📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মা'বাদ খুযাঈর আগমন

📄 মা'বাদ খুযাঈর আগমন


খুযা'আ গোত্র তখনও ইসলাম গ্রহণ করে নাই। তবে তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রাণ দিয়া ভালবাসিত। একটি সূত্রে জানা যায় যে, খুযা'আ গোত্রের সহিত রাসূলের এই মর্মে সন্ধি ছিল যে, তিহামায় যাহা কিছু ঘটিবে তাহা তাহারা রাসূল হইতে গোপন রাখিবে না। এই কারণে মুসলমানদের সহিত তাহাদের একটি হৃদ্যতা গড়িয়া উঠিয়াছিল। উহুদ প্রান্তরে মুসলমানদের বিপদের কথা শুনিয়া খুযা'আ গোত্রের সর্দার মা'বাদ ইব্‌ন আবূ মা'বাদ আল-খুযাঈ সহানুভূতি প্রদর্শনের জন্য হামরাউল আসাদে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তিনি রাসূলের খিদমতে পৌঁছিয়া বলিলেন, "মুহাম্মাদ! আপনার ও আপনার সঙ্গিগণের বিপদে আমরা মর্মান্তিক জ্বালা অনুভব করিতেছি। আমরা আশাবাদী, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে অচিরেই শত্রুদের আক্রমণ হইতে নিষ্কৃতি দান করিবেন।" উল্লেখ্য যে, মা'বাদ তখনও মুশরিক ছিলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার

📄 কুরায়শদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার


মা'বাদ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হইতে কুরায়শদের দুরভিসন্ধির কথা জানিয়া খুবই উৎকণ্ঠিত হইলেন এবং কোন ছলে ও কৌশলে কুরায়শদেরকে তাড়াইয়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে আবূ সুফয়ানের নিকট গমন করিলেন। আবূ সুফয়ান মা'বাদের নিকট মুসলমানদের অবস্থা জানিতে চাহিলে মা'বাদ বলিলেন, প্রাণ বাঁচাইতে হইলে কাল বিলম্ব না করিয়া অতি সত্বর পলায়ন কর। আমি দেখিয়া আসিয়াছি, মুহাম্মাদ বিশাল সুসজ্জিত বাহিনী লইয়া তোমাদেরকে আক্রমণ করিবার জন্য আসিতেছেন। তাঁহারা আসিয়া পড়িলে তোমাদের আর রক্ষা নাই। মুসলমানগণ এখন প্রচণ্ড ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে রহিয়াছেন। তাই আর বিলম্ব করিও না, পালাও। মুসলমানদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার প্রচণ্ডতা বুঝাইবার জন্য মা'বাদ একটি কবিতাও আবৃত্তি করিয়া শুনাইলেন।
মা'বাদের বক্তব্য শুনিয়া আবূ সুফয়ান ভীত হইয়া গেল এবং আল্লাহ তা'আলা তাহার ও তাহার সহচরদের অন্তরে চরম ভীতির সঞ্চার করিয়া দিলেন। ফলে তাহারা আর মদীনা আক্রমণের সাহস করিল না বরং ভীত হইয়া দ্রুতপদে মক্কার দিকে পলায়নের প্রস্তুতি লইল। এ সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয় কুরানের আয়াত: سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِيْنَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُوا بِاللَّهِ مَالَمْ يَنْزِلْ بِهِ سُلْطَنَا وَمَا وُهُمُ النَّارُ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّلِمِينَ.
“অচিরেই আমি কাফিরদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করিব, যেহেতু তাহারা আল্লাহ্ শরীক করিয়াছে, যাহার সপক্ষে আল্লাহ্ কোন সনদ পাঠান নাই। জাহান্নাম তাহাদের আবাস, কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল জালিমদের জন্য” (৩: ১৫১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবূ সুফ্যানের চতুরতা ও মুসলমানদের দৃঢ়তা

