📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ভৌগোলিক অবস্থান

📄 ভৌগোলিক অবস্থান


আর-রাজী' হিজাযের প্রান্তে (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৯; মুবারকপূরী, পৃ. ২৯১-২৯২), উসফান (عسفان) ও মক্কা শরীফের (مكة المكرمة) মাঝখানে (কান্ধলাবী, ২খ., পৃ. ৫৭৭; শিবলী নু'মানী, ১খ., পৃ. ২২৫; C.E. Bosworth, vol. v, p. 40), উসফান হইতে আট মাইল (দা. মা. ই., ১০খ., পৃ. ২১৬; আবূ যাহরা, ২খ., পৃ. ৮৮০; ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৬৪) বা সাত মাইল (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬; মুহাম্মদ ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ৩৮৪) বা যে পথ অতিক্রম করিতে দুইবার বিশ্রাম করিতে হয় অর্থাৎ দুই মনযিল দূরে অবস্থিত (আল-আয়নী, ৯খ., ১৬৮)। ইহাকে কেহ কেহ স্থানের নাম বলিলেও (কানদিহলাবী, ২খ., ৭৫৫; আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১১৬; মুহাম্মাদ আমীন, পৃ. ১৩১) মূলত ইহা হুযায়ল গোত্রের একটি কূপের বা খেজুর বাগানের নাম (ইব্‌ন হিশাম, সীরা, ৩খ., পৃ. ৯৬৯; দা. মা. ই, ১০খ., পৃ. ২১৬)। স্থানটির নাম হইল আল-হাদ'আঃ (الهدأة) (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৯); ইহা কিন্তু আল-হাদাঃ (الهدة) (আল আমিনী, ১খ., পৃ. ১৫৩; ইব্‌ন সা'দ, ১খ., পৃ. ১৮৪) অথবা আল-হাদ্দাঃ (الهدة) (ইবনুল আছীর, ২খ., পৃ. ১২০) নয়।
উল্লেখ্য যে, উর্দু দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়া (১০খ., পৃ. ২১৫) ও ইসলামী বিশ্বকোষ (২২খ., পৃ. ২১৪) আল-হাদ'আ-এর ভৌগোলিক অবস্থানকে মক্কা ও তাইফের মধ্যবর্তী স্থলে চিহ্নিত করিয়াছে। তবে সন্দেহাতীতভাবে সত্য যে, এই তথ্যটি ভুল। কেননা মক্কা ও তাইফের মাঝখানে অবস্থিত জায়গাটির নাম আল-হাদা (الهدة) যাহা হামযা সহকারে লিখা হয় না। আর-রাজী' যে স্থানটিতে অবস্থিত তাহা হইল আল-হাদাঃ (الهداة) যাহা হামযা সহকারে লিখা হয়। ইহার অবস্থান উসফান ও মক্কা-এর মাঝখানে। সম্ভবত উর্দু দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়া ও ইসলামী বিশ্বকোষ দুইটি পৃথক পৃথক স্থানকে একই স্থান মনে করিয়া এই ভুল তথ্যটি দিয়াছে। আসলে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন স্থান। মুবারকপুরী (পৃ. ৩২৬-২৭) স্থানটি রাবিগ (رابغ) ও জিদ্দা (جدة)-এর মাঝখানে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। সংশ্লিষ্ট মানচিত্রও ইহা প্রমাণ করে যে, আর-রাজী' মক্কা হইতে কিছুটা উত্তর-পশ্চিম কোণে জিদ্দা ও রাবিগের মাঝখানেই অবস্থিত।

