📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মক্কায় পরিজনদের নিকট বদরের সংবাদ ও আবু লাহাবের মৃত্যু

📄 মক্কায় পরিজনদের নিকট বদরের সংবাদ ও আবু লাহাবের মৃত্যু


বদর যুদ্ধে মুশরিকদের শোচনীয় পরাজয়ের বিপর্যয়কর সংবাদ মক্কায় পৌছিলে মক্কাবাসীরা খুব ভাঙ্গিয়া পড়ে। মূসা ইব্‌ন্ন উকবার বর্ণনামতে, এই সংবাদ মক্কায় পৌছিলে মহিলারা মাথার চুল কাটিয়া ফেলে; বহু ঘোড়া ও বাহনের পা কাটিয়া ফেলা হয় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ৩০৮)। আল-কাসিম ইব্‌ন ছাবিত তাহার দালাইল গ্রন্থে সুলায়মান ইব্‌ন আবদিল আযীয ইব্‌ন ছাবিত সূত্রে বর্ণনা করেন যে, বদর যুদ্ধ যেদিন সংঘটিত হয় সেই দিন মক্কার উচ্চভূমিতে নেপথ্য হইতে এই কবিতাগুলি শোনা গিয়াছিল:
ازار الحنيفيون بدرا وقيعة + سينقض منها ركن كسرى وقيصرا ابادت رجالا من لؤى وأبرزت + خرائد يضربن الترائب حسرا + لقد جار عن قصد الهدى وتحيراً . فياويح من أمسى عدو محمد
“একত্ববাদিগণ বদর যুদ্ধে এমন অবস্থার সম্মুখীন করিয়াছেন যাহার ফলে অতি সত্ত্বর কিসরা ও কায়সার-এর প্রাসাদ চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া যাইবে। লুআই-এর বহু পুরুষকে তাহারা হত্যা করিয়াছে এবং কুমারী মহিলাকে প্রকাশ্যে আনয়ন করিয়াছে, যাহারা মুখমণ্ডল হইতে ওড়না খোলা অবস্থায় বুকের হাঁড় পদদলিত করিয়াছে। হায় আফসোস! যে মুহাম্মাদের শত্রু হইয়াছে সে হিদায়াতের ইচ্ছা হইতে সরিয়া গিয়াছে এবং পেরেশান হইয়াছে” (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৬৬; ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ৩০৮)।

মক্কায় সর্বপ্রথম বদর যুদ্ধে মুশরিকদের বিপর্যয়ের সংবাদ পৌঁছান আল-হায়সুমান ইব্‌ন আবদিল্লাহ ইব্‌ন ইয়াস আল-খুযাঈ (পরবর্তী কালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন)। তিনি মক্কায় পৌছিলে লোকজন তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, সেখানে কি হইয়াছে? তিনি বলিলেন, সেখানে নিহত হইয়াছে উতবা ইব্‌ন রাবী'আ, শায়বা ইবন রাবী'আ, আবুল হাকাম ইব্‌ন হিশাম (আবূ জাহল), উমায়‍্যা ইব্‌ন খালাফ, যাম'আ ইবনুল আসওয়াদ, নুবায়হ ও মুনাব্বিহ ইবনুল হাজ্জাজ, আবুল-বাখতারী ইব্‌ন হিশাম। তিনি যখন কুরায়শ নেতৃবৃন্দের নাম এক এক করিয়া গণনা করিতেছিলেন তখন হারাম শরীফে উপবিষ্ট সাফওয়ান ইবন উমায়‍্যা বলিল, আল্লাহ্ কসম! এই লোকটির বুদ্ধি যদি ঠিক থাকে তবে তাহাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর। তাহারা বলিল, সাফওয়ান ইবন উমায়‍্যা কি করিয়াছে? হায়সুমান বলিলেন, সে তো এইখানে হারাম শরীফে বসিয়া আছে। আল্লাহ্র কসম! আমি তাহার পিতা ও ভ্রাতাকে নিহত হইতে দেখিয়াছি (সুবুলুল হুদা, ৪খ., পৃ. ৬৬; ইব্‌ন্ন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ২৮৮; তারীখ তাবারী ২খ., পৃ. ৪৬১)।

রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচাতো ভাই আবূ সুফয়ান ইবনুল হারিছ ইব্‌ন আবদিল মুত্তালিবও এই সংবাদ মক্কায় পৌঁছান। এই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্ত দাস আবু রাফে' (রা) হইতে দীর্ঘ একটি রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি আব্বাস ইব্‌ন আবদিল মুত্তালিবের দাস ছিলাম। আমাদের আহলে বায়ত-এর মধ্যে পূর্বেই ইসলাম প্রবেশ করিয়াছিল। উম্মুল ফাদল ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং আমিও। আব্বাস তাঁহার কওমকে ভয় করিতেন এবং তাহাদের বিরোধিতা করা অপছন্দ করিতেন। তাহার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তিনি গোপন রাখিয়াছিলেন। তিনি বহু সম্পদের মালিক ছিলেন যাহা তাহার কওমের মধ্যে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। আবু লাহাব বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নাই। সে তাহার পরিবর্তে আল-আস ইব্‌ন হিশামকে পাঠাইয়াছিল। বদরের বিপর্যয়কর সংবাদ দ্বারা আল্লাহ তাহাকে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করেন। আর আমরা উহাতে মনে মনে উৎসাহ বোধ করিলাম।
আমি একজন দুর্বল লোক ছিলাম। আমি তীর বানানোর কাজ করিতাম। যমযমের নিকটস্থ একটি কুঠরিতে উহা ঠিক করিতাম। আল্লাহ্র কসম! আমি সেখানে বসিয়া আমার তীর ঠিক করিতেছিলাম। উম্মুল ফাদল আমার নিকট বসা ছিলেন। আমাদের নিকট যে সংবাদ পৌছিয়াছিল তাহাতে আমরা আনন্দিত ছিলাম। এমন সময় আবু লাহাব খুব খারাপ মনোভাব লইয়া হেঁচড়াইতে হেঁচড়াইতে আমাদের দিকে আসিল। সে কুঠরির কিনারায় আসিয়া বসিল। তাহার পিঠ আমার পিঠের দিকে ছিল। সে উপবিষ্ট থাকিতেই লোকজন বলিয়া উঠিল, এই যে আবূ সুফ্যান ইবনুল হারিছ ইব্‌ন আবদিল মুত্তালিব আসিয়াছে। আবু লাহাব বলিল, আমার নিকট আস। আমার জীবনের কসম! তোমার নিকটই সঠিক খবর আছে। অতঃপর আবূ সুফ্যান ইবনুল হারিছ তাহার নিকট গিয়া বসিল। আর লোকজন তাহাকে ঘিরিয়া দাঁড়াইয়া রহিল।

আবু লাহাব বলিল, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! সেখানে কিভাবে কি ঘটিয়াছে তাহা আমাকে অবহিত কর। সে বলিল, আল্লাহ্র কসম! আর কিছুই নহে, কেবল আমরা তাহাদের সহিত সাক্ষাত করিয়া আমাদের স্কন্ধ তাহাদের নিকট সমর্পণ করিয়াছিলাম। তাহারা আমাদিগকে যেভাবে ইচ্ছা হত্যা করিতেছিল, যেভাবে ইচ্ছা বন্দী করিতেছিল। আমরা বহু সাদা লোকের মুখোমুখি হইয়াছিলাম, যাহারা সাদা-কালো ঘোড়ায় আরোহী এবং আকাশ ও পৃথিবী জুড়িয়া ছিল। আল্লাহ্র কসম! তাহারা কিছুই অবশিষ্ট রাখিতে ছিল না এবং তাহাদের সম্মুখে কিছু দাঁড়াইতেও পারিতেছিল না।

আবু রাফে' (রা) বলেন, আমি তখন কুঠরির প্রান্ত ধরিয়া বলিলাম, আল্লাহ্র কসম! উহারা ফেরেশতা। অতঃপর আবু লাহাব আমার মুখমণ্ডলে প্রচণ্ড জোরে এক চপেটাঘাত করিল। আমি তাহার উপর ঝাঁপাইয়া পড়িলাম। সে আমাকে উঠাইয়া মাটির উপর আছাড় মারিল। অতঃপর আমার উপর উঠিয়া বসিয়া আমাকে প্রহার করিতে লাগিল। আমি ছিলাম দুর্বল ব্যক্তি। তখন উম্মুল ফাদল উঠিয়া কুঠরির একটি খুঁটি লইয়া তাহা দ্বারা আবু লাহাবের মস্তকে সজোরে আঘাত করিয়া বলিলেন, তাহার মালিকের অনুপস্থিতিতে তুমি তাহাকে দুর্বল পাইয়াছ! ইহার ফলে তাহার মাথা ফাটিয়া গেল। অতঃপর সে অপদস্থ হইয়া ফিরিয়া গেল। আল্লাহ্র কসম! সাতদিন পরই আল্লাহ তাহাকে বসন্তরোগে আক্রান্ত করিলেন। ইহাতেই তাহার মৃত্যু হইল (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ২৮৮-৮৯; তারীখ তাবারী ২খ., পৃ. ৪৬১-৬২; ইন্ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ৩০৯-৩০৯)।

