📄 বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (স) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের বিশেষ মর্যাদার কথা ঘোষণা করিয়াছেন। দুইটি ঘটনার দ্বারা জানা যায় যে, তাঁহাদের অগ্র-পশ্চাতের সকল গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করিয়াছেন এবং জান্নাতুল ফিরদাওস তাঁহাদের জন্য নির্ধারণ করা হইয়াছে।
(১) আনাস (রা) কর্তৃক বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধের দিন হারিছা ইব্ন সুরাকা শাহাদাত লাভ করেন। তাঁহার মাতা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ও হারিহার অবস্থান সম্পর্কে আপনি অবগত আছেন। সে যদি জান্নাতী হয় তবে আমি সবর করিব এবং ছওয়াবের আশা করিব। আর যদি অন্য কিছু হয় তবে দেখিবেন আমি কি করি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, ধিক তোমাকে! তুমি কি বলিতেছ? সে কি একটি জান্নাতে থাকিবে? সে বহু জান্নাতে থাকিবে এবং জান্নাতুল ফিরদাওসে (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, কিতাবুল মাগাযী, বাব ফাদল্লি মান শাহিদা বাদরান, হাদীছ নং ৩৯৮২)। এক রিওয়ায়াত অনুসারে রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন, তোমার পুত্র সর্বোচ্চ জান্নাত আল-ফিরদাওস লাভ করিয়াছে (ইব্ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ৩২৯)। উল্লেখ্য যে, হারিছা (রা) হাউয হইতে পানি পান করার সময় একটি তীর আসিয়া তাঁহার কণ্ঠনালীতে বিদ্ধ হয়। ফলে তিনি শহীদ হন। তাঁহার যদি এত মর্যাদা হয় তবে যাঁহারা সম্মুখ সমরে প্রাণপণে যুদ্ধ করিয়াছেন তাঁহাদের কত মর্যাদা।
(২) মক্কা বিজয়ের বৎসর বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী হাতিব ইব্ন আৰী বালতা'আ (রা) মদীনার মুসলমানদের কিছু সংবাদ ও সিদ্ধান্ত একটি কাগজে লিখিয়া গোপনে বাহকের মাধ্যমে মক্কার কাফিরদের নিকট প্রেরণ করেন। তাঁহার উদ্দেশ্য ছিল, এই সংবাদের ফলে মুসলমানদের কোনও ক্ষতি হইবে না। তবে মক্কায় অবস্থিত তাঁহার পরিবার-পরিজন কাফিরদের নিকট হইতে কিছুটা সহানুভূতি লাভ করিবে। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ হইতে রাসূলুল্লাহ (স) এই সংবাদ অবহিত হইয়া আলী (রা)-সহ তিনজন সাহাবীকে উক্ত পত্র উদ্ধারকল্পে প্রেরণ করেন। 'তাঁহারা রাওদা খাখ' নামক স্থান হইতে এক মহিলার চুলের বেণীর মধ্য হইতে উহা উদ্ধার করিয়া ফেরত আসিলে উমার (রা) রাগান্বিত হইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন, তাহার গর্দান উড়াইয়া দেই। কারণ সে আল্লাহ, তাঁহার রাসূল ও মুমিনদের খেয়ানত করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, সে কি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নহে? আল্লাহ হয়তবা বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীর দিকে তাঁকাইয়া বলিবেন, তোমরা যাহা ইচ্ছা কর, আমি তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত করিয়া দিয়াছি অথবা-তিনি বলিবেন, আমি তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়া দিয়াছি। অতঃপর উমর (রা)-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হইয়া উঠিল। তিনি বলিলেন, আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল ভাল জানেন (আল-বুখারী, আস-সাহীহ)।
