📄 শত্রুসৈন্যদেরকে ধরপাকড় এবং সা'দ ইব্ন মু'আয-এর অসন্তুষ্টি
রাসূলুল্লাহ (স) যুদ্ধ শুরু করিবার নির্দেশ দেওয়ার পর এবং কাফিরদের প্রতি কংকর নিক্ষেপ করিবার পর কাফিরগণ পরাজিত হইতে শুরু করিল। রাসূলুল্লাহ (স) পুনরায় আরীশে প্রবেশ করিলেন। তাঁহার সঙ্গে ছিলেন আবূ বাকর (রা)। সা'দ ইব্ন মু'আয (রা) ও তাঁহার সঙ্গী আরও কিছু আনসার তরবারি সজ্জিত অবস্থায় আরীশের দরজায় দাঁড়াইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রহরা দিতে লাগিলেন। শত্রুসৈন্যদের পুনরায় ফিরিয়া আসার আশঙ্কায় তাঁহারা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছিলেন। মুসলিমগণ যখন ব্যাপক হারে শত্রুসেনাদের বন্দী করিতেছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ (সা) সা'দ ইব্ন মুআয (রা)-এর মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টি ও বিরক্তির ভাব লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, আল্লাহ্র কসম, হে সাদ! মুসলিম বাহিনী যাহা করিতেছে মনে হয় উহা তুমি অপছন্দ করিতেছ। তিনি বলিলেন, হাঁ, আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুশরিকদের বিরুদ্ধে এই প্রথম আল্লাহ তা'আলা যুদ্ধ সংঘটিত করিয়া দিয়াছেন। তাই মুশরিক সৈন্যগণকে বাঁচাইয়া রাখার পরিবর্তে হত্যা করিয়া ফেলাই আমার নিকট পছন্দনীয় ছিল।
📄 শত্রুসেনাদের কতককে হত্যা করিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিষেধাজ্ঞা
শত্রু সেনাদের সকলেই যে স্বেচ্ছায় ও সোৎসাহে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিল তাহা নহে। সকলেই যে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিত তাহাও নহে। এমনও অনেক লোক ছিল যাহারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাসূলুল্লাহ (স) ও মুসলমান দিগকে সাহায্য-সহযোগিতা করিয়াছিল। পরিস্থিতির শিকার হইয়া বা নেতৃবৃন্দের চাপে পড়িয়া অনিচ্ছা সত্ত্বেও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) এইসব লোককে হত্যা করিতে নিষেধ করেন। ইব্ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) সেই দিন তাঁহার সাহাবীদিগকে বলিয়া ছিলেন, আমি জানি যে, বানু হাশিমের কিছু লোক এবং অন্যান্যদিগকে জোর-জবরদস্তিমূলক তাহাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘর হইতে বাহির করা হইয়াছে। আমাদের সহিত যুদ্ধ করিতে তাহাদের কোনও প্রয়োজন নাই। তাই তোমাদের কেহ বানু হাশিমের কোনও লোকের মুখামুখী হইলে তাহাকে হত্যা করিবে না। আর যে আবুল বাখতারী ইব্ন হিশাম ইবনুল হারিছ ইব্ন আসাদের সাক্ষাত পাইবে সে যেন তাহাকে হত্যা না করে। কারণ তাহাকে জোর করিয়া আনা হইয়াছে। আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচা আব্বাস ইব্ন আবদিল মুত্তালিবের সাক্ষাত পাইবে সে যেন তাহাকে হত্যা না করে। কারণ তাহাকেও জোর করিয়া আনা হইয়াছে। তখন আবূ হুযায়ফা ইব্ন উতবা ইবন রাবী'আ বলিলেন, আমরা কি আমাদের পিতা, পুত্র ও ভ্রাতাদের হত্যা করিব, আর আব্বাসকে ছাড়িয়া দিব? আল্লাহ্র কসম! আমি যদি তাহার সাক্ষাত পাই তবে অবশ্যই তরবারি দ্বারা তাহাকে হত্যা করিব। এই কথা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌছিলে তিনি উমার (রা)-কে বলিলেন, হে আবূ হাফস! (উমার বলেন, এই প্রথম তিনি আমাকে উপনামে সম্বোধন করিলেন) রাসূলাল্লাহ্র চাচার চেহারা তরবারি দ্বারা আঘাত করা হইবে। উমার (রা) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন আমি তরবারি দ্বারা তাহার গর্দান উড়াইয়া দেই। আল্লাহ্র কসম! সে মুনাফিক হইয়া গিয়াছে। আবু হুযায়ফা (রা) বলিলেন, সেই দিন আমি যাহা বলিয়াছিলাম তাহার দরুন স্বস্তি লাভ করিতে পারি নাই। সর্বদা আমি শংকিত ছিলাম যে, আমার এই উক্তি কি আমাকে শাহাদাতের মর্যাদা হইতে ফিরাইয়া দেয়? অতঃপর তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন।