আর-রাজী' হিজাযের প্রান্তে (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৯; মুবারকপূরী, পৃ. ২৯১-২৯২), উসফান (عسفان) ও মক্কা শরীফের (مكة المكرمة) মাঝখানে (কান্ধলাবী, ২খ., পৃ. ৫৭৭; শিবলী নু'মানী, ১খ., পৃ. ২২৫; C.E. Bosworth, vol. v, p. 40), উসফান হইতে আট মাইল (দা. মা. ই., ১০খ., পৃ. ২১৬; আবূ যাহরা, ২খ., পৃ. ৮৮০; ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৬৪) বা সাত মাইল (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬; মুহাম্মদ ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ৩৮৪) বা যে পথ অতিক্রম করিতে দুইবার বিশ্রাম করিতে হয় অর্থাৎ দুই মনযিল দূরে অবস্থিত (আল-আয়নী, ৯খ., ১৬৮)। ইহাকে কেহ কেহ স্থানের নাম বলিলেও (কানদিহলাবী, ২খ., ৭৫৫; আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১১৬; মুহাম্মাদ আমীন, পৃ. ১৩১) মূলত ইহা হুযায়ল গোত্রের একটি কূপের বা খেজুর বাগানের নাম (ইব্‌ন হিশাম, সীরা, ৩খ., পৃ. ৯৬৯; দা. মা. ই, ১০খ., পৃ. ২১৬)। স্থানটির নাম হইল আল-হাদ'আঃ (الهدأة) (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৯); ইহা কিন্তু আল-হাদাঃ (الهدة) (আল আমিনী, ১খ., পৃ. ১৫৩; ইব্‌ন সা'দ, ১খ., পৃ. ১৮৪) অথবা আল-হাদ্দাঃ (الهدة) (ইবনুল আছীর, ২খ., পৃ. ১২০) নয়।
উল্লেখ্য যে, উর্দু দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়া (১০খ., পৃ. ২১৫) ও ইসলামী বিশ্বকোষ (২২খ., পৃ. ২১৪) আল-হাদ'আ-এর ভৌগোলিক অবস্থানকে মক্কা ও তাইফের মধ্যবর্তী স্থলে চিহ্নিত করিয়াছে। তবে সন্দেহাতীতভাবে সত্য যে, এই তথ্যটি ভুল। কেননা মক্কা ও তাইফের মাঝখানে অবস্থিত জায়গাটির নাম আল-হাদা (الهدة) যাহা হামযা সহকারে লিখা হয় না। আর-রাজী' যে স্থানটিতে অবস্থিত তাহা হইল আল-হাদাঃ (الهداة) যাহা হামযা সহকারে লিখা হয়। ইহার অবস্থান উসফান ও মক্কা-এর মাঝখানে। সম্ভবত উর্দু দাইরা মা'আরিফ ইসলামিয়া ও ইসলামী বিশ্বকোষ দুইটি পৃথক পৃথক স্থানকে একই স্থান মনে করিয়া এই ভুল তথ্যটি দিয়াছে। আসলে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন স্থান। মুবারকপুরী (পৃ. ৩২৬-২৭) স্থানটি রাবিগ (رابغ) ও জিদ্দা (جدة)-এর মাঝখানে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। সংশ্লিষ্ট মানচিত্রও ইহা প্রমাণ করে যে, আর-রাজী' মক্কা হইতে কিছুটা উত্তর-পশ্চিম কোণে জিদ্দা ও রাবিগের মাঝখানেই অবস্থিত।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধ সংঘটিত হইবার কাল

