📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মদীনা হইতে যুদ্ধযাত্রা

📄 মদীনা হইতে যুদ্ধযাত্রা


১৬ শাওয়াল রবিবার। রাসূলুল্লাহ (স) উহুদে অংশগ্রহণকারী সাহাবাগণকে সঙ্গে লইয়া পূর্ব ঘোষণানুসারে কুরায়শদের পশ্চাদ্ধাবনের উদ্দেশ্যে মদীনা হইতে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি লইলেন। তিনি হযরত ছাবিত ইবনুদ্‌ দাহ্হাক (রা)-কে রাহবার (পথপ্রদর্শক) এবং হযরত আলী, মতান্তরে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-কে পতাকাধারী নিযুক্ত করিলেন। রসদপত্রের মধ্যে ছিল হযরত সা'দ ইব্‌ন উবাদা (রা) প্রদত্ত ত্রিশটি উট সওয়ারী হিসাবে আর কিছু পশু কাফেলার আহারের জন্য। মুসলমান সৈন্যের সংখ্যা ছিল উহুদ ফেরত ছয় শত ত্রিশজন।
রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা হইয়া গেলেন। উহুদে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজনও বাদ থাকিলেন না। হযরত জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ (রা) তাঁহার পিতার আদেশে তাঁহার সাতটি বোনের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত থাকায় উহুদে শরীক হইতে পারেন নাই। তাঁহার পিতা উহুদে শাহাদাত লাভ করেন। এইবার যুদ্ধযাত্রার ঘোষণা শুনিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া যুদ্ধে যাইবার অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) শুধু তাঁহার প্রার্থনা মঞ্জুর করিলেন। হযরত জাবির (রা) বলেন, মুজাহিদদের মধ্যে কেবল আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে পূর্ব দিনের যুদ্ধে (উহুদে) শরীক ছিল না।
মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইব্‌ন উবাই ইতোপূর্বে উহুদ যুদ্ধে যাত্রাপথ হইতে ফিরিয়া গিয়াছিল। সেও দরবারে রিসালাতে হাযির হইয়া এই যুদ্ধে শরীক হইবার অনুমতি চাহিল। মহানবী (স) তাহার প্রার্থনা নামঞ্জুর করিলেন।
মদীনার শাসনভার হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন উম্মে মাকতূম (রা)-এর উপর ন্যস্ত করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) রওয়ানা হইলেন। আঘাত জর্জরিত দেহ লইয়া মহানবী (স) ও সাহাববীগণ অতিকষ্টে পথ চলিতেছিলেন। যন্ত্রণা, ক্লান্তি ও দৌর্বল্যের কারণে তাঁহাদের পায়ে হাঁটার শক্তি নাই। আল্লাহ তা'আলা তাঁহাদেরকে উৎসাহ দান করিয়া ইরশাদ করিলেন:
وَلَا تَهِنُوا فِي ابْتِغَاءِ الْقَوْمِ إِنْ تَكُونُوا تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَالْمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ وَتَرْجُونَ مِنَ اللهِ مَا لَا يَرْجُونَ وَكَانَ اللهُ عَلِيمًا حَكِيمًا.
"শত্রু সম্প্রদায়ের সন্ধানে তোমরা হতোদ্যম হইও না। যদি তোমরা যন্ত্রণা পাও, তবে তাহারাও তো তোমাদের মতই যন্ত্রণা পায় এবং আল্লাহর নিকট তোমর। যাহা আশা কর, উহারা তাহা আশা করে না; আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়" (৪: ১০৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হামরাউল আসাদে শিবির স্থাপন

📄 হামরাউল আসাদে শিবির স্থাপন


রাসূলুল্লাহ (স) হামরাউল আসাদে পৌঁছিয়া শিবির স্থাপন করিলেন। কাফিরদেরকে ভয় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রত্যেক রাত্রিতে মুসলমানগণ অগ্নিকুণ্ডলী প্রজ্জ্বলিত করিয়া রাখিতেন। অগ্নি কুণ্ডলীর আলোয় বহু দূর আলোকিত হইয়া পড়িত। দূর হইতে মনে হইত যেন সেখানে সহস্র সহস্র সৈন্যবাহিনী অবস্থান করিতেছে। প্রতি দিন এইরূপ পাঁচ শত অগ্নিকুণ্ডলী প্রজ্জ্বলিত করা হইত। ইহা ছিল রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর একটি দূরদর্শী রণকৌশল। ইহাতে আরও একটি উপকার ছিল এই যে, প্রত্যেক সাহাবীই কিছু না কিছু আহত ছিলেন। তাঁহারা এই আগুন দ্বারা নিজেদের ক্ষত স্থানটি সে'ক দিতেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মা'বাদ খুযাঈর আগমন