আবু লাহাবের মৃত্যুর পর তাহার পুত্রদ্বয় তিনদিন পর্যন্ত তাহার লাশ ঐভাবে ফেলিযা রাখে, এমনকি তাহার লাশ পচিয়া গলিয়া যায়। কারণ কুরায়শগণ মহামারীর ন্যায় উক্ত রোগ হইতেও দূরে থাকিত। অতঃপর কুরায়শদের এক লোক তাহার পুত্রদ্বয়কে বলিল, ধিক্ তোমাদের! তোমরা কি লজ্জাবোধ করিতেছ না যে, তোমাদের পিতার লাশ গৃহাভ্যন্তরে পচিয়া যাইতেছে, অথচ তোমরা তাহাকে দাফন করিতেছ না? তাহারা বলিল, আমরা উহাতে ভয় পাইতেছি। লোকটি বলিল, চল আমি তোমাদের সঙ্গে থাকিব। তাহারা উহাকে গোসল করাইল না, বরং দূর হইতে কিছু পানি ছিটাইয়া দিল। অতঃপর তাহাকে বহন করিয়া মক্কার উচ্চভূমিতে লইয়া গেল এবং একটি দেওয়ালের নিকট ফেলিল এবং উহার উপর পাথর ফেলিয়া তাহা দ্বারা ঢাকিয়া দিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ৩০৯; আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ২৫১; তারীখ তাবারী ২খ., পৃ. ৪৬২)।

কুরায়শগণ তাহাদের নিহত স্বজনদের জন্য প্রথমদিকে বিলাপ করিয়াছিল কিন্তু পরে তাহারা বলিল, তোমরা মাতম করিও না। কারণ তাহা মুহাম্মাদ ও তাঁহার সঙ্গীদের নিকট পৌছিলে তাহারা তোমাদিগকে লইয়া হাসি-তামাশা করিবে (ইবন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ২৮৯)। আল-আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিবের পুত্র-পৌত্রসহ মোট তিনজন নিহত হইয়াছিলঃ পুত্র যাম'আ ইবনুল আসওয়াদ, 'আকীল ইবনুল আসওয়াদ ও পৌত্র আল-হারিছ ইব্‌ন যামআ। এক বর্ণনায় শেষোক্তজনকেও তাহার পুত্র বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে।