📄 যুদ্ধ সংঘটিত হইবার কাল


এই যুদ্ধ যে উহুদ যুদ্ধের পরে সংঘটিত হইয়াছিল এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও সীরাতবেত্তাগণ একমত। তবে নির্ধারিত কোন সময়ে যুদ্ধটি সংঘটিত হইয়াছিল তাহাতে মতভেদ রহিয়াছে। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, আর-রাজী' যুদ্ধ তৃতীয় হিজরীর (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮; Nadwi, p. 94) শেষদিকে (ইবনুত তীনের উদ্ধৃতি দিয়া আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৬) হিজরতের ঠিক ৩৬ মাসের মাথায় (মুহাম্মাদ ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ৩৮৪) সফর মাসে (ইবন হাম্, পৃ. ২১৪; মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবদুল ওয়াহহাব, পৃ. ৩৩৪) অনুষ্ঠিত হয়। তবে অধিকাংশ মনীষীর মতে যুদ্ধটি সংঘটিত হইয়াছিল চতুর্থ হিজরী সনের সফর মাসে (মুহাম্মাদ আল-খিদরী, পৃ. ১৫৩; মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ২১২; ইব্‌ন কায়্যিম, ৩খ., পৃ. ২৪৪; মুবারকপুরী, পৃ. ২৯১; আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৬; ই.বি., ২২খ., পৃ. ২২৪)।
এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, উল্লিখিত দুইটি মতামতেই আর-রাজী' যুদ্ধ সফর মাসেই অনুষ্ঠিত হইয়াছে। সুতরাং এ বিষয়ে কোন মতভেদ নাই। মতভেদ হইতেছে কোন হিজরী সনে ইহা অনুষ্ঠিত হইয়াছিল তাহাকে কেন্দ্র করিয়া। রাসূলুল্লাহ্ (স) নবুওয়াত প্রাপ্তির চতুর্দশ বৎসরে ২৭ সফর তারিখে মক্কা হইতে হিজরত করিয়া গারে ছাওরে পৌঁছান (মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ৪১০)। মূলত এই সন হইতে হিজরী সন গণনা করাই ছিল বাস্তবতার দাবি। এই বাস্তবতার আলোকে কোন কোন ঐতিহাসিক কিন্তু এইদিন হইতেই হিজরী সন গণনা করিয়াছেন। তবে ১৭ হিজরীতে হযরত 'উমার (রা)-এর শাসন আমলে যখন হিজরী সন প্রবর্তিত হয়, হযরত 'উছমান (রা)-র পরামর্শে সফর মাসকে হিজরী সনের প্রথম মাস হিসাবে না ধরিয়া মুহাররামকেই প্রথম মাস হিসাবে গ্রহণ করা হয় (মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ২৯২)। সুতরাং এই দুই ধারায় হিজরী সন গণনার কারণেই সম্ভবত আর-রাজী' যুদ্ধের সময়কাল নির্ধারণে মতভেদ সৃষ্টি হইয়াছে। যাহারা মুহাররাম মাসকে হিজরী সনের প্রথম মাস গণ্য করিয়াছেন তাহাদের নিকট আর-রাজী' যুদ্ধ চতুর্থ হিজরীতে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আর যাহারা হিজরত সফর মাসেই অনুষ্ঠিত হইবার কারণে সেই মাসকেই হিজরী সনের প্রথম মাস হিসাবে গণ্য করিয়াছেন তাহাদের নিকট আর-রাজী' যুদ্ধ তৃতীয় হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। বাহ্যিক দিক হইতে উভয় মতের মধ্যে এক বৎসরের পার্থক্য পরিলক্ষিত হইলেও মূলত কোন পার্থক্যই নাই। অধিকাংশ ঐতিহাসিক হযরত 'উছমান (রা)-এর পরামর্শ অনুযায়ী মুহাররাম মাসকে যেহেতু হিজরী সনের প্রথম মাস মনে করিয়াছেন এবং এই মতই সর্বত্র অনুসৃত হয়, সেই আলোকে আর-রাজী' যুদ্ধ চতুর্থ হিজরীতে অনুষ্ঠিত হইবার মতের গ্রহণযোগ্যতা বেশী। সুতরাং এই যুদ্ধ সংঘটিত হইবার সময় হইতেছে চতুর্থ হিজরী সনের সফর মাস।

এই যুদ্ধ যে উহুদ যুদ্ধের পরে সংঘটিত হইয়াছিল এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও সীরাতবেত্তাগণ একমত। তবে নির্ধারিত কোন সময়ে যুদ্ধটি সংঘটিত হইয়াছিল তাহাতে মতভেদ রহিয়াছে। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, আর-রাজী' যুদ্ধ তৃতীয় হিজরীর (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮; Nadwi, p. 94) শেষদিকে (ইবনুত তীনের উদ্ধৃতি দিয়া আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৬) হিজরতের ঠিক ৩৬ মাসের মাথায় (মুহাম্মাদ ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ৩৮৪) সফর মাসে (ইবন হাম্, পৃ. ২১৪; মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবদুল ওয়াহহাব, পৃ. ৩৩৪) অনুষ্ঠিত হয়। তবে অধিকাংশ মনীষীর মতে যুদ্ধটি সংঘটিত হইয়াছিল চতুর্থ হিজরী সনের সফর মাসে (মুহাম্মাদ আল-খিদরী, পৃ. ১৫৩; মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ২১২; ইব্‌ন কায়্যিম, ৩খ., পৃ. ২৪৪; মুবারকপুরী, পৃ. ২৯১; আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৬; ই.বি., ২২খ., পৃ. ২২৪)।
এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, উল্লিখিত দুইটি মতামতেই আর-রাজী' যুদ্ধ সফর মাসেই অনুষ্ঠিত হইয়াছে। সুতরাং এ বিষয়ে কোন মতভেদ নাই। মতভেদ হইতেছে কোন হিজরী সনে ইহা অনুষ্ঠিত হইয়াছিল তাহাকে কেন্দ্র করিয়া। রাসূলুল্লাহ্ (স) নবুওয়াত প্রাপ্তির চতুর্দশ বৎসরে ২৭ সফর তারিখে মক্কা হইতে হিজরত করিয়া গারে ছাওরে পৌঁছান (মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ৪১০)। মূলত এই সন হইতে হিজরী সন গণনা করাই ছিল বাস্তবতার দাবি। এই বাস্তবতার আলোকে কোন কোন ঐতিহাসিক কিন্তু এইদিন হইতেই হিজরী সন গণনা করিয়াছেন। তবে ১৭ হিজরীতে হযরত 'উমার (রা)-এর শাসন আমলে যখন হিজরী সন প্রবর্তিত হয়, হযরত 'উছমান (রা)-র পরামর্শে সফর মাসকে হিজরী সনের প্রথম মাস হিসাবে না ধরিয়া মুহাররামকেই প্রথম মাস হিসাবে গ্রহণ করা হয় (মানসূরপুরী, ২খ., পৃ. ২৯২)। সুতরাং এই দুই ধারায় হিজরী সন গণনার কারণেই সম্ভবত আর-রাজী' যুদ্ধের সময়কাল নির্ধারণে মতভেদ সৃষ্টি হইয়াছে। যাহারা মুহাররাম মাসকে হিজরী সনের প্রথম মাস গণ্য করিয়াছেন তাহাদের নিকট আর-রাজী' যুদ্ধ চতুর্থ হিজরীতে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। আর যাহারা হিজরত সফর মাসেই অনুষ্ঠিত হইবার কারণে সেই মাসকেই হিজরী সনের প্রথম মাস হিসাবে গণ্য করিয়াছেন তাহাদের নিকট আর-রাজী' যুদ্ধ তৃতীয় হিজরী সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। বাহ্যিক দিক হইতে উভয় মতের মধ্যে এক বৎসরের পার্থক্য পরিলক্ষিত হইলেও মূলত কোন পার্থক্যই নাই। অধিকাংশ ঐতিহাসিক হযরত 'উছমান (রা)-এর পরামর্শ অনুযায়ী মুহাররাম মাসকে যেহেতু হিজরী সনের প্রথম মাস মনে করিয়াছেন এবং এই মতই সর্বত্র অনুসৃত হয়, সেই আলোকে আর-রাজী' যুদ্ধ চতুর্থ হিজরীতে অনুষ্ঠিত হইবার মতের গ্রহণযোগ্যতা বেশী। সুতরাং এই যুদ্ধ সংঘটিত হইবার সময় হইতেছে চতুর্থ হিজরী সনের সফর মাস।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধের কারণ