রাফে' আয-যুরাকী, যাঁহার পিতা বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, তিনি বলেন, জিবরীল (আ) একদা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের আপনারা আপনাদের মধ্যে কিরূপ মর্যাদা দেন? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমরা তাহাদিগকে সর্বোত্তম মুসলমানের মর্যাদা দেই অথবা তিনি এই ধরনের কিছু বলেন। জিবরীল (আ) বলিলেন, ফেরেশতাদের মধ্যে যাঁহারা বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তাঁহাদের অবস্থাও অনুরূপ (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ৩২৯)।
📄 নিহত কুরায়শদের তালিকা
প্রসিদ্ধ বর্ণনামতে এই যুদ্ধে কুরায়শদের ৭০ ব্যক্তি নিহত হয়। নিম্নে তাহাদের নাম ও তাহাদের হত্যাকারীদের নামের তালিকা প্রদত্ত হইল: ১। হানজালা ইব্ন আবী সুয়ান- হত্যাকারী যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)। ২। আল-হারিছ ইবনুল হাদরামী- আন-'নুমান ইব্ন আমর (রা)। ৩। 'আমের ইবনুল হাদরামী- আম্মার ইন্ন ইয়াসির (রা)। ৪। উমায়র ইবন আবী উমায়র ও তাহার (৫) পুত্র সালিম (রা) মাওলা আবী হুযায়ফা। ৬। উবায়দা ইন্ন সাঈদ ইবনুল আস-আয-যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রা)।
৭। আল-'আস ইব্ন সাঈদ ইব্নুল আস—আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
৮। উকবা ইব্ন আবী মু'আয়ত— আসিম ইব্ন ছাবিত ইব্নুল আফলাহ (রা), এক বর্ণনামতে আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
৯। উতবা ইব্ন রাবী'আ ইব্ন আব্দ শামস—উবায়দা ইবনুল হারিছ ইবনুল মুত্তালিব, হামযা ও আলী (রা)-ও এই হত্যায় অংশগ্রহণ করেন।
১০। শায়বা ইব্ন রাবী'আ ইব্ন আব্দ শামস—হামযা ইব্ন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
১১। আল-ওয়ালীদ ইব্ন উতবা ইব্ন রাবী'আ—'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
১২। 'আমের ইব্ন 'আবদিল্লাহ—আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
১৩। আল-হারিছ ইব্ন আমের ইব্ন নাওফাল—খুবায়ব ইব্ন ইসাফ (রা)।
১৪। তু'আয়মা ইব্ন আদী ইব্ন নাওফাল—আলী ইব্ন আবী তালিব (রা), এক বর্ণনামতে হামযা ইব্ন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
১৫। যাম'আ ইবনুল আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিব—নাবত ইব্ন জিয়', এক বর্ণনামতে হামযা, 'আলী ও ছাবিত (রা) ইহাতে শরীক ছিলেন।
১৬। আল-হারিছ ইব্ন যাম'আ—'আম্মার ইব্ন ইয়াসির (রা)।
১৭। 'আকীল ইবনুল আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিব—হামযা ও আলী (রা) সম্মিলিতভাবে।
১৮। আবুল বাখতারী আল-'আস ইব্ন হিশাম—আল-মুজাযয্যির ইব্ন যিয়াদ আল-বালাবী (রা)।
১৯। নাওফাল ইব্ন খুওয়ায়লিদ ইব্ন আসাদ—'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
২০। আন-নাদর ইবনুল হারিছ ইব্ন কালদা—আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
