📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবূ জাকে হত্যার ঘটনা

📄 আবূ জাকে হত্যার ঘটনা


এই যুদ্ধে কুরায়শদের শীর্ষ নেতা আবু জাহল ইব্‌ন হিশাম নির্মমভাবে নিহত হয়। ইমাম বুখারী (র) তাহার হত্যার যে বিবরণ প্রদান করিয়াছেন তাহা এইরূপঃ আবদুর রাহমান ইব্‌ন আওফ (রা) বলেন, বদর যুদ্ধের দিন সৈন্যদের লাইনে দাঁড়াইয়া আমি ডানে, বামে তাকাইয়া দেখিলাম, আমি আনসারদের অল্পবয়স্ক দুই যুবকের মধ্যখানে অবস্থিত। আমি মনে মনে কামনা করিলাম, আমি যদি ইহাদের তুলনায় দুইজন শক্তিশালী লোকের মধ্যখানে থাকিতাম। তাহাদের একজন আমাকে একটু খোঁচা দিয়া বলিল, 'চাচাজী। আপনি কি আবূ জাহলকে চিনেন? আমি বলিলাম, হাঁ। তাহাকে দিয়া তোমার কি প্রয়োজন হে ভ্রাতুষ্পুত্র? সে বলিল, আমি জানিতে পারিয়াছি যে, সে রাসূলুল্লাহ (স)-কে গালি দেয়। সেই সত্তার কসম যাঁহার হাতে আমার প্রাণ! আমি যদি তাহাকে দেখিতে পাই তবে আমাদের মধ্যে তাড়াহুড়াকারী ব্যক্তিটি মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত তাহার হইতে পৃথক হইব না। ইহা শুনিয়া আমি স্তম্ভিত হইয়া গেলাম। অতঃপর অপরজনও আমাকে একটু খোঁচা দিয়া অনুরূপ কথা বলিল।
ইতোমধ্যে আমি আবূ জাহলকে দেখিলাম, সে লোকদের মধ্যে ঘুরিয়া বেড়াইতেছে। আমি বলিলাম, দেখ! তোমরা যাহার কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলে ঐ সেই ব্যক্তি। অতঃপর তাহারা উভয়ে ছুটিয়া গিয়া দ্রুত তরবারি চালনা করিতে লাগিল।' বুখারীর অপর বর্ণনায় আছে, তাহারা বাজ পাখির ন্যায় দ্রুত গিয়া তাহার উপর ঝাঁপাইয়া পড়িল এবং তাহাকে হত্যা করিল। অতঃপর তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া এই সংবাদ দিল। তিনি বলিলেন, তোমাদের মধ্যে কে তাহাকে হত্যা করিয়াছে? উভয়ে বলিল, আমি তাহাকে হত্যা করিয়াছি। তিনি বলিলেন, তোমরা কি তোমাদের তরবারি মুছিয়া ফেলিয়াছ? তাহারা বলিল, না। অতঃপর তিনি তাহাদের উভয়ের তরবারির দিকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, তোমরা উভয়ে তাহাকে হত্যা করিয়াছ। তাহার পরিত্যক্ত সম্পদ মু'আয ইব্‌ন আমর ইবনুল জামূহ-এর। তাহাদের নাম ছিল মু'আয ইব্‌ন 'আফরা ও মু'আয ইব্‌ন 'আমর ইবনুল জামূহ (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, কিতাবু ফারদিল খুমুস্, হাদীছ নং ৩১৪১; কিতাবুল মাগাযী, হাদীছ নং ৩৯৮৮)।

আবু জাহল নিহত হওয়া সম্পর্কে ইব্‌ন হিশামের বর্ণনা এইরূপঃ বদর যুদ্ধের দিন আবু জাহল সম্মুখে অগ্রসর হইতেছিল আর এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিল:
ما تنقم الحرب العوان منى + بازل عامين حديث سنی لمثل هذا ولدتني أمي
“প্রচণ্ড ও ভয়ঙ্কর যুদ্ধ; দুই বৎসর বয়স্ক নবীন উট আমার নিকট হইতে প্রতিশোধ গ্রহণ করিবে না। এই ধরনের কাজের জন্যই আমার মাতা আমাকে জন্ম দান করিয়াছে।”