📄 যুদ্ধের কারণ


যুদ্ধের কারণ : হিজরী চতুর্থ বর্ষের সফর মাস। রাসূলুল্লাহ (স) ছয় (ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮; ইবন হাযম, পৃ. ২১৪; ইবনুল আছীর, ২খ., পৃ. ১১৫) অথবা সাত (দা.মা.ই, ১০খ., পৃ. ২১৫) অথবা দশজন (শিবলী নু'মানী, ১খ., ২২৪-২২৫; বুখারী, ৫খ., পৃ. ১১) সাহাবীকে বিশেষ উদ্দেশ্যে পাঠাইলেন। তাঁহাদিগকে প্রেরণের উদ্দেশ্য দুইভাবে বর্ণিত হইয়াছে। বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী (বুখারী, ৫খ., পৃ. ৪০) গোপনে কুরায়শদের সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে তাহাদিগকে পাঠান হইয়াছিল। অন্য বর্ণনায় তাঁহাদের পাঠানোর কারণ ছিল নিম্নরূপ:
উহুদ যুদ্ধে হযরত আবদুল্লাহ ইবন উনায়স (রা)-এর হাতে (আল-আয়নী, ৯খ., পৃ. ১৬৮) সুফয়ান ইব্‌ন খালিদ ইব্‌ন নুবায়হ্ আল-হুযালী নিহত হইবার পর (দামাই, ১০খ., পৃ. ২১৫) বনু লিয়ানের লোকেরা আদাল (عضل) ও আল-কারা (القارة) গোত্রদ্বয়ের নিকট যাইয়া বলিল, এখন তোমাদের অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য হইল যে, তোমরা মুহাম্মাদ (স)-এর নিকট যাইয়া দীন ইসলাম শিক্ষার দোহাই দিয়া তাঁহার কিছু সাহাবী (রা)-কে লইয়া আসিবে। তাঁহাদের মধ্যে যাহারা পূর্বে আমাদের কোন লোককে হত্যা করিয়াছে আমরা তাহাদিগকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য হত্যা করিব। আর অবশিষ্ট লোকদিগকে মক্কায় বিক্রয় করিয়া অর্থ সংগ্রহ করিব (আল-ওয়াকিদী, ১খ., পৃ. ৩৫৪; ই.বি., ২২খ., পৃ. ২২৫)।
সেই মুতাবিক আল-হুন ইব্‌ন খুযায়মা ইব্‌ন মুদরিকা বংশীয় 'আদাল (عضل) ও আল-কারা গোত্রদ্বয়ের সাতজন (আল-ওয়াকিদী, ১খ., পৃ. ৩৫০) রাসূলুল্লাহ (স)-এর সমীপে উপস্থিত হইল। তাহারা বলিল:
إن فيهم إسلاما وسألوا أن يبعث معهم من يعلمهم الدين ويقرئهم القرآن.
"তাহাদের মধ্যে ইসলাম বিস্তৃতি লাভ করিয়াছে। তাহারা তাহাদিগকে দীন শিক্ষা দান করিতে ও কুরআন পড়াইতে কিছু লোক পাঠাইবার অনুরোধ করিল” (ইব্‌ন কায়্যিম, ৩খ., পৃ. ২৪৪; শিবলী নু'মানী, ১খ., পৃ. ২২৪-২২৫; মুবারকপুরী, পৃ. ২৯১; দা.মা.ই., ১০খ., পৃ. ২১৫; মুহাম্মাদ আমীন, পৃ. ১৩২; মাজমা আল-বুহুছ আল-ইসলামিয়্যা, ১ খ., পৃ. ৪৮৩; আল-খিদরী, পৃ. ১৫৩; ই.বি., ২২খ., পৃ. ২২৪-২২৫; আবূ যাহরা, ২খ., পৃ. ৮৮০)।
তখন রাসূলুল্লাহ (স) ছয় (ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৮; ইব্‌ন হায্য, পৃ. ২১৪; মুহাম্মাদ ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ৩৮৪) বা সাত (দা.মা.ই. ১০খ., পৃ. ২১৫) অথবা দশজন (শিবলী নু'মানী, ১খ., পৃ. ২২৪-২২৫; বুখারী, ৫খ, ১১) সাহাবীকে তাহাদের সহিত পাঠাইলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বিপক্ষে অংশগ্রহণকারীদের বর্ণনা