২১। যায়দ ইব্ন মুলায়স, উমায়র ইব্ন হাশিমের ক্রীতদাস—বিলাল ইব্ন রাবাহ (রা), এক বর্ণনামতে মিকদাদ ইব্ন আওফ (রা)।
২২। 'উমায়র ইব্ন 'উছমান ইব্ন 'আমর—আলী ইব্ন আবী তালিব (রা), এক বর্ণনামতে আবদুর রাহমান ইব্ন 'আওফ (রা)।
২৩। 'উছমান ইব্ন মালিক ইব্ন 'উবায়দিল্লাহ—সুহায়ল ইব্ন সিনান (রা)।
২৪। আবূ জাহল ইব্ন হিশাম— মু'আয ইব্ন 'আমর ইবনুল জামূহ তাহার পা কর্তন করেন। মু'আওবিষ ইব্ন আফরা তাহাকে ধরাশায়ী ও বেহুঁশ করিয়া ফেলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ তাহার মস্তক বিচ্ছিন্ন করিয়া ফেলেন।
২৫। আল-আস ইব্ন হিশাম—উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)।
২৬। ইয়াযীদ ইব্ন 'আবদিল্লাহ—আম্মার ইব্ন ইয়াসির (রা)।
২৭। আবু মুসাফি' আল-আশ'আরী—আবূ দুজানা আস-সাইদী (রা)।
২৮। হারমালা ইব্ন 'আমর— খারিজা ইব্ন যায়দ (রা), এক বর্ণনামতে আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
২৯। মাস'উদ ইব্ন আবী উমায়্যা- 'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
৩০। আবু কায়স ইবনুল ওয়ালীদ-ইবনুল মুগীরা—হামযা ইবন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
৩১। আবূ কায়س ইবনুল ফাকিহ ইবনুল মুগীরা— আলী ইব্ন আবী তালিব (রা), এক বর্ণনামতে আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)।
৩২। রিদা'আ ইব্ন আবী রিদা'আ ইবন 'আবিদ—সা'দ ইবনুর রাবী' (রা)।
৩৩। আল-মুনযির ইব্ন আবী রিফা'আ ইবন 'আবিদ—মা'ন ইবন 'আদী ইবনুল জাদ্দ (রা)।
৩৪। আবদুল্লাহ ইব্দুল মুনযির ইব্ন আবী রিফা'আ—'আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
৩৫। আস-সাইব ইব্ন আবিস সাইব ইবন 'আবিদ—আয-যুবায়র ইবনুল 'আওওয়াম (রা)।
৩৬। আল-আসওয়াদ ইব্ন আবদিল আসাদ—হামযা ইবন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
৩৭। হাজিব ইবনুস সাইব ইবন 'উওয়ায়মির—আলী ইবন আবী তালিব (রা)।
৩৮। 'উওয়ায়মির ইবনুস সাইব ইবন 'উওয়ায়মির— আন-নু'মান ইবন মালিক আল-কাওকালী (রা)।
৩৯। 'আমর ইব্ন সুফ্যান-ইয়াযীদ ইব্ন রুকায়শ (রা)।
৪০। জাবির ইবন সুফ্যান-আবূ বুরদা ইব্ন নিয়ার (রা)।
৪১। মুনাব্বিহ ইবনুল হাজ্জাজ ইবন 'আমের-আবুল ইয়াসার (রা)।
৪২। 'আস ইব্ন মুনাব্বিহ ইবনুল হাজ্জাজ— আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)।
৪৩। নুবায়h ইবনুল হাজ্জাজ ইবন আমের— হামযা ইবন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
৪৪। আবুল 'আস ইব্ن কায়س ইব্ন 'আদী—আলী ইব্ন আবী তালিব (রা), এক বর্ণনামতে আন-নু'মান ইবন মালিক আল-কাওকালী, মতান্তরে আবূ দুজানা (রা)।
৪৫। 'আসিম ইব্ن 'আওف ইব্ন দুবায়রা— আবুল ইয়াসার (রা)।
৪৬। উমায়্যা ইব্ন খালাফ— আনসারদের মাযিন গোত্রের জনৈক সাহাবী, এক বর্ণনামতে মু'আওবিয ইব্ন 'আফরা, খারিজা ইব্ন যায়দ ও খুবায়ব ইবন ইসাফ (রা) সম্মিলিতভাবে।
৪৭। 'আলী ইবন উমায়্যা ইব্ন খালাফ-আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)।
৪৮। আওস ইব্ন মি'য়ার ইব্ন লাওযান- আলী ইব্ন আবী তালিব (রা), অপর এক বর্ণনামতে আল-হাসায়ম ইবনুল হারিছ ও উছমান ইবন মাজউন (রা) সম্মিলিতভাবে।
৪৯। মু'আবিয়া ইব্ন 'আমের- আলী ইব্ন আবী তালিব (রা), অপর এক বর্ণনামতে উক্বাশা ইব্ن মিহসান (রা)।