যুদ্ধশেষে রাসূলুল্লাহ (স) নিহতদের মধ্যে আবূ জাহলকে খুঁজিবার নির্দেশ দিলেন। ইন্ন আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবূ বাক্স (রা) সূত্রে বর্ণিত। তাহারা সালামা গোত্রের সদস্য মু'আয ইব্‌ন আমার ইবনুল জামূহ (রা) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আবু জাহল ছিল এমন এক বৃক্ষের ন্যায় যাহার নিকট পৌঁছা যায় না। আমি কাফিরদিগকে বলাবলি করিতে শুনিলাম যে, আবুল হাকামকে বাগে পাওয়া যায় না। ইহা শুনিয়া আমি তাহাকে হত্যা করার সংকল্প করিলাম, তাই আমি তাহার দিকে অগ্রসর হইলাম। অতঃপর সুযোগ পাইয়া আমি তাহাকে আক্রমণ করিলাম। আমি তাহাকে এমনভাবে আঘাত করিলাম যে, তাহার পা নলার মধ্যখান হইতে উড়িয়া গেল। আল্লাহ্র কসম! আমি উহার উদাহরণ এইভাবে দিলাম যে, খেজুরের আঁটি ভাঙ্গার যাতার নিচ হইতে আঁটি যেমন সটকাইয়া পড়ে তেমনি। তাহার পুত্র ইকরিমা আমাকে আমার কাঁধের নিচে আঘাত করিল। ইহাতে আমার হাত কাটিয়া আমার পার্শ্বদেশের চামড়ার সহিত ঝুলিতে লাগিল। প্রচণ্ড যুদ্ধের কারণে আমি সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করিলাম না। উক্ত হাত পিছনে ঝুলাইয়া আমি যুদ্ধ করিতে লাগিলাম। ইহাতে যখন আমার বেশী কষ্ট হইতে লাগিল তখন আমি উক্ত ঝুলন্ত হাত পায়ের নিচে রাখিয়া সজোরে টান দিয়া বিচ্ছিন্ন করিয়া ফেলিলাম। ইবন ইসহাক বলেন, ইহার পর তিনি উছমান (রা)-এর কাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

অতঃপর আবূ জাহল আহত অবস্থায় পড়িয়া রহিল। তখন মু'আওবিয ইব্‌ন আফরা তাহার নিকট দিয়া যাইতেছিলেন। তিনি তাহাকে আঘাত করিয়া মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলিয়া রাখিলেন। তখনও তাহার শ্বাস-প্রশ্বাস চলিতেছিল। মুআওবিষ পরে যুদ্ধ করিতে করিতে শহীদ হইলেন। অতঃপর যুদ্ধশেষে রাসূলুল্লাহ (স) আবূ জাহলকে খুঁজিবার নির্দেশ দিয়া বলিলেন, নিহতদের মধ্যে তাহাকে চিনিয়া বাহির করিতে কষ্ট হইলে তোমরা তাহার হাঁটুতে যখমের চিহ্ন দেখিবে। কারণ বালক বয়সে একদিন আমি ও সে আবদুল্লাহ ইব্‌ন জুদ'আনের বাড়িতে দাওয়াত খাইতে গিয়া বিবাদ করিয়াছিলাম। আমি ছিলাম তদপেক্ষা সামান্য বড়। অতঃপর আমি তাহাকে ধাক্কা দিলে সে পড়িয়া হাঁটুতে ভর করিল। সে এক হাঁটুতে এমন আঘাতপ্রাপ্ত হইল যাহার চিহ্ন এখনও পর্যন্ত তাহার হাঁটুতে রহিয়া গিয়াছে।

