📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বানু নাযীরের চুক্তি ভঙ্গ

📄 বানু নাযীরের চুক্তি ভঙ্গ


মদীনায় ইসলামের দ্রুত প্রসার হইতে থাকিলে ইয়াহুদীদের ধর্মীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি লোপ পাইতে থাকে। ফলে মদীনায় অন্যান্য ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের সহিত বানূ নাযীরও প্রথমে গোপনে ও পরে প্রকাশ্যে মদীনা সনদের শর্ত ভঙ্গ করিয়া মহানবী (স) ও তাঁহার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিতে থাকে। চুক্তির বিরুদ্ধে খোলাখুলি এই শত্রুতামূলক আচরণ সীমিত পর্যায়ে তাহারা বদর যুদ্ধ আরম্ভের পূর্ব হইতেই শুরু করিয়াছিল। কিন্তু বদর যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) ও মুসলমানগণ কুরায়শদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বিজয় লাভ করিলে তাহারা এবং তাহাদের হিংসা ও বিদ্বেষের আগুন আরও অধিক প্রজ্জ্বলিত হয়। তাহারা আশা করিয়াছিল, এই যুদ্ধে কুরায়শ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করিতে যাইয়া মুসলমানরা ধ্বংস হইয়া যাইবে। ইসলামের এই বিজয়ের খবর পৌঁছাইবার পূর্বেই তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর মৃত্যু ও মুসলমানদের পরাজয়ের গুজব ছড়াইতে থাকে। কিন্তু ফলাফল তাহাদের আশা-আকাংখার সম্পূর্ণ বিপরীত হইলে তাহারা রাগে ও দুঃখে ফাটিয়া পড়িবার উপক্রম হয়। বানূ নাযীর গোত্রের নেতা কা'ব ইব্‌ন আশরাফ চিৎকার করিয়া বলিতে থাকে, আল্লাহ্র কসম! মুহাম্মাদ যদি আরবের এই সকল সম্মানিত নেতাদিগকে হত্যা করিয়া থাকে তাহা হইলে পৃথিবীর উপরিভাগের চেয়ে অভ্যন্তরভাগই আমাদের জন্য অধিক উত্তম। এইভাবে সে মক্কায় যাইয়া শোকগাঁথা রচনা করিয়া তাহাদিগকে উস্কানি দিতে থাকে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ও কা'ব ইব্‌ন আশরাফকে হত্যা ও পরবর্তীতে তৃতীয় হিজরীর শাওয়াল মাসে কুরায়শরা বদর যুদ্ধের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি লইয়া মদীনা আক্রমণ করিলে ইয়াহুদীরা দেখিল, তিন হাজার কাফির সৈন্যের বিরুদ্ধে মাত্র এক হাজার মুসলিম সৈন্য। আবার তাহাদের পক্ষ হইতে তিন শত মুনাফিক দলত্যাগ করিয়া ফিরিয়া আসিয়াছে। তখন তাহারা স্পষ্টভাবে প্রথমবারের মত চুক্তি ভঙ্গ করিয়া বসিল এবং সুযোগ বুঝিয়া মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে হত্যার পরিকল্পনা করিল (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১১)।

উহুদ যুদ্ধের পরে ইয়াহুদী বানু নাযীর গোত্র রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত মদীনা সনদ ভঙ্গ করে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭২)। মদীনা সনদে এই কথা উল্লেখ ছিল যে, বানু নাযীর ইয়াহুদী গোত্র কুরায়শদের বিরুদ্ধে মুসলমানদেরকে সাহায্য করিবে এবং তাহাদের সহিত কোন প্রকারের চুক্তিভুক্ত হইতে পারিবে না। কিন্তু উহুদ যুদ্ধের পরে বানু নাযীর গোত্র উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে। তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭২)।