📄 আবুল বাখতারীকে হত্যার ঘটনা
আবুল বাখতারীকে রাসূলুল্লাহ (স) হত্যা করিতে নিষেধ করিয়াছিলেন। তাহার কিছু কারণ ইবন ইসহাক বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আবুল বাখতারীকে হত্যা করিতে এইজন্য নিষেধ করেন যে, মক্কায় থাকিতে তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে কোনরূপ নির্যাতন করা হইতে বিরত থাকিতেন। তিনি তাঁহাকে কোনরূপ কষ্ট দিতেন না। তাহার পক্ষ হইতে এমন কোনও আচরণ প্রকাশ পায় নাই যাহা রাসূলুল্লাহ (স) অপছন্দ করেন। বানু হাশিম ও বানু মুত্তালিবকে বয়কট করিয়া যে পত্র প্রণয়ন করা হয় উহা ছিড়িয়া ফেলার উদ্যোগ গ্রহণকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আবুল বাখতারী নিহত হন। বলা যায় যে, এক রকম স্বেচ্ছায়ই তিনি নিহত হন।
তাহার হত্যার ঘটনার বিবরণ এই যে, আনসারদের মিত্র আল-মুজাযযির ইবন যিয়াদ আল-বালাবী যুদ্ধ ক্ষেত্রে আবুল বাখতারীর সাক্ষাত পাইয়া তাহাকে বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তোমাকে হত্যা করিতে আমাদিগকে নিষেধ করিয়াছেন। আবুল বাخতারীর সহিত লায়ছ গোত্রের জুনাদা ইব্ন মুলায়হা নামে তাহার এক সঙ্গী ছিল, যে মক্কা হইতেই তাহার সহিত একসঙ্গে বাহির হইয়াছিল। আবুল বাখতারী বলিলেন, আর আমার সঙ্গীকে? মুজাযযির (রা) তাহাকে বলিলেন, না, আল্লাহর কসম! আমরা তোমার সঙ্গীকে ছাড়িব না। রাসুলুল্লাহ (স) কেবল তোমাকেই হত্যা না করার জন্য আমাদিগকে নির্দেশ দিয়াছেন। আবুল বাখতারী বলিলেন, না, আল্লাহ্র কসম! তাহা হইলে আমি ও সে একত্রে মৃত্যুবরণ করিব যাহাতে মক্কর মহিলাগণ আমার সম্পর্কে বলিতে না পারে যে, আমি জীবনের আশায় আমার সঙ্গীকে পরিত্যাগ করিয়াছি। আল-মুজাযযির-এর সহিত যুদ্ধে লিপ্ত হইবার সময় আবুল বাখতারী এই কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিলেন:
لن يسلم ابن حرة زميله حتى يموت أو يرى سبيله. "স্বাধীন মহিলার পুত্র কখনও তাহার সঙ্গীকে (শত্রুর হাতে) সমর্পণ করে না, যতক্ষণ না সে মৃত্যুবরণ করে অথবা তাহার পথ দেখিয়া লয়।”
আর মুজাযযির (রা) আবুল বাখতারীকে হত্যা করার সময় এই কবিতা আবৃত্তি করেন:
اما جهلت أو نسيت نسبي + فاثبت النسبة اني من بلى الطاعنين برماح اليزني + والضاربين الكبش حتى ينحني بشر بيتم من ابوه البختري + او بشرن بمثلها منى بني انا الذى يقال اصلى من بلى + اطعن بالصعدة حتى تنثنى + وارزم للموت كارزام المرى واعبط القرن بعضب مشرفي فلا ترى مجذرا یفری فری
"তুমি কি আমার বংশ সম্পর্কে অজ্ঞ রহিয়াছ না ভুলিয়া গিয়াছ? তাহা হইলে সম্বন্ধটি ভাল করিয়া জানিয়া লও যে, আমি বালিয়্যি গোত্রের, যাহারা আল-ইয়াযানী বর্শা দ্বারা আঘাতকারী এবং যাহারা বকরীকে প্রহারকারী যতক্ষণ না উহা বাঁকা হইয়া যায়। আবুল বাখতারী যাহার পিতা, তাহাকে ইয়াতীম হওয়ার সুসংবাদ দাও অথবা আমার পক্ষ হইতে আমার পুত্রদিগকে অনুরূপ সুসংবাদ দাও। আমি সেই লোক যাহার গোড়া হইল বালিয়িয় বংশ। আমি বর্শা দ্বারা আঘাত করি উহা বাঁকা হওয়া পর্যন্ত। আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করি ধারালো মাশরিফী তরবারি দ্বারা। আমি মৃত্যুর জন্য ক্রন্দন করি কষ্টের সহিত দোহনকৃত উষ্ট্রীর ক্রন্দনের ন্যায়। তাই তুমি মুজাযযিরকে কোনও অদ্ভুত রকমের কাজ করিতে দেখিবে না।"