লোকজন তাহার সন্ধানে বাহির হইল। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) তাহাকে এমন অবস্থায় পাইলেন যে, তাহার শ্বাস শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, আমি তাহাকে দেখিয়া চিনিতে পারিলাম। আমি তাহার ঘাড়ের উপর পা রাখিলাম। মক্কায় থাকিতে একবার সে আমাকে থাপ্পড় মারিয়া ব্যথা দিয়াছিল। আমি তাহাকে বলিলাম, আল্লাহ কি তোমাকে অপদস্থ করিয়াছেন, হে আল্লাহ্র দুশমন? সে বলিল, কিসের দ্বারা আমাকে অপদস্থ করিবেন? আমি কি এমন ব্যক্তির ব্যাপারে লজ্জাবোধ করিব যাহাকে তোমরা হত্যা করিয়াছ? (এক বর্ণনামতে যাহাকে তাহার কওম হত্যা করিয়াছে)? আমাকে বল, বিজয় কাহাদের হইয়াছে? আমি বলিলাম, আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের। অতঃপর সে ইবন মাসউদ (রা)-কে বলিল, তুমি তো বহু শক্ত স্থানে আরোহণ করিয়াছ হে বকরীর রাখাল! ইবন মাসউদ (রা) মক্কায় থাকিতে বকরী চরাইতেন। তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাহার মস্তক কর্তন করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট লইয়া আসলাম এবং বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহা আল্লাহ্র দুশমন আবূ জাহলের মস্তক। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, সেই আল্লাহ যিনি ব্যতীত আর কোনও ইলাহ নাই? তিনবার তিনি ইহা বলিলেন। ইহা ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর কসম। আমি বলিলাম, হাঁ, সেই আল্লাহ্র কসম, যিনি ব্যতীত আর কোনও ইলাহ নাই। অতঃপর আমি মস্তকটি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে ছুড়িয়া ফেলিলাম। তিনি আল্লাহ্র প্রশংসা করিলেন (ইবন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ২৭৬-৮৮)। এক বর্ণনা মতে রাসূলুল্লাহ (স) তখন বলিলেন:
الحمد لله الذي صدق وعده ونصر عبده وهزم الاحزاب وحده.
"সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি স্বীয় অঙ্গীকার সত্যে রূপায়িত করিয়াছেন, স্বীয় বান্দাকে সাহায্য করিয়াছেন এবং অনেক শত্রুদলকে একাই পরাস্ত করিয়াছেন।"

তিনি বলিলেন, আমার সহিত চল, তাহাকে দেখাইয়া দিবে। আমরা চলিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে তাহার লাশ দেখাইয়া দিলাম। তিনি বলিলেন, এই হইল বর্তমান উম্মতের ফিরআওন (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ২৪৬; ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ২৮৯)।

আ'মাশ (র) ইবন মাসউদ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন আমি আবূ জাহলের নিকট পৌঁছিলাম। সে তখন ধরাশায়ী অবস্থায় ছিল। তাহার মাথায় ছিল লোহার শিরস্ত্রাণ এবং সঙ্গে ছিল উত্তম তরবারি। আর আমার সঙ্গে ছিল সাধারণ তরবারি। আমি তাহার মস্তকে আমার তরবারি দ্বারা খোঁচা দিতেছিলাম এবং স্মরণ করিতেছিলাম যে, মক্কায় থাকিতে সে এমনিভাবে আমার মস্তকে খোঁচা দিত, তাহার হাত দুর্বল হইয়া যাওয়া পর্যন্ত। অতঃপর আমি তাহার তরবারি লইলাম। সে মাথা উঠাইয়া বলিল, বিজয় কাহাদের হইয়াছে, আমাদের পক্ষে না বিপক্ষে? তুমি না মক্কায় আমাদের রাখাল ছিলে! তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাহাকে হত্যা করিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া এই সংবাদ দিলাম (ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ২৮৮-৮৯)।

এক বর্ণনা হইতে জানা যায় যে, ফেরেশতাগণ তাহাকে আঘাত করিয়াছিল। আল-ওয়াকিদী বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, আল্লাহ আফরার পুত্রদ্বয়ের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। তাহারা এই উম্মতের ফিরআওন ও কাফিরদের মধ্যমণিকে হত্যায় শরীক ছিল। কেহ বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহাকে হত্যায় আর কে তাহাদের শরীক ছিল? তিনি বলিলেন, ফেরেশতা ও ইবন মাসউদ (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮৯)।

