📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ভৌগোলিক অবস্থান

📄 ভৌগোলিক অবস্থান


বি'র )بئر( শব্দটি একবচন, ইহার বহুবচন আবার )آبار(। আলোচ্য শব্দের আভিধানিক অর্থ কূপ। মা'উনা নজদ তথা বর্তমান স'উদী আরবের একটি বিশেষ স্থানের নাম। এই স্থান তৎকালীন আরবীয় গোত্র বানু আমের )بنو عامر( ও বানু সুলায়ম-এর অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এই কূপের উপর বানু সুলায়মের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত ছিল বলিয়া জানা যায়। কূপটির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলও কালক্রমে বি'র মা'ঊনা হিসাবে পরিচিতি লাভ করিয়াছিল। কূপটির নিকট হিজরী চতুর্থ সালের সফর মাসের ২০ তারিখে মহানবী (স)-এর মর্যাদাসম্পন্ন সাহাবাগণের, যাঁহাদের অধিকাংশ হাফিযে কুরআন ছিলেন, একটি প্রতিনিধি দল শহীদ হইয়াছিলেন। কাফিরগণ য ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে আল্লাহ্র পথে নিবেদিত এই মহান সাহাবাদিগকে এই কূপের নিকটবর্তী স্থানে নির্মমভাবে শহীদ করে (যাদুল মা'আদ, ২খ., ১১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঘটনার বিবরণ

📄 ঘটনার বিবরণ


উহুদের যুদ্ধে (হি. ৩/৬২৫ খৃ.) মুসলমানগণ সাময়িক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। এই সুবাদে খোদাদ্রোহী কাফির ও মুনাফিকগণের ঔদ্ধত্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। তাই তাহারা দীন ইসলামকে শৈশবেই গলা টিপিয়া হত্যার হীন প্রচেষ্টায় মাতিয়া উঠে। এই উদ্দেশ্যে তাহারা নানা প্রকার ষড়যন্ত্রের আশ্রয় গ্রহণ করে। তাহারা পবিত্র কুরআন হিফক্বারী হাফিয ও ইসলামী জ্ঞানসম্পন্ন বিশেষ ব্যক্তিবর্গকে হত্যার হীন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই হীন পরিকল্পনার শিকার হিসাবে ইয়াওমুর রাজী' )يوم الرجيع(-তে শাহাদাত বরণকারী শহীদগণকেও গণ্য করা হয় (বিশদ জানিবার জন্য দ্র. জাওয়ামি'উস-সীরা; সিয়ার আ'লামিন-নুবালা, ১খ.; তারীখ ইব্‌ন খালদূন ইত্যাদি)।
চতুর্থ হিজরীর সফর মাসের কোন একদিন বানু 'আমেরের প্রতাপশালী নেতা আবূ বারা'আ আমের ইবন মালিক ইন্ন জাফর মহানবী (স)-এর দরবারে আসিয়া উপস্থিত হন। তিনি 'মুলা'ইবুল-আসিন্না' )ملاعب الأسنة( অর্থাৎ বর্শার ক্রীড়াবিদ বা বর্শা খেলায় পারদর্শী নামেও পরিচিত ছিলেন। মদীনায় আসিয়া তিনি মহানবী (স)-এর পবিত্র মুখে ইসলামের আহ্বান শুনিয়া প্রথমে চুপ রহিলেন, কোন প্রকার অনুকূল সাড়াও দিলেন না, আবার মহানবী (স)-এর এই আহ্বান প্রত্যাখ্যানও করিলেন না। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে দুইটি ঘোড়া ও দুইটি উট উপহার দিতে চাহিয়াছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) তাহা প্রত্যাখ্যান করিয়া বলিলেন, আমি কোন মুশরিকের উপঢৌকন গ্রহণ করি না। পরে তিনি আল্লাহ্র রাসূলের খিদমতে আরয করিলেন, "ইসলাম আমার কাছে বেশ ভাল লাগে; কিন্তু আমার আপন গোত্রীয় লোকদিগকে ছাড়িয়া একা ইসলামে দীক্ষিত হইতে আমার সাহস হয় না। যদি আপনি দয়া করিয়া আমার সাথে কয়েকজন সুদক্ষ মুবাল্লিগ পাঠাইয়া দেন হয়ত তাহাদের উপদেশ শুনিয়া আমার গোত্রের লোকগণ দীন ইসলাম গ্রহণ করিতে পারে" (ইবন হিশাম, পৃ. ১৮৩)।