মদীনায় ইসলামের দ্রুত প্রসার হইতে থাকিলে ইয়াহুদীদের ধর্মীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি লোপ পাইতে থাকে। ফলে মদীনায় অন্যান্য ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের সহিত বানূ নাযীরও প্রথমে গোপনে ও পরে প্রকাশ্যে মদীনা সনদের শর্ত ভঙ্গ করিয়া মহানবী (স) ও তাঁহার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিতে থাকে। চুক্তির বিরুদ্ধে খোলাখুলি এই শত্রুতামূলক আচরণ সীমিত পর্যায়ে তাহারা বদর যুদ্ধ আরম্ভের পূর্ব হইতেই শুরু করিয়াছিল। কিন্তু বদর যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) ও মুসলমানগণ কুরায়শদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বিজয় লাভ করিলে তাহারা এবং তাহাদের হিংসা ও বিদ্বেষের আগুন আরও অধিক প্রজ্জ্বলিত হয়। তাহারা আশা করিয়াছিল, এই যুদ্ধে কুরায়শ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করিতে যাইয়া মুসলমানরা ধ্বংস হইয়া যাইবে। ইসলামের এই বিজয়ের খবর পৌঁছাইবার পূর্বেই তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর মৃত্যু ও মুসলমানদের পরাজয়ের গুজব ছড়াইতে থাকে। কিন্তু ফলাফল তাহাদের আশা-আকাংখার সম্পূর্ণ বিপরীত হইলে তাহারা রাগে ও দুঃখে ফাটিয়া পড়িবার উপক্রম হয়। বানূ নাযীর গোত্রের নেতা কা'ব ইব্‌ন আশরাফ চিৎকার করিয়া বলিতে থাকে, আল্লাহ্র কসম! মুহাম্মাদ যদি আরবের এই সকল সম্মানিত নেতাদিগকে হত্যা করিয়া থাকে তাহা হইলে পৃথিবীর উপরিভাগের চেয়ে অভ্যন্তরভাগই আমাদের জন্য অধিক উত্তম। এইভাবে সে মক্কায় যাইয়া শোকগাঁথা রচনা করিয়া তাহাদিগকে উস্কানি দিতে থাকে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ও কা'ব ইব্‌ন আশরাফকে হত্যা ও পরবর্তীতে তৃতীয় হিজরীর শাওয়াল মাসে কুরায়শরা বদর যুদ্ধের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি লইয়া মদীনা আক্রমণ করিলে ইয়াহুদীরা দেখিল, তিন হাজার কাফির সৈন্যের বিরুদ্ধে মাত্র এক হাজার মুসলিম সৈন্য। আবার তাহাদের পক্ষ হইতে তিন শত মুনাফিক দলত্যাগ করিয়া ফিরিয়া আসিয়াছে। তখন তাহারা স্পষ্টভাবে প্রথমবারের মত চুক্তি ভঙ্গ করিয়া বসিল এবং সুযোগ বুঝিয়া মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে হত্যার পরিকল্পনা করিল (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বানু নাযীরের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুদ্ধ