মূসা ইব্‌ন উকবার বর্ণনামতে ইবন মাসউদ (রা) তাহাকে লৌহবর্মে আবৃত অবস্থায় পাইলেন। সে একদিকে পড়িয়াছিল, কোনরূপ নড়াচড়া করিতে পারিতেছিল না। তিনি ধারণা করিলেন যে, সে বুঝি আহত অবস্থায় পড়িয়া আছে। তিনি তরবারি দ্বারা খোঁচা মারিলেন কিন্তু সে অসাড় অবস্থায় পড়িয়াই রহিল, কোনওরূপ নড়াচড়া করিল না। অতঃপর তিনি তাহার কাঁধের নিচ হইতে শিরস্ত্রাণ খুলিয়া ফেলিয়া তরবারি দ্বারা আঘাত করিলেন। ইহাতে তাহার মস্তক তাঁহার সম্মুখে লুটাইয়া পড়িল। তিনি সজোরে টানিয়া তাহার লৌহবর্ম খুলিয়া ফেলিলেন। অতঃপর তাহার দিকে তাঁকাইয়া দেখিলেন তাহার শরীরে কোন যখম নাই। তিনি তাহার ঘাড়ে কালো দাগ এবং তাহার উভয় হাত ও কাঁধে চাবুকের চিহ্ন দেখিতে পাইলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া এই সংবাদ দিলে তিনি বলিলেন, উহা ফেরেশতাদের আঘাত ('উষুনুল আছার, ১খ., পৃ. ৩০৫; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৫১)।

বায়হাকী আবু ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আবূ জাহলের মৃত্যুসংবাদ শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) সিজদাবনত হইলেন। অপর এক বর্ণনায় তিনি আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবী আওফা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, বিজয়ের সংবাদ এবং আবূ জাহলের মস্তক আনয়নের সংবাদ পাইয়া রাসূলুল্লাহ (স) দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ২৮৯)।

এক রিওয়ায়াত হইতে জানা যায় যে, আবু জাহলকে কিয়ামত পর্যন্ত বদর প্রান্তরে শাস্তি দেওয়া হইবে। ইব্‌ন আবিদ দুনয়া শা'বী সূত্রে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমি বদর প্রান্তর দিয়া গমন করিতেছিলাম। তখন দেখিলাম, এক লোক মাটির অভ্যন্তর হইতে বাহির হইতেছে এবং অন্য এক লোক তাহাকে চাবুক মারিতেছে। ইহাতে সে মাটির ভিতর অদৃশ্য হইয়া যাইতেছে। অতঃপর পুনরায় সে মাটির ভিতর হইতে বাহির হইতেছে এবং পুনরায় তাহার সহিত অনুরূপ আচরণ করা হইতেছে। কয়েকবারই এইরূপ করা হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, সে হইল আবু জাহল। কিয়ামত পর্যন্ত তাহাকে ঐরূপ শাস্তি দেওয়া হইবে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ২৮৯-৯০; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৫২).

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধক্ষেত্রের বিশেষ অলৌকিক ঘটনাবলী