আবুল বারাআর ভ্রাতুষ্পুত্র আমের ইব্‌ন তুফায়ল ছিল বনী আমের গোত্রের সরদার। সে রাসূলুল্লাহ (স)-কে ইতোপূর্বে বলিয়াছিল, হে মুহাম্মাদ! আপনি নিম্নোক্ত তিনটি শর্তের যে কোন একটি গ্রহণ করিতে পারেন:
১। আপনি পল্লী অঞ্চলের নেতৃত্বভার গ্রহণ করুন, আর 'আরবের শহরসমূহ আমার অধিকারে ছাড়িয়া দিন।
২। নতুবা সমগ্র আরবের ওপর আপনারই অধিকার থাকুক; কিন্তু আপনার ওফাতের পর সারা আরব আমার অধিকারে আসিবে ও আমি আপনার খলীফা হইব।
৩। অন্যথায় আমি গাতাফান গোত্রের দুই হাজার দুর্ধর্ষ ও প্রশিক্ষিত যোদ্ধা সহকারে আপনার উপর আক্রমণ করিতে বাধ্য হইব।
রাসূলুল্লাহ (স) তাহার উক্ত প্রস্তাবগুলির কোন একটিতেও সম্মতি দেন নাই। এইজন্য তিনি তাহার সম্বন্ধে আশংকা পোষণ করিতেন (সাহীহুল বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৮৬)। উক্ত কারণে মহানবী (স) আবুল বারাআ-এর আবেদনের উত্তরে বলিলেন, "আমি নজদবাসীদের ব্যাপারে শঙ্কামুক্ত নহি। তাহাদের পক্ষ হইতে আমার সাহাবাগণের জন্য সমূহ বিপদের আশংকা হইতেছে"। আবুল বারাআ মহানবী (স)-কে আশ্বস্ত করিবার জন্য বলিলেন, "হুযুর! কোন ভয় নাই। সেখানে আমরাই নেতৃস্থানীয়। বানু 'আমেরের সরদার 'আমের ইব্‌ন তুফায়ল আমারই ভ্রাতুষ্পুত্র। আমি আপনার মুবাল্লিগগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করিলাম। প্রয়োজনে তাহদিগকে সাহায্য করিবার আশ্বাস দিতেছি। আপনি নিঃসঙ্কোচে তাহাদিগকে আমার সাথে প্রেরণ করিতে পারেন।"
একজন প্রভাবশালী গোত্রপতি এহেন প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় এবং সাহায্য করিবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করায় মহানবী (স) আশ্বস্ত হইলেন। তিনি নজদ অভিমুখে সত্তরজন বিশিষ্ট সাহাবীর একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করিলেন। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন হযরত মুনযির ইবন আমর আল-খাযরাজী (যাদুল মা'আদ, আস্-সাহীহুল বুখারী)। আল-মুহাব্বার গ্রন্থে উক্ত প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ত্রিশ বলিয়া উল্লিখিত রহিয়াছে। তন্মধ্যে ২৬জন আনসার ও ৪জন মুহাজির (পৃ. ১১৮)। তবে আনসাবুল আশরাফ (১খ., ৩৭৫) গ্রন্থে এ সংখ্যা চল্লিশ অথবা সত্তর বলিয়া উল্লেখ আছে। এই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মহানবী (স)-এর অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। তাঁহারা সারাদিন জঙ্গল হইতে কাঠ কাটিয়া বাজারে বিক্রয় করিতেন এবং সেই আয় দ্বারা সুফ্ফার নিঃসম্বল সাহাবীগণের পানাহারের সংস্থান করিতেন। আর সারা রাত্রি কুরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষাদান এবং নামায ও অন্যান্য 'ইবাদতে মশগুল থাকিতেন। তাঁহারা সকলেই হাফিযে কুরআন ছিলেন (সহীহুল বুখারী, ২ খ., ৫৮৬; মাওলানা শিবলী নু'মানী, পৃ. ৩৯১-৯২)। তাঁহাদের যাত্রার প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ (স) বানু 'আমের-এর নেতা 'আমের ইব্‌ন তুফায়লের নিকট একখানা পত্র লিখিয়া তাহাদের হাতে দেন।