📄 মা'বাদ খুযাঈর আগমন


খুযা'আ গোত্র তখনও ইসলাম গ্রহণ করে নাই। তবে তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রাণ দিয়া ভালবাসিত। একটি সূত্রে জানা যায় যে, খুযা'আ গোত্রের সহিত রাসূলের এই মর্মে সন্ধি ছিল যে, তিহামায় যাহা কিছু ঘটিবে তাহা তাহারা রাসূল হইতে গোপন রাখিবে না। এই কারণে মুসলমানদের সহিত তাহাদের একটি হৃদ্যতা গড়িয়া উঠিয়াছিল। উহুদ প্রান্তরে মুসলমানদের বিপদের কথা শুনিয়া খুযা'আ গোত্রের সর্দার মা'বাদ ইব্‌ন আবূ মা'বাদ আল-খুযাঈ সহানুভূতি প্রদর্শনের জন্য হামরাউল আসাদে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তিনি রাসূলের খিদমতে পৌঁছিয়া বলিলেন, "মুহাম্মাদ! আপনার ও আপনার সঙ্গিগণের বিপদে আমরা মর্মান্তিক জ্বালা অনুভব করিতেছি। আমরা আশাবাদী, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে অচিরেই শত্রুদের আক্রমণ হইতে নিষ্কৃতি দান করিবেন।" উল্লেখ্য যে, মা'বাদ তখনও মুশরিক ছিলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার

📄 কুরায়শদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার


মা'বাদ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হইতে কুরায়শদের দুরভিসন্ধির কথা জানিয়া খুবই উৎকণ্ঠিত হইলেন এবং কোন ছলে ও কৌশলে কুরায়শদেরকে তাড়াইয়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে আবূ সুফয়ানের নিকট গমন করিলেন। আবূ সুফয়ান মা'বাদের নিকট মুসলমানদের অবস্থা জানিতে চাহিলে মা'বাদ বলিলেন, প্রাণ বাঁচাইতে হইলে কাল বিলম্ব না করিয়া অতি সত্বর পলায়ন কর। আমি দেখিয়া আসিয়াছি, মুহাম্মাদ বিশাল সুসজ্জিত বাহিনী লইয়া তোমাদেরকে আক্রমণ করিবার জন্য আসিতেছেন। তাঁহারা আসিয়া পড়িলে তোমাদের আর রক্ষা নাই। মুসলমানগণ এখন প্রচণ্ড ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে রহিয়াছেন। তাই আর বিলম্ব করিও না, পালাও। মুসলমানদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার প্রচণ্ডতা বুঝাইবার জন্য মা'বাদ একটি কবিতাও আবৃত্তি করিয়া শুনাইলেন।
মা'বাদের বক্তব্য শুনিয়া আবূ সুফয়ান ভীত হইয়া গেল এবং আল্লাহ তা'আলা তাহার ও তাহার সহচরদের অন্তরে চরম ভীতির সঞ্চার করিয়া দিলেন। ফলে তাহারা আর মদীনা আক্রমণের সাহস করিল না বরং ভীত হইয়া দ্রুতপদে মক্কার দিকে পলায়নের প্রস্তুতি লইল। এ সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয় কুরানের আয়াত: سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِيْنَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُوا بِاللَّهِ مَالَمْ يَنْزِلْ بِهِ سُلْطَنَا وَمَا وُهُمُ النَّارُ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّلِمِينَ.
“অচিরেই আমি কাফিরদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করিব, যেহেতু তাহারা আল্লাহ্ শরীক করিয়াছে, যাহার সপক্ষে আল্লাহ্ কোন সনদ পাঠান নাই। জাহান্নাম তাহাদের আবাস, কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল জালিমদের জন্য” (৩: ১৫১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00