📄 বানু নাযীরের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুদ্ধ


উহুদের পর বি'র মা'ঊনার ঘটনায় মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকরা আরও বেশী আনন্দিত হইল। তাহারা এইসব ঘটনায় মুসলমানদের প্রভাব কিছুটা হ্রাস পাইয়াছে বলিয়া মনে করিতে লাগিল। এইদিকে মুসলমানদের গুরুত্ব হ্রাস পাওয়া মদীনাবাসীদের জন্য ভয়ের কারণ ছিল। তাহা ছাড়া মদীনার আশেপাশের রাষ্ট্রগুলি মদীনার অভ্যন্তরের এই পারস্পরিক বিরোধের খবর জানিতে পারিলে তাহারাও মদীনা আক্রমণ করিয়া বসিবে। এমনি অবস্থার পাশাপাশি ইয়াহুদীরাও সেই সময়ের অপেক্ষা করিতেছু, মহানবী (স) তাহা ভাল করিয়াই জানিতেন। শিবলী নু'মানী বলেন, কুরায়শগণ পত্র লিখিয়াছিল, মুহাম্মাদ (স)-কে হত্যা কর। অন্যথায় আমরা নিজেরাই আসিয়া তোমাদিগকে সমূলে উচ্ছেদ করিব।
বান্ নাযীর প্রথম হইতেই ইসলামের শত্রু ছিল। কুরায়শদের এই বার্তা পাইয়া তাহারা আরও ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিল। তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট সংবাদ পাঠাইল, আপনি ত্রিশজন লোক লইয়া আসুন, আমরাও আমাদের পাদ্রীদের সঙ্গে রাখিব। আপনার কথা শুনিয়া যদি আমাদের পাদ্রীগণ বিশ্বাস করিতে পারেন তাহা হইলে আপনার ধর্ম গ্রহণ করিবার ব্যাপারে আমাদের কোন দ্বিধা থাকিবে না। ইয়াহুদীদের গোপন ষড়যন্ত্রের কথা অনুমান করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) লিখিয়া পাঠাইলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা একটি চুক্তিপত্র না লিখিয়া দিবে ততক্ষণ আমি তোমাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করিতে পারি না। কিন্তু তাহারা এই প্রস্তাবে রাজি হইল না।
রাসূলুল্লাহ (স) মুসলমানদের বন্ধু বাভাপন্ন বানু কুরায়যার নিকট গমন করিয়া তাহাদিগকে চুক্তিপত্র পুনঃস্বাক্ষর করিতে বলিলে তাহারা পুনরায় স্বাক্ষর করিল। বানু নাযীরের জন্য ইহা একটা হুমকিস্বরূপ ছিল যে, তাহাদের বন্ধুগণ সন্ধি করিল কিন্তু তাহারা করিতে পারিল না (আল্লামা শিবলী নুমানী, সীরাতুন নবী গ্রন্থে আবূ দাউদ শরীফের রেফারেন্সে এই ঘটনা বর্ণনা করিয়াছেন, পৃ. ৪০৭-৪৯৮)। তদুপরি তাহারা পুনরায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বার্তা পাঠাইয়াছিল আপনি তিনজন লোক লইয়া আসুন, আমরাও তিনজন আলিম লইয়া আসিতেছি। এই আলিমগণ যদি আপনার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করিতে পারেন তাহা হইলে আমরাও আপনার উপর বিশ্বাস স্থাপন করিব। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের এই প্রস্তাবে সম্মত হইলেন। কিন্তু পথিমধ্যে বিশ্বস্ত সূত্রে জানিতে পারিলেন, ইয়াহুদীগণ অস্ত্রশস্ত্র লইয়া প্রস্তুত রহিয়াছে, রাসূলুল্লাহ্ (স) সেখানে উপস্থিত হইলেই তাহাকে হত্যা করা হইবে (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ১৫৫)।
তাই রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদের অবস্থা জানিবার সিদ্ধান্ত লইলেন। তিনি ইতোপূর্বে বানূ কিলার গোত্রের ভুলবশত দুই ব্যক্তির হত্যার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে আলাপ ও পরামর্শের জন্য মদীনা শহরের দুই মাইল দূরে কুবার উপকণ্ঠে বানু নাযীরের বসতীতে গমন করিলেন। এই সময় মহানবী (স)-এর সহিত দশজন সাহাবী ছিলেন। তাহাদের মধ্যে ছিলেন হযরত আবূ বকর, হযরত উমার, হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রা) প্রমুখ শীর্ষস্থানীয় সাহাবী। মহানবী (স) মূল উদ্দেশ্য গোপন করিয়া বানু নাযীরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, "আচ্ছা বানু কিলাব গোত্রের একজন নিহত ব্যক্তির হত্যার ক্ষতিপূরণ কি হওয়া উচিত" (মূল ডঃ মুহাম্মাদ হুসাইন হায়কাল, মহানবী (স)-এর জীবন-চরিত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা ১৯৯৮ খৃ.)।

রাসূলুল্লাহ (স) বানু নাযীর গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই যুদ্ধের নাম ছিল গাযওয়া বানু নাযীর (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, পৃ. ৭২)।