আবুল-বারাআ আল্লাহ্ প্রেমিক কারী সাহাবীগণের এ প্রতিনিধি দলের পূর্বেই নজদ অভিমুখে যাত্রা করিলেন এবং এই দলকে তিনি যে নিরাপত্তা দিয়াছেন তাহা নিজ গোত্রকে অবহিত করিলেন। এই প্রতিনিধি দল বি'র মা'ঊনা নামক স্থানে পৌঁছিলে তাহাদের মধ্য হইতে হারাম ইব্‌ন মিলহান আন্-নাজ্জারীকে বানু 'আমেরের সরদার 'আমের ইব্‌ন তুফায়লের নিকট পাঠাইয়া দিলেন। হারাম তাঁহার সাথে আরও দুইজন সাহাবীকে লইয়া পত্র পৌছাইতে চল্লেন। আমের বংশের সরদারের বাড়ির নিকটে গিয়া হারাম তাঁহার সাথীদ্বয়কে বলিলেন, "তোমরা এখানেই দাঁড়াইয়া থাক, আমি একাই যাই। কারণ, বিপদ হইলে তিনজনের প্রাণ দিয়া কি লাভ? অন্যথায় তোমরা পরে আসিয়া আমার সহিত মিলিত হইও। আর যদি তাহারা আমাকে হত্যা করে তাহা হইলে তোমরা অবশিষ্ট লোকদিগের কাছে ফিরিয়া যাইবে" (সাহীহুল বুখারী, ২খ., ১৮৪;১৮)।
হযরত হারাম পত্র লইয়া আমের ইব্‌ন তুফায়লের নিকট উপস্থিত হইলেন। দুর্বৃত্ত আমের মহানবী (স)-এর পত্রখানা পড়িয়াই নিকটস্থ জনৈক অনুচরকে আঘাত করিবার জন্য ইঙ্গিত করিল। অনুচরটি ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র মহানবীর দূতকে পশ্চাৎ দিক হইতে বর্শা মারিয়া হত্যা করিয়া ফেলিল। নিহত হইবার প্রাক্কালে মহানবীর দূত হযরত হারাম উচ্চস্বরে বলিয়া উঠিলেন, الله اكبر فزت ورب الكعبة "আল্লাহু আকবার, কা'বার প্রভুর শপথ! আমি সফল হইলাম"।
অতঃপর 'আমের ইব্‌ন তুফায়ল অবশিষ্ট মুসলিম মুবাল্লিগদিগকে আক্রমণ করিবার জন্য বানু আমেরকে নির্দেশ দিল। কিন্তু সেই গোত্রেরই অপর নেতা ও সম্মানিত ব্যক্তি আবূ বারাআ উক্ত প্রতিনিধি দলের দায়িত্ব ও নিরাপত্তাভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া পূর্বেই অবহিত ছিল বলিয়া বানু 'আমের তাহাদের সরদারের আহবানে সাড়া দিল না। কিন্তু সে উহাতেও নিবৃত্ত হইল না। পার্শ্ববর্তী সুলায়ম বংশের বানু 'উসায়‍্যা )بنو عصيه(, বানূ-রি'ল ও বানু যাকওয়ানকে প্ররোচিত করিয়া প্রায় ২০০জনের এক বিরাট সৈন্যবাহিনী সংগ্রহ করিয়া বি'র মাউনার দিকে গেল।
তাহাদিগকে দেখিয়া বীর সাহাবীগণ তাঁহাদের বিশ্রামস্থল হইতে বাহির হইয়া আসিলেন। তাঁহারা বলিলেন, "তোমরা আমাদিগকে আক্রমণ করিতেছ কেন? আমরা তো যুদ্ধ করিতে আসি নাই। আমরা এখানে অবস্থান করিতেও চাহি না"। কিন্তু নরপিশাচগণ তাঁহাদের কোন কথাই শুনিল না। অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত এই বাহিনী নিরস্ত্র মুসলিমদের এই মুষ্টিমেয় জামা'আতের উপর সাঁড়াশী আক্রমণ করিল। তাঁহারা প্রাণপণে আত্মরক্ষার চেষ্টা করিলেন বটে; কিন্তু পারিয়া উঠিলেন না। শেষ পর্যন্ত তাঁহারা সকলেই শহীদ হইলেন। শুধু কা'ব ইব্‌ন যায়দ আন-নাজ্জারী নামক একজন সাহাবী কঠোরভাবে আহত হইয়া নিহতদের সাথে পড়িয়াছিলেন। কাফিরগণ তাঁহাকে মৃতজ্ঞান করিয়া ফেলিয়া রাখিল। তিনি কোনমতে বাঁচিয়া যান ও পরে খন্দকের যুদ্ধে শহীদ হন (সিয়ার আ'লামিন নুবালা, ১খ., ১৭৪; ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., ১৮৫)।