৫০। মা'বাদ ইব্ন ওয়াহ্হ্ব-খালিদ ও ইয়াস ইবনুল বুকায়ر ভ্রাতৃদ্বয়, এক বর্ণনামতে আবূ দুজানা আনসারী (রা) (ইব্ন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ৩৪৭-৫২)। ইব্ন ইসহাক উক্ত ৭০ জনের মধ্যে নামোল্লেখ করেন নাই এমন আরও কয়েকজনের নাম হইল :
৫১। ওয়াহ্ ইবনুল হারিছ।
৫২। আমের ইব্ن যায়د।
৫৩। উকবা ইব্ন যায়د।
৫৪। 'উমায়r।
৫৫। নুবায়h ইب্ن যায়d ইب্ن মুলায়س।
৫৬। 'উবায়d ইব্ن সালীত।
৫৭। মালিক ইবন উবায়dillah— তালহা ইব্ن 'উবায়dillah (রা)-এর ভ্রাতা। তাহাকে বন্দী করা হইয়াছিল। এই অবস্থায় সে মারা যায়। তাহাকেও নিহতদের মধ্যে গণ্য করা হয়।
৫৮। 'আমর ইব্ن 'আবdillah ইব্ن জুd'আন।
৫৯। হুযায়ফা ইব্ن ابی হুযায়فا ইবনুল মুগীরা— সা'د ইব্ن ابی ওয়াক্কاس (রা) তাহাকে হত্যা করেন।
৬০। হিশাম ইব্ن ابی হুযায়ফা ইবনুল-মুগীরা— সুহায়b ইب্ن সিনান (রা) তাহাকে হত্যা করেন।
৬১। যুহায়r ইب্ن ابی রিফা'আ— ابূ উসায়d মালিক ইব্ن রাবী'আ (রা) তাহাকে হত্যা করেন।
৬২। আস-সাইb ইব্ن ابی রিফা'আ—'আবdুর রাহমান ইب্ن আওف (রা)।
৬৩। 'আইd ইবনুس সাইb ইব্ن 'উওয়ায়মির—সে বন্দী হয়। মুক্তিপণ দিয়া মুক্ত হইয়া রওয়ানা হইলে পথিমধ্যে যুদ্ধের ময়দানে প্রাপ্ত আঘাতের কারণে সে মারা যায়। আঘাতটি করিয়াছিলেন হামযা ইব্ন আবdিল মুত্তালিব (রা)।
৬৪। উমায়r।
৬৫। খিয়ার।
৬৬। সাবুরা ইব্ن মালিক।
৬৭। আল-হারিছ ইব্ن মুনাব্বিh ইবনুল হাজ্জাজ— সুহায়rb ইব্ন সিনান (রা)।
৬৮। 'আমের ইব্ن 'আওf ইব্ن দুবায়রা— 'আবdullah ইব্ন সালামা আল-আজলানী (রা), মতান্তরে ابূ দুজানা (রা) তাহাকে হত্যা করেন (ইব্ন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ৩৫৩-৫৪)।
বন্দী কাফিরদের মধ্যে পরবর্তী কালে ইসলাম গ্রহণকারীদের তালিকা :
বদর যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে যাহারা বন্দী হইয়াছিলেন পরবর্তী কাল তাহাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খালিস মুমিন হিসাবে বাকী জীবন অতিবাহিত করেন। তাহারা হইলেন :
১। রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচা আল-'আব্বাস ইব্ن 'আবdিল মুত্তালিব (রা)।
২। আকীল ইব্ن ابی তালিব (রা), আলী (রা)-এর ভ্রাতা।
৩। নাওফাল ইবনুল হারিছ (রা)।
৪। আবুল আস ইবনুর রাবী' (রা), রাসূলুল্লাহ (স)-এর জামাতা।
৫। ابূ 'আযীz যুরারা ইব্ন উমায়r আল-আবdারী (রা)।
৬। আস-সাইb ইব্ن ابی হুবায়s (রা)।
৭। খালিd ইব্ن হিশাম আল-মাখযূমী (রা)।
৮। 'আবdullah ইব্ন ابیs সাইb (রা)।
৯। আল-মুত্তালিb ইব্ন হানতাব (রা)।
১০। ابূ ওয়াদা'আ আস-সাহমী (রা)।
১১। 'আবdullah ইব্ন উবাই ইব্ن খালাf আল-জুমাহী (রা)।
১২। ওয়াহ্h ইব্ن উমায়r আল-জুমাহী (রা)।
১৩। সুহায়l ইব্ন আমর আল-আমিরী (রা)।
১৪। উম্মুল মুমিনীন সাওদা বিনt যাম'আ (রা)-এর ভ্রাতা 'আবdullah ইব্ن যাম্'আ (রা)।
১৫। কায়s ইবনুs সাইb (রা)।
১৬। নিসতাস (রা) মাওলা উমায়্যা ইব্ن খালাf।
১৭। আস-সাইb ইব্ন উবায়d (রা), বদr যুদ্ধের পরই নিজের মুক্তিপণ আদায় করিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন।
১৮। আদিয়্যি ইবনুল খিয়ার।
