📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধ সংঘটিত হইবার কাল

📄 যুদ্ধ সংঘটিত হইবার কাল


এই যুদ্ধ যে উহুদ যুদ্ধের পরে সংঘটিত হইয়াছিল এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও সীরাতবেত্তাগণ একমত। তবে নির্ধারিত কোন সময়ে যুদ্ধটি সংঘটিত হইয়াছিল তাহাতে মতভেদ রহিয়াছে। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, আর-রাজী' যুদ্ধ তৃতীয় হিজরীর (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮; Nadwi, p. 94) শেষদিকে (ইবনুত তীনের উদ্ধৃতি দিয়া আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৬) হিজরতের ঠিক ৩৬ মাসের মাথায় (মুহাম্মাদ ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ৩৮৪) সফর মাসে (ইবন হাম্, পৃ. ২১৪; মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবদুল ওয়াহহাব, পৃ. ৩৩৪) অনুষ্ঠিত হয়। তবে অধিকাংশ মনীষীর মতে যুদ্ধটি সংঘটিত হইয়াছিল চতুর্থ হিজরী সনের সফর মাসে (মুহাম্মাদ আল-খিদরী, পৃ. ১৫৩; মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ২১২; ইব্‌ন কায়্যিম, ৩খ., পৃ. ২৪৪; মুবারকপুরী, পৃ. ২৯১; আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৬; ই.বি., ২২খ., পৃ. ২২৪)।
এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, উল্লিখিত দুইটি মতামতেই আর-রাজী' যুদ্ধ সফর মাসেই অনুষ্ঠিত হইয়াছে। সুতরাং এ বিষয়ে কোন মতভেদ নাই। মতভেদ হইতেছে কোন হিজরী সনে ইহা অনুষ্ঠিত হইয়াছিল তাহাকে কেন্দ্র করিয়া। রাসূলুল্লাহ্ (স) নবুওয়াত প্রাপ্তির চতুর্দশ বৎসরে ২৭ সফর তারিখে মক্কা হইতে হিজরত করিয়া গারে ছাওরে পৌঁছান (মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ৪১০)। মূলত এই সন হইতে হিজরী সন গণনা করাই ছিল বাস্তবতার দাবি। এই বাস্তবতার আলোকে কোন কোন ঐতিহাসিক কিন্তু এইদিন হইতেই হিজরী সন গণনা করিয়াছেন। তবে ১৭ হিজরীতে হযরত 'উমার (রা)-এর শাসন আমলে যখন হিজরী সন প্রবর্তিত হয়, হযরত 'উছমান (রা)-র পরামর্শে সফর মাসকে হিজরী সনের প্রথম মাস হিসাবে না ধরিয়া মুহাররামকেই প্রথম মাস হিসাবে গ্রহণ করা হয় (মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ২৯২)। সুতরাং এই দুই ধারায় হিজরী সন গণনার কারণেই সম্ভবত আর-রাজী' যুদ্ধের সময়কাল নির্ধারণে মতভেদ সৃষ্টি হইয়াছে। যাহারা মুহাররাম মাসকে হিজরী সনের প্রথম মাস গণ্য করিয়াছেন তাহাদের নিকট আর-রাজী' যুদ্ধ চতুর্থ হিজরীতে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আর যাহারা হিজরত সফর মাসেই অনুষ্ঠিত হইবার কারণে সেই মাসকেই হিজরী সনের প্রথম মাস হিসাবে গণ্য করিয়াছেন তাহাদের নিকট আর-রাজী' যুদ্ধ তৃতীয় হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। বাহ্যিক দিক হইতে উভয় মতের মধ্যে এক বৎসরের পার্থক্য পরিলক্ষিত হইলেও মূলত কোন পার্থক্যই নাই। অধিকাংশ ঐতিহাসিক হযরত 'উছমান (রা)-এর পরামর্শ অনুযায়ী মুহাররাম মাসকে যেহেতু হিজরী সনের প্রথম মাস মনে করিয়াছেন এবং এই মতই সর্বত্র অনুসৃত হয়, সেই আলোকে আর-রাজী' যুদ্ধ চতুর্থ হিজরীতে অনুষ্ঠিত হইবার মতের গ্রহণযোগ্যতা বেশী। সুতরাং এই যুদ্ধ সংঘটিত হইবার সময় হইতেছে চতুর্থ হিজরী সনের সফর মাস।