আল-ওয়াকিদীর বর্ণনামতে আমর ইবন উমায়‍্যা আদ-দামরী ও মুন্যির ইন্ন উকবা এবং আল-হারিছ ইবনুস সিম্মা আনসারী আল-বাদ্রী নামক দুইজন সাহাবী নিজ দল হইতে দূরে উটের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁহারা দূর হইতে ধূলা উড়িতে দেখিয়া এইদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলেন। আরও দেখিলেন, আকাশে পাখি জড়ো হইয়াছে। বিষয়টি বুঝিতে তাঁহাদের আর বাকী রহিল না। 'আমর বলিলেন, "চল আমরা মদীনায় যাইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে সংবাদ জানাই।" মুনির বলিলেন, "আমরা না গেলেও সংবাদ পৌঁছা বাকী থাকিবে না; কিন্তু সাথীগণ সকলে শহীদ হইয়া আল্লাহর দরবারে উচ্চ মর্যাদা লাভ করিয়াছেন। শুধু আমরা দুইজন এই সৌভাগ্য লাভ হইতে বঞ্চিত হইব কেন? অগ্রসর হও, শত্রুক্রদিগকে আক্রমণ কর।"
অতঃপর তাঁহারা অগ্রসর হইলেন। তথায় উপনীত হইয়া দেখিতে পাইলেন যে, তখন নরপিশাচ যালিমদের তরবারি নিষ্পাপ সাথী সাহাবাগণের রক্তে রঞ্জিত হইয়া গিয়াছে। হানাদার অশ্বারোহীগণ তখনও দাঁড়াইয়া আছে। বীর বিক্রমে অসি চালাইয়া তাঁহারা শত্রুর উপর ঝাঁপাইয়া পড়লেন। দুইজন শত্রুকে হত্যা করিয়া বন্দী হইলেন। হযরত মুন্যির শহীদ হইতে না পরিয়া বিচলিত হইলেন এবং বন্দী অবস্থায় দুইজন কাফিরকে হত্যা করিয়া কাফিরদের হাতে শহীদ হইলেন (সুহায়লী, ৬খ., ১৯১)। শুধু হযরত 'আমর ইবন উমায়‍্যা আদ-দাম্মী জীবিত রহিলেন। শত্রুপক্ষের নেতা 'আমের ইব্‌ন তুফায়ল যখন জানিতে পারিল যে, ইনি মুদার বংশের লোক, তখন সে তাঁহাকে হত্যা করা নিরাপদ মনে না করিয়া তাঁহার মাথার সম্মুখ দিকে একগুচ্ছ চুল কাটিয়া তাঁহাকে এই বলিয়া ছাড়িয়া দিল যে, "কোন কারণে একটি গোলামকে মুক্তি দেওয়া আমার মাতার মানত ছিল। সুতরাং আমি তোমাকে আমার মাতার পক্ষ হইতে মুক্তি দিয়া এই মানত পূর্ণ করিলাম” (মাওলানা শিবলী নু'মানী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৯০)।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসূত্রে বি'র মা'উনার লোমহর্ষক ঘটনায় শাহাদাতপ্রাপ্ত কয়েকজন সাহাবার নাম নিম্নে উল্লেখ করা হইলঃ
১। সা'দ ইবন 'আমর ইব্‌ন কা'ব আন-নাজ্জারী আল-খায়রাজী আল-আনসারী; ২। আল-হারিছ ইব্‌ন সিম্মা ইব্‌ন 'আমর আন-নাজ্জারী আল-বাদরী; ৩। কুতবা ইব্‌ন 'আব্দ 'আমর আন-নাজ্জারী; ৪। সুলায়ম ইব্‌ন মিল্হান আন-নাজ্জারী; ৫। খালিদ ইব্‌ন আবু সা'সা' আন-নাজ্জারী; ৬। আল-মুন্যির ইব্‌ন মুহাম্মাদ ইব্‌ন 'উকবা আল-আওসী আল-আনসারী; ৭। রাফে' ইব্‌ন ওয়াররাক আল-খুযা'ঈ; ৮। 