📄 যুদ্ধক্ষেত্রের বিশেষ অলৌকিক ঘটনাবলী


যুদ্ধক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বহু মু'জিযা সংঘটিত হইয়াছিল। আব্দ শামস ইব্‌ন আব্দ মানাফ-এর মিত্র ছিলেন উককাশা ইব্‌ন মিহসান আল-আসাদী। বদরের দিন যুদ্ধ করিতে করিতে তাঁহার তরবারি ভাঙ্গিয়া যায়। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলে তিনি তাহাকে বৃক্ষের একটি শুষ্ক কাণ্ড দিয়া বলিলেন, হে উক্বাশা! ইহা দ্বারা যুদ্ধ কর। তিনি উহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হইতে লইয়া নাড়াচাড়া করিতেই উহা তাহার হাতে দীর্ঘ মজবুত ও তীক্ষ্ণ ধারালো তরবারিতে রূপান্তরিত হইয়া গেল। তিনি উহা দ্বারা মুসলমানদের বিজয় হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করিতে লাগিলেন। উক্ত তরবারির নাম রাখা হয় আল-'আওন (সাহায্য)। ইহা উক্বাশা ইব্‌ন মিহসান (রা)-এর নিকটই রক্ষিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত প্রতিটি যুদ্ধেই তিনি উহা দ্বারা বীরত্বের সহিত যুদ্ধ করেন। আবূ বাক্স (রা)-এর খিলাফত আমলে রিদ্দা যুদ্ধে ভণ্ড নবী তুলায়হা আল-আসাদীর হাতে শহীদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি উক্ত তরবারি দ্বারা যুদ্ধ করেন (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ২৭৮; ইব্‌ন আবদিল বারর, আদ-দুরার ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস-সিয়ার, পৃ. ১১৪)।
আল-ওয়াকিদী বর্ণনা করেন যে, বদর যুদ্ধের ময়দানে সালামা ইব্‌ন আসলাম ইবনুল হুবায়শ (রা)-এর তরবারি ভাঙ্গিয়া গেলে তিনি নিরস্ত্র হইয়া পড়েন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে খেজুরের কাঁদির একটি ডাল দিয়া বলিলেন, ইহা দ্বারা যুদ্ধ কর। সঙ্গে সঙ্গে উহা একটি উন্মুক্ত তরবারি হইয়া গেল। আবূ উবায়দার নেতৃত্বে পুল (জাসর)-এর যুদ্ধে (১৪/৬৩৫ সন) শাহাদাত লাভের পূর্ব পর্যন্ত উক্ত তরবারি তাঁহার নিকট ছিল (কিতাবুল মাগাযী, ১খ., পৃ. ৯৩-৯৪; 'উয়ূনুল আছার, ১খ., পৃ. ৩০৬)।
কাতাদা ইবনুন নু'মান (রা) হইতে বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধের দিন তাহার চোখে আঘাত লাগিয়া চক্ষুগোলক বাহির হইয়া ঝুলিয়া পড়ে। লোকজন উহা কাটিয়া ফেলিতে চাহিল। তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলিলেন, না, উহা কাটিও না। তিনি তাহাকে ডাকাইয়া আনিয়া সাধারণভাবে উহা যথাস্থানে স্থাপন করিয়া দিলেন। অতঃপর উহা এমনভাবে ভাল হইয়া গেল যে, পরবর্তী কালে তিনি বুঝিতেই পারিতেন না যে, তাহার কোন চক্ষুতে আঘাত লাগিয়াছিল। এই বর্ণনামতে সেইটিই হইয়াছিল তাহার সবচাইতে ভাল চক্ষু (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ২৯১; ইউসুফ সালিহী আশ-শামী, ৪খ., পৃ. ৫৩)।
মুসলমানদের হাতে কুরায়শ নেতৃবৃন্দের কে কোথায় নিহত হইবে পূর্বের দিনই রাসূলুল্লাহ (স) সুনির্দিষ্টভাবে উহা দেখাইয়া দিয়াছিলেন। আবূ তালহা, আনাস, আইশা, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) প্রমুখ হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) পূর্বের দিন বিকালবেলা কুরায়শ নেতৃবৃন্দের কে কোথায় নিহত হইবে উহা তাহাদিগকে দেখাইয়া বলিয়াছিলেন, আগামী কল্য ইনশাআল্লাহ এই স্থানে অমুক ধরাশায়ী হইবে; এই হইল আগামী কল্য ইনশাআল্লাহ অমুকের ধরাশায়ী হওয়ার স্থান; ইহা হইল অমুকের ধরাশায়ী হওয়ার স্থান- ইহা বলিয়া তাঁহার হাত মাটিতে রাখিয়াছিলেন এবং সুনির্দিষ্টভাবে সেই স্থান নির্দেশ করিয়াছিলেন। উমার (রা) বলেন, সেই সত্তার কসম যিনি তাঁহাকে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছেন : রাসূলুল্লাহ (স) যে সীমানা নির্দেশ করিয়াছিলেন তাহার একটুও এদিক সেদিক হয় নাই। সেখানেই তাহারা নিহত হইয়া পড়িয়া ছিল। অতঃপর তাহাদিগকে বদরের অভিশপ্ত কূপে একজনের উপর একজনকে ফেলিয়া রাখা হয় (ইউসুফ সালিহী আশ-শামী, ৪খ., ৫৪; উম্বুনুল আছার, ১খ., পৃ. ৩০৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরায়শ নেতৃবৃন্দের লাশ বদরের কূপে নিক্ষেপ