এই যুদ্ধ যে উহুদ যুদ্ধের পরে সংঘটিত হইয়াছিল এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও সীরাতবেত্তাগণ একমত। তবে নির্ধারিত কোন সময়ে যুদ্ধটি সংঘটিত হইয়াছিল তাহাতে মতভেদ রহিয়াছে। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, আর-রাজী' যুদ্ধ তৃতীয় হিজরীর (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮; Nadwi, p. 94) শেষদিকে (ইবনুত তীনের উদ্ধৃতি দিয়া আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৬) হিজরতের ঠিক ৩৬ মাসের মাথায় (মুহাম্মাদ ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ৩৮৪) সফর মাসে (ইবন হাম্, পৃ. ২১৪; মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবদুল ওয়াহহাব, পৃ. ৩৩৪) অনুষ্ঠিত হয়। তবে অধিকাংশ মনীষীর মতে যুদ্ধটি সংঘটিত হইয়াছিল চতুর্থ হিজরী সনের সফর মাসে (মুহাম্মাদ আল-খিদরী, পৃ. ১৫৩; মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ২১২; ইব্‌ন কায়্যিম, ৩খ., পৃ. ২৪৪; মুবারকপুরী, পৃ. ২৯১; আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৬; ই.বি., ২২খ., পৃ. ২২৪)।
এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, উল্লিখিত দুইটি মতামতেই আর-রাজী' যুদ্ধ সফর মাসেই অনুষ্ঠিত হইয়াছে। সুতরাং এ বিষয়ে কোন মতভেদ নাই। মতভেদ হইতেছে কোন হিজরী সনে ইহা অনুষ্ঠিত হইয়াছিল তাহাকে কেন্দ্র করিয়া। রাসূলুল্লাহ্ (স) নবুওয়াত প্রাপ্তির চতুর্দশ বৎসরে ২৭ সফর তারিখে মক্কা হইতে হিজরত করিয়া গারে ছাওরে পৌঁছান (মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ৪১০)। মূলত এই সন হইতে হিজরী সন গণনা করাই ছিল বাস্তবতার দাবি। এই বাস্তবতার আলোকে কোন কোন ঐতিহাসিক কিন্তু এইদিন হইতেই হিজরী সন গণনা করিয়াছেন। তবে ১৭ হিজরীতে হযরত 'উমার (রা)-এর শাসন আমলে যখন হিজরী সন প্রবর্তিত হয়, হযরত 'উছমান (রা)-র পরামর্শে সফর মাসকে হিজরী সনের প্রথম মাস হিসাবে না ধরিয়া মুহাররামকেই প্রথম মাস হিসাবে গ্রহণ করা হয় (মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ২৯২)। সুতরাং এই দুই ধারায় হিজরী সন গণনার কারণেই সম্ভবত আর-রাজী' যুদ্ধের সময়কাল নির্ধারণে মতভেদ সৃষ্টি হইয়াছে। যাহারা মুহাররাম মাসকে হিজরী সনের প্রথম মাস গণ্য করিয়াছেন তাহাদের নিকট আর-রাজী' যুদ্ধ চতুর্থ হিজরীতে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আর যাহারা হিজরত সফর মাসেই অনুষ্ঠিত হইবার কারণে সেই মাসকেই হিজরী সনের প্রথম মাস হিসাবে গণ্য করিয়াছেন তাহাদের নিকট আর-রাজী' যুদ্ধ তৃতীয় হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। বাহ্যিক দিক হইতে উভয় মতের মধ্যে এক বৎসরের পার্থক্য পরিলক্ষিত হইলেও মূলত কোন পার্থক্যই নাই। অধিকাংশ ঐতিহাসিক হযরত 'উছমান (রা)-এর পরামর্শ অনুযায়ী মুহাররাম মাসকে যেহেতু হিজরী সনের প্রথম মাস মনে করিয়াছেন এবং এই মতই সর্বত্র অনুসৃত হয়, সেই আলোকে আর-রাজী' যুদ্ধ চতুর্থ হিজরীতে অনুষ্ঠিত হইবার মতের গ্রহণযোগ্যতা বেশী। সুতরাং এই যুদ্ধ সংঘটিত হইবার সময় হইতেছে চতুর্থ হিজরী সনের সফর মাস।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধের কারণ