📄 বিপক্ষে অংশগ্রহণকারীদের বর্ণনা


বিপক্ষে অংশগ্রহণকারীদের বর্ণনা: 'আদাল ও আল-কারা গোত্র দুইটি বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করিয়া সাহাবীদিগকে (রা) মদীনা হইতে বাহির করিয়া আনিয়াছিল, আর বানু লিহয়ান তাহাদিগকে আক্রমণ করিয়াছিল। মতান্তরে তাহাদেরকে হত্যা করিবার জন্য ইঙ্গিত করিল। ইহার পর ঐ গোত্রের সকল পুরুষ তরবারি লইয়া বাহির হইল। তাহারা ছিল সংখ্যায় দুই শত। কোন কোন বর্ণনায় বলা হইয়াছে যে, তখন তাহাদের মধ্য হইতে এক শত যোদ্ধা হাতে তীর-তরবারি লইয়া বাহির হইয়া পড়িল। সাহাবীগণ (রা) সংবাদ সংগ্রহের জন্য আসিয়াছিলেন, যোদ্ধা হিসাবে নহে। আত্মরক্ষার জন্য সামান্য কিছু সরঞ্জাম ছাড়া তাঁহাদের নিকট কিছুই ছিল না। অবস্থার ভয়াবহতা উপলব্ধি করিয়া সাহাবীগণ (রা) পাহাড়ের উঁচু চূড়ায় আশ্রয় গ্রহণ করিলেন (বুখারী, ২খ, মাগাযী; গাযওয়াতুর রাজী, শিবলী নোমানী, ১খ., পৃ. ২২৫)।
শত্রু পক্ষ তাঁহাদের খুঁজিতে লাগিল। এক পর্যায়ে তাহারা এক স্থানে শুধুমাত্র মদীনা মুনাওয়ারাতে উৎপাদিত খেজুরের দানা (ইব্‌ন হাজার, ৭খ., পৃ. ৪৪০) ছড়াইয়া থাকিতে দেখিল। তাহাদের মোটেও বুঝিতে কষ্ট হইল না যে, শুধু মদীনাতে যে ধরনের খেজুর উৎপন্ন হইয়া থাকে ইহা সেই খেজুরেরই দানা। তখন তাহাদের ধারণা আরও পাকাপোক্ত হইল যে, আশেপাশে কোথায়ও মুহাম্মাদের সাথীরা আত্মগোপন করিয়া রহিয়াছেন। অবশেষে তাহারা তাঁহাদের সন্ধান পাইল। যে পাহাড়ের চূড়াতে তাঁহারা আশ্রয়গ্রহণ করিয়াছিলেন সেই স্থান অবরোধ করিল (মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবদুল ওয়াহহাব, পৃ. ৩৩৫; ইব্‌ন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৯৬৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00