাদ আদান-প্রদান করা হইত, যাহার কারণে উহা পরিষ্কার করিয়া দেওয়ার আবশ্যকতা দেখা দিয়াছিল। ইহা ছাড়া বৃক্ষাদি তখনই কাটা হইয়া থাকে যখন যুদ্ধক্ষেত্রে উহা কাটার প্রয়োজন হইয়া থাকে (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪০৯)। ইবন ইসহাক বলেন, যদি দুশমনরা গাছের আড়ালে অবস্থান লইয়া থাকে তাহা হইলে বৃক্ষ কাটিয়া ফেলা সুন্নাত। তবে এমনও হইতে পারে যে, এই সকল গাছের কাণ্ড দ্বারা তীর নিক্ষেপের সুবিধাজনক ঘাটি বানানো হইয়াছিল। আর ইহাও উদ্দেশ্য ছিল যে, অবরোধের মাঝে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে (শিবলী নো'মানী, সীরাতুন্-নবী, পৃ. ২০৫-২০৬)।

রাসূলুল্লাহ (স) বানু নাযীর গোত্রের খেজুর বাগানগুলি অবরোধ করিয়াছিলেন। তিনি তাহাদের লীনা নামক খেজুর বৃক্ষগুলি কর্তন করার নির্দেশ দিলেন (বুখারী, ২খ, পৃ. ৫৯৪)। উমার ইবন খাত্তাব (রা) বলিয়াছেন যে, এই খেজুর বৃক্ষগুলি তাদের উপাস্যের মত ছিল। ইয়াহুদীরা এই লীনা নামক খেজুর বৃক্ষগুলিকে সম্মান করিত। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদেরকে এই বৃক্ষগুলি কর্তন করার নির্দেশ দিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭৪)।
এই বৃক্ষগুলি কর্তন করার পর ইয়াহুদীরা অবাক হইয়াছিল। তাহারা বলিল, মুহাম্মাদ আমাদের বৃক্ষগুলি কেন কর্তন করিতেছে (সীরাত ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ১৯২)? তাহাদের এই কথা কুরআন শরীফে উল্লেখ হইয়াছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
مَا قَطَعْتُمْ مِّنْ لِّينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ.
“তোমরা যে খেজুর বৃক্ষ কর্তন করিয়াছ অথবা অক্ষত রাখিয়া দিয়াছ, তাহা তো আল্লাহ্রই অনুমতিক্রমে এবং যাহাতে তিনি ফাসিকগণকে লাঞ্ছিত করেন" (৫৯:৫)।

মহানবী (স)-এর নির্দেশ পাইয়া সাহাবীগণ ইয়াহুদীদের দুর্গের চতুষ্পার্শ্বে যে খেজুর বাগান ছিল উহা হইতে কিছু গাছ কাটিয়া ফেলিলেন। ইহা ছিল এক ধরনের খেজুর গাছ যাহার ফল আরবরা সাধারণত ভক্ষণ করিত না। রাওদাতুল উনুফ গ্রন্থে সুহায়লী বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেজুর গাছ কর্তনকে যাহারা শত্রুদের গাছ কাটা জায়েয বলিয়া মনে করেন, ইহা ঠিক নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের অফলবান বৃক্ষ কর্তন করিয়াছিলেন, কোথাও ফলবান উন্নত জাতের গাছ কাটা হয় নাই (সীরাতুন-নবী, শিবলী নো'মানী, পৃ. ২০৫)। আর ইহা হইয়াছিল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশক্রমে। মূলত সমস্ত খেজুর গাছ কাটা হয় নাই। 'লীনা' নামের এক প্রকার বিশেষ ধরনের খেজুর গাছই শুধু কাটা হইয়াছিল। পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত আছে:

"তুমি যে খেজুর (লীনা) বৃক্ষ কাটিয়াছ এবং যাহা রাখিয়া দিয়াছ সবই আল্লাহ্র হুকুমে হইয়াছে। তাহা এই জন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদেরকে অপমানিত করিবেন" (৫৯:৫)।
গাছ কর্তনের কারণ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (র) মন্তব্য করেন, সম্ভবত গাছের আড়াল হইতে সংবাদ আদান-প্রদান করা হইত, যাহার কারণে উহা পরিষ্কার করিয়া দেওয়ার আবশ্যকতা দেখা দিয়াছিল। ইহা ছাড়া বৃক্ষাদি তখনই কাটা হইয়া থাকে যখন যুদ্ধক্ষেত্রে উহা কাটার প্রয়োজন হইয়া থাকে (সীরাতুন্নবী, পৃ. ৪০৯)। ইবন ইসহাক বলেন, যদি দুশমনরা গাছের আড়ালে অবস্থান লইয়া থাকে তাহা হইলে বৃক্ষ কাটিয়া ফেলা সুন্নাত। তবে এমনও হইতে পারে যে, এই সকল গাছের কাণ্ড দ্বারা তীর নিক্ষেপের সুবিধাজনক ঘাটি বানানো হইয়াছিল। আর ইহাও উদ্দেশ্য ছিল যে, অবরোধের মাঝে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে (শিবলী নো'মানী, সীরাতুন্-নবী, পৃ. ২০৫-২০৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00