📄 যুদ্ধের কারণ


যুদ্ধের কারণ : হিজরী চতুর্থ বর্ষের সফর মাস। রাসূলুল্লাহ (স) ছয় (ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮; ইবন হাযম, পৃ. ২১৪; ইবনুল আছীর, ২খ., পৃ. ১১৫) অথবা সাত (দা.মা.ই, ১০খ., পৃ. ২১৫) অথবা দশজন (শিবলী নু'মানী, ১খ., ২২৪-২২৫; বুখারী, ৫খ., পৃ. ১১) সাহাবীকে বিশেষ উদ্দেশ্যে পাঠাইলেন। তাঁহাদিগকে প্রেরণের উদ্দেশ্য দুইভাবে বর্ণিত হইয়াছে। বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী (বুখারী, ৫খ., পৃ. ৪০) গোপনে কুরায়শদের সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে তাহাদিগকে পাঠান হইয়াছিল। অন্য বর্ণনায় তাঁহাদের পাঠানোর কারণ ছিল নিম্নরূপ:
উহুদ যুদ্ধে হযরত আবদুল্লাহ ইবন উনায়স (রা)-এর হাতে (আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৮) সুফয়ান ইব্‌ন খালিদ ইব্‌ন নুবায়হ্ আল-হুযালী নিহত হইবার পর (দামাই, ১০খ., পৃ. ২১৫) বনু লিয়ানের লোকেরা আদাল (عضل) ও আল-কারা (القارة) গোত্রদ্বয়ের নিকট যাইয়া বলিল, এখন তোমাদের অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য হইল যে, তোমরা মুহাম্মাদ (স)-এর নিকট যাইয়া দীন ইসলাম শিক্ষার দোহাই দিয়া তাঁহার কিছু সাহাবী (রা)-কে লইয়া আসিবে। তাঁহাদের মধ্যে যাহারা পূর্বে আমাদের কোন লোককে হত্যা করিয়াছে আমরা তাহাদিগকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য হত্যা করিব। আর অবশিষ্ট লোকদিগকে মক্কায় বিক্রয় করিয়া অর্থ সংগ্রহ করিব (আল-ওয়াকিদী, ১খ., পৃ. ৩৫৪; ই.বি., ২২খ., পৃ. ২২৫)।
সেই মুতাবিক আল-হুন ইব্‌ন খুযায়মা ইব্‌ন মুদরিকা বংশীয় 'আদাল (عضل) ও আল-কারা গোত্রদ্বয়ের সাতজন (আল-ওয়াকিদী, ১খ., পৃ. ৩৫০) রাসূলুল্লাহ (স)-এর সমীপে উপস্থিত হইল। তাহারা বলিল:
إن فيهم إسلاما وسألوا أن يبعث معهم من يعلمهم الدين ويقرئهم القرآن.
"তাহাদের মধ্যে ইসলাম বিস্তৃতি লাভ করিয়াছে। তাহারা তাহাদিগকে দীন শিক্ষা দান করিতে ও কুরআন পড়াইতে কিছু লোক পাঠাইবার অনুরোধ করিল” (ইব্‌ন কায়্যিম, ৩খ., পৃ. ২৪৪; শিবলী নু'মানী, ১খ., পৃ. ২২৪-২২৫; মুবারকপুরী, পৃ. ২৯১; দা.মা.ই., ১০খ., পৃ. ২১৫; মুহাম্মাদ আমীন, পৃ. ১৩২; মাজমা আল-বুহুছ আল-ইসলামিয়্যা, ১ খ., পৃ. ৪৮৩; আল-খিদরী, পৃ. ১৫৩; ই.বি., ২২খ., পৃ. ২২৪-২২৫; আবূ যাহরা, ২খ., পৃ. ৮৮০)।
তখন রাসূলুল্লাহ (স) ছয় (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮; ইব্‌ন হায্য, পৃ. ২১৪; মুহাম্মাদ ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ৩৮৪) বা সাত (দা.মা.ই. ১০খ., পৃ. ২১৫) অথবা দশজন (শিবলী নু'মানী, ১খ., পৃ. ২২৪-২২৫; বুখারী, ৫খ, ১১) সাহাবীকে তাহাদের সহিত পাঠাইলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বিপক্ষে অংশগ্রহণকারীদের বর্ণনা