'উরওয়া' ইব্‌ন কায়সান; ৯। হাকাম ইব্‌ন কায়সান; ১০। রাফে' ইব্‌ন বুদায়ল ইব্‌ন ওয়ারাকা আল-খুযা'ঈ; ১১। হারাম ইব্‌ন মিল্হান আন-নাজ্জারী; ১২। আমের ইবন আল-বুকায়র; ১৩। আল-মুনযির ইব্‌ন দামরা ইব্‌ন খুনায়স আল-খাযরাজী আসে-সা'ইদী, আল-বাদ্রী, আল-আকাবী; ১৪। আমের ইব্‌ন ফুহায়রা আল-বাদ্রী; ১৫। নাফি' ইব্‌ন বুদায়ল; ১৬। মু'আয ইব্‌ন মাইস; ১৭। তুফায়ল ইব্‌ন সাদী; ১৮। আনাস ইব্‌ন মু'আবিয়া; ১৯। আবু শায়খ উবায়্যি ইব্‌ন ছাবিত; ২০। আতিয়্যা ইব্‌ন 'আব্দ আমর; ২১। মালিক ইব্‌ন ছাবিত; ২২। সুফ্যান ইব্‌ন ছাবিত। আল্লাহ তাঁহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হউন (আল-ওয়াকিদী, ১খ., ৩৪৫-৪৭)।
হযরত 'আমর ইবন উমায়্যা শত্রুর হাত হইতে মুক্তি লাভ করিয়া মদীনাভিমুখে রওয়ানা হইলেন। পথিমধ্যে বানু সুলায়মের অধিকারভুক্ত কারকারাতুল কু'দর নামক স্থানে পৌঁছিয়া একটি গাছের নিচে বিশ্রাম গ্রহণ করেন। ইত্যবসরে সেস্থানে বানু আমের বংশের দুইজন লোক উপস্থিত হন। তাঁহাদের নিকট মহানবী (স)-এর পক্ষ হইতে নিরাপত্তা পত্র ছিল, কিন্তু হযরত 'আমরের সেকথা জানা ছিল না। আগন্তুকদ্বয় পথ-শ্রান্তির কারণে অল্পক্ষণের মধ্যেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হইয়া পড়িলেন। আমর ইবন উমায়‍্যার অন্তরে তাঁহার শহীদ সাথীদের বেদনা বিধুর স্মৃতি জাগরুক ছিল। তাই তাঁহার অন্তরে প্রতিশোধ-স্পৃহা জাগিয়া উঠিল। তিনি নিদ্রামগ্ন উক্ত আগন্তুকদ্বয়কে তরবারির আঘাতে হত্যা করিলেন। শত্রুবংশের লোক দুইটিকে হত্যা করিয়া তাঁহার অন্তরের দুঃখ কিছুটা প্রশমিত হইল। তিনি মদীনায় পৌঁছিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে সমস্ত ঘটনা শুনাইলেন। প্রাণপ্রিয় ভক্ত ও সত্যের পথে নিবেদিতপ্রাণ কারী ও হাফিযে কুরআন দলের হৃদয়বিদারক ঘটনা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) খুবই মর্মাহত হইলেন। তবুও ন্যায়নিষ্ঠার প্রতীক রাসূলুল্লাহ (স) আমর ইবন উমায়্যা কর্তৃক বানু 'আমেরের দুই ব্যক্তিকে হত্যা করিবার বিষয়টি সমর্থন করিলেন না। 'আমের ইব্‌ন তুফায়ল মুসলিম দূত ও নিরপরাধ সত্তরজন সাহাবীকে হত্যা করিয়াছিল, সেই পাপিষ্ঠই আন্তর্জাতিক নীতি বিরোধী হওয়ার দোহাই দিয়া উক্ত দুইজন নিহত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ দাবি করিল। আল্লাহ্র রাসূল (স) এই দাবি স্বীকার করিয়া লইলেন এবং কোন প্রকার আপত্তি না করিয়া নিহতদের রক্তপণ বাবদ উপযুক্ত অর্থ ও তাহাদের নিকট হইতে প্রাপ্ত সমুদয় সামগ্রী বনূ 'আমেরের নেতার নিকট পাঠাইয়া দিলেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ. ১০৯-১১; সাহীহুল বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৮৪-৫৮৬; ইবন হিশাম, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮৩-১৮৮; ইন কাছীর, পৃ. ১৩৯-১৪৪, তাবারী, পৃ. ৩৩; ইব্‌দু সায়্যিদিন নাস, পৃ. ৪৬; শারহুল মাওয়াহিব, ২খ., পৃ.৭৪,৭৯)।