উহুদের পর বি'র মা'ঊনার ঘটনায় মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকরা আরও বেশী আনন্দিত হইল। তাহারা এইসব ঘটনায় মুসলমানদের প্রভাব কিছুটা হ্রাস পাইয়াছে বলিয়া মনে করিতে লাগিল। এইদিকে মুসলমানদের গুরুত্ব হ্রাস পাওয়া মদীনাবাসীদের জন্য ভয়ের কারণ ছিল। তাহা ছাড়া মদীনার আশেপাশের রাষ্ট্রগুলি মদীনার অভ্যন্তরের এই পারস্পরিক বিরোধের খবর জানিতে পারিলে তাহারাও মদীনা আক্রমণ করিয়া বসিবে। এমনি অবস্থার পাশাপাশি ইয়াহুদীরাও সেই সময়ের অপেক্ষা করিতেছু, মহানবী (স) তাহা ভাল করিয়াই জানিতেন। শিবলী নু'মানী বলেন, কুরায়শগণ পত্র লিখিয়াছিল, মুহাম্মাদ (স)-কে হত্যা কর। অন্যথায় আমরা নিজেরাই আসিয়া তোমাদিগকে সমূলে উচ্ছেদ করিব।
বান্ নাযীর প্রথম হইতেই ইসলামের শত্রু ছিল। কুরায়শদের এই বার্তা পাইয়া তাহারা আরও ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিল। তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট সংবাদ পাঠাইল, আপনি ত্রিশজন লোক লইয়া আসুন, আমরাও আমাদের পাদ্রীদের সঙ্গে রাখিব। আপনার কথা শুনিয়া যদি আমাদের পাদ্রীগণ বিশ্বাস করিতে পারেন তাহা হইলে আপনার ধর্ম গ্রহণ করিবার ব্যাপারে আমাদের কোন দ্বিধা থাকিবে না। ইয়াহুদীদের গোপন ষড়যন্ত্রের কথা অনুমান করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) লিখিয়া পাঠাইলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা একটি চুক্তিপত্র না লিখিয়া দিবে ততক্ষণ আমি তোমাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করিতে পারি না। কিন্তু তাহারা এই প্রস্তাবে রাজি হইল না।
রাসূলুল্লাহ (স) মুসলমানদের বন্ধু বাভাপন্ন বানু কুরায়যার নিকট গমন করিয়া তাহাদিগকে চুক্তিপত্র পুনঃস্বাক্ষর করিতে বলিলে তাহারা পুনরায় স্বাক্ষর করিল। বানু নাযীরের জন্য ইহা একটা হুমকিস্বরূপ ছিল যে, তাহাদের বন্ধুগণ সন্ধি করিল কিন্তু তাহারা করিতে পারিল না (আল্লামা শিবলী নুমানী, সীরাতুন নবী গ্রন্থে আবূ দাউদ শরীফের রেফারেন্সে এই ঘটনা বর্ণনা করিয়াছেন, পৃ. ৪০৭-৪৯৮)। তদুপরি তাহারা পুনরায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বার্তা পাঠাইয়াছিল আপনি তিনজন লোক লইয়া আসুন, আমরাও তিনজন আলিম লইয়া আসিতেছি। এই আলিমগণ যদি আপনার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করিতে পারেন তাহা হইলে আমরাও আপনার উপর বিশ্বাস স্থাপন করিব। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের এই প্রস্তাবে সম্মত হইলেন। কিন্তু পথিমধ্যে বিশ্বস্ত সূত্রে জানিতে পারিলেন, ইয়াহুদীগণ অস্ত্রশস্ত্র লইয়া প্রস্তুত রহিয়াছে, রাসূলুল্লাহ্ (স) সেখানে উপস্থিত হইলেই তাহাকে হত্যা করা হইবে (ফাতহুল বারী, ৭খ., পৃ. ১৫৫)।
তাই রাসূলুল্লাহ (স) ইয়াহুদীদের অবস্থা জানিবার সিদ্ধান্ত লইলেন। তিনি ইতোপূর্বে বানূ কিলার গোত্রের ভুলবশত দুই ব্যক্তির হত্যার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে আলাপ ও পরামর্শের জন্য মদীনা শহরের দুই মাইল দূরে কুবার উপকণ্ঠে বানু নাযীরের বসতীতে গমন করিলেন। এই সময় মহানবী (স)-এর সহিত দশজন সাহাবী ছিলেন। তাহাদের মধ্যে ছিলেন হযরত আবূ বকর, হযরত উমার, হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রা) প্রমুখ শীর্ষস্থানীয় সাহাবী। মহানবী (স) মূল উদ্দেশ্য গোপন করিয়া বানু নাযীরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, "আচ্ছা বানু কিলাব গোত্রের একজন নিহত ব্যক্তির হত্যার ক্ষতিপূরণ কি হওয়া উচিত" (মূল ডঃ মুহাম্মাদ হুসাইন হায়কাল, মহানবী (স)-এর জীবন-চরিত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা ১৯৯৮ খৃ.)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গাযওয়া বানু নাযীর-এর সময়কাল