আল-আসওয়াদ কিছুতেই অন্তরকে প্রবোধ দিতে পারিতেছিল না, তাই শোকে বিলাপ করিবার জন্য উদগ্রীব হইয়া ছিল। একরাত্রে সে বিলাপের স্বর শুনিতে পাইল। তাহার চক্ষু নষ্ট হইয়া গিয়াছিল। সে স্বীয় দাসকে বলিল, দেখ তো! বিলাপ করার অনুমতি দেওয়া হইয়াছে কিনা। কুরায়শগণ তাহাদের নিহতদের জন্য বিলাপ করিতেছে কিনা? তাহা হইলে আমি আবূ হাকীমা অর্থাৎ পুত্র যামআর জন্য বিলাপ করিব। কারণ আমার ভিতরটা পুড়িয়া গিয়াছে। দাসটি অনুসন্ধান শেষে ফিরিয়া আসিয়া বলিল, এক মহিলা তাহার হারানো উটের জন্য বিলাপ করিয়া কাঁদিতেছে। উহা সেই বিলাপধ্বনি। আল-আসওয়াদ তখন একটি কবিতার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে বিলাপ করিয়া মনকে কিছু হাল্কা করিয়া লওয়ার প্রয়াস পাইল (ইবন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ২৮৯-৯০; ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ৩০৯-৩১০; সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৬৭-৬৮):
اتبكى أن يضل لها بعير + ويمنعها من النوم السهود فلا تبكى على بكر ولكن + على بدر تقاصرت الجدود على بدر سراة بنى هصيص + ومخزوم ورهط ابي الوليد وبكى ان بكيت على عقيل + وبكى حارثا اسد الاسود وبكيهم ولا تسمى جميعا + وما لابي حكيمة من نديد الا قد ساد بعدهم رجال + ولولا يوم بدر لم يسودوا .
"সে কি এইজন্য ক্রন্দন করিতেছে যে, তাহার উট হারাইয়া গিয়াছে এবং উহাই তাহাকে নিদ্রা হইতে বিরত রাখিয়াছে? তুমি নবীন উটের জন্য ক্রন্দন করিও না, বরং বদরের জন্য ক্রন্দন কর, যেখানে সৌভাগ্য ভূলুণ্ঠিত হইয়াছে। বদরের জন্য ক্রন্দন কর, হুসায়স ও মাখযূম গোত্রের নেতৃবৃন্দ এবং আবুল ওয়ালীদের দলবলের জন্য। তুমি ক্রন্দন করিলে আকীলের জন্য কর, হারিছের জন্য ক্রন্দন কর যাহারা ছিল শ্রেষ্ঠতর সিংহ। উহাদের জন্য ক্রন্দন কর, সকলের ব্যাপারেই তুমি অতিষ্ঠ হইও না। আর আবূ হুকায়মার তো কোন সমতুল্যই নাই। জানিয়া রাখ! উহাদের পর বহু লোক নেতা হইয়াছে, বদr যুদ্ধ না হইলে তাহারা নেতা হইতে পারিত না।"

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বদর যুদ্ধে শহীদবৃন্দ

📄 বদর যুদ্ধে শহীদবৃন্দ


বদর যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর মধ্যে ১৪ জন সাহাবী শহীদ হন। তন্মধ্যে ৬ (ছয়) জন মুহাজির এবং ৮ (আট) জন আনসার। তাঁহাদের মধ্যে আওস গোত্রের ২ (দুই) জন এবং খাযরাজ গোত্রের ৬ (ছয়) জন। তাঁহাদের নাম : (১) উবায়দ ইব্‌দুল হারিছ ইবনুল মুত্তালিব। মল্লযুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার ফলে যুদ্ধশেষে মদীনায় প্রত্যাবর্তনের পথে 'আস-সাফরা নামক স্থানে পৌঁছিয়া তিনি ইনতিকাল করেন; (২) উমায়র ইব্‌ন আবী ওয়াক্কাস, যিনি ছিলেন সা'দ ইব্‌ন আবী ওয়াক্কাস (রা)-এর ভ্রাতা। আল-'আস ইবন সাঈদ-এর হাতে তিনি শহীদ হন। তখন তাঁহার বয়স ছিল ১৬ (ষোল) বৎসর, তাহাদের মিত্র; (৩) যুশ-শিমালায়ন ইব্‌ন 'আব্দ আমর আল-খুযাঈ; (৪) সাফওয়ান ইব্‌ন বায়দা; (৫) বানু 'আদী-এর মিত্র 'আকিল ইবনুল বুকায়র আল-লায়ছী; (৬) উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর মুক্ত দাস মিহজা'।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মর্যাদা