বি'র মা'উনার ঘটনার কিছুদিন পূর্বে (চতুর্থ হিজরীর সফর মাসের প্রারম্ভে) আর-রাজী' প্রান্তরের হৃদয়বিদায়ক ঘটনায় দশজন বিশিষ্ট সাহাবী শহীদ হইয়াছিলেন (ইবন সায়্যিদিন নাস)। এই কারণে মহানবী (স) দারুণ ব্যথিত ছিলেন। তাই প্রায় একমাস অবধি তিনি প্রতি ওয়াক্ত নামাযে বি'র মা'উনা ও রাজী' প্রান্তরের শহীদগণের হন্তাদের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করিতে থাকেন। সাহীহুল বুখারীতে (২ খ., কিতাবুল মাগাযী) এই বিষয়ে বিশদ বর্ণনা রহিয়াছে। যেমন আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন যে, বি'র মা'উনায় যাহারা সাহাবীগণকে হত্যা করিয়াছিল, নবী করীম (স) এক মাস পর্যন্ত ফজরের নামাযে তাহাদের বিরুদ্ধে বদ্‌দু'আ করিলেন। এভাবে দু'আ কুনূত পড়া শুরু হয়। ইহার পূর্বে আমরা দু'আ কুনূত পড়িতাম না।
সর্ববাদী সম্মত মত হইল যে, বি'র মা'উনার বিষাদপূর্ণ ঘটনার পর রাসূলুল্লাহ (স) একমাস পর্যন্ত সাহাবীদের হত্যাকারীদের উপর ফজরের সালাতের রুকূর পর বদ দু'আ এবং অভিসম্পাত করেন। বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে হযরত আনাস (রা) থেকে বি'র মা'উনার সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণিত হইয়াছে। তিনি বলেন যে, এই বিষাদময় ঘটনার পর রাসূলুল্লাহ (স) একমাস পর্যন্ত ফজরের সালাতের পর হস্তা গোত্রসমূহকে বদ দু'আ করেন। তিনি আরো বলেন, তখন হইতে সর্বপ্রথম কুনূতের সূচনা হয়, ইহার পূর্বে আমরা কুনূত পাঠ করিতাম না। সহীহ্ বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) একমাস পর্যন্ত এই দু'আ পাঠ করেনঃ "হে মহান আল্লাহ! তুমি ওয়ালীদ ইব্‌ন ওয়ালীদকে নাজাত দাও। হে মহান আল্লাহ্! তুমি দুর্বল অসহায় মুমিনদেরকে নাজাত দাও। হে মহান আল্লাহ! তুমি মুদার গোত্রের উপর তোমার আঘাতকে আরও কঠিন কর এবং তাহাদের উপর এই কঠোরতা যুগ যুগ ধরিয়া অব্যাহত রাখ, যেমন আমার মধ্যে এবং হযরত ইউসুফ (আ)-এর মধ্যে অনেক যুগ অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে।” তারপর একদিন এই দু'আ পাঠ বন্ধ করিয়া দেন। আমি তাঁহাকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, দেখিতেছ না এইসব লোক ত আসিয়াই গিয়াছে।
সহীহ্ মুসলিমে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত হইয়াছে যে, ফজরের সালাতে যখন কিরাআত পড়া শেষ হইত তখন তিনি তাকবীর বলিয়া রুকূতে গমন করিতেন, তারপর 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্' বলিয়া মস্তক উত্তোলন করিয়া রাব্বানা লাকাল হাম্দ' পাঠ করিতেন এবং এই দু'আ পাঠ করিতেন : "হে মহান আল্লাহ! তুমি ওয়ালীদ ইব্‌ন ওয়ালীদ, সালামা ইব্‌ন হিশাম, আইয়াশ ইব্‌ন আবূ রাবীআ এবং দুর্বল অসহায় মুমিনদিগকে নাজাত দাও। হে মহান আল্লাহ্! তুমি মুদার গোত্রের উপর তোমার আঘাতকে আরো কঠিন কর এবং এই কঠোরতা তাহাদের উপর যুগ যুগ ধরিয়া অব্যাহত রাখ, যেমন আমার ও হযরত ইউসুফ (আ)-এর মধ্যে যুগের ব্যবধান। হে মহান আল্লাহ্! তুমি লিয়ান, রি'ল, যাক্তয়ান ও উমায়‍্যা গোত্রসমূহের উপর অভিসম্পাত কর। তাহারা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের নাফরমানী করিয়াছে।'