📄 কুরায়শ নেতৃবৃন্দের লাশ বদরের কূপে নিক্ষেপ


বদর যুদ্ধ সমাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ (স) নিহত কুরায়শ নেতৃবৃন্দের লাশ বদরের কূপে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেন। তদনুযায়ী ২৪ জনের লাশ কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ২৯৩)। অতঃপর তিনি তাহাদিগকে সম্বোধন করিয়া কিছু কথা বলেন। এই সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের রিওয়ায়াত পাওয়া যায়। আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশে তাহাদিগকে (কুরায়শ নেতৃবৃন্দকে) কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করা হইল। তবে তাহাদের এক নেতা উমায়‍্যা ইব্‌ন খালাফ-এর বিষয়টি ছিল ভিন্ন। কারণ তাহার লাশ লৌহবর্মের মধ্যে ফুলিয়া উহা পূর্ণ হইয়া গিয়াছিল। সাহাবীগণ উহা ধরিয়া নাড়া দিতেই তাহার গোশত শরীর হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইতেছিল। সেইজন্য তাহারা উহা ঐভাবে রাখিয়া মাটি ও পাথরচাপা দিলেন। অন্যদেরকে কূপে নিক্ষেপের পর রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে দাঁড়াইয়া বলিলেন, হে কূপবাসিগণ! তোমরা 'কি তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়াছিলেন তাহা সত্যরূপে পাইয়াছ? আমি তো আমার প্রতিপালক আমাকে যে অঙ্গীকার করিয়াছিলেন তাহা বাস্তবে পাইয়াছি। সাহাবীগণ বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি মৃত লোকদের সহিত কথা বলিতেছেন? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, উহারা জানিতে পারিয়াছে যে, উহাদের প্রতিপালক উহাদের সহিত যে অঙ্গীকার করিয়াছেন তাহা সত্য (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ২৮০; 'উয়ূনুল আছার, ১খ., পৃ. ৩০৬)।

আনাস ইবন মালিক (রা) হইতে বর্ণিত যে, সাহাবায়ে কিরাম মধ্যরাত্রে রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিলেন, হে কূপবাসী, হে উতবা ইবন রাবী'আ! হে শায়বা ইবন রাবী'আ! হে উমায়্যা ইব্‌ন খালাফ! হে আবু জাহল ইব্‌ন হিশাম! এইভাবে কূপে যাহাদেরকে নিক্ষেপ করা হইয়াছিল সকলের নাম লইয়া বলিলেন, তোমরা কি ... (পূর্বের হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা)। তখন মুসলমানগণ বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি এমন এক কওমকে আহবান করিতেছেন, যাহারা গলিত লাশ হইয়া গিয়াছে? তিনি বলিলেন, আমি যাহা বলিতেছি তাহা তাহাদের তুলনায় তোমরা বেশী শ্রবণকারী নহ। তবে তাহারা আমার ডাকে সাড়া দিতে সক্ষম নহে (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরা, ২খ., পৃ. ২৮০-৮১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ২৯২)। এই ব্যাপারে আনাস ইব্‌ন মালিক, আবূ তালহা, ইবন উমার (রা) প্রমুখ হইতে আরও দীর্ঘ রিওয়ায়াত পাওয়া যায়। প্রাপ্ত সকল রিওয়ায়াত একত্র করিলে উহার মর্ম দাঁড়ায় নিম্নরূপঃ

রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিয়ম ছিল যে, তিনি যুদ্ধে কোনও কওমের উপর বিজয়ী হইলে তিনদিন সেই যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করিতেন। বদর যুদ্ধে জয়লাভের পর নিয়ম মাফিক তৃতীয় দিবসে তিনি সওয়ারী প্রস্তুত করিবার নির্দেশ দিলেন। সওয়ারী প্রস্তুত হইলে তিনি রওয়ানা হইলেন। সাহাবায়ে কিরামও তাঁহার অনুসরণ করিলেন। তাঁহারা পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিলেন, মনে হয় তিনি কোনও প্রয়োজনে কোথায়ও যাইতেছেন। অতঃপর তিনি উক্ত কূপের কিনারায় গিয়া দাঁড়াইলেন। আনাস (রা)-এর এক বর্ণনামতে তখন ছিল রাত্রিবেলা। তিনি সেখানে দাঁড়াইয়া নিহত কাফির নেতৃবৃন্দের নাম ও পিতার নাম ধরিয়া ডাকিতে লাগিলেন, হে অমুকের পুত্র অমুক! হে অমুকের পুত্র অমুক! আনাস (রা)-এর এক বর্ণনায় তাহাদের নামোল্লেখ করা হইয়াছে যে, তিনি ডাকিলেন, হে উমায়‍্যা ইব্‌ন খালাফ! হে আবু জাহল ইব্‌ন হিশাম! হে উতবা ইবন রাবীআ! হে শায়বা ইবন রাবী'আ! তোমাদের জন্য কি ইহা খুশীর বিষয় ছিল না যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য করিতে! আমরা তো আমাদের প্রতিপালক আমাদের জন্য যে ওয়াদা করিয়াছিলেন তাহা সত্য সত্যই পাইয়াছি। তোমরা কি তোমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করিয়াছিলেন তাহা সত্যরূপে পাইয়াছ?
এক বর্ণনামতে এই সময় তিনি ইহাও বলিয়াছিলেন, তোমরা তোমাদের নবীর খারাপ আত্মীয় ছিলে। তোমরা আমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করিয়াছ, অথচ অন্যরা আমাকে সত্য বলিয়া স্বীকার করিয়াছে। তোমরা আমাকে আমার জন্মভূমি হইতে বহিষ্কার করিয়াছ, অথচ অন্যরা আমাকে আশ্রয় দিয়াছে। তোমরা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়াছ, অথচ অন্যরা আমাকে সাহায্য করিয়াছে। অতঃপর তিনি বলিলেন, তোমরা কি তোমাদের প্রতিপালকের কৃত অঙ্গীকার বাস্তবে পাইয়াছ? তখন উমার (রা) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি তিন দিন পর উহাদিগকে সম্বোধন করিতেছেন? উহারা কি শুনিতে পাইবে?
এক বর্ণনামতে তিনি ইহাও বলিলেন, আপনি কিভাবে এমন কিছু লাশের সহিত কথা বলিতেছেন, যাহাদের মধ্যে প্রাণ নাই? তাহারা কিভাবে শুনিবে বা উত্তর দিবে যখন তাহারা গলিত লাশ হইয়া গিয়াছে। তখন রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমি যাহা বলিতেছি তাহা তাহাদের তুলনায় তোমরা বেশী শুনিতেছ না। তবে তাহারা উত্তর দিতে সক্ষম নহে (ইব্‌ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ২৯২-৯২; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৫৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মৃত ব্যক্তি শুনিতে পায় কিনা

📄 মৃত ব্যক্তি শুনিতে পায় কিনা


উক্ত হাদীছের দ্বারা এই কথা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত যে, বদরের কূপে নিক্ষিপ্ত লাশগুলি রাসূলুল্লাহ (স)-এর আহবান শুনিতে পাইয়াছিল। কিন্তু উম্মুল মুমিনীন আইশা (রা) এই ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি তাঁহার বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যায় বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, لَقَدْ عَلَمُوا (তাহারা বুঝিতে পারিয়াছে)। এই কথা দ্বারা তিনি বুঝাইতে চাহিয়াছেন যে, তাহারা এখন জানিতে পারিয়াছে যে, আমি তাহাদিগকে যাহা বলিয়াছিলাম তাহাই সত্য।

মৃতগণ যে শুনিতে পায় না ইহার সমর্থনে তিনি কুরআন কারীমের নিম্নোক্ত আয়াতদ্বয় দলীল হিসাবে পেশ করেন:
إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى.
"মৃতকে তো তুমি কথা শুনাইতে পারিবে না" (২৭:৮০)।

وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مِّنْ فِي الْقُبُورِ.
"তুমি শুনাতে সক্ষম হইবে না যাহারা কবরে রহিয়াছে তাহাদিগকে" (৩৫: ২২)।