অতঃপর মুজাযযির রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গিয়া বলিলেন, সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছেন! আমি তাহাকে বন্দী করিয়া আপনার নিকট লইয়া আসার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছি। কিন্তু সে আমার সহিত যুদ্ধ করা ব্যতীত আর কিছুতেই সম্মত হয় নাই। অবশেষে আমি তাহার সহিত যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছি। অতঃপর আমি তাহাকে হত্যা করিয়াছি।
কেহ কেহ বলেন যে, আবুল ইয়াসার (রা) তাহাকে হত্যা করিয়াছেন। তবে অধিকাংশ সীরাতবিদের মতে আল-মুজাযয্যির (রা)-ই তাহাকে হত্যা করেন। ইব্ন সায়্যিদিন নাস বলেন, নিঃসন্দেহে আবূ দাউদ আল-মাযিনী তাহাকে হত্যা করিয়াছেন। আবুল বাখতারীর তরবারি আবূ দাউদ আল-মাযিনী (রা)-এর পুত্রদের নিকট রক্ষিত ছিল, যাহা তাহার কোন এক পুত্র আবুল বাখতারীর পুত্রের নিকট বিক্রয় করেন।
📄 উমায়্যা ইব্ন খালাফকে হত্যার ঘটনা
উমায়্যা ইব্ন খালাফকে হত্যার ঘটনা
উমায়্যা ইব্ন খালাফ ছিল কুরায়শ নেতৃবৃন্দের অন্যতম। সে নও মুসলিমগণকে ভীষণভাবে নির্যাতন করিত। বিলাল (রা) ছিলেন তাহার ক্রীতদাস। ইসলাম গ্রহণের কারণে উমায়্যা ইব্ন খালাফ তাহাকে তপ্ত মরুভূমিতে চীৎ করিয়া শোয়াইয়া বুকের উপর ভারী পাথর চাপা দিয়া অমানুষিক নির্যাতন করে। বদর যুদ্ধের সময় বিলাল (রা) আনসার সাহাবীদের একদলসহ তাহাকে হত্যা করেন। তাহার নিহত হওয়ার বিবরণ দিয়াছেন আবদুর রাহমান ইব্ن আওফ (রা)। তিনি বলেন, উমায়্যা ইন্ন খালাফ মক্কায় থাকিতে আমার বন্ধু ছিল। আমার নাম ছিল আব্দ আমর। ইসলাম গ্রহণের পর আমার নাম রাখা হয় আবদুর রাহমান। মক্কায় থাকিতে সে একদিন আমার সহিত সাক্ষাত করিয়া বলিল, হে আব্দ আমর! তুমি কি তোমার মাতা-পিতার রাখা নাম পরিত্যাগ করিয়াছ? আমি বলিলাম, হাঁ। সে বলিল, আমি রাহমান কে তাহা চিনি না। তাই আমার ও তোমার মধ্যে এমন একটি কিছু ঠিক কর যাহা দ্বারা আমি তোমাকে ডাকিতে পারি। তুমি তো তোমার পূর্বের নামে ডাকিলে সাড়া দিবে না, আর আমিও এমন নামে ডাকিব না যাহাকে আমি চিনি না। সে যখন আমাকে হে আব্দ আমর বলিয়া ডাকিত, আমি তাহার ডাকে সাড়া দিতাম না। আমি তাহাকে বলিলাম, হে আবূ আলী! তোমার যাহা ইচ্ছা তাহাই একটা কিছু ঠিক করিয়া লও। সে বলিল, তাহা হইলে তুমি আবদুল ইলাহ। আমি বলিলাম, হাঁ। অতঃপর আমি যখন তাহার নিকট দিয়া যাইতাম তখন সে আমাকে ডাকিত, হে আবদুল ইলাহ! আমি ইহাতে সাড়া দিতাম এবং তাহার সহিত আলাপ-আলোচনা করিতাম।
এমনিভাবে বদর যুদ্ধের দিন আমি তাহার নিকট দিয়া যাইতেছিলাম। সে তাহার পুত্র আলীর হাত ধরিয়া দাঁড়াইয়াছিল। আমার সঙ্গে কয়েকটি লৌহবর্ম ছিল যাহা আমি শত্রুসেনাগণকে পরাস্ত করিয়া ছিনাইয়া লইয়াছিলাম। আমি উহা বহন করিয়া লইয়া যাইতেছিলাম। সে আমাকে দেখিয়া বলিল, হে আব্দ আমর! আমি ইহার উত্তর দিলাম না। অতঃপর সে ডাকিল, হে আবদুল ইলাহ! আমি বলিলাম, হাঁ। সে বলিল, তুমি কি আমার প্রতি মনোযোগ দিবে? আমি তো তোমার সহিত যে লৌহবর্ম আছে তাহা হইতে উত্তম। আমি বলিলাম, হাঁ, অবশ্যই আল্লাহ্র কসম!