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, তারপর আমরা জানিতে পারিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (স) এই বদdu'আ পাঠ বন্ধ করিয়াছেন তখন আয়াত অবতীর্ণ হয়, "তোমার কিছুই করার নাই। তিনি (আল্লাহ্) হয় তাহাদের তওবা কবুল করিবেন, অন্যথায় তাহাদিগকে শাস্তি প্রদান করিবেন। কারণ তাহারা বড় জালিম" (৩: ১২৮)।
এই বর্ণনা হইতে ইহাও জানা গেল যে, এই উভয় দু'আর সময়কাল ছিল একই, যদিও সাহাবীগণ কখনও শুধু দুর্বল সাহাবীগণের জন্য দু'আর কথা উল্লেখ করেন, আবার কখনও শুধু কাফিরদের উপর অভিসম্পাত বর্ষণের বদdu'আর কথা উল্লেখ করেন।
হযরত আনাস (রা)-এর রিওয়ায়াত হইতে জানা যায় যে, এইটি ছিল কুনূতের সূচনা। ইহার পূর্বে কখনও রাসূলুল্লাহ্ (স) সালাতে এই ধরনের দু'আ পাঠ করেন নাই এবং এই উভয় বর্ণনা হইতে ইহাও জানা গেল যে, এই ধরনের দু'আ পাঠের সময়সীমা এক মাসের অধিক ছিল না। হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউস (রা)-এর রিওয়ায়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) এই সময়সীমার পরেও এই ধরনের কুনূত পাঠ করেন।
ইমাম মুহাম্মাদ (র) স্বীয় গ্রন্থ কিতাবুল আছার-এ উল্লেখ করেন, "আবূ হানীফা (র) আমার নিকট হাম্মাদ হইতে এবং তিনি ইবরাহীম হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) ফজরের সালাতে একমাস কাল ব্যতীত তাঁহার পার্থিব জীবন হইতে তিরোধান পর্যন্ত আর কখনও কুনূত পাঠ করেন নাই। ঐ সময় তিনি জীবিত মুশরিকদের উদ্দেশ্যে বদ-দু'আ পাঠ করেন। তিনি ইহার পূর্বে বা পরে কখনও কুনূত পাঠ করেন নাই"। মুসনাদ ইমাম আযম (র)-এর রিওয়ায়াতে এই বর্ণনার সনদ বিদ্যমান আছে, "আবূ হানীফা, তিনি ইবরাহীম হইতে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি ইবন মাসউদ (রা) হইতে"। এই বর্ণনাসূত্র পরম্পরার প্রেক্ষিতে ইব্‌ন আমীরুল হাজ্জ উল্লেখ করেন, এই রিওয়ায়াত কোন দোষে দুষ্ট নয়।
অন্যান্য হাদীছ বিশারদগণও আবদুল্লাহ্ ইবন মাস'ঊদ (রা) হইতে এই ধরনের রিওয়ায়াত করিয়াছেন। উহার ভাবার্থ হইতেছে, রাসূলুল্লাহ (স) ফজরের সালাতে আমৃত্যু কখনও কুনূত পাঠ করেন নাই, শুধুমাত্র এক মাস পাঠ করিয়াছেন। একমাস পর যখন রাসূলুল্লাহ (স) কুনূত পাঠ বন্ধ করেন তখন আবূ হুরায়রা (রা) তাঁহাকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলে উত্তরে তিনি বলেন যে, দুর্বলদের জন্য দু'আ বন্ধ করা হইয়াছে এইজন্য যে, তাহারা তো ইতোমধ্যেই আসিয়া গিয়াছে। সুতরাং দু'আর আর প্রয়োজন নাই এবং মুশরিকদের জন্য বদ-দু'আ বন্ধ করিবার কারণ হইতেছে আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করিয়াছেন, "তোমার করিবার কিছু নাই। তিনি (আল্লাহ) হয় তাহাদের তওবা কবুল করিবেন অথবা তাহাদিগকে শাস্তি প্রদান করিবেন। নিঃসন্দেহে তাহারা জালিম" (৩: ১২৮)। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (স)-কে তাহাদের উপর কুনূত পাঠ করিতে নিষেধ করা হইয়াছে।