১৯। আল-ওয়ালীd ইবনুল মুগীরা, তাহার ভ্রাতা হিশাম ও খালিd মুক্তিপণ দিয়া তাহাকে মুক্ত করে। মুক্ত হওয়ার পরপরই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইহাতে তাহারা তাহাকে তিরস্কার করিলে তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে লোকজন এই ধারণা করিবে যে, আমি বন্দীত্বের ফলে ঘাবড়াইয়া গিয়া ইসলাম গ্রহণ করিয়াছি। ইহা আমি ভাল মনে করি নাই বিধায় বন্দী অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করি নাই। এই অপরাধে তাহার মামার বংশ তাহাকে আটক রাখে। রাসূলুল্লাহ (স) কুনূতের মধ্যে তাহার জন্য দু'আ করেন। অতঃপর সেখান হইতে মুক্ত হইয়া তিনি উমরাতুল কাযার সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আসিয়া মিলিত হন (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৭৮-৭৯)।
📄 বন্দী কাফিরদের মধ্যে পরবর্তী কালে ইসলাম গ্রহণকারীদের তালিকা
বদর যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে যাহারা বন্দী হইয়াছিলেন পরবর্তী কাল তাহাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খালিস মুমিন হিসাবে বাকী জীবন অতিবাহিত করেন। তাহারা হইলেন :
১। রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচা আল-'আব্বাস ইবন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
২। আকীল ইব্ন আবী তালিব (রা), আলী (রা)-এর ভ্রাতা।
৩। নাওফাল ইবনুল হারিছ (রা)।
৪। আবুল আস ইবনুর রাবী' (রা), রাসূলুল্লাহ (স)-এর জামাতা।
৫। আবূ 'আযীয যুরারা ইবন উমায়র আল-আবদারী (রা)।
৬। আস-সাইব ইব্ন আবী হুবায়শ (রা)।
৭। খালিদ ইব্ন হিশাম আল-মাখযূমী (রা)।
৮। 'আবদুল্লাহ ইব্ন আবিস সাইব (রা)।
৯। আল-মুত্তালিব ইব্ন হানতাব (রা)।
১০। আবূ ওয়াদা'আ আস-সাহমী (রা)।
১১। আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইব্ন খালাফ আল-জুমাহী (রা)।
১২। ওয়াহ্হ্ব ইবন উমায়র আল-জুমাহী (রা)।
১৩। সুহায়ল ইবন আমর আল-আমিরী (রা)।
১৪। উম্মুল মুমিনীন সাওদা বিন্ত যাম'আ (রা)-এর ভ্রাতা 'আবদুল্লাহ ইব্ন যাম্'আ (রা)।
১৫। কায়স ইবনুস সাইব (রা)।
১৬। নিসতাস (রা) মাওলা উমায়্যা ইব্ন খালাফ।
১৭। আস-সাইব ইবন উবায়দ (রা), বদর যুদ্ধের পরই নিজের মুক্তিপণ আদায় করিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন।
১৮। আদিয়্যি ইবনুল খিয়ার।
১৯। আল-ওয়ালীদ ইবনুল মুগীরা, তাহার ভ্রাতা হিশাম ও খালিদ মুক্তিপণ দিয়া তাহাকে মুক্ত করে। মুক্ত হওয়ার পরপরই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইহাতে তাহারা তাহাকে তিরস্কার করিলে তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে লোকজন এই ধারণা করিবে যে, আমি বন্দীত্বের ফলে ঘাবড়াইয়া গিয়া ইসলাম গ্রহণ করিয়াছি। ইহা আমি ভাল মনে করি নাই বিধায় বন্দী অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করি নাই। এই অপরাধে তাহার মামার বংশ তাহাকে আটক রাখে। রাসূলুল্লাহ (স) কুনূতের মধ্যে তাহার জন্য দু'আ করেন। অতঃপর সেখান হইতে মুক্ত হইয়া তিনি উমরাতুল কাযার সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আসিয়া মিলিত হন।