📄 বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মর্যাদা


রাসূলুল্লাহ (স) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের বিশেষ মর্যাদার কথা ঘোষণা করিয়াছেন। দুইটি ঘটনার দ্বারা জানা যায় যে, তাঁহাদের অগ্র-পশ্চাতের সকল গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করিয়াছেন এবং জান্নাতুল ফিরদাওস তাঁহাদের জন্য নির্ধারণ করা হইয়াছে।
(১) আনাস (রা) কর্তৃক বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধের দিন হারিছা ইব্‌ন সুরাকা শাহাদাত লাভ করেন। তাঁহার মাতা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ও হারিহার অবস্থান সম্পর্কে আপনি অবগত আছেন। সে যদি জান্নাতী হয় তবে আমি সবর করিব এবং ছওয়াবের আশা করিব। আর যদি অন্য কিছু হয় তবে দেখিবেন আমি কি করি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, ধিক তোমাকে! তুমি কি বলিতেছ? সে কি একটি জান্নাতে থাকিবে? সে বহু জান্নাতে থাকিবে এবং জান্নাতুল ফিরদাওসে (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, কিতাবুল মাগাযী, বাব ফাদল্লি মান শাহিদা বাদরান, হাদীছ নং ৩৯৮২)। এক রিওয়ায়াত অনুসারে রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন, তোমার পুত্র সর্বোচ্চ জান্নাত আল-ফিরদাওস লাভ করিয়াছে (ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ৩২৯)। উল্লেখ্য যে, হারিছা (রা) হাউয হইতে পানি পান করার সময় একটি তীর আসিয়া তাঁহার কণ্ঠনালীতে বিদ্ধ হয়। ফলে তিনি শহীদ হন। তাঁহার যদি এত মর্যাদা হয় তবে যাঁহারা সম্মুখ সমরে প্রাণপণে যুদ্ধ করিয়াছেন তাঁহাদের কত মর্যাদা।
(২) মক্কা বিজয়ের বৎসর বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী হাতিব ইব্‌ন আৰী বালতা'আ (রা) মদীনার মুসলমানদের কিছু সংবাদ ও সিদ্ধান্ত একটি কাগজে লিখিয়া গোপনে বাহকের মাধ্যমে মক্কার কাফিরদের নিকট প্রেরণ করেন। তাঁহার উদ্দেশ্য ছিল, এই সংবাদের ফলে মুসলমানদের কোনও ক্ষতি হইবে না। তবে মক্কায় অবস্থিত তাঁহার পরিবার-পরিজন কাফিরদের নিকট হইতে কিছুটা সহানুভূতি লাভ করিবে। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ হইতে রাসূলুল্লাহ (স) এই সংবাদ অবহিত হইয়া আলী (রা)-সহ তিনজন সাহাবীকে উক্ত পত্র উদ্ধারকল্পে প্রেরণ করেন। 'তাঁহারা রাওদা খাখ' নামক স্থান হইতে এক মহিলার চুলের বেণীর মধ্য হইতে উহা উদ্ধার করিয়া ফেরত আসিলে উমার (রা) রাগান্বিত হইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন, তাহার গর্দান উড়াইয়া দেই। কারণ সে আল্লাহ, তাঁহার রাসূল ও মুমিনদের খেয়ানত করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, সে কি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নহে? আল্লাহ হয়তবা বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীর দিকে তাঁকাইয়া বলিবেন, তোমরা যাহা ইচ্ছা কর, আমি তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত করিয়া দিয়াছি অথবা-তিনি বলিবেন, আমি তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়া দিয়াছি। অতঃপর উমর (রা)-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হইয়া উঠিল। তিনি বলিলেন, আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল ভাল জানেন (আল-বুখারী, আস-সাহীহ)।
রাফে' আয-যুরাকী, যাঁহার পিতা বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, তিনি বলেন, জিবরীল (আ) একদা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের আপনারা আপনাদের মধ্যে কিরূপ মর্যাদা দেন? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমরা তাহাদিগকে সর্বোত্তম মুসলমানের মর্যাদা দেই অথবা তিনি এই ধরনের কিছু বলেন। জিবরীল (আ) বলিলেন, ফেরেশতাদের মধ্যে যাঁহারা বদr যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তাঁহাদের অবস্থাও অনুরূপ (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ৩২৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নিহত কুরায়শদের তালিকা