কিন্তু বদরের কূপে নিক্ষিপ্ত লাশগুলি যে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আহবান ভালভাবে শুনিতে পাইয়াছিল এই ব্যাপারে সহীহ হাদীছসমূহে সুস্পষ্ট বর্ণনা (ما أنتم بأسمع لما أقول منهم) থাকায় বেশীর ভাগ সাহাবী ও তাবিঈ তাহাদের শুনিবার পক্ষে মত ব্যক্ত করিয়াছেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ২৯২)।
কুরআন কারীমের আয়াত ও সহীহ হাদীছের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে উলমায়ে কিরাম কিছু ব্যাখ্যার আশ্রয় লইয়াছেন। কাতাদা (র) বলেন, আল্লাহ তাহাদিগকে ঐ সময় জীবিত করিয়াছিলেন, যাহাতে তাহারা এই ধমক, অপমান, শাস্তি ও আক্ষেপ অনুভব করিতে পারে (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৪খ., পৃ. ৫৫; আল-মাওয়াহিবুল-লাদুন্নিয়্যা, ১খ., পৃ. ৩৬৭; ইবনু কাছীর, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ২৯৩)।

আল-ইসমাঈলী (র) বলেন, আইশা (রা)-এর মেধা ও হাদীছ সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্যের বিষয়টি স্বীকার করিয়া লইয়াও বদরের মৃতদের শুনিতে পাওয়া সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য রিওয়ায়াত প্রত্যাখ্যান করা যায় না, যতক্ষণ না অনুরূপ শক্তিশালী রিওয়ায়াত দ্বারা উহা মনসূখ (রহিত) হওয়া বা সুনির্দিষ্ট (খাস) হওয়া প্রমাণিত হয়। তবে উভয় বর্ণনার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা সম্ভব। তাহা এইরূপে যে, আয়াত إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাণী انهم الان ليسمعون (তাহারা এখন অবশ্যই শুনিতেছে)-এর পরিপন্থী নহে। কারণ শুনাইবার অর্থ হইল বক্তার আওয়ায শ্রোতার কর্ণে পৌঁছানো। তাই রাসূলুল্লাহ (স) নহেন, বরং আল্লাহই রাসূলের আওয়ায বদর প্রাঙ্গণে অভিশপ্ত নিহতদের কর্ণে পৌছাইয়া দিয়াছিলেন। তিনি তো সর্ব বিষয়ে সামর্থ্যবান (আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যা, ১খ., পৃ. ৩৬৮)।

আস-সুহায়লী (র) বলেন, আইশা (রা) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তাই যাহারা উপস্থিত ছিলেন তাহাদের কথাই গ্রহণযোগ্য। কারণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাণী তাহারাই ভালভাবে শ্রবণ ও হিফাজত করিয়াছিলেন। এতদ্ব্যতীত ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুজিযার অন্তর্ভুক্ত, সাহাবীদের প্রশ্নের দ্বারা ইহা স্পষ্টরূপে বুঝা যায়। তাঁহারা প্রশ্ন করিয়াছিলেন, أتخاطب قوما قد جيفوا (আপনি কি এমন লোকদেরকে সম্বোধন করিতেছেন, যাহারা গলিত লাশ হইয়া গিয়াছে?) তিনি আরও বলেন, আইশা (রা) যে ব্যাখ্যা করিয়াছেন, "তাহারা জানিতে পারিয়াছে" ইহার অর্থ তাহারা শুনিতে পাইয়াছে। আর শ্রবণ দুইভাবে হইতে পারে : (১) তাহাদের শরীরের কান দ্বারা। এই ক্ষেত্রে আল্লাহ তাহাদের রূহ শরীরের মধ্যে প্রবিষ্ট করাইয়াছিলেন; (২) অন্তরের বা রূহের কান দ্বারা (প্রাগুক্ত; আর-রাওদুল উনুফ, ৫খ., পৃ. ১৭৫-৭৬)। মোটকথা রাসূলুল্লাহ (স)-এর আহ্বান সেই দিন বদরের কূপে নিক্ষিপ্ত কুরায়শ নেতৃবৃন্দ শুনিতে পাইয়াছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00