📄 আবূ সুফ্যানের চতুরতা ও মুসলমানদের দৃঢ়তা


মক্কার দিকে পলায়নকালে আবু কায়স গোত্রের মদীনাগামী একটি কাফেলার সহিত আবূ সুফয়ানের সাক্ষাত হইল। আবু সুফয়ান বলিল, তোমরা দয়া করিয়া আমাদের উপকারার্থে একটি কাজ করিও। তাহা হইলে আমরা আগামী দিন উকায বাজারে তোমাদেরকে বিনিময়স্বরূপ একটি উট বোঝাই কিসমিস দান করিব। কাজটি হইল, তোমরা মুহাম্মাদের সহিত সাক্ষাত করিয়া তাঁহাকে এই বলিয়া ভীত করিয়া দিও যে, কুরায়শগণ মুসলমানদেরকে সমূলে ধ্বংস করিবার জন্য বিরাট সমরায়োজন করিয়াছে। শীঘ্রই তাহারা মদীনা আক্রমণ করিবে। আবূ কায়স গোত্রের লোকজন যখন মুসলমানদের এই ভীতিপ্রদ সংবাদ শুনাইল তখন মুসলমানগণ দৃঢ় কণ্ঠে সমস্বরে উত্তর করিলেনঃ حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ. "আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্ম-বিধায়ক” (৩: ১৭৩)।
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) বলেন, "আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট" এই উক্তিটি আল্লাহ্র প্রতি আস্থা ও নির্ভরতার এমন একটি ঘোষণা যাহা হযরত ইবরাহীম (আ) বলিয়াছিলেন যখন তাঁহাকে নমরূদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হইয়াছিল। আর ইহা বলিয়াছিলেন হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাহাবীগণ, যখন তাঁহাদেরকে হামরাউল আসাদে কুরায়শ বাহিনীর ভয় প্রদর্শন করা হইয়াছিল। ইহার ফলে তাঁহাদের ঈমান আরও বহু গুণ বাড়িয়া গেল। এ সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়:
الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيْمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.
"ইহাদেরকে লোকে বলিয়াছিল, তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হইয়াছে। সুতরাং তোমরা তাহাদেরকে ভয় কর। কিন্তু ইহা তাহাদের (মুসলমানদের) বিশ্বাস দৃঢ়তর করিয়াছিল। তাহারা বলিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্মবিধায়ক” (৩:১৭৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হামরাউল আসাদ বাজারে ব্যবসা ও মুনাফা অর্জন

📄 হামরাউল আসাদ বাজারে ব্যবসা ও মুনাফা অর্জন


প্রাচীন কাল হইতেই হামরাউল আসাদে আরবদের মৌসুমী বাজার বসিত। এই সময়টি ছিল বাজারের মৌসুম। বিভিন্ন বণিক কাফেলা বিচিত্র পণ্যসম্ভার লইয়া তাই এখানে সমবেত হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের নিকট হইতে বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য পাইকারী মূল্যে ক্রয় করিয়া তাহা খোলা বাজারে খুচরা বিক্রয় করিলে আল্লাহর অনুগ্রহে ইহা হইতে প্রচুর মুনাফা অর্জিত হইল। তিনি সমস্ত মুনাফা সাহাবীগণের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
فَانْقَلَبُوا بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ لَّمْ يَمْسَسْهُمْ سُوءٌ وَاتَّبَعُوا رِضْوَانَ اللَّهِ وَاللَّهُ ذُو فَضْلِ عظيم
"তারপর তাহারা আল্লাহ্ অবদান ও অনুগ্রহসহ ফিরিয়া আসিয়াছিল, অনিষ্ট তাহাদেরকে স্পর্শ করে নাই এবং আল্লাহ যাহাতে রাযী তাহারা তাহাই অনুসরণ করিয়াছিল। আল্লাহ্ মহাঅনুগ্রহশীল” (৩: ১৭৪)।
তাফসীর রূহুল মা'আনীতে পণ্যদ্রব্য ক্রয় ও লাভবান হওয়ার ঘটনা এখানেই সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে এবং ইহাই অধিকাংশ মুফাসসিরের মত বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে। ইহার এক বৎসর পর 'বদর সুগ্রার অভিযানেও অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটিয়াছিল। কিন্তু সেই ঘটনাটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। কুরআনে তাহার উল্লেখ নাই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00