📄 নিহত কুরায়শদের তালিকা


প্রসিদ্ধ বর্ণনামতে এই যুদ্ধে কুরায়শদের ৭০ ব্যক্তি নিহত হয়। নিম্নে তাহাদের নাম ও তাহাদের হত্যাকারীদের নামের তালিকা প্রদত্ত হইল: ১। হানজালা ইব্‌ন আবী সুয়ান- হত্যাকারী যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)। ২। আল-হারিছ ইবনুল হাদরামী- আন-'নুমান ইব্‌ন আমর (রা)। ৩। 'আমের ইবনুল হাদরামী- আম্মার ইন্ন ইয়াসির (রা)। ৪। উমায়র ইবন আবী উমায়র ও তাহার (৫) পুত্র সালিম (রা) মাওলা আবী হুযায়ফা। ৬। উবায়দা ইন্ন সাঈদ ইবনুল আস-আয-যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রা)।
৭। আল-'আস ইব্‌ন সাঈদ ইব্‌নুল আস—আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
৮। উকবা ইব্‌ন আবী মু'আয়ত— আসিম ইব্‌ন ছাবিত ইব্‌নুল আফলাহ (রা), এক বর্ণনামতে আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
৯। উতবা ইব্‌ন রাবী'আ ইব্‌ন আব্দ শামস—উবায়দা ইবনুল হারিছ ইবনুল মুত্তালিব, হামযা ও আলী (রা)-ও এই হত্যায় অংশগ্রহণ করেন।
১০। শায়বা ইব্‌ন রাবী'আ ইব্‌ন আব্দ শামস—হামযা ইব্‌ন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
১১। আল-ওয়ালীদ ইব্‌ন উতবা ইব্‌ন রাবী'আ—'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
১২। 'আমের ইব্‌ন 'আবদিল্লাহ—আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
১৩। আল-হারিছ ইব্‌ন আমের ইব্‌ন নাওফাল—খুবায়ব ইব্‌ন ইসাফ (রা)।
১৪। তু'আয়মা ইব্‌ন আদী ইব্‌ন নাওফাল—আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা), এক বর্ণনামতে হামযা ইব্‌ন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
১৫। যাম'আ ইবনুল আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিব—নাবত ইব্‌ন জিয়', এক বর্ণনামতে হামযা, 'আলী ও ছাবিত (রা) ইহাতে শরীক ছিলেন।
১৬। আল-হারিছ ইব্‌ন যাম'আ—'আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির (রা)।
১৭। 'আকীল ইবনুল আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিব—হামযা ও আলী (রা) সম্মিলিতভাবে।
১৮। আবুল বাখতারী আল-'আস ইব্‌ন হিশাম—আল-মুজাযয্যির ইব্‌ন যিয়াদ আল-বালাবী (রা)।
১৯। নাওফাল ইব্‌ন খুওয়ায়লিদ ইব্‌ন আসাদ—'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
২০। আন-নাদর ইবনুল হারিছ ইব্‌ন কালদা—আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
২১। যায়দ ইব্‌ন মুলায়স, উমায়র ইব্‌ন হাশিমের ক্রীতদাস—বিলাল ইব্‌ন রাবাহ (রা), এক বর্ণনামতে মিকদাদ ইব্‌ন আওফ (রা)।
২২। 'উমায়র ইব্‌ন 'উছমান ইব্‌ন 'আমর—আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা), এক বর্ণনামতে আবদুর রাহমান ইব্‌ন 'আওফ (রা)।
২৩। 'উছমান ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন 'উবায়দিল্লাহ—সুহায়ল ইব্‌ন সিনান (রা)।
২৪। আবূ জাহল ইব্‌ন হিশাম— মু'আয ইব্‌ন 'আমর ইবনুল জামূহ তাহার পা কর্তন করেন। মু'আওবিষ ইব্‌ন আফরা তাহাকে ধরাশায়ী ও বেহুঁশ করিয়া ফেলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ তাহার মস্তক বিচ্ছিন্ন করিয়া ফেলেন।
২৫। আল-আস ইব্‌ন হিশাম—উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)।
২৬। ইয়াযীদ ইব্‌ন 'আবদিল্লাহ—আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির (রা)।
২৭। আবু মুসাফি' আল-আশ'আরী—আবূ দুজানা আস-সাইদী (রা)।
২৮। হারমালা ইব্‌ন 'আমর— খারিজা ইব্‌ন যায়দ (রা), এক বর্ণনামতে আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
২৯। মাস'উদ ইব্‌ন আবী উমায়‍্যা- 'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
৩০। আবু কায়স ইবনুল ওয়ালীদ-ইবনুল মুগীরা—হামযা ইবন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