হযরত আবূ বাক্স সিদ্দীক (রা)-এর সময় মুসায়লামা কায্যাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি কুনূতের দু'আ পাঠ করেন। হযরত উমার (রা) আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে মুকাবিলা করার সময় কুনূতের দু'আ পাঠ করেন। হযরত আলী (রা) এবং হযরত মু'আবিয়া (রা) পরস্পর যুদ্ধের সময় উভয়ই কুনূতের দু'আ পাঠ করেন এবং অনেক সাহাবীদের পরস্পর বিরোধী রিওয়ায়াতসমূহে কুনূত পাঠ এবং পাঠ না করা উভয় প্রকারের বক্তব্য পাওয়া যায়। এসব রিওয়ায়াতের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য এই হইতে পারে যে, তাঁহারা সব সময় ফজরের সালাতে কুনূত পাঠ করিতেন না কিন্তু বিপদগ্রস্ত হইলে তখন পাঠ করিতেন। ইমাম আবূ জা'ফর তাহাবী (র) তাঁহার শারহু মা'আনিল আছার গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণ করিয়াছেন যে, হযরত উমার (রা), হযরত 'আলী (রা), হযরত ইবন 'আব্বাস (রা) প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীগণ এই নীতি ছিল এবং ইহার প্রমাণের জন্য অনেক রিওয়ায়াত পেশ করিয়াছেন। এই কারণেই এই কথা বলা ঠিক যে, হানাফী 'আলিমগণ বিপদাপদের সময় কুনূত (নাযিলা) পড়ার পক্ষপাতী।
বাহরুর রাইক গ্রন্থে গায়েতাহ থেকে বর্ণিত আছে যে, যদি মুসলমানদের উপর কোন বিপদ আপতিত হইত তাহা হইলে ইমাম যেসব সালাতে কিরাআত উচ্চস্বরে পাঠ করা হয় তাহাতে কুনূত পাঠ করিতেন এবং ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (র) এবং ইমাম আহমাদ (র)-ও এই মত ব্যক্ত করিয়াছেন এবং অধিকাংশ আহলে হাদীছের মতে বিপদকালীন অবস্থায় সব সালাতেই কুনূত পাঠ করা শরী'আতসম্মত। হযরত আলী ও হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'আব্বাস (রা)-সহ প্রসিদ্ধ সাহাবীগণ এই মত পোষণ করিতেন। হানাফী ফকীহগণ বিপদের সময়ে কুনূত নাযিলা পড়া সিদ্ধ মনে করেন।
'আবদুল আলা ইবন হাম্মাদের সূত্রে আনাস ইবন মালিক (রা) হইতে দীর্ঘ এক হাদীছে নবী করীম (স) বি'র মাউনার শহীদগণের হত্যাকারীদের জন্য এক মাস অবধি ফজরের নামাযে বদ্‌দু'আস্বরূপ দু'আ কুনূত পড়িবার কথা উল্লেখ আছে। আরও উল্লেখ আছে যে, হযরত আনাস বলেন, বি'র মাউনার শহীদগণের সম্পর্কে অবতীর্ণ কিছু আয়াত আমরা তিলাওয়াত করিতাম, অবশ্য পরে ইহার তিলাওয়াত মওকুফ হইয়া গিয়াছে। উক্ত আয়াত ও ইহার বঙ্গানুবাদ নিম্নরূপঃ
بلغوا عنا قومنا أنا قد لقينا ربنا فرضى عنا وأرضانا.
"আমাদের কওমের লোকদিগকে তোমরা জানাইয়া দাও যে, আমরা আমাদের প্রভুর সান্নিধ্যে পৌছিয়া গিয়াছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন এবং আমাদিগকে পরিতৃপ্ত করিয়াছেন।"
বি'র মা'উনার করুণ কাহিনী মুসলমানগণের অবিচল ঈমানী চেতনা, অসীম বীরত্ব এবং খোদাদ্রোহী শক্তির বিশ্বাসঘাতকতার জ্বলন্ত উদাহরণ। ঈমানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সত্যপন্থীকে আল্লাহর রাহে অবিচল থাকিবার ও প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য এই ঘটনা অনুপ্রেরণা দেয়। অপরদিকে খোদাবিমুখ, বিশ্বাসঘাতক ও অত্যাচারী তাগূতী শক্তির প্রতি ঘৃণা ও কলঙ্কের কালিমা লেপন করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00