অতঃপর আমি আমার হাত হইতে বর্মগুলি ছুড়িয়া ফেলিলাম এবং তাহার ও তাহার পুত্রের হাত ধরিলাম। সে বলিতেছিল, আজিকার দিনের মত (ভয়াবহ দিন) আমি আর কখনও দেখি নাই। তোমাদের কি দুধের প্রয়োজন আছে? ইহা দ্বারা সে অধিক দুধেলা উস্ত্রী উপঢৌকনের দিকে ইঙ্গিত করে। অতঃপর আমি তাহাদের উভয়কে লইয়া চলিতে লাগিলাম। আমি উমায়্যা ও তাহার পুত্রের মধ্যখানে উভয়ের হাত ধরিয়া চলিতেছিলাম। উমায়্যা আমাকে বলিল, হে আবদুল ইলাহ! তোমাদের মধ্যে বুকে উট পাখির পালক দ্বারা সজ্জিত ব্যক্তিটি কে? আমি বলিলাম, তিনি হামযা ইব্ন আবদিল মুত্তালিব। সে বলিল, ঐ ব্যক্তি আমাদিগকে আজ চরম মার দিয়াছে।
আবদুর রাহমান (রা) বলেন, আল্লাহ্র কসম! আমি তাহাদিগকে লইয়া যাইতেছিলাম এমন সময় বিলাল (রা) হঠাৎ আমার সহিত তাহাকে দেখিয়া ফেলিল। সে মক্কায় থাকিতে ইসলাম গ্রহণের কারণে বিলালকে চরম নির্যাতন করিয়াছিল। বিলাল তাহাকে দেখিয়াই বলিয়া উঠিল, কাফিরদের নেতা উমায়্যা ইব্ন খালাফ! সে পরিত্রাণ পাইলে আমার রক্ষা নাই। অতঃপর তাহারা আমাদিগকে ঘিরিয়া ফেলিল। এমনকি তাহারা গোলাকার বৃত্তের ন্যায় করিয়া ফেলিল। আমি তাহার উপর হইতে আঘাত প্রতিহত করিয়াছিলাম। অতঃপর এক ব্যক্তি তরবারি বাহির করিয়া তাহার পুত্রের পায়ে আঘাত করিল। ফলে সে পড়িয়া গেল। ইহা দেখিয়া উমায়্যা এমন জোরে চীৎকার দিয়া উঠিল যাহা আমি ইতোপূর্বে আর কখনও শুনি নাই। আমি বলিলাম, এখন নিজে বাঁচো, তোমাকে বাঁচাইবার আর কোনও পথ নাই। আল্লাহর কসম! আমি তোমার কোনওই উপকার করিতে পারিব না। অতঃপর তাহারা উভয়কেই তরবারি দ্বারা টুকরা টুকরা করিয়া ফেলিল। পরবর্তী কালে আবদুর রাহমান ইব্ন আওফ (রা) বলিতেন, আল্লাহ বিলালের প্রতি রহম করুন। আমার বর্মগুলিও গেল এবং আমার বন্দীর কারণে আমাকে কষ্টও ভোগ করিতে হইল। এক বর্ণনামতে এই সময় আবদুর রাহমান ইব্ن আওফ (রা)-এর পায়ে তরবারির আঘাত লাগিয়াছিল। উহার প্রতিই তিনি ইঙ্গিত করিয়াছেন।