৩১। আবূ কায়س ইবনুল ফাকিহ ইবনুল মুগীরা— আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা), এক বর্ণনামতে আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)।
৩২। রিদা'আ ইব্‌ন আবী রিদা'আ ইবন 'আবিদ—সা'দ ইবনুর রাবী' (রা)।
৩৩। আল-মুনযির ইব্‌ন আবী রিফা'আ ইবন 'আবিদ—মা'ন ইবন 'আদী ইবনুল জাদ্দ (রা)।
৩৪। আবদুল্লাহ ইব্‌দুল মুনযির ইব্‌ন আবী রিফা'আ—'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
৩৫। আস-সাইব ইব্‌ন আবিস সাইব ইবন 'আবিদ—আয-যুবায়র ইবনুল 'আওওয়াম (রা)।
৩৬। আল-আসওয়াদ ইব্‌ন আবদিল আসাদ—হামযা ইবন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
৩৭। হাজিব ইবনুস সাইব ইবন 'উওয়ায়মির—আলী ইবন আবী তালিব (রা)।
৩৮। 'উওয়ায়মির ইবনুস সাইব ইবন 'উওয়ায়মির— আন-নু'মান ইবন মালিক আল-কাওকালী (রা)।
৩৯। 'আমর ইব্‌ন সুফ্যান-ইয়াযীদ ইব্‌ন রুকায়শ (রা)।
৪০। জাবির ইবন সুফ্যান-আবূ বুরদা ইব্‌ন নিয়ার (রা)।
৪১। মুনাব্বিহ ইবনুল হাজ্জাজ ইবন 'আমের-আবুল ইয়াসার (রা)।
৪২। 'আস ইব্‌ন মুনাব্বিহ ইবনুল হাজ্জাজ— আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা)।
৪৩। নুবায়h ইবনুল হাজ্জাজ ইবন আমের— হামযা ইবন 'আবদিল মুত্তালিব (রা)।
৪৪। আবুল 'আস ইব্‌ن কায়س ইব্‌ন 'আদী—আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা), এক বর্ণনামতে আন-নু'মান ইবন মালিক আল-কাওকালী, মতান্তরে আবূ দুজানা (রা)।
৪৫। 'আসিম ইব্‌ن 'আওف ইব্‌ন দুবায়রা— আবুল ইয়াসার (রা)।
৪৬। উমায়‍্যা ইব্‌ন খালাফ— আনসারদের মাযিন গোত্রের জনৈক সাহাবী, এক বর্ণনামতে মু'আওবিয ইব্‌ন 'আফরা, খারিজা ইব্‌ন যায়দ ও খুবায়ব ইবন ইসাফ (রা) সম্মিলিতভাবে।
৪৭। 'আলী ইবন উমায়‍্যা ইব্‌ন খালাফ-আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)।
৪৮। আওস ইব্‌ন মি'য়ার ইব্‌ন লাওযান- আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা), অপর এক বর্ণনামতে আল-হাসায়ম ইবনুল হারিছ ও উছমান ইবন মাজউন (রা) সম্মিলিতভাবে।
৪৯। মু'আবিয়া ইব্‌ন 'আমের- আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা), অপর এক বর্ণনামতে উক্বাশা ইব্‌ن মিহসান (রা)।
৫০। মা'বাদ ইব্‌ন ওয়াহ্হ্ব-খালিদ ও ইয়াস ইবনুল বুকায়ر ভ্রাতৃদ্বয়, এক বর্ণনামতে আবূ দুজানা আনসারী (রা) (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ৩৪৭-৫২)। ইব্‌ন ইসহাক উক্ত ৭০ জনের মধ্যে নামোল্লেখ করেন নাই এমন আরও কয়েকজনের নাম হইল :
৫১। ওয়াহ্‌ ইবনুল হারিছ।
৫২। আমের ইব্‌ن যায়د।
৫৩। উকবা ইব্‌ন যায়د।
৫৪। 'উমায়r।
৫৫। নুবায়h ইب্‌ن যায়d ইب্‌ن মুলায়س।
৫৬। 'উবায়d ইব্‌ن সালীত।
৫৭। মালিক ইবন উবায়dillah— তালহা ইব্‌ن 'উবায়dillah (রা)-এর ভ্রাতা। তাহাকে বন্দী করা হইয়াছিল। এই অবস্থায় সে মারা যায়। তাহাকেও নিহতদের মধ্যে গণ্য করা হয়।
৫৮। 'আমর ইব্‌ن 'আবdillah ইব্‌ن জুd'আন।
৫৯। হুযায়ফা ইব্‌ن ابی হুযায়فا ইবনুল মুগীরা— সা'د ইব্‌ن ابی ওয়াক্কاس (রা) তাহাকে হত্যা করেন।
৬০। হিশাম ইব্‌ن ابی হুযায়ফা ইবনুল-মুগীরা— সুহায়b ইب্‌ن সিনান (রা) তাহাকে হত্যা করেন।
৬১। যুহায়r ইب্‌ن ابی রিফা'আ— ابূ উসায়d মালিক ইব্‌ن রাবী'আ (রা) তাহাকে হত্যা করেন।
৬২। আস-সাইb ইব্‌ن ابی রিফা'আ—'আবdুর রাহমান ইب্‌ن আওف (রা)।
৬৩। 'আইd ইবনুس সাইb ইব্‌ن 'উওয়ায়মির—সে বন্দী হয়। মুক্তিপণ দিয়া মুক্ত হইয়া রওয়ানা হইলে পথিমধ্যে যুদ্ধের ময়দানে প্রাপ্ত আঘাতের কারণে সে মারা যায়। আঘাতটি করিয়াছিলেন হামযা ইব্‌ন আবdিল মুত্তালিব (রা)।
৬৪। উমায়r।
৬৫। খিয়ার।
৬৬। সাবুরা ইব্‌ن মালিক।
৬৭। আল-হারিছ ইব্‌ن মুনাব্বিh ইবনুল হাজ্জাজ— সুহায়rb ইব্‌ন সিনান (রা)।
৬৮। 'আমের ইব্‌ن 'আওf ইব্‌ن দুবায়রা— 'আবdullah ইব্‌ন সালামা আল-আজলানী (রা), মতান্তরে ابূ দুজানা (রা) তাহাকে হত্যা করেন (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ৩৫৩-৫৪)।