📄 গাযওয়া বানু নাযীর-এর সময়কাল


হিজরী ৪র্থ সালের প্রথমদিকে গাবওয়া উহুদের পরে ও গাযওয়া আহযাব-এর পূর্বে গাযওয়া বানু নাবীর সংঘটিত হয়। ইবন ইসহাকের মতে, বি'রে মা'উনা ও উহুদের পর গাযওয়া বানু নাবীর সংঘটিত হয়। ইমাম যুহরী উরওয়া ইব্‌ন যুবায়রের উদ্ধৃতি দিয়া বর্ণনা করিয়াছেন যে, এই যুদ্ধ বদর যুদ্ধের ছয় মাস পর সংঘটিত হইয়াছিল। কিন্তু ইবন সা'দ, ইবন হিশাম ও বালাযুরী ইহাকে হিজরী চতুর্থ সনের রবীউল আওয়াল মাসের ঘটনা বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। আর ইহাই সঠিক বলিয়া মনে করা হয়। কারণ সমস্ত বর্ণনা অনুসারে এই যুদ্ধ বি'রে মা'উনার দুঃখজনক ঘটনার পরে সংঘটিত হইয়াছিল। এই বিষয়টিও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, বি'রে মা' উনার মর্মান্তিক ঘটনা উহুদ যুদ্ধের পরে ঘটিয়াছিল (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১)।

গাযওয়া বানু নাযীর হিজরী চতুর্থ সনের রবিউল আউয়াল মাসে সংঘটিত হয় (ফিকহুস সীরাহ, পৃ. ৩২৬)। মুহাম্মাদ ইবন ইসহাকের মতে এই যুদ্ধ উহুদ যুদ্ধের পরে সংঘটিত হয়। মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক বলেন, বানু নাযীরের যুদ্ধ উহুদ যুদ্ধের পরে সংঘটিত হয় (সীরাত ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ১৯০)।

হিজরী ৪র্থ সালের প্রথমদিকে গাবওয়া উহুদের পরে ও গাযওয়া আহযাব-এর পূর্বে গাযওয়া বানু নাবীর সংঘটিত হয়। ইবন ইসহাকের মতে, বি'রে মা'উনা ও উহুদের পর গাযওয়া বানু নাবীর সংঘটিত হয়। ইমাম যুহরী উরওয়া ইব্‌ন যুবায়রের উদ্ধৃতি দিয়া বর্ণনা করিয়াছেন যে, এই যুদ্ধ বদর যুদ্ধের ছয় মাস পর সংঘটিত হইয়াছিল। কিন্তু ইবন সা'দ, ইবন হিশাম ও বালাযুরী ইহাকে হিজরী চতুর্থ সনের রবীউল আওয়াল মাসের ঘটনা বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। আর ইহাই সঠিক বলিয়া মনে করা হয়। কারণ সমস্ত বর্ণনা অনুসারে এই যুদ্ধ বি'রে মা'উনার দুঃখজনক ঘটনার পরে সংঘটিত হইয়াছিল। এই বিষয়টিও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, বি'রে মা' উনার মর্মান্তিক ঘটনা উহুদ যুদ্ধের পরে ঘটিয়াছিল (সায়্যিদ আবুল আলা মওদূদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক হুঁশিয়ারি