📄 বিপক্ষে অংশগ্রহণকারীদের বর্ণনা


বিপক্ষে অংশগ্রহণকারীদের বর্ণনা: 'আদাল ও আল-কারা গোত্র দুইটি বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করিয়া সাহাবীদিগকে (রা) মদীনা হইতে বাহির করিয়া আনিয়াছিল, আর বানু লিহয়ান তাহাদিগকে আক্রমণ করিয়াছিল। মতান্তরে তাহাদেরকে হত্যা করিবার জন্য ইঙ্গিত করিল। ইহার পর ঐ গোত্রের সকল পুরুষ তরবারি লইয়া বাহির হইল। তাহারা ছিল সংখ্যায় দুই শত। কোন কোন বর্ণনায় বলা হইয়াছে যে, তখন তাহাদের মধ্য হইতে এক শত যোদ্ধা হাতে তীর-তরবারি লইয়া বাহির হইয়া পড়িল। সাহাবীগণ (রা) সংবাদ সংগ্রহের জন্য আসিয়াছিলেন, যোদ্ধা হিসাবে নহে। আত্মরক্ষার জন্য সামান্য কিছু সরঞ্জাম ছাড়া তাঁহাদের নিকট কিছুই ছিল না। অবস্থার ভয়াবহতা উপলব্ধি করিয়া সাহাবীগণ (রা) পাহাড়ের উঁচু চূড়ায় আশ্রয় গ্রহণ করিলেন (বুখারী, ২খ, মাগাযী; গাযওয়াতুর রাজী, শিবলী নোমানী, ১খ., পৃ. ২২৫)।
শত্রু পক্ষ তাঁহাদের খুঁজিতে লাগিল। এক পর্যায়ে তাহারা এক স্থানে শুধুমাত্র মদীনা মুনাওয়ারাতে উৎপাদিত খেজুরের দানা (ইব্‌ন হাজার, ৭খ., পৃ. ৪৪০) ছড়াইয়া থাকিতে দেখিল। তাহাদের মোটেও বুঝিতে কষ্ট হইল না যে, শুধু মদীনাতে যে ধরনের খেজুর উৎপন্ন হইয়া থাকে ইহা সেই খেজুরেরই দানা। তখন তাহাদের ধারণা আরও পাকাপোক্ত হইল যে, আশেপাশে কোথায়ও মুহাম্মাদের সাথীরা আত্মগোপন করিয়া রহিয়াছেন। অবশেষে তাহারা তাঁহাদের সন্ধান পাইল। যে পাহাড়ের চূড়াতে তাঁহারা আশ্রয়গ্রহণ করিয়াছিলেন সেই স্থান অবরোধ করিল (মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবদুল ওয়াহহাব, পৃ. ৩৩৫; ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণ

📄 অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণ


অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণঃ এই যুদ্ধে কতজন সাহাবী অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন সেই প্রসংগে ঐতিহাসিক ও সীরাত বিশারদগণের মধ্যে মতভেদ রহিয়াছে। ইমাম বুখারী (র)-এর আর-রাজী' অনুচ্ছেদে বর্ণিত এই প্রসংগের হাদীছে সংখ্যার কথা উল্লেখ না থাকিলেও অন্যত্র (বুখারী, ৫খ., পৃ. ১১) তাঁহাদের সংখ্যা দশ উল্লেখ করা হইয়াছে।

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عشرة عينا .

"হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) দশজন গুপ্তচর প্রেরণ করিয়াছিলেন" (বুখারী, ৫খ., পৃ. ১১)

তাহাদের ছয়জন ছিলেন মুহাজির ও চারজন ছিলেন আনসারী (মাজমা' আল-বুহুছ আল-ইসলামিয়‍্যা, পৃ. ৪৮৩)। গোলাম মোস্তফা (পৃ. ১৮৬) ও আল-উমারী (২খ., পৃ. ৩৯৮) দশজন প্রেরণের মতকে সমর্থন করিয়াছেন। The Encyclopaedia of Islam বলা হইয়াছে, ...a small body of ten of the prophet's followers was discovered and surrounded between Mecea and Usfan (C.E. Bosworth & others, vol. v, P. 40)। উর্দু দাইরা মা'আরিফি ইসলামিয়াতে সাতজন উল্লেখ করা হইয়াছে (১০খ., পৃ. ২১৫)। ইব্‌ন হিশাম (৩খ., পৃ. ৯৬৮) ও ইব্‌ন হাযম্ (পৃ. ২১৪) এই যুদ্ধে প্রেরিত সাহাবীদের সংখ্যা ছয়জন বলিয়াছেন। নদভী এই মতকে সমর্থন করিয়া বলেন, The Messenger of Allah sent six of his Companions including Asim ibn Thabit, Khubayb ibn Adi and Zayd ibn al-Dathinah (p. 94)। যাহারা ছয়জন প্রেরণের মতকে গ্রহণ করিয়াছেন তাহারা সেই ছয়জনের নামও উল্লেখ করিয়াছেন। তাঁহারা হইলেন :
১। মারছাদ ইব্‌ন আবী মারছাদ কাননায ইব্‌ন হুসায়ন ইব্‌ن য়ারবু' ইবন খারাশা ইবন সা'د, আল-গানাবী (রা) (উদুল আছীর, ৪খ., পৃ. ৫০০)।
২। 'আসিম ইব্‌ন ছাবিত ইব্‌ন আফিল আকলাহ (রা), তিনি ছিলেন 'আসিম ইবন উমার ইবনুল খাত্তাবের নানা। হযরত উমার (রা) জামিলা বিনত 'আসিম ইব্‌ن ছাবিতকে বিবাহ করিয়াছিলেন। তাঁহার গর্ভেই 'আসিম ইবন উমার জন্মগ্রহণ করেন (ইব্‌ন হাজার, ৭খ., পৃ. ৪৪০)। অন্য বর্ণনায় আসিয়াছে, তাঁহার মাতা ছিলেন, শামূস বিন্ত আবী আমের (ই.বি. ৩খ., পৃ. ১৭২)। কাহারও মতে তিনি ছিলেন 'আসিম ইবন উমার ইবন খাত্তাবের মামা (আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৮)। তবে নানা হওয়াটাই গ্রহণযোগ্য। ইমাম বুখারী (র)-এর বর্ণিত হাদীছও ইহাকে সমর্থন করে (৫খ., পৃ. ১০-১১)।
৩। খালিদ ইব্‌ن বুকায়র ইব্‌ن 'আবদ ইয়ালীল ইব্‌ন নাশিব আল-লায়ছী (রা) আল-কিনানী (ইবনুল আছীর, উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ৯১)। তিনি ৩৪ বৎসর বয়সে শহীদ হন।
৪। খুবায়ব ইব্‌ন 'আদী আল-আনসারী।
৫। যায়দ ইবনুদ দাছিনা ইব্‌ন মু'আবিয়া আল-বায়াদী।
৬। আবদু স্নাহ ইব্‌ن তারিক।
মুহাম্মাদ আবদুল ওয়াহ্হাব (পৃ. ৩৩৪) ও দানাপুরী (পৃ. ১১৬) ছয়জন প্রেরিত হইয়াছেন বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। ইবন সা'দ দশজন প্রেরণের তথ্যটির প্রতি জোর সমর্থন দিয়াছেন। তবে তিনি উপরোল্লিখিত ছয় ব্যক্তির সাথে শুধু সপ্তম ব্যক্তির নাম উল্লেখ করিয়াছেন (ইব্‌ن হিশام, ৩খ., পৃ. ৯৬৮), অবশিষ্ট তিনজনের নাম উল্লেখ করেন নাই। তিনি যে সপ্তম ব্যক্তির নাম উল্লেখ করিয়াছেন তিনি হইতেছেন:
৭। মু'আত্তিব ইব্‌ن 'উবায়د (রা) (ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮) অথবা মু'আত্তিব ইব্‌ن আওف (ইবন হাজার, ৭খ., পৃ. ৪৪০)। তিনি ছিলেন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ن তারিকের বৈপিত্রেয় ভাই। মুহাম্মাদ ইব্‌ن আবদুল ওয়াহ্হাব (পৃ. ৩৮৪), ইব্‌ন হাজার (৭খ., পৃ. ৪৪০) ও কান্ধলাবী (২খ., পৃ. ৭৫৫) ১০জনকে প্রেরণের প্রতি সমর্থন দিয়া উপরোল্লিখিত সাতজনের নামই উল্লেখ করিয়াছে। ইসলামী বিশ্বকোষেও এই সাতজনের নাম উল্লেখ করা হইয়াছে (ই.বি., ২২খ., পৃ. ২২৫)।
মূসা ইবন 'উকবা সপ্তম নম্বরে মু'আত্তিবের পরিবর্তে মুগীছ ইব্‌ن 'আওফ (রা)-এর নাম উল্লেখ করিয়াছেন (ইব্‌ن হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮)। আমরা এই ব্যক্তিকে অষ্টম ব্যক্তি হিসাবে গণ্য করিতে পারি। তাহা হইলে অষ্টম ব্যক্তি হইলেন মুগীছ ইব্‌ن 'আওফ (রা)।
রাহমাতুল-লিল আলামীন গ্রন্থে আর-রাজী'-এর শহীদদের যে তালিকা দেওয়া হইয়াছে সেখানে অত্র উল্লিখিত প্রথম ছয় ব্যক্তির সাথে অন্য দুইটি নাম সংযোজন করিয়া আট জনের নামই উল্লেখ করা হইয়াছে (মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ২৫১)। আমরা উপরে বর্ণিত আটজন সাহাবী (রা)-এর নামের সহিত ঐ দুইটি নাম সংযুক্ত করিলে এই যুদ্ধে বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী যে দশজন সাহাবীকে পাঠান হইয়াছিল তাহাদের নামের সংখ্যা পূর্ণ হয়। উক্ত দুইজন সাহাবী হইলেন:
৯। যায়দ ইবন মুযায়িয়ন আনসারী বায়াদী (রা);
১০। মুগীছ ইবন 'উবায়দা ইব্‌ন আবী ইয়াস মালাবী (রা) (মাসসূরপুরী, ২খ, পৃ. ২৫১-২)।
এই দশজন সাহাবী (রা)-র দলপতি কে ছিলেন এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দুইটি বর্ণনা পাওয়া যায়। কাহারও মতে তাঁহাদের দলপতি ছিলেন মারছাদ ইবন আবী মারছাদ (রা) (ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮; মুহাম্মাদ আবদুল ওয়াহ্হাব, পৃ. ৩৩৪; দানাপুরী, পৃ. ১১৬; দা.মা.ই., ১০খ., পৃ. ২১৫)। অন্য বর্ণনায় তাঁহাদের দলপতি ছিলেন 'আসিম ইব্‌ন ছাবিত (রা) (আবু দাউদ ৩খ., পৃ. ১১৬; ইব্‌ن হাজার, ৭খ., পৃ. ৪০৯; E. I.2, vol. v, p. 40; শিবলী নু'মানী, ১খ., পৃ. ২২৫; কান্ধলাবী, ২খ., পৃ. ৭৫৫; বুখারী, ৫খ., পৃ. ১১, পৃ. ৪০; গোলাম মোস্তফা, পৃ. ১৮৬; 'আল-উমারী, ২খ., পৃ. ৩৭৮)। ইমাম বুখারী বিশুদ্ধ বর্ণনায় যেহেতু 'আসিম (রা)-কে দলপতি করার কথা উল্লিখিত হইয়াছে এবং মূল রণাঙ্গণের যে চিত্র বিভিন্ন বর্ণনায় পরিলক্ষিত হয় সেখানে হযরত 'আসিম (রা)-এর অগ্রগণ্য ভূমিকাও এই কথার বাস্তব প্রমাণ যে, তিনিই ছিলেন এই যুদ্ধের দলপতি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00