বন্দী কাফিরদের মধ্যে পরবর্তী কালে ইসলাম গ্রহণকারীদের তালিকা :
বদর যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে যাহারা বন্দী হইয়াছিলেন পরবর্তী কাল তাহাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খালিস মুমিন হিসাবে বাকী জীবন অতিবাহিত করেন। তাহারা হইলেন :
১। রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচা আল-'আব্বাস ইব্‌ن 'আবdিল মুত্তালিব (রা)।
২। আকীল ইব্‌ن ابی তালিব (রা), আলী (রা)-এর ভ্রাতা।
৩। নাওফাল ইবনুল হারিছ (রা)।
৪। আবুল আস ইবনুর রাবী' (রা), রাসূলুল্লাহ (স)-এর জামাতা।
৫। ابূ 'আযীz যুরারা ইব্‌ন উমায়r আল-আবdারী (রা)।
৬। আস-সাইb ইব্‌ن ابی হুবায়s (রা)।
৭। খালিd ইব্‌ن হিশাম আল-মাখযূমী (রা)।
৮। 'আবdullah ইব্‌ন ابیs সাইb (রা)।
৯। আল-মুত্তালিb ইব্‌ন হানতাব (রা)।
১০। ابূ ওয়াদা'আ আস-সাহমী (রা)।
১১। 'আবdullah ইব্‌ন উবাই ইব্‌ن খালাf আল-জুমাহী (রা)।
১২। ওয়াহ্h ইব্‌ن উমায়r আল-জুমাহী (রা)।
১৩। সুহায়l ইব্‌ন আমর আল-আমিরী (রা)।
১৪। উম্মুল মুমিনীন সাওদা বিনt যাম'আ (রা)-এর ভ্রাতা 'আবdullah ইব্‌ن যাম্'আ (রা)।
১৫। কায়s ইবনুs সাইb (রা)।
১৬। নিসতাস (রা) মাওলা উমায়‍্যা ইব্‌ن খালাf।
১৭। আস-সাইb ইব্‌ন উবায়d (রা), বদr যুদ্ধের পরই নিজের মুক্তিপণ আদায় করিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন।
১৮। আদিয়্যি ইবনুল খিয়ার।
১৯। আল-ওয়ালীd ইবনুল মুগীরা, তাহার ভ্রাতা হিশাম ও খালিd মুক্তিপণ দিয়া তাহাকে মুক্ত করে। মুক্ত হওয়ার পরপরই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইহাতে তাহারা তাহাকে তিরস্কার করিলে তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে লোকজন এই ধারণা করিবে যে, আমি বন্দীত্বের ফলে ঘাবড়াইয়া গিয়া ইসলাম গ্রহণ করিয়াছি। ইহা আমি ভাল মনে করি নাই বিধায় বন্দী অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করি নাই। এই অপরাধে তাহার মামার বংশ তাহাকে আটক রাখে। রাসূলুল্লাহ (স) কুনূতের মধ্যে তাহার জন্য দু'আ করেন। অতঃপর সেখান হইতে মুক্ত হইয়া তিনি উমরাতুল কাযার সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আসিয়া মিলিত হন (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৭৮-৭৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00