📄 রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক হুঁশিয়ারি


ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন, নবী করীম (স) বনূ নাযীর সম্প্রদায়কে মদীনা থেকে বহিষ্কার করিয়া দেওয়ার জন্য ১০জন সাহাবীকে পাঠাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বলিয়া পাঠাইলেন, "তোমাদিগকে দশ দিনের সময় দেওয়া গেল। এই সময়ের মধ্যে তোমরা মদীনা ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে, অন্যথায় দশ দিন পর তোমাদের মধ্যে হইতে যাহাকেই মদীনার ত্রি-সীমানার ভিতরে পাওয়া যাইবে তাহাকেই হত্যা করা হইবে।"
তাহারা মদীনা ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হইয়াছিল (মওলানা মুহাম্মদ তফাজ্জল হোছাইন, সম্পা. ডঃ এ. এইচ. এম. মুজতবা হোছাইন, হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৪)। এই সময় মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ ইবন উবাই সংবাদ পাইয়া ইয়াহূদীদিগকে এই বলিয়া প্ররোচনা দিল, তোমরা নিজেদের জায়গায় অটল থাক, বাড়িঘর ছাড়িয়া যাইও না। আমার নিয়ন্ত্রণে দুই হাজার যোদ্ধা রহিয়াছে, যাহারা তোমাদের সঙ্গে দুর্গে প্রবেশ করিবে। তাহারা তোমাদের নিরাপত্তায় জীবন পর্যন্ত দিয়া দিবে। ইহার পরও যদি তোমাদিগকে বাহির করিয়া দেওয়া হয় তাহা হইলে আমরাও তোমাদের সাথে বাহির হইয়া যাইব। তোমাদের ব্যাপারে কাহারও হুমকিতে আমরা প্রভাবিত হইব না। যদি তোমাদের সহিত যুদ্ধ করা হয় তবে আমরা তোমাদের সাহায্য করিব। বানু কুরায়যা এবং বানু গাতাফান তোমাদের মিত্র। তাহারাও তোমাদের সাহায্য করিবে।
আবদুল্লাহ্ ইবন উবাই প্রেরিত এই খবর পাইয়া ইয়াহুদীরা দ্বিধান্বিত হইয়া পড়িল।
তাহাদের মধ্যে অনেকেরই আবদুল্লাহ্ কথার প্রতি আস্থা ছিল না। কারণ ইহার পূর্বে বানু কায়নুকাকে বহিষ্কারের প্রাক্কালে আবদুল্লাহ্ তাহাদিগকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়াও শেষ পর্যন্ত তাহদিগকে অসহায় অবস্থায় ফেলিয়া নিজের পথ ধরিয়াছিল। তাই তাহারা তাহাদের সন্ধিচুক্তি থাকায় অপারগতা প্রকাশ করিল। তাহারা চিন্তা করিল, "আমাদেরকে যদি মদীনা হইতে বহিষ্কৃত হইতেই হয় তাহা হইলে আমরা খায়বার কিংবা মদীনার আশেপাশে কোন স্থানে গিয়া বসবাস করিব যাহাতে মদীনায় আমাদের বাগানগুলি হইতে ফল-ফলাদি সংগ্রহ করিতে পারি। এইরূপ অবস্থায় মদীনা হইতে নির্বাসিত হইলে আমাদের খুব একটা ক্ষতি হইবে না" (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কাল, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪০১)।
ইয়াহুদীদের একাংশ যখন এই সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করিতেছিল ঠিক এই সময় আবদুল্লাহ ইবন উবাইর সাহায্যের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে তাহারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিল যে, বহিষ্কৃত হওয়ার পরিবর্তে তাহারা যুদ্ধ করিবে। ইয়াহূদী নেতা হুয়াই ইব্‌ন আখতার আশা করিয়াছিল যে, মুনাফিক নেতা তাহার কথা রাখিবে। তাই তাহাদের সবচেয়ে বড় নেতা হুয়াই ইব্‌ন আখতাব বলিল, "না, তাহা হইবে না, আমি মুহাম্মাদকে জানাইয়া দিতেছি যে, আমরা আমাদের ঘরবাড়ি কখনও ত্যাগ করিব না, বিষয়-সম্পত্তিও ছাড়িব না। আমাদের বিরুদ্ধে আপনি যাহা ইচ্ছা করিতে পারেন” (মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, পৃ. ৪০২)।

বানু নাযীর গোত্রের ইয়াহুদীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করিলে তিনি মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-কে তাহাদের নিকট পাঠাইলেন। তিনি তাহাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তোমরা আমার শহর হইতে বাহির হইয়া যাও। তোমরা এইখানে বসবাস করিতে পারিবে না। তাহাদেরকে দশ দিনের সময় দেওয়া হইল। এর মধ্যে যাহারা থাকিবে তাহাদের गर्दन (গর্দান) কাটিয়া ফেলা হইবে (মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কাল, হায়াত মুহাম্মাদ, পৃ. ২৯৮)।
মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) বানু নাযীর গোত্রের মিত্র বানু আওস গোত্রের লোক হওয়ায় তাহাদের নিকট পাঠাইয়াছিলেন (সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন্নবী, ২খ, পৃ. ২৭৬)।

ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন, নবী করীম (স) বনূ নাযীর সম্প্রদায়কে মদীনা থেকে বহিষ্কার করিয়া দেওয়ার জন্য ১০জন সাহাবীকে পাঠাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বলিয়া পাঠাইলেন, "তোমাদিগকে দশ দিনের সময় দেওয়া গেল। এই সময়ের মধ্যে তোমরা মদীনা ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে, অন্যথায় দশ দিন পর তোমাদের মধ্যে হইতে যাহাকেই মদীনার ত্রি-সীমানার ভিতরে পাওয়া যাইবে তাহাকেই হত্যা করা হইবে।"
তাহারা মদীনা ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হইয়াছিল (মওলানা মুহাম্মদ তফাজ্জল হোছাইন, সম্পা. ডঃ এ. এইচ. এম. মুজতবা হোছাইন, হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৫৮৪)। এই সময় মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ ইবন উবাই সংবাদ পাইয়া ইয়াহূদীদিগকে এই বলিয়া প্ররোচনা দিল, তোমরা নিজেদের জায়গায় অটল থাক, বাড়িঘর ছাড়িয়া যাইও না। আমার নিয়ন্ত্রণে দুই হাজার যোদ্ধা রহিয়াছে, যাহারা তোমাদের সঙ্গে দুর্গে প্রবেশ করিবে। তাহারা তোমাদের নিরাপত্তায় জীবন পর্যন্ত দিয়া দিবে। ইহার পরও যদি তোমাদিগকে বাহির করিয়া দেওয়া হয় তাহা হইলে আমরাও তোমাদের সাথে বাহির হইয়া যাইব। তোমাদের ব্যাপারে কাহারও হুমকিতে আমরা প্রভাবিত হইব না। যদি তোমাদের সহিত যুদ্ধ করা হয় তবে আমরা তোমাদের সাহায্য করিব। বানু কুরায়যা এবং বানু গাতাফান তোমাদের মিত্র। তাহারাও তোমাদের সাহায্য করিবে।
আবদুল্লাহ্ ইবন উবাই প্রেরিত এই খবর পাইয়া ইয়াহুদীরা দ্বিধান্বিত হইয়া পড়িল।
তাহাদের মধ্যে অনেকেরই আবদুল্লাহ্ কথার প্রতি আস্থা ছিল না। কারণ ইহার পূর্বে বানু কায়নুকাকে বহিষ্কারের প্রাক্কালে আবদুল্লাহ্ তাহাদিগকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়াও শেষ পর্যন্ত তাহদিগকে অসহায় অবস্থায় ফেলিয়া নিজের পথ ধরিয়াছিল। তাই তাহারা তাহাদের সন্ধিচুক্তি থাকায় অপারগতা প্রকাশ করিল। তাহারা চিন্তা করিল, "আমাদেরকে যদি মদীনা হইতে বহিষ্কৃত হইতেই হয় তাহা হইলে আমরা খায়বার কিংবা মদীনার আশেপাশে কোন স্থানে গিয়া বসবাস করিব যাহাতে মদীনায় আমাদের বাগানগুলি হইতে ফল-ফলাদি সংগ্রহ করিতে পারি। এইরূপ অবস্থায় মদীনা হইতে নির্বাসিত হইলে আমাদের খুব একটা ক্ষতি হইবে না" (ডঃ মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কাল, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪০১)।
ইয়াহুদীদের একাংশ যখন এই সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করিতেছিল ঠিক এই সময় আবদুল্লাহ ইবন উবাইর সাহায্যের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে তাহারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিল যে, বহিষ্কৃত হওয়ার পরিবর্তে তাহারা যুদ্ধ করিবে। ইয়াহূদী নেতা হুয়াই ইব্‌ন আখতার আশা করিয়াছিল যে, মুনাফিক নেতা তাহার কথা রাখিবে। তাই তাহাদের সবচেয়ে বড় নেতা হুয়াই ইব্‌ন আখতাব বলিল, "না, তাহা হইবে না, আমি মুহাম্মাদকে জানাইয়া দিতেছি যে, আমরা আমাদের ঘরবাড়ি কখনও ত্যাগ করিব না, বিষয়-সম্পত্তিও ছাড়িব না। আমাদের বিরুদ্ধে আপনি যাহা ইচ্ছা করিতে পারেন” (মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, পৃ. ৪০২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00